📘 আল আযকার > 📄 খাদ্যগ্রহণকারী ও পানকারীর পাঠ্য দুআসমূহ

📄 খাদ্যগ্রহণকারী ও পানকারীর পাঠ্য দুআসমূহ


অধ্যায়- ১৪
খাদ্যগ্রহণকারী ও পানকারীর পাঠ্য দুআসমূহ
খাবার কাছে আমলে যে দুআ পড়তে হয়
(৫৫৬) হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাদি. নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যখন নবিজির কাছে খাবার উপস্থিত করা হত তিনি এই দুআ পড়তেন-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيمَا رَزَقْتَنَا، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، بِسْمِ اللَّهِ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিমা রাজাকতানা, ওয়াকিনা আজাবান্নারি, বিসমিল্লাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের জন্য আপনার দেয়া রিজিকে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। আল্লাহর নামে শুরু করলাম। ৭৬৯

টিকাঃ
৭৬৯. আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ৪৫৭, ইবনুস সুন্নি।

📘 আল আযকার > 📄 পানাহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা

📄 পানাহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা


মেহমানের সামনে খাবার উপস্থিত করে মেজবানের পক্ষে ‘খাবার গ্রহণ করুন’ অথবা সমার্থক কিছু বলা মুস্তাহাব
জেনে রেখ! মেহমানের সামনে খাবার উপস্থিত করে ‘বিসমিল্লাহ’, ‘খাদ্য গ্রহণ করুন’, ‘নামাজ’৭৭০ অথবা সমার্থক কোন শব্দ বলা মুস্তাহাব, যা খাওয়া শুরু করার সুস্পষ্ট অনুমতি বুঝায়। তবে এমনটা বলা ওয়াজিব নয়, বরং মেহমানের সামনে খাবার উপস্থিত করাই যথেষ্ট। মেহমানদের জন্য সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতিরেকে এতটুকুতেই খাওয়া জায়েজ আছে। কেউ কেউ বলেছেন, অনুমতিসূচক কিছু বলা জরুরি। পূর্বের মতই সঠিক। সহিহ হাদিসে অনুমতির যে কথা এসেছে, তা দ্বারা মুস্তাহাব বুঝানোই উদ্দেশ্য।
পানাহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা
(৫৫৭) হজরত উমর বিন আবু সালামা রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন-
سَمَّ اللهَ، وَكُلْ بِيَمِينِكَ.
অর্থ: বিসমিল্লাহ বল এবং ডান হাতে খাদ্য গ্রহণ কর।৭১
(৫৫৮) হজরত আয়েশা রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَذْكُرِ اسْمَ اللهِ، تَعَالَى، فَإِنْ نَسِيَ أَنْ يَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ، تَعَالَى فِي أَوَّلِهِ فَلْيَقُلْ: بِاسْمِ اللَّهِ، أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ.
অর্থ: যখন তোমাদের কেউ খাদ্য গ্রহণ করবে, সে যেন শুরুতে আল্লাহর নাম নেয়। যদি শুরুতে বিসমিল্লাহ ভুলে যায় তাহলে (যখন স্মরণ হবে) বলবে-
بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ.
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আউয়‍্যালাহু ওয়া আখিরাহ।
অর্থ: শুরু-শেষ আল্লাহর নামে। -ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ। ৭৭২
(৫৫৯) হজরত জাবের রাদি. থেকে বর্ণিত, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-
إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ ، وَعِنْدَ طَعَامِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا مَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ دُخُولِهِ قَالَ الشَّيْطَانُ : أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيْتَ. وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ عِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيْتَ وَالْعَشَاءَ.
অর্থ: কোনো ব্যক্তি ঘরে প্রবেশের সময় এবং খাবার গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম নিলে শয়তান (তার সঙ্গী-সাথীদের) বলে, এখানে তোমাদের জন্য নৈশযাপন এবং নৈশ আহারের কোনো সুযোগ নেই। পক্ষান্তরে যদি ঘরে প্রবেশের সময় আল্লাহর নাম স্মরণ না করে তাহলে শয়তান বলে, তোমরা রাত্রিযাপনের সুযোগ পেয়েছ। আর খাবার গ্রহণের সময় আল্লাহর নাম না নিলে শয়তান বলে, তোমরা রাত্রিযাপন এবং রাতের খাবার দুটোর সুযোগই পেয়ে গেলে। ৭৭৩
(৫৬০) হজরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত একটি হাদিস আছে, যেখানে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্পষ্ট মুযিজার আলোচনা রয়েছে। সেই হাদিসে আছে। যখন হজরত আবু তালহা ও উম্মে সুলাইম রাদি. নবিজিকে দাওয়াত দিলেন তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-
ائْذَنْ لِعَشَرَةِ. فَأَذِنَ لَهُمْ، فَدَخَلُوْا، فَقَالَ: كُلُوا، وَسَمُّوا اللَّهَ. فَأَكَلُوْا، حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ بِثَمَانِينَ رَجُلًا.
অর্থ: দশজন আসার অনুমতি দিন। তিনি অনুমতি দিলেন, তারা আসলেন। অতঃপর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া শুরু কর। তারা (বিসমিল্লাহ বলে) খাওয়া শুরু করলেন। এভাবে তিনি ৮০ জনকে খাওয়ালেন। ৭৭৪
(৫৬১) হজরত হুজায়ফা রাদি. থেকে বর্ণিত-
كُنَّا إِذَا حَضَرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامًا لَمْ نَضَعْ أَيْدِيَنَا، حَتَّى يَبْدَأَ رَسُولُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَضَعَ يَدَهُ، وَإِنَّا حَضَرْنَا مَعَهُ مَرَّةً طَعَامًا، فَجَاءَتْ جَارِيَةٌ كَأَنَّهَا تُدْفَعُ، فَذَهَبَتْ لِتَضَعَ يَدَهَا فِي الطَّعَامِ، فَأَخَذَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهَا، ثُمَّ جَاءَ أَعْرَابِيُّ كَأَنَّمَا يُدْفَعُ، فَأَخَذَ بِيَدِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ يَسْتَحِلُّ الطَّعَامَ أَنْ لَا يُذْكَرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ، وَإِنَّهُ جَاءَ بِهَذِهِ الْجَارِيَةِ لِيَسْتَحِلَّ بِهَا، فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا، فَجَاءَ بِهَذَا الْأَعْرَابِي لِيَسْتَحِلَّ بِهِ، فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنَّ يَدَهُ فِي يَدِي مَعَ يَدِهَا. ثُمَّ ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ ، وَأَكَلَ.
অর্থ: আমরা যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোনো ভোজনশালায় থাকতাম, যতক্ষণ না রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় হাত রেখে খাবার শুরু করতেন, আমরা খাদ্যে হাত মারতাম না। একদা আমরা তার সাথে এক ভোজে উপস্থিত ছিলাম। এমনি মুহূর্তে একটি দাসী এল, যেন তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সে খাবারে হাত দিতে গেলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাত ধরে ফেললেন। অতঃপর একজন বেদুঈন এল, যেন তাকেও তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। (সেও হাত দিতে গেলে) নবিজি তার হাতও ধরে ফেলেন। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে খাদ্যে আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয় না সে খাদ্য শয়তান বৈধ মনে করে। আর সে এই দাসীকে নিয়ে এসে খাবারটা হালাল করতে চেয়েছিল, তাই আমি তার হাতে ধরে ফেলি। পরে এই বেদুঈনের মাধ্যমে খাবার হালাল করতে তাকে নিয়ে আসে, কিন্তু আমি তারও হাত ধরে ফেলি। ঐ সত্ত্বার শপথ, যার হাতে আমার জীবন! নিশ্চয় এই দুইজনের হাতের সাথে শয়তানের হাতও আমার মুঠোয়। অতঃপর তিনি আল্লাহর নাম নিয়ে খেতে শুরু করেন। ৭৭৫
(৫৬২) হজরত উমাইয়া বিন মাখশি রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
كَانَ رَسُولُ اللهِ ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا وَرَجُلٌ يَأْكُلُ ، فَلَمْ يُسَمِّ حَتَّى لَمْ يَبْقَ مِنْ طَعَامِهِ إِلَّا لُقْمَةٌ ، فَلَمَّا رَفَعَهَا إِلَى فِيْهِ قَالَ: بِاسْمِ اللَّهِ ، أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ. فَضَحِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ : مَا زَالَ الشَّيْطَانُ يَأْكُلُ مَعَهُ ، فَلَمَّا ذَكَرَ اسْمَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ اسْتَقَاءَ مَا فِي بَطْنِهِ.
অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি আহার করছিল। কিন্তু সে বিসমিল্লাহ পড়েনি, এমনকি মাত্র এক লোকমা বাকী রয়ে যায়। অতঃপর শেষ লোকমা মুখে উঠানোর আগেই بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ (বিসমিল্লাহি আউয়্যালাহু ওয়া আখিরাহ: শুরু-শেষ আল্লাহর নামে) পাঠ করে। তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। এরপর বললেন, শয়তান তার সাথে খাচ্ছিল। কিন্তু সে আল্লাহর নাম স্মরণ করা মাত্রই শয়তান পেটে যা আছে বমি করে ফেলে। ৭৭৬
(৫৬৩) হজরত আয়েশা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ طَعَامًا فِي سِتَّةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَجَاءَ أَعْرَابِيُّ فَأَكَلَهُ بِلُقْمَتَيْنِ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَمَا إِنَّهُ لَوْ سَمَّى لَكَفَاكُمْ.
অর্থ: একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছয়জন সাহাবাকে নিয়ে খাদ্য গ্রহণ করছিলেন। এমতাবস্থায় একজন গ্রাম্য ব্যক্তি এসে পুরো খাদ্য দুই কামড়ে শেষ করে ফেলে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি সে বিসমিল্লাহ বলে খাবার খেত তাহলে এতটুকু খাবারই তোমাদের সকলের জন্য পর্যাপ্ত হত। ৭৭৭-ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ। ৭৭৮
(৫৬৪) হজরত জাবের রাদি. থেকে বর্ণিত, নবিজি বলেছেন-
مَنْ نَسِيَ أَنْ يُسَمِّيَ عَلَى طَعَامِهِ، فَلْيَقْرَأَ : قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ إِذَا فَرَغَ.
অর্থ: যে ব্যক্তি খাবার খেতে বিসমিল্লাহ পড়তে ভুলে যায় সে যেন খাওয়া শেষে সুরা এখলাস পড়ে নেয়। ৭৭৯
ফায়দা: উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, খানার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া মুস্তাহাব। যদি কেউ ভুলক্রমে বা স্বেচ্ছায় কিংবা বাধ্যবাধকতায় অথবা কোন অপারগতায় ছেড়ে দেয়, অতঃপর খাওয়ার মধ্যভাগে স্বরণ হয় তাহলে পূর্ববর্ণিত হাদিসের কারণে বিসমিল্লাহ পড়ে নেওয়া মুস্তাহাব। এভাবে বলবে: بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ )বিসমিল্লাহি আউয়্যালাহু ওয়া আখিরাহ: শুরু-শেষ আল্লাহর নামে) যেমনটা হাদিসে এসেছে। পানি, দুধ, মধু, ঝোলসহ সকল পানীয় বস্তু পানে বিসমিল্লাহ পড়ার হুকুম খানার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ার মতই।
আমাদের উলামায়ে কেরাম ও অন্যান্যরা বলেছেন, বিসমিল্লাহ জোরে পড়া মুস্তাহাব, যাতে এটা অন্যদের বিসমিল্লাহর ব্যাপারে সতর্কবাণী হয় এবং অন্যরাও এতে তার অনুসরণ করে।
তাসমিয়ার কৈফিয়ত ও যথেষ্ট পরিমাণ
জেনে রেখ! পুরো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়া উত্তম, তবে শুধু বিসমিল্লাহ বললে চলবে এবং সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। অন্য সবার মতো গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তি এবং ঋতুবতী নারীও বিসমিল্লাহ পড়বে। সম্মিলিত খাবারে সবাইকে বিসমিল্লাহ পড়া উচিত, তবে একজন পড়লে সবার তরফে যথেষ্ট হয়ে যাবে। এটাই ইমাম শাফেয়ি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্য। এ কথা আমি আমার 'তাবাকাত' বইয়ে ইমাম শাফেয়ির জীবনিতে উল্লেখ করেছি। আর এটা সালামের জবাব এবং হাঁচিদাতার জবাবের মতো, কেননা এতে একদল লোকের তরফে একজনের উত্তরপ্রদান যথেষ্ট।

টিকাঃ
৭৭০. নামাজ: রূপকার্থে বলা হয়েছে। এভাবে যে, হাতদ্বয় ধৌত করেই খাদ্য গ্রহণ করা মুস্তাহাব। একে নবিজি অজু আখ্যা দিয়েছেন। আর অজুর পরেই তো নামাজ। আরবি বইয়ের টীকা থেকে সংক্ষেপিত। -অনুবাদক।
৭১. সহিহ বুখারি: ৫৩৭৬, সহিহ মুসলিম: ২০২২, মুয়াত্তা মালেক ২/৯৩৪, সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৭৭, সুনানে তিরমিজি: ১৮৫৮, সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৩২৬৭, সহিহ ইবনে হিব্বান: ১৩৩৮, সুনানে দারিমি: ২০২৫, আমাল: ২৭৪-২৮০, নাসাঈ, আমাল: ৪৬২, ইবনুস সুন্নি।
৭৭২. সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৬৭, সুনানে তিরমিজি: ১৮৫৯, মুসনাদে আহমাদ ৬/২০৭, সুনানে দারিমি: ২০২৬, আমাল: ২৮১, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান: ১৩৪০, আলফুতুহাত ৫/১৮২।
৭৭৩. সহিহ মুসলিম: ২০১৮। ৫০ নং হাদিসের টীকা দেখুন।
৭৭৪. সহিহ বুখারি: ৪২২, সহিহ মুসলিম: ২৪৪০, মুয়াত্তা মালেক ২/৯২৭, সুনানে তিরমিজি: ৩৬৩৪।
৭৭৫. সহিহ মুসলিম: ২০১৭, সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৬৬, মুসনাদে আহমাদ ৫/৩৮৩, সুনানে দারিমি: ২০২৬, আমাল: ২৭৩, নাসাঈ, আমাল: ৪৫৮, ইবনুস সুন্নি, মুসতাদরাকে হাকেম ৪/১০৮।
৭৭৬. সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৬৮, সুনানে নাসাঈ: ৬৭২৫, মুসনাদে আহমাদ ৪/৩৩৬, আমাল: ৪৬১, ইবনুস সুন্নি, মুসতাদরাকে হাকেম ৪/১০৮।
৭৭৭. সুনানে তিরমিজি: ১৮৫৮।
৭৭৮. ৫৫৮ নং হাদিসের টীকা দেখুন।
৭৭৯. আমাল: ৪৬০, ইবনুস সুন্নি। হাদিসটি বানোয়াট।

📘 আল আযকার > 📄 খানাপিনার দোষ ধরা নিষেধ

📄 খানাপিনার দোষ ধরা নিষেধ


(৫৬৫) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
مَا عَابَ رَسُولُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامًا قَطُّ، إِنِ اشْتَهَاهُ أَكَلَهُ، وَإِنْ كَرِهَهُ تَرَكَهُ.
অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো খাবারের ত্রুটি অন্বেষণ করতেন না। মনে চাইলে খেতেন, মনে না চাইলে খেতেন না। -সহিহ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে- পছন্দ না হলে চুপ থাকতেন। ৭৮০
(৫৬৬) হজরত হুলব রাদি. থেকে বর্ণিত, আমি এক ব্যক্তিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রশ্ন করতে শুনেছি, সে বলেছে-
إِنَّ مِنَ الطَّعَامِ طَعَامًا أَتَحَرَّجُ مِنْهُ. فَقَالَ: لَا يَتَخَلَّجَنَّ فِي صَدْرِكَ شَيْءٌ ضَارَعْتَ فِيهِ النَّصْرَانِيَّةَ.
অর্থ: এমন খাবার আছে কি যা আমি অপছন্দ করতে পারি? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কোনো হালাল খাবারের ব্যাপারে যেন তোমার মনে কোনো সংশয় সৃষ্টি না হয়। অন্যথায় তুমি খ্রীস্টানদের সদৃশ হয়ে যাবে। ৭৮১
প্রয়োজনে 'এই খাবারের প্রতি আমার আগ্রহ নেই', 'আমি এই খাদ্যে অভ্যস্ত নই' অথবা এরকম অন্য কিছু বলা বৈধ আছে
(৫৬৭) গুইসাপ সংক্রান্ত হাদিসে হজরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, যখন সাহাবায়ে কেরাম একে ভুনা করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে পেশ করলেন। নবিজি সেদিকে হাত বাড়ালে লোকেরা বলল-
هُوَ الضَّبُّ يَا رَسُوْلَ اللهِ . فَرَفَعَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ، فَقَالَ خَالِدٍ: أَحَرَامُ الضَّبُّ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ: لَا ، وَلَكِنَّهُ لَمْ يَكُنْ بِأَرْضِ قَوْمِي، فَأَجِدُنِي أَعَافُهُ.
অর্থ: এটাতো গোসাপ হে আল্লাহর রাসুল। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত গুটিয়ে নিলেন। খালেদ রাদি. জিজ্ঞাসা করলেন: গোসাপ কি হারাম ইয়া রাসুলুল্লাহ? তিনি বললেন, না। তবে যেহেতু এটা আমার এলাকাতে নেই, তাই আমি একে পছন্দ করি না। ৭৮২

টিকাঃ
৭৮০. সহিহ বুখারি: ৫৪০৯. সহিহ মুসলিম: ২০৬৪/১৮৭, সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৬৪, সুনানে তিরমিজি: ২০৩২, মুসনাদে আহমাদ ২/৪২৭।
৭৮১. সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৮৪, সুনানে তিরমিজি: ১৫৬৫, সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৮৩০, মুসনাদে আহমাদ ৫/২২৬।
৭৮২. সহিহ বুখারি: ৫৩৯১, সহিহ মুসলিম: ১৯৪৫, সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৯৩, সুনানে নাসাঈ ৭/১৯৮।

📘 আল আযকার > 📄 খাবার গ্রহণকারীকর্তৃক খাবারের প্রশংসা করা

📄 খাবার গ্রহণকারীকর্তৃক খাবারের প্রশংসা করা


(৫৬৮) হজরত জাবের রাদি. থেকে বর্ণিত-
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلَ أَهْلَهُ الْأُدُمَ، فَقَالُوا: مَا عِنْدَنَا إِلَّا خَلُّ. فَدَعَا بِهِ، فَجَعَلَ يَأْكُلُ بِهِ وَيَقُوْلُ : نِعْمَ الْأُدُمُ الْخَلُّ نِعْمَ الْأُدُمُ الْخَلُّ.
অর্থ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার স্বীয় পরিবারের কাছে সালন চাইলেন। তাঁরা বলল, আমাদের কাছে সিরকা ছাড়া অন্য কিছু নেই। তিনি সেটাই আনতে বললেন। অতঃপর তা খেতে খেতে বললেন: সিরকা কতইনা উত্তম সালন! সিরকা কতইনা উত্তম সালন! ৭৮৩
নফল রোজাদারের সামনে যদি খাবার উপস্থিত হয় এবং সে রোজা ভাঙ্গতে না চায় তাহলে কী বলবে?
(৫৬৯) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ ؛ فَلْيُجِبْ، فَإِنْ كَانَ صَائِمًا ؛ فَلْيُصَلَّ، وَإِنْ كَانَ مُفْطِرًا ؛ فَلْيَطْعَمْ.
অর্থ: যখন তোমাদের কাউকে আমন্ত্রণ করা হয় সে যেন গ্রহণ করে। অতঃপর সে যদি রোজাদার হয় তাহলে নিমন্ত্রণকারীর জন্য দুআ করবে এবং রোজাদার না হলে খানা গ্রহণ করবে। ৭৮৪
(৫৭০) ইবনুস সুন্নির কিতাবসহ অন্যান্য কিতাবে আছে-
فَإِنْ كَانَ مُفْطِرًا فَلْيَأْكُلْ، وَإِنْ كَانَ صَائِمًا دَعَا لَهُ بِالْبَرَكَةِ.
অর্থ: অতঃপর সে যদি রোজাদার না হয় তাহলে খানা গ্রহণ করবে, আর যদি রোজাদার হয় তাহলে নিমন্ত্রণকারীর জন্য বরকতের দুআ করবে। ৭৮৫

টিকাঃ
৭৮৩. সহিহ মুসলিম: ২০৫২, সুনানে আবু দাউদ: ৩৮২০, সুনানে তিরমিজি: ১৮৪০, সুনানে নাসাঈ ৭/১৪, মুসনাদে আহমাদ ৩/৩০১, সুনানে দারিমি: ২০৫৪।
৭৮৪. সহিহ মুসলিম: ১৪৩১, সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৪২, সুনানে তিরমিজি: ৭৮১।
৭৮৫. আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ৪৮৯, ই. সু.।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00