📘 আল আযকার > 📄 হাঁচি ও হাই তোলার আদব

📄 হাঁচি ও হাই তোলার আদব


নেককার সাথীকে সাক্ষাতের আহ্বান এবং আগের তুলনায় বেশি আমার নিমন্ত্রণ করা মুস্তাহাব
(৬৭৪) হজরত ইবনে আব্বাস রাদি. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার জিবরিল আলাইহিস সালামকে বললেন-
مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَزُوْرَنَا أَكْثَرَ مِمَّا تَزُورُنَا؟ فَنَزَلَتْ : وَمَا نَتَنَزَّلُ إِلَّا بِأَمْرِ رَبِّكَ لَهُ مَا بَيْنَ أَيْدِينَا وَمَا خَلْفَنَا .
অর্থ: আপনি আমার সাথে যতবার সাক্ষাৎ করেন তার চেয়ে অধিক সাক্ষাৎ করতে সমস্যা কী? তখন এই আয়াত অবতীর্ণ হয়: আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ছাড়া অবতরণ করি না, যা আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে আছে সবই তারই। ৯৪০
হাঁচিদাতার উত্তর প্রদান এবং মুখব্যাদান করা
(৬৭৫) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعُطَاسَ، وَيَكْرَهُ التَّتَاؤُبَ، فَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ، فَحَقُّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُ أَنْ يُشَمِّتَهُ، وَأَمَّا التَّتَاؤُبُ فَإِنَّمَا هُوَ مِنَ الشَّيْطَانِ، فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ، فَإِذَا قَالَ: هَا. ضَحِكَ مِنْهُ الشَّيْطَانُ.
অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা হাঁচিকে পছন্দ করেন এবং হাই তোলাকে অপছন্দ করেন। যদি তোমাদের কেউ হাঁচি দিয়ে الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদুলিল্লাহ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) বলে, তবে প্রত্যেক মুসলিম শ্রোতাকে তার জবাবে يَرْحَمُكَ الله )ইয়ারহামুকাল্লাহ: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন( বলা উচিত। আর মুখব্যাদান করা শয়তানের তরফ থেকে। কাজেই তোমাদের কেউ মুখব্যাদান করলে সে যেন তা যথাসম্ভব রোধ করে। কেননা, কেউ মুখব্যাদান করলে শয়তান তাকে নিয়ে হাসে। ৯৪১
ইমাম নববি রহ. বলেন, উলামায়ে কেরাম বলেছেন, এর মর্মার্থ হল- হাঁচি আসার কারণগুলো ভালো, এতে করে শরীর হালকা হয়, যা মিক্চার ও খাদ্যের স্বল্পতার ওপর প্রমাণ বহন করে। এটি একটি পছন্দনীয় বিষয়। কেননা, এটি কাম উদ্দীপনা হ্রাস করে ও আনুগত্যকে সহজ করে তোলে। পক্ষান্তরে হাই তোলা এর বিপরীত। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(৬৭৬) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ، فَلْيَقُلِ : الْحَمْدُ لِلهِ، وَلْيَقُلْ لَهُ أَخُوهُ أَوْ صَاحِبُهُ: يَرْحَمُكَ اللهُ. فَإِذَا قَالَ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللهُ. فَلْيَقُلْ: يَهْدِيْكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ أَيْ شَأْنَكُمْ.
অর্থ: যখন তোমাদের কোনো ব্যক্তি হাঁচি দেয়, সে যেন الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহাদুলিল্লাহ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) বলে। আর তার ভাই অথবা সাথী যেন يَرْحَمُكَ اللهُ (ইয়ারহামুকাল্লাহ: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন) বলে। সে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলার পর হাঁচিদাতা বলবে- يَهْدِيْكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ (ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম: আল্লাহ তোমাদেরকে সরল পথে প্রদর্শন করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করুন)। ৯৪২
(৬৭৭) হজরত আনাস বিন মালিক রাদি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
عَطَسَ رَجُلَانِ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الْآخَرَ، فَقَالَ الَّذِي لَمْ يُشَمِّتْهُ: عَطَسَ فُلَانٌ فَشَمَّتَهُ، وَعَطَسْتُ أَنَا فَلَمْ تُشَمِّتْنِي. قَالَ: إِنَّ هَذَا حَمِدَ اللَّهَ، وَإِنَّكَ لَمْ تَحْمَدِ اللَّهَ.
অর্থ: একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দুই ব্যক্তি হাঁচি দিলেন। তিনি একজনের হাঁচির জবাব দিলেন এবং অপরজনের দিলেন না। যার হাঁচির জবাব দেননি সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তার হাঁচির জবাব দিলেন, অথচ আমার হাঁচির জবাব দিলেন না? বললেন, সে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলেছে, কিন্তু তুমি 'আলহামদুলিল্লাহ' বলনি। ৯৪৩
(৬৭৮) হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি-
إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَحَمِدَ اللَّهَ فَشَمِّتُوهُ، فَإِنْ لَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ فَلَا تُشَمِّتُوهُ.
অর্থ: তোমাদের কেউ যদি হাঁচি দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করে, তাহলে তার হাঁচির উত্তর দিবে। আর যদি আল্লাহর প্রশংসা না করে তবে তোমরাও তার হাঁচির উত্তর দিবে না। ৯৪৪
(৬৭৯) হজরত বারা বিন আজিব রাদি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْعٍ، وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ: أَمَرَنَا بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ، وَاتَّبَاعِ الْجِنَازَةِ، وَتَشْمِيْتِ الْعَاطِسِ، وَإِجَابَةِ الدَّاعِي، وَرَدَّ السَّلَامِ، وَنَصْرِ الْمَظْلُوْمِ، وَإِبْرَارِ الْقَسَمِ.
অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি কাজের নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং সাতটি কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। রোগী পরিদর্শন করতে, জানাযার সঙ্গে চলতে, হাঁচিদাতাকে দুআ করতে, দাওয়াতকারীর দাওয়াত কবুল করতে, সালামের জবাব দিতে, মাজলুমের সাহায্য করতে এবং (শপথকারীর) শপথ পূরণ করতে আমাদের আদেশ দিয়েছেন। ৯৪৫
(৬৮০) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ : رَدُّ السَّلَامِ، وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ، وَاتَّبَاعُ الْجَنَائِزِ، وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ، وَتَشْمِيْتُ الْعَاطِسِ.
অর্থ: এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি: সালামের জবাব দেয়া, রোগী পরিদর্শন করা, জানাযার অনুসরণ করা, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচিদাতাকে কল্যাণের দুআ করা। ৯৪৬ - সহিহ মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে-
حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتُّ: إِذَا لَقِيْتَهُ فَسَلَّمْ عَلَيْهِ، وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ، وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ فَشَمَّتْهُ، وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ، وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ.
অর্থ: মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক ছয়টি: কারো সাথে দেখা হলে তাকে সালাম দিবে, তোমাকে দাওয়াত করলে কবুল করবে, সে তোমার নিকট উপদেশ চাইলে তুমি তাকে উপদেশ দিবে, সে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ্ বললে তার জন্য দুআ করবে, সে পীড়িত হলে পরিদর্শনে যাবে এবং সে মৃত্যুবরণ করলে জানাযায় অংশ নিবে। ৯৪৭
হাঁচিদাতা কী বলবে, কোন শব্দে তাকে দুআ করা হবে: সংশ্লিষ্ট ফিকহি মতানৈক্য
উলামায়ে কেরাম সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, হাঁচিদাতার জন্য হাঁচির পরে الْحَمْدُ لِلَّهِ (আলহামদুলিল্লাহ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) বলা মুস্তাহাব। যদি সে اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ (আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য) বলে তাহলে সেটি হবে উত্তম। আর যদি বলে: الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلّ حَالٍ (আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল: সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) তাহলে সেটি হবে সর্বোত্তম।
(৬৮১) হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে সহিহ সনদে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ : الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ، وَلْيَقُلْ أَخُوْهُ أَوْ صَاحِبُهُ : يَرْحَمُكَ اللهُ، وَيَقُوْلُ هُوَ: يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ.
অর্থ: তোমাদের কেউ হাঁচি দিলে তাকে الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ (আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল: সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য) বলা উচিত। তার ভাই অথবা সাথী বলবে- يَرْحَمُكَ الله (ইয়ারহামুকাল্লাহ: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন)। আর হাঁচিদাতা পুনরায় বলবে- يَهْدِيْكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ (ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম: আল্লাহ তোমাদেরকে সরল পথে প্রদর্শন করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করুন)। ৯৪৮
(৬৮২) হজরত নাফে রহ. থেকে বর্ণিত-
أَنَّ رَجُلًا عَطَسَ إِلَى جَنْبِ ابْنِ عُمَرَ، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: وَأَنَا أَقُولُ الْحَمْدُ لِلهِ ، وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ، ، وَلَيْسَ هَكَذَا عَلَّمَنَا رَسُولُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَلَّمَنَا أَنْ نَقُوْلَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ .
অর্থ: জনৈক ব্যক্তি হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার পাশে হাঁচি দিয়ে বলল- ،اَلْحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ (আলহামদুলিল্লাহি ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য নিবেদিত এবং তার রাসুলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। ইবনে উমর রাদি. বললেন, আমিও তো বলি ،الْحَمْدُ لِلَّهِ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ (আলহামদুলিল্লাহি ওয়াসসালামু আলা রাসুলিল্লাহ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য নিবেদিত এবং তার রাসুলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক), কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এরকম বলতে শিখাননি, বরং আমাদেরকে اَلْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ )আলহামদুলিল্লাহি আলা কুল্লি হাল: সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা) বলতে শিখিয়েছেন। ১৪৯
ইমাম নববি রহ. বলেন, যারাই হাঁচিদাতাকে "আলহামদুলিল্লাহ” বলতে শুনবে, তার জন্য يَرْحَمُكَ الله )ইয়ারহামুকাল্লাহ: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন(, يَرْحَمُكُمُ اللَّهُ )ইয়ারহামুকুমুল্লাহ: আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন(, رَحمَكَ الله )রাহিমাকাল্লাহ: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন) কিংবা رَحِمَكُمُ اللهُ )রহিমাকুমুল্লাহ: আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন) বলা মুস্তাহাব। অতঃপর হাঁচিদাতার জন্য يَهْدِيكُمُ اللَّهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ (ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম: আল্লাহ তোমাদেরকে সরল পথে প্রদর্শন করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করুন) কিংবা يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ )ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম: আল্লাহ আমাদের এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করুন) বলা মুস্তাহাব।
(৬৮৩) হজরত নাফে রাদি. থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর রাদি. বলেন-
إِذَا عَطَسَ، فَقِيلَ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللهُ. قَالَ: يَرْحَمُنَا اللهُ وَإِيَّاكُمْ، وَيَغْفِرُ لَنَا وَلَكُمْ.
অর্থ: কারো হাঁচির জবাবে يَرْحَمُكَ الله )ইয়ারহামুকাল্লাহ: আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন) বলা হলে হাঁচিদাতা যেন বলে- يَرْحَمُنَا اللَّهَ وَإِيَّاكُمْ وَيَغْفِرُ لَنَا وَلَكُمْ )ইয়ারহামুনাল্লাহু ওয়া ইয়্যাকুম ওয়া ইয়াগফিরু লানা ওয়ালাকুম: আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের প্রতি দয়া করুন। আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। ৯৫০ - উল্লিখিত সবই সুন্নাহ, কোনোটিই ওয়াজিব নয়।
আমাদের উলমায়ে কেরাম বলেন, اَلتَّشْمِيْتُ অর্থাৎ হাঁচির জবাবে “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলা সুন্নাতে কেফায়া। উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে একজন “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বললে সবার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যাবে। তবে সকলে বলা উত্তম। পূর্বোল্লিখিত সহিহ হাদিসে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বাহ্যিক অর্থের আবেদনের কারণে: যেই মুসলমান হাঁচিদাতার "আলহামদুলিল্লাহ” বলা শুনবে তার জবাবে তাকে “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলা উচিত।
পূর্বোল্লেখ হাঁচিদাতার জবাবে "ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলা মুস্তাহাব- এটাই আমাদের মাজহাব। ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহুর অনুসারী আলেমগণ এটা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে মতানৈক্য করেছেন। কাজি আবদুল ওয়াহহাব বলেন, “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলা সুন্নাত। জামাতের তরফে একজনের বলা বাকিদের জন্য যথেষ্ট। আমাদের মাজহাবের মতো। আর ইবনে মুজাঈন বলেন, প্রত্যেকের জন্যই “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলা আবশ্যক। একে ইবনে আরাবি মালেকি গ্রহণ করেছেন।
হাঁচিদাতা আলহামদুলিল্লাহ না বললে তার উত্তর দেয়া যাবে না
হাঁচিদাতা “আলহামদুলিল্লাহ” না বললে তার উত্তর দেয়া হবে না। পূর্বোল্লেখ হাদিসের কারণে। আর "আলহামদুলিল্লাহ”, “ইয়ারহামুকাল্লাহ” এবং পুনঃজবাবে আওয়াজ এতটা উঁচু করবে, যাতে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি শুনতে পায়।
হাঁচিদাতা আলহামদুলিল্লাহ শব্দ ছাড়া ভিন্ন শব্দ বললে উত্তর দিতে নেই
যদি হাঁচিদাতা “আলহামদুলিল্লাহ” ব্যতীত ভিন্ন কোনো শব্দ বলে, তাহলে সে জবাব পাওয়ার উপযুক্ত নয়।
(৬৮৪) সাহাবি সালিম বিন উবাইদ আশজাঈ রাদি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ. فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَعَلَيْكَ وَعَلَى أُمَّكَ. ثُمَّ قَالَ: إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَحْمَدِ اللَّهَ تَعَالَى، فَذَكَرَ بَعْضَ الْمَحَامِدِ، وَلْيَقُلْ لَهُ مَنْ عِنْدَهُ : يَرْحَمُكَ اللهُ ، وَلْيَرُدَّ - يَعْنِي عَلَيْهِمْ - يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ.
অর্থ: একদা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম। লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে বলল, আসসালামু আলাইকুম (আমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'ওয়া আলাইকা ওয়া আলা উম্মিকা (তোমার ওপর এবং তোমার মায়ের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) তারপর বললেন: তোমাদের কেউ হাঁচি দিলে তাকে আল্লাহর প্রশংসা করা উচিত। (অতঃপর কিছু প্রশংসা উল্লেখ করেন) নিকটবর্তীদের “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন) বলা উচিত। আর হাঁচিদাতা তাদের জবাবে বলবে- ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম (আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন)। ৯৫৫
নামাজে হাঁচিদাতার ব্যাপারে ফকিহদের মতানৈক্য
নামাজের ভিতরে হাঁচি দিলে মনে মনে "আলহামদুলিল্লাহ” বলা মুস্তাহাব এবং এমন আওয়াজে বলবে, যেন নিজে শুনতে পায়। এটি আমাদের মাজহাব। ৯৫৬ এ বিষয়ে ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহুর অনুসারীদের তিনটি মত রয়েছে: এক. আমাদের মতের অনুরূপ। ইবনুল আরাবি একে পছন্দ করেছেন। দুই. মনে মনে “আলহামদুলিল্লাহ” বলবে। তিন. উচ্চস্বরে কিংবা মনে মনেও “আলহামদুলিল্লাহ” বলবে না। বলেছেন ইমাম সুহনুন রহ.।৯৫৭
হাঁচির সময় মুখে হাত অথবা কাপড় রাখা সুন্নাত
হাঁচি আসলে মুখে হাত, কাপড় ইত্যাদি রাখা এবং আওয়াজ ক্ষীণ করা সুন্নাত।
(৬৮৫) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
كَانَ رَسُوْلُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا عَطَسَ وَضَعَ يَدَهُ أَوْ ثَوْبَهُ عَلَى فِيْهِ، وَخَفَضَ - أَوْ غَضَّ - بِهَا صَوْتَهُ.
অর্থ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁচি আসলে হাত বা কাপড় মুখে রাখতেন এবং আওয়াজ নিচু করতেন। ৯৫৮-ইমাম তিরমিজি একে হাসান সহিহ বলেছেন।
(৬৮৬) হজরত আবদুল্লাহ বিন যুবায়ের রাদি. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
التَّثَاؤُبُ الرَّفِيعُ وَالْعَطْسَةُ الشَّدِيدَةُ مِنَ الشَّيْطَانِ.
অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা হাই তোলা ও হাঁচির উচ্চ আওয়াজ অপছন্দ করেন। ৯৫৯
(৬৮৭) হজরত উম্মে সালামা রাদি. থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-
إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَكْرَهُ رَفْعَ الصَّوْتِ بِالتَّثَاؤُبِ وَالْعُطَاسِ.
অর্থ: উচ্চ আওয়াজের হাই এবং বিকট শব্দের হাঁচি শয়তানের তরফে। ৯৬০
বারবার হাঁচিদাতার জবাব
যদি কেউ বারবার হাঁচি দেয়, তাহলে তিনবার পর্যন্ত তার জবাবে “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলা সুন্নাত।
(৬৮৮) হজরত সালামা বিন আকওয়া রাদি. থেকে বর্ণিত-
أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَهُ، فَقَالَ لَهُ: يَرْحَمُكَ اللهُ. ثُمَّ عَطَسَ أُخْرَى، فَقَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الرَّجُلُ مَزْكُوْمُ.
অর্থ: এক লোক নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে হাঁচি দেয়ার পর তিনি তাকে বলেছেন, আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন। অতঃপর সে পুনরায় হাঁচি দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সে সর্দিগ্রস্ত। এটি সহিহ মুসলিমের শব্দ। ৯৬১-পক্ষান্তরে ইমাম আবু দাউদ এবং তিরমিজি রহ. তারা হাদিসটিকে এভাবে উল্লেখ করেছেন, সালামা বিন আকওয়া বলেন-
عَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَ رَسُوْلِ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا شَاهِدٌ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : يَرْحَمُكَ اللهُ. ثُمَّ عَطَسَ الثَّانِيَةَ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هَذَا رَجُلٌ مَزْكُوْمُ.
অর্থ: জনৈক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে হাঁচি দিল। আমিও তখন উপস্থিত ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন। অতঃপর সে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার হাঁচি দিলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন। এ লোকটি সর্দিতে আক্রান্ত। ৯৬২
(৬৮৯) হজরত উবাইদ বিন রিফাআ রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
يُشَمَّتُ الْعَاطِسُ ثَلَاثًا، فَإِنْ زَادَ فَإِنْ شِئْتَ فَشَمِّتْهُ، وَإِنْ شِئْتَ فَلَا.
অর্থ: হাঁচিদাতার উত্তর তিনবার দিবে। এরপরও যদি সে হাঁচি দিতে থাকে, তবে তোমার ইচ্ছা; উত্তর দিতেও পারবে, নাও দিতে পারবে। ৯৬৩ এই বর্ণনা দুর্বল। ইমাম তিরমিজি বলেন, হাদিসটি গারিব।
(৬৯০) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. হতে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-
إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيُشَمِّتْهُ جَلِيْسُهُ، وَإِنْ زَادَ عَلَى ثَلَاثَةِ فَهُوَ مَزْكُوْمُ، وَلَا يُشَمَّتُ بَعْدَ ثَلَاثٍ.
অর্থ: তোমাদের কেউ হাঁচি দিলে তার সাথী যেন তার জবাব দেয়। যদি সে তিনবারের অধিক হাঁচি দেয়, তাহলে সে সর্দিগ্রস্ত। ফলে তিনবারের পরে আর উত্তর দিবে না। ৯৬৪
উলামায়ে কেরাম এক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। ইবনুল আরাবি বলেন- কেউ বলেছেন, দ্বিতীয়বার হাঁচি দিলে বলা হবে, তুমি সর্দিতে আক্রান্ত। কেউ বলেন, তৃতীয় বার হাঁচি দিলে বলা হবে। কেউবা চতুর্থবারের কথা বলেছেন। বিশুদ্ধতম মত হল, তৃতীয়বার হাঁচি দিলে বলা হবে। তিনি আরো বলেন, এর অর্থ দাঁড়ায়, এরপর আপনার উত্তরে দুআ-বাক্য বলা হবে না। কেননা, এটা আপনার সর্দি ও অসুস্থতা, শরীরের প্রশমন নয়।
যদি বলা হয় হাঁচিদাতা যদি অসুস্থই হয়, তাহলে তো তার জন্য দুআ করা এবং তার জবাব দেয়া উচিত। কেননা, অন্যদের চেয়ে সে দুআ পাওয়ার অধিক উপযুক্ত? উত্তর: তার জন্য দুআ করা মুস্তাহাব, তবে হাঁচির জবাবের জন্য নির্ধারিত দুআ ব্যতীত অন্য দুআ, বরং একজন মুসলমান অপর মুসলমানের সুস্থতা ও নিরাপত্তা ইত্যাদি কামনায় দুআ করতে হবে। সেটা হাঁচির জবাবে দুআর অধ্যায়ভুক্ত হবে না। ৯৬৫
হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ না বলা অথবা বললেও কেউ শুনেনি কিংবা কেউ শুনেছে
কেউ হাঁচি দিয়ে “আলহামদুলিল্লাহ" না বললে তার উত্তর দেয়া হবে না- বিষয়টি আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি। অনুরূপভাবে কেউ “আলহামদুলিল্লাহ” বলেছে ঠিক, কিন্তু কেউ শুনতে পায়নি, তবুও তার উত্তর দেয়া হবে না। যদি একদলের মধ্য থেকে কিছু লোক শুনে থাকে, তাহলে পছন্দনীয় মত হল: শ্রোতারাই উত্তর দিবেন, বাকিরা নয়।
ইবনুল আরাবি সেসব লোকদের হাঁচির উত্তর দেয়া প্রসঙ্গে মতানৈক্য উল্লেখ করেছেন, যারা হাঁচিদাতাকে “আলহামদুলিল্লাহ” বলতে শুনেননি, কিন্তু সাথীকে “ইয়ারবামুকাল্লাহ” বলতে শুনেছেন। কেউ বলেন, সে উক্ত ব্যক্তির হাঁচির উত্তর দিবে। কেননা, সে অন্যের "ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলা দ্বারা তার হাঁচি দেয়া ও "আলহামদুলিল্লাহ” বলা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। কেউ বলেন, না। কেননা সে তাকে "আলহামদুলিল্লাহ” বলতে শুনেনি। ৯৬৬
জ্ঞাতব্য, যদি কোনো ব্যক্তি "আলহামদুলিল্লাহ” একেবারেই না বলে, তাহলে তার কাছে থাকা ব্যক্তির জন্য তাকে আল্লাহর প্রশংসার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া মুস্তাহাব। এটাই পছন্দনীয় মত। ইমাম খাত্তাবির "মাআলিমুস সুনান" এ ইমাম ইবরাহিম নাখায়ি থেকে বর্ণিত আছে- এমনটা করা উপদেশ প্রদান, সৎ কাজের আদেশদান এবং নেকি ও পরহেজগারির কাজে পারস্পরিক সহায়তার অন্তর্ভুক্ত। ৯৬৭ ইবনুল আরাবি বলেন, এমনটি করতে যাবে না; বরং মনে করবে, অজ্ঞতাবশতঃ বলেনি। নববি বলেন, তার এই ধারণা সঠিক নয়, বরং স্মরণ করিয়ে দেয়াই মুস্তাহাব। যেমনটা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
কোনো ইহুদি হাঁচি দিলে করণীয়
(৬৯১) সহিহ সনদে হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
كَانَ الْيَهُودُ يَتَعَاطَسُوْنَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ يَرْجُوْنَ أَنْ يَقُولَ لَهُمْ: يَرْحَمُكُمُ اللَّهُ، فَيَقُولُ: يَهْدِيكُمُ اللَّهُ، وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ.
অর্থ: ইহুদিরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এই আশায় ইচ্ছাকৃতভাবে হাঁচি দিত যে, তিনি তাদের হাঁচির জবাবে يَرْحَمُكُمُ اللهُ (ইয়ারহামুকুমুল্লাহ: আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন) বলবেন। বিপরীতে তারা বলবে: يَهْدِيكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ (ইয়াহদিকুমুল্লাহ ওয়া ইউসলিহ বালাকুম: আল্লাহ তোমাদেরকে সরল পথে প্রদর্শন করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করুন)। ৯৬৮ ইমাম তিরমিজি বলেন, এই হাদিস হাসান সহিহ।
আলোচনাকালে পাশে কেউ হাঁচি দিলে করণীয়
হজরত আবু হুরায়রা রাদি. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِذَا مَنْ حَدَّثَ حَدِيثًا فَعَطَسَ عِنْدَهُ فَهُوَ حَقٌّ.
অর্থ: আলোচনাকালে পাশে কেউ হাঁচি দিলে (এবং আলহামদুলিল্লাহ বললে) সে উত্তর পাওয়ার অধিকার রাখে। ৯৬৯ -হাদিসের একজন বর্ণনাকারী বাকিয়্যাহ বিন ওয়ালিদ ছাড়া বাকি সবাই নির্ভরযোগ্য। বাকিয়‍্যাহ: বিরোধপূর্ণ বর্ণনাকারী। অধিকাংশ হাফেজে হাদিস ও ইমামদের কাছে সিরিয়াবাসী থেকে তার রেওয়ায়েত গ্রহণীয়। তিনি এই হাদিস মুআবিয়া বিন ইয়াহিয়া শামি থেকে বর্ণনা করেছেন।
যথাসম্ভব হাই প্রতিহত করা সুন্নাত এবং মুখে হাত রাখা মুস্তাহাব
হাই তোলার সময় সাধ্যমত তা প্রতিহত করা সুন্নাত। পূর্বোল্লিখিত সহিহ হাদিসের কারণে। এ সময় মুখে হাত রাখাও সুন্নাত।
(৬৯২) হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
تَتَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ عَلَى فِيهِ؛ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ
অর্থ: তোমাদের কারো হাই এলে হাত মুখে চেপে ধরবে। কেননা এ সময় শয়তান প্রবেশ করে। ৯৭০ - ইমাম নববি রহ. বলেন, হাই তোলা নামাজে আসুক বা বাইরে- সর্বাবস্থায় মুখে হাত রাখা মুস্তাহাব। অবশ্য নামাজির জন্য নামাজে বিনা প্রয়োজনে মুখে হাত রাখা মাকরুহ। তবে প্রয়োজনে যেমন হাই ইত্যাদি প্রতিহতকরণে হলে কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

টিকাঃ
৯৪০. সুরা মরিয়ম: ৬৪। সহিহ বুখারি: ৪৭৩১, সুনানে তিরমিজি: ৩১৫৭, মুসনাদে আহমাদ ১/২৩১।
৯৪১. সহিহ বুখারি: ৬২২৬, সহিহ মুসলিম: ২৯৯৪, সুনানে আবু দাউদ: ৫০২৮, সুনানে তিরমিজি: ৩৭০, মুসনাদে আহমাদ ২/২৬৫, আমাল: ২১৪, নাসাঈ।
৯৪২. সহিহ বুখারি: ৬২২৪, সুনানে আবু দাউদ: ৫০২৩, আমাল: ২৩২, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ২/৩৫৩, আমাল: ২৫৪।
৯৪৩. সহিহ বুখারি: ৬২২৫, সহিহ মুসলিম: ২৯৯১, সুনানে আবু দাউদ: ৫০৩৯, সুনানে তিরমিজি: ২৭৪৩, আমাল: ২২২, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ৩/১০০, আমাল: ২৪৮।
৯৪৪. সহিহ মুসলিম: ২৯৯২, মুসনাদে আহমাদ ৪/৪১২।
৯৪৫. সহিহ বুখারি: ৬২২২, সহিহ মুসলিম: ২০৬৬।
৯৪৬. সহিহ বুখারি: ১২৪০, সহিহ মুসলিম: ২১৬২, সুনানে আবু দাউদ: ৫০৩০, সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৪৩৫, মুসনাদে আহমাদ ২/৩৩২, আমাল: ২১০, সুনানে তিরমিজি: ২৭৩৮, আমাল: ৫৩, নাসাঈ।
৯৪৭. সহিহ মুসলিম ৫/২১৬২।
৯৪৮. সুনানে আবু দাউদ: ৫০৩৩।
৯৪৯. সুনানে তিরমিজি: ২৭৩৯, মুসতাদরাকে হাকেম ৪/২৬৬।
৯৫০. মুয়াত্তা মালেক ২/৯৬৫।
সхих বুখারি: ৬২২৬।
আমাদের হানাফি মাজহাবে হাঁচিদাতার জবাবে "ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলা ওয়াজিব। (আলমাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ১২/২৭)
আরিজাতুল আহওয়াজি ৫/৩৭৭।
হাঁচিদাতা ভুলবশতঃ "আলহামদুলিল্লাহ" না বললে উপস্থিতিরা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া মুস্তাহাব।। (আলমাওসুআতুল ফিকহিয়‍্যাহ ১২/২৭)
৯৫5. সুনানে আবু দাউদ: ৫০৩১, সুনানে তিরমিজি: ২৭৪০, মাওয়ারিদ: ১৯৪৮, আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ২২৫, নাসাঈ, মুসতাদরাকে হাকেম ৪/২৬৭।
৯৫৬. আমরা হানাফিদের দৃষ্টিতে নামাজে হাঁচি আসলে "আলহামদুলিল্লাহ" বলা জরুরি নয়। তবে যদি যবান না নাড়িয়ে মনে মনে "আলহামদুলিল্লাহ" বলে এবং মনে মনেই এর জবাব দেয় অর্থাৎ এভাবে বলে - يَرْحَمُكَ اللَّهُ يَا نَفْسِي - ইয়ারহামুকাল্লাহু ইয়া নাফসি (আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন হে আমার আত্মা) তাহলে নামাজ বাতিল হবে না। (আলমাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ১২/২৭)
৯৫৮. সুনানে আবু দাউদ: ৫০২৯, সুনানে তিরমিজি: ২৭৪৫, মুসনাদে আহমাদ ২/৪৩৯, মুসতাদরাকে হাকেম ৪/২৬৪।
৯৫৯. আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ২৬৭।
৯৬০. আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ২৬৪।
৯৬১. সহিহ মুসলিম: ২৯৯৩, সুনানে আবু দাউদ: ৫০৩৭, সুনানে তিরমিজি: ২৭৪৪, আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ২২৩, না.।
৯৬২. সুনানে আবু দাউদ: ৫০৩৭, সুনানে তিরমিজি: ২৭৪৩।
৯৬৩. সুনানে আবু দাউদ: ৫০০৬, সুনানে তিরমিজি: ২৭৪৪।
৯৬৪. আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ২৫১।
৯৬৬. আরিজাতুল আহওয়াজি ৫/৩৭৮।
৯৬৭. মাআলিমুস সুনান ৫/২৯২।
৯৬৮. সুনানে আবু দাউদ: ৫০৩৮, সুনানে তিরমিজি: ২৭৪০, মুসনাদে আহমাদ ৪/৪০০, আলআদাব: ৯৪০, আমাল: ২৩২, আমাল: ২৬২, মুসতাদরাকে হাকেম ৪/২৬৮।
৯৬৯. মুসনাদে আবু ইয়ালা: ৬৩৫২।
৯৭০. সহিহ মুসলিম ৫৭/২৯৯৫। শয়তান প্রবেশ করে: অর্থাৎ অলসতা সৃষ্টি হয়।

📘 আল আযকার > 📄 অন্যের প্রশংসা করা

📄 অন্যের প্রশংসা করা


জ্ঞাতব্য, মানুষের স্তুতি গাওয়া ও গুণগান করা এটি কখনো প্রশংসিত ব্যক্তির সামনাসামনি হয়, কখনো আবার তার অনুপস্থিতিতে হয়। ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে প্রশংসা করাতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে প্রশংসাকারী যদি প্রশংসার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করে এবং মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তাহলে উক্ত প্রশংসা মিথ্যাশ্রিত হওয়ার কারণে হারাম, স্রেফ প্রশংসার কারণে নয়। এই প্রশংসা তখন মুস্তাহাব, যখন তা মিথ্যাশ্রিত হবে না, এতে কল্যাণ নিহিত থাকবে এবং তা প্রশংসিত ব্যক্তিকে আত্মগর্বে পতিত করার আশঙ্কা থাকবে না।
ব্যক্তির সামনাসামনি প্রশংসা করা: কিছু হাদিস বৈধ ও মুস্তাহাব বলে, আবার কিছু হাদিস নিষিদ্ধের দাবী রাখে। উলামায়ে কেরাম বলেন, বিরোধপূর্ণ এই হাদিসসমূহের মাঝে সমন্বয় সাধনে বলা হবে: যদি প্রশংসিত ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমান, পরিচ্ছন্ন বিশ্বাস, আত্মশুদ্ধি এবং পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী হয় যে, আত্মগর্বে লিপ্ত হবে না, বিমোহিত হবে না এবং আত্মপ্রবঞ্চনায়ও লিপ্ত হবে না; তাহলে তার উপস্থিতিতে প্রশংসা করা না হারাম, না মাকরুহ। আর যদি তার ব্যাপারে উক্ত বিষয়ের কোনো একটির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তার প্রশংসা করা গুরুতর মাকরুহ।
নিষিদ্ধের কিছু হাদিস
(৬৯৩) হজরত মিকদাদ রাদি. থেকে বর্ণিত-
أَنَّ رَجُلًا جَعَلَ يَمْدَحُ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، فَعَمَدَ الْمِقْدَادُ ، فَجَثَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ، فَجَعَلَ يَحْثُوْ فِي وَجْهِهِ الْحَصْبَاءَ، فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ: مَا شَأْنُكَ؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُوْلُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا رَأَيْتُمُ الْمَدَّاحِيْنَ فَاحْتُوْا فِي وُجُوهِهِمُ التراب.
অর্থ: এক লোক উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর (সামনে) প্রশংসা করতে লাগলে হজরত মিকদাদ রাদি. জানু পেতে বসলেন (কারণ তিনি ছিলেন মোটা মানুষ) এবং প্রশংসাকারীর মুখে পাথরকুচি নিক্ষেপ করতে লাগলেন। উসমান রাদি. তাকে বললেন, তোমার কী হল হে মিকদাদ? উত্তরে তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (সামনাসামনি) অতিমাত্রায় প্রশংসাকারীদেরকে দেখলে তাদের চেহারায় মাটি নিক্ষেপ করবে। ৯৭১
(৬৯৪) হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. থেকে বর্ণিত-
سَمِعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا يُثْنِي عَلَى رَجُلٍ وَيُطْرِيْهِ فِي مَدْحِهِ، فَقَالَ: أَهْلَكْتُمْ - أَوْ قَطَعْتُمْ - ظَهْرَ الرَّجُلِ.
অর্থ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির অতিমাত্রায় প্রশংসা করতে শুনে বললেন, তোমরা ধ্বংস করে দিলে কিংবা (বলেছেন,) তোমরা লোকটির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেললে। ৯৭২
(৬৯৫) হজরত আবু বাকরা রাদি. হতে বর্ণিত-
أَنَّ رَجُلًا ذُكِرَ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَثْنَى عَلَيْهِ رَجُلٌ خَيْرًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَيْحَكَ، قَطَعْتَ عُنُقَ صَاحِبِكَ - يَقُوْلُهُ مِرَارًا - إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحًا لَا مَحَالَةَ، فَلْيَقُلْ : أَحْسِبُ كَذَا وَكَذَا. إِنْ كَانَ يُرَى أَنَّهُ كَذَلِكَ، وَحَسِيْبُهُ اللهُ، وَلَا يُزَكِّي عَلَى اللهِ، أَحَدًا.
অর্থ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখে এক ব্যক্তির আলোচনা হলে এক লোক তার প্রশংসা করল। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আফসোস তোমার জন্য! তুমি তোমার সাথীর গলা কেটে ফেললে। এ কথা তিনি কয়েকবার বললেন। (তারপর বললেন:) যদি তোমাদের কাউকে প্রশংসা করতেই হয়, তবে বলবে: আমি তার ব্যাপারে এমন এমন ধারণা পোষণ করি, যদি সে তাকে এমন ভাবে। তার প্রকৃত হিসাবকারী হলেন আল্লাহ তাআলা। আল্লাহর তুলনায় কেউ কারো সঠিক প্রশংসা করতে পারে না। ৯৭৩
প্রশংসা বৈধতার কিছু হাদিস
প্রশংসা বৈধতার হাদিস অসংখ্য, তন্মধ্য থেকে কয়েকটি নিম্নরূপ:
১. সহিহ হাদিসে বর্ণিত, হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثَالِثُهُمَا؟
অর্থ: হে আবু বকর! ঐ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কী ধারণা আল্লাহ যাদের তৃতীয় জন?৯৭৪
২. অন্য হাদিসে এসেছে- )لَسْتَ مِنْهُمْ(
অর্থ: হে আবু বকর! তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও, অর্থাৎ যারা অহঙ্কারবশে পরিধেয় বস্ত্র মাটিতে হেঁচড়িয়ে চলে, তুমি তাদের মতো নও। ১৯৭৫
৩. অন্য হাদিসে এসেছে-
يَا أَبَا بَكْرٍ، لَا تَبْكِ، إِنَّ أَمَنَّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبُو بَكْرٍ، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ أُمَّتِي خَلِيْلًا لَا تَخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيْلًا.
অর্থ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আবু বকর! তুমি কাঁদবে না। নিজের সাহচর্য ও সম্পদ দিয়ে যিনি আমার প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহ করেছেন, তিনি হলেন আবু বকর। যদি আমি কোনো উম্মাতকে খলিল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) রূপে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকে গ্রহণ করতাম। ৯৭৬
৪. অন্য হাদিসে এসেছে-
أَرْجُوْ أَنْ تَكُوْنَ مِنْهُمْ.
অর্থ: হে আবু বকর! আমি আশা করি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। অর্থাৎ যাদেরকে জান্নাতের সব দরজা থেকে প্রবেশের জন্য ডাকা হবে। ৯৭৭
৫. অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে:
ائْذَنْ لَهُ، وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ.
অর্থ: তাকে (আবু বকর) ভিতরে আসার অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। ৯৭৮
৬. অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
اثْبُتْ أُحُدُ؛ فَمَا عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيُّ، أَوْ صِدِّيقُ، أَوْ شَهِيدَانِ.
অর্থ: হে উহুদ! থেমে যাও। তোমার বুকে একজন নবি, একজন সিদ্দিক এবং দুজন শহিদ দণ্ডায়মান। ৯৭৯
৭. নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন-
دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، فَرَأَيْتُ قَصْرًا ، فَقُلْتُ: لِمَنْ هَذَا؟ فَقَالَ : لِعُمَرَ، فَأَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَهُ فَأَنْظُرَ إِلَيْهِ، فَذَكَرْتُ غَيْرَتَكَ. فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: بِأَبِي وَأُنِّي يَا رَسُوْلَ اللهِ، أَعَلَيْكَ أَغَارُ ؟
অর্থ: আমি জান্নাতে প্রবেশ করে একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম। জিজ্ঞাসা করলাম: এই প্রাসাদটি কার? তারা জানালেন: উমরের। আমি এতে প্রবেশ করে দেখার ইচ্ছা করলাম, তখন তোমার (উমর) আত্মসম্মানবোধের কথা মনে পড়ে গেল। উমর রাদি. বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার ওপর উৎসর্গ হোক হে আল্লাহর রাসুল! আপনার কাছেও কি আত্মসম্মানবোধ দেখাতে পারি? ৯৮০
৮. আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لَقِيَكَ الشَّيْطَانُ سَالِكًا فَجًّا إِلَّا سَلَكَ فَجًّا غَيْرَ فَجِّكَ
অর্থ: হে উমর! তুমি যে পথে চল, শয়তান কখনও সে পথে চলে না; বরং সে তোমার পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে। ৯৮১
৯. অন্য হাদিসে এসেছে-
ائْذَنَ لِعُثْمَانِ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ.
অর্থ: উসমানের জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। ৯৮২
১০. অন্য হাদিসে রয়েছে, নবিজি হজরত আলিকে বলেছেন-
أَنْتَ مِنِّي وَأَنَا مِنْكَ.
অর্থ: তুমি আমার এবং আমি তোমার। ৯৮৩
১১. অন্য হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত আলিকে বলেন-
أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُوْنَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُوْنَ مِنْ مُوسَى؟
অর্থ: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যেভাবে হজরত হারুন আলাইহিস সালাম হজরত মুসা আলাইহিস সালামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন, তুমিও আমার স্থলাভিষিক্ত। ৯৮৪
১২. অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন-
سَمِعْتُ دَفَ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَيَّ فِي الْجَنَّةِ.
অর্থ: মেরাজের রাতে আমি জান্নাতে তোমার পাদুকার আওয়াজ শুনেছি। ৯৮৫
১৩. নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত উবাই বিন কাবকে বলেছেন-
لِيَهْنِكَ الْعِلْمُ أَبَا الْمُنْذِرِ.
অর্থ: হে আবুল মুনজির! তোমার জ্ঞান উপকারী হোক। ৯৮৬
১৪. অন্য হাদিসে নবিজি আবদুল্লাহ বিন সালামকে বলেছেন-
أَنْتَ عَلَى الْإِسْلَامِ حَتَّى تَمُوْتَ.
অর্থ: তুমি আমৃত্যু ইসলামের ওপর অবিচল থাকবে। ৯৮৭
১৫. অন্য হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারি সাহাবিকে বলেন-
ضَحِكَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ - أَوْ عَجِبَ - مِنْ فَعَالِكُمَا.
অর্থ: আল্লাহ তাআলা তোমাদের (দম্পতির) গত রাতের কাণ্ড দেখে হেসে দিয়েছেন কিংবা বলেছেন খুশি হয়েছেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ)। ৯৮৮
১৬. অন্য হাদিসে এসেছে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারি সাহাবিদেরকে বললেন-
أَنْتُمْ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ.
অর্থ: তোমরা আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয় মানুষ। ৯৮৯
১৭. অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, নবিজি আবদুল কায়েস বংশের প্রতিনিধি দলের নেতা আশাজ্জকে বলেছিলেন-
إِنَّ فِيْكَ خَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ: الْحِلْمُ، وَالْأَنَاةُ.
অর্থ: তোমার মাঝে এমন দুটি মহৎ গুণ আছে, যা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন: সহিষ্ণুতা ও ধীরতা। ১৯৯০
ইমাম নববি রহ. বলেন, ব্যক্তির সামনাসামনি প্রশংসার বৈধতা সংক্রান্ত উপরোল্লিখিত প্রতিটি হাদিসই সহিহ হিসাবে প্রসিদ্ধ। এ কারণে এগুলোর নকলকারী ও কিতাবের নাম উল্লেখ করিনি। এছাড়াও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তির সামনে তার প্রশংসা করেছেন এমন নজির অহরহ আছে। অপরদিকে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন এবং পরবর্তী উলামায়ে কেরাম ও অনুসরণীয় ইমামগণ-কর্তৃক ব্যক্তির সামনাসামনি প্রশংসা করার দৃষ্টান্ত: গণনাতীত। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
ইমাম আবু হামিদ গাজালি রহ. স্বীয় "ইহয়াউ উলুমিদ্দিন” গ্রন্থের জাকাত অধ্যায়ের শেষদিকে (১/২২৯) উল্লেখ করেন- সাদাকাহ গ্রহীতার জন্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত: দানকারী যদি প্রশংসা কুড়ানো ও সুখ্যাতির আশা রাখে গ্রহণকারী সাদাকার বিষয়টি গোপন রাখবে। কেননা তার প্রাপ্যেও পরিশোধ হল, তাকে জুলুমের ওপর সাহায্য না করা। আর দানকারীকর্তৃক কৃতজ্ঞতা তলব করা জুলুম। যদি সাদাকাহকারীর বিষয়ে জানা যায় যে, সে প্রশংসা কুড়ানো ও লৌকিকতা পছন্দ করে না এবং এর আশাবাদীও নয়, তাহলে দানগ্রহীতার জন্য তার কৃতজ্ঞতা আদায় করা এবং দানের বিষয়টি প্রকাশ করা উচিত। হজরত সুফিয়ান সাওরি রহ. বলেন, যে ব্যক্তি নিজেকে অনুধাবন করল, মানুষের প্রশংসা করায় তার যায় আসে না।
ইমাম আবু হামিদ গাজালি আরো বলেন- আত্মপর্যবেক্ষক ব্যক্তিকে এই তাৎপর্যের সূক্ষ্মতার প্রতি দৃষ্টি রাখা চাই। কেননা, এই সূক্ষ্মতার প্রতি অবহেলার সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল; শয়তানের হাসির পাত্র। অধিক ক্লান্তি ও স্বল্প উপকারের কারণ। এ ধরনের জ্ঞানের ব্যাপারে বলা হয়েছে- আধ্যাত্মিকতার একটি মাসআলা শেখা এক বছরের (নফল) ইবাদতের চেয়ে উত্তম। কেননা, এই জ্ঞানের মাধ্যমে জীবনের ইবাদত প্রাণলাভ করে। আর এ সম্পর্কে অজ্ঞতা দ্বারা সারা জীবনের ইবাদত মৃত ও অকেজো হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা তাওফিকদাতা।
আত্মপ্রশংসা ও নিজের উত্তম গুণের আলোচনা
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ.
অর্থ: সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে পবিত্র মনে কর না। ৯৯১
জ্ঞাতব্য, নিজের ভালো গুণগান প্রকাশ করা দুই প্রকার: নিন্দিত এবং নন্দিত। অহঙ্কার প্রদর্শন, নিজের বড়ত্ব প্রকাশ এবং সমকালীনদের থেকে স্বতন্ত্রভাবে ফুটিয়ে তুলতে আত্মপ্রশংসা করা নিন্দিত। আর দীনি স্বার্থে করা নন্দিত। এটা এভাবে যে, সে সৎ কাজের আদেশদাতা, অসৎ কাজ থেকে বারণকারী, কল্যাণকামী, কল্যাণের দিকে ইঙ্গিতবাহী, শিক্ষাদাতা, শিষ্টাচার শিক্ষাদাতা, ধর্মপ্রচারক, উপদেশদাতা, দুজনের মধ্যে পারস্পরিক সন্ধি স্থাপনকারী, নিজেকে অনিষ্ট থেকে হেফাজতকারী অথবা এরকম অন্য কিছু হওয়ার কারণে নিজের উত্তম কীর্তন উল্লেখ করল। এই নিয়তে যে, যাতে হয় এটা তার কথার গ্রহণযোগ্যতা এবং তার আলোচনার নির্ভরতার মাধ্যম। অথবা আমি যে কথা বলছি, তা তোমরা অন্যদের কাছে পাবে না। অতএব, একে সংরক্ষণ কর ইত্যাদি। এ অর্থে অগণিত অধ্যাদেশ বিদ্যমান। যেমন- নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: আমি নবি, মিথ্যাবাদী নই। ৯৯২ কেয়ামাতের দিন আমি সকল আদম-সন্তানের সরদার হব। ৯৯৩ কেয়ামতের দিন আমিই সর্বপ্রথম জমি বিদীর্ণ হয়ে পুনরুত্থিত হব। ৯৯৪ তোমাদের চেয়ে আমিই আল্লাহকে বেশি জানি ও অধিক ভয় করি। ৯৯৫ আমি আমার রবের পক্ষ হতে পানাহার করা অবস্থায় রাত অতিবাহিত করি। ৯৯৬ -এ জাতীয় আরো অনেক হাদিস বিদ্যমান।
নবি হজরত ইউসুফ আ. বলেছিলেন-
اِجْعَلْنِي عَلَى خَزَائِنِ الْأَرْضِ إِنِّي حَفِيظٌ عَلِيمٌ.
অর্থ: আমাকে দেশের ধন-ভাণ্ডারে নিযুক্ত করুন। আমি বিশ্বস্ত, আমি অধিক জ্ঞানবান। ৯৯৭ -নবি হজরত শুআইব আ. বলেছিলেন-
سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّلِحِينَ.
অর্থ: ইনশাআল্লাহ তুমি আমাকে সদাচারী পাবে। ৯৯৮
(৬৯৬) অবরুদ্ধকালে হজরত উসমান রাদি. বলেছিলেন-
أَلَسْتُمْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ جَهَزَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ فَلَهُ الْجَنَّةُ؟ فَجَهَزْتُهُمْ أَلَسْتُمْ تَعْلَمُوْنَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ حَفَرَ بِثْرُ رُوْمَةَ فَلَهُ الْجَنَّةُ؟ فَحَفَرْتُهَا، فَصَدَّقُوْهُ بِمَا قَالَ.
অর্থ: আপনারা কি জানেন না যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি তাবুকের যুদ্ধে সেনাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। অতঃপর আমিই তা করে দেইনি?! আপনারা কি জানেন না যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রূমার কুপটি খনন করে দিবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত। অতঃপর আমি তা খনন করে দেইনি?! অতঃপর সাহাবিগণ তার কথার সত্যায়ন করেন। ১৯৯
(৬৯৭) হজরত সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস রাদি. থেকে বর্ণিত, যখন কুফাবাসী তাঁর ব্যাপারে খলিফা হজরত উমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সমীপে নালিশ করেছিল। তারা বলেছিল, তিনি ঠিকমত নামাজ আদায় করেন না। তখন তিনি বলেছিলেন-
وَاللهِ، إِنِّي لَأَوَّلُ رَجُلٍ مِنَ الْعَرَبِ رَمَى بِسَهُم فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَلَقَدْ كُنَّا نَغْزُوْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: আল্লাহর শপথ, আমিই আরবদের প্রথম ব্যক্তি যে আল্লাহর রাস্তায় তীর নিক্ষেপ করেছে। আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে থেকেই লড়াই করেছি....। ১০০০
(৬৯৮) হজরত আলি রাদি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ، وَبَرَأَ النَّسَمَةَ إِنَّهُ لَعَهْدُ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَيَّ أَنْ لَا يُحِبَّنِي إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا يُبْغِضَنِي إِلَّا مُنَافِقٌ.
অর্থ: সে সত্তার শপথ! যিনি বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম করেন এবং জীবকুল সৃষ্টি করেন, আমার সাথে নিরক্ষর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিশ্রুতি: আমাকে মুমিন ব্যক্তিই ভালোবাসবে এবং মুনাফিক ব্যক্তিই আমার সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবে। ১০০১
(৬৯৯) হজরত আবু ওয়ায়েল হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
خَطَبَنَا عَبْدُ اللهِ، فَقَالَ: وَاللهِ، لَقَدْ أَخَذْتُ مِنْ فِي رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِضْعًا وَسَبْعِينَ سُوْرَةً، وَ لَقَدْ عَلِمَ أَصْحَابُ رَسُوْلِ اللَّهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِّي مِنْ أَعْلَمِهِمْ بِكِتَابِ اللهِ ، وَمَا أَنَا بِخَيْرِهِمْ. وَلَوْ أَعْلَمُ أَنَّ أَحَدًا أَعْلَمُ مِنِّي لَرَحَلْتُ إِلَيْهِ .
অর্থ: একদা হজরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদি. আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি সত্তরের অধিক সুরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যবানি থেকে মুখস্থ করেছি। আল্লাহর কসম! অবশ্যই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিরা মনে করেন যে, আমি তাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব সম্বন্ধে অধিক জ্ঞাত; অথচ আমি তাদের মধ্যে সর্বোত্তম নই। যদি আমি এমন কারো ব্যাপারে অবগত হতাম, যে আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী, তাহলে আমি অবশ্যই (জ্ঞানার্জনে) তার দিকে রওনা করতাম।
অথবা ( فِدَاكَ أَبِي وَأَنِّي )ফিন্দাকা আবি ওয়া উম্মি: আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক) ইত্যাদি বলাতে কোনো অসুবিধা নেই। বিষয়টি বহু সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, আমি সংক্ষেপণের উদ্দেশ্যে এগুলো বিলুপ্ত করে দিয়েছি।
নারী বেগানা পুরুষের সাথে হবে রুক্ষভাষী
কোনো মহিলার যদি ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি যে সমস্ত ক্ষেত্রে গাইরে মাহরামের সাথে কথা বলার অবকাশ রয়েছে, সেখানে তাকে রুক্ষ ও পুরু কণ্ঠে কথা বলা উচিত; কোমলতা অবলম্বন করবে না। কেননা এতে উক্ত পুরুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আমাদের ইমাম আবুল হাসান ওয়াহিদি স্বীয় 'আলবাসিত' গ্রন্থে লিখেছেন- আমাদের উলামায়ে কেরাম বলেন, মহিলার জন্য গাইরে মাহরাম কারো সাথে কর্কশ কণ্ঠে কথা বলা মুস্তাহাব। কেননা এটা মানসিক অস্থিরতার অধিকতর দূরবর্তী। অনুরূপভাবে বিবাহ-সম্পর্কের ভিত্তিতে মাহরামের সাথেও কোমলতা পরিহার করে কথা বলা বিধেয়। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আল্লাহ তাআলা নবি পত্নীদেরকে এ বিষয়ে তাগিদি নির্দেশ দিয়েছেন, অথচ তারা উম্মাহর জন্য স্থায়ী হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন-
يُنِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ.
অর্থ: হে নবি পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বল না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে বসবে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। ১০০৪
ইমাম নববি বলেন, নারীর পুরু কণ্ঠে কথা বলার বিষয়ে ইমাম ওয়াহিদি যা বলেছেন, আমাদের অন্যান্য উলামায়ে কেরামও এমনই বলেছেন। আমাদের শায়খ ইবরাহিম মারওয়াজি বলেন, নারীর পুরু কণ্ঠে কথা বলার পদ্ধতি এরকম হবে যে, হাতের পৃষ্ঠদেশ মুখে রেখে কথার উত্তর প্রদান করবে। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
এছাড়াও ওয়াহিদির বক্তব্য যে, এক্ষেত্রে বৈবাহিকসূত্রে মাহরাম বেগানা পুরুষের ন্যায়; দুর্বল এবং আমাদের উলামায়ে কেরামের দৃষ্টিতে অপ্রসিদ্ধ একটি মত। কেননা, এমন ব্যক্তি দর্শন ও নির্জনের ক্ষেত্রে আত্মীয়-সম্বন্ধীয় মাহরামের মতো। বাকি রইল উম্মাহাতুল মুমিনিনের বিষয়, তো তারা স্রেফ বিবাহ হারাম হওয়া এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে মা। তাই তো তাদের মেয়েদের বিয়ে করা বৈধ ছিল। ১০০৫ আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

টিকাঃ
৯৭১. সহিহ মুসলিম: ৩০০২, সুনানে আবু দাউদ: ৪৮০৪, সুনানে তিরমিজি: ৪০৯৫, সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৩৭৪২।
৯৭২. সহিহ বুখারি: ২৬৬৩, সহিহ মুসলিম: ৩০০১, মুসনাদে আহমাদ ৪/৪১২।
৯৭৩. সহিহ বুখারি: ৬০৬১, সহিহ মুসলিম: ৩০০০, সুনানে আবু দাউদ: ৪৮০৫, মুসনাদে আহমাদ ৫/৪১, সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৩৭৪৪, আমাল: ২৩৯, নাসাঈ।
৯৭৪. সহিহ বুখারি: ৩৬৫৩, সহিহ মুসলিম: ২৩৮১।
৯৭৫. সহিহ বুখারি: ৬০৬২, সুনানে আবু দাউদ: ৪০৮৫, সুনানে সুগরা ৮/২০৮।
৯৭৬. সহিহ বুখারি: ৪৬৬, সহিহ মুসলিম: ২৩৮২। আল্লাহর নৈকট্যশীলরা যতই আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেন, দুনিয়ার প্রতি তাদের ঘৃণা ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর নবিগণ হলেন আল্লাহর সবচেয়ে বেশি অন্তরঙ্গ, আবার এই হাদিস ওফাতের আগমূহুর্তের। তাই এমনি বলেছেন। অন্যথায় আবু বকর নবিজির সুখে-দুঃখের বন্ধু ছিলেন।
৯৭৭. সহিহ বুখারি: ১৮৯৭, সহিহ মুসলিম: ১০২৭।
৯৭৮. সহিহ বুখারি: ৩৬৭৪, সহিহ মুসলিম: ২৪০৩।
৯৭৯. সহিহ বুখারি: ৩৬৭৫, সুনানে আবু দাউদ: ৪৬৫১, সুনানে তিরমিজি: ৩৬৯৭।
৯৮০. সহিহ বুখারি: ৩৬৭৯, সহিহ মুসলিম: ২৩৯৪।
৯৮১. সহিহ বুখারি: ৩২৯৪, সহিহ মুসলিম: ২৩৯৬।
৯৮২. সহিহ বুখারি: ৩৬৭৪, সহিহ মুসলিম: ২৪০৩।
৯৮৩. সহিহ বুখারি: ২৬৯৯, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪৮৭৩, সুনানে তিরমিজি: ৩৭১৬।
৯৮৪. সহিহ বুখারি: ৩৭০৬, সহিহ মুসলিম ৩১/২৪০৪।
৯৮৫. সহিহ বুখারি: ১১৪৯, সহিহ মুসলিম: ২৫৫৮।
৯৮৬. সহিহ মুসলিম: ৮১০, মুসতাদরাকে হাকেম ৩/৪০৪, সুনানে আবু দাউদ: ১৪৬০।
৯৮৭. সহিহ বুখারি: ৩৮১৩, সহিহ মুসলিম ১৪৮/২৪৮৪।
৯৮৮. সহিহ বুখারি: ৩৭৯৮, সহিহ মুসলিম: ২০৫৪।
৯৮৯. সহিহ বুখারি: ৩৭৮৫, সহিহ মুসলিম: ২৫০৮।
৯৯০. সহিহ মুসলিম ১৭/২৫, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৭২০৪, সুনানে তিরমিজি: ২০১১, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪১৮৮।
৯৯১. সুরা নাজম: ৩২।
৯৯২. সহিহ বুখারি: ২৮৬৪, সহিহ মুসলিম: ১৭৭৬।
৯৯৩. সহিহ মুসলিম: ২২৭৮, সুনানে আবু দাউদ: ৪৬৭৩, সুনানে তিরমিজি-:৩১৪৮, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪৩০৮।
৯৯৪. সহিহ বুখারি: ২৪১২, সহিহ মুসলিম: ২২৭৮।
৯৯৫. সহিহ বুখারি: ২০, সহিহ মুসলিম: ২৩৫৬।
৯৯৬. সহিহ বুখারি: ১৯৬৪, সহিহ মুসলিম: ১১০৫, মুসনাদে আহমাদ ২/৩৭৭।
৯৯৭. সুরা ইউসুফ: ৫৫।
৯৯৮. সুরা কাসাস: ২৭।
৯৯৯. সহিহ বুখারি: ২৭৭৮।
১০০০. সহিহ বুখারি: ৩৭২৮, সহিহ মুসলিম: ২৯৬৬।
১০০১. সহিহ মুসলিম: ৭৮, সুনানে তিরমিজি: ৩৭৩৭, সুনানে নাসাঈ ৮/১৮৭।
১০০৪. সুরা আহজাব: ৩২।
১০০৫. পর্দার ক্ষেত্রে তারা বেগানা আওরতের মতো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00