📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আদ্ দাররু

📄 আদ্ দাররু


‘আদ দোররু’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি যখন যেভাবে ইচ্ছে কোনো বান্দার ক্ষতি করতে পারেন。
‘আন-নাফে” বলা হয় ওই সত্তাকে যার থেকে উভয় জাহানের সকল মঙ্গল ও কল্যাণ উৎসারিত হয়。
মহান আল্লাহ- যিনি দু’জাহানের সকল সৃষ্টিজীবকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দিয়েছেন- তিনি তাদের সর্বধরনের কল্যাণ-অকল্যাণের অধিপতি। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাদের লাভ-ক্ষতির মালিক নয়। যাকে ইচ্ছে তিনি ধনী বানিয়ে দেন। আর যাকে ইচ্ছে দারিদ্রের গহ্বরে ছুড়ে ফেলে দেন। কাউকে তিনি সুস্থ রাখেন; আবার কাউকে রোগ-শোকের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। তিনি যার মঙ্গল চান; হিদায়াতের পথে উঠিয়ে আনেন। আর যাকে ইচ্ছে কুফরি ও গুমরাহির কর্দমাক্ত জলাশয়ে নিক্ষেপ করেন。
বিশাল এই ব্রহ্মাণ্ডে তাঁর ইচ্ছের বাইরে কোনো কিছুই সংগঠিত হয় না。
তাঁর প্রজ্ঞাময় সিদ্ধান্তগুলোর রহস্য অন্য কেউ নয়; একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি কাউকে বিপদে ফেলেন এ উদ্দেশ্যে যে, হয়তো এর মাধ্যমে তার গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত হবে; অথবা পরকালে তার মর্যাদা অপেক্ষাকৃত বেড়ে যাবে; অথবা এর মাধ্যমে সে তাওবা ও ইসতিগফারের পথ খুঁজে পাবে。
এক আল্লাহই বান্দার সকল উপকার-অপকারের সিদ্ধান্তগ্রহণকারী; যখন একথা কোনো মুসলমান বিশ্বাস করবে তখন সে কখনই গায়রুল্লাহর দুয়ারে কড়া নাড়বে না। সে কোনো মানুষের সঙ্গে তার আশা-নিরাশার বন্ধন জুড়ে দেবে না। কোনো মাখলুক তার ছোট বা বড় কোনো প্রকার আস্থা-ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠবে না。
বরং সে তার জীবনের সবগুলো বিষয় এক আল্লাহর ওপরই সমর্পণ করবে। জীবনে চলার পথে কোনো অনাহূত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সে ধৈর্য ধারণ করবে। কারণ সে বিশ্বাস করে, আগামীতে আল্লাহ তার জন্যে রেখেছেন সৌভাগ্যের আবিরমাখা স্বস্তিময় জীবন।...
তুমি কি জানো?
প্রাচীন যুগে এক লোকের একটি বাগান ছিলো। বাগানটি ছিলো খুবই উর্বর। নদীর পাদদেশে গড়ে ওঠায় খুব সহজেই সেখানে পানি সিঞ্চন করা যেতো। সেই বাগানের ফল বিক্রি করে লোকটি প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে ওঠেছিলেন。
লোকটি ছিলেন গরিববন্ধু। অসহায়-মিসকিনদেরকে তিনি সেই বাগানের উৎপাদিত ফল ও অর্জিত মুনাফা থেকে অকাতরে দান করতেন। যার ফলে তাদের আন্তরিক দু'আও পেতেন。
একসময় সেই দানশীল লোকটি ইনতিকাল করেন। যার ফলে তার সন্তানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে বাগানটির মালিক হয়ে যায়। তারা গভীর মনোযোগের সঙ্গে বাগানটির পরিচর্যা করতে লাগলো। অবশেষে ঘনিয়ে এলো ফল পাকার সুসময়。
বাগানের মালিকপক্ষের মনে তখন অসৎ ভাবনা জট পাকাতে শুরু করলো। তারা পরস্পরে শলা-পরামর্শে বসলো। একজন বললো- আমরা আমাদের এই কষ্টার্জিত ফসলের একাংশ কেন গরিব-মিসকিনদেরকে দান করবো?
আরেকজন তার কথায় সায় দিয়ে বললো- হ্যাঁ, তাইতো। সারা বছর আমরা রোদে পুড়ে বাগানের পরিচর্যা করি। আর ওই গরিবগুলো গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ফল পাকার মৌসুম চলে এলেই তারা জটলা বেঁধে চলে আসে。
তখন তারা এ সিদ্ধান্ত নিলো যে, আমরা আগামী কাল অতি প্রত্যুষে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বাগানে চলে যাবো। সূর্যের আলো ফুটে ওঠার আগে সমুদয় ফল পেড়ে ঘরে নিয়ে আসবো। তাহলে হতোচ্ছাড়ারা শূন্য বাগানে এসে কিছুই পাবে না。
এভাবে কুটবুদ্ধি করে তারা প্রশান্ত চিত্তে ঘুমুতে গেলো। পরদিন সিদ্ধান্তমাফিক শেষ রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বাগানের পথ ধরলো। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা বাগানের সামনে এসে হাজির হলো。
কিন্তু একী! সোনার বাগান রাতের অন্ধকারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভস্মিভূত ফলগুলো থেকে বিকট গন্ধ বেরোচ্ছে। পুরো বাগান জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে তখনো ধোয়ার কুণ্ডুলি উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে。
তাদের মনে হলো, আমরা কি তবে রাতের অন্ধকারে ভুল স্থানে চলে এসেছি! আমাদের বাগানের তো এমন দৃশ্য হওয়ার কথা নয়।
চারপাশে গভীর দৃষ্টি মেলে তারা নিশ্চিত হলেন- না, আমরা আমাদের বাগানেই এসেছি। হতাশ হয়ে তারা তখন মাটিতে বসে পড়লেন。
এক ভাই তখন আফসোস জড়ানো কণ্ঠে বললেন- এটিই আমাদের বাগান। আসলে আল্লাহ তা'আলা আমাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছেন। তিনিই আমাদের বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছেন। কারণ আমরা এই বাগানের ফল থেকে গরিব-অসহায়দের বঞ্চিত করার ফন্দি এঁটেছিলাম। গতরাতেই আমি তোমাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তখন তোমরা আমার কথায় কর্ণপাত করো নি。
এ দৃশ্য দেখে তারা সবাই অনুতপ্ত হলো। অনুশোচনা ভরা কণ্ঠে তারা আল্লাহর কাছে হাত তুলে বললো- হে আল্লাহ! আপনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করুন। আমাদের তাওবা কবুল করুন। আমরা আপনার কাছে অঙ্গীকার করছি, আগামীতে কখনই গরিবদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবো না। আপনি আমাদের এ দু'আ কবুল করুন।...

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আন নাফে'

📄 আন নাফে'


‘আদ দোররু’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি যখন যেভাবে ইচ্ছে কোনো বান্দার ক্ষতি করতে পারেন。
‘আন-নাফে” বলা হয় ওই সত্তাকে যার থেকে উভয় জাহানের সকল মঙ্গল ও কল্যাণ উৎসারিত হয়。
মহান আল্লাহ- যিনি দু’জাহানের সকল সৃষ্টিজীবকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দিয়েছেন- তিনি তাদের সর্বধরনের কল্যাণ-অকল্যাণের অধিপতি। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাদের লাভ-ক্ষতির মালিক নয়। যাকে ইচ্ছে তিনি ধনী বানিয়ে দেন। আর যাকে ইচ্ছে দারিদ্রের গহ্বরে ছুড়ে ফেলে দেন। কাউকে তিনি সুস্থ রাখেন; আবার কাউকে রোগ-শোকের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। তিনি যার মঙ্গল চান; হিদায়াতের পথে উঠিয়ে আনেন। আর যাকে ইচ্ছে কুফরি ও গুমরাহির কর্দমাক্ত জলাশয়ে নিক্ষেপ করেন。
বিশাল এই ব্রহ্মাণ্ডে তাঁর ইচ্ছের বাইরে কোনো কিছুই সংগঠিত হয় না。
তাঁর প্রজ্ঞাময় সিদ্ধান্তগুলোর রহস্য অন্য কেউ নয়; একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি কাউকে বিপদে ফেলেন এ উদ্দেশ্যে যে, হয়তো এর মাধ্যমে তার গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত হবে; অথবা পরকালে তার মর্যাদা অপেক্ষাকৃত বেড়ে যাবে; অথবা এর মাধ্যমে সে তাওবা ও ইসতিগফারের পথ খুঁজে পাবে。
এক আল্লাহই বান্দার সকল উপকার-অপকারের সিদ্ধান্তগ্রহণকারী; যখন একথা কোনো মুসলমান বিশ্বাস করবে তখন সে কখনই গায়রুল্লাহর দুয়ারে কড়া নাড়বে না। সে কোনো মানুষের সঙ্গে তার আশা-নিরাশার বন্ধন জুড়ে দেবে না। কোনো মাখলুক তার ছোট বা বড় কোনো প্রকার আস্থা-ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠবে না。
বরং সে তার জীবনের সবগুলো বিষয় এক আল্লাহর ওপরই সমর্পণ করবে। জীবনে চলার পথে কোনো অনাহূত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সে ধৈর্য ধারণ করবে। কারণ সে বিশ্বাস করে, আগামীতে আল্লাহ তার জন্যে রেখেছেন সৌভাগ্যের আবিরমাখা স্বস্তিময় জীবন।...
তুমি কি জানো?
প্রাচীন যুগে এক লোকের একটি বাগান ছিলো। বাগানটি ছিলো খুবই উর্বর। নদীর পাদদেশে গড়ে ওঠায় খুব সহজেই সেখানে পানি সিঞ্চন করা যেতো। সেই বাগানের ফল বিক্রি করে লোকটি প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে ওঠেছিলেন。
লোকটি ছিলেন গরিববন্ধু। অসহায়-মিসকিনদেরকে তিনি সেই বাগানের উৎপাদিত ফল ও অর্জিত মুনাফা থেকে অকাতরে দান করতেন। যার ফলে তাদের আন্তরিক দু'আও পেতেন。
একসময় সেই দানশীল লোকটি ইনতিকাল করেন। যার ফলে তার সন্তানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে বাগানটির মালিক হয়ে যায়। তারা গভীর মনোযোগের সঙ্গে বাগানটির পরিচর্যা করতে লাগলো। অবশেষে ঘনিয়ে এলো ফল পাকার সুসময়。
বাগানের মালিকপক্ষের মনে তখন অসৎ ভাবনা জট পাকাতে শুরু করলো। তারা পরস্পরে শলা-পরামর্শে বসলো। একজন বললো- আমরা আমাদের এই কষ্টার্জিত ফসলের একাংশ কেন গরিব-মিসকিনদেরকে দান করবো?
আরেকজন তার কথায় সায় দিয়ে বললো- হ্যাঁ, তাইতো। সারা বছর আমরা রোদে পুড়ে বাগানের পরিচর্যা করি। আর ওই গরিবগুলো গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ফল পাকার মৌসুম চলে এলেই তারা জটলা বেঁধে চলে আসে。
তখন তারা এ সিদ্ধান্ত নিলো যে, আমরা আগামী কাল অতি প্রত্যুষে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বাগানে চলে যাবো। সূর্যের আলো ফুটে ওঠার আগে সমুদয় ফল পেড়ে ঘরে নিয়ে আসবো। তাহলে হতোচ্ছাড়ারা শূন্য বাগানে এসে কিছুই পাবে না。
এভাবে কুটবুদ্ধি করে তারা প্রশান্ত চিত্তে ঘুমুতে গেলো। পরদিন সিদ্ধান্তমাফিক শেষ রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বাগানের পথ ধরলো। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা বাগানের সামনে এসে হাজির হলো。
কিন্তু একী! সোনার বাগান রাতের অন্ধকারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভস্মিভূত ফলগুলো থেকে বিকট গন্ধ বেরোচ্ছে। পুরো বাগান জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে তখনো ধোয়ার কুণ্ডুলি উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে。
তাদের মনে হলো, আমরা কি তবে রাতের অন্ধকারে ভুল স্থানে চলে এসেছি! আমাদের বাগানের তো এমন দৃশ্য হওয়ার কথা নয়।
চারপাশে গভীর দৃষ্টি মেলে তারা নিশ্চিত হলেন- না, আমরা আমাদের বাগানেই এসেছি। হতাশ হয়ে তারা তখন মাটিতে বসে পড়লেন。
এক ভাই তখন আফসোস জড়ানো কণ্ঠে বললেন- এটিই আমাদের বাগান। আসলে আল্লাহ তা'আলা আমাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছেন। তিনিই আমাদের বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছেন। কারণ আমরা এই বাগানের ফল থেকে গরিব-অসহায়দের বঞ্চিত করার ফন্দি এঁটেছিলাম। গতরাতেই আমি তোমাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তখন তোমরা আমার কথায় কর্ণপাত করো নি。
এ দৃশ্য দেখে তারা সবাই অনুতপ্ত হলো। অনুশোচনা ভরা কণ্ঠে তারা আল্লাহর কাছে হাত তুলে বললো- হে আল্লাহ! আপনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করুন। আমাদের তাওবা কবুল করুন। আমরা আপনার কাছে অঙ্গীকার করছি, আগামীতে কখনই গরিবদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবো না। আপনি আমাদের এ দু'আ কবুল করুন।...

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আন নূর

📄 আন নূর


জগতের বুকে যতো আলো আছে তার স্রষ্টা আল্লাহ। এ পৃথিবীকে আলোকিত করার আয়োজনের অংশ হিসেবে তিনি সৃষ্টি করেছেন আলোময় সূর্য ও দীপ্ত চাঁদ। অন্ধকার থেকে তিনিই সেগুলোকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আনেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
اللَّهُ نُورُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ.
আল্লাহ তা'আলাই তাঁর হিদায়াতের আলো দিয়ে মানবহৃদয়গুলোকে সত্যের দিকে পরিচালিত করেন। তিনিই তো তাদের অন্তকরণে তাওহীদের বহ্নিশিখা জ্বেলেছেন। ইরশাদ করেছেন-
هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ آيْت بَيِّنَتٍ لِّيُخْرِجَكُمْ مِّنَ الظُّلُمتِ إلى النُّوْرِ.
একজন বান্দা যখন আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে এগিয়ে আসবে তখন তার অন্তর, কর্ণশক্তি ও শ্রবণশক্তির মাঝে আল্লাহর নূরের প্রকাশ ঘটবে। তখন দেখা যাবে- তার হাত একমাত্র হালাল পাত্রের ওপরই পড়ছে। তা পা শুধু ন্যায়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবে তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত সুবিবেচনা ও ভারসাম্যের দৃষ্টিতে গৃহীত হবে।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল হাদী

📄 আল হাদী


‘আল হাদী’-এর শাব্দিক অর্থ পথপ্রদর্শনকারী। আল্লাহ তা‘আলা মানবহৃদয়গুলোকে তাঁর মা‘রিফাতের দিকে পথ দেখান। এভাবে যে, তিনি জল-স্থলে তাঁকে চেনানোর মতো অসংখ্য আলামত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছেন। সেই বিক্ষিপ্ত আলামতগুলো আল্লাহর একক সত্তার জানান দেয়; তাঁর বড়ত্ব ও বিশালতার প্রমাণ বহন করে।
এছাড়াও মানবজাতিকে পথ দেখানোর জন্যে আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন; শত শত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। এভাবে তিনি হিদায়াতের আয়োজনের ষোলকলা পূর্ণ করেছেন।
এর বাইরে তিনি প্রতিটি মানুষকে দিয়েছেন সুস্থ প্রকৃতি ও বিশ্লেষণক্ষমতা। যে কোনো মানুষ তার সেই স্বভাবজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তার মানসপটে আল্লাহর একক সত্তার স্বচ্ছ পরিচয় ফুটে ওঠবে। কাজেই তাওহীদ চেনা ও জানার উপকরণের কোনো কমতি আল্লাহ রাখেন নি।
এর বাইরে আল্লাহ তা'আলা গুনাহগার বান্দাদেরকে তাওবা ও অনুশোচনার দিকেও পথ প্রদর্শন করেন। তিনি প্রাকৃতিক ও অতিপ্রাকৃতিক বিভিন্ন উপকরণের সহায়তার তার চোখের সামনে পাপের কদর্য দিকগুলো তুলে ধরেন; মেলে ধরেন আল্লাহর ক্ষমার সুবিশাল আঁচল। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে- الَّذِي أَعْطَى كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدُى

**আঙ্গুলের ছাপ**
পৃথিবীর বুকে কোটি কোটি মানুষ বসবাস করে থাকে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, একজন মানুষের আঙ্গুলের ছাপের সঙ্গে আরেকজনের আঙ্গুলের ছাপ কোনোদিনই মিলবে না। এমনকি একই সঙ্গে জন্মগ্রহণকরা দু'ভাইয়ের আঙ্গুলের ছাপও ভিন্ন। শুধু তাই নয়; একই হাতের এক আঙ্গুলের ছাপের সঙ্গে অন্য আঙ্গুলের ছাপও মিলবে না।
আধুনিক বিজ্ঞানে এ তথ্যও আবিস্কৃত হয়েছে যে, আঙ্গুলের সেই ছাপ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একই অবস্থায় থাকে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার আকার বড়-ছোট হওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পরিবর্তন হয় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00