📘 আল আযকার > 📄 ইস্তেখারার দুআ

📄 ইস্তেখারার দুআ


অধ্যায়- ৬
আকস্মিক বিষয়ের জিকির-আজকার ও দুআসমূহ পূর্বে যেসব দুআ উল্লেখ করা হল, সেগুলো নিয়মিত দৈনন্দিন পড়বে। এখানে যেসব দুআ উল্লেখ করা হবে, এগুলো বিভিন্ন সময় ও আকস্মিক বিষয়ে পড়বে। তাই এখানে কোন ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি।
ইস্তেখারার দুআ (৩০৩) হজরত জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কুরআনের সুরার মতো সকল কাজে ইস্তেখারা করার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোন বিষয়ে সঙ্কল্প করলে সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে এই দুআ করে এবং প্রয়োজনীয় বস্তুটির নাম নেয়। দুআটি হল-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي، وَمَعَاشِي، وَعَاقِبَةِ أَمْرِي. - أَوْ قَالَ: عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيْهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي. - أَوْ قَالَ: فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বি-ইলমিকা ওয়া আসতাকদিরুকা বি- কুদরাতিক। ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আজিম, ফা ইন্নিকা তাকদিরু ওয়া লা আকদিরু, ওয়া তা'লামু ওয়ালা আ'লামু, ওয়া আনতা আল্লামুল গুইয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা'লামু আন্না হাজাল আমরা খাইরুন লি ফি দীনি ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি। (অথবা বলেছেন: আ'জিলি আমরি আজিলিহ) ফাকদুরহু লি ওয়া ইয়াসসিরহু লি, সুম্মা বারিক লি ফিহ। ওয়া ইন কুনতা তালামু আন্না হাজাল আমরা শাররুন লি ফি দীনি ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি (অথবা বলেছেন: ফি আ'জিলি আমরি আজিলিহ) ফাসরিফহু আন্নি ওয়াসরিফনি আনহু, ওয়াকদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কানা, সুম্মা আরদিনি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার ইলমের মাধ্যমে মঙ্গলময় বিষয়টি স্থির করতে চাচ্ছি। আপনার কুদরত ও ক্ষমতার সাহায্যে আমি সক্ষমতা অর্জন করতে চাই। আপনার কাছে আপনার মহা অনুগ্রহ কামনা করি। কারণ, আপনি সক্ষম, আমি অক্ষম। আপনি জানেন, আমি জানি না, আর আপনি অদৃশ্যের মহা জ্ঞানী। ওহে আল্লাহ, যদি আপনার জ্ঞান অনুসারে উদ্দিষ্ট বিষয়টি আমার দীন, দুনিয়া ও শেষ পরিণামের ক্ষেত্রে কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন, সহজ করে দিন এবং এতে বরকত দিন। আর যদি তা আমার দীন, দুনিয়া ও পরকালের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে আমার থেকে তা দূরে রাখুন এবং আমাকেও তা থেকে দূরে রাখুন। যেখানে কল্যাণ আছে তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন এবং এর মাধ্যমে আমাকে তুষ্ট করো। ৪৩৭
উলামায়ে কেরাম বলেন, নামাজ ও উক্ত দুআর মাধ্যমে ইস্তেখারা করা মুস্তাহাব। দুই রাকাত নফল নামাজ। তবে নামাজের আগে-পরের সুন্নাত ও তাহিয়্যাতুল মসজিদ ইত্যাদি নামাজের মাধ্যমেও ইস্তেখারা করা যাবে। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পর সুরা কাফিরুন পড়বে। দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর সুরা ইখলাস পড়বে। যদি নামাজ পড়তে না পারে তাহলে শুধু দুআ পড়ে ইস্তেখারা করবে।
উক্ত দুআর আগে ও পরে আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়বে। সকল কাজেই ইস্তেখারা করা মুস্তাহাব। যেমনটি এ হাদিসে স্পষ্ট এসেছে। ইস্তেখারার পর মন যে কাজের প্রতি ঝুঁকবে সেটিই করবে।
(৩০৪) আবু বকর রাদি. এর সূত্রে দুর্বল সনদে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কাজ করতে ইচ্ছা করতেন, তখন বলতেন-
اللَّهُمَّ خِرْ لِي، وَاخْتَرْ لِي.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা খিরলি ওয়াখতারলি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার এই কাজে কল্যাণ দান করুন এবং আমাকে উত্তম পন্থা অবলম্বনের তাওফিক দান করুন।৪৩৮
(৩০৫) হজরত আনাস রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
يَا أَنَسُ، إِذَا هَمَمْتَ بِأَمْرٍ فَاسْتَخِرْ رَبِّكَ فِيْهِ سَبْعَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ انْظُرْ إِلَى الَّذِي سَبَقَ إِلَى قَلْبِكَ، فَإِنَّ الْخَيْرَ فِيْهِ.
অর্থ: হে আনাস! যখন কোন কাজের সঙ্কল্প করো, তখন আল্লাহর নিকট সাতবার কল্যাণ কামনা (ইস্তেখারা) করো। এরপর মন যে দিকে ঝুঁকবে, সেটাই করবে। এতেই কল্যাণ নিহিত। ৪৩৯

টিকাঃ
৪৩৭. সহিহ বুখারি: ৬৩৮২, সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৮, সুনানে তিরমিজিঃ ৪৮০, সুনানে নাসাঈ ৬/৮০-৮১, আমাল: ৪৯৮, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ৩/৩৪৪, সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৮৩, আমাল: ৫৯৬, ইবনুস সুন্নি।
৪৩৮. সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৬।
৪৩৯. ইবনুস সুন্নি: ৫৯৮।

অধ্যায়- ৬
আকস্মিক বিষয়ের জিকির-আজকার ও দুআসমূহ পূর্বে যেসব দুআ উল্লেখ করা হল, সেগুলো নিয়মিত দৈনন্দিন পড়বে। এখানে যেসব দুআ উল্লেখ করা হবে, এগুলো বিভিন্ন সময় ও আকস্মিক বিষয়ে পড়বে। তাই এখানে কোন ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি।
ইস্তেখারার দুআ (৩০৩) হজরত জাবের বিন আবদুল্লাহ রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কুরআনের সুরার মতো সকল কাজে ইস্তেখারা করার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোন বিষয়ে সঙ্কল্প করলে সে যেন দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে এই দুআ করে এবং প্রয়োজনীয় বস্তুটির নাম নেয়। দুআটি হল-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي، وَمَعَاشِي، وَعَاقِبَةِ أَمْرِي. - أَوْ قَالَ: عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيْهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي. - أَوْ قَالَ: فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ - فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বি-ইলমিকা ওয়া আসতাকদিরুকা বি- কুদরাতিক। ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আজিম, ফা ইন্নিকা তাকদিরু ওয়া লা আকদিরু, ওয়া তা'লামু ওয়ালা আ'লামু, ওয়া আনতা আল্লামুল গুইয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা'লামু আন্না হাজাল আমরা খাইরুন লি ফি দীনি ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি। (অথবা বলেছেন: আ'জিলি আমরি আজিলিহ) ফাকদুরহু লি ওয়া ইয়াসসিরহু লি, সুম্মা বারিক লি ফিহ। ওয়া ইন কুনতা তালামু আন্না হাজাল আমরা শাররুন লি ফি দীনি ওয়া মাআশি ওয়া আকিবাতি আমরি (অথবা বলেছেন: ফি আ'জিলি আমরি আজিলিহ) ফাসরিফহু আন্নি ওয়াসরিফনি আনহু, ওয়াকদুর লিয়াল খাইরা হাইসু কানা, সুম্মা আরদিনি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার ইলমের মাধ্যমে মঙ্গলময় বিষয়টি স্থির করতে চাচ্ছি। আপনার কুদরত ও ক্ষমতার সাহায্যে আমি সক্ষমতা অর্জন করতে চাই। আপনার কাছে আপনার মহা অনুগ্রহ কামনা করি। কারণ, আপনি সক্ষম, আমি অক্ষম। আপনি জানেন, আমি জানি না, আর আপনি অদৃশ্যের মহা জ্ঞানী। ওহে আল্লাহ, যদি আপনার জ্ঞান অনুসারে উদ্দিষ্ট বিষয়টি আমার দীন, দুনিয়া ও শেষ পরিণামের ক্ষেত্রে কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন, সহজ করে দিন এবং এতে বরকত দিন। আর যদি তা আমার দীন, দুনিয়া ও পরকালের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে আমার থেকে তা দূরে রাখুন এবং আমাকেও তা থেকে দূরে রাখুন। যেখানে কল্যাণ আছে তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন এবং এর মাধ্যমে আমাকে তুষ্ট করো। ৪৩৭
উলামায়ে কেরাম বলেন, নামাজ ও উক্ত দুআর মাধ্যমে ইস্তেখারা করা মুস্তাহাব। দুই রাকাত নফল নামাজ। তবে নামাজের আগে-পরের সুন্নাত ও তাহিয়্যাতুল মসজিদ ইত্যাদি নামাজের মাধ্যমেও ইস্তেখারা করা যাবে। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পর সুরা কাফিরুন পড়বে। দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর সুরা ইখলাস পড়বে। যদি নামাজ পড়তে না পারে তাহলে শুধু দুআ পড়ে ইস্তেখারা করবে।
উক্ত দুআর আগে ও পরে আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়বে। সকল কাজেই ইস্তেখারা করা মুস্তাহাব। যেমনটি এ হাদিসে স্পষ্ট এসেছে। ইস্তেখারার পর মন যে কাজের প্রতি ঝুঁকবে সেটিই করবে।
(৩০৪) আবু বকর রাদি. এর সূত্রে দুর্বল সনদে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কাজ করতে ইচ্ছা করতেন, তখন বলতেন-
اللَّهُمَّ خِرْ لِي، وَاخْتَرْ لِي.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা খিরলি ওয়াখতারলি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমার এই কাজে কল্যাণ দান করুন এবং আমাকে উত্তম পন্থা অবলম্বনের তাওফিক দান করুন।৪৩৮
(৩০৫) হজরত আনাস রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
يَا أَنَسُ، إِذَا هَمَمْتَ بِأَمْرٍ فَاسْتَخِرْ رَبِّكَ فِيْهِ سَبْعَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ انْظُرْ إِلَى الَّذِي سَبَقَ إِلَى قَلْبِكَ، فَإِنَّ الْخَيْرَ فِيْهِ.
অর্থ: হে আনাস! যখন কোন কাজের সঙ্কল্প করো, তখন আল্লাহর নিকট সাতবার কল্যাণ কামনা (ইস্তেখারা) করো। এরপর মন যে দিকে ঝুঁকবে, সেটাই করবে। এতেই কল্যাণ নিহিত। ৪৩৯

টিকাঃ
৪৩৭. সহিহ বুখারি: ৬৩৮২, সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৮, সুনানে তিরমিজিঃ ৪৮০, সুনানে নাসাঈ ৬/৮০-৮১, আমাল: ৪৯৮, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ৩/৩৪৪, সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৮৩, আমাল: ৫৯৬, ইবনুস সুন্নি।
৪৩৮. সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৬।
৪৩৯. ইবনুস সুন্নি: ৫৯৮।

📘 আল আযকার > 📄 বিপদাপদের সময়ের দুআ

📄 বিপদাপদের সময়ের দুআ


(৩০৬) হজরত ইবনে আব্বাস রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদাপদে এ দুআ পড়তেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ.
উচ্চারণ: লাইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযিমুল হালিম, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আযিম, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরজি রাব্বুল আরশিল কারিম।
অর্থ: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, যিনি অতি মহান অত্যন্ত সহনশীল। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, যিনি আসমান-জমিনের পালনকর্তা এবং মহান আরশের অধিপতি। -অপর বর্ণনায় আছে- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পেরেশান হতেন বা বিপদের সম্মুখীন হতেন, তখন উক্ত দুআ পড়তেন। ৪৪০
(৩০৭) হজরত আনাস রাদি. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, কোন বিপদ আসলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুআ পড়তেন-
يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ اسْتَغِيْتُ.
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়্যুম, রি-রাহমাতিকা আস্তাগিস। অর্থ: হে শাশ্বত চিরজীবি, আপনার কাছেই ফরিয়াদ করি। ৪৪১ - হাকেম বলেন, হাদিসের সনদ সহিহ।
(৩০৮) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিন্তিত হলে আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে এ দুআ পড়তেন-
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ.
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহিল আজিম। অর্থ: মহান আল্লাহ পাকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। -খুব বেশি জোরালো দুআ করলে বলতেন-
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ.
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম। অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সকল কাজের নিয়ন্ত্রক! (আপনারই আশ্রয় চাই)। ৪৪২ (৩০৯) হজরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি এ দুআ পড়তেন-
اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনয়া হাসানাতান, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতান, ওয়া কিনা আজাবান্নার। অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন। আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। -সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এতটুকু বেশি আছে যে, আনাস রাদি. দুআ করতে চাইলে এ দুআটি করতেন। অন্য কোন দুআ করলেও এটি সঙ্গে করতেন। ৪৪৩ (৩১০) হজরত আবদুল্লাহ বিন জাফর রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত আছে যে, হজরত আলি রাদি. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ দুআ শিখিয়েছেন এবং বিপদাপদের সময় ও মুসিবতের সময় তা পড়তে আদেশ করেছেন। দুআটি হল-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْكَرِيمُ الْعَظِيمُ، سُبْحَانَهُ ، تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল কারিমুল আজিম, সুবহানাহু তাবারাকাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। অর্থ: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, যিনি অতি সম্মানি ও মহান। তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ তাআলা বড় মহান পানকর্তা। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য। -আবদুল্লাহ বিন জাফর রাদি. জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এটা পড়ে ফুঁ দিতেন। আর অনাত্মীয়ের কাছে বিবাহিত মেয়েদেরকে তা শিখিয়ে দিতেন। ৪৪৪
(৩১১) হজরত আবু বাকরা রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিপদের সময়ের দুআ হল-
اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُوْ، فَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাহমাতুকা আরজু, ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আইনিন। ওয়া আসলিহলি শা'নি কুল্লাহু, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা। অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার রহমতের আশাবাদী। অতএব, ক্ষণিকের জন্যও আমার রক্ষণাবেক্ষণ আমার ওপর ছেড়ে দিয়েন না। আমার সকল সমস্যার সমাধান আপনি করে দিন। আপনি ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই। ৪৪৫
(৩১২) হজরত আসমা বিনতে উমাইস রাদি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে এমন দুআ শিক্ষা দেব যেটি তুমি বিপদের সময় পড়বে? তুমি বিপদের সময় এ দুআ পড়বে-
اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا.
উচ্চারণ: আল্লাহ আল্লাহ রাব্বি, লা উশরিকু বি রাব্বি শাইআ। অর্থ: একমাত্র আল্লাহই আমার প্রভু, আমি তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করি না। ৪৪৬
(৩১৩) হজরত আবু কাতাদা রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ وَخَوَاتِيمَ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ عِنْدَ الْكَرْبِ، أَغاثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ.
অর্থ: যে ব্যক্তি বিপদের সময় আয়াতুল কুরসি ও সুরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে বিপদে সাহায্য করবেন। ৪৪৭
(৩১৪) হজরত সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি এমন দুআ জানি যদি কোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি সেটি পড়ে তার বিপদ দূর হয়ে যায়। দুআটি হল ইউনুস আলাইহিস সালাম অন্ধকারে (মাছের পেটে থেকে) যে দুআটি করেছিলেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ.
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জালিমিন।
অর্থ: আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আপনি পবিত্র। আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ৪৪৮ -ইমাম তিরমিজি উক্ত হাদিসটি হজরত সাদ রাদি. থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
دَعْوَةُ ذِي النُّوْنِ - إِذْ دَعَاء وَهُوَ فِي بَطْنِ الْحُوْتِ : لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ؛ فَإِنَّهُ لَمْ يَدْعُ بِهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا اسْتَجَابَ الله لَهُ.
অর্থ: ইউনুস আ. যখন মাছের পেটে ছিলেন, তখন তিনি এই দুআটি করেছিলেন। যে মুসলমান ব্যক্তি কোন বিষয়ে এ দুআ পড়বে, আল্লাহ তার দুআ অবশ্যই কবুল করবেন। দুআটি হল-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ.
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জালিমিন।
অর্থ: আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আপনি পবিত্র। আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ৪৪৯

টিকাঃ
৪৪0. সহিহ বুখারি: ৬৩৪৫, সহিহ মুসলিম: ২৭৩০, সুনানে তিরমিজি: ৩৪৩১, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৮৩, আমাল: ৬৫২, নাসাঈ।
৪৪১. সুনানে তিরমিজি: ৩৫২২, আমাল: ৩৩৮, ইবনুস সুন্নি।
৪৪২. সুনানে তিরমিজি: ৩৪৩২, আমাল: ৩৩৭, ইবনুস সুন্নি।
৪৪৪. আমাল: ৬৩০, নাসাঈ, আমাল: ৩৪৩, ইবনুস সুন্নি, মুসনাদে আহমাদ ১/৯৪, মাওয়ারিদ: ২৩৭১।
৪৪৫. সুনানে আবু দাউদ: ৫০৯০, আমাল: ৬৫১, নাসাঈ, আলআদাবুল মুফরাদ: ৭০১, আমাল: ৩৪২, মুসনাদে আহমাদ ৫/৪২, মাওয়ারিদ: ২৩৭০।
৪৪৬. সুনানে আবু দাউদ: ১৫২৫, সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৩৯৮২, আমাল: ৬৪৭, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ৬/৩৬৯।
৪৪৮. সুরা আম্বিয়া: ৮৭।
৪৪৯. আমাল: ৩৪৩, ইবনুস সুন্নি, আমাল: ৬৫৬, নাসাঈ, সুনানে তিরমিজি: ৩৫০০, মুসতাদরাকে হাকেম ১/৫০৫। হাদিসটি খুবই দুর্বল।
৪৪৩. সহিহ বুখারি: ৬৩৮৯, সহিহ মুসলিম: ৩৬৯০।
৪৪৭. ইবনুস সুন্নি: ৩৪৪। হাদিসটি দুর্বল।

(৩০৬) হজরত ইবনে আব্বাস রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদাপদে এ দুআ পড়তেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ.
উচ্চারণ: লাইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযিমুল হালিম, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আযিম, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরজি রাব্বুল আরশিল কারিম।
অর্থ: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, যিনি অতি মহান অত্যন্ত সহনশীল। আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, যিনি আসমান-জমিনের পালনকর্তা এবং মহান আরশের অধিপতি। -অপর বর্ণনায় আছে- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পেরেশান হতেন বা বিপদের সম্মুখীন হতেন, তখন উক্ত দুআ পড়তেন। ৪৪০
(৩০৭) হজরত আনাস রাদি. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, কোন বিপদ আসলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দুআ পড়তেন-
يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ اسْتَغِيْتُ.
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়্যুম, রি-রাহমাতিকা আস্তাগিস। অর্থ: হে শাশ্বত চিরজীবি, আপনার কাছেই ফরিয়াদ করি। ৪৪১ - হাকেম বলেন, হাদিসের সনদ সহিহ।
(৩০৮) হজরত আবু হুরায়রা রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিন্তিত হলে আকাশের দিকে মাথা উঠিয়ে এ দুআ পড়তেন-
سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ.
উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহিল আজিম। অর্থ: মহান আল্লাহ পাকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। -খুব বেশি জোরালো দুআ করলে বলতেন-
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ.
উচ্চারণ: ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম। অর্থ: হে চিরঞ্জীব, হে সকল কাজের নিয়ন্ত্রক! (আপনারই আশ্রয় চাই)। ৪৪২ (৩০৯) হজরত আনাস রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি এ দুআ পড়তেন-
اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনয়া হাসানাতান, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাতান, ওয়া কিনা আজাবান্নার। অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন। আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। -সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এতটুকু বেশি আছে যে, আনাস রাদি. দুআ করতে চাইলে এ দুআটি করতেন। অন্য কোন দুআ করলেও এটি সঙ্গে করতেন। ৪৪৩ (৩১০) হজরত আবদুল্লাহ বিন জাফর রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত আছে যে, হজরত আলি রাদি. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ দুআ শিখিয়েছেন এবং বিপদাপদের সময় ও মুসিবতের সময় তা পড়তে আদেশ করেছেন। দুআটি হল-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْكَرِيمُ الْعَظِيمُ، سُبْحَانَهُ ، تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল কারিমুল আজিম, সুবহানাহু তাবারাকাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আজিম, আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। অর্থ: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, যিনি অতি সম্মানি ও মহান। তার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ তাআলা বড় মহান পানকর্তা। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য। -আবদুল্লাহ বিন জাফর রাদি. জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এটা পড়ে ফুঁ দিতেন। আর অনাত্মীয়ের কাছে বিবাহিত মেয়েদেরকে তা শিখিয়ে দিতেন। ৪৪৪
(৩১১) হজরত আবু বাকরা রাদি. থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিপদের সময়ের দুআ হল-
اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُوْ، فَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাহমাতুকা আরজু, ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি তারফাতা আইনিন। ওয়া আসলিহলি শা'নি কুল্লাহু, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা। অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার রহমতের আশাবাদী। অতএব, ক্ষণিকের জন্যও আমার রক্ষণাবেক্ষণ আমার ওপর ছেড়ে দিয়েন না। আমার সকল সমস্যার সমাধান আপনি করে দিন। আপনি ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই। ৪৪৫
(৩১২) হজরত আসমা বিনতে উমাইস রাদি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে এমন দুআ শিক্ষা দেব যেটি তুমি বিপদের সময় পড়বে? তুমি বিপদের সময় এ দুআ পড়বে-
اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا.
উচ্চারণ: আল্লাহ আল্লাহ রাব্বি, লা উশরিকু বি রাব্বি শাইআ। অর্থ: একমাত্র আল্লাহই আমার প্রভু, আমি তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করি না। ৪৪৬
(৩১৩) হজরত আবু কাতাদা রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ وَخَوَاتِيمَ سُوْرَةِ الْبَقَرَةِ عِنْدَ الْكَرْبِ، أَغاثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ.
অর্থ: যে ব্যক্তি বিপদের সময় আয়াতুল কুরসি ও সুরা বাকারার শেষ আয়াতগুলো পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে বিপদে সাহায্য করবেন। ৪৪৭
(৩১৪) হজরত সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি এমন দুআ জানি যদি কোন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি সেটি পড়ে তার বিপদ দূর হয়ে যায়। দুআটি হল ইউনুস আলাইহিস সালাম অন্ধকারে (মাছের পেটে থেকে) যে দুআটি করেছিলেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ.
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জালিমিন।
অর্থ: আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আপনি পবিত্র। আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ৪৪৮ -ইমাম তিরমিজি উক্ত হাদিসটি হজরত সাদ রাদি. থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
دَعْوَةُ ذِي النُّوْنِ - إِذْ دَعَاء وَهُوَ فِي بَطْنِ الْحُوْتِ : لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ؛ فَإِنَّهُ لَمْ يَدْعُ بِهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا اسْتَجَابَ الله لَهُ.
অর্থ: ইউনুস আ. যখন মাছের পেটে ছিলেন, তখন তিনি এই দুআটি করেছিলেন। যে মুসলমান ব্যক্তি কোন বিষয়ে এ দুআ পড়বে, আল্লাহ তার দুআ অবশ্যই কবুল করবেন। দুআটি হল-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ.
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ জালিমিন।
অর্থ: আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আপনি পবিত্র। আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। ৪৪৯

টিকাঃ
৪৪0. সহিহ বুখারি: ৬৩৪৫, সহিহ মুসলিম: ২৭৩০, সুনানে তিরমিজি: ৩৪৩১, সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৮৮৩, আমাল: ৬৫২, নাসাঈ।
৪৪১. সুনানে তিরমিজি: ৩৫২২, আমাল: ৩৩৮, ইবনুস সুন্নি।
৪৪২. সুনানে তিরমিজি: ৩৪৩২, আমাল: ৩৩৭, ইবনুস সুন্নি।
৪৪৪. আমাল: ৬৩০, নাসাঈ, আমাল: ৩৪৩, ইবনুস সুন্নি, মুসনাদে আহমাদ ১/৯৪, মাওয়ারিদ: ২৩৭১।
৪৪৫. সুনানে আবু দাউদ: ৫০৯০, আমাল: ৬৫১, নাসাঈ, আলআদাবুল মুফরাদ: ৭০১, আমাল: ৩৪২, মুসনাদে আহমাদ ৫/৪২, মাওয়ারিদ: ২৩৭০।
৪৪৬. সুনানে আবু দাউদ: ১৫২৫, সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৩৯৮২, আমাল: ৬৪৭, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ ৬/৩৬৯।
৪৪৮. সুরা আম্বিয়া: ৮৭।
৪৪৯. আমাল: ৩৪৩, ইবনুস সুন্নি, আমাল: ৬৫৬, নাসাঈ, সুনানে তিরমিজি: ৩৫০০, মুসতাদরাকে হাকেম ১/৫০৫। হাদিসটি খুবই দুর্বল।
৪৪৩. সহিহ বুখারি: ৬৩৮৯, সহিহ মুসলিম: ৩৬৯০।
৪৪৭. ইবনুস সুন্নি: ৩৪৪। হাদিসটি দুর্বল।

📘 আল আযকার > 📄 ভয়, দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির দুআ

📄 ভয়, দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির দুআ


ভয় পেলে যে দুআ পড়বে (৩১৫) হজরত সাওবান রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কিছু দেখে ভয় পেতেন, তখন এ দুআ পড়তেন- هُوَ اللَّهُ، اللَّهُ رَبِّي لَا شَرِيكَ لَهُ.
উচ্চারণ: হুয়াল্লাহু, আল্লাহু রাব্বি লা-শারিকালাহ।
অর্থ: তিনিই আল্লাহ, তিনি আমার প্রভু, তাঁর কোন শরিক নেই। ৪৫০
(৩১৬) হজরত আমর বিন শুআইব রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে ভয়ের সময় পড়তে এই কালিমাগুলো শিখিয়েছেন- أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ، اَلتَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُوْنِ.
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাজাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহ। ওয়া মিন হামাজাতিশ শাইয়াতিনি ওয়া আন ইয়াহদুরুন।
অর্থ: আমি আল্লাহর পূর্ণ-দৃঢ় উক্তিসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি তার ক্রোধ থেকে, তার সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের কুস্পর্শ ও উপস্থিতি থেকে। -আবদুল্লাহ বিন আমর রাদি. তাঁর বুঝমান সন্তানদেরকে এ দুআ মুখস্ত করাতেন। আর অবুঝ বাচ্চাদের গলায় কাগজে লেখে ঝুলিয়ে দিতেন। ৪৫১
দুঃশ্চিন্তা ও পেরেশান হলে যে দুআ পড়বে (৩১৭) হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি দুঃশ্চিন্তা ও পেরেশানিতে পড়ে যায়, সে যেন এই দুআগুলো পড়ে। তখন উপস্থিত এক সাহাবি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, এই বাক্যগুলো পড়া থেকে যে উদাসীনতা প্রদর্শন করল সে বাস্তবেই ক্ষতিগ্রস্থ। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। অতএব, তোমার এই বাক্যগুলো পড় এবং অন্যদেরকে শিক্ষা দাও। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে এই বাক্যগুলো বলবে, আল্লাহ তাআলা তার সকল টেনশন দূর করে দিবেন এবং তাকে সুখী করবেন।
اللَّهُمَّ أَنَا عَبْدُكَ، ابْنُ عَبْدِكَ، ابْنُ أَمَتِكَ، فِي قَبْضَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِي حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِي قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَداً مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ نُورَ صَدْرِي، وَرَبِيْعَ قَلْبِي، وَجْلَاءَ حُزْنِي، وَذَهَابَ هَتِي.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনা আবদুকা, ইবনু আবদিকা, ইবনু আমাতিকা, ফি কাবজাতিকা, নাসিয়াতি বিয়াদিকা, মাজিন ফিয়্যা হুকমুকা, আদলুন ফিয়্যা কাজাউকা। আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন হুয়া লাকা, সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, আও আনজালতাহু فی کتابک, আও আল্লামতাহু আহাদান মিন খালকিকা, আও ইসতা'সারতা বিহি ফি ইলমিল গাইবি ইনদাকা আন তাজআলাল কুরআনা নুরা সাদরি, ওয়া রাবিআ কালবি, ওয়া যালাআ হুজনি, ওয়া জাহাবা হাম্মি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার গোলাম, আপনার গোলামের বেটা গোলাম, আপনার বান্দীর সন্তান গোলাম। আমি আপনার নিয়ন্ত্রণে, আমার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে। আমার মাঝে চলে আপনার বিধান, আমার বিষয়ে আপনার সিদ্ধান্ত ইনসাফপূর্ণ। আপনার সেসব নামের উসিলায় প্রার্থনা করি, যে নামসমূহ আপনি নিজে নিজের জন্য রেখেছেন। অথবা নিজের কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা অন্য কোন সৃষ্টিকে শিখিয়েছেন। অথবা নিজের অদৃশ্যের ভাণ্ডারে তুলে রেখেছেন। কুরআন মাজিদকে আমার আত্মার সালো, হৃদয়ের বসন্ত, দুঃখ নিবরাক ও দুশ্চিন্তা বিদূরক বানিয়ে দিন। ৪৫২
সর্বনাশায় নিপতিত হলে যে দুআ পড়বে (৩১৮) হজরত আলি রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
يَا عَلِيُّ أَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ إِذَا وَقَعْتَ فِي وَرْطَةٍ قُلْتَهَا؟ قُلْتُ: بَلَى، جَعَلَنِي اللهُ فَدَاكَ، قَالَ: إِذَا وَقَعْتَ فِي وَرْطَةٍ فَقُلْ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى يَصْرِفُ بِهَا مَا شَاءَ مِنْ أَنْوَاعِ الْبَلَاءِ.
অর্থ: হে আলি, তোমাকে কি এমন কথা শিক্ষা দেব যা তুমি সর্বনাশায় নিপতিত হলে পড়বে? আমি বললাম, জি, অবশ্যই শিখিয়ে দিন। আল্লাহ আমাকে আপনার তরে উৎসর্গীত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন সর্বনাশায় নিপতিত হবে, তখন এ দুআ পড়বে। এই দুআ পড়লে আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রকার বিপদাপদ দূর করে দিবেন। দুআটি হল-
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ.
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, ওয়া লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিয়ি‍্যল আজিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি অত্যন্ত দয়াপরবশ, বড় করুণাময়। মহান মর্যাদাবান আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা ও শক্তি নেই। ৪৫৩

টিকাঃ
৪৫০. আমাল: ৩৩৫, ইবনুস সুন্নি: আমাল: ৫৭, নাসাঈ।
৪৫১. সুনানে আবু দাউদ: ৩৮৯৩, সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৯। হাদিসটি হাসান।
৪৫২. ইবনুস সুন্নি: ৩৩৯। হাদিসটি হাসান।
৪৫৩. ইবনুস সুন্নি: ৩৩৬। এটি বানোয়াট।

ভয় পেলে যে দুআ পড়বে (৩১৫) হজরত সাওবান রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কিছু দেখে ভয় পেতেন, তখন এ দুআ পড়তেন- هُوَ اللَّهُ، اللَّهُ رَبِّي لَا شَرِيكَ لَهُ.
উচ্চারণ: হুয়াল্লাহু, আল্লাহু রাব্বি লা-শারিকালাহ।
অর্থ: তিনিই আল্লাহ, তিনি আমার প্রভু, তাঁর কোন শরিক নেই। ৪৫০
(৩১৬) হজরত আমর বিন শুআইব রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরامকে ভয়ের সময় পড়তে এই কালিমাগুলো শিখিয়েছেন- أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ، اَلتَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُوْنِ.
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাজাবিহি ওয়া শাররি ইবাদিহ। ওয়া মিন হামাজাতিশ শাইয়াতিনি ওয়া আন ইয়াহদুরুন।
অর্থ: আমি আল্লাহর পূর্ণ-দৃঢ় উক্তিসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি তার ক্রোধ থেকে, তার সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানের কুস্পর্শ ও উপস্থিতি থেকে। -আবদুল্লাহ বিন আমর রাদি. তাঁর বুঝমান সন্তানদেরকে এ দুআ মুখস্ত করাতেন। আর অবুঝ বাচ্চাদের গলায় কাগজে লেখে ঝুলিয়ে দিতেন। ৪৫১
দুঃশ্চিন্তা ও পেরেশান হলে যে দুআ পড়বে (৩১৭) হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি দুঃশ্চিন্তা ও পেরেশানিতে পড়ে যায়, সে যেন এই দুআগুলো পড়ে। তখন উপস্থিত এক সাহাবি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, এই বাক্যগুলো পড়া থেকে যে উদাসীনতা প্রদর্শন করল সে বাস্তবেই ক্ষতিগ্রস্থ। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। অতএব, তোমার এই বাক্যগুলো পড় এবং অন্যদেরকে শিক্ষা দাও। যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে এই বাক্যগুলো বলবে, আল্লাহ তাআলা তার সকল টেনশন দূর করে দিবেন এবং তাকে সুখী করবেন।
اللَّهُمَّ أَنَا عَبْدُكَ، ابْنُ عَبْدِكَ، ابْنُ أَمَتِكَ، فِي قَبْضَتِكَ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِي حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِي قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَداً مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ نُورَ صَدْرِي، وَرَبِيْعَ قَلْبِي، وَجْلَاءَ حُزْنِي، وَذَهَابَ هَتِي.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনা আবদুকা, ইবনু আবদিকা, ইবনু আমাতিকা, ফি কাবজাতিকা, নাসিয়াতি বিয়াদিকা, মাজিন ফিয়্যা হুকমুকা, আদলুন ফিয়্যা কাজাউকা। আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন হুয়া লাকা, সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, আও আনজালতাহু فی کتابک, আও আল্লামতাহু আহাদান মিন খালকিকা, আও ইসতা'সারতা বিহি ফি ইলমিল গাইবি ইনদাকা আন তাজআলাল কুরআনা নুরা সাদরি, ওয়া রাবিআ কালবি, ওয়া যালাআ হুজনি, ওয়া জাহাবা হাম্মি।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার গোলাম, আপনার গোলামের বেটা গোলাম, আপনার বান্দীর সন্তান গোলাম। আমি আপনার নিয়ন্ত্রণে, আমার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে। আমার মাঝে চলে আপনার বিধান, আমার বিষয়ে আপনার সিদ্ধান্ত ইনসাফপূর্ণ। আপনার সেসব নামের উসিলায় প্রার্থনা করি, যে নামসমূহ আপনি নিজে নিজের জন্য রেখেছেন। অথবা নিজের কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা অন্য কোন সৃষ্টিকে শিখিয়েছেন। অথবা নিজের অদৃশ্যের ভাণ্ডারে তুলে রেখেছেন। কুরআন মাজিদকে আমার আত্মার সালো, হৃদয়ের বসন্ত, দুঃখ নিবরাক ও দুশ্চিন্তা বিদূরক বানিয়ে দিন। ৪৫২
সর্বনাশায় নিপতিত হলে যে দুআ পড়বে (৩১৮) হজরত আলি রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
يَا عَلِيُّ أَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ إِذَا وَقَعْتَ فِي وَرْطَةٍ قُلْتَهَا؟ قُلْتُ: بَلَى، جَعَلَنِي اللهُ فَدَاكَ، قَالَ: إِذَا وَقَعْتَ فِي وَرْطَةٍ فَقُلْ : بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ. فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى يَصْرِفُ بِهَا مَا شَاءَ مِنْ أَنْوَاعِ الْبَلَاءِ.
অর্থ: হে আলি, তোমাকে কি এমন কথা শিক্ষা দেব যা তুমি সর্বনাশায় নিপতিত হলে পড়বে? আমি বললাম, জি, অবশ্যই শিখিয়ে দিন। আল্লাহ আমাকে আপনার তরে উৎসর্গীত করুন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন সর্বনাশায় নিপতিত হবে, তখন এ দুআ পড়বে। এই দুআ পড়লে আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রকার বিপদাপদ দূর করে দিবেন। দুআটি হল-
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ.
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, ওয়া লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিয়ি‍্যল আজিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি অত্যন্ত দয়াপরবশ, বড় করুণাময়। মহান মর্যাদাবান আল্লাহ ছাড়া আর কারো কোন ক্ষমতা ও শক্তি নেই। ৪৫৩

টিকাঃ
৪৫০. আমাল: ৩৩৫, ইবনুস সুন্নি: আমাল: ৫৭, নাসাঈ।
৪৫১. সুনানে আবু দাউদ: ৩৮৯৩, সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৯। হাদিসটি হাসান।
৪৫২. ইবনুস সুন্নি: ৩৩৯। হাদিসটি হাসান।
৪৫৩. ইবনুস সুন্নি: ৩৩৬। এটি বানোয়াট।

📘 আল আযকার > 📄 শত্রু ও বাদশাহকে ভয় পেলে যে দুআ পড়বে

📄 শত্রু ও বাদশাহকে ভয় পেলে যে দুআ পড়বে


কোন সমপ্রদায়কে ভয় পেলে যে দুআ পড়বে (৩১৯) হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সমপ্রদায়কে ভয় পেলে এই দুআ পড়তেন-
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ، وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহিম।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি দুশমনের দুশমনির মোকাবেলায় আপনাকে স্থাপন করেছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় কামনা করছি। ৪৫৪
বাদশাহকে ভয় পেলে যে দুআ পড়বে (৩২০) হজরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বাদশাহ বা অন্য কাউকে ভয় করলে এ দুআ পড়বে-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، عَزَّ جَارُكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ.
উচ্চারণ: লাইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিম, সুবহানাল্লাহি রাব্বাস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বাল আরদি ওয়া রাব্বাল আরশিল আজিম। লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আজ্জা যারুকা ওয়া জাল্লা সানাউকা।
অর্থ: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, যিনি অতি মহান অত্যন্ত সহনশীল। আসমান-জমিনের প্রতিপালক, মহান আরশের অধিপতির পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। আপনার আশ্রয় গ্রহণকারীর জয় হোক এবং আপনার মহিমা সমুচ্চ হোক। ৪৫৫-পূর্বে হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. থেকে বর্ণিত হাদিসও পড়া যেতে পারে।
শত্রুর দিকে তাকালে যে দুআ পড়বে (৩২১) হজরত আনাস রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, এক যুদ্ধে আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। শত্রুদের মুখোমুখি হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই দুআ পড়তে শুনেছি। এরপর আমি শত্রুদেরকে ধরাশায়ী হতে দেখেছি। তাদের সামনে-পেছনে ফেরেশতারা আঘাত করছিলেন। দুআটি হল-
يَا مَالِكَ يَوْمِ الدِّيْنِ إِيَّاكَ أَعْبُدُ وَإِيَّاكَ أَسْتَعِينُ.
উচ্চারণ: ইয়া মালিকি ইয়াউমিদ্দিন, ইয়্যাকা আ'বুদু ওয়া ইয়্যাকা আসতায়িন।
অর্থ: হে বিচার দিবসের মালিক, আমি আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই কাছে সাহায্য চাই। ৪৫৬ -পূর্বের অধ্যায়ের হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. এর বর্ণিত দুআটিও পড়া যায়।
শয়তানকে সামনে দেখলে বা শয়তানকে ভয় পেলে যে দুআ পড়বে
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ.
অর্থ: যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবে। তিনি সবকিছু শুনেন, জানেন। ৪৫৭ -আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-
وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَ بَيْنَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْآخِرَةِ حِجَابًا مَّسْتُورًا.
অর্থ: তুমি যখন কুরআন তিলাওয়াত করো, তখন তোমার ও যারা আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা ঢেলে দিই। ৪৫৮-তাই আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় চেয়ে কুরআনে কারিমের যতটুকু অংশ পড়া যায়, ততটুকু পড়া।
(৩২২) হজরত আবু দারদা রাদি. থেকে বর্ণিত আছে-
قَامَ رَسُوْلُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَمِعْنَاهُ يَقُوْلُ: أَعُوْذُ بِاللَّهِ، مِنْكَ، ثُمَّ قَالَ: أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ، ثَلَاثًا، وَبَسَطَ يَدَهُ كَأَنَّهُ يَتَنَاوَلُ شَيْئًا، فَلَمَّا فَرَغَ مِنَ الصَّلَاةِ. قُلْنَا : يَا رَسُوْلَ اللهِ ، قَدْ سَمِعْنَاكَ تَقُوْلُ فِي الصَّلَاةِ شَيْئًا لَمْ نَسْمَعْكَ تَقُوْلُهُ قَبْلَ ذَالِكَ، وَرَأَيْنَاكَ بَسَطْتَ يَدَكَ. قَالَ: إِنَّ عَدُوَّ اللَّهِ، إِبْلِيْسَ جَاءَ بِشِهَابٍ مِنْ نَارٍ؛ لِيَجْعَلَهُ فِي وَجْهِي، فَقُلْتُ: أَعُوْذُ بِاللَّهِ، مِنْكَ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. ثُمَّ قُلْتُ : أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ التَّامَّةِ فَلَمْ يَسْتَأْخِرْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَرَدْتُ أَخْذَهُ، وَاللهِ، لَوْلَا دَعْوَةُ أَخِيْنَا سُلَيْمَانَ لَأَصْبَحَ مُوْثَقًا يَلْعَبُ بِهِ وِلْدَانُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ.
অর্থ: তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার নামাজের জন্য দাঁড়ালেন। তখন তাকে তিনবার বলতে শুনলাম- أَعُوْذُ بِاللهِ، مِنْكَ (আউজুবিল্লাহি মিনকা: আমি তুমি শয়তান থেকে আল্লাহর পানাহ চাই) এরপর তিনি তিনবার বললেন, أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ (আলআনুকা বি-লানাতিল্লাহ: আমি তোমাকে (শয়তানকে) আল্লাহর নামে অভিশম্পাত করছি)। অতঃপর তিনি দুই হাত প্রসারিত করলেন, যেন তিনি কিছু ধরতে চাচ্ছেন। নামাজ থেকে ফারেগ হলে আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমরা আজ নামাজে আপনাকে এমন কিছু বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে শুনিনি। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শত্রু ইবলিশ সে উল্কাপিণ্ড নিয়ে আমার মুখে মারার জন্য এসেছিল। তখন আমি أَعُوْذُ بِاللهِ، مِنْكَ (আউজুবিল্লাহি মিনকা) তিনবার পড়লাম। এরপর أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ (আলআনুকা বি-লানাতিল্লাহ) তিন বার পড়লাম, এরপর আমি তাকে ধরার মনস্থ করলাম। আল্লাহর কসম! যদি আমার ভাই সুলাইমানের দুআ না থাকত, তাহলে তাকে বেঁধে রাখতাম, আর মদিনার ছেলেরা তাকে নিয়ে খেলা করত। ৪৫৯
(৩২৩) হজরত সুহাইল বিন আবু সালেহ রহ. বলেন-
أَرْسَلَنِي أَبِي إِلَى بَنِي حَارِثَةَ، قَالَ : وَمَعِي غُلَامُ لَنَا - أَوْ صَاحِبٌ لَنَا - فَنَادَاهُ مُنَادٍ مِنْ حَائِطٍ بِاسْمِهِ، وَأَشْرَفَ الَّذِي مَعِي عَلَى الْحَائِطِ، فَلَمْ يَرَ شَيْئًا، فَذَكَرْتُ ذلِكَ لِأَبِي، فَقَالَ: لَوْ شَعَرْتُ أَنَّكَ تَلْقَ هَذَا لَمْ أُرْسِلْكَ، وَلَكِنْ إِذَا سَمِعْتَ صَوْتًا فَنَادِ بِالصَّلَاةِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُوْلِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا نُوْدِيَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ.
অর্থ: আমার পিতা আমাকে বনু হারেসায় পাঠালেন। আমার সঙ্গে গোলাম বা সঙ্গি ছিলো। তখন দেয়ালের ওপর থেকে তার নাম ধরে কে যেন ডাক দিল। আমার সঙ্গিটি দেয়ালের ওপর গিয়ে দেখল, সেখানে কিছুই নেই। বাড়িতে এসে আমরা এ ঘটনাটি পিতাকে বললাম। তিনি বললেন, আমি যদি বুঝতে পারতাম, তুমি এরূপ ঘটনার সম্মুখীন হবে, তাহলে আমি তোমাকে পাঠাতাম না। কিন্তু তুমি যখন এরূপ আওয়াজ শুনবে তখন নামাজের আজান দিবে। আমি আবু হুরায়রা রাদি. এর কাছ থেকে শুনেছি। তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন শয়তান পালায়ন করে। ৪৬০

টিকাঃ
৪৫৪. সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৭, আমাল: ৬০১, নাসাঈ, আমাল: ৩৩৩, ইবনুস সুন্নি, সহিহ ইবনে হিব্বান: ২৩৪৩।
৪৫৫. ইবনুস সুন্নি: ৩৪৫।
৪৫৬. ইবনুস সুন্নি: ৩৩৪।
৪৫৭. হা, মিম আসসাজদাহ: ৩৬।
৪৫৮. সুরা ইসরা: ৪৫।
৪৫৯. সহিহ মুসলিম: ৫৪২, সুনানে নাসাঈ ৩/১৩।
৪৬০. সহিহ মুসলিম: ৩৮৯।

কোন সমপ্রদায়কে ভয় পেলে যে দুআ পড়বে (৩১৯) হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সমপ্রদায়কে ভয় পেলে এই দুআ পড়তেন-
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُوْرِهِمْ، وَنَعُوْذُ بِكَ مِنْ شُرُوْرِهِمْ.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউজুবিকা মিন শুরুরিহিম।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি দুশমনের দুশমনির মোকাবেলায় আপনাকে স্থাপন করেছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় কামনা করছি। ৪৫৪
বাদশাহকে ভয় পেলে যে দুআ পড়বে (৩২০) হজরত আবদুল্লাহ বিন উমর রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বাদশাহ বা অন্য কাউকে ভয় করলে এ দুআ পড়বে-
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، عَزَّ جَارُكَ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ.
উচ্চারণ: লাইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারিম, সুবহানাল্লাহি রাব্বাস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বাল আরদি ওয়া রাব্বাল আরশিল আজিম। লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আজ্জা যারুকা ওয়া জাল্লা সানাউকা।
অর্থ: আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই, যিনি অতি মহান অত্যন্ত সহনশীল। আসমান-জমিনের প্রতিপালক, মহান আরশের অধিপতির পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আপনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। আপনার আশ্রয় গ্রহণকারীর জয় হোক এবং আপনার মহিমা সমুচ্চ হোক। ৪৫৫-পূর্বে হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. থেকে বর্ণিত হাদিসও পড়া যেতে পারে।
শত্রুর দিকে তাকালে যে দুআ পড়বে (৩২১) হজরত আনাস রাদি. এর সূত্রে বর্ণিত, এক যুদ্ধে আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলাম। শত্রুদের মুখোমুখি হলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই দুআ পড়তে শুনেছি। এরপর আমি শত্রুদেরকে ধরাশায়ী হতে দেখেছি। তাদের সামনে-পেছনে ফেরেশতারা আঘাত করছিলেন। দুআটি হল-
يَا مَالِكَ يَوْمِ الدِّيْنِ إِيَّاكَ أَعْبُدُ وَإِيَّاكَ أَسْتَعِينُ.
উচ্চারণ: ইয়া মালিকি ইয়াউমিদ্দিন, ইয়্যাকা আ'বুদু ওয়া ইয়্যাকা আসতায়িন।
অর্থ: হে বিচার দিবসের মালিক, আমি আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই কাছে সাহায্য চাই। ৪৫৬ -পূর্বের অধ্যায়ের হজরত আবু মুসা আশআরি রাদি. এর বর্ণিত দুআটিও পড়া যায়।
শয়তানকে সামনে দেখলে বা শয়তানকে ভয় পেলে যে দুআ পড়বে
আল্লাহ তাআলা বলেন- وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَنِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ.
অর্থ: যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইবে। তিনি সবকিছু শুনেন, জানেন। ৪৫৭ -আল্লাহ তাআলা আরো বলেন-
وَإِذَا قَرَأْتَ الْقُرْآنَ جَعَلْنَا بَيْنَكَ وَ بَيْنَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْآخِرَةِ حِجَابًا مَّسْتُورًا.
অর্থ: তুমি যখন কুরআন তিলাওয়াত করো, তখন তোমার ও যারা আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস করে না তাদের মাঝে এক প্রচ্ছন্ন পর্দা ঢেলে দিই। ৪৫৮-তাই আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় চেয়ে কুরআনে কারিমের যতটুকু অংশ পড়া যায়, ততটুকু পড়া।
(৩২২) হজরত আবু দারদা রাদি. থেকে বর্ণিত আছে-
قَامَ رَسُوْلُ اللهِ، صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَمِعْنَاهُ يَقُوْلُ: أَعُوْذُ بِاللَّهِ، مِنْكَ، ثُمَّ قَالَ: أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ، ثَلَاثًا، وَبَسَطَ يَدَهُ كَأَنَّهُ يَتَنَاوَلُ شَيْئًا، فَلَمَّا فَرَغَ مِنَ الصَّلَاةِ. قُلْنَا : يَا رَسُوْلَ اللهِ ، قَدْ سَمِعْنَاكَ تَقُوْلُ فِي الصَّلَاةِ شَيْئًا لَمْ نَسْمَعْكَ تَقُوْلُهُ قَبْلَ ذَالِكَ، وَرَأَيْنَاكَ بَسَطْتَ يَدَكَ. قَالَ: إِنَّ عَدُوَّ اللَّهِ، إِبْلِيْسَ جَاءَ بِشِهَابٍ مِنْ نَارٍ؛ لِيَجْعَلَهُ فِي وَجْهِي، فَقُلْتُ: أَعُوْذُ بِاللَّهِ، مِنْكَ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. ثُمَّ قُلْتُ : أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ التَّامَّةِ فَلَمْ يَسْتَأْخِرْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَرَدْتُ أَخْذَهُ، وَاللهِ، لَوْلَا دَعْوَةُ أَخِيْنَا سُلَيْمَانَ لَأَصْبَحَ مُوْثَقًا يَلْعَبُ بِهِ وِلْدَانُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ.
অর্থ: তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার নামাজের জন্য দাঁড়ালেন। তখন তাকে তিনবার বলতে শুনলাম- أَعُوْذُ بِاللهِ، مِنْكَ (আউজুবিল্লাহি মিনকা: আমি তুমি শয়তান থেকে আল্লাহর পানাহ চাই) এরপর তিনি তিনবার বললেন, أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ (আলআনুকা বি-লানাতিল্লাহ: আমি তোমাকে (শয়তানকে) আল্লাহর নামে অভিশম্পাত করছি)। অতঃপর তিনি দুই হাত প্রসারিত করলেন, যেন তিনি কিছু ধরতে চাচ্ছেন। নামাজ থেকে ফারেগ হলে আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমরা আজ নামাজে আপনাকে এমন কিছু বলতে শুনেছি, যা ইতিপূর্বে শুনিনি। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শত্রু ইবলিশ সে উল্কাপিণ্ড নিয়ে আমার মুখে মারার জন্য এসেছিল। তখন আমি أَعُوْذُ بِاللهِ، مِنْكَ (আউজুবিল্লাহি মিনকা) তিনবার পড়লাম। এরপর أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللهِ (আলআনুকা বি-লানাতিল্লাহ) তিন বার পড়লাম, এরপর আমি তাকে ধরার মনস্থ করলাম। আল্লাহর কসম! যদি আমার ভাই সুলাইমানের দুআ না থাকত, তাহলে তাকে বেঁধে রাখতাম, আর মদিনার ছেলেরা তাকে নিয়ে খেলা করত। ৪৫৯
(৩২৩) হজরত সুহাইল বিন আবু সালেহ রহ. বলেন-
أَرْسَلَنِي أَبِي إِلَى بَنِي حَارِثَةَ، قَالَ : وَمَعِي غُلَامُ لَنَا - أَوْ صَاحِبٌ لَنَا - فَنَادَاهُ مُنَادٍ مِنْ حَائِطٍ بِاسْمِهِ، وَأَشْرَفَ الَّذِي مَعِي عَلَى الْحَائِطِ، فَلَمْ يَرَ شَيْئًا، فَذَكَرْتُ ذلِكَ لِأَبِي، فَقَالَ: لَوْ شَعَرْتُ أَنَّكَ تَلْقَ هَذَا لَمْ أُرْسِلْكَ، وَلَكِنْ إِذَا سَمِعْتَ صَوْتًا فَنَادِ بِالصَّلَاةِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُوْلِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ الشَّيْطَانَ إِذَا نُوْدِيَ بِالصَّلَاةِ أَدْبَرَ.
অর্থ: আমার পিতা আমাকে বনু হারেসায় পাঠালেন। আমার সঙ্গে গোলাম বা সঙ্গি ছিলো। তখন দেয়ালের ওপর থেকে তার নাম ধরে কে যেন ডাক দিল। আমার সঙ্গিটি দেয়ালের ওপর গিয়ে দেখল, সেখানে কিছুই নেই। বাড়িতে এসে আমরা এ ঘটনাটি পিতাকে বললাম। তিনি বললেন, আমি যদি বুঝতে পারতাম, তুমি এরূপ ঘটনার সম্মুখীন হবে, তাহলে আমি তোমাকে পাঠাতাম না। কিন্তু তুমি যখন এরূপ আওয়াজ শুনবে তখন নামাজের আজান দিবে। আমি আবু হুরায়রা রাদি. এর কাছ থেকে শুনেছি। তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন শয়তান পালায়ন করে। ৪৬০

টিকাঃ
৪৫৪. সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৭, আমাল: ৬০১, নাসাঈ, আমাল: ৩৩৩, ইবনুস সুন্নি, সহিহ ইবনে হিব্বান: ২৩৪৩।
৪৫৫. ইবনুস সুন্নি: ৩৪৫।
৪৫৬. ইবনুস সুন্নি: ৩৩৪।
৪৫৭. হা, মিম আসসাজদাহ: ৩৬।
৪৫৮. সুরা ইসরা: ৪৫।
৪৫৯. সহিহ মুসলিম: ৫৪২, সুনানে নাসাঈ ৩/১৩।
৪৬০. সহিহ মুসলিম: ৩৮৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00