📘 আল আযকার > 📄 বড়দের থেকে দুআ নেয়া

📄 বড়দের থেকে দুআ নেয়া


অনুগ্রহকারীর জন্য দুআ এবং দুআর ধরন
এই অধ্যায়ে অনেক বিষয়ই রয়েছে, ইতিপূর্বে যথাস্থানে যার আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বিষয় এটি:
(১০৪৪) হজরত উসামা বিন জায়েদ রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوْفٌ، فَقَالَ لِفَاعِلِهِ : جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا ، فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ.
অর্থ: কারো জন্য কোনো উপকার করা হল এবং সে উপকারকারীকে “জাজাকাল্লাহু খায়রান” (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন) বলে দুআ দিল, সে যেন (উপকারকারীর) পূর্ণাঙ্গরূপে প্রশংসা করল। -ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ。
সামান্য পূর্বেই (অর্থাৎ জিহ্বা সংবরণ অধ্যায়ে) সহিহ হাদিসে আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন-
وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفًا فَكَافِرُوهُ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِيُونَه فَادْعُوْا لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَدْ كَافَأْتُمُوهُ.
অর্থ: কেউ যদি তোমাদের কোনোও উপকার করে, তবে তোমরাও তার অনুরূপ উপকার কর। যদি তোমরা অনুরূপ উপকার করার সামর্থ্য না রাখ, তবে তোমরা তার জন্য দুআ করে দাও, যাতে করে তোমাদের মনে হয় যে, তোমরাও তার সঙ্গে অনুরূপ আচরণ করেছ。
বড়দের থেকে দুআ নেয়া, যদিও দুআপ্রার্থী প্রার্থিত ব্যক্তির চেয়ে উত্তম হয়। ফজিলতপূর্ণ স্থানসমূহে দুআ করা
এ বিষয়েও অগণিত হাদিস রয়েছে। এটি একটি সর্বসম্মত বিষয়। তবে এ বিষয়ে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য দলিল এটি-
(১০৪৫) হজরত উমর বিন খাত্তাব রাদি. থেকে বর্ণিত-
اسْتَأْذَنْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْعُمْرَةِ فَأَذِنَ لِي وَقَالَ : لَا تَنْسَنَا يَا أُخَيَّ مِنْ دُعَائِكَ. فَقَالَ كَلِمَةً مَا يَسُرُّنِي أَنَّ لِي بِهَا الدُّنْيَا وَفِي رِوَايَةٍ : أَشْرِكْنَا يَا أُخَيَّ فِي دُعَائِكَ.
অর্থ: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উমরার অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাকে অনুমতি দিয়ে বললেন, ভাই আমার! আমাদের জন্য দুআ করতে ভুলবেন না। পরবর্তীতে হজরত উমর রাদি. বলেন, রাসূলের এই একটি শব্দ আমাকে এতেঠটা আনন্দ দিয়েছে যে, এর বিনিময়ে সমগ্র দুনিয়ার সম্পদও আমাকে এতটা আনন্দিত করতে পারত না। অপর এক রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ওহে ভাই আমার! তোমার দুআয় আমাদেরকেও শরিক রাখবেন। -ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ। হাদিসটি আমরা 'আজকারুল মুসাফির' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছি。

টিকাঃ
১৫৪৮. সুনানে তিরমিজি: ২০৩৫।
১৫৪৯. সুনানে আবু দাউদ: ১৬৭২।
১৫৫০. সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৮, সুনানে তিরমিজি: ৩৫৬২।

📘 আল আযকার > 📄 নিজের ও পরিবারের জন্য বদদুআ করা নিষেধ

📄 নিজের ও পরিবারের জন্য বদদুআ করা নিষেধ


নিজের জন্য কিংবা নিজের সন্তান, সেবক, সম্পদ ইত্যাদির জন্য বদদুআ করা নিষেধ
(১০৪৬) হজরত জাবের রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
لَا تَدْعُوْا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، وَلَا تَدْعُوْا عَلَى أَوْلَادِكُمْ، وَلَا تَدْعُوْا عَلَى خَدَمِكُمْ، وَلَا تَدْعُوْا عَلَى أَمْوَالِكُمْ، لَا تُوَافِقُوْا مِنَ اللَّهِ، تَبَارَكَ وَتَعَالَى سَاعَةَ نَيْلٍ فِيْهَا عَطَاءُ فَيَسْتَجِيْبَ لَكُمْ .
অর্থ: তোমরা নিজেদেরকে বদদুআ করবে না। সন্তানদেরকে বদদুআ করবে না। খাদেমদের বদদুআ করবে না। সম্পদের ওপরও বদদুআ করবে না। কেননা, হতে পারে সেটা এমন এক সময় যখন (আল্লাহর পক্ষ থেকে) দান করা হয়; ফলে তোমাদের সেই বদদুআ কবুল হয়ে যাবে。
ইমাম মুসলিম রহ. এই হাদিসটি তার 'সহিহ'-এর শেষের দিকে বর্ণনা করেছেন। হাদিসের ভাষ্য হল-
لَا تَدْعُوْا عَلَى أَنْفُسِكُمْ، وَلَا تَدْعُوْا عَلَى أَوْلَادِكُمْ، وَلَا تَدْعُوْا عَلَى أَمْوَالِكُمْ ؛ لَا تُوَافِقُوْا مِنَ اللهِ، سَاعَةً يُسْأَلُ فِيْهَا عَطَاءُ، فَيَسْتَجِيبُ لَكُمْ.
অর্থ: তোমরা নিজেদেরকে বদদুআ করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে বদদুআ করবে না, খাদেমদের বদদুআ করবে না এবং সম্পদের ওপরও বদদুআ করবে না। কেননা, হতে পারে সেটা এমন এক সময় যখন কিছু প্রার্থনা করলে কবুল হয়ে যায়। ফলে তোমাদের এই বদদুআও কবুল হয়ে যাবে。

টিকাঃ
১৫৫১. সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩২।
১৫৫২. সহিহ মুসলিম: ৩০০৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00