📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল হাইয়ূ

📄 আল হাইয়ূ


‘আল হাই’-এর অর্থ চিরঞ্জীব সত্তা। যিনি চিরদিন বেঁচে থাকবেন। যার অস্তিত্ব কখনই ধ্বংস হবে না। যাকে কখনই মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে না। ধ্বংস, বিনাশ, ক্ষয়, মৃত্যু, পতন ইত্যাদির সম্মুখীন হতে হবে না। একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই চিরঞ্জীব। তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুকে একসময় অবশ্যই ধ্বংস হতে হবে。
এ কথা প্রতিটি মুসলমান মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে। কারণ সে জানে, একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই চিরঞ্জীব, শাশ্বত। পক্ষান্তরে সে নিজে হলো অস্থায়ী। খুবই ছোট্ট একটি জীবন নিয়ে সে পৃথিবীতে এসেছে। এ জীবন শেষ হতেই তাকে মৃত্যুর মুখে এসে দাঁড়াতে হবে। কাজেই এই ক্ষুদ্র জীবনে তাকে কিছু পাথেয় জোগাড় করতে হবে। কিছু উপাত্ত সংগ্রহ করতে হবে。
সে এ কথাও জানে যে, বেশি বেশি নেক আমল করার মাধ্যমে সেই পাথেয় স্ফিত হয়ে থাকে। যার কারণে সে প্রচুর নেক আমল সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করবে。
জীবন-মৃত্যুর দোলাচলে...
আল্লাহ তা'আলা এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন এবং এর আয়ুস্কালও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। যা শেষ হলে তিনি মৃত্যু দেবেন। কাজেই জীবনের পর মৃত্যু; এ চক্রেই আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি।... প্রতিটি মানুষ ভালো করে জানে যে, তার জন্যে একটি নির্দিষ্ট জীবন রয়েছে। যার অবসান হতেই তাকে ঢলে পড়তে হবে মৃত্যুর অমোঘ কোলে।... আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর কাউকেই চিরস্থায়ী করে সৃষ্টি করেননি। একমাত্র তিনি নিজেই চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী。
একজন মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার মরদেহ নিষ্প্রাণ পড়ে থাকে। মানুষের সেই মরদেহ পচনশীল। কেননা তা সৃষ্টি হয়েছে দ্রবিভূত উপাদান দিয়ে। যদি মানুষের মরদেহ দ্রবিভূত হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে না যেতো, তাহলে গোটা পৃথিবী এতোদিনে লাশে লাশে পরিপূর্ণ হয়ে যেতো। জমিনের ওপর হাঁটা-চলা দুষ্কর হয়ে ওঠতো। থেমে যেতো জীবনের সব চাঞ্চল্য। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ আমাদের জন্যে তা হতে দেননি। সততই তিনি চিরঞ্জীব ও মহাপ্রজ্ঞাবান。
কাজেই প্রাণীমাত্রই মরণশীল। যদি কোনো ব্যক্তি হযরত নূহ আলাইহিস সালামের মতো সবচেয়ে দীর্ঘ হায়াতের অধিকারীও হয়; তাঁর মতো এক হাজার বছরেরও অধিক জীবন নিয়ে পৃথিবীতে আসে তারপরও তাকে জীবনের ঘানি টেনে একসময় মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হবে। এর কোনো ব্যতিক্রম নেই।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ওয়াজিদ

📄 আল ওয়াজিদ


‘আল ওয়াজিদ’ যিনি স্বনির্ভর। যা ইচ্ছে পেয়ে যান। কোনো কিছুই তাঁর নাগালের ঊর্ধ্বে নয়। মহান আল্লাহর অন্যতম একটি নাম হলো, ‘আল ওয়াজিদ’। কারণ তিনি তাঁর যে কোনো ইচ্ছে প্রয়োগ করতে সক্ষম। তিনি সবকিছু সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত। তাঁর জন্যে কোনো কিছুই দুষ্কর নয়। তিনি পূর্ণ ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর দান-বদান্যতা সর্বত্র বিস্তৃত。
একজন মুসলমান যখন তাঁর মা’বুদ আল্লাহ সম্পর্কে উক্ত বিশ্বাস বুকে ধারণ করবে তখন সে তার সকল প্রয়োজন পূরণের জন্যে এক আল্লাহকেই যথেষ্ট মনে করবে। আমার দ্বিতীয় কারো প্রয়োজন নেই। সে তখন আল্লাহর প্রতিটি আদেশ-নিষেধ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। কারণ সে বিশ্বাস করে- সকল দানের উৎস একমাত্র আল্লাহ তা’আলা。
هل تعلم أن ؟! আপনি কি জানেন...
কিছু মাছ আছে উভচর। অর্থাৎ জলে ও স্থলে; দু' জায়গাতেই সমানভাবে বিচরণ করে। সেই মাছগুলো পানি ছাড়াও দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকতে পারে। শুকনো মৌসুমে যখন বিল, হাওড় ও জলাশয়ের পানি শুকিয়ে যায়, তখন সেগুলো হাওড় ও জলাশয়ের তলদেশে চলে যায়। সেখানে সে নিজ পুচ্ছ মাথার ওপর তুলে এনে গোলাকার আকৃতি ধারণ করে পড়ে থাকে। এ সময় সে তার কানসা -অর্থাৎ যে দু'টি ছিদ্র দিয়ে নিঃশ্বাস নেয়- সেটি ভেজা রাখার জন্যে তার শ্লেষা ব্যবহার করে থাকে। এ দিনগুলোতে সেই মাছ বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে জীবন টিকিয়ে রাখে。
এরপর যখন বর্ষাকাল চলে আসে আর জলাশয়ের বুকে পানি জমতে শুরু করে তখন সেই মাছ তার গুটিশুটি অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যায়। আগের মতো তরতর করে পানিতে সাঁতার কাটতে শুরু করে।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মাজিদ

📄 আল মাজিদ


‘আল মাজিদ’ বলা হয়, সম্মান, মর্যাদা, আভিজাত্য ও পূর্ণতার সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত সত্তাকে। মহান আল্লাহর একটি নাম হলো, ‘আল মাজিদ’। কারণ তিনিই সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী। তিনিই সবচেয়ে সুন্দর গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনিই সর্বোচ্চ শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন। তাঁর দান-বদান্যতা, দয়া-মায়া অন্য যেকোনো সত্তা অপেক্ষা সর্বাধিক ব্যাপক ও বিস্তৃত。
একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো, আমরা উক্ত গুণ ও বৈশিষ্ট্যগুলো নিজের মাঝে ধারণ করার চেষ্টা করবো। কারণ, যার মাঝে দয়া-মায়া রয়েছে সে অবশ্যই অন্যের সঙ্গে কোমল আচরণ করে। অপরের জন্যে সে তখন কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে কুণ্ঠিত হয় না। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে সে তখন মনে করে- আমার ভাই, আমার পরিবারের সদস্য। কাজেই বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সে সবার সঙ্গে কোমল প্রীতিময় আচরণ করবে。
جئتكم من عند خير الناس আজ শ্রেষ্ঠ মানুষটির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে
একদিনের ঘটনা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক যুদ্ধ থেকে ফিরছিলেন। সঙ্গে ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম। পথিমধ্যে একটি উদ্যানে যাত্রা বিরতি হলো।...
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরাম থেকে খানিকটা দূরের একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি গাছের নিচে ঘুমিয়ে পড়লেন।....
হঠাৎ এক কাফের তরবারি হাতে নবীজির দিকে তেড়ে এলো। লোকটির উন্মত্ত হুঙ্কারে নবীজির ঘুম ভেঙে গেলো。
মাথার ওপর ঔদ্ধত তরবারী হাতে লোকটি তখন হুঙ্কার ছুড়ে বললো- 'তুমি কি আমাকে ভয় করো?'
প্রশান্তিমাখা কণ্ঠে নবীজি বললেন- 'না। এতোটুকুও ভয় পাই না।'
লোকটি তখন তীব্র ক্রোধের সঙ্গে বললো- 'কে তোমাকে আজ আমার হাত থেকে বাঁচাবে?'...
সুস্থির ও শান্ত-সৌম্য কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন- 'আল্লাহ।'...
সঙ্গে সঙ্গে লোকটির হাত থেকে তরবারী পড়ে গেলো。
নবীজি তখন তরবারীটি উঠিয়ে এনে লোকটির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলেন- 'এখন তোমাকে আমার থেকে কে বাঁচাবে?'...
লোকটি ভয়ার্ত কণ্ঠে উত্তর করেছিলো- আপনার মহানুভবতা।...
নবীজি তখন লোকটির পথ ছেড়ে দিয়ে বলেছিলেন- 'যাও, তোমাকে ছেড়ে দেয়া হলো।...
মুক্তির আনন্দে লোকটি তখন গলা হেকে বললো- 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আর আপনি তাঁর রাসূল।'...
লোকটি তখন তার বাড়ির লোকদের কাছে ফিরে এসে বললো- 'আজ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটির সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়েছে।'

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আস সামাদ

📄 আস সামাদ


'আস সমাদ'-এর অর্থ হলো, এমন সত্তা যিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। সবাই তার মুখাপেক্ষী। এমন সত্তা একমাত্র আল্লাহ তা'আলা। কেননা শুধু তিনি-ই তাঁর সকল ইচ্ছে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। তাঁর সিদ্ধান্ত প্রতিহত করার ক্ষমতা কারো নেই। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল সৃষ্টিজীবের যাবতীয় প্রয়োজন তিনি-ই পূরণ করেন। বিপদ থেকে উদ্ধার করার শক্তি একমাত্র তাঁরই রয়েছে। চিন্তা-পেরেশানি দূরভিত করার ক্ষমতাও আল্লাহর হাতে।
একজন মুসলমান যখন আল্লাহর ‘আস সামাদ’ নামের এ অর্থ তার বুকে লালন করবে সে তখন সজ্ঞানে বিশ্বাস করবে যে- ‘দু’আ-কামনা একমাত্র আল্লাহর কাছেই করতে হয়। সকল প্রয়োজন পূরণের জন্যে একমাত্র তাঁরই দ্বারস্থ হতে হয়। বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে তাঁরই শরণাপন্ন হতে হয়। কেননা তিনিই একক অধিশ্বর। তাঁর নিকটেই সকল ক্ষমতা পুঞ্জীভূত।
গুহাবন্দি তিন যুবকের গল্প
ইতিহাসের পাতা থেকে তোমাদেরকে একটি সত্য ঘটনা শোনাচ্ছি। তিন যুবকের ঘটনা।...
একদিন তারা কোনো এক প্রয়োজনে কোথাও যাচ্ছিলো। তারা তখন ছিলো একটি জনমানবহীন রুক্ষ প্রান্তরে। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। আশেপাশে কোনো বাড়ি-ঘর দেখতে না পেয়ে তারা বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে একটি পাহাড়ের গুহায় ঢুকে পড়লো। সেখানে বসে থেকে তারা বৃষ্টি থেমে যাওয়ার অপেক্ষা করতে লাগলো।...
হঠাৎ উপর থেকে একটি বিশাল পাথর গড়িয়ে এসে তাদের সেই গুহার প্রবেশ মুখের ওপর খসে পড়লো। পাথরটি ছিলো খুবই বড়। তারা তিনজন শরীরের সমস্ত শক্তি একত্র করে প্রকাণ্ড পাথরটিকে সরানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু নেয়ে-ঘেমে একাকার হয়েও তারা কিছুতেই সেটিকে স্থানচ্যুত করতে সমর্থ হলো না। এক পর্যায়ে তারা বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়ে বসে পড়লো。
তখন তাদের একজন প্রস্তাব করলো- 'আসো। আমরা এককাজ করি। আমরা প্রত্যেকে আমাদের জীবনের কোনো একটি বড় নেককাজের দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে দু'আ করি। হতে পারে, তার বদৌলতে তিনি আমাদেরকে জীবনের এই চরম বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন।'
তখন প্রথম যুবক দু'আ করে বললো, 'হে আল্লাহ! আমি প্রতি রাতে আমার বাবা-মাকে দুধ বানিয়ে দিতাম। যথারীতি এক রাতে আমি দুধের পেয়ালা হাতে নিয়ে এসে দেখি, তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাঁদের গভীর ঘুম দেখে আমার জাগিয়ে তোলার ইচ্ছে হলো না। আমি তখন দুধের পেয়ালা হাতে নিয়ে সারা রাত তাঁদের জন্যে দাঁড়িয়ে ছিলাম। প্রত্যুষে তাঁরা যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হন তখন আমি তাদের সামনে তা বাড়িয়ে দিই। হে আল্লাহ। আমার সেই নেক কাজটির উসীলায় আপনি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন।...
যুবকটির দু'আ শেষ হতেই দেখা গেলো, পাথরটি তার স্থান থেকে সামান্য সরে গেছে। একটি ফোকর বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু তা তাদের বেরিয়ে আসার জন্যে যথেষ্ট ছিলোনা。
দ্বিতীয় যুবকটি তখন হাত তুলে বললো- 'হে আল্লাহ! এক শ্রমিক আমার অধীনে কাজ করতো। একদিন সেই শ্রমিক লোকটি তার পারিশ্রমিক না নিয়েই চলে গেলো। আমি তখন তার সেই পারিশ্রমিকের টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করলাম। ব্যবসাটিতে আমি এতোটাই লাভবান হলাম যে, আমার হাতে প্রচুর অর্থ-কড়ি জমে গেলো।...
কয়েক বছর পর ওই শ্রমিক একদিন তার বকেয়া পারিশ্রমিক সংগ্রহ করতে হাজির হলো। আমি তখন তার হাতে সমস্ত অর্থ-কড়ি তুলে দিই।.... হে আল্লাহ! আমার সেই নেক কাজটির উসীলায় আপনি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন।...
যুবকটির দু'আ শেষ হতেই দেখা গেলো, পাথরটি তার স্থান থেকে আরেকটি সরে গেছে। পূর্বের ফোকরটি অপেক্ষাকৃত বড় হয়েছে। কিন্তু এটিও তাদের বেরিয়ে আসার জন্যে যথেষ্ট নয়。
তৃতীয় যুবক তখন হাত তুলে বললো- হে আল্লাহ! একবার অর্থাভাবে পড়ে এক রূপসী মেয়ে আমার কাছে এসেছিলো। মেয়েটির প্রতি আমি পূর্ব থেকেই আসক্ত ছিলাম। অর্থের লোভে সে আমার অবৈধ প্রস্তাবেও রাজি হয়েছিলো। কিন্তু সেদিন আমি শুধু তোমার ভয়ে গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকি।... হে আল্লাহ! আমার সেই নেক কাজটির উসীলায় আপনি আমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করুন।...
যুবকটির দু'আ শেষ হতেই দেখা গেলো, পাথরটি তার স্থান থেকে এতোটাই সরে গেছে যে, এখন অনায়াসে তারা সেখান থেকে বেরোতে পারবে।...
তিন যুবক তখন আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে নিরাপদে গুহা থেকে বেরিয়ে এলো。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00