📘 আল আযকার > 📄 প্রসববেদনায় করণীয়

📄 প্রসববেদনায় করণীয়


প্রসববেদনায় করণীয়
এমতাবস্থায় বিপদাপদের দুআসমূহ বেশি বেশি পাঠ করা উচিত, যা আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি।
(৭১৪) হজরত ফাতেমা রাদি. থেকে বর্ণিত-
أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا دَنَا وِلَادَهَا أَمَرَ أُمَّ سَلْمَةً وَزَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ أَنْ يَأْتِيَا فَيَقْرَا عِنْدَهَا آيَةَ الْكُرْسِيِّ، وَ (إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ..) إِلى آخر الآية [الاعراف: ٥٤] وَيَعُوْذَاهَا بِالْمُعَوَّذَتَيْنِ.
অর্থ: তার বাচ্চা প্রসবের সময় নিকটবর্তী হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামা ও যয়নাব বিনতে জাহাশকে নির্দেশ দেন, যেন তারা আমার কাছে এসে আয়াতুল কুরসি ও ( إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ )সুরা আরাফ:

আল-আযকার
৫৪) শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন এবং সুরা নাস ও ফালাক দ্বারা আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করেন。

টিকাঃ
১০২৩. আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ৬২০।

📘 আল আযকার > 📄 নবজাতকের কানে আজান ও তাহনিকের দুআ

📄 নবজাতকের কানে আজান ও তাহনিকের দুআ


নবজাতকের কানে আজান দেয়া মুস্তাহাব
(৭১৫) নবিজির মুক্ত দাস হজরত আবু রাফে রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذَّنَ فِي أُذُنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيَّ حِيْنَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلَاةِ.
অর্থ: আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসান বিন আলির কানে নামাজের আজান দিতে দেখেছি, যখন হজরত ফাতেমা তাকে জন্মদান করেন। -ইমাম তিরমিজি বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ。
আমাদের একদল উলামায়ে কেরাম বলেন, ডান কানে আজান দেয়া এবং বা কানে ইকামত দেয়া মুস্তাহাব।
(৭১৬) হজরত হুসাইন বিন আলি রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ وُلِدَ لَهُ مَوْلُودٌ فَأَذَّنَ فِي أُذُنِهِ الْيُمْنى، وَأَقَامَ فِي أُذُنِهِ الْيُسْرَى لَمْ تَضُرُّهُ أُمُّ الصَّبْيَانِ.
অর্থ: যার কোনো শিশু জন্ম নিল এবং সে তার ডান কানে আজান দিল এবং বাম কানে ইকামত দিল, উম্মে সিবয়ান (নারী শয়তান) তার কোনো অনিষ্ট করতে পারবে না。
তাহনিকের সময়ের দুআ
(৭১৮) সহিহ সনদে হজরত আয়েশা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
كَانَ رَسُولُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْتَى بِالصَّبْيَانِ فَيَدْعُوْ لَهُمْ بِالْبَرَكَةِ.

আল-আযকার
অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শিশুদের নিয়ে আসা হত। তিনি তাদের জন্য দুআ করতেন এবং তাদেরকে তাহনিক করে দিতেন। অন্য বর্ণনায় আছে- তাদের জন্য বরকতের দুআ করতেন。
(৭১৮) হজরত আসমা বিনতে আবু বকর রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
حَمَلَتْ بِعَبْدِ اللهِ بْنِ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةِ، فَأَتَيْتُ الْمَدِينَةَ، فَنَزَلْتُ بِقُبَاءٍ، فَوَلَدْتُهُ بِقُبَاءٍ، ثُمَّ أَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَوَضَعْتُهُ فِي حَجْرِهِ، ثُمَّ دَعَا بِتَمْرَةٍ فَمَضَغَهَا، ثُمَّ تَفَلَ فِي فِيْهِ ، فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ دَخَلَ جَوْفَهُ رِيْقُ رَسُوْلِ اللَّهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ حَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ، ثُمَّ دَعَا لَهُ، وَبَرَّكَ عَلَيْهِ.
অর্থ: মক্কায় থাকাবস্থায় আবদুল্লাহ বিন যুবায়েরের গর্ভধারণ হয়। অতঃপর মদিনায় হিজরতকালে কুবায় অবতরণ করি। সেখানে তার জন্ম হয়। আমি তাকে নিয়ে নবিজির খেদমতে উপস্থিত হই, তিনি তাকে কোলে নিলেন। তারপর খেজুর তলব করে চর্বণ করলেন, অতঃপর তার মুখে থুথু দিলেন। ফলে তার পেটে প্রথম যে বস্তু প্রবেশ করে, তা হল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থুথু। তারপর তাকে খেজুর দ্বারা তাহনিক করেন এবং তার জন্য বরকতের দুআ করেন。
(৭১৯) হজরত আবু মুসা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
وُلِدَ لِي غُلَامُ، فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَمَّاهُ إِبْرَاهِيمَ، فَحَنَّكَهُ بِتَمْرَةٍ، وَدَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ.
অর্থ: আমার এক পুত্র সন্তানের জন্ম হলে তাকে নিয়ে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হই। তিনি তার নাম রাখেন ইবরাহিম। তাকে খজুর দ্বারা তাহনিক করেন এবং তার জন্য বরকতের দুআও করেন。

টিকাঃ
১০২৪. সুনানে আবু দাউদ: ৫১০৫, সুনানে তিরমিজি: ১৫১৪, মু. আহমাদ ৬/৯, মু. হাকেম ৩/১৭৯।
১০২৫. আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ৬২৩।
১০২৬. জন্মের পরে দুধপান করানোর আগে কোনো নেককার বুজুর্গ দ্বারা খেজুর ইত্যাদি ভালো করে চিবিয়ে শিশুর টাকরায় ঘষানো。
১০২৭. সুনানে আবু দাউদ: ৫১০৬।
১০২৮. সহিহ বুখারি: ৩৯০৯, সহিহ মুসলিম ২১৪৬/২৫।
১০২৯. সহিহ বুখারি: ৫৪৬৭, সহিহ মুসলিম: ২১৪৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00