📄 আল মুতা'আলী
'আল মুতা'আলী' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি সম্মান ও মর্যাদায় অতি উচ্চ শৃঙ্গে অধিষ্ঠিত। যাঁর সত্তা ও গুণাবলি শিখরস্পর্শী। যিনি বদান্যতায় সর্বশ্রেষ্ঠ। যাঁর বড়ত্ব ও বিশালতার সামনে অন্য সব-ই নেহায়েত তুচ্ছ। যাঁর বিশাল ক্ষমতা ও ব্যাপকতর শাসনের অধীনে গোটা বিশ্বজাহান বশীভূত। যাঁর কোনো স্ত্রী বা সন্তান নেই। যাঁকে খাদ্য-পানীয় স্পর্শ করতে হয় না। যাঁকে কখনই নিদ্রা বা তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হতে হয় না। যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী। যাঁকে কখনই রোগ, বৈকল্য বা মৃত্যুর শিকার হতে হয় না। যিনি যাবতীয় মানবিক দুর্বলতা ও অপূর্ণতার বহু ঊর্ধ্বে।
বিষয়টি কুরআনে কারীমে এ শব্দে ব্যক্ত হয়েছে。
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ
'তাঁর মত কিছু নেই।' [সূরা শুরা : ১১]
একজন মুমিন বান্দা যখন আল্লাহ তা'আলার এ নামটি সম্পর্কে অবহিত হবে তখন সে শুধু সেই আল্লাহর সমীপেই নতশীর হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সে তখন শুধু আল্লাহর ওপরই ভরসা রাখবে। হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
بِئْسَ الْعَبْدُ عَبْدُ تَخَيَّلَ وَاحْتَالَ ، وَنَسِيَ الكبيرَ الْمُتَعَالَ
'সবচেয়ে নিকৃষ্ট বান্দা হলো ওই লোক যে অহঙ্কার ও ঔদ্ধত্ব প্রকাশ করে এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান মহিয়ান আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে যায়।' [তিরমিযী শরীফ]
হযরত উমর রাদি. ও জনৈক ক্রীতদাস
তখন ছিলো গ্রীস্মকাল। অগ্নিতপ্ত মরুদেশ আরবের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে জাহান্নামের উত্তাপ। দিনের বেলায় পারতপক্ষে কেউ ঘরের বাইরে বেরোয় না。
এমন এক দুপুর -যখন সূর্য মধ্যগগণে পূর্ণ তাপমাত্রায় জ্বলজ্বল করছে- আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রাদি, জনগণের খোঁজ-খবর জানতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন。
শাসক হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রজাহিতৈষী। জনগণের জীবনমান উন্নত রাখার তাড়না তাঁকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়াতো। যার ফলে দেখা যেতো, জনজীবনের সঠিক চিত্র জানতে তিনি সময়-অসময় রাস্তায় বেরিয়ে পড়তেন। তারই ধারাবাহিকতায় সেদিন দুপুরেও তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন。
প্রচণ্ড সূর্যতাপের ভেতরেও তিনি সবার খোঁজ-খবর নিলেন। এক পর্যায়ে সূর্যের উত্তাপ যখন সহ্যের শেষ সীমাটুকুও অতিক্রম করে ফেলে তখন তিনি নিরুপায় হয়ে গায়ের চাদরের একাংশ মাথার ওপর মেলে ধরলেন। কিছুটা মাথারক্ষা হলো। কিন্তু নিচ থেকে তো তপ্ত মরুর বালুকাগুলো দু'পায়ে অনবরত হুল ফুটিয়ে যাচ্ছে。
হঠাৎ তাঁর পাশ দিয়ে একটি গাধা চলে গেলো। গাধার ওপর একজন ক্রীতদাস বালক বসে আছে। তিনি ডেকে বললেন, ও বালক! আমাকে তোমার গাধার ওপর উঠিয়ে নাও。
আমিরুল মুমিনীনের কণ্ঠস্বর শুনে ক্রীতদাস বালকটি চকিত হয়ে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে সে গাধার ওপর থেকে মাটিতে নেমে এলো। করজোরে অনুরোধ করলো- 'আমিরুল মুমিনীন! আপনি গাধার ওপর উঠে পড়ুন。
উত্তরে হযরত উমর রাদি. বললেন, 'আমি এক শর্তে তোমার বাহনটির ওপর উঠে বসতে রাজি আছি। তাহলো, প্রথমে তুমি তার ওপর বসবে আর আমাকে তোমার পেছনে বসিয়ে নেবে। কারণ আমি চাই না, গাধার পিঠের সবচেয়ে আরামদায়ক স্থানটিতে বসে আমি আরাম করবো, আর তুমি তার পিঠের রুক্ষ শক্ত স্থানটিতে বসে কষ্ট করবে।'
হযরত উমর রাদি.-এর নির্দেশ শুনে ক্রীতদাসটি খুবই বিস্মিত হলো। সে তাঁকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার উপর্যপুরী অনুরোধ করলো; কিন্তু হযরত উমর রাদি. নিজ সিদ্ধান্তে অনড়। কিছুতেই তিনি সামনের অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক স্থানে বসতে রাজি হলেন না। অগত্যা ক্রীতদাস ছেলেটি গাধার ওপর চড়ে বসলো এবং আমিরুল মুমিনীনকে পেছনে বসিয়ে মদীনা মুনাওয়ারার দিকে রওয়ানা হলো。
এ অবস্থাতেই তাঁরা রাজধানী মদীনায় প্রবেশ করলেন। ততোক্ষণে সূর্যের কিরণ হলুদ হয়ে এসেছে। পথ-ঘাটে মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেছে। আমিরুল মুমিনীনকে এভাবে গাধার ওপর ক্রীতদাসের পেছনে বসে থাকতে দেখে বিস্ময়ে সবার চোখ তখন চড়কগাছ। অক্ষিগোলক কপালে তুলে সবাই দেখছিলো- 'অর্ধপৃথিবীর দোর্দণ্ড শাসক গাধার পিঠে একজন সাধারণ দাসের পেছনে বসে মদীনার অলি-গলি অতিক্রম করছেন!!!'
'আল মুতা'আলী' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি সম্মান ও মর্যাদায় অতি উচ্চ শৃঙ্গে অধিষ্ঠিত। যাঁর সত্তা ও গুণাবলি শিখরস্পর্শী। যিনি বদান্যতায় সর্বশ্রেষ্ঠ। যাঁর বড়ত্ব ও বিশালতার সামনে অন্য সব-ই নেহায়েত তুচ্ছ। যাঁর বিশাল ক্ষমতা ও ব্যাপকতর শাসনের অধীনে গোটা বিশ্বজাহান বশীভূত। যাঁর কোনো স্ত্রী বা সন্তান নেই। যাঁকে খাদ্য-পানীয় স্পর্শ করতে হয় না। যাঁকে কখনই নিদ্রা বা তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হতে হয় না। যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী। যাঁকে কখনই রোগ, বৈকল্য বা মৃত্যুর শিকার হতে হয় না। যিনি যাবতীয় মানবিক দুর্বলতা ও অপূর্ণতার বহু ঊর্ধ্বে।
বিষয়টি কুরআনে কারীমে এ শব্দে ব্যক্ত হয়েছে。
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ
'তাঁর মত কিছু নেই।' [সূরা শুরা : ১১]
একজন মুমিন বান্দা যখন আল্লাহ তা'আলার এ নামটি সম্পর্কে অবহিত হবে তখন সে শুধু সেই আল্লাহর সমীপেই নতশীর হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সে তখন শুধু আল্লাহর ওপরই ভরসা রাখবে। হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
بِئْسَ الْعَبْدُ عَبْدُ تَخَيَّلَ وَاحْتَالَ ، وَنَسِيَ الكبيرَ الْمُتَعَالَ
'সবচেয়ে নিকৃষ্ট বান্দা হলো ওই লোক যে অহঙ্কার ও ঔদ্ধত্ব প্রকাশ করে এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান মহিয়ান আল্লাহ তা'আলাকে ভুলে যায়।' [তিরমিযী শরীফ]
হযরত উমর রাদি. ও জনৈক ক্রীতদাস
তখন ছিলো গ্রীস্মকাল। অগ্নিতপ্ত মরুদেশ আরবের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে জাহান্নামের উত্তাপ। দিনের বেলায় পারতপক্ষে কেউ ঘরের বাইরে বেরোয় না。
এমন এক দুপুর -যখন সূর্য মধ্যগগণে পূর্ণ তাপমাত্রায় জ্বলজ্বল করছে- আমিরুল মুমিনীন হযরত উমর ইবনুল খত্তাব রাদি, জনগণের খোঁজ-খবর জানতে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন。
শাসক হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রজাহিতৈষী। জনগণের জীবনমান উন্নত রাখার তাড়না তাঁকে সবসময় তাড়িয়ে বেড়াতো। যার ফলে দেখা যেতো, জনজীবনের সঠিক চিত্র জানতে তিনি সময়-অসময় রাস্তায় বেরিয়ে পড়তেন। তারই ধারাবাহিকতায় সেদিন দুপুরেও তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন。
প্রচণ্ড সূর্যতাপের ভেতরেও তিনি সবার খোঁজ-খবর নিলেন। এক পর্যায়ে সূর্যের উত্তাপ যখন সহ্যের শেষ সীমাটুকুও অতিক্রম করে ফেলে তখন তিনি নিরুপায় হয়ে গায়ের চাদরের একাংশ মাথার ওপর মেলে ধরলেন। কিছুটা মাথারক্ষা হলো। কিন্তু নিচ থেকে তো তপ্ত মরুর বালুকাগুলো দু'পায়ে অনবরত হুল ফুটিয়ে যাচ্ছে。
হঠাৎ তাঁর পাশ দিয়ে একটি গাধা চলে গেলো। গাধার ওপর একজন ক্রীতদাস বালক বসে আছে। তিনি ডেকে বললেন, ও বালক! আমাকে তোমার গাধার ওপর উঠিয়ে নাও。
আমিরুল মুমিনীনের কণ্ঠস্বর শুনে ক্রীতদাস বালকটি চকিত হয়ে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে সে গাধার ওপর থেকে মাটিতে নেমে এলো। করজোরে অনুরোধ করলো- 'আমিরুল মুমিনীন! আপনি গাধার ওপর উঠে পড়ুন。
উত্তরে হযরত উমর রাদি. বললেন, 'আমি এক শর্তে তোমার বাহনটির ওপর উঠে বসতে রাজি আছি। তাহলো, প্রথমে তুমি তার ওপর বসবে আর আমাকে তোমার পেছনে বসিয়ে নেবে। কারণ আমি চাই না, গাধার পিঠের সবচেয়ে আরামদায়ক স্থানটিতে বসে আমি আরাম করবো, আর তুমি তার পিঠের রুক্ষ শক্ত স্থানটিতে বসে কষ্ট করবে।'
হযরত উমর রাদি.-এর নির্দেশ শুনে ক্রীতদাসটি খুবই বিস্মিত হলো। সে তাঁকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার উপর্যপুরী অনুরোধ করলো; কিন্তু হযরত উমর রাদি. নিজ সিদ্ধান্তে অনড়। কিছুতেই তিনি সামনের অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক স্থানে বসতে রাজি হলেন না। অগত্যা ক্রীতদাস ছেলেটি গাধার ওপর চড়ে বসলো এবং আমিরুল মুমিনীনকে পেছনে বসিয়ে মদীনা মুনাওয়ারার দিকে রওয়ানা হলো。
এ অবস্থাতেই তাঁরা রাজধানী মদীনায় প্রবেশ করলেন। ততোক্ষণে সূর্যের কিরণ হলুদ হয়ে এসেছে। পথ-ঘাটে মানুষের আনাগোনা বেড়ে গেছে। আমিরুল মুমিনীনকে এভাবে গাধার ওপর ক্রীতদাসের পেছনে বসে থাকতে দেখে বিস্ময়ে সবার চোখ তখন চড়কগাছ। অক্ষিগোলক কপালে তুলে সবাই দেখছিলো- 'অর্ধপৃথিবীর দোর্দণ্ড শাসক গাধার পিঠে একজন সাধারণ দাসের পেছনে বসে মদীনার অলি-গলি অতিক্রম করছেন!!!'
📄 আল বার্
‘আল বার’ এটিও মহান আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম। শাব্দিক অর্থ, মহা দানশীল। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর সীমাহীন দয়াশীল। তিনি তাঁর রহমতের দুয়ার সকল সৃষ্টিজীবের জন্যে উন্মুক্ত করে রেখেছেন। তাঁর দয়া ও বদান্যতা কোনো সময় বা কোনো পাত্রের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। তদ্রুপ তাঁর করুণা ও অবারিত রহমতেরও কোনো সীমারেখা নেই。
আল্লাহ তা’আলার এ গুণবাচক নামের ব্যঞ্জনা কুরআনে করীমে এভাবে উঠে এসেছে-
إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ
নিশ্চয় তিনি ইহসানকারী, পরম দয়ালু। [সূরা তুর: ২৮]
আল্লাহ তা’আলা যেভাবে আমাদের ওপর দয়াপ্রবণ করুণাময়ী; কাঠিণ্য এড়িয়ে সর্বক্ষেত্রে যেভাবে তিনি আমাদের প্রতি শৈথিল্য করেছেন; আমাদের পাপগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন; যেভাবে তিনি আমাদের কল্যাণগুলো নিদেনপক্ষে দশগুণ বৃদ্ধি করে চলেছেন সেভাবে তিনি আমাদের থেকেও কল্যাণকামী দৃষ্টিভঙ্গী কামনা করেন। তিনি চান, আমরা যেনো সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করি। বংশ, গোত্র, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যেনো পৃথিবীর সকল মানুষের সঙ্গে কোমল হয়ে থাকি। সত্যিকার অর্থে আমরা যেনো হয়ে উঠি করুণামীয় রবের দানশীল বান্দা。
একজন কাঠুরিয়ার গল্প
অনেক দিন আগের ঘটনা। একবার তিনজন পথিক একসঙ্গে পথ চলছিলো। সারা দিন পথ চলার পর যখন রাতের অন্ধকার নেমে এলো তখন তারা পথসংলগ্ন একটি পাহাড়ি গুহায় রাত্রি যাপনের সিদ্ধান্ত নিলো。
তারা যখন গুহায় ঘুমিয়েছিলো হঠাৎ উপর থেকে একটি প্রকাণ্ড পাথর গড়িয়ে তাদের গুহামুখ আগলে থেমে গেলো। তারা তিনজন তখন শরীরের সর্বশক্তি ব্যয় করে পাথরটি সরানোর চেষ্টা করলো; কিন্তু পাথরটি ছিলো তাদের সম্মিলিত শক্তির চেয়ে অনেক ভারি। যার ফলে তারা পাথরটিকে স্থানচ্যুত করতে সমর্থ হলো না。
অবশেষে ক্লান্ত হয়ে তারা বসে পড়লো। হতোদ্যম মনে তখন উত্তরণের বিকল্প পথ খুঁজতে লাগলো। ইত্যবসরে তাদের একজনের মনে হলো- একমাত্র আল্লাহর কুদরতই আমাদেরকে বাঁচাতে পারবে। আমরা যদি আমাদের অতীত জীবনের কোনো নেক আমলের উসিলায় আল্লাহর কাছে দু'আ করি হতে পারে তিনি আমাদের বেরোনোর কোনো পথ বাতলে দেবেন。
তাদের একজন ছিলো কাঠুরে। বন থেকে শুকনো কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। সে তখন হাত তুলে দু'আ করে বললো- হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা দু'জনই ছিলেন বয়োবৃদ্ধ। আমি তাদেরকে ভীষণ ভালোবাসতাম। তাদের সেবা করাই ছিলো আমার প্রধান ব্রত। আমি সবসময় তাদের আরামের প্রতি লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করতাম। এমনকি বকরির দুধ দোহন করার পর সর্বপ্রথম তাদের হাতেই তুলে দিতাম।...
একদিনের ঘটনা। কারণবশত সেদিন আমার বাড়ি ফিরতে খানিকটা দেরি হয়ে যায়। এসে দেখি, তারা দু'জন দুধ পান না করেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমার মনে হলো, এ মুহূর্তে তাদের আরামে ব্যঘাত করা সমীচিন হবে না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, দুধের পেয়ালা হাতে তাদের শিয়রের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষা করবো。
ওদিকে আমার ছোট ছোট সন্তানগুলো ক্ষুধার তাড়নায় অস্থির হয়ে ওঠেছিলো। এক পর্যায়ে তারা কাঁদতেও শুরু করলো; কিন্তু বৃদ্ধ বাবা-মাকে অভুক্ত রেখে তাদের হাতে দুধের পেয়ালা বাড়িয়ে দিতে আমার মন সায় দিলো না。
অবশেষে তারা দু'জন ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। আমি তখন প্রথমে তাদেরকে দুধ পান করালাম। উদ্বৃত্ত দুধটুকু ছেলে-পুলেদের পান করিয়ে সর্বশেষে আমিও খানিকটা পান করলাম。
হে আল্লাহ! আমার সেই নেক কাজটিতে যদি আপনার আনুগত্য প্রতিবিম্বিত হয় তাহলে আপনি আমাদের এই গুহার মুখ থেকে পাথরখানা সরিয়ে দিন।...
আল্লাহ তা'আলা কাঠুরের সেই কলজেসেঁচা দু'আ কবুল করলেন। সঙ্গে সঙ্গে গুহামুখ থেকে প্রকাণ্ড পাথরটি খানিকটা সরে পড়লো। একটু ফোকর বেরিয়ে এলো। তবে সেটি ছিলো এতোটাই অল্প যে, তাদের বেরোনোর জন্যে যথেষ্ট ছিলো না。
কাঠুরিয়ার পথ ধরে বাকি দু'জনও নিজেদের অতীত জীবন থেকে একটি করে নেককাজের বিবরণ শুনিয়ে তার উসিলায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন。
আল্লাহ তা'আলা তাদের সেই মিনতিমাখা দু'আগুলো কবুল করলেন। এক পর্যায়ে পাথরটি তাদের গুহামুখ থেকে পুরোপুরি সরে গেলো。
আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তারা গুহার ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো। মুক্ত বাতাসে তারা বুক ভরে গ্রহণ করলো স্বাধীনতার সুবিমল নিঃশ্বাস。
‘আল বার’ এটিও মহান আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম। শাব্দিক অর্থ, মহা দানশীল। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর সীমাহীন দয়াশীল। তিনি তাঁর রহমতের দুয়ার সকল সৃষ্টিজীবের জন্যে উন্মুক্ত করে রেখেছেন। তাঁর দয়া ও বদান্যতা কোনো সময় বা কোনো পাত্রের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। তদ্রুপ তাঁর করুণা ও অবারিত রহমতেরও কোনো সীমারেখা নেই。
আল্লাহ তা’আলার এ গুণবাচক নামের ব্যঞ্জনা কুরআনে করীমে এভাবে উঠে এসেছে-
إِنَّهُ هُوَ الْبَرُّ الرَّحِيمُ
নিশ্চয় তিনি ইহসানকারী, পরম দয়ালু। [সূরা তুর: ২৮]
আল্লাহ তা’আলা যেভাবে আমাদের ওপর দয়াপ্রবণ করুণাময়ী; কাঠিণ্য এড়িয়ে সর্বক্ষেত্রে যেভাবে তিনি আমাদের প্রতি শৈথিল্য করেছেন; আমাদের পাপগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন; যেভাবে তিনি আমাদের কল্যাণগুলো নিদেনপক্ষে দশগুণ বৃদ্ধি করে চলেছেন সেভাবে তিনি আমাদের থেকেও কল্যাণকামী দৃষ্টিভঙ্গী কামনা করেন। তিনি চান, আমরা যেনো সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করি। বংশ, গোত্র, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা যেনো পৃথিবীর সকল মানুষের সঙ্গে কোমল হয়ে থাকি। সত্যিকার অর্থে আমরা যেনো হয়ে উঠি করুণামীয় রবের দানশীল বান্দা。
একজন কাঠুরিয়ার গল্প
অনেক দিন আগের ঘটনা। একবার তিনজন পথিক একসঙ্গে পথ চলছিলো। সারা দিন পথ চলার পর যখন রাতের অন্ধকার নেমে এলো তখন তারা পথসংলগ্ন একটি পাহাড়ি গুহায় রাত্রি যাপনের সিদ্ধান্ত নিলো。
তারা যখন গুহায় ঘুমিয়েছিলো হঠাৎ উপর থেকে একটি প্রকাণ্ড পাথর গড়িয়ে তাদের গুহামুখ আগলে থেমে গেলো। তারা তিনজন তখন শরীরের সর্বশক্তি ব্যয় করে পাথরটি সরানোর চেষ্টা করলো; কিন্তু পাথরটি ছিলো তাদের সম্মিলিত শক্তির চেয়ে অনেক ভারি। যার ফলে তারা পাথরটিকে স্থানচ্যুত করতে সমর্থ হলো না。
অবশেষে ক্লান্ত হয়ে তারা বসে পড়লো। হতোদ্যম মনে তখন উত্তরণের বিকল্প পথ খুঁজতে লাগলো। ইত্যবসরে তাদের একজনের মনে হলো- একমাত্র আল্লাহর কুদরতই আমাদেরকে বাঁচাতে পারবে। আমরা যদি আমাদের অতীত জীবনের কোনো নেক আমলের উসিলায় আল্লাহর কাছে দু'আ করি হতে পারে তিনি আমাদের বেরোনোর কোনো পথ বাতলে দেবেন。
তাদের একজন ছিলো কাঠুরে। বন থেকে শুকনো কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। সে তখন হাত তুলে দু'আ করে বললো- হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা দু'জনই ছিলেন বয়োবৃদ্ধ। আমি তাদেরকে ভীষণ ভালোবাসতাম। তাদের সেবা করাই ছিলো আমার প্রধান ব্রত। আমি সবসময় তাদের আরামের প্রতি লক্ষ্য রাখার চেষ্টা করতাম। এমনকি বকরির দুধ দোহন করার পর সর্বপ্রথম তাদের হাতেই তুলে দিতাম।...
একদিনের ঘটনা। কারণবশত সেদিন আমার বাড়ি ফিরতে খানিকটা দেরি হয়ে যায়। এসে দেখি, তারা দু'জন দুধ পান না করেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমার মনে হলো, এ মুহূর্তে তাদের আরামে ব্যঘাত করা সমীচিন হবে না। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম, দুধের পেয়ালা হাতে তাদের শিয়রের পাশে দাঁড়িয়ে থেকে জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষা করবো。
ওদিকে আমার ছোট ছোট সন্তানগুলো ক্ষুধার তাড়নায় অস্থির হয়ে ওঠেছিলো। এক পর্যায়ে তারা কাঁদতেও শুরু করলো; কিন্তু বৃদ্ধ বাবা-মাকে অভুক্ত রেখে তাদের হাতে দুধের পেয়ালা বাড়িয়ে দিতে আমার মন সায় দিলো না。
অবশেষে তারা দু'জন ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। আমি তখন প্রথমে তাদেরকে দুধ পান করালাম। উদ্বৃত্ত দুধটুকু ছেলে-পুলেদের পান করিয়ে সর্বশেষে আমিও খানিকটা পান করলাম。
হে আল্লাহ! আমার সেই নেক কাজটিতে যদি আপনার আনুগত্য প্রতিবিম্বিত হয় তাহলে আপনি আমাদের এই গুহার মুখ থেকে পাথরখানা সরিয়ে দিন।...
আল্লাহ তা'আলা কাঠুরের সেই কলজেসেঁচা দু'আ কবুল করলেন। সঙ্গে সঙ্গে গুহামুখ থেকে প্রকাণ্ড পাথরটি খানিকটা সরে পড়লো। একটু ফোকর বেরিয়ে এলো। তবে সেটি ছিলো এতোটাই অল্প যে, তাদের বেরোনোর জন্যে যথেষ্ট ছিলো না。
কাঠুরিয়ার পথ ধরে বাকি দু'জনও নিজেদের অতীত জীবন থেকে একটি করে নেককাজের বিবরণ শুনিয়ে তার উসিলায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন。
আল্লাহ তা'আলা তাদের সেই মিনতিমাখা দু'আগুলো কবুল করলেন। এক পর্যায়ে পাথরটি তাদের গুহামুখ থেকে পুরোপুরি সরে গেলো。
আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তারা গুহার ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো। মুক্ত বাতাসে তারা বুক ভরে গ্রহণ করলো স্বাধীনতার সুবিমল নিঃশ্বাস。
📄 আত তাউয়াব
'আত তাওয়্যাব' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি তার বান্দাদেরকে তাওবা করার সুযোগ দেন; তাদের তাওবা কবুল করেন; তাদের যাবতীয় ভুল-ত্রুটি ও অপরাধ মার্জনা করেন। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
ثُمَّ تَابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
তারপর তিনি তাদের তাওবা কবুল করলেন, যাতে তারা তাওবায় স্থির থাকে। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। [সূরা তাওবা : ১২৮]
একজন মুসলমান যখন তার অন্তরে আল্লাহ তা'আলার এই গুণবাচক নামটি লালন করবে তখন সে যতো বড় অপরাধ বা গুনাহে অভিযুক্ত হোক না কেন কখনই তাঁর অবারিত রহমত থেকে নিরাশ হবে না। কেননা যে জানে, আমি যেই আল্লাহর উপাসনা করছি তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তাঁর করুণার ছায়াতলে আমাকে অবশ্যই আশ্রয় দেবেন। আমি যদি তাঁর কাছে অনুশোচিত হৃদয়ে তাওবা করি আর আগামীতে ওই গুনাহের পুনরাবৃত্তি না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করি তাহলে তিনি অবশ্যই আমাকে ক্ষমা করবেন এবং একজন পরিশুদ্ধ মানুষে পরিণত করবেন。
তুমি কি জানো?
একটি তেপান্তর। দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত ধু ধু বালুরাশি চিকচিক করছে। জনবসতি তো দূরের কথা; কোথাও কোনো মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর টিকিটুকুও দেখা যাচ্ছে না。
একজন মুসাফির জীবিকার তাগিদে একাকী সেই ধূসর তেপান্তর পাড়ি দিচ্ছেন। সঙ্গী বলতে একটি বাহন মাত্র। সেই বাহনের ওপর প্রয়োজনীয় খাদ্য-পানীয় চাপিয়ে তিনি একাকী পথ চলছেন。
অনেক দূর পথ চলার পর এক পর্যায়ে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। চোখে-মুখে রাজ্যের ক্লান্তি নেমে আসছে। কপাল থেকে দরদর করে ঘام ঝরছে। অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোকে মনে হলো- নির্জীব হয়ে আসছে। লোকটি তখন খানিকটা বিশ্রাম নেয়ার প্রয়োজন অনুভব করলেন। ভাবলেন, এক দণ্ড জিরিয়ে নিই। এরপর তাজা দম হয়ে নতুন করে পথে নামা যাবে।
লোকটি রাস্তার পাশে একটি ছোট গাছ দেখতে পেয়ে থেমে গেলেন। এক পাশে বাহনটিকে দাঁড় করিয়ে গাছের ছায়ায় বসে গেলেন। ভাবলেন, কিছু ক্ষণ জিরিয়ে নেবেন। কিন্তু কখন যে তার দু'চোখে গভীর ঘুম নেমে এলো; তিনি বুঝতেই পারলেন না। একসময় তার চোখে দু'কুল ছাপিয়ে নেমে এলো শান্তির ঘুম。
কিছুক্ষণ পর লোকটির চোখের পাতা খুলে গেলো। অসময়ে ঘুমিয়ে পড়ায় নিজের ওপর খানিকটা বিরক্তও হলেন। কিন্তু এ কী? সঙ্গের বাহনটিকে তো কোথাও দেখা যাচ্ছে না। গেলো কোথায়? এক নিমিষেই উবে গেলো এতোক্ষণের জাকিয়ে বসা রাজ্যের ঘুম। লোকটি তড়াক করে দাঁড়িয়ে গেলো। আশপাশে তন্ন তন্ন করে খুঁজলো; কিন্তু কই? কোথাও তো বাহনটিকে দেখা যাচ্ছে না। সে পাগলের মতো এদিক-ওদিক সন্ধান করলো。
বাহনটিকে খুঁজে না পেয়ে লোকটি অস্থির হয়ে ওঠলো। হায় হায়! এখন কী হবে? পেছনে ফিরে যাবো, সেই উপায়ও তো নেই। সামনের দিকে এগোনোর বন্দোবস্তও করা যাচ্ছে না।... ওদিকে বাহনটির ওপর আমার সকল খাদ্য-পানীয় বোঝাই করা ছিলো। এই জনমানবহীন তেপান্তরে আমি খাদ্য-জল ছাড়া কতোক্ষণ বাঁচবো। এখন আমি কী করবো? আমাকে তো ক্ষুধা-তৃষ্ণায় ছটফট করে করে মরতে হবে。
জীবন থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে লোকটি মাটির ওপর বসে পড়লো। মৃত্যুর হাতছানির সামনে দু'চোখের তপ্ত অশ্রু ফেলা ছাড়া একজন অসহায় কীইবা করতে পারে। লোকটিও তাই অঝোরে অশ্রু বিসর্জন দিলো। এভাবে কাঁদতে কাঁদতে একসময় সে ঘুমিয়েও পড়লো。
হঠাৎ খসখসে পায়ের শব্দ শুনে লোকটির ঘুম ভেঙ্গে গেলো। সে যা কল্পনাও করে নি চোখের সামনে তা দেখে সে বিস্মিত না হয়ে পারলো না। এ কী! কোত্থেকে তার সেই হারিয়ে যাওয়া বাহন উল্টো পায়ে হেঁটে হেঁটে চলে এসেছে! বাহনটির ওপর তার খাবার-জলগুলো অক্ষুন্ন আছে। একটুও হেরফের হয়নি। আনন্দের আতিশয্যে লোকটি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠলো। তার কাছে মনে হলো, সে নতুন করে জীবন পেয়েছে। বুকের পাজড় ভেঙ্গে উড়ে যাওয়া প্রাণপাখি কী মনে করে ফিরে এসেছে。
আল্লাহু আকবার। এভাবে খাদ্য-জল বোঝাই একমাত্র বাহনের ফিরে আসাতে লোকটি যে পরিমাণ উল্লসিত হয়েছে; কোনো বান্দা যখন গুনাহের পথ ছেড়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে আল্লাহ তখন তারচেয়ে কয়েক গুণ বেশি আনন্দিত হন। আসুন, আমরা তাওবা করি আল্লাহর সুবোধ বান্দা হয়ে আল্লাহর সমীপে ফিরে যাই।
📄 আল মুনতাক্বিম
'আল মুনতাক্বিম'-এর শাব্দিক অর্থ প্রতিশোধ গ্রহণকারী। যারা আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেয় না; বা তার নবী-রাসূলকে অস্বীকার করে; কিংবা চোখের সামনে আল্লাহর কোনো নিদর্শন জ্বলজ্বল করে উদ্ভাসিত হতে দেখেও ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে; কিংবা তাঁর অবাধ্য হয়; কিংবা তার নে'আমতের অবমূল্যায়ন করে আল্লাহ তা'আলা তাদের কাছ থেকে তাদের সেই অপকর্মের প্রতিশোধ গ্রহণ করে থাকেন। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ
নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী; প্রতিশোধ গ্রহণকারী। [সূরা ইবরাহীম : ৪৭]
কোনো বান্দা গুনাহ করার পর তাওবা করে ফিরে এলে যেভাবে আল্লাহ তার সেই তাওবা করেন, তদ্রুপ কোনো বান্দা তাঁর অবাধ্য দূরাচারী হলে তিনি তাকে কষ্টদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন না করিয়ে ছাড়েন না। তবে শাস্তি দেয়ার আগে তিনি প্রায়শই তাদেরকে কিছু সময়ের অবকাশ দেন- এ আশায় যে, হয়তো তারা ফিরে এসে সুবোধ মানুষে পরিণত হবে。
একজন মানুষ যখন আল্লাহ তা'আলার এ পরিচয় সম্পর্কে অবহিত হয় তখন সে নিজেকে আল্লাহর ভয়ে ভীত বান্দা হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। সে তখন আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে কোনো পাপের অনুগামী হতে রাজি হয় না。
সামুদ জাতির পরিণতি
সামুদ নামের একটি আরব গোত্র উত্তর হিজাযে বসবাস করতো। আল্লাহর অনেক নে'আমত পেয়েও তারা ছিলো সম্মিলিতভাবে একটি দূরাচারী গোত্র। সর্বত্র ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বেড়াতো। অন্যায় অসৎ কাজে তাদেরকে সবার আগে এগিয়ে থাকতে দেখা যেতো।...
তাদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা'আলা হযরত সালেহ আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন। তিনি তাদেরকে ঈমানের কথা বললেন; হিদায়াতের পথ দেখালেন; জান্নাত-জাহান্নামের চিত্র তুলে ধরলেন। তিনি তাদের হাত ধরে; পিঠ বুলিয়ে বুঝালেন।...
সামুদ গোত্রের লোকগুলো এতোটাই দূরাচারী ছিলো যে, তারা হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের কোনো কথাই কানে তুললো না। উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলে বসলো যে, 'আপনি যদি আল্লাহর সত্য নবী হয়ে থাকেন তাহলে মু'জিযা দেখান।'
কী মু'জিযা?
'ওই পাথরের নিষ্প্রাণ পাহাড়ের বুক চিরে একটি জ্বলজ্যান্ত উট বের করে দেখান।'
হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম তাদের দাবী মেনে নিলেন। তিনি তাদের চোখের সামনে পাথরের বুক থেকে একটি জীবন্ত উটনি বের করে আনলেন。
এমন অদ্ভুত কাণ্ড দেখে বিস্ময়ে তারা নির্বাক হয়ে পড়েছিলো। হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম বললেন, 'দেখো। এ উট আল্লাহর একটি নিদর্শন। কাজেই সেটি কষ্ট পায়; এমন কোনো কাজ কেউ করতে পারবে না।'
পূর্বেই বলেছিলাম, সামুদ গোত্রের লোকগুলো ছিলো বদের হাড্ডি। বেজায় দুষ্ট। তারা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের স্বাক্ষর রেখে একদিন সেই উটটিকে যবেহ করে ফেললো। তখন হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম তখন বললেন, 'অপেক্ষা করো। মাত্র তিন দিনের ভেতর তোমরা আল্লাহর গযবের শিকার হবে।'
অবাধ্য সেই লোকগুলো আল্লাহর মহান নবীর এই সতর্ক বার্তাটিকেও হেসে উড়িয়ে দিলো। এমনকি তারা তাঁর বিদ্রুপও করতে লাগলো。
এভাবে তিনদিন কেটে গেলো। চতুর্থদিন আল্লাহ্ প্রেরণ করলেন বিকট এক চিৎকার। সেই চিৎকার এতোটাই তীব্র ছিলো যে, তাদের সবার বুক ফেটে গেলো। শরীরগুলো টুকরো টুকরো হয়ে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লো। তাদের বিশাল বিশাল দালানগুলো তুলোর মতো খণ্ড, খণ্ড হয়ে মাটিতে ধসে পড়লো। উপাসনালয়গুলোও ভেঙে চৌচির হয়ে গেলো।... শুধু বেঁচে গেলেন হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম ও তাঁর সঙ্গের অল্প কয়েকজন মুমিন বান্দা。