📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল আখির

📄 আল আখির


আল্লাহ তা'আলা-ই প্রথম। তাঁর আগে অন্য কোনো বস্তু বা কোনো সত্তার অস্তিত্ব ছিলো না। তিনি অনাদি। তাঁর পূর্বে কেউ নেই। তিনিই অনন্ত। তাঁর পরেও কেউ নেই। পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে; শুধু তিনি-ই চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন। একমাত্র আল্লাহই অনাদি, অনন্ত, চিরঞ্জীব। কুরআনে কারীমে এসেছে-
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
'তিনিই প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।' [সূরা আল হাদীদ : ৩]
একজন মুসলমান যখন আল্লাহর এ নামদ্বয়ের মাহাত্ম্য তার হৃদয়ে লালন করবে তখন দেখা যাবে- যে কোনো কল্যাণকর কাজে সেই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে; এবং অসৎ কাজে দেখা যাবে সেই সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে。
তুমি কি জানো?
আমেরিকা মহাদেশে একটি বিশাল গাছের সাক্ষাত মেলে। গাছটির আঞ্চলিক নাম, 'সিকোয়া' বা 'জেনারেল শ্যারম্যান'। এটি প্রায় ৮৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। মাটির প্রায় ৩৫ মিটার গভীরে গাছটির শেকড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এ গাছটিকে প্রাণীজগতের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভারি মনে করা হয়ে থাকে। কেননা একেকটি গাছের ওজন হয়ে থাকে প্রায় ২০০০ টন。
এই সিকোয়া প্রজাতির যেই গাছগুলো সমুদ্রের তীরে বেড়ে ওঠে সেগুলো তুলনামূলকভাবে আরো লম্বা ও গভীর হয়ে থাকে। গড়ে একেকটি গাছ প্রায় ১২০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে。
আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, এ গাছগুলোর জীবনীশক্তিও অনেক বেশি। বিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে দেখেছেন যে, একেকটি গাছ প্রায় ৩৬০০ থেকে ৪০০০ বছর পর্যন্ত দিব্যি বেঁচে থাকে。
আপনি অবাক হবেন, এতো বিশাল গাছও সূচনালগ্নে ছিলো খুবই ক্ষুদ্র একটি দানা। দানাগুলো এতোটাই ছোট যে, সর্বসাকুল্যে সেটির ওজন ১২৫০ গ্রামের বেশি হবে না!!
এতো বিশাল, গভীর ও ভারি গাছও একসময় লাকড়ি হয়ে সেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। পৃথিবীর সবকিছুই একসময় মাটি হয়ে যায়। শুধু থেকে যান সেই মহান আল্লাহ... যার অন্ত নেই। যিনি অনন্ত মহামহিম。
একটি দু'আ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পূর্বে এ দু'আ পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٍ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
'হে আল্লাহ! হে আসমান ও জমিনের রব! হে মহান আরশের অধিপতি! আপনিই তো আমাদের রব। আপনি সবার রব। আপনিই তো বীজ ও শষ্যদানা বিদীর্ণ করেন। আপনি-ই তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আমি আপনার কাছে আপনার অধীনস্থ সকল বস্তুর অনিষ্ট হতে পানাহ চাই。
হে আল্লাহ! আপনি-ই প্রথম। আপনার পূর্বে কিছুই ছিলো না। আপনি-ই অন্ত। আপনার পর কিছুই থাকবে না। আপনি-ই প্রকাশ্য। আপনার ওপর যেমন কিছুই নেই। তদ্রুপ আপনি-ই অপ্রকাশ্য। আপনার নিচেও কোনো কিছু নেই। আপনি আমাদের সকল ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে দারিদ্র থেকে মুক্ত রাখুন।'

আল্লাহ তা'আলা-ই প্রথম। তাঁর আগে অন্য কোনো বস্তু বা কোনো সত্তার অস্তিত্ব ছিলো না। তিনি অনাদি। তাঁর পূর্বে কেউ নেই। তিনিই অনন্ত। তাঁর পরেও কেউ নেই। পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে; শুধু তিনি-ই চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন। একমাত্র আল্লাহই অনাদি, অনন্ত, চিরঞ্জীব। কুরআনে কারীমে এসেছে-
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
'তিনিই প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।' [সূরা আল হাদীদ : ৩]
একজন মুসলমান যখন আল্লাহর এ নামদ্বয়ের মাহাত্ম্য তার হৃদয়ে লালন করবে তখন দেখা যাবে- যে কোনো কল্যাণকর কাজে সেই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে; এবং অসৎ কাজে দেখা যাবে সেই সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে。
তুমি কি জানো?
আমেরিকা মহাদেশে একটি বিশাল গাছের সাক্ষাত মেলে। গাছটির আঞ্চলিক নাম, 'সিকোয়া' বা 'জেনারেল শ্যারম্যান'। এটি প্রায় ৮৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। মাটির প্রায় ৩৫ মিটার গভীরে গাছটির শেকড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এ গাছটিকে প্রাণীজগতের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভারি মনে করা হয়ে থাকে। কেননা একেকটি গাছের ওজন হয়ে থাকে প্রায় ২০০০ টন。
এই সিকোয়া প্রজাতির যেই গাছগুলো সমুদ্রের তীরে বেড়ে ওঠে সেগুলো তুলনামূলকভাবে আরো লম্বা ও গভীর হয়ে থাকে। গড়ে একেকটি গাছ প্রায় ১২০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে。
আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, এ গাছগুলোর জীবনীশক্তিও অনেক বেশি। বিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে দেখেছেন যে, একেকটি গাছ প্রায় ৩৬০০ থেকে ৪০০০ বছর পর্যন্ত দিব্যি বেঁচে থাকে。
আপনি অবাক হবেন, এতো বিশাল গাছও সূচনালগ্নে ছিলো খুবই ক্ষুদ্র একটি দানা। দানাগুলো এতোটাই ছোট যে, সর্বসাকুল্যে সেটির ওজন ১২৫০ গ্রামের বেশি হবে না!!
এতো বিশাল, গভীর ও ভারি গাছও একসময় লাকড়ি হয়ে সেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। পৃথিবীর সবকিছুই একসময় মাটি হয়ে যায়। শুধু থেকে যান সেই মহান আল্লাহ... যার অন্ত নেই। যিনি অনন্ত মহামহিম。
একটি দু'আ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পূর্বে এ দু'আ পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٍ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
'হে আল্লাহ! হে আসমান ও জমিনের রব! হে মহান আরশের অধিপতি! আপনিই তো আমাদের রব। আপনি সবার রব। আপনিই তো বীজ ও শষ্যদানা বিদীর্ণ করেন। আপনি-ই তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আমি আপনার কাছে আপনার অধীনস্থ সকল বস্তুর অনিষ্ট হতে পানাহ চাই。
হে আল্লাহ! আপনি-ই প্রথম। আপনার পূর্বে কিছুই ছিলো না। আপনি-ই অন্ত। আপনার পর কিছুই থাকবে না। আপনি-ই প্রকাশ্য। আপনার ওপর যেমন কিছুই নেই। তদ্রুপ আপনি-ই অপ্রকাশ্য। আপনার নিচেও কোনো কিছু নেই। আপনি আমাদের সকল ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে দারিদ্র থেকে মুক্ত রাখুন।'

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আয যাহের

📄 আয যাহের


‘আয যাহের’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি সুস্পষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অকাট্য যুক্তির আলোকে, স্পষ্ট তথ্যের বিচারে প্রতিটি বিবেক ও মেধার কাছে সুস্পষ্ট。
আমাদের চারপাশে যেই বিশাল প্রকৃতির রয়েছে; আকাশ, যমিন, উদ্ভিৎ, প্রাণীজগৎ নিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যেই সম্ভার রয়েছে- আপনি যদি গভীর দৃষ্টিতে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে ওই সৃষ্টিজগতের মাধ্যমে আপনি আপনার একক স্রষ্টা মহান আল্লাহর অস্তিত্বের সুদৃঢ় প্রমাণ পেয়ে যাবেন。
কুদরতের বৈচিত্র আপনাকে স্বীকার করাবে যে, এক মহান প্রভুর অধীনে এই বিশাল সৃষ্টিজগৎ পরিচালিত হচ্ছে। সেকথাই বিমূর্ত হয়েছে পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে-
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِأُولِي الأَلْبَابِ
'নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নিদর্শন। [সূরা আলে ইমরান : ১৯০]
'আল বাতেন' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি মাখলুকাতের চর্মচোখ থেকে নিজ সত্তাকে আড়াল করে রেখেছেন। যাকে কোনো চোখ দেখে না; অথচ তিনি সবাইকেই দেখেন। এটিও মহান আল্লাহর অন্যতম একটি গুণবাচক নাম। কেননা, আমরা আমাদের হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করতে পারবো না; আমাদের অনুভূতি দিয়ে তাঁকে অনুভব করতে পারবো না। আমরা বড়জোর তাঁর কিছু নিদর্শন; তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডের প্রকাশ দেখতে পারবো না। অথচ তিনি আমাদের ভেতর-বাইর; সবটাই পরিস্কার দেখতে পান। তিনি প্রতিটি বস্তুর অন্তর্নিহিত শেকড়ও দেখতে পান。
একজন মুমিন বান্দা যখন জানবে যে, আল্লাহ তার সার্বিক অবস্থা ও যাবতীয় গতিবিধি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল তখন সে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য; সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহকে ভয় করবে। তার ভেতর ও বাইর সবসময় আল্লাহর ভয়ে তটস্থ থাকবে।...
আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় নি'আমত।... এ নি'আমত যে লাভ করেছে সে প্রকারান্তরে জান্নাত পেয়ে গেছে。
তুমি কীভাবে তোমার রবকে চিনলে?
একবার এক স্থানে দু'জন লোক কথা বলছিলো। তারা কথা বলছিলো বেশ চড়া গলায়- উঁচু আওয়াজে। আসলে তারা তখন আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে তর্ক করছিলো। ইতোমধ্যে তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো একজন গ্রাম্য লোক। তার সঙ্গে ছিলো একটি উট। লোকটি সেই উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের বিতর্কের প্রতি নিস্পৃহভাব দেখিয়ে গ্রাম্য লোকটি প্রায় পাশ কেটে চলে যাচ্ছিলো。
তাদের একজন ছিলো নাস্তিক। আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি তার কোনো বিশ্বাসই ছিলো। সে বলে ওঠলো-
'আমি আমার দু'চোখে কোনো দিন আল্লাহকে দেখতে পাইনি। তাহলে তুমি আমাকে কীভাবে এমন কারো ইবাদত করতে আহ্বান করছো; যাকে আমি কখনই দেখিনি?!
এ কথা বলে লোকটি অক্ষিগোলক ছোট করে গ্রাম্য লোকটির দিকে তাকালো। হঠাৎ তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলা করলো। সে লোকটিকে লক্ষ্য করে কটাক্ষের সুরে বললো-
'এমনকি ওই যে গ্রাম্য লোকটি যাচ্ছে তাকে যদি তুমি প্রশ্ন করো যে, কীভাবে তুমি তোমার রবকে চিনলে? তাহলে তার উত্তরে সে কিছুই বলতে পারবে না। আসলে তোমরা সবাই এমন সত্তার উপাসনা করো যাকে তোমরা কেউ-ই চেনো না'।
গ্রাম্য লোকটি তখন নাস্তিক লোকটির দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। তার চোখে সেসময় খেলা করছিলো ঈমান ও প্রশান্তির জ্যোতি। পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে তখন বললো-
'হে ভাই! কোথাও যদি উটের মল দেখা যায়, তাহলে ওই মলের অস্তিত্ব প্রমাণিত করে সেখানে অবশ্যই কোনো উট আছে। মরুভূমির ওপর যদি পায়ের রেখা দেখা যায়, তাহলে পায়ের সেই রেখা প্রমাণিত করে কোনো পথিকের অস্তিত্বকে। তাহলে বলো- এই স্তরে স্তরে সাজানো আকাশ; সুবিশাল প্রান্তরবিষ্টি যমিন কি আমাদেরকে এমন কোনো সত্তার অস্তিত্বের জানান দেয় না; যিনি কর্মকুশলতার সঙ্গে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি বিশ্বজগতের সাবির্ক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল?!'
গ্রাম্য লোকটির প্রত্যয়দীপ্ত উত্তর শুনে ওই লোকটি তখন নির্বাক হয়ে গেলো। পরাজয়ের প্রকাণ্ড বোঝা তার মাথার ওপর এমনভাবে চেপে বসেছে যে, সে তার কাঁধ সোজা করতে পারছে না। গ্রাম্য লোকটি তখন শান্ত পদবিক্ষেপে তার সঙ্গের উটটিকে হাঁকিয়ে চলে গেলো। দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তার দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া তাদের করার আর কিছুই ছিলো না。

‘আয যাহের’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি সুস্পষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অকাট্য যুক্তির আলোকে, স্পষ্ট তথ্যের বিচারে প্রতিটি বিবেক ও মেধার কাছে সুস্পষ্ট。
আমাদের চারপাশে যেই বিশাল প্রকৃতির রয়েছে; আকাশ, যমিন, উদ্ভিৎ, প্রাণীজগৎ নিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যেই সম্ভার রয়েছে- আপনি যদি গভীর দৃষ্টিতে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে ওই সৃষ্টিজগতের মাধ্যমে আপনি আপনার একক স্রষ্টা মহান আল্লাহর অস্তিত্বের সুদৃঢ় প্রমাণ পেয়ে যাবেন。
কুদরতের বৈচিত্র আপনাকে স্বীকার করাবে যে, এক মহান প্রভুর অধীনে এই বিশাল সৃষ্টিজগৎ পরিচালিত হচ্ছে। সেকথাই বিমূর্ত হয়েছে পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে-
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِأُولِي الأَلْبَابِ
'নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নিদর্শন। [সূরা আলে ইমরান : ১৯০]
'আল বাতেন' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি মাখলুকাতের চর্মচোখ থেকে নিজ সত্তাকে আড়াল করে রেখেছেন। যাকে কোনো চোখ দেখে না; অথচ তিনি সবাইকেই দেখেন। এটিও মহান আল্লাহর অন্যতম একটি গুণবাচক নাম। কেননা, আমরা আমাদের হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করতে পারবো না; আমাদের অনুভূতি দিয়ে তাঁকে অনুভব করতে পারবো না। আমরা বড়জোর তাঁর কিছু নিদর্শন; তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডের প্রকাশ দেখতে পারবো না। অথচ তিনি আমাদের ভেতর-বাইর; সবটাই পরিস্কার দেখতে পান। তিনি প্রতিটি বস্তুর অন্তর্নিহিত শেকড়ও দেখতে পান。
একজন মুমিন বান্দা যখন জানবে যে, আল্লাহ তার সার্বিক অবস্থা ও যাবতীয় গতিবিধি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল তখন সে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য; সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহকে ভয় করবে। তার ভেতর ও বাইর সবসময় আল্লাহর ভয়ে তটস্থ থাকবে।...
আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় নি'আমত।... এ নি'আমত যে লাভ করেছে সে প্রকারান্তরে জান্নাত পেয়ে গেছে。
তুমি কীভাবে তোমার রবকে চিনলে?
একবার এক স্থানে দু'জন লোক কথা বলছিলো। তারা কথা বলছিলো বেশ চড়া গলায়- উঁচু আওয়াজে। আসলে তারা তখন আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে তর্ক করছিলো। ইতোমধ্যে তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো একজন গ্রাম্য লোক। তার সঙ্গে ছিলো একটি উট। লোকটি সেই উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের বিতর্কের প্রতি নিস্পৃহভাব দেখিয়ে গ্রাম্য লোকটি প্রায় পাশ কেটে চলে যাচ্ছিলো。
তাদের একজন ছিলো নাস্তিক। আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি তার কোনো বিশ্বাসই ছিলো। সে বলে ওঠলো-
'আমি আমার দু'চোখে কোনো দিন আল্লাহকে দেখতে পাইনি। তাহলে তুমি আমাকে কীভাবে এমন কারো ইবাদত করতে আহ্বান করছো; যাকে আমি কখনই দেখিনি?!
এ কথা বলে লোকটি অক্ষিগোলক ছোট করে গ্রাম্য লোকটির দিকে তাকালো। হঠাৎ তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলা করলো। সে লোকটিকে লক্ষ্য করে কটাক্ষের সুরে বললো-
'এমনকি ওই যে গ্রাম্য লোকটি যাচ্ছে তাকে যদি তুমি প্রশ্ন করো যে, কীভাবে তুমি তোমার রবকে চিনলে? তাহলে তার উত্তরে সে কিছুই বলতে পারবে না। আসলে তোমরা সবাই এমন সত্তার উপাসনা করো যাকে তোমরা কেউ-ই চেনো না'।
গ্রাম্য লোকটি তখন নাস্তিক লোকটির দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। তার চোখে সেসময় খেলা করছিলো ঈমান ও প্রশান্তির জ্যোতি। পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে তখন বললো-
'হে ভাই! কোথাও যদি উটের মল দেখা যায়, তাহলে ওই মলের অস্তিত্ব প্রমাণিত করে সেখানে অবশ্যই কোনো উট আছে। মরুভূমির ওপর যদি পায়ের রেখা দেখা যায়, তাহলে পায়ের সেই রেখা প্রমাণিত করে কোনো পথিকের অস্তিত্বকে। তাহলে বলো- এই স্তরে স্তরে সাজানো আকাশ; সুবিশাল প্রান্তরবিষ্টি যমিন কি আমাদেরকে এমন কোনো সত্তার অস্তিত্বের জানান দেয় না; যিনি কর্মকুশলতার সঙ্গে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি বিশ্বজগতের সাবির্ক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল?!'
গ্রাম্য লোকটির প্রত্যয়দীপ্ত উত্তর শুনে ওই লোকটি তখন নির্বাক হয়ে গেলো। পরাজয়ের প্রকাণ্ড বোঝা তার মাথার ওপর এমনভাবে চেপে বসেছে যে, সে তার কাঁধ সোজা করতে পারছে না। গ্রাম্য লোকটি তখন শান্ত পদবিক্ষেপে তার সঙ্গের উটটিকে হাঁকিয়ে চলে গেলো। দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তার দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া তাদের করার আর কিছুই ছিলো না。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল বাতেন

📄 আল বাতেন


‘আয যাহের’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি সুস্পষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অকাট্য যুক্তির আলোকে, স্পষ্ট তথ্যের বিচারে প্রতিটি বিবেক ও মেধার কাছে সুস্পষ্ট。
আমাদের চারপাশে যেই বিশাল প্রকৃতির রয়েছে; আকাশ, যমিন, উদ্ভিৎ, প্রাণীজগৎ নিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যেই সম্ভার রয়েছে- আপনি যদি গভীর দৃষ্টিতে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে ওই সৃষ্টিজগতের মাধ্যমে আপনি আপনার একক স্রষ্টা মহান আল্লাহর অস্তিত্বের সুদৃঢ় প্রমাণ পেয়ে যাবেন。
কুদরতের বৈচিত্র আপনাকে স্বীকার করাবে যে, এক মহান প্রভুর অধীনে এই বিশাল সৃষ্টিজগৎ পরিচালিত হচ্ছে। সেকথাই বিমূর্ত হয়েছে পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে-
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِأُولِي الأَلْبَابِ
'নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নিদর্শন। [সূরা আলে ইমরান : ১৯০]
'আল বাতেন' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি মাখলুকাতের চর্মচোখ থেকে নিজ সত্তাকে আড়াল করে রেখেছেন। যাকে কোনো চোখ দেখে না; অথচ তিনি সবাইকেই দেখেন। এটিও মহান আল্লাহর অন্যতম একটি গুণবাচক নাম। কেননা, আমরা আমাদের হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করতে পারবো না; আমাদের অনুভূতি দিয়ে তাঁকে অনুভব করতে পারবো না। আমরা বড়জোর তাঁর কিছু নিদর্শন; তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডের প্রকাশ দেখতে পারবো না। অথচ তিনি আমাদের ভেতর-বাইর; সবটাই পরিস্কার দেখতে পান। তিনি প্রতিটি বস্তুর অন্তর্নিহিত শেকড়ও দেখতে পান。
একজন মুমিন বান্দা যখন জানবে যে, আল্লাহ তার সার্বিক অবস্থা ও যাবতীয় গতিবিধি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল তখন সে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য; সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহকে ভয় করবে। তার ভেতর ও বাইর সবসময় আল্লাহর ভয়ে তটস্থ থাকবে।...
আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় নি'আমত।... এ নি'আমত যে লাভ করেছে সে প্রকারান্তরে জান্নাত পেয়ে গেছে。
তুমি কীভাবে তোমার রবকে চিনলে?
একবার এক স্থানে দু'জন লোক কথা বলছিলো। তারা কথা বলছিলো বেশ চড়া গলায়- উঁচু আওয়াজে। আসলে তারা তখন আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে তর্ক করছিলো। ইতোমধ্যে তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো একজন গ্রাম্য লোক। তার সঙ্গে ছিলো একটি উট। লোকটি সেই উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের বিতর্কের প্রতি নিস্পৃহভাব দেখিয়ে গ্রাম্য লোকটি প্রায় পাশ কেটে চলে যাচ্ছিলো。
তাদের একজন ছিলো নাস্তিক। আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি তার কোনো বিশ্বাসই ছিলো। সে বলে ওঠলো-
'আমি আমার দু'চোখে কোনো দিন আল্লাহকে দেখতে পাইনি। তাহলে তুমি আমাকে কীভাবে এমন কারো ইবাদত করতে আহ্বান করছো; যাকে আমি কখনই দেখিনি?!
এ কথা বলে লোকটি অক্ষিগোলক ছোট করে গ্রাম্য লোকটির দিকে তাকালো। হঠাৎ তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলা করলো। সে লোকটিকে লক্ষ্য করে কটাক্ষের সুরে বললো-
'এমনকি ওই যে গ্রাম্য লোকটি যাচ্ছে তাকে যদি তুমি প্রশ্ন করো যে, কীভাবে তুমি তোমার রবকে চিনলে? তাহলে তার উত্তরে সে কিছুই বলতে পারবে না। আসলে তোমরা সবাই এমন সত্তার উপাসনা করো যাকে তোমরা কেউ-ই চেনো না'।
গ্রাম্য লোকটি তখন নাস্তিক লোকটির দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। তার চোখে সেসময় খেলা করছিলো ঈমান ও প্রশান্তির জ্যোতি। পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে তখন বললো-
'হে ভাই! কোথাও যদি উটের মল দেখা যায়, তাহলে ওই মলের অস্তিত্ব প্রমাণিত করে সেখানে অবশ্যই কোনো উট আছে। মরুভূমির ওপর যদি পায়ের রেখা দেখা যায়, তাহলে পায়ের সেই রেখা প্রমাণিত করে কোনো পথিকের অস্তিত্বকে। তাহলে বলো- এই স্তরে স্তরে সাজানো আকাশ; সুবিশাল প্রান্তরবিষ্টি যমিন কি আমাদেরকে এমন কোনো সত্তার অস্তিত্বের জানান দেয় না; যিনি কর্মকুশলতার সঙ্গে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি বিশ্বজগতের সাবির্ক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল?!'
গ্রাম্য লোকটির প্রত্যয়দীপ্ত উত্তর শুনে ওই লোকটি তখন নির্বাক হয়ে গেলো। পরাজয়ের প্রকাণ্ড বোঝা তার মাথার ওপর এমনভাবে চেপে বসেছে যে, সে তার কাঁধ সোজা করতে পারছে না। গ্রাম্য লোকটি তখন শান্ত পদবিক্ষেপে তার সঙ্গের উটটিকে হাঁকিয়ে চলে গেলো। দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তার দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া তাদের করার আর কিছুই ছিলো না。

‘আয যাহের’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি সুস্পষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অকাট্য যুক্তির আলোকে, স্পষ্ট তথ্যের বিচারে প্রতিটি বিবেক ও মেধার কাছে সুস্পষ্ট。
আমাদের চারপাশে যেই বিশাল প্রকৃতির রয়েছে; আকাশ, যমিন, উদ্ভিৎ, প্রাণীজগৎ নিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যেই সম্ভার রয়েছে- আপনি যদি গভীর দৃষ্টিতে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে ওই সৃষ্টিজগতের মাধ্যমে আপনি আপনার একক স্রষ্টা মহান আল্লাহর অস্তিত্বের সুদৃঢ় প্রমাণ পেয়ে যাবেন。
কুদরতের বৈচিত্র আপনাকে স্বীকার করাবে যে, এক মহান প্রভুর অধীনে এই বিশাল সৃষ্টিজগৎ পরিচালিত হচ্ছে। সেকথাই বিমূর্ত হয়েছে পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে-
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِأُولِي الأَلْبَابِ
'নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নিদর্শন। [সূরা আলে ইমরান : ১৯০]
'আল বাতেন' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি মাখলুকাতের চর্মচোখ থেকে নিজ সত্তাকে আড়াল করে রেখেছেন। যাকে কোনো চোখ দেখে না; অথচ তিনি সবাইকেই দেখেন। এটিও মহান আল্লাহর অন্যতম একটি গুণবাচক নাম। কেননা, আমরা আমাদের হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করতে পারবো না; আমাদের অনুভূতি দিয়ে তাঁকে অনুভব করতে পারবো না। আমরা বড়জোর তাঁর কিছু নিদর্শন; তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডের প্রকাশ দেখতে পারবো না। অথচ তিনি আমাদের ভেতর-বাইর; সবটাই পরিস্কার দেখতে পান। তিনি প্রতিটি বস্তুর অন্তর্নিহিত শেকড়ও দেখতে পান。
একজন মুমিন বান্দা যখন জানবে যে, আল্লাহ তার সার্বিক অবস্থা ও যাবতীয় গতিবিধি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল তখন সে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য; সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহকে ভয় করবে। তার ভেতর ও বাইর সবসময় আল্লাহর ভয়ে তটস্থ থাকবে।...
আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় নি'আমত।... এ নি'আমত যে লাভ করেছে সে প্রকারান্তরে জান্নাত পেয়ে গেছে。
তুমি কীভাবে তোমার রবকে চিনলে?
একবার এক স্থানে দু'জন লোক কথা বলছিলো। তারা কথা বলছিলো বেশ চড়া গলায়- উঁচু আওয়াজে। আসলে তারা তখন আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে তর্ক করছিলো। ইতোমধ্যে তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো একজন গ্রাম্য লোক। তার সঙ্গে ছিলো একটি উট। লোকটি সেই উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের বিতর্কের প্রতি নিস্পৃহভাব দেখিয়ে গ্রাম্য লোকটি প্রায় পাশ কেটে চলে যাচ্ছিলো。
তাদের একজন ছিলো নাস্তিক। আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি তার কোনো বিশ্বাসই ছিলো। সে বলে ওঠলো-
'আমি আমার দু'চোখে কোনো দিন আল্লাহকে দেখতে পাইনি। তাহলে তুমি আমাকে কীভাবে এমন কারো ইবাদত করতে আহ্বান করছো; যাকে আমি কখনই দেখিনি?!
এ কথা বলে লোকটি অক্ষিগোলক ছোট করে গ্রাম্য লোকটির দিকে তাকালো। হঠাৎ তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলা করলো। সে লোকটিকে লক্ষ্য করে কটাক্ষের সুরে বললো-
'এমনকি ওই যে গ্রাম্য লোকটি যাচ্ছে তাকে যদি তুমি প্রশ্ন করো যে, কীভাবে তুমি তোমার রবকে চিনলে? তাহলে তার উত্তরে সে কিছুই বলতে পারবে না। আসলে তোমরা সবাই এমন সত্তার উপাসনা করো যাকে তোমরা কেউ-ই চেনো না'।
গ্রাম্য লোকটি তখন নাস্তিক লোকটির দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। তার চোখে সেসময় খেলা করছিলো ঈমান ও প্রশান্তির জ্যোতি। পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে তখন বললো-
'হে ভাই! কোথাও যদি উটের মল দেখা যায়, তাহলে ওই মলের অস্তিত্ব প্রমাণিত করে সেখানে অবশ্যই কোনো উট আছে। মরুভূমির ওপর যদি পায়ের রেখা দেখা যায়, তাহলে পায়ের সেই রেখা প্রমাণিত করে কোনো পথিকের অস্তিত্বকে। তাহলে বলো- এই স্তরে স্তরে সাজানো আকাশ; সুবিশাল প্রান্তরবিষ্টি যমিন কি আমাদেরকে এমন কোনো সত্তার অস্তিত্বের জানান দেয় না; যিনি কর্মকুশলতার সঙ্গে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি বিশ্বজগতের সাবির্ক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল?!'
গ্রাম্য লোকটির প্রত্যয়দীপ্ত উত্তর শুনে ওই লোকটি তখন নির্বাক হয়ে গেলো। পরাজয়ের প্রকাণ্ড বোঝা তার মাথার ওপর এমনভাবে চেপে বসেছে যে, সে তার কাঁধ সোজা করতে পারছে না। গ্রাম্য লোকটি তখন শান্ত পদবিক্ষেপে তার সঙ্গের উটটিকে হাঁকিয়ে চলে গেলো। দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তার দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া তাদের করার আর কিছুই ছিলো না。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ওয়ালী

📄 আল ওয়ালী


‘আল ওয়ালী’ বলা হয় এমন সত্তাকে যিনি তার সৃষ্টিজীবের সকল বিষয় তত্ত্বাবধান করেন। যিনি তাদের সকল কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত করেন। যিনি তাদের জন্যে কল্যাণের ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তা’আলাই সেই সত্তা। কারণ, তিনি পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুর একচ্ছত্র মালিক। তিনি যেমন তাদের কল্যাণ-অকল্যাণ সম্পর্কে সম্যক অবহিত; তদ্রুপ তিনি তাদের ওপর সার্বভৌম ক্ষমতারও অধিকারী। যার ফলে তিনি নিজ প্রজ্ঞা ও বিবেচনা অনুসারে তাদের জন্যে যখন যা ইচ্ছে সেটাই বাস্তবায়ন করেন。
আল্লাহর বান্দা হিসেবে একজন মুসলমানের করণীয় হলো, সে প্রতিটি ক্ষেত্রে জনকল্যাণের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেবে। সে সবার খোঁজ-খবর নিয়ে পূর্ণ বিশ্বস্ততার সঙ্গে নিষ্ঠাপূর্ণ আচরণ করবে。
আর এসব সে এজন্যে করবে যে, এর কারণে মহান আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হবেন。
হিজরতের রজনীতে
মক্কার কাফেরদের মনে হলো, শীঘ্রই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা অভিমুখে হিজরত করবেন। কারণ, ইতোমধ্যে সিংহভাগ সাহাবী মক্কা ত্যাগ করে সেখানে হাজির হয়েছেন। তারা সেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপেক্ষা করছেন। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলো- অনতিবিলম্বে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে。
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্যে তারা মক্কার প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে শক্তিশালী যুবক বাছাই করে একটি চৌকষ বাহিনী তৈরি করলো। প্রত্যেকের হাতে তারা ধারালো উন্মুক্ত তরবারি তুলে দিলো。
পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত চরিতার্থ করার জন্যে এক রাতে তারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহের চারপাশে জড়ো হলো।... গৃহের চতুর্দিক থেকে তারা বজ্রকঠিন বেষ্টনি বানিয়ে ঘিরে ফেললো。
ওদিকে আল্লাহ তা'আলা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- তিনি তাদের চক্রান্ত থেকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করবেন। ব্যর্থতায় পর্যবাসিত করে দেবেন তাদের প্রতিটি চক্রান্ত। সেমতে আল্লাহ তখন তাদের প্রত্যেকের চোখের ওপর এমনভাবে পর্দা ঢেলে দিলেন যে, তারা সামনের কোনো কিছুই দেখতে পাচ্ছিলো না। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের চোখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে এলেন; অথচ তাদের কেউ-ই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেলো না। কুরআনে কারীমে ঘটনাটির বিবরণ এভাবে এসেছে-
وَجَعَلْنَا مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لا يُبْصِرُونَ
'আর আমি তাদের সামনে একটি প্রাচীর ও তাদের পিছনে একটি প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর আমি তাদেরকে ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা দেখতে পায় না।'
[সূরা ইয়াসীন: ৯]
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়ার পর আল্লাহ তা'আলা তাদের চোখের ওপর থেকে পর্দা উঠিয়ে নিলেন। তারা যখন পুরো গৃহ তল্লাশি নিয়ে বুঝতে পারলো যে, তিনি তাদের চোখ ফাকি দিয়ে চলে গেছেন তখন তারা ব্যর্থতার গ্লানিতে ভীষণ রকম ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠলো। তাঁকে খুঁজে বের করতে চতুর্দিকে দ্রুতগামী অশ্বারোহী প্রেরণ করলো。
ওদিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবূ বকর রাদি.-কে সঙ্গে নিয়ে 'সাওর' গুহায় পৌঁছে গেছেন। মরুভূমির বালুর ওপর তাঁদের দু'জনের পায়ের ছাপ অনুসরণ করে একদল স্বশস্ত্র অশ্বারোহী গুহার পাদদেশে পৌঁছে গেলো。
হযরত আবূ বকর রাদি. তাদের আলাপচারিতার শব্দ শুনতে পেয়ে চকিত উৎকর্ণ হয়ে ওঠলেন। ভীত কণ্ঠে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! এখন কী হবে? ওরা যদি তাদের পায়ের নিচের দিকে একটু খানি ঝুকে দেখে তাহলে নির্ঘাত আমাদের দেখে ফেলবে!...
তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ স্থিরতার সঙ্গে তাকে অভয় বাণী শুনিয়ে বললেন-
হে আবূ বকর! যদি কোনো দু'জন মুসাফিরের সহায়তাকারী হিসেবে খোদ আল্লাহ নিজেই থাকেন তাহলে তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে তোমার কি কোনো সংশয় থাকতে পারে?
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভয় বাণী শুনে হযরত আবূ বকর রাদি. আশ্বস্ত হলেন।...
ওদিকে পিছু ধাওয়াকারী স্বশস্ত্র ব্যক্তিরাও তাঁদেরকে দেখতে পেলো না। অগত্যা তারা নিরাশ হয়ে একরাশ ক্লান্তি কাঁধে বয়ে মক্কায় ফিরে গেলো।...

‘আল ওয়ালী’ বলা হয় এমন সত্তাকে যিনি তার সৃষ্টিজীবের সকল বিষয় তত্ত্বাবধান করেন। যিনি তাদের সকল কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত করেন। যিনি তাদের জন্যে কল্যাণের ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তা’আলাই সেই সত্তা। কারণ, তিনি পৃথিবীর প্রতিটি বস্তুর একচ্ছত্র মালিক। তিনি যেমন তাদের কল্যাণ-অকল্যাণ সম্পর্কে সম্যক অবহিত; তদ্রুপ তিনি তাদের ওপর সার্বভৌম ক্ষমতারও অধিকারী। যার ফলে তিনি নিজ প্রজ্ঞা ও বিবেচনা অনুসারে তাদের জন্যে যখন যা ইচ্ছে সেটাই বাস্তবায়ন করেন。
আল্লাহর বান্দা হিসেবে একজন মুসলমানের করণীয় হলো, সে প্রতিটি ক্ষেত্রে জনকল্যাণের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেবে। সে সবার খোঁজ-খবর নিয়ে পূর্ণ বিশ্বস্ততার সঙ্গে নিষ্ঠাপূর্ণ আচরণ করবে。
আর এসব সে এজন্যে করবে যে, এর কারণে মহান আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হবেন。
হিজরতের রজনীতে
মক্কার কাফেরদের মনে হলো, শীঘ্রই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা অভিমুখে হিজরত করবেন। কারণ, ইতোমধ্যে সিংহভাগ সাহাবী মক্কা ত্যাগ করে সেখানে হাজির হয়েছেন। তারা সেখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপেক্ষা করছেন। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলো- অনতিবিলম্বে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে。
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্যে তারা মক্কার প্রতিটি গোত্র থেকে একজন করে শক্তিশালী যুবক বাছাই করে একটি চৌকষ বাহিনী তৈরি করলো। প্রত্যেকের হাতে তারা ধারালো উন্মুক্ত তরবারি তুলে দিলো。
পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত চরিতার্থ করার জন্যে এক রাতে তারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহের চারপাশে জড়ো হলো।... গৃহের চতুর্দিক থেকে তারা বজ্রকঠিন বেষ্টনি বানিয়ে ঘিরে ফেললো。
ওদিকে আল্লাহ তা'আলা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- তিনি তাদের চক্রান্ত থেকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্ষা করবেন। ব্যর্থতায় পর্যবাসিত করে দেবেন তাদের প্রতিটি চক্রান্ত। সেমতে আল্লাহ তখন তাদের প্রত্যেকের চোখের ওপর এমনভাবে পর্দা ঢেলে দিলেন যে, তারা সামনের কোনো কিছুই দেখতে পাচ্ছিলো না। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের চোখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে এলেন; অথচ তাদের কেউ-ই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পেলো না। কুরআনে কারীমে ঘটনাটির বিবরণ এভাবে এসেছে-
وَجَعَلْنَا مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لا يُبْصِرُونَ
'আর আমি তাদের সামনে একটি প্রাচীর ও তাদের পিছনে একটি প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর আমি তাদেরকে ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা দেখতে পায় না।'
[সূরা ইয়াসীন: ৯]
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরাপদ দূরত্বে সরে পড়ার পর আল্লাহ তা'আলা তাদের চোখের ওপর থেকে পর্দা উঠিয়ে নিলেন। তারা যখন পুরো গৃহ তল্লাশি নিয়ে বুঝতে পারলো যে, তিনি তাদের চোখ ফাকি দিয়ে চলে গেছেন তখন তারা ব্যর্থতার গ্লানিতে ভীষণ রকম ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠলো। তাঁকে খুঁজে বের করতে চতুর্দিকে দ্রুতগামী অশ্বারোহী প্রেরণ করলো。
ওদিকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবূ বকর রাদি.-কে সঙ্গে নিয়ে 'সাওর' গুহায় পৌঁছে গেছেন। মরুভূমির বালুর ওপর তাঁদের দু'জনের পায়ের ছাপ অনুসরণ করে একদল স্বশস্ত্র অশ্বারোহী গুহার পাদদেশে পৌঁছে গেলো。
হযরত আবূ বকর রাদি. তাদের আলাপচারিতার শব্দ শুনতে পেয়ে চকিত উৎকর্ণ হয়ে ওঠলেন। ভীত কণ্ঠে বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! এখন কী হবে? ওরা যদি তাদের পায়ের নিচের দিকে একটু খানি ঝুকে দেখে তাহলে নির্ঘাত আমাদের দেখে ফেলবে!...
তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ স্থিরতার সঙ্গে তাকে অভয় বাণী শুনিয়ে বললেন-
হে আবূ বকর! যদি কোনো দু'জন মুসাফিরের সহায়তাকারী হিসেবে খোদ আল্লাহ নিজেই থাকেন তাহলে তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে তোমার কি কোনো সংশয় থাকতে পারে?
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভয় বাণী শুনে হযরত আবূ বকর রাদি. আশ্বস্ত হলেন।...
ওদিকে পিছু ধাওয়াকারী স্বশস্ত্র ব্যক্তিরাও তাঁদেরকে দেখতে পেলো না। অগত্যা তারা নিরাশ হয়ে একরাশ ক্লান্তি কাঁধে বয়ে মক্কায় ফিরে গেলো।...

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00