📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মুবদী

📄 আল মুবদী


'আল মুবদী' বলা হয় যিনি বস্তুরাশিকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দান করেন। আল্লাহ তা'আলাই এ বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছেন। রং-রূপের এই বিচিত্র পৃথিবী তাঁরই সৃষ্টি। তিনিই ওই আকাশ, এই জমিন, দূরের নিহারিকা, বিশাল সাগর, সুউচ্চ পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেছেন। ইতোপূর্বে এগুলোর কোনোটাই ছিলো না। আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে বলেছেন-
وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الحكيم
আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন তারপর তিনিই এর পুনরাবৃত্তি করবেন। আর এটা তো তাঁর জন্য অধিকতর সহজ। আসমান ও যমিনে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [সূরা রুম: ২৭]
একজন মুসলমান হিসেবে আপনার আমার দায়িত্ব হলো, আমাদের স্মরণ রাখতে হবে- আমরা কোথা থেকে সৃষ্ট হয়েছি? আল্লাহ আমাদেরকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। কাজেই আমাদের হাতে অর্থ-কড়ি বা সম্মান-দাপট থাকলে তার ভিত্তিতে অহঙ্কার করা সমীচীন হবে না। আমাদেরকে মাটির মতো বিনম্র ও সহনশীল হতে হবে। আমাদেরকে হতে হবে মার্জিত ও পরিশোধিত চরিত্রের অধিকারী。
সৃষ্টির সূচনায়
আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন এই ভূখণ্ড; যার বুকে আমাদের বসবাস। সেখানে তিনি সৃষ্টি করেছেন গাছ-পালা, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত। আমাদের আলোর প্রয়োজনে তিনি সৃষ্টি করেছেন বিশাল সূর্য। রাতের আকাশে মিটমিট যেই চন্দ্র আলো ছড়ায়; সেটিকেও ওই আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন। জীবনের চাঞ্চল্যে এই যে মুখরিত পৃথিবী; এটি তো সেই আল্লাহরই সৃষ্টি。
মানবজাতির সূচনায় তিনি সৃষ্টি করেছেন প্রথম মানুষ হযরত আদম আলাইহিস সালামকে। যাকে তিনি সৃষ্টি করেছেন মাত্র এক মুঠো মাটি দিয়ে। মাটির টুকরোকে তিনি অপরূপ মানুষের আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সেই মানবকাঠামোতে তিনি রূহ দিয়েছেন। তখন একটু একটু করে নড়ে ওঠেন হযরত আদম আ.। তাঁর মাধ্যমেই এই মানবজাতির সূচনা。
প্রথম মানুষ হযরত আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ এতোটাই মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলেন যে, তিনি ফেরেশতাদের নির্দেশ করেন- তোমরা আদমকে সেজদা করো。
এরপর তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালামের জন্যে স্ত্রীও সৃষ্টি করেছেন। কাজেই হযরত আদম আ. ও তাঁর স্ত্রী হচ্ছেন প্রথম মানবদম্পতি; যাদেরকে আল্লাহ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন- যেন তাদের মাধ্যমে মানব বংশধারার বিস্তার ঘটে。
পরবর্তীতে আল্লাহ তা'আলা এ বিধান জারি করে দিয়েছেন যে, সব মানুষ জন্মগ্রহণ করবে তার মায়ের গর্ভে। তারা জন্মগ্রহণ করবে পিতা- মাতার মাধ্যমে। মায়ের গর্ভে যখন সন্তানের শরীর জন্ম নেয় তখন আল্লাহ তা'আলা তার মাঝে রূহ সঞ্চারিত করেন। গর্ভের সেই খুদে মানবকে ভ্রুণ বলে। আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি ভ্রুণের জন্যে তার মায়ের গর্ভে প্রয়োজনীয় খাদ্য-পানীয়র ব্যবস্থা করে দেন। দিনে দিনে সেই খুদে মানবভ্রুণ একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠে। তার প্রতিটি অঙ্গ পুষ্ঠ হয়ে যায়। ...
এরপর আল্লাহ তা'আলা তাকে পৃথিবীর আলো-বাতাসের উপযোগী করে নিয়ে আসেন।...
সে কথাই কুরআনে কারীমে বিমূর্ত হয়ে ওঠেছে এভাবে-
الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ وَبَدَأَ خَلْقَ الإِنسَانِ مِن طِينٍ ه ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِن سُلالَةٍ مِّن مَّاء مَّهِينٍ ثُمَّ سَوَّاهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِن رُّوحِهِ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَالأَفْئِدَةَ قَلِيلاً ما تَشْكُرُونَ
'যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন এবং কাদা মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন।
তারপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে।
তারপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাতে নিজের রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।' [সূরা সাজদা : ৭৯]

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মু'ঈদ

📄 আল মু'ঈদ


মানুষের মৃত্যুর পর তার মাঝে পুনরায় যিনি জীবন ফিরিয়ে দেন, তাঁকেই বলা হয় ‘আল মুঈদ’। আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত দিবসে সমস্ত মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। আমলের হিসেব নেয়ার জন্যে তিনি তাদেরকে হাশরের ময়দানে একত্র করবেন。
সেদিন তিনি প্রতিটি মানুষকে তার কৃতকর্মের বিনিময় দেবেন। সৎ আমলকারীকে পুরস্কার হিসেবে জান্নাত দেবেন আর অসৎ আমলকারীকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন。
একজন মুসলমান যখন আল্লাহ তা’আলার এই ‘আল মুঈদ’ নামটির অর্থ অনুভব করবে তখন সে আল্লাহর ভয়ে নিজেই নিজের অন্তর স্বচ্ছ করে তুলবে। সে তখন নিজের আচার-আচরণকে মার্জিত করবে। গোপনে কী প্রকাশ্যে; সবসময় নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবে। করবে। কেননা সে জানে- যেই আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই তাকে একদিন পুনরুজ্জীবিত করবেন। আর তখন তাকে বিগত জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের বিবরণ হাতে নিয়ে আল্লাহর সম্মুখে জবাবদিহীতার জন্যে দণ্ডায়মাণ হতে হবে。
বনি ইসরাঈলের একটি ঘটনা তখন ছিলো হযরত মুসা আলাইহিস সালামের যুগ। বনী ইসরাঈলের এক লোক ছিলো প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী। কিন্তু লোকটির সন্তান বলতে ছিলো, একটি ছোট শিশু। সে-ই ছিলো তার পিতার বিশাল সম্পত্তির একমাত্র উত্তরাধিকারী。
ওই লোকটির এক ভাতিজা ছিলো খুবই লোভী প্রকৃতির। চাচার সম্পত্তির প্রতি অনেক দিন ধরেই তার লোভ ছিলো। মনে মনে সেই সম্পত্তি দখল করার ফন্দি আঁটতো। একদিন সুযোগ পেয়ে সে ওই শিশুটিকে হত্যা করে একটি নির্জন শষ্যক্ষেতে ফেলে দেয়。
একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে ধনী লোকটি খুবই মর্মাহত হলেন। ভীষণভাবে মুষড়ে পড়লেন। তিনি ভাবলেন, ওই ক্ষেতটির মালিকরাই তার সন্তানকে হত্যা করেছে। এজন্যে তিনি তাদেরকে অভিযুক্ত করে সাইয়্যেদিনা হযরত মুসা আলাইহিস সালামের নিকট নালিশ করলেন。
তিনি তখন তাদেরকে ডেকে পাঠালেন এবং হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তারা বললো- আমরা এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানি না। কে কখন ছেলেটিকে হত্যা করে এখানে ফেলে রেখেছে, তাও আমাদের জানা নেই。
তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তাদেরকে নির্দেশ দিলেন- তোমরা একটি গাভী নিয়ে এসে এখানে যবেহ করো। ওই গাভীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়ে যাবে- কে অপরাধী আর কে নির্দোষ?
হযরত মুসা আলাইহিস সালামের এই নির্দেশে তারা খুবই বিস্মিত হলো। তারপরও তারা নির্দেশ পালন করলো। তারা একটি গাভী নিয়ে হাজির হলো। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তখন সবার সামনেই সে গাভীটি যবেহ করলেন। এরপর গাভীটির জিহ্বা তুলে এনে দিয়ে সেটি দিয়ে মৃত শিশুটির শরীরে আঘাত করলেন। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তা'আলা ওই শিশুটির দেহে প্রাণ ফিরিয়ে দিলেন。
জীবন ফিরে পেয়ে শিশুটি নড়ে ওঠলো। তখন সে খুনীর দিকে হাত দিয়ে ইশারা করলো। এরপর শিশুটি কথা বলতেও শুরু করলো। শিশুটি স্পষ্টাকারে জানিয়ে দিল- কে তাকে কীভাবে হত্যা করেছে?
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম সঙ্গে সঙ্গে খুনী লোকটিকে পাকড়াও করেন এবং তৎক্ষণাৎ তাকে তার কৃতকর্মের শাস্তি দিলেন。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল কাইয়ূম

📄 আল কাইয়ূম


‘আল কাইয়্যুম’ বলা হয় ওই সত্তাকে, যিনি সার্বক্ষণিক প্রতিষ্ঠিত। একমাত্র আল্লাহ তা’আলাই কাইয়্যূম। পৃথিবীর বুকে যা কিছু আছে সেগুলোকে তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেন, তিনিই সেগুলোর সংরক্ষণ করেন, তিনিই সেগুলোকে পরিচালিত করেন。
আসমান, জমিন, মহাশূন্য, নক্ষত্রপুঞ্জ, তারকারাজি; সবকিছু একমাত্র আল্লাহর নির্দেশেই প্রতিষ্ঠিত আছে। তাঁর কুদরতেই সেগুলো স্থির আছে。
এক মুহূর্তের জন্যেও আল্লাহ তা’আলা নিদ্রিত হন না। গাফেলও হন না। যদি হতেন তাহলে মুহূর্তেই এই পৃথিবী লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতো। গোটা পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়তো。
একজন মুসলমান যখন আল্লাহ তা’আলার এই কাইয়্যুম নামটির কথা ভাববে যখন সে চিন্তা করবে যে, পৃথিবীর সবকিছু তাঁরই নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত তখন সে নিজেকেও ওই আল্লাহর নির্দেশের কাছে সমর্পণ করবে। একমাত্র তাঁর ওপরই তাওয়াক্কুল করবে。
اللهُ لَا يَنَامُ আল্লাহ কখনই ঘুমান না
একবার ইসরাঈল সম্প্রদায়ের কিছু লোক হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর পয়গম্বর! আপনার প্রভু কি ঘুমান?
এর উত্তরে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম শুধু এতোটুকুই বললেন, 'তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।'
আল্লাহ তা'আলা তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে ডেকে বললেন- 'তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করেছে- আপনার প্রভু কি ঘুমান? হে মুসা, আপনি এক কাজ করুন। কাঁচের দু'টি পাত্র সংগ্রহ করে আনুন এবং সেগুলো হাতে নিয়ে সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকুন।'
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম নির্দেশ মুতাবেক কাঁচের দু'টি পাত্র সংগ্রহ করলেন এবং রাতের বেলা দু' হাতে দু'টি পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। এভাবে রাতের প্রথম প্রহর কেটে গেলো। ধীরে ধীরে তাঁর দু'চোখে তন্দ্রা নেমে আসতে শুরু করলো। এমনকি হঠাৎ তাঁর হাত থেকে পড়েও গেলো। কিন্তু সেটি মাটিতে পড়ার আগে তিনি ধরে ফেললেন। যার ফলে এবারের মতো কাঁচের পাত্রটির আর কোনো ক্ষতি হলো না。
তিনি তখন দ্বিতীয়বারের মতো দু'হাতে দু'টি কাঁচের পাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন; কিন্তু শেষ রাতে তাঁর দু'চোখে এতোটাই ঘুম নেমে এলো যে, তিনি নিজেকে সংবরণ করতে পারলেন না। ঘুমের আতিশয্যে তাঁর রাত থেকে কাঁচের দু'টি পাত্রই পড়ে গেলো। মাটির ওপর আছড়ে পড়ায় সবগুলো টুকরো টুকরো হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়লো。
আল্লাহ তা'আলা তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে ডেকে বললেন- হে মুসা! আমি যদি ঘুমাতাম তাহলে ওই আসমানও এভাবে মাটির ওপর আছড়ে পড়তো। তোমার হাতের কাঁচের পাত্রগুলো যেভাবে টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, আসমানও এভাবে ভেঙ্গে টুকরো হয়ে যেতো。
কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-
اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمُ
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সুপ্রতিষ্ঠিত ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। [সূরা বাক্বারা : ২৫৫]

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মুহয়ী

📄 আল মুহয়ী


যিনি জীবন দান করেন তাকে বলা হয় 'আল মুহয়ী'। আল্লাহ তা'আলা মাতৃগর্ভের ভ্রূণের মাঝে প্রাণ সঞ্চারের মাধ্যমে জীবন দান করেন। বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে মাটির মাঝে জীবনের উন্মেষ ঘটান। তখন শস্যক্ষেতগুলো সবুজ-শ্যামলিমায় হেসে ওঠে। উদ্ভিদগুলো লকলকিয়ে বেড়ে ওঠে। শস্যগুলোতে বেজে ওঠে জীবনের জয়গান。
একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো- আমরা সবসময় সেই আল্লাহর কথা স্মরণ করবো; যিকিরের মাধ্যমে যেমন স্মরণ করবো, তেমনি নেককাজের মাধ্যমেও তাঁকে সবসময় স্মরণ রাখার চেষ্টা করবো। কেননা আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে আমাদের আত্মাগুলো প্রাণবন্ত থাকবে। তাইতো দেখা যায়- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকাল-সন্ধ্যা এ দু'আ করতেন-
اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا، وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا, وَبِكَ نَمُوتُ, وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
'হে আল্লাহ! আমরা তোমার নামে সকাল করি, তোমার নামেই সন্ধ্যা করি। তোমার দানেই জীবন লাভ করি, তোমার মাধ্যমেই মৃত্যু বরণ করি। আর তোমার কাছেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।'
আল্লাহই মাতৃগর্ভে ভ্রূণের মাঝে জীবন সঞ্চার করেন
পুরুষ ও নারীর মিলনের মাধ্যমে মাতৃগর্ভে একটি ভ্রুণ গড়ে ওঠার সুযোগ পায়। এক ফোঁটা বিশেষ পানী যখন কোনো নারীর গর্ভে প্রবেশ করে তখন ধীরে ধীরে সেটি অনেকগুলো স্তর অতিক্রম করে。
তা জরায়ুর ভেতরে প্রথমত একটি রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়। আকারে সেটির দৈর্ঘ বড়জোর এক মিলিমিটারের চেয়ে বেশি হয় না। ২২ দিন পর্যন্ত সেটি পরিপুষ্ট হতে থাকে。
এরপর সেটি টুকরো মাংশপিণ্ডে পরিণত হয়। সময়ের সাথে সাথে তার মাঝে অভিক্ষেপ ঘটতে থাকে। ৪২ দিন পর তার মাঝে হাড় সৃষ্টি হয়। গর্ভধারণের অষ্টম সপ্তাহে সেই হাড়ের ওপর গোশতের প্রলেপ পড়তে শুরু করে। তারপর ধীরে ধীরে তার ভেতরের অঙ্গগুলো তৈরি হতে থাকে। হৃদপিণ্ড, মগজ, পাকস্থলী ইত্যাদি গড়ে ওঠে。
এভাবে তার ভেতরের ও বাইরের অঙ্গগুলো বড় হতে থাকে। এক সময়ের ভ্রুণটি সময়ের সাথে সাথে পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে ভূমিষ্ঠ হওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে。
বিস্ময়ের বিষয় হলো, গর্ভের দিনগুলোতে ভ্রুণ তার যাবতীয় আহার তার মায়ের মাধ্যমেই গ্রহণ করে থাকে। গর্ভফুলের মাধ্যমে ভ্রুণ তার মায়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় খাবার পেয়ে যায়। সত্যি কী অবাক ব্যবস্থা! আল্লাহ তা'আলা সত্যই বলেছেন-
هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةُ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ
তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। [সূরা আন নাজম: ৩২]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00