📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল কাইয়ূম

📄 আল কাইয়ূম


‘আল কাইয়্যুম’ বলা হয় ওই সত্তাকে, যিনি সার্বক্ষণিক প্রতিষ্ঠিত। একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই কাইয়্যূম। পৃথিবীর বুকে যা কিছু আছে সেগুলোকে তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেন, তিনিই সেগুলোর সংরক্ষণ করেন, তিনিই সেগুলোকে পরিচালিত করেন。
আসমান, জমিন, মহাশূন্য, নক্ষত্রপুঞ্জ, তারকারাজি; সবকিছু একমাত্র আল্লাহর নির্দেশেই প্রতিষ্ঠিত আছে। তাঁর কুদরতেই সেগুলো স্থির আছে。
এক মুহূর্তের জন্যেও আল্লাহ তা’আলা নিদ্রিত হন না। গাফেলও হন না। যদি হতেন তাহলে মুহূর্তেই এই পৃথিবী লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতো। গোটা পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়তো。
একজন মুসলমান যখন আল্লাহ তা’আলার এই কাইয়্যুম নামটির কথা ভাববে যখন সে চিন্তা করবে যে, পৃথিবীর সবকিছু তাঁরই নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত তখন সে নিজেকেও ওই আল্লাহর নির্দেশের কাছে সমর্পণ করবে। একমাত্র তাঁর ওপরই তাওয়াক্কুল করবে。
اللهُ لَا يَنَامُ আল্লাহ কখনই ঘুমান না
একবার ইসরাঈল সম্প্রদায়ের কিছু লোক হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর পয়গম্বর! আপনার প্রভু কি ঘুমান?
এর উত্তরে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম শুধু এতোটুকুই বললেন, 'তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।'
আল্লাহ তা'আলা তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে ডেকে বললেন- 'তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করেছে- আপনার প্রভু কি ঘুমান? হে মুসা, আপনি এক কাজ করুন। কাঁচের দু'টি পাত্র সংগ্রহ করে আনুন এবং সেগুলো হাতে নিয়ে সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকুন।'
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম নির্দেশ মুতাবেক কাঁচের দু'টি পাত্র সংগ্রহ করলেন এবং রাতের বেলা দু' হাতে দু'টি পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। এভাবে রাতের প্রথম প্রহর কেটে গেলো। ধীরে ধীরে তাঁর দু'চোখে তন্দ্রা নেমে আসতে শুরু করলো। এমনকি হঠাৎ তাঁর হাত থেকে পড়েও গেলো। কিন্তু সেটি মাটিতে পড়ার আগে তিনি ধরে ফেললেন। যার ফলে এবারের মতো কাঁচের পাত্রটির আর কোনো ক্ষতি হলো না。
তিনি তখন দ্বিতীয়বারের মতো দু'হাতে দু'টি কাঁচের পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন; কিন্তু শেষ রাতে তাঁর দু'চোখে এতোটাই ঘুম নেমে এলো যে, তিনি নিজেকে সংবরণ করতে পারলেন না। ঘুমের আতিশয্যে তাঁর রাত থেকে কাঁচের দু'টি পাত্রই পড়ে গেলো। মাটির ওপর আছড়ে পড়ায় সবগুলো টুকরো টুকরো হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়লো。
আল্লাহ তা'আলা তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে ডেকে বললেন- হে মুসা! আমি যদি ঘুমাতাম তাহলে ওই আসমানও এভাবে মাটির ওপর আছড়ে পড়তো। তোমার হাতের কাঁচের পাত্রগুলো যেভাবে টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, আসমানও এভাবে ভেঙ্গে টুকরো হয়ে যেতো。
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-
اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمُ
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সুপ্রতিষ্ঠিত ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। [সূরা বাক্বারা : ২৫৫]

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মুহয়ী

📄 আল মুহয়ী


যিনি জীবন দান করেন তাকে বলা হয় 'আল মুহয়ী'। আল্লাহ তা'আলা মাতৃগর্ভের ভ্রূণের মাঝে প্রাণ সঞ্চারের মাধ্যমে জীবন দান করেন। বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে মাটির মাঝে জীবনের উন্মেষ ঘটান। তখন শস্যক্ষেতগুলো সবুজ-শ্যামলিমায় হেসে ওঠে। উদ্ভিদগুলো লকলকিয়ে বেড়ে ওঠে। শস্যগুলোতে বেজে ওঠে জীবনের জয়গান。
একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো- আমরা সবসময় সেই আল্লাহর কথা স্মরণ করবো; যিকিরের মাধ্যমে যেমন স্মরণ করবো, তেমনি নেককাজের মাধ্যমেও তাঁকে সবসময় স্মরণ রাখার চেষ্টা করবো। কেননা আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে আমাদের আত্মাগুলো প্রাণবন্ত থাকবে। তাইতো দেখা যায়- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল-সন্ধ্যা এ দু'আ করতেন-
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا, وَبِكَ نَمُوتُ, وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
'হে আল্লাহ! আমরা তোমার নামে সকাল করি, তোমার নামেই সন্ধ্যা করি। তোমার দানেই জীবন লাভ করি, তোমার মাধ্যমেই মৃত্যু বরণ করি। আর তোমার কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।'
আল্লাহই মাতৃগর্ভে ভ্রূণের মাঝে জীবন সঞ্চার করেন
পুরুষ ও নারীর মিলনের মাধ্যমে মাতৃগর্ভে একটি ভ্রুণ গড়ে ওঠার সুযোগ পায়। এক ফোঁটা বিশেষ পানী যখন কোনো নারীর গর্ভে প্রবেশ করে তখন ধীরে ধীরে সেটি অনেকগুলো স্তর অতিক্রম করে。
তা জরায়ুর ভেতরে প্রথমত একটি রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়। আকারে সেটির দৈর্ঘ বড়জোর এক মিলিমিটারের চেয়ে বেশি হয় না। ২২ দিন পর্যন্ত সেটি পরিপুষ্ট হতে থাকে。
এরপর সেটি টুকরো মাংশপিণ্ডে পরিণত হয়। সময়ের সাথে সাথে তার মাঝে অভিক্ষেপ ঘটতে থাকে। ৪২ দিন পর তার মাঝে হাড় সৃষ্টি হয়। গর্ভধারণের অষ্টম সপ্তাহে সেই হাড়ের ওপর গোশতের প্রলেপ পড়তে শুরু করে। তারপর ধীরে ধীরে তার ভেতরের অঙ্গগুলো তৈরি হতে থাকে। হৃদপিণ্ড, মগজ, পাকস্থলী ইত্যাদি গড়ে ওঠে。
এভাবে তার ভেতরের ও বাইরের অঙ্গগুলো বড় হতে থাকে। এক সময়ের ভ্রুণটি সময়ের সাথে সাথে পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে ভূমিষ্ঠ হওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে。
বিস্ময়ের বিষয় হলো, গর্ভের দিনগুলোতে ভ্রুণ তার যাবতীয় আহার তার মায়ের মাধ্যমেই গ্রহণ করে থাকে। গর্ভফুলের মাধ্যমে ভ্রুণ তার মায়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় খাবার পেয়ে যায়। সত্যি কী অবাক ব্যবস্থা! আল্লাহ তা'আলা সত্যই বলেছেন-
هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةُ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ
তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। [সূরা আন নাজম: ৩২]

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মুমীত

📄 আল মুমীত


‘আল মুমীত’-এর অর্থ, মৃত্যু দানকারী। একমাত্র আল্লাহর হাতেই সবার মৃত্যুর ফয়সালা। তিনি যখন যার ওপর ইচ্ছে মৃত্যু চাপিয়ে দেন। তিনি প্রত্যেককেই একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আয়ু দিয়েছেন। প্রতিটি প্রাণীর আয়ুষ্কাল শেষ হলে আল্লাহ তাকে মৃত্যু দান করেন। তখন তার রুহ তার দেহ ছেড়ে ফিরে যায় সেই আল্লাহর কাছে যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন。
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
‘প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’ [সূরা আনকাবূত : ৫৭]
একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের করণীয় হলো- আমরা আল্লাহর বেশি বেশি আনুগত্যের মাধ্যমে প্রবৃত্তির চাহিদাগুলো মেরে ফেলবো। আমরা যখন শুধু আল্লাহর ওয়াস্তেই আমাদের সিদ্ধান্তগুলো স্থির করবো তখন আমাদের অন্তর ঈমানের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে ওঠবে। একটি আলোকিত অন্তরই প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সর্বক্ষণ আল্লাহর সঙ্গে বেঁচে-বর্তে থাকে。
মৃত্যুর পর নতুন জীবন
ইতিহাসে পাওয়া যায়- ইসরাঈল সম্প্রদায়ের একটি গোত্র একবার জিহাদ করতে অস্বীকার করেছিলো। তারা তাদের দ্বীনরক্ষার তাগিদে; দেশরক্ষার প্রয়োজনে শত্রুর মুকাবেলায় মাঠে নেমে আসতে অসম্মতি প্রকাশ করে বসে। তারা মৃত্যুর ভয়ে সেদিন এতোটাই কাপুরুষ হয়ে গিয়েছিলো যে, সংখ্যায় প্রচুর হওয়া সত্ত্বেও অস্ত্র ছুড়ে ফেলে নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে চলে যায়。
ওই সময় তাঁদের নবী ছিলেন হযরত হিযকীল আলাইহিস সালাম। তিনি সেদিন তাদেরকে হাত ধরে বুঝিয়েছিলেন। তিনি তাদের হৃত বীরত্ব ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কোনো কথায় তারা কর্ণপাত করেনি। তারা মনে করেছিলো- যুদ্ধ মানেই প্রাণবিসর্জন আর পলায়ন মানেই জীবনরক্ষা。
আল্লাহ তা'আলা তখন সিদ্ধান্ত নিলেন- তাদের সবার প্রাণ তুলে নিয়ে তাদেরকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেবেন। যেন তাদের এ শিক্ষা হয় যে, প্রতিটি প্রাণী একটি নির্দিষ্ট জীবন নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। কাজেই কোনো কৌশলই ব্যক্তিকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না。
আল্লাহর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। তারা সবাই একসঙ্গে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লো। কিছু দিন পর আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রত্যেকের জীবন ফিরিয়ে দিলেন। এরপর নির্দেশ দিলেন- যাও। এবার শত্রুর মুকাবিলায় ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ো。
এ ঘটনার মাধ্যমে তারা তখন বুঝতে পেরেছিলো যে, হায়াত-মউত আল্লাহর হাতে। অন্য কেউ এর মালিক নয়। কাজেই পলায়নের মাধ্যমে কেউ মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পাবে না। কেননা প্রতিটি মানুষ একটি নির্দিষ্ট হায়াত নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। হায়াত ফুরাতেই প্রত্যেককে ওই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল হাইয়ূ

📄 আল হাইয়ূ


‘আল হাই’-এর অর্থ চিরঞ্জীব সত্তা। যিনি চিরদিন বেঁচে থাকবেন। যার অস্তিত্ব কখনই ধ্বংস হবে না। যাকে কখনই মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে না। ধ্বংস, বিনাশ, ক্ষয়, মৃত্যু, পতন ইত্যাদির সম্মুখীন হতে হবে না। একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই চিরঞ্জীব। তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুকে একসময় অবশ্যই ধ্বংস হতে হবে。
এ কথা প্রতিটি মুসলমান মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে। কারণ সে জানে, একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই চিরঞ্জীব, শাশ্বত। পক্ষান্তরে সে নিজে হলো অস্থায়ী। খুবই ছোট্ট একটি জীবন নিয়ে সে পৃথিবীতে এসেছে। এ জীবন শেষ হতেই তাকে মৃত্যুর মুখে এসে দাঁড়াতে হবে। কাজেই এই ক্ষুদ্র জীবনে তাকে কিছু পাথেয় জোগাড় করতে হবে। কিছু উপাত্ত সংগ্রহ করতে হবে。
সে এ কথাও জানে যে, বেশি বেশি নেক আমল করার মাধ্যমে সেই পাথেয় স্ফিত হয়ে থাকে। যার কারণে সে প্রচুর নেক আমল সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করবে。
জীবন-মৃত্যুর দোলাচলে...
আল্লাহ তা'আলা এই বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন এবং এর আয়ুস্কালও নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। যা শেষ হলে তিনি মৃত্যু দেবেন। কাজেই জীবনের পর মৃত্যু; এ চক্রেই আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি।... প্রতিটি মানুষ ভালো করে জানে যে, তার জন্যে একটি নির্দিষ্ট জীবন রয়েছে। যার অবসান হতেই তাকে ঢলে পড়তে হবে মৃত্যুর অমোঘ কোলে।... আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর কাউকেই চিরস্থায়ী করে সৃষ্টি করেননি। একমাত্র তিনি নিজেই চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী。
একজন মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে তখন তার মরদেহ নিষ্প্রাণ পড়ে থাকে। মানুষের সেই মরদেহ পচনশীল। কেননা তা সৃষ্টি হয়েছে দ্রবিভূত উপাদান দিয়ে। যদি মানুষের মরদেহ দ্রবিভূত হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে না যেতো, তাহলে গোটা পৃথিবী এতোদিনে লাশে লাশে পরিপূর্ণ হয়ে যেতো। জমিনের ওপর হাঁটা-চলা দুষ্কর হয়ে ওঠতো। থেমে যেতো জীবনের সব চাঞ্চল্য। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ আমাদের জন্যে তা হতে দেননি। সততই তিনি চিরঞ্জীব ও মহাপ্রজ্ঞাবান。
কাজেই প্রাণীমাত্রই মরণশীল। যদি কোনো ব্যক্তি হযরত নূহ আলাইহিস সালামের মতো সবচেয়ে দীর্ঘ হায়াতের অধিকারীও হয়; তাঁর মতো এক হাজার বছরেরও অধিক জীবন নিয়ে পৃথিবীতে আসে তারপরও তাকে জীবনের ঘানি টেনে একসময় মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হবে। এর কোনো ব্যতিক্রম নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00