📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 কালামশাস্ত্রবিদদের অন্যতম গুণ হচ্ছে অস্থিরতা ও সন্দেহে নিপতিত থাকা

📄 কালামশাস্ত্রবিদদের অন্যতম গুণ হচ্ছে অস্থিরতা ও সন্দেহে নিপতিত থাকা


দীনের ক্ষেত্রে যাদের অস্থিরতাই বেশি, আল্লাহ সম্পর্কে যাদের জ্ঞান অনেক পুরু পর্দার আবরণে ঢাকা, আর যাদের পদচারণার শেষ জায়গা এবং তাদের সর্বশেষ পরিণতি সম্পর্কে অবগত জনৈক পণ্ডিত বলেন:

দীনের ক্ষেত্রে যাদের অস্থিরতাই বেশি, আল্লাহ সম্পর্কে যাদের জ্ঞান অনেক পুরু পর্দার আবরণে ঢাকা, আর যাদের পদচারণার শেষ জায়গা এবং তাদের সর্বশেষ পরিণতি সম্পর্কে অবগত জনৈক পণ্ডিত বলেন:

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 মুহাম্মাদ ইবন আবিল কাসিম আব্দুল কারীম আশ-শাহরাস্তানীর স্বীকৃতি

📄 মুহাম্মাদ ইবন আবিল কাসিম আব্দুল কারীম আশ-শাহরাস্তানীর স্বীকৃতি


আমার জীবন, আমি সকল শিক্ষালয় প্রদক্ষিণ করেছি এবং আমার দৃষ্টি চালিয়েছি ঐসব জ্ঞানকেন্দ্রের মাঝে।
আমি তো দেখতে পেয়েছি কেবল তাদেরকে থুতনীর নিচে হাত রেখে পেরেশান হয়ে থাকতে অথবা অনুশোচনাকারীর ন্যায় দাঁত কাটতে।

টিকাঃ
৩৩. তিনি হচ্ছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবন আবুল কাসিম আব্দুল কারীম আশ-শাহরাস্তানী। জন্ম ৪৭৯ হিজরী, মৃত্যু ৫৪৮ হিজরী। দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদদের ইমাম, তুলানমূলক ধর্মের পথিকৃত ও দার্শনিকদের পথের পথিক, তাকে আল-আফদ্বাল লক্কব দেয়া হয়। জন্ম হয়েছিল শাহরাস্তানে, যা নাইসাপুর ও খাওয়ারিযম এর মাঝখানের একটি জায়গার নাম। তারপর ৫১০ হিজরীতে বাগদাদ গমন করেন, সেখানে তিন বছর অবস্থান করে নিজ দেশে ফিরে যান এবং সেখানেই মারা যান। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, নিহায়াতুল ইক্কদাম ফী ইলমিল কালাম, আল-ইরশাদ ইলা আকায়িদিল ইবাদ প্রমুখ। [যিরিকলী, আল-আ'লাম (৬/২১৫)]
৩৪. ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ কবিতাদ্বয়ের ব্যাখ্যায় বলেন, সকল দুনিয়া ঘুরে সে সবশেষে দু'দল লোককে দেখেছে, একদল শুধু সন্দেহে দোদুল্যমান, আরেকদল একটি বিশ্বাস করে আবার পরক্ষণেই সেটার ভুল দেখা দেয়ায় লজ্জিত হয়ে পড়ে। প্রথম দলটিকে জাহেলে বাসীত (সাধারণ মূর্খ), আর দ্বিতীয় দলটি জাহেল মুরাক্কাব (গণ্ড মূর্খ) বলা যায়। [মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৭০)]
৩৫. এটি শাহরাস্তানী নিয়ে এসেছেন। দেখুন তার গ্রন্থ, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (১/১৭৩)। তিনি একজন বড় মাপের কালামশাস্ত্রবিদ ছিলেন। নিজে সারা জীবন যার পিছনে ছুটেছেন শেষ জীবনে সেটার অসারতা তুলে ধরেছেন। তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ'র গ্রন্থ মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৬৯); দারউত তা'আরুদ্ব (১/১৫৯), (২/৩১৫), (৫/১৭৯), (৭/৪০৩); মাজমূ' ফাতাওয়া (১২/৫৭২), (৩৩/১৭২)। এ দু'টি কবিতা শাহরাস্তানী আনয়ন করলেও এর প্রবক্তা সম্পর্কে কয়েকটি মত দেখা যায়: কারও কারও মতে, তা আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন বাজাহ এর বক্তব্য। কারও কারও মতে, তা শাহরাস্তানীর বক্তব্যই। যেমনটি ইবন আবিল ইয্য আল-হানাফী তার শারহুত ত্বাহাওয়িয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন। [শারহুত ত্বহাওয়িয়্যাহ (১/২৪৪)] কারও কারও মতে, তা আবু আলী ইবন সীনার বক্তব্য। [ত্বাশ কুবরী যাদাহ, মিফতাহু দারিস সা'আদাহ (১/২৯৯)] আরও দেখা যেতে পারে, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৪/২৭৪); ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউত তা'আরুদ্ব (১/১৫৯); মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৭১); মাজমু' ফাতাওয়া (৪/৭৩)।

আমার জীবন, আমি সকল শিক্ষালয় প্রদক্ষিণ করেছি এবং আমার দৃষ্টি চালিয়েছি ঐসব জ্ঞানকেন্দ্রের মাঝে।
আমি তো দেখতে পেয়েছি কেবল তাদেরকে থুতনীর নিচে হাত রেখে পেরেশান হয়ে থাকতে অথবা অনুশোচনাকারীর ন্যায় দাঁত কাটতে।

টিকাঃ
৩৩. তিনি হচ্ছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মাদ ইবন আবুল কাসিম আব্দুল কারীম আশ-শাহরাস্তানী। জন্ম ৪৭৯ হিজরী, মৃত্যু ৫৪৮ হিজরী। দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদদের ইমাম, তুলানমূলক ধর্মের পথিকৃত ও দার্শনিকদের পথের পথিক, তাকে আল-আফদ্বাল লক্কব দেয়া হয়। জন্ম হয়েছিল শাহরাস্তানে, যা নাইসাপুর ও খাওয়ারিযম এর মাঝখানের একটি জায়গার নাম। তারপর ৫১০ হিজরীতে বাগদাদ গমন করেন, সেখানে তিন বছর অবস্থান করে নিজ দেশে ফিরে যান এবং সেখানেই মারা যান। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, নিহায়াতুল ইক্কদাম ফী ইলমিল কালাম, আল-ইরশাদ ইলা আকায়িদিল ইবাদ প্রমুখ। [যিরিকলী, আল-আ'লাম (৬/২১৫)]
৩৪. ইবন তাইমিয়‍্যাহ রাহিমাহুল্লাহ কবিতাদ্বয়ের ব্যাখ্যায় বলেন, সকল দুনিয়া ঘুরে সে সবশেষে দু'দল লোককে দেখেছে, একদল শুধু সন্দেহে দোদুল্যমান, আরেকদল একটি বিশ্বাস করে আবার পরক্ষণেই সেটার ভুল দেখা দেয়ায় লজ্জিত হয়ে পড়ে। প্রথম দলটিকে জাহেলে বাসীত (সাধারণ মূর্খ), আর দ্বিতীয় দলটি জাহেল মুরাক্কাব (গণ্ড মূর্খ) বলা যায়। [মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৭০)]
৩৫. এটি শাহরাস্তানী নিয়ে এসেছেন। দেখুন তার গ্রন্থ, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (১/১৭৩)। তিনি একজন বড় মাপের কালামশাস্ত্রবিদ ছিলেন। নিজে সারা জীবন যার পিছনে ছুটেছেন শেষ জীবনে সেটার অসারতা তুলে ধরেছেন। তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে দেখুন, ইবন তাইমিয়্যাহ'র গ্রন্থ মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৬৯); দারউত তা'আরুদ্ব (১/১৫৯), (২/৩১৫), (৫/১৭৯), (৭/৪০৩); মাজমূ' ফাতাওয়া (১২/৫৭২), (৩৩/১৭২)। এ দু'টি কবিতা শাহরাস্তানী আনয়ন করলেও এর প্রবক্তা সম্পর্কে কয়েকটি মত দেখা যায়: কারও কারও মতে, তা আবু বকর মুহাম্মাদ ইবন বাজাহ এর বক্তব্য। কারও কারও মতে, তা শাহরাস্তানীর বক্তব্যই। যেমনটি ইবন আবিল ইয্য আল-হানাফী তার শারহুত ত্বাহাওয়িয়্যাহ গ্রন্থে বলেছেন। [শারহুত ত্বহাওয়িয়্যাহ (১/২৪৪)] কারও কারও মতে, তা আবু আলী ইবন সীনার বক্তব্য। [ত্বাশ কুবরী যাদাহ, মিফতাহু দারিস সা'আদাহ (১/২৯৯)] আরও দেখা যেতে পারে, ইবনু খাল্লিকান, ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৪/২৭৪); ইবন তাইমিয়্যাহ, দারউত তা'আরুদ্ব (১/১৫৯); মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৭১); মাজমু' ফাতাওয়া (৪/৭৩)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমাম রাযীর স্বীকৃতি

📄 ইমাম রাযীর স্বীকৃতি


সকল বুদ্ধির সর্বশেষ পদক্ষেপ শৃঙ্খল বেষ্টিত আর জগদ্বাসীর অধিকাংশ প্রচেষ্টা ভ্রান্ত পথে পরিচালিত।
আমাদের আত্মাসমূহ আমাদের দেহের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, আমাদের দুনিয়ার শেষ পরিণতি কষ্ট ও বিপদে পরিবেষ্টিত।
আমাদের সারা জীবনের গবেষণা থেকে কেবল এ উপকার-ই পেয়েছি যে, এ ক্ষেত্রে শুধু বলা হয়েছে ও বলা হলো, এসবই আমরা একত্রিত করেছি।
অবশ্যই আমি কালামপদ্ধতি এবং দার্শনিকপন্থা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছি; কিন্তু যা পেয়েছি তা হচ্ছে এটি কোনো অসুস্থকে সুস্থ করতে পারে না এবং কোনো পিপাসার্তের পিপাসাও নিবারণ করতে পারে না। আর আমি কুরআনের তরীকাকে সবচেয়ে নিকটবর্তী তরীকা হিসেবে দেখেছি। ইসবাতের (সাব্যস্তকরণের) ক্ষেত্রে আমি পড়ি:
"রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা: ০৫]
"তার দিকে ভালো কথা উত্থিত হয়" [সূরা ফাতির: ১০] নফীর (নাকচকরণ) ক্ষেত্রে আমি পড়ি:
"তাঁর মতো কিছুই নেই।” [সূরা আশ-শূরা: ১১]
"তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না।" [সূরা ত্বা-হা: ১১০] আমার মতো জ্ঞান অভিজ্ঞতা যারা অর্জন করে তারা আমার মতো জানতে পারবে।

টিকাঃ
৩৬. তিনি হচ্ছেন, মুহাম্মাদ ইবন 'উমার ইবন হাসান ইবনুল হুসাইন, আত-তাইমী, আল-বিকরী। আবু আব্দুল্লাহ, ফখরুদ্দীন আর-রাযী। জন্ম ৫৪৪ হিজরী, মৃত্যু ৬০৬ হিজরী। তাকে বলা হয় ইমাম, মুফাসসির, আক্বলী ও নকলী বিষয়ে তার সময়কার একক ব্যক্তিত্ব। বংশের দিক থেকে কুরাশী, মূল অবস্থান ত্বাবারিস্তানে, তার জন্ম হয়েছিল রাই শহরে, রাই শহরের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে রাযী বলা হয়। তাকে 'ইবন খতীব আর-রাই'ও বলা হয়। হিরাতে তার মৃত্যু হয়। তার জীবদ্দশাতেই লোকেরা তার গ্রন্থ পড়ার জন্য আগ্রহী ছিল। অনেক গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন, যেমন, তাফসীর মাফাতীহ আল-গাইব, মা'আলিম ফী উসূলিদ দীন, মুহাসসালু আফকারিল মুতাকাদ্দিমীন, ওয়াল মুতাআখখেরীন মিনাল উলামায়ি ওয়াল হুকামায়ি ওয়াল মুতাকাল্লিমীন, আসাসুত তাক্বদীস, আল-মাত্বালিব আল-আলীয়া, আল-মাহসূল ফী ইলমিল উসূল, আস-সিররুল মাকতূম ফী মুখাত্বাবাতিন নজুম প্রভৃতি। ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে বলেন, তার গ্রন্থসমূহে ব্যাপক বালা-মুসিবত রয়েছে, জাদুবিদ্যা, সুন্নাহ'র বিরোধিতা রয়েছে। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন; কারণ তিনি ভালো হয়ে মারা গিয়েছিলেন। গোপন বিষয়টি আল্লাহর হাতে সোপর্দ করলাম। মাযহাবের দিক থেকে তিনি শাফেয়ী মাযহাবের, আকীদাহ'র দিক থেকে তিনি আশ'আরী মতবাদের। বলা হয়ে থাকে, শেষ জীবনে তিনি সালাফী আকীদায় ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। [ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (২১/৫০০)]
৩৭. ফখরুদ্দীন রাযী (মৃ. ৬০৬ হিজরী) তাঁর জীবনের শেষাংশে ৬০৪ হিজরীতে লিখিত 'রিসালাতু যাম্মি লাযযাতিদ দুনিয়া' পুস্তিকার উপসংহারে উক্ত বক্তব্য প্রদান করেন। পুস্তিকাটি ব্রিল, লেইডেন থেকে প্রকাশিত Ayman Shihadeh, The Teleological Ethics of Fakhr al-Din al-Razi (Leiden, The Netherlands: Brill, 2006) গ্রন্থের পরিশিষ্টে মুদ্রিত। সুতরাং শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ তার বক্তব্যে সত্যবাদী ছিলেন তা প্রমাণিত হলো। তাছাড়া এ বক্তব্য বিখ্যাত কালামশাস্ত্রবিদ সুবুকী তার তাবাক্বাতুশ শাফে'ঈয়্যাহ আল-কুবরা (৫/৪০) এ বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে লিসানুদ্দীন ইবনুল খত্বীব (মৃ. ৭৭৬ হিজরী), তার আল-ইহাত্বাহ ফী আখবারি গারনাত্বাহ গ্রন্থে (২/২২২) তা সনদসহ রাযী থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন, রাযী তার আকসামুল লাযযাত গ্রন্থে তা বলেছেন (মাজমু' ফাতাওয়া (৪/৭৩); বায়ানু তালবীষিল জাহমিয়্যাহ (৮/৫২৯-৫৩০); দারউত তা'আরুদ্ব (১/১৬০); মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৭১); মাজমূ' রাসায়িলিল কুবরা (১/৯৭, ১৮৫)। অনুরূপ ইবনুল কাইয়্যেম বর্ণনা করেছেন তার ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ৩০৪। ইবন আবিল ইয্য আল-হানাফী, শারহুত ত্বাহাওয়িয়্যাহ (২/২৪৪)। তাছাড়া ইবন খাল্লিকান তার ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৪/২৫০) গ্রন্থেও তা রাযীর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। শাইখ ড. মুহাম্মাদ রাশাদ সালেম তার দারউত তা'আরুদ্ব (১/৬০) এর টীকায় বলেন, 'আকসামুল লাযযাত' গ্রন্থটি ভারতীয় কোনো এক লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে। রাযীর বিস্তারিত অবস্থা জানতে পড়ুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ'র বক্তব্য, (মাজমু' ফাতাওয়া ৪/২৮; বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/১২৯); মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৭২); ইবনুল কাইয়্যেম, আস-সাওয়া'য়িকুল মুরসালাহ (২/৬৬৬)।

সকল বুদ্ধির সর্বশেষ পদক্ষেপ শৃঙ্খল বেষ্টিত আর জগদ্বাসীর অধিকাংশ প্রচেষ্টা ভ্রান্ত পথে পরিচালিত।
আমাদের আত্মাসমূহ আমাদের দেহের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, আমাদের দুনিয়ার শেষ পরিণতি কষ্ট ও বিপদে পরিবেষ্টিত।
আমাদের সারা জীবনের গবেষণা থেকে কেবল এ উপকার-ই পেয়েছি যে, এ ক্ষেত্রে শুধু বলা হয়েছে ও বলা হলো, এসবই আমরা একত্রিত করেছি।
অবশ্যই আমি কালামপদ্ধতি এবং দার্শনিকপন্থা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছি; কিন্তু যা পেয়েছি তা হচ্ছে এটি কোনো অসুস্থকে সুস্থ করতে পারে না এবং কোনো পিপাসার্তের পিপাসাও নিবারণ করতে পারে না। আর আমি কুরআনের তরীকাকে সবচেয়ে নিকটবর্তী তরীকা হিসেবে দেখেছি। ইসবাতের (সাব্যস্তকরণের) ক্ষেত্রে আমি পড়ি:
"রহমান 'আরশের উপরে উঠেছেন।” [সূরা ত্বা-হা: ০৫]
"তার দিকে ভালো কথা উত্থিত হয়" [সূরা ফাতির: ১০] নফীর (নাকচকরণ) ক্ষেত্রে আমি পড়ি:
"তাঁর মতো কিছুই নেই।” [সূরা আশ-শূরা: ১১]
"তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না।" [সূরা ত্বা-হা: ১১০] আমার মতো জ্ঞান অভিজ্ঞতা যারা অর্জন করে তারা আমার মতো জানতে পারবে।

টিকাঃ
৩৬. তিনি হচ্ছেন, মুহাম্মাদ ইবন 'উমার ইবন হাসান ইবনুল হুসাইন, আত-তাইমী, আল-বিকরী। আবু আব্দুল্লাহ, ফখরুদ্দীন আর-রাযী। জন্ম ৫৪৪ হিজরী, মৃত্যু ৬০৬ হিজরী। তাকে বলা হয় ইমাম, মুফাসসির, আক্বলী ও নকলী বিষয়ে তার সময়কার একক ব্যক্তিত্ব। বংশের দিক থেকে কুরাশী, মূল অবস্থান ত্বাবারিস্তানে, তার জন্ম হয়েছিল রাই শহরে, রাই শহরের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে রাযী বলা হয়। তাকে 'ইবন খতীব আর-রাই'ও বলা হয়। হিরাতে তার মৃত্যু হয়। তার জীবদ্দশাতেই লোকেরা তার গ্রন্থ পড়ার জন্য আগ্রহী ছিল। অনেক গ্রন্থ তিনি রচনা করেছেন, যেমন, তাফসীর মাফাতীহ আল-গাইব, মা'আলিম ফী উসূলিদ দীন, মুহাসসালু আফকারিল মুতাকাদ্দিমীন, ওয়াল মুতাআখখেরীন মিনাল উলামায়ি ওয়াল হুকামায়ি ওয়াল মুতাকাল্লিমীন, আসাসুত তাক্বদীস, আল-মাত্বালিব আল-আলীয়া, আল-মাহসূল ফী ইলমিল উসূল, আস-সিররুল মাকতূম ফী মুখাত্বাবাতিন নজুম প্রভৃতি। ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে বলেন, তার গ্রন্থসমূহে ব্যাপক বালা-মুসিবত রয়েছে, জাদুবিদ্যা, সুন্নাহ'র বিরোধিতা রয়েছে। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন; কারণ তিনি ভালো হয়ে মারা গিয়েছিলেন। গোপন বিষয়টি আল্লাহর হাতে সোপর্দ করলাম। মাযহাবের দিক থেকে তিনি শাফেয়ী মাযহাবের, আকীদাহ'র দিক থেকে তিনি আশ'আরী মতবাদের। বলা হয়ে থাকে, শেষ জীবনে তিনি সালাফী আকীদায় ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। [ইমাম যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (২১/৫০০)]
৩৭. ফখরুদ্দীন রাযী (মৃ. ৬০৬ হিজরী) তাঁর জীবনের শেষাংশে ৬০৪ হিজরীতে লিখিত 'রিসালাতু যাম্মি লাযযাতিদ দুনিয়া' পুস্তিকার উপসংহারে উক্ত বক্তব্য প্রদান করেন। পুস্তিকাটি ব্রিল, লেইডেন থেকে প্রকাশিত Ayman Shihadeh, The Teleological Ethics of Fakhr al-Din al-Razi (Leiden, The Netherlands: Brill, 2006) গ্রন্থের পরিশিষ্টে মুদ্রিত। সুতরাং শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ তার বক্তব্যে সত্যবাদী ছিলেন তা প্রমাণিত হলো। তাছাড়া এ বক্তব্য বিখ্যাত কালামশাস্ত্রবিদ সুবুকী তার তাবাক্বাতুশ শাফে'ঈয়্যাহ আল-কুবরা (৫/৪০) এ বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে লিসানুদ্দীন ইবনুল খত্বীব (মৃ. ৭৭৬ হিজরী), তার আল-ইহাত্বাহ ফী আখবারি গারনাত্বাহ গ্রন্থে (২/২২২) তা সনদসহ রাযী থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন, রাযী তার আকসামুল লাযযাত গ্রন্থে তা বলেছেন (মাজমু' ফাতাওয়া (৪/৭৩); বায়ানু তালবীষিল জাহমিয়্যাহ (৮/৫২৯-৫৩০); দারউত তা'আরুদ্ব (১/১৬০); মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৭১); মাজমূ' রাসায়িলিল কুবরা (১/৯৭, ১৮৫)। অনুরূপ ইবনুল কাইয়্যেম বর্ণনা করেছেন তার ইজতিমা'উল জুয়ুশ, পৃ. ৩০৪। ইবন আবিল ইয্য আল-হানাফী, শারহুত ত্বাহাওয়িয়্যাহ (২/২৪৪)। তাছাড়া ইবন খাল্লিকান তার ওফায়াতুল আ'ইয়ান (৪/২৫০) গ্রন্থেও তা রাযীর দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। শাইখ ড. মুহাম্মাদ রাশাদ সালেম তার দারউত তা'আরুদ্ব (১/৬০) এর টীকায় বলেন, 'আকসামুল লাযযাত' গ্রন্থটি ভারতীয় কোনো এক লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে। রাযীর বিস্তারিত অবস্থা জানতে পড়ুন, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ'র বক্তব্য, (মাজমু' ফাতাওয়া ৪/২৮; বায়ানু তালবীসিল জাহমিয়্যাহ (১/১২৯); মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৭২); ইবনুল কাইয়্যেম, আস-সাওয়া'য়িকুল মুরসালাহ (২/৬৬৬)।

📘 আল ফাতওয়া আল হামাউয়্যাহ আল কুবরা > 📄 ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনীর স্বীকৃতি

📄 ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনীর স্বীকৃতি


তাদের (দার্শনিক) অন্য একজন বলেছেন: "আমি তো বিশাল সাগরে ডুব দিয়েছিলাম। আর আমি ইসলামপন্থী ও তাদের জ্ঞানকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। আর তারা যেটা আমাকে নিষেধ করেছিল তাতে লিপ্ত হয়েছিলাম। আর এখন আমাকে যদি আমার রব স্বীয় রহমত দ্বারা প্রতিকার না করেন তাহলে দুর্ভোগ অমুকের জন্য), আর আমিতো মারা যাব আমার মায়ের বিশ্বাসের ওপর।"

টিকাঃ
৩৮. তিনি হচ্ছেন আব্দুল মালেক ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইবন মুহাম্মাদ, আল-জুওয়াইনী, যার উপাধী ছিল ইমামুল হারামাইন, রুকনুদ্দীন। কুনিয়াত আবুল মাআলী। পরবর্তীদের মধ্য বড় জ্ঞানী। শাফেয়ী মাযহাবের লোক। জন্ম ৪১৯ হিজরীতে জুওয়াইন অঞ্চলে, যা নাইসাপুরে অবস্থিত। তারপর তিনি বাগদাদ সফর করেন, তারপর মক্কায়, সেখানে চার বছর অবস্থান করেন, তারপর মদীনা, সেখানে ফতোয়া ও দারস প্রদান করেন। তারপর তিনি নাইসাপূরে ফিরে আসেন, ওযীর নিযামুল মুলক তার জন্য নাইসাপুরে মাদরাসাতুন নিযামিয়্যাহ প্রতিষ্ঠা করেন। তার দরসে বড় বড় আলেমগণ হাযির হতেন। তার গ্রন্থসমূহের অন্যতম হচ্ছে, গিয়াসুল উমাম ফিততাইয়াসিয যুলাম। আল-বুরহান ফী উসুলিল ফিকহ, আশ-শামেল, আল-ইরশাদ, ওয়ারাকাত, মুগীসুল খালক। তিনি নাইসাপুরে ৪৭৮ হিজরীতে মারা যান। [দেখুন, আল-আ'লাম (৪/১৬০)]
৩৯. অর্থাৎ তার নিজের জন্য।
৪০. 'মায়ের বিশ্বাস' বলার কারণ হচ্ছে, সাধারণত যারা ফিত্বরাত বা স্বভাবজাত দীনের ওপর বড় হয়, তারা আল্লাহর ব্যাপারে সহীহ আকীদাহ-বিশ্বাসে থাকেন। সাহাবায়ে কিরামের মতো স্বাভাবিক আল্লাহ প্রদত্ত আকীদাহ ধারণ করেন। তারা কালামশাস্ত্রের মতো নাপাক জিনিস দিয়ে নিজেদের আকীদাহ- বিশ্বাসকে বিনষ্ট করেননি। [দেখুন, আল-মু'আল্লেমী, আত-তানকীল (২/২৩৩)]
৪১. আবুল মা'আলী আল-জুয়াইনী তা বলেছেন, যা ইমাম যাহাবী তাঁর সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৮/৪৭১) এ বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া সুবুকী তা ইমামুল হারামাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, ত্বাবাকাতুশ শাফে'ইয়‍্যাহ আল-কুবরা (৩/২৬০); ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী, শাযারাতুয যাহাব (৩/৩৬১)। আরও দেখা যায়, ইবন তাইমিয়্যাহ, ফাতাওয়া (৪/৭৩); মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৬৯)।

তাদের (দার্শনিক) অন্য একজন বলেছেন: "আমি তো বিশাল সাগরে ডুব দিয়েছিলাম। আর আমি ইসলামপন্থী ও তাদের জ্ঞানকে ছেড়ে দিয়েছিলাম। আর তারা যেটা আমাকে নিষেধ করেছিল তাতে লিপ্ত হয়েছিলাম। আর এখন আমাকে যদি আমার রব স্বীয় রহমত দ্বারা প্রতিকার না করেন তাহলে দুর্ভোগ অমুকের জন্য), আর আমিতো মারা যাব আমার মায়ের বিশ্বাসের ওপর।"

টিকাঃ
৩৮. তিনি হচ্ছেন আব্দুল মালেক ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইবন মুহাম্মাদ, আল-জুওয়াইনী, যার উপাধী ছিল ইমামুল হারামাইন, রুকনুদ্দীন। কুনিয়াত আবুল মাআলী। পরবর্তীদের মধ্য বড় জ্ঞানী। শাফেয়ী মাযহাবের লোক। জন্ম ৪১৯ হিজরীতে জুওয়াইন অঞ্চলে, যা নাইসাপুরে অবস্থিত। তারপর তিনি বাগদাদ সফর করেন, তারপর মক্কায়, সেখানে চার বছর অবস্থান করেন, তারপর মদীনা, সেখানে ফতোয়া ও দারস প্রদান করেন। তারপর তিনি নাইসাপূরে ফিরে আসেন, ওযীর নিযামুল মুলক তার জন্য নাইসাপুরে মাদরাসাতুন নিযামিয়্যাহ প্রতিষ্ঠা করেন। তার দরসে বড় বড় আলেমগণ হাযির হতেন। তার গ্রন্থসমূহের অন্যতম হচ্ছে, গিয়াসুল উমাম ফিততাইয়াসিয যুলাম। আল-বুরহান ফী উসুলিল ফিকহ, আশ-শামেল, আল-ইরশাদ, ওয়ারাকাত, মুগীসুল খালক। তিনি নাইসাপুরে ৪৭৮ হিজরীতে মারা যান। [দেখুন, আল-আ'লাম (৪/১৬০)]
৩৯. অর্থাৎ তার নিজের জন্য।
৪০. 'মায়ের বিশ্বাস' বলার কারণ হচ্ছে, সাধারণত যারা ফিত্বরাত বা স্বভাবজাত দীনের ওপর বড় হয়, তারা আল্লাহর ব্যাপারে সহীহ আকীদাহ-বিশ্বাসে থাকেন। সাহাবায়ে কিরামের মতো স্বাভাবিক আল্লাহ প্রদত্ত আকীদাহ ধারণ করেন। তারা কালামশাস্ত্রের মতো নাপাক জিনিস দিয়ে নিজেদের আকীদাহ- বিশ্বাসকে বিনষ্ট করেননি। [দেখুন, আল-মু'আল্লেমী, আত-তানকীল (২/২৩৩)]
৪১. আবুল মা'আলী আল-জুয়াইনী তা বলেছেন, যা ইমাম যাহাবী তাঁর সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১৮/৪৭১) এ বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া সুবুকী তা ইমামুল হারামাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, ত্বাবাকাতুশ শাফে'ইয়‍্যাহ আল-কুবরা (৩/২৬০); ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলী, শাযারাতুয যাহাব (৩/৩৬১)। আরও দেখা যায়, ইবন তাইমিয়্যাহ, ফাতাওয়া (৪/৭৩); মিনহাজুস সুন্নাহ (৫/২৬৯)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00