📄 আল মুয়াখখির
কোন বস্তুটি আগে যাবে আর কোন বস্তুটি পরে আসবে; এ সিদ্ধান্ত মহান আল্লাহই গ্রহণ করেন। তিনি-ই প্রতিটি বস্তুকে যথাযথ স্থানে স্থাপন করেন। কাজেই আল্লাহই অগ্রগামীযোগ্য বান্দাকে সামনে এগিয়ে দেন আর পশ্চাদযোগ্য বান্দাকে পেছনে রাখেন。
আল্লাহ তা'আলাই যেমন সকল নবী-রাসূলকে মানবজাতির সকল সদস্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তদ্রুপ তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন অপরাপর সকল নবী-রাসূলের ওপর।...
আল্লাহ তা'আলাই অজ্ঞদের ওপর জ্ঞানীদেরকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কাফেরদের ওপর তিনিই মুমিনদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর অবারিত রহমতের কারণেই জালেমদের ওপর শাস্তির বিষয়ে দেরি করেন- এ আশায় যে, তারা তাওবা করে সুপথে ফিরে আসবে。
আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হিসেবে একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো, সে তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে কল্যাণ ও মঙ্গলকে প্রাধান্য দেবে। আর ক্ষতিকর বিষয়গুলোকে পিছিয়ে দেবে।... তদ্রুপ তার করণীয় হলো, সে সর্বক্ষেত্রে মুমিন ও নেককার লোকদেরকে এগিয়ে রাখবে এবং তাদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করবে। পক্ষান্তরে ফাসেক-পাপাচারীদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখবে ও তাদেরকে পিছিয়ে রাখবে।... আর সবসময় সে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী কর্মকাণ্ডের ওপর আখেরাতের চিরস্থায়ী কর্মকাণ্ডকে প্রাধান্য দেবে。
সৈনিক থেকে রাজা
হযরত মুসা আলাইহিস সালামের ইনতিকালের পর ইসরাঈল সম্প্রদায় ঈমানের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে শান্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং সে মুতাবেক তিনি 'আমালিকা' নামের একটি বর্বর অভব্য সম্প্রদায়কে তাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। কুখ্যাত সেই বর্বর সম্প্রদায়ের রাজার নাম ছিলো, 'জালুত'।
জালূতের নেতৃত্বে আমালিকা গোষ্ঠী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের ওপর হামলে পড়ে। তারা তখন তাদেরকে গণহারে হত্যা করে। বাড়ি-ঘর লুণ্ঠন করে। এমনকি বনী ইসরাঈলীরা যেই পবিত্র সিন্দুকের ভেতর আসমানী গ্রন্থ 'তাওরাত' সংরক্ষণ করতো; সেটিও তারা উঠিয়ে নিয়ে যায়。
বনী ইসরাঈলীদেরকে তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার পর আল্লাহ তা'আলা অবশেষে তাদের মাঝে একজন নবী প্রেরণ করলেন। তিনি তাদেরকে নতুন করে ঈমানের পথ দেখাচ্ছিলেন। তাদের মনের জঞ্জাল পরিস্কার করে তাদেরকে আগামীর জন্যে পরিশুদ্ধ করে তুলছিলেন。
একদিনের ঘটনা। ইসরাঈলী সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য লোকজন সেই নবীর নিকট হাজির হয়ে নিবেদন করলেন যে, আপনি আমাদের জন্যে একজন শাসক নির্বাচন করুন। আমরা সেই শাসকের অধীনে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো।...
তখন সেই নবী তাদেরকে অবহিত করলেন যে, মহান আল্লাহ 'তালুত'-কে তাদের শাসক হিসেবে মনোনীত করেছেন。
আল্লাহর এই সিদ্ধান্তের কথা শুনে সেই গণ্যমান্য লোকেরা বেঁকে বসলো। তারা বললো, 'তালুত' তো একজন হতদরিদ্র সৈনিক। সে কীভাবে আমাদের শাসক হয়? আমাদের মধ্যে তার চেয়ে অধিক যোগ্য লোক তো আরো অনেকেই আছেন!
তাদের আপত্তির উত্তরে আল্লাহর নবী বললেন, তোমাদের কার কী যোগ্যতা সে সম্পর্কে আল্লাহ তোমাদের চেয়ে ভালো জানেন। এ কারণেই তিনি তালুতকে তোমাদের শাসক মনোনীত করেছেন। কেননা তোমাদের সকলের চেয়ে তালুতের যেমন জ্ঞান বেশি, তদ্রুপ শক্তিও অনেক বেশি。
ওদিকে আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের নির্দেশ করলেন, তোমরা সেই পবিত্র সিন্দুকটিকে ইসরাঈলীদের কাছে ফিরিয়ে দাও। তাহলে ওরা বুঝবে যে, এটি হচ্ছে তালুতের শাসক হিসেবে সর্বাধিক যোগ্য হওয়ার আলামত।
ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশ পালন করলেন। এই কুদরত দেখে ইসরাঈলীগণ আল্লাহর নির্দেশের কার্যকরিতা অনুভব করতে সক্ষম হলো। সঙ্গে সঙ্গে তারা তালুতের বশ্যতা স্বীকার করে নিলো। ...
অবশেষে তালুতের নেতৃত্বে ইসরাঈলীরা 'আমালিকা' সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বেরিয়ে পড়লো। দু' দলের মাঝে প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হলো। সেই যুদ্ধে আল্লাহ তা'আলা ইসরাঈলীদের বিজয় দান করলেন。
ওই ইসরাঈলী বাহিনীর সঙ্গে একজন রাখালও যোগদান করেছিলেন। তার দায়িত্ব ছিলো, সেনাদলের বকরির পাল দেখা-শুনা করে। নাম, দাউদ। যুদ্ধের ময়দানে দেখা গেলো, দাউদ নামের সেই রাখাল বালক-ই সবচেয়ে বেশী বীরত্ব দেখিয়েছেন। এমনকি তার হাতেই আমালিকা সম্প্রদায়ের দুর্বিনীত রাজা 'জালুত'-এর মৃত্যু ঘটে।...
পরবর্তীতে মহান আল্লাহ তা'আলা তাকে ইসরাঈলী সম্প্রদায়ের একচ্ছত্র শাসনের পাশাপাশি নবুওয়াত দান করেন। তিনি হলেন ইতিহাসের সেই মহান নবী হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম।...
📄 আল আউয়াল
আল্লাহ তা'আলা-ই প্রথম। তাঁর আগে অন্য কোনো বস্তু বা কোনো সত্তার অস্তিত্ব ছিলো না। তিনি অনাদি। তাঁর পূর্বে কেউ নেই। তিনিই অনন্ত। তাঁর পরেও কেউ নেই। পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে; শুধু তিনি-ই চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন। একমাত্র আল্লাহই অনাদি, অনন্ত, চিরঞ্জীব। কুরআনে কারীমে এসেছে-
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
'তিনিই প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।' [সূরা আল হাদীদ : ৩]
একজন মুসলমান যখন আল্লাহর এ নামদ্বয়ের মাহাত্ম্য তার হৃদয়ে লালন করবে তখন দেখা যাবে- যে কোনো কল্যাণকর কাজে সেই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে; এবং অসৎ কাজে দেখা যাবে সেই সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে。
তুমি কি জানো?
আমেরিকা মহাদেশে একটি বিশাল গাছের সাক্ষাত মেলে। গাছটির আঞ্চলিক নাম, 'সিকোয়া' বা 'জেনারেল শ্যারম্যান'। এটি প্রায় ৮৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। মাটির প্রায় ৩৫ মিটার গভীরে গাছটির শেকড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এ গাছটিকে প্রাণীজগতের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভারি মনে করা হয়ে থাকে। কেননা একেকটি গাছের ওজন হয়ে থাকে প্রায় ২০০০ টন。
এই সিকোয়া প্রজাতির যেই গাছগুলো সমুদ্রের তীরে বেড়ে ওঠে সেগুলো তুলনামূলকভাবে আরো লম্বা ও গভীর হয়ে থাকে। গড়ে একেকটি গাছ প্রায় ১২০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে。
আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, এ গাছগুলোর জীবনীশক্তিও অনেক বেশি। বিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে দেখেছেন যে, একেকটি গাছ প্রায় ৩৬০০ থেকে ৪০০০ বছর পর্যন্ত দিব্যি বেঁচে থাকে。
আপনি অবাক হবেন, এতো বিশাল গাছও সূচনালগ্নে ছিলো খুবই ক্ষুদ্র একটি দানা। দানাগুলো এতোটাই ছোট যে, সর্বসাকুল্যে সেটির ওজন ১২৫০ গ্রামের বেশি হবে না!!
এতো বিশাল, গভীর ও ভারি গাছও একসময় লাকড়ি হয়ে সেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। পৃথিবীর সবকিছুই একসময় মাটি হয়ে যায়। শুধু থেকে যান সেই মহান আল্লাহ... যার অন্ত নেই। যিনি অনন্ত মহামহিম。
একটি দু'আ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পূর্বে এ দু'আ পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٍ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
'হে আল্লাহ! হে আসমান ও জমিনের রব! হে মহান আরশের অধিপতি! আপনিই তো আমাদের রব। আপনি সবার রব। আপনিই তো বীজ ও শষ্যদানা বিদীর্ণ করেন। আপনি-ই তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আমি আপনার কাছে আপনার অধীনস্থ সকল বস্তুর অনিষ্ট হতে পানাহ চাই。
হে আল্লাহ! আপনি-ই প্রথম। আপনার পূর্বে কিছুই ছিলো না। আপনি-ই অন্ত। আপনার পর কিছুই থাকবে না। আপনি-ই প্রকাশ্য। আপনার ওপর যেমন কিছুই নেই। তদ্রুপ আপনি-ই অপ্রকাশ্য। আপনার নিচেও কোনো কিছু নেই। আপনি আমাদের সকল ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে দারিদ্র থেকে মুক্ত রাখুন।'
আল্লাহ তা'আলা-ই প্রথম। তাঁর আগে অন্য কোনো বস্তু বা কোনো সত্তার অস্তিত্ব ছিলো না। তিনি অনাদি। তাঁর পূর্বে কেউ নেই। তিনিই অনন্ত। তাঁর পরেও কেউ নেই। পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে; শুধু তিনি-ই চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন। একমাত্র আল্লাহই অনাদি, অনন্ত, চিরঞ্জীব। কুরআনে কারীমে এসেছে-
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
'তিনিই প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।' [সূরা আল হাদীদ : ৩]
একজন মুসলমান যখন আল্লাহর এ নামদ্বয়ের মাহাত্ম্য তার হৃদয়ে লালন করবে তখন দেখা যাবে- যে কোনো কল্যাণকর কাজে সেই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে; এবং অসৎ কাজে দেখা যাবে সেই সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে。
তুমি কি জানো?
আমেরিকা মহাদেশে একটি বিশাল গাছের সাক্ষাত মেলে। গাছটির আঞ্চলিক নাম, 'সিকোয়া' বা 'জেনারেল শ্যারম্যান'। এটি প্রায় ৮৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। মাটির প্রায় ৩৫ মিটার গভীরে গাছটির শেকড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এ গাছটিকে প্রাণীজগতের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভারি মনে করা হয়ে থাকে। কেননা একেকটি গাছের ওজন হয়ে থাকে প্রায় ২০০০ টন。
এই সিকোয়া প্রজাতির যেই গাছগুলো সমুদ্রের তীরে বেড়ে ওঠে সেগুলো তুলনামূলকভাবে আরো লম্বা ও গভীর হয়ে থাকে। গড়ে একেকটি গাছ প্রায় ১২০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে。
আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, এ গাছগুলোর জীবনীশক্তিও অনেক বেশি। বিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে দেখেছেন যে, একেকটি গাছ প্রায় ৩৬০০ থেকে ৪০০০ বছর পর্যন্ত দিব্যি বেঁচে থাকে。
আপনি অবাক হবেন, এতো বিশাল গাছও সূচনালগ্নে ছিলো খুবই ক্ষুদ্র একটি দানা। দানাগুলো এতোটাই ছোট যে, সর্বসাকুল্যে সেটির ওজন ১২৫০ গ্রামের বেশি হবে না!!
এতো বিশাল, গভীর ও ভারি গাছও একসময় লাকড়ি হয়ে সেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। পৃথিবীর সবকিছুই একসময় মাটি হয়ে যায়। শুধু থেকে যান সেই মহান আল্লাহ... যার অন্ত নেই। যিনি অনন্ত মহামহিম。
একটি দু'আ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পূর্বে এ দু'আ পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٍ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
'হে আল্লাহ! হে আসমান ও জমিনের রব! হে মহান আরশের অধিপতি! আপনিই তো আমাদের রব। আপনি সবার রব। আপনিই তো বীজ ও শষ্যদানা বিদীর্ণ করেন। আপনি-ই তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আমি আপনার কাছে আপনার অধীনস্থ সকল বস্তুর অনিষ্ট হতে পানাহ চাই。
হে আল্লাহ! আপনি-ই প্রথম। আপনার পূর্বে কিছুই ছিলো না। আপনি-ই অন্ত। আপনার পর কিছুই থাকবে না। আপনি-ই প্রকাশ্য। আপনার ওপর যেমন কিছুই নেই। তদ্রুপ আপনি-ই অপ্রকাশ্য। আপনার নিচেও কোনো কিছু নেই। আপনি আমাদের সকল ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে দারিদ্র থেকে মুক্ত রাখুন।'
📄 আল আখির
আল্লাহ তা'আলা-ই প্রথম। তাঁর আগে অন্য কোনো বস্তু বা কোনো সত্তার অস্তিত্ব ছিলো না। তিনি অনাদি। তাঁর পূর্বে কেউ নেই। তিনিই অনন্ত। তাঁর পরেও কেউ নেই। পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে; শুধু তিনি-ই চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন। একমাত্র আল্লাহই অনাদি, অনন্ত, চিরঞ্জীব। কুরআনে কারীমে এসেছে-
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
'তিনিই প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।' [সূরা আল হাদীদ : ৩]
একজন মুসলমান যখন আল্লাহর এ নামদ্বয়ের মাহাত্ম্য তার হৃদয়ে লালন করবে তখন দেখা যাবে- যে কোনো কল্যাণকর কাজে সেই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে; এবং অসৎ কাজে দেখা যাবে সেই সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে。
তুমি কি জানো?
আমেরিকা মহাদেশে একটি বিশাল গাছের সাক্ষাত মেলে। গাছটির আঞ্চলিক নাম, 'সিকোয়া' বা 'জেনারেল শ্যারম্যান'। এটি প্রায় ৮৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। মাটির প্রায় ৩৫ মিটার গভীরে গাছটির শেকড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এ গাছটিকে প্রাণীজগতের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভারি মনে করা হয়ে থাকে। কেননা একেকটি গাছের ওজন হয়ে থাকে প্রায় ২০০০ টন。
এই সিকোয়া প্রজাতির যেই গাছগুলো সমুদ্রের তীরে বেড়ে ওঠে সেগুলো তুলনামূলকভাবে আরো লম্বা ও গভীর হয়ে থাকে। গড়ে একেকটি গাছ প্রায় ১২০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে。
আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, এ গাছগুলোর জীবনীশক্তিও অনেক বেশি। বিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে দেখেছেন যে, একেকটি গাছ প্রায় ৩৬০০ থেকে ৪০০০ বছর পর্যন্ত দিব্যি বেঁচে থাকে。
আপনি অবাক হবেন, এতো বিশাল গাছও সূচনালগ্নে ছিলো খুবই ক্ষুদ্র একটি দানা। দানাগুলো এতোটাই ছোট যে, সর্বসাকুল্যে সেটির ওজন ১২৫০ গ্রামের বেশি হবে না!!
এতো বিশাল, গভীর ও ভারি গাছও একসময় লাকড়ি হয়ে সেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। পৃথিবীর সবকিছুই একসময় মাটি হয়ে যায়। শুধু থেকে যান সেই মহান আল্লাহ... যার অন্ত নেই। যিনি অনন্ত মহামহিম。
একটি দু'আ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পূর্বে এ দু'আ পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٍ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
'হে আল্লাহ! হে আসমান ও জমিনের রব! হে মহান আরশের অধিপতি! আপনিই তো আমাদের রব। আপনি সবার রব। আপনিই তো বীজ ও শষ্যদানা বিদীর্ণ করেন। আপনি-ই তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আমি আপনার কাছে আপনার অধীনস্থ সকল বস্তুর অনিষ্ট হতে পানাহ চাই。
হে আল্লাহ! আপনি-ই প্রথম। আপনার পূর্বে কিছুই ছিলো না। আপনি-ই অন্ত। আপনার পর কিছুই থাকবে না। আপনি-ই প্রকাশ্য। আপনার ওপর যেমন কিছুই নেই। তদ্রুপ আপনি-ই অপ্রকাশ্য। আপনার নিচেও কোনো কিছু নেই। আপনি আমাদের সকল ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে দারিদ্র থেকে মুক্ত রাখুন।'
আল্লাহ তা'আলা-ই প্রথম। তাঁর আগে অন্য কোনো বস্তু বা কোনো সত্তার অস্তিত্ব ছিলো না। তিনি অনাদি। তাঁর পূর্বে কেউ নেই। তিনিই অনন্ত। তাঁর পরেও কেউ নেই। পৃথিবীর সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে; শুধু তিনি-ই চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন। একমাত্র আল্লাহই অনাদি, অনন্ত, চিরঞ্জীব। কুরআনে কারীমে এসেছে-
هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
'তিনিই প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সকল বিষয়ে সম্যক অবগত।' [সূরা আল হাদীদ : ৩]
একজন মুসলমান যখন আল্লাহর এ নামদ্বয়ের মাহাত্ম্য তার হৃদয়ে লালন করবে তখন দেখা যাবে- যে কোনো কল্যাণকর কাজে সেই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে; এবং অসৎ কাজে দেখা যাবে সেই সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে。
তুমি কি জানো?
আমেরিকা মহাদেশে একটি বিশাল গাছের সাক্ষাত মেলে। গাছটির আঞ্চলিক নাম, 'সিকোয়া' বা 'জেনারেল শ্যারম্যান'। এটি প্রায় ৮৫ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। মাটির প্রায় ৩৫ মিটার গভীরে গাছটির শেকড় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। এ গাছটিকে প্রাণীজগতের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভারি মনে করা হয়ে থাকে। কেননা একেকটি গাছের ওজন হয়ে থাকে প্রায় ২০০০ টন。
এই সিকোয়া প্রজাতির যেই গাছগুলো সমুদ্রের তীরে বেড়ে ওঠে সেগুলো তুলনামূলকভাবে আরো লম্বা ও গভীর হয়ে থাকে। গড়ে একেকটি গাছ প্রায় ১২০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে。
আরো বিস্ময়ের বিষয় হলো, এ গাছগুলোর জীবনীশক্তিও অনেক বেশি। বিজ্ঞানীগণ গবেষণা করে দেখেছেন যে, একেকটি গাছ প্রায় ৩৬০০ থেকে ৪০০০ বছর পর্যন্ত দিব্যি বেঁচে থাকে。
আপনি অবাক হবেন, এতো বিশাল গাছও সূচনালগ্নে ছিলো খুবই ক্ষুদ্র একটি দানা। দানাগুলো এতোটাই ছোট যে, সর্বসাকুল্যে সেটির ওজন ১২৫০ গ্রামের বেশি হবে না!!
এতো বিশাল, গভীর ও ভারি গাছও একসময় লাকড়ি হয়ে সেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। পৃথিবীর সবকিছুই একসময় মাটি হয়ে যায়। শুধু থেকে যান সেই মহান আল্লাহ... যার অন্ত নেই। যিনি অনন্ত মহামহিম。
একটি দু'আ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমানোর পূর্বে এ দু'আ পাঠ করতেন-
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ وَرَبَّ الأَرْضِ وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالإِنْجِيلِ وَالْفُرْقَانِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذُ بِنَاصِيَتِهِ اللَّهُمَّ أَنْتَ الأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٍ اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
'হে আল্লাহ! হে আসমান ও জমিনের রব! হে মহান আরশের অধিপতি! আপনিই তো আমাদের রব। আপনি সবার রব। আপনিই তো বীজ ও শষ্যদানা বিদীর্ণ করেন। আপনি-ই তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। আমি আপনার কাছে আপনার অধীনস্থ সকল বস্তুর অনিষ্ট হতে পানাহ চাই。
হে আল্লাহ! আপনি-ই প্রথম। আপনার পূর্বে কিছুই ছিলো না। আপনি-ই অন্ত। আপনার পর কিছুই থাকবে না। আপনি-ই প্রকাশ্য। আপনার ওপর যেমন কিছুই নেই। তদ্রুপ আপনি-ই অপ্রকাশ্য। আপনার নিচেও কোনো কিছু নেই। আপনি আমাদের সকল ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে দারিদ্র থেকে মুক্ত রাখুন।'
📄 আয যাহের
‘আয যাহের’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি সুস্পষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অকাট্য যুক্তির আলোকে, স্পষ্ট তথ্যের বিচারে প্রতিটি বিবেক ও মেধার কাছে সুস্পষ্ট。
আমাদের চারপাশে যেই বিশাল প্রকৃতির রয়েছে; আকাশ, যমিন, উদ্ভিৎ, প্রাণীজগৎ নিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যেই সম্ভার রয়েছে- আপনি যদি গভীর দৃষ্টিতে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে ওই সৃষ্টিজগতের মাধ্যমে আপনি আপনার একক স্রষ্টা মহান আল্লাহর অস্তিত্বের সুদৃঢ় প্রমাণ পেয়ে যাবেন。
কুদরতের বৈচিত্র আপনাকে স্বীকার করাবে যে, এক মহান প্রভুর অধীনে এই বিশাল সৃষ্টিজগৎ পরিচালিত হচ্ছে। সেকথাই বিমূর্ত হয়েছে পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে-
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِأُولِي الأَلْبَابِ
'নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নিদর্শন। [সূরা আলে ইমরান : ১৯০]
'আল বাতেন' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি মাখলুকাতের চর্মচোখ থেকে নিজ সত্তাকে আড়াল করে রেখেছেন। যাকে কোনো চোখ দেখে না; অথচ তিনি সবাইকেই দেখেন। এটিও মহান আল্লাহর অন্যতম একটি গুণবাচক নাম। কেননা, আমরা আমাদের হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করতে পারবো না; আমাদের অনুভূতি দিয়ে তাঁকে অনুভব করতে পারবো না। আমরা বড়জোর তাঁর কিছু নিদর্শন; তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডের প্রকাশ দেখতে পারবো না। অথচ তিনি আমাদের ভেতর-বাইর; সবটাই পরিস্কার দেখতে পান। তিনি প্রতিটি বস্তুর অন্তর্নিহিত শেকড়ও দেখতে পান。
একজন মুমিন বান্দা যখন জানবে যে, আল্লাহ তার সার্বিক অবস্থা ও যাবতীয় গতিবিধি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল তখন সে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য; সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহকে ভয় করবে। তার ভেতর ও বাইর সবসময় আল্লাহর ভয়ে তটস্থ থাকবে।...
আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় নি'আমত।... এ নি'আমত যে লাভ করেছে সে প্রকারান্তরে জান্নাত পেয়ে গেছে。
তুমি কীভাবে তোমার রবকে চিনলে?
একবার এক স্থানে দু'জন লোক কথা বলছিলো। তারা কথা বলছিলো বেশ চড়া গলায়- উঁচু আওয়াজে। আসলে তারা তখন আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে তর্ক করছিলো। ইতোমধ্যে তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো একজন গ্রাম্য লোক। তার সঙ্গে ছিলো একটি উট। লোকটি সেই উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের বিতর্কের প্রতি নিস্পৃহভাব দেখিয়ে গ্রাম্য লোকটি প্রায় পাশ কেটে চলে যাচ্ছিলো。
তাদের একজন ছিলো নাস্তিক। আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি তার কোনো বিশ্বাসই ছিলো। সে বলে ওঠলো-
'আমি আমার দু'চোখে কোনো দিন আল্লাহকে দেখতে পাইনি। তাহলে তুমি আমাকে কীভাবে এমন কারো ইবাদত করতে আহ্বান করছো; যাকে আমি কখনই দেখিনি?!
এ কথা বলে লোকটি অক্ষিগোলক ছোট করে গ্রাম্য লোকটির দিকে তাকালো। হঠাৎ তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলা করলো। সে লোকটিকে লক্ষ্য করে কটাক্ষের সুরে বললো-
'এমনকি ওই যে গ্রাম্য লোকটি যাচ্ছে তাকে যদি তুমি প্রশ্ন করো যে, কীভাবে তুমি তোমার রবকে চিনলে? তাহলে তার উত্তরে সে কিছুই বলতে পারবে না। আসলে তোমরা সবাই এমন সত্তার উপাসনা করো যাকে তোমরা কেউ-ই চেনো না'।
গ্রাম্য লোকটি তখন নাস্তিক লোকটির দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। তার চোখে সেসময় খেলা করছিলো ঈমান ও প্রশান্তির জ্যোতি। পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে তখন বললো-
'হে ভাই! কোথাও যদি উটের মল দেখা যায়, তাহলে ওই মলের অস্তিত্ব প্রমাণিত করে সেখানে অবশ্যই কোনো উট আছে। মরুভূমির ওপর যদি পায়ের রেখা দেখা যায়, তাহলে পায়ের সেই রেখা প্রমাণিত করে কোনো পথিকের অস্তিত্বকে। তাহলে বলো- এই স্তরে স্তরে সাজানো আকাশ; সুবিশাল প্রান্তরবিষ্টি যমিন কি আমাদেরকে এমন কোনো সত্তার অস্তিত্বের জানান দেয় না; যিনি কর্মকুশলতার সঙ্গে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি বিশ্বজগতের সাবির্ক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল?!'
গ্রাম্য লোকটির প্রত্যয়দীপ্ত উত্তর শুনে ওই লোকটি তখন নির্বাক হয়ে গেলো। পরাজয়ের প্রকাণ্ড বোঝা তার মাথার ওপর এমনভাবে চেপে বসেছে যে, সে তার কাঁধ সোজা করতে পারছে না। গ্রাম্য লোকটি তখন শান্ত পদবিক্ষেপে তার সঙ্গের উটটিকে হাঁকিয়ে চলে গেলো। দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তার দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া তাদের করার আর কিছুই ছিলো না。
‘আয যাহের’ বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি সুস্পষ্ট প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অকাট্য যুক্তির আলোকে, স্পষ্ট তথ্যের বিচারে প্রতিটি বিবেক ও মেধার কাছে সুস্পষ্ট。
আমাদের চারপাশে যেই বিশাল প্রকৃতির রয়েছে; আকাশ, যমিন, উদ্ভিৎ, প্রাণীজগৎ নিয়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যেই সম্ভার রয়েছে- আপনি যদি গভীর দৃষ্টিতে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করেন তাহলে ওই সৃষ্টিজগতের মাধ্যমে আপনি আপনার একক স্রষ্টা মহান আল্লাহর অস্তিত্বের সুদৃঢ় প্রমাণ পেয়ে যাবেন。
কুদরতের বৈচিত্র আপনাকে স্বীকার করাবে যে, এক মহান প্রভুর অধীনে এই বিশাল সৃষ্টিজগৎ পরিচালিত হচ্ছে। সেকথাই বিমূর্ত হয়েছে পবিত্র কুরআনের এ আয়াতে-
إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لِأُولِي الأَلْبَابِ
'নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নিদর্শন। [সূরা আলে ইমরান : ১৯০]
'আল বাতেন' বলা হয় ওই সত্তাকে যিনি মাখলুকাতের চর্মচোখ থেকে নিজ সত্তাকে আড়াল করে রেখেছেন। যাকে কোনো চোখ দেখে না; অথচ তিনি সবাইকেই দেখেন। এটিও মহান আল্লাহর অন্যতম একটি গুণবাচক নাম। কেননা, আমরা আমাদের হাত দিয়ে তাঁকে স্পর্শ করতে পারবো না; আমাদের অনুভূতি দিয়ে তাঁকে অনুভব করতে পারবো না। আমরা বড়জোর তাঁর কিছু নিদর্শন; তাঁর কিছু কর্মকাণ্ডের প্রকাশ দেখতে পারবো না। অথচ তিনি আমাদের ভেতর-বাইর; সবটাই পরিস্কার দেখতে পান। তিনি প্রতিটি বস্তুর অন্তর্নিহিত শেকড়ও দেখতে পান。
একজন মুমিন বান্দা যখন জানবে যে, আল্লাহ তার সার্বিক অবস্থা ও যাবতীয় গতিবিধি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল তখন সে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য; সর্বক্ষেত্রেই আল্লাহকে ভয় করবে। তার ভেতর ও বাইর সবসময় আল্লাহর ভয়ে তটস্থ থাকবে।...
আল্লাহর ভয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় নি'আমত।... এ নি'আমত যে লাভ করেছে সে প্রকারান্তরে জান্নাত পেয়ে গেছে。
তুমি কীভাবে তোমার রবকে চিনলে?
একবার এক স্থানে দু'জন লোক কথা বলছিলো। তারা কথা বলছিলো বেশ চড়া গলায়- উঁচু আওয়াজে। আসলে তারা তখন আল্লাহর অস্তিত্ব নিয়ে তর্ক করছিলো। ইতোমধ্যে তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো একজন গ্রাম্য লোক। তার সঙ্গে ছিলো একটি উট। লোকটি সেই উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের বিতর্কের প্রতি নিস্পৃহভাব দেখিয়ে গ্রাম্য লোকটি প্রায় পাশ কেটে চলে যাচ্ছিলো。
তাদের একজন ছিলো নাস্তিক। আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি তার কোনো বিশ্বাসই ছিলো। সে বলে ওঠলো-
'আমি আমার দু'চোখে কোনো দিন আল্লাহকে দেখতে পাইনি। তাহলে তুমি আমাকে কীভাবে এমন কারো ইবাদত করতে আহ্বান করছো; যাকে আমি কখনই দেখিনি?!
এ কথা বলে লোকটি অক্ষিগোলক ছোট করে গ্রাম্য লোকটির দিকে তাকালো। হঠাৎ তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি খেলা করলো। সে লোকটিকে লক্ষ্য করে কটাক্ষের সুরে বললো-
'এমনকি ওই যে গ্রাম্য লোকটি যাচ্ছে তাকে যদি তুমি প্রশ্ন করো যে, কীভাবে তুমি তোমার রবকে চিনলে? তাহলে তার উত্তরে সে কিছুই বলতে পারবে না। আসলে তোমরা সবাই এমন সত্তার উপাসনা করো যাকে তোমরা কেউ-ই চেনো না'।
গ্রাম্য লোকটি তখন নাস্তিক লোকটির দিকে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। তার চোখে সেসময় খেলা করছিলো ঈমান ও প্রশান্তির জ্যোতি। পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে তখন বললো-
'হে ভাই! কোথাও যদি উটের মল দেখা যায়, তাহলে ওই মলের অস্তিত্ব প্রমাণিত করে সেখানে অবশ্যই কোনো উট আছে। মরুভূমির ওপর যদি পায়ের রেখা দেখা যায়, তাহলে পায়ের সেই রেখা প্রমাণিত করে কোনো পথিকের অস্তিত্বকে। তাহলে বলো- এই স্তরে স্তরে সাজানো আকাশ; সুবিশাল প্রান্তরবিষ্টি যমিন কি আমাদেরকে এমন কোনো সত্তার অস্তিত্বের জানান দেয় না; যিনি কর্মকুশলতার সঙ্গে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি বিশ্বজগতের সাবির্ক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ওয়াকিফহাল?!'
গ্রাম্য লোকটির প্রত্যয়দীপ্ত উত্তর শুনে ওই লোকটি তখন নির্বাক হয়ে গেলো। পরাজয়ের প্রকাণ্ড বোঝা তার মাথার ওপর এমনভাবে চেপে বসেছে যে, সে তার কাঁধ সোজা করতে পারছে না। গ্রাম্য লোকটি তখন শান্ত পদবিক্ষেপে তার সঙ্গের উটটিকে হাঁকিয়ে চলে গেলো। দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত তার দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া তাদের করার আর কিছুই ছিলো না。