📄 আল মাতীন
‘আল মাতীন বলা হয় এমন সত্তাকে, যার অভিধানে ভয়, দুঃসাধ্য বলে কিছু নেই। আল্লাহ-ই একক সেই সত্তা, যার কাছে পৃথিবীর কোনো কাজ দুঃসাধ্য নয়। যাকে কখনই ক্লান্তি, তন্দ্রা, ঘুম স্পর্শ করতে পারে না। যিনি কোনো কাজে বিরক্তি ও সংকোচ অনুভব করেন না। যিনি শক্তি অর্জনের জন্যে কোনো খাবার-পানীয়ের মুখাপেক্ষী নন। তার শক্তিমত্তার এমন কোনো যতিচিহ্ন নেই, যেখানে এসে তার প্রভাব ফুরিয়ে যায়। তাঁকে কখনই ক্লান্তি, অবসাদ ও দুর্বলতা গ্রাস করে না。
আমরা আমাদের চারপাশে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যেই অনুপম প্রকাশ দেখছি, সেগুলো ‘আল্লাহ পরাক্রান্ত শক্তিধর হওয়ার’ স্ববাক সাক্ষ্য দেয়। সেদিকে ইশারা করেই কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ اللهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ
নিশ্চয়ই আল্লাহ-ই জীবিকাদাতা, শক্তির আধার ও পরাক্রান্ত। [সূরা যারিয়াত: ৫৮]
একজন মুসলমানের মাঝে এই অনুভূতি ও বিশ্বাস প্রবল হয়ে ওঠতে হবে যে, সে এখন ঈমানের বলে বলিয়ান। এখন তার দ্বীনদারিত্ব পরাক্রান্ত। এই অনুভূতি যখন তার অন্তরের অন্তস্থলে গেঁথে যাবে তখন সে আর প্রবৃত্তির শিকার হবে না। কোনো মিথ্যার কাছে অবনত হবে না。
ধ্বংস হলো হযরত নূহ আ.-এর সম্প্রদায়
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম। মহান আল্লাহর একজন মহান নবী। তাঁর স্বজাতি ছিলো মূর্তিপূজারী। তিনি তাদেরকে দীর্ঘ সাড়ে ন'শো বছর আল্লাহর 'দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। এসময় তিনি তাদের পিঠে হাতে বুলিয়ে মূর্তির অক্ষমতার বিষয়টি বুঝিয়েছেন। তিনি তাদের ভেতরের বিবেককে সজাগ করার প্রাণান্ত চেষ্টা করেছেন; কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, তাঁর সম্প্রদায়ের গুটিকয়েক মুষ্ঠিমেয় লোক ব্যতীত অন্য কেউই তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি। মূর্তির অক্ষমতার বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বে পিতৃপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ তাদেরকে বিবেকের বিভায় আলোকিত হতে দেয়নি। এভাবে তারা তাদের কুফুরির অন্ধকারে ডুবে থাকে。
এক পর্যায়ে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর স্বজাতির ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়লেন। নিরুপায় হয়ে তিনি আল্লাহর কাছে তাদের শেষ পরিণতি কামনা করলেন। আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীর দু'আ কবুল করলেন। নির্দেশ দিলেন, হে নূহ, তুমি জরুরী ভিত্তিতে একটি নৌজাহাজ তৈরি করো。
এরপর যখন তাঁদের ধ্বংসের নির্দিষ্ট সময় ঘনিয়ে এলো, তখন আল্লাহ হযরত নূহ আলাইহিস সালামকে নির্দেশ করলেন, আপনি আপনার জাহাজে একজোড়া করে প্রতিটি প্রাণী উঠিয়ে নিন। আর আপনার স্বজাতির মধ্য হতে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকেও জাহাজে আশ্রয় দিন。
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশ পালন করলেন। এর কয়েক মুহূর্ত পর ভূপৃষ্ঠ চৌচির হয়ে পানি বেরোতে শুরু করলো। আকাশ থেকে প্রবল বেগে বৃষ্টি বর্ষণ হতে লাগলো। চারপাশে অথৈ জলের প্রাবল্য দেখে বিস্ময়ে মুশরিকদের চোখ ফুলে চড়ক গাছ হয়ে গেলো। পানির প্রবল প্রবাহের মুখে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের বাড়ি-ঘর, জমি-জমা- সবকিছুই তলিয়ে গেলো। তখন তারা জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পাহাড়ের ওপর আশ্রয় নিতে শুরু করলো। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিলো, বিক্ষুব্ধ তরঙ্গ তাদেরকে পাহাড়ের চূড়ার দিকে ধাওয়া করছে।
এক পর্যায়ে তারা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গেলো। কিন্তু নিচ থেকে পানির প্রবল প্রবাহ কিছুতেই থামছে না। কিছুক্ষণ পর পাহাড়ের চূড়া ছাপিয়ে গেলো পানির উচ্চসীমা। এক পর্যায়ে সম্প্রদায়টির সকল কাফের-মুশরিকের সলিল সমাধি ঘটলো。
জমিনের ওপর বিদ্যমান সকল কাফেরের ধ্বংস নিশ্চিত করার পর ধীরে ধীরে পানি কমে আসতে শুরু করলো। ওদিকে আকাশের বৃষ্টি বর্ষণেও ছেদ পড়লো। যার ফলে এক পর্যায়ে ভূপৃষ্ঠের ফাক গলে জলরাশি হারিয়ে গেলো তার সীমাহীন গর্ভদেশে। একটি যুৎসই স্থানে এসে দাঁড়িয়ে গেলো হযরত নূহ আলাইহিস সালামের কিশতি। ভেতর থেকে তিনি মুমিনদেরকে সঙ্গে নিয়ে জমিনে নেমে এলেন। আর এর মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে দ্বিতীয়বারের মতো সূচিত হলো মানবজীবনের প্রাণচাঞ্চল্য।
📄 আল ওয়ালী
‘আল ওলিয়্যু’ শব্দের আভিধানিক অর্থ, সহায়তাকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা সহায়তাকারী। তবে তার সহায়তা সেই লোকদের জন্যেই নির্দিষ্ট; যারা একমাত্র তাঁর ওপর ঈমান রাখে। আল্লাহর রহমত তাঁদের ওপরই বর্ষিত হয়। আর তাইতো তিনি তাদেরকে সীরাতে মুস্তাক্বীমের পথে পরিচালিত করেন। ইরশাদ হয়েছে-
اللهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوْا يُخْرِجُهُم مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوْرِ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ওই সকল লোকদের বন্ধু- যারা ঈমান এনেছে। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। [সূরা বাক্বারা : ২৫৭]
اللهُ لَا يُضَيِّعنا আল্লাহ অবশ্যই আমাদের ধ্বংস করবেন না
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নাম আমরা সবাই জানি। তিনি ছিলেন আল্লাহর অনেক বড় নবী। একদিন তিনি প্রিয়তম স্ত্রী হযরত হাজারা ও আদরের সন্তান 'ইসমাঈল'-সে সঙ্গে নিয়ে মক্কার পথে এওয়ানা হলেন। দীর্ঘ সফর শেষে তারা উপনীত হলেন মরুময় মক্কায়。
ইতিহাসের সেই দিনগুলোতে মক্কা ছিলো একটি অনাবাদ প্রান্তর। যখানে জীবনের কোনো স্পন্দন-ই নেই। কোথাও কোনো সবুজ শ্যামলিমার নাম-নিশানা নেই。
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম মক্কা নগরীর ছোট্ট একটি পর্বতের পাদদেশে এসে থেমে গেলেন। আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে সেখানে এসে তিনি স্ত্রী হাজারা ও তার প্রিয় সন্তানকে নামিয়ে দিলেন। এ সময় খাবার হিসেবে কয়েকটি খেজুর দিলেন। সামান্য কিছু পানিও দিয়ে গেলেন। এরপর এক পা-দু' পা করে ফেরার পথে হাঁটতে শুরু করলেন。
জীবনের স্পন্দনহীন এই বালুকাময় প্রান্তরে একাকী বাস করতে হবে শুনে হযরত হাজারা আলাইহিস সালাম কিছুটা কেঁপে ওঠলেন। বুকের গভীরে এক চিলতে ভীতিও অনুভব করলেন। তখন তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ওপর স্বামীকে রাজি করাতে সাধ্যমতো চেষ্টাও করলেন। কিন্তু তাঁর কোনো চেষ্টাই আলোর মুখ দেখলো না。
প্রিয় স্বামীর গমনপথের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন। এরপর পেছন থেকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আল্লাহ তা'আলা কি আপনাকে এ কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন?'
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম পেছন দিকে না তাকিয়ে ভাবলেশহীন কণ্ঠে উত্তর দিলেন, 'হ্যাঁ।'
তখন প্রত্যয়দীপ্ত কণ্ঠে সাহসী সুরে হযরত হাজারা আ. বললেন, 'তাহলে ঠিক আছে। মহান আল্লাহ অবশ্যই আমাদের ধ্বংস করবেন না।'
হযরত হাজারা আ. সেখানেই নিবাস পাতলেন। পানপাত্র থেকে তিনি অল্প অল্প করে পানি পান করতেন। ক্ষুধা অনুভব করলে যৎসামান্য খেজুর মুখে তুলে নিতেন। আর প্রিয় সন্তান ইসমাঈলকে কোলে তুলে বুকের দুধ খাওয়াতেন। এভাবে কিছু দিন কেটে গেলো。
এক পর্যায়ে খাবার-জল ফুরিয়ে এলো। বালুকাময় তেপান্তরের প্রখর রৌদ্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে লাগলো তৃষ্ণার জ্বালা। শিশু ইসমাঈলও প্রচণ্ড তৃষ্ণায় হাঁপিয়ে ওঠেছে। বাধ্য হয়ে হযরত হাজারা আ. পানির সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন। তৃষ্ণা নিবারণের মতো কয়েক ঢোক পানির খোঁজে তিনি একবার সফা পাহাড়ে উঠছেন। আবার সেখান থেকে নেমে মারওয়া পাহাড়ে উঠছেন। এভাবে তিনি পানির সন্ধানে হন্য হয়ে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে সাতবার দৌড়ে উঠলেন আর নামলেন。
এভাবে তৃষ্ণার্ত বুকে পাহাড়দু'টিতে উঠানামা করতে করতে তিনি ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। এক পর্যায়ে পানির আশা ছেড়ে দিয়ে বসে পড়লেন। যদিও ক্লান্ত চোখে তখনও তিনি সন্ধান করছিলেন পানির অস্তিত্ব。
অবসন্ন দৃষ্টিতে তিনি যখন জীবন বাঁচানোর মতো এক ঢোক পানি খুঁজে বেড়াচ্ছেন, তখন অকস্মাৎ আদরের সন্তান ইসমাঈলের খুব কাছে পানির একটি ফোয়ারা বেরিয়ে এলো। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেদিকে ছুটে গেলেন। উচ্ছসিত ফোয়ারা থেকে প্রথমে তিনি খানিকটা পানি পান করে নিজের জীবন রক্ষা করলেন। এরপর সেখান থেকে অঞ্জলী ভরে পানি তুলে স্নেহের বাছাধনকেও পান করালেন。
তোমরা কি জানো, পানির সেই ফোয়ারাটির নাম কী? হ্যাঁ, এটি হলো সেই বিশ্ববিখ্যাত কুপ 'যমযম'। যেই কুপটিকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে এখানে মানববসতি গড়ে ওঠতে শুরু করে। গোড়াপত্তন হয় ঐতিহাসিক নগরী মক্কার। এরপর সেই তিলোত্তমা নগরীতেই প্রতিষ্ঠিত হয় হৃদয়তীর্থ কা‘বা। নির্মিত হয় বিশ্বমুসলিমের প্রাণবিন্দু বাইতুল্লাহিল হারাম।
📄 আল হামীদ
'আল হামীদ' বলা হয় ওই সত্তাকে, যিনি প্রকৃতই প্রশংসা ও শুকরিয়ার হকদার। একমাত্র আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি সর্বাবস্থায় প্রশংসা ও শুকরিয়ার হকদার। কেননা তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। জীবন দিয়েছেন। বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন。
তিনি আমাদেরকে সাজিয়েছেন দৃষ্টিনন্দন অবয়বে। আমাদেরকে গড়েছেন ভারসাম্যপূর্ণ গঠনের ওপর। আল্লাহই আমাদের জন্যে আসমান-জমিনের সবকিছুকে বশীভূত করে দিয়েছেন। যার বদৌলতে আমরা আজ সেগুলোর কল্যাণ ও উপকার ভোগ করতে পারছি。
আমাদের ওপর আল্লাহর নে'আমত অসংখ্য- অগণন। তাঁর দেয়া প্রতিটি নে'আমত আমাদেরকে তাঁর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতে উজ্জীবিত করে।
একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের করণীয় হলো, আমরা প্রকাশ্য, অপ্রকাশ, ভালো, মন্দ- সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করবো। আমাদেরকে অবশ্যই এ ঈমান লালন করতে হবে যে, আল্লাহ সবসময় আমাদের জন্যে কল্যাণকর সিদ্ধান্ত-ই গ্রহণ করে থাকেন。
বিশ্বচরাচর তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ তুমি কি জানো, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তার সমুদয়ই আল্লাহর তাসবীহ জপে। প্রতিনিয়ত সেগুলো সদা-সর্বদা আল্লাহর প্রশংসা করে বেড়ায়। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-
تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَن فِيهِنَّ وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدَهِ وَلَكِن لَّا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ
‘সপ্ত আকাশ ও পৃথিবী এবং এগুলোর মধ্যে যাকিছু আছে সমস্ত কিছু তাঁরই পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এমন কিছু নেই যা তার প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে না; কিন্তু তাদের পবিত্রতা তোমরা অনুধাবন করতে পারো না। [সূরা ইসরা : ৪৪] তুমি কি জানো, ফেরেশতাগণ সবসময় আল্লাহর গুণকীর্তন করে থাকেন। কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ
'আর যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার আশ-পাশে রয়েছে, তাদের সবাই তাদের রবের প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করে। [সূরা গাফের: ৭]
তুমি কি জানো, আল্লাহর সৃষ্টির সর্বোত্তম প্রকাশ হলো, জান্নাত। এই জান্নাতও প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে থাকে। ইরশাদ হয়েছে-
وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَنَا وَعْدَهُ وَأَوْرَثَنَا الْأَرْضَ نَتَبَوَّأُ مِنَ الجَنَّةِ حَيْثُ نَشَاء فَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
'তারা বলে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে এ ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন। আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব। মেহনতকারীদের পুরস্কার কতই চমৎকার। [সূরা যুমার: ৭৪]
তুমি কি জানো, আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। সেই প্রিয় নবীকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রশংসার তাসবীহ আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা আল হিজরে ইরশাদ হয়েছে-
فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَكُن مِّنَ السَّاجِدِينَ
'কাজেই আপনি আপনার রবের প্রশংসার তাসবীহ পাঠ করুন এবং সেজদাকারীদের একজন হয়ে যান'।
[সূরা আল হিজর : ৯৮]
📄 আল মুহছী
'আল মুহসী' বলা হয় ওই সত্ত্বাকে যিনি প্রতিটি বস্তু বেষ্টন করে আছে। যার জ্ঞান প্রতিটি বিষয় পরিব্যাপ্ত। আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ পৃথিবীর সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবহিত। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণীও তাঁর অজানা নয়। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কোনো জিনিসও তাঁর অজ্ঞাত নয়। বিশ্বচরাচরে যতো মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিৎ, তরু-লতা, মাছ, নক্ষত্র, গ্রহপুঞ্জ আছে, এমনকি সাগরের মাঝে যতো ফোঁটা পানি আছে, মরুর বুকে যতো সংখ্যক বালুকণা আছে, সেগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তিনি জানেন。
আল্লাহ তা'আলা প্রতিটি মানুষের আমলনামা সম্পর্কেও সম্যক অবহিত। কার আমলনামায় কি কি 'গুনাহ আছে, কোনটি ছোট গুনাহ আর কোনটি বড় গুনাহ, কে কখন গুনাহ করছে, তার সবকিছু তিনি জানেন। জানেন। কেয়ামতের দিন তিনি প্রতিটি মানুষের সামনে তার সেই আমলনামা মেলে ধরবেন। তিনি প্রত্যেককে তার অতীত জীবনের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে বিচার করবেন。
একজন মুসলমান যখন আল্লাহ তা'আলার এ বৈশিষ্ট্যটি জানবে তখন সে চূড়ান্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজেকে গুছিয়ে নেবে। সে তখন তার প্রতিটি কাজ, প্রতিটি কথা শুধরে রাখবে। সে সবসময় বেশি বেশি নেক কাজ করার চেষ্টা করবে। কেননা সে জানে, তার প্রতিটি কাজ -দিনের আলোতে হোক বা রাতের আঁধারে হোক; প্রকাশ্যে বা গোপনে হোক- মহান আল্লাহর অগোচরে নেই。
মানুষ আল্লাহর সৃষ্টির সংখ্যা জানে না
আল্লাহর সৃষ্টি এতোটাই প্রচুর যে, কোনো মানুষের পক্ষে সেগুলোর পূর্ণ বিবরণ জানা সম্ভব নয়। পৃথিবীর বুকে, সমুদ্রের গহীনে, মহাশূন্যে অর্থাৎ এ বিশাল বিশ্বচরাচরে মহান আল্লাহর অসংখ্য অগণিত সৃষ্টি ছড়িয়ে আছে。
আপনি কি জানেন-
- এখন পর্যন্ত চার কোটিরও অধিক উদ্ভিৎ আবিস্কার হয়েছে?
- প্রতি বছর বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন ৭ থেকে ১০ হাজার কীট-প্রতঙ্গ আবিস্কার করে থাকেন?
- আমাদের পৃথিবীর গ্যালাক্সিতে এক কোটি মিলিয়ন নক্ষত্র রয়েছে。
- মহাশূন্যে আমাদের গ্যালাক্সির মতো আরো এক হাজার মিলিয়ন গ্যালাক্সি রয়েছে。
কুরআনে কারীমে আল্লাহ সত্যই বলেছে-
وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ
এবং তিনি অবগত রয়েছেন স্থলে ও সমুদ্রে যা কিছু আছে। আর কোন পাতা ঝরে না, কিন্তু তিনি তা জানেন এবং যমীনের অন্ধকারে কোন দানা পড়ে না, না কোন ভেজা এবং না কোন শুষ্ক কিছু; কিন্তু রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে। [সূরা আন'আম : ৫৯]