📄 আল মানে'
'আল মানে' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি তার বান্দার ওপর থেকে কষ্টদায়ক জিনিসগুলোকে দূর করেন। যে বিষয়গুলো বান্দার দ্বীনদারিত্বের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবে; কিংবা তার শারীরিক বা মানসিক পীড়ার কারণ হবে সেগুলোকে তিনি প্রতিহত করেন। আল্লাহ তা'আলা সবসময় মুমিনদের পাশে থাকেন। সব সংকটে তিনি সহায়তা করেন। তিনি তাদেরকে শত্রুদের অনাচার থেকে রক্ষা করেন। তিনি বৈরীশক্তিকে মুমিনদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দেন না। এ কারনেই আমরা আল্লাহ তা'আলাকে 'আল মানে' হিসেবে বিশ্বাস করি।
আল্লাহ তা'আলা কখনো কখনো তার কোনো বান্দার ওপর থেকে দান উঠিয়ে নেন। এই উঠিয়ে নেয়াটা অনেকগুলো কারণে হতে পারে। যেমন, পরীক্ষার উদ্দেশ্যে উঠিয়ে নেন। অথবা হতে পারে ওই দানের কারণে সে কোনো অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়তে পারে; এজন্যে তিনি দানের দুয়ার সংকুচিত করে ফেলেন। এমন অনেকগুলো হিকমত রয়েছে -যার রহস্য তিনিই জানেন。
একজন মুমিন হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি- দান করা- না করার সর্বময় ক্ষমতা আল্লাহ। কাজেই আমরা আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে একমাত্র আল্লাহর দুয়ারের সঙ্গেই জড়িয়ে রাখবো। অন্য কারো কাছে আমরা আমাদের প্রার্থনার হাত বাড়াবো না。
মাটিতে গেঁথে গেলো অশ্ব
আল্লাহ তা'আলার অসীম কৃপায় কুরাইশদের কবল থেকে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর একমাত্র সঙ্গী হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাদি. বেঁচে গেলেন। সমবেত আক্রমণোদ্যত যুবক বাহিনীর দৃষ্টি এড়িয়ে তাঁরা বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি গুহায় আত্মগোপন করলেন।...
এ সংবাদ কুরাইশ শিবিরে অপমানের চাবুকের মতো আঘাত করলো। তারা তখন মরিয়া হয়ে ওঠলো। ঘোষণা করলো- ওই দু'জনকে জীবিত বা মৃত এনে দিতে পারলে এক শো উট পুরস্কার দেয়া হবে।...
বিশাল পুরস্কারের লোভে হতোদ্যম কুরাইশী যুবকগুলো নতুন করে চাঙা হয়ে ওঠলো। শুরু হলো তল্লাশি অভিযান। লোভাতুর চোখগুলো মক্কার আশপাশের পাহাড়গুলো তন্ন তন্ন করে খুঁজতে লাগলো। তাদেরই একজন ছিলেন সুরাকা বিন মালিক। তিনিও পুরস্কারের লোভে বেরিয়ে পড়লেন。
পায়ের চিহ্ন ধরে এগোতে লাগলেন। এক পর্যায়ে তিনি পেয়েও গেলেন। তার তাজাদম ঘোড়ার গতি মুহূর্তেই বেড়ে গেলো। আশাতুর চোখে ভেসে ওঠলো এক শো উট পুরস্কারের চকচকে দৃশ্য।... কিন্তু বিধিবাম...। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছোঁয়ার আগমুহূর্তে হঠাৎ তার ঘোড়ার সামনের দু' পা মাটিতে দেবে গেলো। আকস্মিক হোঁচটের তাল সইতে না পেরে সুরাকাও ঘোড়ার পিঠ থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে গেলেন。
তাতে কী! ধুলোয় ধুসরিত শরীর নিয়েই তিনি পুনরায় ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলেন। কিছু দূর সামনে অগ্রসর হতেই আবার সেই বিনা মেঘে বজ্রপাত। সমতল মরুতটে অকারণে আবার তার ঘোড়ার পা মাটিতে দেবে গেলো। তবে এবার সুরাকা কোনো মতে নিজেকে সামলে নির্ঘাত পতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে সমর্থ হলেন। কিন্তু ততোক্ষণে তার মনোজগতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গেছে。
বুদ্ধিমান সুরাকা বুঝতে পারলেন, স্বয়ং আল্লাহ তাঁর নবী ও তাঁর একমাত্র সহচর রক্ষার জন্যে তাঁকে কেন্দ্র করে এভাবে কুদরতি নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছেন। অন্যথায় এমনটি হওয়ার বাহ্যত কোনো কারণ নেই। সঙ্গে সঙ্গে তিনি আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে দু'হাত উপরের দিকে তুলে ধরলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি আত্মসমর্পণ করে আপনার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইছি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন। নিরাপত্তা দিন।...
দয়ার মূর্তপ্রতীক বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অপরাধ মার্জনা করে দিলেন। প্রাণের নিরাপত্তার কথাও জানিয়ে দিলেন। নিরাপত্তা পেয়ে আশ্বস্ত হলো সুরাকার অস্থির মন। ততোক্ষণে দু'চোখ থেকে লালসার উগ্র চাহিদা ঝরে পড়েছে। আস্তে আস্তে তিনি অবনত মস্তকে মক্কার পথ ধরলেন。
📄 আদ্ দাররু
‘আদ দোররু’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি যখন যেভাবে ইচ্ছে কোনো বান্দার ক্ষতি করতে পারেন。
‘আন-নাফে” বলা হয় ওই সত্তাকে যার থেকে উভয় জাহানের সকল মঙ্গল ও কল্যাণ উৎসারিত হয়。
মহান আল্লাহ- যিনি দু’জাহানের সকল সৃষ্টিজীবকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দিয়েছেন- তিনি তাদের সর্বধরনের কল্যাণ-অকল্যাণের অধিপতি। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাদের লাভ-ক্ষতির মালিক নয়। যাকে ইচ্ছে তিনি ধনী বানিয়ে দেন। আর যাকে ইচ্ছে দারিদ্রের গহ্বরে ছুড়ে ফেলে দেন। কাউকে তিনি সুস্থ রাখেন; আবার কাউকে রোগ-শোকের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। তিনি যার মঙ্গল চান; হিদায়াতের পথে উঠিয়ে আনেন। আর যাকে ইচ্ছে কুফরি ও গুমরাহির কর্দমাক্ত জলাশয়ে নিক্ষেপ করেন。
বিশাল এই ব্রহ্মাণ্ডে তাঁর ইচ্ছের বাইরে কোনো কিছুই সংগঠিত হয় না。
তাঁর প্রজ্ঞাময় সিদ্ধান্তগুলোর রহস্য অন্য কেউ নয়; একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি কাউকে বিপদে ফেলেন এ উদ্দেশ্যে যে, হয়তো এর মাধ্যমে তার গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত হবে; অথবা পরকালে তার মর্যাদা অপেক্ষাকৃত বেড়ে যাবে; অথবা এর মাধ্যমে সে তাওবা ও ইসতিগফারের পথ খুঁজে পাবে。
এক আল্লাহই বান্দার সকল উপকার-অপকারের সিদ্ধান্তগ্রহণকারী; যখন একথা কোনো মুসলমান বিশ্বাস করবে তখন সে কখনই গায়রুল্লাহর দুয়ারে কড়া নাড়বে না। সে কোনো মানুষের সঙ্গে তার আশা-নিরাশার বন্ধন জুড়ে দেবে না। কোনো মাখলুক তার ছোট বা বড় কোনো প্রকার আস্থা-ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠবে না。
বরং সে তার জীবনের সবগুলো বিষয় এক আল্লাহর ওপরই সমর্পণ করবে। জীবনে চলার পথে কোনো অনাহূত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সে ধৈর্য ধারণ করবে। কারণ সে বিশ্বাস করে, আগামীতে আল্লাহ তার জন্যে রেখেছেন সৌভাগ্যের আবিরমাখা স্বস্তিময় জীবন।...
তুমি কি জানো?
প্রাচীন যুগে এক লোকের একটি বাগান ছিলো। বাগানটি ছিলো খুবই উর্বর। নদীর পাদদেশে গড়ে ওঠায় খুব সহজেই সেখানে পানি সিঞ্চন করা যেতো। সেই বাগানের ফল বিক্রি করে লোকটি প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে ওঠেছিলেন。
লোকটি ছিলেন গরিববন্ধু। অসহায়-মিসকিনদেরকে তিনি সেই বাগানের উৎপাদিত ফল ও অর্জিত মুনাফা থেকে অকাতরে দান করতেন। যার ফলে তাদের আন্তরিক দু'আও পেতেন。
একসময় সেই দানশীল লোকটি ইনতিকাল করেন। যার ফলে তার সন্তানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে বাগানটির মালিক হয়ে যায়। তারা গভীর মনোযোগের সঙ্গে বাগানটির পরিচর্যা করতে লাগলো। অবশেষে ঘনিয়ে এলো ফল পাকার সুসময়。
বাগানের মালিকপক্ষের মনে তখন অসৎ ভাবনা জট পাকাতে শুরু করলো। তারা পরস্পরে শলা-পরামর্শে বসলো। একজন বললো- আমরা আমাদের এই কষ্টার্জিত ফসলের একাংশ কেন গরিব-মিসকিনদেরকে দান করবো?
আরেকজন তার কথায় সায় দিয়ে বললো- হ্যাঁ, তাইতো। সারা বছর আমরা রোদে পুড়ে বাগানের পরিচর্যা করি। আর ওই গরিবগুলো গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ফল পাকার মৌসুম চলে এলেই তারা জটলা বেঁধে চলে আসে。
তখন তারা এ সিদ্ধান্ত নিলো যে, আমরা আগামী কাল অতি প্রত্যুষে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বাগানে চলে যাবো। সূর্যের আলো ফুটে ওঠার আগে সমুদয় ফল পেড়ে ঘরে নিয়ে আসবো। তাহলে হতোচ্ছাড়ারা শূন্য বাগানে এসে কিছুই পাবে না。
এভাবে কুটবুদ্ধি করে তারা প্রশান্ত চিত্তে ঘুমুতে গেলো। পরদিন সিদ্ধান্তমাফিক শেষ রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বাগানের পথ ধরলো। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা বাগানের সামনে এসে হাজির হলো。
কিন্তু একী! সোনার বাগান রাতের অন্ধকারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভস্মিভূত ফলগুলো থেকে বিকট গন্ধ বেরোচ্ছে। পুরো বাগান জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে তখনো ধোয়ার কুণ্ডুলি উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে。
তাদের মনে হলো, আমরা কি তবে রাতের অন্ধকারে ভুল স্থানে চলে এসেছি! আমাদের বাগানের তো এমন দৃশ্য হওয়ার কথা নয়।
চারপাশে গভীর দৃষ্টি মেলে তারা নিশ্চিত হলেন- না, আমরা আমাদের বাগানেই এসেছি। হতাশ হয়ে তারা তখন মাটিতে বসে পড়লেন。
এক ভাই তখন আফসোস জড়ানো কণ্ঠে বললেন- এটিই আমাদের বাগান। আসলে আল্লাহ তা'আলা আমাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছেন। তিনিই আমাদের বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছেন। কারণ আমরা এই বাগানের ফল থেকে গরিব-অসহায়দের বঞ্চিত করার ফন্দি এঁটেছিলাম। গতরাতেই আমি তোমাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তখন তোমরা আমার কথায় কর্ণপাত করো নি。
এ দৃশ্য দেখে তারা সবাই অনুতপ্ত হলো। অনুশোচনা ভরা কণ্ঠে তারা আল্লাহর কাছে হাত তুলে বললো- হে আল্লাহ! আপনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করুন। আমাদের তাওবা কবুল করুন। আমরা আপনার কাছে অঙ্গীকার করছি, আগামীতে কখনই গরিবদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবো না। আপনি আমাদের এ দু'আ কবুল করুন।...
📄 আন নাফে'
‘আদ দোররু’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি যখন যেভাবে ইচ্ছে কোনো বান্দার ক্ষতি করতে পারেন。
‘আন-নাফে” বলা হয় ওই সত্তাকে যার থেকে উভয় জাহানের সকল মঙ্গল ও কল্যাণ উৎসারিত হয়。
মহান আল্লাহ- যিনি দু’জাহানের সকল সৃষ্টিজীবকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দিয়েছেন- তিনি তাদের সর্বধরনের কল্যাণ-অকল্যাণের অধিপতি। তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাদের লাভ-ক্ষতির মালিক নয়। যাকে ইচ্ছে তিনি ধনী বানিয়ে দেন। আর যাকে ইচ্ছে দারিদ্রের গহ্বরে ছুড়ে ফেলে দেন। কাউকে তিনি সুস্থ রাখেন; আবার কাউকে রোগ-শোকের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। তিনি যার মঙ্গল চান; হিদায়াতের পথে উঠিয়ে আনেন। আর যাকে ইচ্ছে কুফরি ও গুমরাহির কর্দমাক্ত জলাশয়ে নিক্ষেপ করেন。
বিশাল এই ব্রহ্মাণ্ডে তাঁর ইচ্ছের বাইরে কোনো কিছুই সংগঠিত হয় না。
তাঁর প্রজ্ঞাময় সিদ্ধান্তগুলোর রহস্য অন্য কেউ নয়; একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি কাউকে বিপদে ফেলেন এ উদ্দেশ্যে যে, হয়তো এর মাধ্যমে তার গুনাহের প্রায়শ্চিত্ত হবে; অথবা পরকালে তার মর্যাদা অপেক্ষাকৃত বেড়ে যাবে; অথবা এর মাধ্যমে সে তাওবা ও ইসতিগফারের পথ খুঁজে পাবে。
এক আল্লাহই বান্দার সকল উপকার-অপকারের সিদ্ধান্তগ্রহণকারী; যখন একথা কোনো মুসলমান বিশ্বাস করবে তখন সে কখনই গায়রুল্লাহর দুয়ারে কড়া নাড়বে না। সে কোনো মানুষের সঙ্গে তার আশা-নিরাশার বন্ধন জুড়ে দেবে না। কোনো মাখলুক তার ছোট বা বড় কোনো প্রকার আস্থা-ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠবে না。
বরং সে তার জীবনের সবগুলো বিষয় এক আল্লাহর ওপরই সমর্পণ করবে। জীবনে চলার পথে কোনো অনাহূত পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সে ধৈর্য ধারণ করবে। কারণ সে বিশ্বাস করে, আগামীতে আল্লাহ তার জন্যে রেখেছেন সৌভাগ্যের আবিরমাখা স্বস্তিময় জীবন।...
তুমি কি জানো?
প্রাচীন যুগে এক লোকের একটি বাগান ছিলো। বাগানটি ছিলো খুবই উর্বর। নদীর পাদদেশে গড়ে ওঠায় খুব সহজেই সেখানে পানি সিঞ্চন করা যেতো। সেই বাগানের ফল বিক্রি করে লোকটি প্রচুর অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে ওঠেছিলেন。
লোকটি ছিলেন গরিববন্ধু। অসহায়-মিসকিনদেরকে তিনি সেই বাগানের উৎপাদিত ফল ও অর্জিত মুনাফা থেকে অকাতরে দান করতেন। যার ফলে তাদের আন্তরিক দু'আও পেতেন。
একসময় সেই দানশীল লোকটি ইনতিকাল করেন। যার ফলে তার সন্তানগণ উত্তরাধিকারসূত্রে বাগানটির মালিক হয়ে যায়। তারা গভীর মনোযোগের সঙ্গে বাগানটির পরিচর্যা করতে লাগলো। অবশেষে ঘনিয়ে এলো ফল পাকার সুসময়。
বাগানের মালিকপক্ষের মনে তখন অসৎ ভাবনা জট পাকাতে শুরু করলো। তারা পরস্পরে শলা-পরামর্শে বসলো। একজন বললো- আমরা আমাদের এই কষ্টার্জিত ফসলের একাংশ কেন গরিব-মিসকিনদেরকে দান করবো?
আরেকজন তার কথায় সায় দিয়ে বললো- হ্যাঁ, তাইতো। সারা বছর আমরা রোদে পুড়ে বাগানের পরিচর্যা করি। আর ওই গরিবগুলো গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়। ফল পাকার মৌসুম চলে এলেই তারা জটলা বেঁধে চলে আসে。
তখন তারা এ সিদ্ধান্ত নিলো যে, আমরা আগামী কাল অতি প্রত্যুষে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বাগানে চলে যাবো। সূর্যের আলো ফুটে ওঠার আগে সমুদয় ফল পেড়ে ঘরে নিয়ে আসবো। তাহলে হতোচ্ছাড়ারা শূন্য বাগানে এসে কিছুই পাবে না。
এভাবে কুটবুদ্ধি করে তারা প্রশান্ত চিত্তে ঘুমুতে গেলো। পরদিন সিদ্ধান্তমাফিক শেষ রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বাগানের পথ ধরলো। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা বাগানের সামনে এসে হাজির হলো。
কিন্তু একী! সোনার বাগান রাতের অন্ধকারে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভস্মিভূত ফলগুলো থেকে বিকট গন্ধ বেরোচ্ছে। পুরো বাগান জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে তখনো ধোয়ার কুণ্ডুলি উপরের দিকে উঠে যাচ্ছে。
তাদের মনে হলো, আমরা কি তবে রাতের অন্ধকারে ভুল স্থানে চলে এসেছি! আমাদের বাগানের তো এমন দৃশ্য হওয়ার কথা নয়।
চারপাশে গভীর দৃষ্টি মেলে তারা নিশ্চিত হলেন- না, আমরা আমাদের বাগানেই এসেছি। হতাশ হয়ে তারা তখন মাটিতে বসে পড়লেন。
এক ভাই তখন আফসোস জড়ানো কণ্ঠে বললেন- এটিই আমাদের বাগান। আসলে আল্লাহ তা'আলা আমাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছেন। তিনিই আমাদের বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছেন। কারণ আমরা এই বাগানের ফল থেকে গরিব-অসহায়দের বঞ্চিত করার ফন্দি এঁটেছিলাম। গতরাতেই আমি তোমাদেরকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তখন তোমরা আমার কথায় কর্ণপাত করো নি。
এ দৃশ্য দেখে তারা সবাই অনুতপ্ত হলো। অনুশোচনা ভরা কণ্ঠে তারা আল্লাহর কাছে হাত তুলে বললো- হে আল্লাহ! আপনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করুন। আমাদের তাওবা কবুল করুন। আমরা আপনার কাছে অঙ্গীকার করছি, আগামীতে কখনই গরিবদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবো না। আপনি আমাদের এ দু'আ কবুল করুন।...
📄 আন নূর
জগতের বুকে যতো আলো আছে তার স্রষ্টা আল্লাহ। এ পৃথিবীকে আলোকিত করার আয়োজনের অংশ হিসেবে তিনি সৃষ্টি করেছেন আলোময় সূর্য ও দীপ্ত চাঁদ। অন্ধকার থেকে তিনিই সেগুলোকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আনেন। কুরআন কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
اللَّهُ نُورُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ.
আল্লাহ তা'আলাই তাঁর হিদায়াতের আলো দিয়ে মানবহৃদয়গুলোকে সত্যের দিকে পরিচালিত করেন। তিনিই তো তাদের অন্তকরণে তাওহীদের বহ্নিশিখা জ্বেলেছেন। ইরশাদ করেছেন-
هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ آيْت بَيِّنَتٍ لِّيُخْرِجَكُمْ مِّنَ الظُّلُمتِ إلى النُّوْرِ.
একজন বান্দা যখন আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে এগিয়ে আসবে তখন তার অন্তর, কর্ণশক্তি ও শ্রবণশক্তির মাঝে আল্লাহর নূরের প্রকাশ ঘটবে। তখন দেখা যাবে- তার হাত একমাত্র হালাল পাত্রের ওপরই পড়ছে। তা পা শুধু ন্যায়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। এভাবে তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত সুবিবেচনা ও ভারসাম্যের দৃষ্টিতে গৃহীত হবে।