📘 আল আযকার > 📄 সফরের পূর্বে ইস্তিযারা ও পরামর্শ চাওয়া

📄 সফরের পূর্বে ইস্তিযারা ও পরামর্শ চাওয়া


অধ্যায়- ১৩
মুসাফিরের বিভিন্ন দুআর আলোচনা
জেনে রেখ! যেসব দুআ মুকিমের জন্য দিবারাত্র ও বিভিন্ন অবস্থায় পাঠ করা মুস্তাহাব, সেগুলো মুসাফিরের জন্যও মুস্তাহাব। তবে মুসাফিরের জন্য বাড়তি কিছু দুআও আছে, সেগুলো আলোচনা করাই এই অধ্যায়ের মূল উদ্দেশ্য। সেসব দুআ সংখ্যায় অনেক ও অতি বিক্ষিপ্ত। আমি এর মৌলিক দুআগুলো এখানে উপযোগী অধ্যায়ের অধীনে নিয়ে আসব ইনশাআল্লাহ। এক্ষেত্রে আমি আল্লাহর সাহায্য কামনা করি ও তাঁর ওপর ভরসা রাখি।
ইস্তিখারা ও পরামর্শ চাওয়া
জেনে রেখ! যে ব্যক্তি কোথাও সফরের ইচ্ছা রাখে তার জন্য এমন কারো সাথে পরামর্শ করে নেওয়া মুস্তাহাব, যাকে সে নিজের প্রতি কল্যাণকামী, দয়াশীল ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মনে করে এবং যার ধার্মিকতা ও জ্ঞানের ব্যাপারে সে আস্থাশীলও বটে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ.
অর্থ: হে নবি! আপনি তাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে (লড়াইয়ের বিষয়ে) পরামর্শ করুন। ৭২৪-এছাড়া আরো অনেক দলিল রয়েছে।
অতঃপর যখন মাশওয়ারার দ্বারা সফরে যাওয়া বা না যাওয়ার মধ্যে কল্যাণ প্রকাশ পাবে, তখন সে ব্যাপারে ইস্তিখারা করবে। আর ইস্তিখারার পদ্ধতি হল, দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে। এরপর পূর্বে উল্লিখিত ইস্তিখারার দুআটি পড়বে। ইস্তিখারার দলিল হচ্ছে, পূর্বোল্লিখিত সহিহ বুখারির হাদিস। ইস্তিখারার দলিল, পদ্ধতি ও দুআ এ সবের আলোচনা সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
সফরের দৃঢ় ইচ্ছার পরে করণীয়
যখন কেউ সফরের দৃঢ় ইচ্ছা করে, সে যেন নিম্নোক্ত কাজগুলো করার চেষ্টা করে: (১) প্রয়োজনীয় বিষয়ে ওসিয়ত করা এবং সেই ওসিয়তের ওপর কাউকে সাক্ষ্য করা। (২) কারো সাথে কোনো ধরনের লেনদেন বা সমস্যা থাকলে সেটা মিটমাট করা। (৩) পিতামাতা, শায়খ এবং এমন ব্যক্তি যাদের সাথে উত্তম ও নম্র আচরণ করা তার জন্য মুস্তাহাব তাদের সবাইকে খুশি করা। (৪) আল্লাহর কাছে সমস্ত গুনাহ ও অমান্যতার জন্য ক্ষমা চাওয়া ও তাওবা করা। (৫) আল্লাহর কাছে নিরাপদ সফরের জন্য সাহায্য কামনা করা।
এছাড়াও সফরের প্রয়োজনীয় বিষয়ে অবহিত হওয়ার চেষ্টা করা। অতঃপর যদি জিহাদের সফর হয়ে থাকে তাহলে ঐ সব ইলম শিখে নেওয়া, যেগুলো একজন মুজাহিদের জানা থাকা প্রয়োজন। যেমন, সমরকৌশল, লড়াইয়ের পূর্বে দাওয়াতের পদ্ধতি, গনীমতের হুকুম-আহকাম এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়নে নিষেধাজ্ঞার ভয়াবহতা এগুলো আগে থেকেই জেনে যাওয়া। আর হজ বা উমরা আদায়কারী হলে হজের নিয়মনীতি শিখে যাওয়া অথবা এ সংক্রান্ত কোনো কিতাব সাথে নিয়ে যাওয়া। আর যদি নিয়মাবলী শিখে সাথে সে সংক্রান্ত কোনো কিতাবও নিয়ে যায়, তো সেটা বেশি উত্তম। মুজাহিদ বা অন্যান্যদের জন্যও তদসংশ্লিষ্ট কিতাব সঙ্গে রাখা মুস্তাহাব, যাতে থাকবে প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী।
আর ভ্রমণকারী ব্যবসায়ী হলে ব্যবসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান শিখবে। তথা কোন ব্যবসা সঠিক, কোনটা ভুল, কোনটা হালাল, কোনটা হারাম, কোনটা মুস্তাহাব, কোনটা মাকরুহ, কোনটা বৈধ এবং কোনটা অগ্রাধিকারযোগ্য। আর যদি ভ্রমণকারী হয় লোকসমাজ থেকে নির্জনে ইবাদতকারী পর্যটক, তাহলে দীনি বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান শিখে নিবে। এটা তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের বিষয়।
আর রাখাল হলে লোকচক্ষুর আড়ালে অন্যের অধিকার সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান শিখে নিবে। এছাড়া পশু-প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির প্রয়োজনীয় জ্ঞান, পশু ও মালিকের অধিকার আদায়, সতর্কতার সাথে এগুলোর তত্ত্বাবধান করা এবং মালিকপক্ষ থেকে হঠাৎ আপতিত কারণে কোন পশু জবাইয়ের অনুমতি গ্রহণ করা ইত্যাদি।
এক বাদশা থেকে আরেক বাদশার দিকে প্রেরিত দূত ইত্যাদি হলে বড়দের সাথে কথোপকথনের শিষ্টাচার, আলোচনার জটিলতার সমাধান, তার জন্য কোনো আতিথ্য ও উপঢৌকন বৈধ এবং কোনটা অবৈধ, কোন নসিহত করা তার ওপর ওয়াজিব এবং কোনো গোপন বিষয় প্রকাশ করা ওয়াজিব, প্রতারণা, ধোঁকাবাজি এবং কপটতা না করা এবং বিশ্বাসঘাতকতা কিংবা হারাম কাজের মাধ্যম হওয়া থেকে সাবধান থাকা ইত্যাদি।
সে যদি হয় উকিল কিংবা মুদারাবায় কিংবা অন্য উপায়ে ব্যবসায়ী তাহলে তাকে জানতে হবে, কোনো ক্রয়-বিক্রয় জায়েজ, কোথায় বিনিয়োগ করা বৈধ এবং কোথায় অবৈধ, কোথায় সাক্ষ্য করা শর্ত কিংবা ওয়াজিব এবং কোথায় শর্ত কিংবা ওয়াজিব নয় এবং কোথায় ভ্রমণ করা তার জন্য বৈধ এবং কোথায় অবৈধ।
উপরিউক্ত লোকদের মাঝে যারা সমুদ্রপথে ভ্রমণের ইচ্ছুক তাদের জন্য এও জানা আবশ্যক যে, কোনো অবস্থায় সমুদ্রপথে ভ্রমণ করা বৈধ এবং কোনো অবস্থায় অবৈধ।
এসব বিষয়াদি ফিকহের কিতাবাদিতে বিদ্যমান, এই কিতাবে এগুলো খতিয়ে দেখা মানানসই নয়। এখানে দুআসমূহ বয়ান করা আমার বিশেষ উদ্দেশ্য। এই যে উপরিউক্ত শিক্ষাগুলোও জিকিরের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটা কিতাবের শুরুতে আমি উল্লেখ করেছি। আল্লাহর কাছে আমার জন্য এবং বন্ধুবান্ধব ও সমস্ত মুসলমানদের জন্য তাওফিক ও উত্তম পরিণতির মিনতি করি।

টিকাঃ
৭২৪. আলে ইমরান: ১৫৯।

📘 আল আযকার > 📄 সফরের উদ্দেশে বের হওয়ার দুআ

📄 সফরের উদ্দেশে বের হওয়ার দুআ


ঘর থেকে বেরোবার ইচ্ছা পোষণের সময় করণীয়
সফরের নিয়তে ঘর থেকে বেরোবার ইচ্ছা করলে দুই রাকাত নামাজ পড়া মুস্তাহাব। দলিল এই হাদিস:
(৫১৯) সাহাবি মুকাত্তাম বিন মিকদাম রাদি. থেকে বর্ণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَا خَلَّفَ أَحَدٌ عِنْدَ أَهْلِهِ أَفْضَلَ مِنْ رَكْعَتَيْ يَرْكَعُهُمَا عِنْدَهُمْ حِيْنَ يُرِيدُ سَفَرًا.
অর্থ: যখন কোনো ব্যক্তি সফরের ইচ্ছা করে, তখন সে তার পরিবারের কাছে যে দুই রাকাত নামাজ পড়ে যায়, এর চেয়ে উত্তম কিছু সে নিজের পরিবারের জন্য রেখে যায় না। তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন। ৭২৫
আমাদের জনৈক ইমাম বলেন, সেই দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ইখলাস পড়া মুস্তাহাব। আবার কেউ বলেছেন, প্রথম রাকাতে সুরা ফালাক, দ্বিতীয় রাকাতে সুরা নাস পড়বে। সালাম ফিরানোর পর আয়াতুল কুরসি পড়বে। কেননা হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বেরোনোর পূর্বে আয়াতুল কুরসি পড়বে, সে ঘরে ফেরা পর্যন্ত কোনো খারাপ কিছুতে আক্রান্ত হবে না। সুরা কুরাইশ পড়াও মুস্তাহাব।
কেননা আবুল হাসান কাজবিনি রহ. যিনি ছিলেন শাফেয়ি ফকিহ, প্রকাশ্য কারামতের অধিকারী ও উজ্জ্বল অবস্থার অধিকারী। তিনি বলেছেন, এই সুরা সমস্ত অনিষ্টের রক্ষাকবচ। আবু তাহের বিন জাহশুয়াহ রহ. বলেন, আমি একবার কোথাও সফরের ইচ্ছা করেছিলাম, কিন্তু মনে মনে ভীত ছিলাম। ইত্যবসরে আমি কাজবিনির কাছে উপস্থিত হয়ে দুআর দরখাস্ত করি। তখন তিনি প্রথমে নিজে থেকে বললেন, যে ব্যক্তি সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করে, কিন্তু সে কোনো শত্রু বা হিংস্র জন্তুর ভয় করে, সে যেন সুরা কুরাইশ পড়ে। কেননা এটা সকল অনিষ্টের রক্ষাকবচ। অতঃপর আমি তা পাঠ করি, ফলে আজও পর্যন্ত আমি কোনো বিপদের সম্মুখীন হইনি।
এসব কিছু পড়া শেষ হলে একনিষ্ঠ মনে ও বিনম্রচিত্তে দুআ করা মুস্তাহাব। সবচেয়ে উত্তম দুআ হল:
اللَّهُمَّ بِكَ أَسْتَعِينُ وَعَلَيْكَ أَتَوَكَّلُ ، اللهُمَّ ذَلَّلْ لِي صُعُوبَةَ أَمْرِي، وَسَهِّلْ عَلَيَّ مَشَقَّةَ سَفَرِي، وَارْزُقْنِي مِنَ الْخَيْرِ أَكْثَرَ مِمَّا أَطْلُبُ، وَاصْرِفْ عَنِّى كُلَّ شَرٍّ، رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي، وَنَوِّرُ قَلْبِي، وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَحْفِظُكَ وَاسْتَوْدِعُكَ نَفْسِي وَدِينِي وَأَهْلِي وَأَقَارِبِي وَكُلَّ مَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَيْهِمْ بِهِ مِنْ آخِرَةٍ وَدُنْيَا، فَاحْفَظْنَا أَجْمَعِينَ مِنْ كُلِّ سُوءٍ يَا كَرِيمُ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিকা আসতায়িনু ওয়া আলাইকা আতাওয়াক্কালু, আল্লাহুম্মা জাল্লিল লি সুঊবাতা আমরি, ওয়া সাহহিল আলাইয়্যা মাশাক্কাতা সাফারি, ওয়ার জুকনি মিনাল খাইরি আকসারা মিম্মা আতলুবু, ওয়াসরিফ আন্নি কুল্লা শাররিন। রাব্বিশ রাহলি সাদরি, ওয়া নাব্বির কালবি, ওয়া ইয়াসির লি আমরি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আসতাহফিজুকা ওয়া আসতাওদিউকা নাফসি ওয়া দীনি ওয়া আহলি ওয়া আকারিবি, ওয়া কুল্লা মা আনআমতা আলাইয়্যা ওয়া আলাইহিম বিহি মিন আখিরাতিন ও দুনইয়া, ফাহফাজনা আজমাঈনা মিন কুল্লি সুয়িন ইয়া কারিম।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আপনার ওপরই ভরসা রাখি। হে আল্লাহ, আমার জন্য আমার কাজের জটিলতা দূর করে দিন, আমার ভ্রমণের কষ্ট সহজসাধ্য করে দিন, আমাকে কামনার চাইতে বেশি মঙ্গল দান করুন এবং আমার থেকে সবধরনের অমঙ্গল দূর করে রাখুন। হে আমার পালনকর্তা, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, অন্তর আলোকিত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। হে আল্লাহ, আমি আপনার হেফাজতে ন্যস্ত করলাম এবং আপনার কাছে আমানত রাখলাম আমার আত্মা, দীন, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং আমার ও তাদের প্রতি আপনার প্রদত্ত ইহকালীন-পরকালীন সকল নেয়ামতরাজি। অতএব, আমাদের সবাইকে সবধরনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন হে মহানুভব সত্তা। ৭২৬
দুআ শুরু ও শেষ করবে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ পাঠের মাধ্যমে। অতঃপর যখন মজলিস থেকে উঠে দাঁড়াবে তখন পড়বে:
(৫২০) হজরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরের ইচ্ছায় বৈঠক থেকে উঠে দাঁড়াতেন তখন বলতেন:
اللَّهُمَّ إِلَيْكَ تَوَجَّهْتُ وَبِكَ اعْتَصَمْتُ اللَّهُمَّ اكْفِنِي مَا هَمَّنِي وَمَا لَا أَهْتَمُّ لَهُ. اللَّهُمَّ زَوَّدْنِي التَّقْوَى، وَاغْفِرْ لِي ذَنْبِي، وَوَجَّهْنِي لَلْخَيْرِ أَيْنَمَا تَوَجَّهْتُ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইলাইকা তাওয়াজ্জাহতু ওয়া বিকা' তাসামতু, আল্লাহুম্মাক ফিনি মা হাম্মানি ওয়া মালা আহতাম্মু লাহু, আল্লাহুম্মা জাওয়িদনিত তাকওয়া, ওয়াগফিরলি জামবি, ওয়া ওয়াজ্জিহনি লিলখাইরি আইনামা তাওয়াজ্জাহতু।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার অভিমুখী হয়েছি এবং আপনাকে আঁকড়ে ধরেছি। হে আল্লাহ, যে বস্তু আমাকে উদ্বিগ্ন করে রেখেছে এবং যার জন্য আমি প্রস্তুতও নই তার জন্য আপনি যথেষ্ট হয়ে যান। হে আল্লাহ, আমাকে পরহেযগারি যোগান, আমার পাপ ক্ষমা করে দিন এবং যেখানেই রওনা করি না কেন আমাকে ভালো কাজের জন্য প্রবিষ্ট করে রাখুন। ৭২৭
সফরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার দুআ
কিতাবের শুরুতে ঘর থেকে বের হওয়া ব্যক্তি কী দুআ পড়বে তা অতীত হয়েছে। সেটা মুসাফিরের জন্যও মুস্তাহাব। তার জন্য সেটা বেশি বেশি পড়তে থাকা মুস্তাহাব। তার জন্য পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সাথী-সঙ্গী, প্রতিবেশীদের থেকে বিদায় গ্রহণ করা মুস্তাহাব। তাদের কাছে নিজের জন্য দুআ চাইবে এবং তাদের জন্যও দুআ করবে।
(৫২১) হজরত ইবনে উমর রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنَّ اللهَ تَعَالَى إِذَا اسْتُوْدِعَ شَيْئًا حَفِظَهُ.
অর্থ: কোনো জিনিস আল্লাহর হেফাজতে রাখা হলে তিনি তা হেফাজতে রাখেন। ৭২৮
(৫২২) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন: যে ব্যক্তি সফরে বের হওয়ার ইচ্ছা করে, সে যেন রেখে যাওয়া লোকদের উদ্দেশ্যে এই দুআ পড়ে:
أَسْتَوْدِعُكُمُ اللَّهَ الَّذِي لَا تَضِيعُ وَدَائِعُهُ.
উচ্চারণ: আসতাউ দিউকুমুল্লাহাল্লাজি লা তাদিউ ওয়াদায়িউহ। অর্থ: আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে গচ্ছিত রাখলাম, যার কাছে গচ্ছিত আমানত বিনষ্ট হয় না। ৭২৯
(৫২৩) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِذَا أَرَادَ أَحَدُكُمْ سَفَرًا فَلْيُوَدِّعْ إِخْوَانَهُ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى جَاعِلٌ فِي دُعَائِهِمْ خَيْرًا.
অর্থ: তোমাদের কেউ সফরের ইচ্ছা করলে সে যেন ভাইবেরাদর থেকে বিদায় নেয়, কেননা আল্লাহ তাআলা তাদের দুআয় কল্যাণ রেখেছেন। ৭৩০

টিকাঃ
৭২৫. আলফুতুহাত ৫/১০৫।
৭২৬. সিলসিলায়ে জয়িফা: ৩৭২, আলফুতুহাত ৫/১০৫।
৭২৭. সুনানে বাইহাকি ৫/২৫০; মুসনাদে আবু ইয়ালা: ২৭৭০; মুসনাদুশ শিহাব: ১৪৯৭, কুজায়ি; আমালুল ইয়াউমি ওয়াল্লাইলাহ: ৪৯৫, ইবনুস সুন্নি; আলকামিল ৫/৬১, ইবনে আদি, আলফুতুহাত ৫/১১১।
৭২৮. মুসনাদে আহমাদ ২/৮৭, ইবনে হিব্বান: ৩৩৭৬, আমাল: ৫০৯, নাসাঈ।
৭২৯. আমাল: ৫০৫, ইবনুস সুন্নি, আমাল: ৫০৮, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ২/৩৫৮, সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৮২৫, আলফুতুحات ৫/১১৪।
৭৩০. মুসনাদে আবু ইয়ালা: ৬৬৮৬; আলমুজামুল আওসাত: ২৮৬৩, তবারানি।

📘 আল আযকার > 📄 মুসাফিরকে বিদায় দেয়ার দুআ

📄 মুসাফিরকে বিদায় দেয়ার দুআ


যারা তাকে বিদায় দিবে তাদের জন্য নিম্নবর্ণিত দুআটি পাঠ করা সুন্নাত:
(৫২৪) হজরত কাজাআর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন- ইবনে উমর রাদি. আমাকে বলেছেন, এদিকে এসো, আমি তোমাকে বিদায় জানাব যেভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বিদায় জানিয়েছেন:
أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيْمَ عَمَلِكَ.
উচ্চারণ: আসতাউদিউল্লাহা দীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা।
অর্থ: আল্লাহর কাছে আমানত রাখলাম তোমার দীন, নিরাপত্তা ও শেষ আমল। ৭৩১
(৫২৫) হজরত ইবনে উমর রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে বিদায় জানাতে তার হাত ধরতেন এবং যতক্ষণ না সে ছাড়ত তিনি ছাড়তেন না। আর তিনি তার জন্য এই দুআ করতেন:
أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَآخِرَ عَمَلِكَ.
উচ্চারণ: আসতাউদিউল্লাহা দীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা।
অর্থ: আল্লাহর কাছে আমানত রাখলাম তোমার দীন, নিরাপত্তা ও শেষ আমল। ৭৩২
(৫২৬) হজরত সালেম রহ. থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, হজরত ইবনে উমর রাদি. ভ্রমণে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বলতেন, আমার কাছে এসো। আমি তোমাকে বিদায় জানাব যেভাবে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বিদায় জানাতেন। তারপর পড়তেন-
أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِينَكَ وَأَمَانَتَكَ وَخَوَاتِيمَ عَمَلِكَ.
উচ্চারণ: আসতাউদিউল্লাহা দীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা।
অর্থ: আল্লাহর কাছে আমানত রাখলাম তোমার দীন, নিরাপত্তা ও শেষ আমল। -ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ। ৭৩৩
(৫২৭) হজরত আবদুল্লাহ বিন ইয়াজিদ খাতমি রাদি. থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৈন্যদলকে বিদায় জানাতে এই দুআ পড়তেন:
أَسْتَوْدِعُ اللَّهَ دِينَكُمْ وَأَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيمَ أَعْمَالِكُمْ.
উচ্চারণ: আসতাউদিউল্লাহা দীনাকুম ওয়া আমানাতাকুম ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকুম।
অর্থ: আল্লাহর কাছে আমানত রাখলাম তোমাদের দীন, নিরাপত্তা ও শেষ আমল। ৭৩৪
(৫২৮) হজরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত আছে-
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ، إِنِّي أُرِيدُ سَفَرًا، فَزَوَّدْنِي، قَالَ زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوَى، قَالَ: زِدْنِي قَالَ: وَغَفَرَ ذَنْبَكَ قَالَ: زِدْنِي، بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي. قَالَ: وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُمَا كُنْتَ.
অর্থ: এক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমি সফরের নিয়ত করেছি আমাকে পাথেয় দিন। নবিজি বললেন, আল্লাহ তাআলা তাকওয়াকে তোমার পাথেয় বানান। সে বলল, আরো বৃদ্ধি করুন। নবিজি বললেন, আল্লাহ তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। সে পুনরায় বলল, আরো বাড়িয়ে দিন। নবিজি বললেন, তুমি যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ তোমার জন্য মঙ্গলকে সহজতর করুন। -ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান। ৭৩৫
পুণ্যবানদের কাছে উপদেশ তলব করা মুস্তাহাব
(৫২৯) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত আছে-
أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُوْلَ اللهِ ، إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُسَافِرَ فَأَوْصِنِي، قَالَ: عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللهِ، وَالتَّكْبِيرِ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ، فَلَمَّا أَنْ وَلَّى الرَّجُلُ. قَالَ: اللَّهُمَّ اطْوِ لَهُ الْبُعْدَ، وَهَوَّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ.
অর্থ: এক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল: হে আল্লাহর রাসুল! আমি সফরের ইচ্ছা করেছি, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন, অবশ্যই তুমি আল্লাহকে ভয় করবে এবং প্রতিটি উঁচু ভূমিতে তাকবির ধ্বনি দিবে। যখন লোকটি ফিরে যাচ্ছিল, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আল্লাহ! তার জন্য সফরের দূরত্ব কমিয়ে দিন এবং সফরকে সহজসাধ্য করে দিন। -ইমাম তিরমিজি একে হাসান বলেছেন। ৭৩৬
মুকিম ব্যক্তি মুসাফিরের কাছে উত্তম স্থানগুলোতে তার জন্য দুআর দরখাস্ত করা মুস্তাহাব, যদিও মুকিম ব্যক্তি যদি মুসাফিরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়
(৫৩০) হজরত উমর রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
اسْتَأْذَنْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْعُمْرَةِ فَأَذِنَ لِي وَقَالَ: لَا تَنْسَنَا يَا أُخَيَّ مِنْ دُعَائِكَ. فَقَالَ كَلِمَةً مَا يَسُرُّنِي أَنَّ لِي بِهَا الدُّنْيَا. وفِي رِوَايَةٍ : أَشْرِكْنَا يَا أُخَيَّ فِي دُعَائِكَ.
অর্থ: আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উমরার সফরের অনুমতি চাইলাম। তিনি অনুমতি দিয়ে বললেন, প্রিয় ভাই! আমাদেরকে দুআতে ভুলে যেও না। পরবর্তীতে উমর রাদি. বলেন, এই একটি শব্দ আমাকে এতটা আনন্দ দিয়েছে যে, গোটা দুনিয়াও আমার জন্য হলে ততটা আনন্দিত হতাম না। -অন্য বর্ণনায় আছে, নবিজি বলেছেন: হে আমার ভাই, আমাদেরকে নিজের দুআয় শরিক রাখবেন। -ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ। ৭৩৭

টিকাঃ
৭৩১. সুনানে আবু দাউদ: ২৬০০, আমাল: ৫১২-৫১৪, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ২/৭, সহিহ ইবনে হিব্বান: ২৩৭৬, মুসতাদরাকে হাকেম ২/৯৭, আলফুতুহাত ৫/১১৮।
৭৩২. সুনানে তিরমিজি: ৩৪৪২, আলফুতুحات ৫/১১৭।
৭৩৩. সুনানে তিরমিজি: ৩৪৪৩, সুনানে আবু দাউদ: ২৬০০, আমাল: ৫১২-৫১৪, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ২/৭, সহিহ ইবনে হিব্বান: ২৩৭৬, মুসতাদরাকে হাকেম ২/৯৭, আলফুতুحات ৫/১১৮।
৭৩৪. সুনানে আবু দাউদ: ২৬০১, আমাল: ৫০৭, নাসাঈ, আমাল: ৫০৪, ইবনুস সুন্নি, মুসতাদরাকে হাকেম ২/৯৭।
৭৩৫. সুনানে তিরমিজি: ৩৪৪০, মুসতাদরাকে হাকেম ২/৯৭, সুনানে দারিমিঃ ২৬৭৪, আলফুতুحات ৫/১২০।
৭৩৬. সুনানে তিরমিজি: ৩৪৪১, মুসনাদে আহমাদ ২/৩২৫, মুসতাদরাকে হাকেম ২/৯৮, সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৭৭১, ইবনে হিব্বান: ২৩৮৭।
৭৩৭. সুনানে তিরমিজি: ৩৫৬২, সুনানে আবু দাউদ: ১৪৯৮, সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৮৯৪।

📘 আল আযকার > 📄 বাহনে আরোহণের সময় দুআ

📄 বাহনে আরোহণের সময় দুআ


আল্লাহ তাআলা বলেন- وَ جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ لِتَسْتَوْا عَلَى ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُولُوا سُبُحْنَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هُذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَ إِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ.
অর্থ: তিনি তোমাদের জন্য নৌযান ও গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, যেটাতে তোমরা আরোহণ কর। যেন তোমরা এর পৃষ্ঠে স্থির হয়ে বস। এরপর যখন স্থির হয়ে বসবে, তখন স্বীয় রবের নেয়ামতের কথা স্মরণ করবে এবং বলবে, পবিত্র সেই সত্তা, যিনি আমাদের জন্য এই বাহন অনুগত করে দিয়েছেন। অথচ আমরা একে অনুগত করার ছিলাম না। আর আমরা আমাদের পালনকর্তার দিকে অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব। ৭৩৮
(৫৩১) হজরত আলি বিন রবিআ রহ. থেকে একাধিক সহিহ সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
شَهِدْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَأُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ: بِاسْمِ اللهِ . فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ. ثُمَّ قَالَ: { سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ } { وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ }. ثُمَّ قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ: اللهُ أَكْبَرُ . ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ : سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ. ثُمَّ ضَحِكَ، فَقِيلَ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ ؟ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ كَمَا فَعَلْتُ، ثُمَّ ضَحِكَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ؟ قَالَ: إِنَّ رَبَّكَ يَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ : اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ غَيْرِي.
অর্থ: আমি একবার দেখতে পেলাম আলি বিন আবু তালিবের কাছে আরোহনের জন্য একটি পশু আনা হল, অতঃপর তিনি রেকাবে পা রাখতে বললেন: বিসমিল্লাহ। তারপর বললেন। যখন তার পিঠে স্থির হয়ে বসলেন, তখন তিনি এই দুআ পড়লেন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَ إِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ.
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল লাজি সাখখারা লানা হাজا ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিনা, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আমরা (নিজস্ব ক্ষমতাবলে) একে বশীভূতকারী ছিলাম না। আর অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। -এরপর তিনবার আলহামদুলিল্লাহ এবং তিনবার আল্লাহু আকবার বললেন। পরে এই দুআ পড়লেন:
سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ.
উচ্চারণ: সুবহানাকা ইন্নি জালামতু নাফসি ফাগফিরলি ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, নিশ্চয় আমি নিজের প্রতি জুলম করেছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া অন্য কেউ পাপ মোচন করতে পারে না। -অতঃপর তিনি হেসে দিলেন। তাকে হাসার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে বললেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমনটাই করতে ও হাসতে দেখেছি। তখন আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম: হে আল্লাহর রাসুল! কেন হাসলেন? তিনি বললেন, নিশ্চয় বান্দা যখন বলে: হে আল্লাহ! আমার পাপসমূহ মাফ করে দিন। সাথে সাথে সে এও জানে যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না, তখন তিনি বান্দার প্রতি খুশি হন। -ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান। ৭৩৯
(৫৩২) আবদুল্লাহ বিন উমর রাদি. থেকে বর্ণিত আছে- রাসুল যখন সফরের নিয়তে স্বীয় উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করতেন, তখন প্রথমে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। তারপর এই দুআ পড়তেন:
سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا ، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَابَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ.
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিনা, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনকালিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফি সাফারিনা হাজাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তারজা। আল্লাহুম্মা হাউয়িন আন্না বু'দাহু। আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফারি ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন ওয়াসায়িস সাফারি ওয়া কা'বাতিল মানজারি ওয়া সুয়িল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহলি।
অর্থ: পবিত্রতা ঐ সত্তার, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। আমরা (নিজস্ব ক্ষমতাবলে) একে বশীভূতকারী ছিলাম না। আর অবশ্যই আমরা আমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। হে আল্লাহ, এই সফরে আপনার কাছে সততা, তাকওয়া এবং আপনার পছন্দ অনুযায়ী আমল কামনা করি। হে আল্লাহ, আমার জন্য এই সফর সহজ করে দিন এবং এর দূরত্ব গুটিয়ে দিন। হে আল্লাহ, আপনিই সফরের সঙ্গী এবং পরিবারে স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ, সফরের ক্লান্তি থেকে, বিষণ্ণ দৃশ্য থেকে এবং পরিবার ও সম্পদের অশুভ পরিবর্তন থেকে আপনার কাছে আশ্রয় কামনা করি। -আর যখন ফিরে আসতেন তখনও এই দুআ বলতেন, তবে সাথে এতটুকু বৃদ্ধি করতেন:
آئِبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَابِدُوْنَ، لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ.
উচ্চারণ: আয়িবুনা তায়িবুনা আবিদুনা, লিরাব্বিনা হামিদুন।
অর্থ: আমরা প্রত্যাগমনকারী, তাওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আপন পালনকর্তার প্রশংসাকারী। ৭৪০
এগুলো হচ্ছে, সহিহ মুসলিমের বর্ণনার শব্দ। সুনানে আবু দাউদে অতিরিক্ত রয়েছে-
وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجُيُوشُهُ إِذَا عَلَوُا الثَّنَايَا كَبَّرُوْا، وَإِذَا هَبَطُوْا سَبَّحُوْا، فَوُضِعَتِ الصَّلَاةُ عَلَى ذَلِكَ.
অর্থ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সৈন্যদল যখন কোনো উচু স্থানে চড়তেন আল্লাহু আকবার বলতেন এবং যখন নিচে নামতেন সুবহানাল্লাহ বলতেন। -এছাড়া একদল সাহাবা থেকে এ মর্মের বর্ণনা মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(৫৩৩) আবদুল্লাহ বিন সারজিস রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন-
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرَ يَتَعَوَّذُ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَابَةِ الْمُنْقَلَبِ، وَالْخَوْرِ بَعْدَ الْكَوْرِ، وَدَعْوَةِ الْمَظْلُوْمِ، وَسُوْءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ، وَالْمَالِ.
অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে বের হতেন, তখন তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করতেন- সফরের কষ্ট থেকে, দুঃখজনক প্রত্যাবর্তন থেকে, সুখময় অবস্থার পরে দুঃখময় অবস্থায় পতিত হওয়া থেকে, মাজলুমের বদদুআ থেকে, পরিবার-পরিজন ও সম্পদের খারাপ দৃশ্য অবলোকন থেকে। ৭৪১
(৫৩৪) আবদুল্লাহ বিন সারজিস রাদি. থেকে একাধিক সহিহ সনদে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হলে এই দুআ পড়তেন-
اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَابَةِ الْمَنْظَرِ، وَمِنَ الْخَوْرِ بَعْدَ الْكَوْنِ، وَمِنْ دَعْوَةِ الْمَظْلُومِ وَمِنْ سُوْءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাস সাহিবু ফিস সাফারি ওয়াল খালিফাতু ফিল আহলি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন ওয়াসায়িস সাফারি ওয়া কা'বাতিল মানজারি ওয়া মিনাল হাওরি বাদাল কাওনি ওয়া মিন দাওয়াতিল মাজলুমি ওয়া মিন সুয়িল মানজারি ফিল আহলি ওয়াল মালি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনিই সফরের সঙ্গী এবং পরিবারে স্থলাভিষিক্ত। হে আল্লাহ, সফরের ক্লান্তি থেকে, বিষণ্ণ দৃশ্য থেকে, সুখের পরে দুঃখ থেকে, মাজলুমের বদদুআ থেকে এবং পরিবার ও সম্পদের অশুভ দৃশ্য থেকে আপনার কাছে আশ্রয় কামনা করি। -ইমাম তিরমিজি রহ. বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ। ৭৪২

টিকাঃ
৭৩৮. সুরা যুখরুফ: ১২-১৪।
৭৩৯. সুনানে আবু দাউদ: ২৬০২, সুনানে তিরমিজি: ২৪৪৩, আমাল: ৫০২, নাসাঈ, আমাল: ৪৯৬, ইবনুস সুন্নি, মুসতাদরাকে হাকেম ২/৯৮, আলফুতুহাত ৫/১24।
৭৪০. সহিহ মুসলিম: ১৩৪২, সুনানে আবু দাউদ: ২৫৯৯, সুনানে তিরমিজি: ২৪৪৪, আমাল: ৫৪৮, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ২/১৪৪।
৭৪১. সহিহ মুসলিম: ১৩৪৩।
৭৪২. সুনানে তিরমিজি: ৩৪৩৫, সুনানে নাসাঈ ৮/২৭২, আমাল: ৪৯২, ইবনুস সুন্নি, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৮৮, মুসনাদে আহমাদ ৫/৮২, সুনানে দারিমি: ২৬৭৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00