📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 যুল জালালি ওয়াল ইকরাম

📄 যুল জালালি ওয়াল ইকরাম


‘যুল জালালি ওয়াল ইকরাম’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি অতি উচ্চ বড়ত্ব, সর্বোচ্চ শ্রেষ্ঠত্ব ও মহামর্যাদার অধিকারী। যাঁর নে'আমতের ছায়াতলে সমগ্র সৃষ্টিজগতের বসবাস। কুরআন কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ ، وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ والإكرام
যমীনের উপর যা কিছু রয়েছে, সবই ধ্বংসশীল। আর থেকে যাবে শুধু মহামহিম ও মহানুভব তোমার রবের চেহারা। [সূরা আর রহমান : ২৬-২৭]
এ বৈশিষ্ট্যটি আল্লাহ তা'আলা নিজের জন্যে এমনভাবে নির্দিষ্ট করে নিয়েছেন যে, অন্য কোনো সৃষ্টিজীবের সেখানে বিন্দু পরিমাণও অংশগ্রহণ নেই。
কাজেই সকল প্রতাপ একমাত্র আল্লাহর। সকল পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহ। সকল সম্মান ও আভিজাত্য শুধু আল্লাহর। বান্দার জীবনে যতো নে'আমতের উপস্থিতি তার সমুদয় আল্লাহর দান。
কাজেই একজন বান্দা হিসেবে আমার করণীয় হলো, আমি আল্লাহর প্রতীকগুলোর প্রতিও সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবো। আল্লাহর দেয়া আসমানী কিতাবগুলোকে; তাঁর ঘর মসজিদ; তাঁর বন্ধু আউলিয়া কেরামকে সম্মান করবো। আমার কোনো কথা বা কাজের মাধ্যমে যেন সেগুলোর সম্মানহানী না হয় তার প্রতি সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখবো。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মুকসিত

📄 আল মুকসিত


'আল মুক্বসিত' বলা হয় ওই ব্যক্তিকে যিনি তার বিধানের ক্ষেত্রে সবসময় ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখেন। যিনি মজলুমের হৃত অধিকার জালিমের কাছ থেকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেন। অতঃপর যখন সেই জালিম ব্যক্তি তার কৃতকর্মের ওপর অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করে তখন আল্লাহ তা'আলাও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দান করেন। এটাই তো ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতার অনুপম দৃষ্টান্ত。
আল্লাহ তা'আলা বান্দাদেরকেও জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি কুরআনে কারীমে সাম্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরশাদ করেছেন-
وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
এবং ন্যায়বিচার কর। নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালবাসেন। [সূরা হুজুরাত : ৯]
সত্যিকার মুসলমান কখনই অবিচার ও অন্যায্য করতে পারে না। প্রতিটি অধিকারকে তার যোগ্য পাত্রের হাতে অর্পণ করা ইসলামের অন্যতম প্রতীক। কেননা ইসলামের শিক্ষা হলো, শত্রু ও বিরুদ্ধবাদীদের সঙ্গেও ইনসাফ বজায় রাখতে হবে। এমনকি যদি কারো সঙ্গে দ্বীন ও আক্বিদার ক্ষেত্রে মতভিন্নতা থাকে তার সঙ্গেও অন্যায় করা যাবে না। কেননা এক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে অন্যায় করার অর্থ হলো, তাদেরকে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। পক্ষান্তরে তাদের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করা হলে সেটি তাদেরকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে আসবে。
গভর্নরের ছেলে
তখন খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রাদি.-এর শাসন চলছে। একদিন এক মিসরী ব্যক্তি রাজধানী মদীনায় এসে সোজা আমিরুল মুমিনীনের দরবারে হাজির হয়ে গেলো। লোকটি এসেছিলো একটি অভিযোগ নিয়ে। কী অভিযোগ?
'হে আমিরুল মুমিনীন! আমি মিসরের একজন সাধারণ নাগরিক। একবার সেখানকার গভর্নর আমর ইবনুল আস রাদি.-এর ছেলের সঙ্গে একটি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। যেখানে সে আমার কাছে হেরে যায়। আমার কাছে এভাবে পরাজিত হওয়াটা সে মেনে নিতে পারেনি। উত্তেজিত হয়ে সে দোররা হাতে নিয়ে আমাকে মারতে শুরু করে। সে তখন আমাকে গালাগাল করে বলে-
এতো বড় দুঃসাহস! আমাকে অপমান করার সাহস কোথেকে হলো? আমি হলাম সম্মানিত অভিজাত ঘরের ছেলে। কীভাবে এক পুচকে ছেলে আমাকে হারিয়ে দেয়?
অভিযোগ শুনে হযরত উমর রাদি. খুবই ক্ষুদ্ধ হলেন। জরুরী ভিত্তিতে তিনি হযরত আমর রাদি. ও তাঁর ছেলেকে মদীনায় তলব করলেন। খলীফার ফরমান পেয়ে তারা দ্রুত হাজির হয়ে গেলেন। তখন হযরত উমর রাদি. মিসরীয় লোকটিকে ডেকে তার হাতে একটি দোররা তুলে দিয়ে বললেন-
'তোমাকে যে লোক মেরেছিলো আজ তুমি নিজ হাতে তাকে প্রহার করো।'
মিসরী লোকটি দোররা হাতে নিয়ে সবার সামনেই গভর্নরের ছেলেকে প্রহার করলো। তার দোররার প্রতিটি আঘাতের সময় আমিরুল মুমিনীন বলতেন-
'মারো! ভালো করে মারো। মেরে অভিজাত ঘরের ছেলেটির পিঠের ছাল তুলে ফেলো।'
মিসরীয় লোকটি যখন ক্ষ্যান্ত হলো তখন আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর রাদি. তার হাত থেকে দোররা তুলে নিয়ে বললেন, 'এখন আমি গভর্নরকে মারবো।'
লোকটি তখন বললো- হে আমিরুল মুমিনীন! গভর্নরের তো কোনো দোষ নেই। আমাকে তার ছেলে মেরেছিলো। আমি তো আজ তার বিচার পেয়ে গেছি!
হযরত উমর রাদি. তার কথার উত্তর না দিয়ে সরাসরি হযরত আমর ইবনুল আস রাদি.-কে বললেন-
তোমরা আর কত দিন ওই মানুষদের দাস বানিয়ে রাখবে যারা তাদের মায়ের গর্ভ থেকে স্বাধীন হয়ে জন্ম গ্রহণ করেছে?
হযরত আমর ইবনুল আস রাদি. তখন আত্মপক্ষ সমর্থন করে বললেন- 'হে আমিরুল মুমিনীন! যা ঘটেছে তার সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। ওই লোকটি আমার কাছে তার অভিযোগের কথা বলেনি। যদি সে আমার কাছে আসতো তাহলে অবশ্যই আমি তার প্রতিকার করতাম।'

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল জামে'

📄 আল জামে'


'আল জামে'-এর শাব্দিক অর্থ একত্রকারী। এটি আল্লাহ তা'আলার অন্যতম গুণবাচক নাম। কারণ 'আল জামে' বলা হয় ওই সত্তাকে;
- যার মাঝে সকল পূর্ণতা, প্রতাপ, বদান্যতা, সৌমার্য্য ইত্যকার গুণাবলির এমন সমাহার ঘটেছে; যা আর অন্য কারো মাঝে নেই。
- যিনি তার সৃষ্টিজীবের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো — যেগুলো পঁচে-গলে ধ্বংস হয়ে বিভিন্ন স্থানের মাটির সঙ্গে মিশে গেছে— সেগুলোকে আবার একত্র করবেন। শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া, সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া আর মাটির সঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়া সৃষ্টিজীবকে পুনরুজ্জীবিত করে হাশরের ময়দানে উপস্থিত করবেন。
- যিনি হিসাব-নিকাশ গ্রহণের দিন পৃথিবীর প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি মানুষকে কেয়ামতের ময়দানে একত্র করবেন。
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন。
رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَا رَيْبَ فِيهِ
হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি মানুষকে সমবেত করবেন এমন একদিন, যাতে কোন সন্দেহ নেই। [সূরা আলে ইমরান: ৯]
- যিনি মানবঅন্তরে পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও হৃদ্যতা গড়ে তোলেন। আল্লাহর দেয়া সেই সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিণতিতে আজ আমরা একজন অপরজনের প্রতি হৃদয়ের টান অনুভব করি。
একজন মুসলমান যখন আল্লাহ তা'আলার এই ব্যাপক অর্থবোধক গুণবাচক নামটির সংজ্ঞা ও পরিচিতি হৃদয়ে ধারণ করবে তখন তার মনে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও নির্ভরতা গেঁথে যাবে। সে বিশ্বাস করবে- নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দার তিল পরিমাণ আমলও নষ্ট করবেন না। প্রত্যেককে তার নির্ধারিত প্রাপ্য যথাসময় বুঝিয়ে দেবেন。
আল্লাহর এক সৎ বান্দার ঘটনা
একবার আল্লাহর কোনো এক সম্মানিত বান্দা নিজের গাধার ওপর চড়ে একটি বিধ্বস্ত জনপদের ধ্বংসস্তুপের ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে কোনো বাড়ি-ঘর বা লোক-জন ছিলো না। তবে মুছে যাওয়া বিভিন্ন চিহ্ন সাক্ষ্য দিচ্ছিলো একসময়ের কোলাহলমুখর জনবসতির স্মৃতিকথা。
বুযুর্গ তখন এ দৃশ্য দেখে বিস্ময়ে ভাবতে লাগলেন যে, এই ধ্বংসস্তুপ এই বিধ্বস্ত বিরান জনপদ আবার কিভাবে আবাদ হবে? এই মৃত জনপদ আবার কিভাবে প্রাণ ফিরে পাবে? এখানে তো বাহ্যিকভাবে কোনো উপকরণ বা মাধ্যম দেখতে পাচ্ছি না。
সেই বুযুর্গ ওই ভাবনার মাঝে নিমজ্জিত থাকা অবস্থাতেই মহান আল্লাহ ওই স্থানেই তার রুহ কবজ করে ফেললেন এবং তাকে এক শো বছর ওই অবস্থাতেই রেখে দিলেন। এই দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাকে দ্বিতীয়বার জীবন দান করলেন। এরপর তাকে বললেন, বলো, কতোক্ষণ তুমি এ অবস্থায় ছিলে?
লোকটি প্রথম যখন বিস্মিত অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলো, তখন ছিলো বেলা শুরুর মুহূর্ত। আর যখন সে দ্বিতীয়বার জীবন ফিরে পায়, তখন পশ্চিমাকাশের সূর্য ডুবু ডুবু করছিলো। যার কারণে তিনি উত্তর দিলেন, একদিন বা তারও কম সময়。
আল্লাহ বললেন, এমন নয়। বরং তুমি এ অবস্থায় এক শো বছর কাটিয়ে দিয়েছো। এতে যদি তুমি বিস্মিত বোধ করো, তাহলে তার প্রমাণ দেখো। তোমার একদিকে তোমার ফেলে রাখা খাদ্যসামগ্রী রয়েছে। সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য করো, সেখানে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি। তোমার অন্যদিকে তোমার গাধার প্রতি লক্ষ্য করো, তার দেহ পঁচে-গলে কেবলমাত্র কিছু হাড়-গোড়ের কাঠামো বাকি আছে। এর থেকে তুমি আমার কুদরতের আন্দায করে নিতে পারো। যে জিনিসটি আমি সুরক্ষিত রাখতে চেয়েছি, এক শো বছরের দীর্ঘ সময়ে কোনো মৌসুমি পরিবর্তন তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। অবিকল ও অক্ষুন্ন থাকতে পেরেছে। আর যে জিনিসের ক্ষেত্রে আমি ইচ্ছে করেছি, তা পঁচে গলে যাক, তা-ই হয়েছে। আর তোমার চোখের সামনে তোমাকে দ্বিতীয়বার জীবন দান করেছি。
এতো কিছু করার কারণ হলো, আমি তোমাকে ও তোমার এ ঘটনাকে লোকদের জন্যে ‘নিদর্শন’ বানাতে চাই। যাতে করে তুমি বিশ্বাসের সাথে প্রত্যক্ষ করো যে, আল্লাহ তা'আলা এভাবেই মৃতকে জীবন দান করেন এবং ধ্বংস হওয়া বস্তুকে দ্বিতীয়বার আবাদ করেন。
আল্লাহর মহান সেই বান্দা ওই কুদরতি নিশান দেখার পর যখন সামনের নগরীর দিকে লক্ষ্য করেন, তখন সেটিকে পূর্বাপেক্ষা অধিক জনবহুল দেখতে পান। সাথে সাথে তিনি আল্লাহর কাছে নিজের দাসত্ব প্রকাশ করে স্বীকার করেন যে, নিঃসন্দেহের তোমার কুদরতে কামেলার পক্ষে এগুলো অত্যন্ত সহজ কাজ。
কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
‎ أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا ۚ قَالَ أَنَّى يُحْيِ ‎ هُذِهِ اللَّهُ بَعْدَ مَوْتِهَا فَأَمَاتَهُ اللَّهُ مِائَةَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهُ قَالَ كَمْ لَبِثْتَ ‎ قَالَ لَبِثْتُ يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالَ بَلْ لَبِثْتَ مِائَةَ عَامٍ فَانْظُرُ إِلَى ‎ طَعَامِكَ وَشَرَابِكَ لَمْ يَتَسَنَّهُ وَانْظُرُ إِلَى حِمَارِكَ وَلِنَجْعَلَكَ آيَةً ‎ لِلنَّاسِ وَانْظُرُ إِلَى الْعِظَامِ كَيْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوهَا لَحْمًا فَلَمَّا تَبَيَّنَ ‎ لَهُ قَالَ أَعْلَمُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُه
অথবা তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখোনি, যে এমন এক নগরে উপনীত হয়েছিলো যা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিলো। সে বললো, মৃত্যুর পর কীরূপে আল্লাহ একে জীবিত করবেন? তৎপর আল্লাহ তাকে এক শো বছর মৃত রাখলেন। পরে তাকে পুনর্জীবিত করলেন। আল্লাহ বললেন, তুমি কত কাল অবস্থান করলে? সে বললো, এক দিন অথবা এক দিনেরও কিছু কম অবস্থান করেছি। তিনি বললেন, না, বরং তুমি এক শো বছর অবস্থান করেছো। তোমার খাদ্যসামগ্রী ও পানীয় বস্তুর প্রতি লক্ষ্য করো, তা অবিকৃত রয়েছে। আর তোমার গর্দভটির প্রতি লক্ষ্য করো, কারণ তোমাকে মানবজাতির জন্যে নিদর্শন স্বরূপ করবো। আর অস্থিগুলির প্রতি লক্ষ্য করো, কিভাবে সেগুলোকে সংযোজিত করি এবং গোশত দ্বারা ঢেকে দিই। যখন তা তার নিকট স্পষ্ট হলো তখন সে বলে ওঠলো, আমি জানি যে, আল্লাহ নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। [সূরা বাক্বারা : ২৫৯]

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল গানিয়্যু

📄 আল গানিয়্যু


'আল গনিয়্যু'-এর শাব্দিক অর্থ, ঐশ্বর্যবান, স্বতন্ত্র। এটিও আল্লাহ তা'আলার একটি গুণবাচক নাম। কারণ, আল্লাহ তা'আলা এতোটাই ঐশ্বর্যবান যে, তিনি তাঁর কোনো সৃষ্টিজীবের মুখাপেক্ষী নন। অথচ ধনী, গরিব, শক্তিশালী, দুর্বল নির্বিশেষে সকলই আল্লাহ তা'আলার মুখাপেক্ষী। কাজেই একমাত্র তিনিই আক্ষরিক অর্থে সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র। তিনি সত্তাগত ও গুণবাচক; কোনোভাবেই কারো ওপর নির্ভরশীল নন। তাঁর স্ত্রী-সন্তান নেই। তাঁকে খেতে বা পান করতে হয় না। এমনকি তন্দ্রা বা ঘুমুতেও হয় না。
কুরআনে কারীমে তিনি ইরশাদ করেছেন-
يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَنتُمُ الْفُقَرَاء إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ هُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُه
হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী আর আল্লাহ অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত। [সূরা ফাতের : ১৫]
যেহেতু আল্লাহ তা'আলা কারো ওপর নির্ভরশীল নন; কাজেই কোনো বান্দার উপাসনার কারণে যেভাবে তাঁর রাজত্ব ও ক্ষমতার মাঝে কোনো কিছু সংযোজন করে না; তদ্রুপ কোনো মানুষের কুফরির কারণে তার কোথাও কোনো বিয়োজন হয় না। সে কথাই কুরআনে এভাবে বিমূর্ত হয়েছে-
إِن تَكْفُرُوا أَنتُمْ وَمَن فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا فَإِنَّ اللَّهَ لَغَنِيٌّ حميده
'যদি তোমরা ও যমীনের সকলে কুফরী কর, তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, প্রশংসিত'। [সূরা ইবরাহীম: ৮]
একজন মানুষ যখন আল্লাহর এই গুণটির কথা তার হৃদয়ে ধারণ করবে তখন সে নিজেকে পৃথিবীর সকল মানুষ থেকে গুটিয়ে নেবে। সে তখন একমাত্র আল্লাহর দিকেই নিবিষ্টমুখী হবে। তার সর্বক্ষণিক ভালোবাসায় একমাত্র আল্লাহই বিরাজ করবেন।...
কেমন রাজা তুমি?
তোমরা সবাই নিশ্চয়ই ভুবনবিখ্যাত আব্বাসি বাদশাহ 'হারুনু রশীদ'-এর নাম শুনেছো। তিনি ছিলেন তার সমকালের সর্ববৃহৎ সম্রাজ্যের অধিপতি। পরিধি ও ক্ষমতার বিচারে তার সমমানের আর কোনো রাজা সেসময় ছিলো না।
একদিনের ঘটনা। বাদশাহ হারুনুর রশীদ তার দরবারে বসে রাজকার্য পরিচালনা করছেন। সেদিন তার সঙ্গে ছিলেন সেসময়কার শ্রেষ্ঠজ্ঞানী 'ইবনুস সাম্মাক'। ইত্যবসরে বাদশার পানির তেষ্টা পেয়ে বসলো। তিনি তখন কাছের এক রাজভৃত্যকে এক গ্লাস পানি নিয়ে আসতে বললেন। ভৃত্যটি অতিদ্রুততার সঙ্গে পানি নিয়ে হাজির হলো। বাদশাহ তার হাত থেকে পানির গ্লাসটি তুলে নিলেন। সবেমাত্র গ্লাসটি ঠোঁটে ছোঁয়াবেন, তার পূর্বেই ইবনুস সাম্মাক বাদশাহকে সম্বোধন করে বললেন- হে আমিরুল মুমিনীন! প্রয়োজনের মুহূর্তে আপনি এই এক গ্লাস পানি কতো টাকা দিয়ে ক্রয় করতে রাজি হবেন?
বাদশাহ বললেন, আমি তখন আমার অর্ধরাজত্বের বিনিময়ে এক গ্লাস পানি ক্রয় করতে রাজি হয়ে যাবো。
তখন ইবনুস সাম্মাক বললেন, জ্বি, আমিরুল মুমিনীন! স্বাচ্ছন্দ্যে পান করুন。
বাদশাহ পানি পান করার পর ইবনুস সাম্মাক দ্বিতীয়বারের মতো প্রশ্নের ডালি নিয়ে হাজির হলেন। বললেন- ওই এক গ্লাস পানি যদি আপনার শরীর থেকে না বেরোয়, তাহলে তার চিকিৎসার জন্যে আপনি কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে প্রস্তুত?
বাদশাহ বললেন, তখন তো আমি আমার গোটা রাজত্ব দিয়ে দিতে রাজি হয়ে যাবো。
ইবনুস সাম্মাক তখন মুচকি হাসির সঙ্গে বললেন, যেই রাজত্ব এক গ্লাস পানিরও সমান নয়, তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করে কী লাভ!!!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00