📄 আল মুনতাক্বিম
'আল মুনতাক্বিম'-এর শাব্দিক অর্থ প্রতিশোধ গ্রহণকারী। যারা আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেয় না; বা তার নবী-রাসূলকে অস্বীকার করে; কিংবা চোখের সামনে আল্লাহর কোনো নিদর্শন জ্বলজ্বল করে উদ্ভাসিত হতে দেখেও ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে; কিংবা তাঁর অবাধ্য হয়; কিংবা তার নে'আমতের অবমূল্যায়ন করে আল্লাহ তা'আলা তাদের কাছ থেকে তাদের সেই অপকর্মের প্রতিশোধ গ্রহণ করে থাকেন। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ
নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী; প্রতিশোধ গ্রহণকারী। [সূরা ইবরাহীম : ৪৭]
কোনো বান্দা গুনাহ করার পর তাওবা করে ফিরে এলে যেভাবে আল্লাহ তার সেই তাওবা করেন, তদ্রুপ কোনো বান্দা তাঁর অবাধ্য দূরাচারী হলে তিনি তাকে কষ্টদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন না করিয়ে ছাড়েন না। তবে শাস্তি দেয়ার আগে তিনি প্রায়শই তাদেরকে কিছু সময়ের অবকাশ দেন- এ আশায় যে, হয়তো তারা ফিরে এসে সুবোধ মানুষে পরিণত হবে。
একজন মানুষ যখন আল্লাহ তা'আলার এ পরিচয় সম্পর্কে অবহিত হয় তখন সে নিজেকে আল্লাহর ভয়ে ভীত বান্দা হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। সে তখন আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে কোনো পাপের অনুগামী হতে রাজি হয় না。
সামুদ জাতির পরিণতি
সামুদ নামের একটি আরব গোত্র উত্তর হিজাযে বসবাস করতো। আল্লাহর অনেক নে'আমত পেয়েও তারা ছিলো সম্মিলিতভাবে একটি দূরাচারী গোত্র। সর্বত্র ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বেড়াতো। অন্যায় অসৎ কাজে তাদেরকে সবার আগে এগিয়ে থাকতে দেখা যেতো।...
তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা'আলা হযরত সালেহ আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন। তিনি তাদেরকে ঈমানের কথা বললেন; হিদায়াতের পথ দেখালেন; জান্নাত-জাহান্নামের চিত্র তুলে ধরলেন। তিনি তাদের হাত ধরে; পিঠ বুলিয়ে বুঝালেন।...
সামুদ গোত্রের লোকগুলো এতোটাই দূরাচারী ছিলো যে, তারা হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের কোনো কথাই কানে তুললো না। উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলে বসলো যে, 'আপনি যদি আল্লাহর সত্য নবী হয়ে থাকেন তাহলে মু'জিযা দেখান।'
কী মু'জিযা?
'ওই পাথরের নিষ্প্রাণ পাহাড়ের বুক চিরে একটি জ্বলজ্যান্ত উট বের করে দেখান।'
হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম তাদের দাবী মেনে নিলেন। তিনি তাদের চোখের সামনে পাথরের বুক থেকে একটি জীবন্ত উটনি বের করে আনলেন。
এমন অদ্ভুত কাণ্ড দেখে বিস্ময়ে তারা নির্বাক হয়ে পড়েছিলো। হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম বললেন, 'দেখো। এ উট আল্লাহর একটি নিদর্শন। কাজেই সেটি কষ্ট পায়; এমন কোনো কাজ কেউ করতে পারবে না।'
পূর্বেই বলেছিলাম, সামুদ গোত্রের লোকগুলো ছিলো বদের হাড্ডি। বেজায় দুষ্ট। তারা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের স্বাক্ষর রেখে একদিন সেই উটটিকে যবেহ করে ফেললো। তখন হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম তখন বললেন, 'অপেক্ষা করো। মাত্র তিন দিনের ভেতর তোমরা আল্লাহর গযবের শিকার হবে।'
অবাধ্য সেই লোকগুলো আল্লাহর মহান নবীর এই সতর্ক বার্তাটিকেও হেসে উড়িয়ে দিলো। এমনকি তারা তাঁর বিদ্রুপও করতে লাগলো。
এভাবে তিনদিন কেটে গেলো। চতুর্থদিন আল্লাহ্ প্রেরণ করলেন বিকট এক চিৎকার। সেই চিৎকার এতোটাই তীব্র ছিলো যে, তাদের সবার বুক ফেটে গেলো। শরীরগুলো টুকরো টুকরো হয়ে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লো। তাদের বিশাল বিশাল দালানগুলো তুলোর মতো খণ্ড, খণ্ড হয়ে মাটিতে ধসে পড়লো। উপাসনালয়গুলোও ভেঙে চৌচির হয়ে গেলো।... শুধু বেঁচে গেলেন হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গের অল্প কয়েকজন মুমিন বান্দা。
📄 আল 'আফুউ
‘আল আফুও্যু’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি অন্যদের অপরাধগুলো মার্জনা করেন; ভুল-ত্রুটি এড়িয়ে যান; ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখাই যাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য。
আল্লাহর যেসকল বান্দা অপরাধ করার পর অনুশোচিত হৃদয়ে তাওবা করেন; তাঁর দুয়ারে ফিরে আসেন আল্লাহ তাদের পরমানন্দে তাদের যাবতীয় অপরাধ মাফ করে দেন। তাঁর ক্ষমা ও মার্জনার দুয়ার এতোটাই বিস্তৃত যে, যে কেউ চাইলে-ই সে দুয়ারের ফাঁক গলে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورُه
নিশ্চয় আল্লাহ পাপ মোচনকারী, অতীব ক্ষমাশীল। [সূরা হজ : ৬০]
আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হিসেবে একজন মুসলমানের করণীয় হলো- যদি কেউ তার ওপর জুলুম করে তাহলে সে মন থেকে তাকে ক্ষমা করে দেবে। তার সঙ্গে কেউ দুর্ব্যবহার করলে তার বিপরীতে সে তার সঙ্গে সদাচরণ করবে। কেননা আল্লাহ নিজেই ক্ষমাশীল হওয়ার কারণে তিনি সবসময় ক্ষমাশীল বান্দাকেই ভালোবাসেন। আর কখনই কোনো ভালো কাজ করে খোটা দেয়া মোটেই উচিত হবে না。
ক্ষমার ঔদার্য্য
হিজরতের পর একে একে সাতটি বছর কেটে গেছে। অষ্টম বছরও প্রায় শেষ হতে চললো। ততো দিনে দজলা-ফোরাতের বুক চিরে অসংখ্য জল গড়িয়ে সাগরে পড়েছে। মদীনায় এসে মুসলমানগণও নিজেদের সুসংহত করার সুযোগ পেয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা বদর খন্দকসহ অনেকগুলো যুদ্ধে মক্কার কাফেরদেরকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছেন। যার ফলে তাদের অহমিকার প্রাসাদ এখন ধুলোয় গড়াগড়ি খাচ্ছে। তাদের কোমর এতোটাই ভেঙ্গে গেছে যে, মুসলমানদের কোনো পদক্ষেপ প্রতিহত করার শক্তি আর তাদের নেই।...
হিজরতের অষ্টম বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে মক্কার পথ ধরলেন। مسلمانوں অগ্রযাত্রার কথা শুনতেই মক্কার আকাশে নেমে এলো বিষাদের কালো ছায়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করলেন তখন দেখা গেলো গোটা মক্কা নগরীতে নেমে এসেছে পিনপতন নীরবতা। কোথাও কোনো রণদামামা নেই। প্রতিরোধব্যুহ নেই। রক্তহিম করা রণসঙ্গীত কোথাও উচ্চকিত হচ্ছে না。
মক্কার পুরুষ লোকদের কেউ কেউ তখন বাড়ির দরোজা বন্ধ করে নিজেকে স্বেচ্ছাবন্দি করে রেখেছিলো। আরেকদল তো পালিয়েই নগরছাড়া। বেশ কিছু লোক তখন আপাত নিরাপত্তার অভয়বাক্য শুনে কা'বার পাদদেশে জড়ো হলো。
উৎকণ্ঠিত কর্ণে তারা অপেক্ষা করছিলো কোনো গুরুগম্ভীর ঘোষণার; যা তাদের জন্যে হয়তো মৃত্যু বা তার চেয়ে ভয়াবহ কোনো দণ্ডের পরোয়ানা শোনাবে। ... কারণ, তাদের স্মৃতিপটে তখন একে একে বিমূর্ত হচ্ছিলো অতীতের জুলুমগুলো। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সঙ্গী নর-নারীদের ওপর তারা যেই বিভৎস নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিলো; যেই পৈশাচিক বর্বরতার যাতনায় তাদেরকে তিলে তিলে কষ্ট দিয়েছিলো সেই দৃশ্যগুলো তারা শত চেষ্টায়ও চোখের সামনে থেকে সরাতে পারছিলো না。
মনে পড়ে, – এই তো সেদিন তারা মুহাম্মদের সেজদাবনত মাথার ওপর উঠিয়ে দিয়েছিলো মৃত উটের উৎকট গন্ধময় নাড়ি-ভূড়ি। – তাদেরকে অনবরত তিনটি বছর শি'আবে আবী তালেবের সংকীর্ণ গিরিপথে ঠেলে রেখেছিলো। ক্ষুৎ-পিপাসায় তাদেরকে তখন গাছের পাতা খেয়ে জীবন বাঁচিয়ে রাখার কষ্টময় সংগ্রাম করতে হয়েছিলো। - এমনকি তারা আল্লাহবিশ্বাসী সরল লোকগুলোকে মৃত্যুর দোরগোড়ায় ছুড়ে ফেলার সবগুলো আয়োজন সম্পন্ন করতে উদগ্র হয়ে ওঠেছিলো। কাউকে তারা দেশছাড়া করেছে। কাউকে স্বজনহারা করেছে। কাউকে আবার শূন্যহাতে বাড়িছাড়াও করেছে。
আজ পৃথিবীর চিত্র বদলে গেছে পুরোপুরি। সেদিনের সেই অসহায় মানুষগুলোর হাতে আজ চলে গেছে নেতৃত্বের লাগাম। তারাই এখন পূর্বের নিপীড়কদের ভাগ্যনিয়ন্ত্রক হয়ে গেছে। তারা কী আজ প্রতিশোধ না নিয়ে ছাড়বে! ...
এমন শত শত দুঃসহ ভাবনায় তাদের মনোজগত এলোমেলো হচ্ছিলো। অজানা আশঙ্কায় দুরু দুরু কম্পমান বুকে তারা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিদ্ধান্ত শোনার অপেক্ষা করছিলো。
মানবতার নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষমা, মার্জনা, উদারতার বিমূর্ত প্রতিচ্ছবি। তিনি এক শব্দে পূর্বের সকল জুলুমের ওপর যতিচিহ্ন টেনে দিলেন। বিস্মৃতির অতল অন্ধকারে ছুঁড়ে দিলেন জুলুমের কালো অধ্যায়। বললেন-
'হে কুরাইশ জাতি! আজ আমি তোমাদের সঙ্গে কী আচরণ করবো সে ব্যাপারে তোমাদের কি কোনো আগাম অনুমান আছে?'
তারা তখন সমস্বরে বলে ওঠলো- 'আমরা জানি, আপনি আমাদের সঙ্গে সদাচরণ করবেন। কারণ আপনি একজন সজ্জন মানুষ। আপনার পিতৃপুরুষগণও সজ্জন ছিলেন।'
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন- যাও! আজ তোমাদের সবাইকে আল্লাহর জন্যে মুক্ত করে দিলাম।'
📄 আর রউফ
'আর রউফ' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর খুবই দয়াপ্রবণ। যিনি যেমন সর্বক্ষণ তাঁর নেককার আউলিয়ায়ে কেরামের প্রতি দয়াশীল হয়ে থাকেন; তাদেরকে পাপের গহ্বরে পড়তে দেন না। তদ্রুপ তিনি পাপী বান্দাদের প্রতিও দয়াদ্র হয়ে থাকেন; এভাবে যে, তাদেরকে সবসময় ইসতিগফার ও তাওবার দিকে হাকিয়ে বেড়ান। এ আশায় যে, তারা যেন শাস্তির কবল থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوفٌ رَّحِيمٌ
নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু। [সূরা বাক্বারা : ১৪৩]
দুনিয়াবাসীদের জন্যে আল্লাহর যেই রহমত নির্দিষ্ট সেটিকে তিনি ১০০ টি ভাগে ভাগ করেছেন। ৯৯ ভাগ নিজের কাছে রেখে বাকি ১ ভাগ গোটা দুনিয়ার সকল মানুষের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। সেই এক ভাগ রহমতের কল্যাণে-ই আজ পৃথিবীর সকল সৃষ্টিজীবের মাঝে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বাহুডোর দেখা যায়। ...
আল্লাহর পরকালীন রহমত শুধু মুমিনদের জন্যেই বরাদ্দ থাকবে。
একজন মুসলমান বান্দা যখন আল্লাহ তা'আলার এই 'রউফ' গুণবাচক নামটির অর্থ উপলব্ধি করবে তখন সেও নিজেকে দয়াপ্রবণ হিসেবে গড়ে তুলবে। সে তখন সবার সঙ্গে প্রীতিময় আচরণ করবে। তার সঙ্গে কেউ দূরাচার করলে সে ক্ষমা করে দেবে। সে যথাসম্ভব অন্যদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলবে。
তুমি কি জানো?
একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধবন্দিদের খোঁজ-খবর নিতে হাজির হলেন।...
সেই বন্দিদের মাঝে একজন মহিলাও ছিলেন। হঠাৎ মহিলাটি লক্ষ্য করলেন, দূরে একটি দুগ্ধপোষ্য শিশু কান্না করছে। শিশুকণ্ঠের কান্না শুনে তার মাতৃহৃদয়ও কেঁদে ওঠলো। সঙ্গে সঙ্গে তিনি শিশুটির দিকে ছুটে গেলেন। পরম ভালোবাসায় তাকে কোলে তুলে নিলেন। এমনকি তাকে দুধ পান করাতে শুরু করলেন। অথচ সেই দুগ্ধপোষ্যটি তার সন্তান নয়। ইতোপূর্বে হয়তো কোনোদিন তিনি শিশুটিকে দেখেননি。
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতৃত্বের এই নিষ্পাপ প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়ে সাহাবায়ে কেরামকে প্রশ্ন করলেন-
'তোমাদের কি মনে হয়, এ মহিলাটির পক্ষে শিশুটিকে আগুনে নিক্ষেপ করা সম্ভব?'
সাহাবায়ে কেরام দু'দিকে মাথা নেড়ে বললেন- 'আদৌ সম্ভব নয়।'
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন,
'একজন মা তার নাড়িছেড়া সন্তানকে যতোটুকু ভালোবাসেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে তারচেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভালোবাসেন।'
📄 মালিকুল মুলক
‘মালিকুল মুলক’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি সমগ্র বিশ্বচরাচরের একচ্ছত্র অধিপতি। মালিক। যিনি প্রতিটি বস্তুর ওপর তাঁর নিজের যে কোনো ইচ্ছে প্রয়োগ করতে পারেন অবলীলায়।...তিনি যা চান তাই ঘটে। যা চান না তা আর ঘটে না। ...
এই আকাশ, জমিন, নক্ষত্র, গ্রহপুঞ্জ, সৌরজগৎ, জিন, ইনসান, উদ্ভিৎ ও প্রাণীজগৎ ইত্যাদি মিলে গড়ে উঠেছে একটাই রাজত্ব; যার একমাত্র ক্ষমতাধর শাসক আল্লাহ। তাঁর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অধীনে বিশ্বজাহান পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় ঘটছে না।...
তিনি যেভাবে একক শক্তিতে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড গড়ে তুলেছেন, তদ্রুপ তিনি তাঁর একক ইচ্ছেয় মুহূর্তেই এই বিশাল পৃথিবীকে ধ্বংস করে ফেলতে সক্ষম। ...
একজন বান্দা যখন জানবে যে, সে নিজেই তার চোখ, কান ও কণ্ঠের মালিক নয়। এমনকি সে যেই কাজগুলো করছে; যেই হায়াত অতিবাহিত করছে সেগুলোরও একক মালিক আল্লাহ। তখন সে পূর্ণ বিনয় ও একনিষ্ঠতার সঙ্গে রাজাধিরাজ আল্লাহর অভিমুখী হবে। প্রতিটি পদক্ষেপে সে প্রথম দৃষ্টি রাখবে আল্লাহর নির্দেশের ওপর। ফলশ্রুতিতে যাপিত জীবনে সে হবে আল্লাহমুখী বান্দা。
তুমি কি জানো?
ভূপৃষ্ঠের ওপর বসবাসকারী জীবজগতের মাঝে অসংখ্য প্রজাতি রয়েছে। যার সঠিক সংখ্যা ও পরিসংখ্যান আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা নিরুপণ করতে পারে নি। তারা এখন পর্যন্ত দেড় মিলিয়নেরও অধিক প্রজাতির অস্তিত্ব খুঁজে বের করেছেন। এর মধ্য হতে এক মিলিয়ন-ই হচ্ছে কীট-পতঙ্গ। বিজ্ঞানীগণ প্রতি বছর ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার নতুন নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করছেন। এছাড়াও রয়েছে ২১০০০ প্রজাতির জলজ প্রাণী, ৯৭০০ প্রজাতির পাখি, ৬৪০০ সরীসৃপ, ৪০০০ উভচর ও ৪৫০০ স্তন্যপায়ী প্রাণীর প্রজাতি。
বিজ্ঞানীদের ধারণা হলো, এখন পর্যন্ত আড়াই মিলিয়নেরও অধিক প্রজাতির প্রাণী অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে。
সুবহানাল্লাহ! কতো বড় মহিয়ান সেই সত্তা! পৃথিবীর বিশাল জীববৈচিত্র যাঁর কুদরতের অনন্য প্রকাশ。