📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ওয়াদূদ

📄 আল ওয়াদূদ


যিনি সীমাহীন ভালবাসার প্রতীক তিনিই হলেন ওয়াদুদ। আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাকে ভালবাসা দিয়ে বানিয়েছেন। সর্বোচ্চ প্রীতির মোহময় ডোরে বেঁধেই তিনি বান্দার সঙ্গে আচরণ করেন। তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তাদের তাওবা কবুল করেন। তাদের ডাকে সাড়া দেন। দুঃখ-দুর্দশা দূর করেন। নিজ অনুগ্রহে রিযিক দান করেন। তিনিই তাঁর নেক বান্দাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়ভাজন। কেননা তিনিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে রিযিক দেন এবং তাদেরকে দেখিয়েছেন সিরাতুল মুসতাকীমের পথ। তাইতো তারা তাঁর দিকেই ফিরে যায় ইবাদত বন্দেগী, যিকির আযকার, দুআ রোনাজারী এবং কল্যাণকর পথে ব্যয় করার মাধ্যমে।
তাই মুসলমানের উচিৎ তাঁর (মুসলমান) ভাইকে ভালবাসা। নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার জন্যেও। সেটাই পছন্দ করা। নিজের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া। এবং সমস্ত মানুষের জন্য কল্যাণ কামনা করা。
محبة بعد عداوة বৈরীতা বদলে গেলো বন্ধুতায়
বর্ণিত আছে, এক আলেমের সঙ্গে এক নেককার লোকের ঝগড়া চলছিল। ওই লোকটির প্রসঙ্গে কোনো কথা ওঠলে আলেম লোকের মুখে স্রেফ তিরস্কারই বেরোতো। লোকেরা তাদেরকে মিলিয়ে দিতে খুবই চেষ্টা করেছে; কিন্তু তাদের দু'জনের মধ্যকার বিবাদ নিরসুন করার কোনো চেষ্টাই সাফল্যের মুখ দেখেনি。
একদিন সেই সৎ লোকটি এই বিরোধ ভেঙ্গে মিল-মুহাব্বতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠলো। তাই সে ওই শ্রদ্ধাভাজন আলেমের বাড়িতে মূল্যবান উপহার সামগ্রী দিয়ে একজনকে পাঠাল। আলেমের ছাত্ররা দেখল যে, তিনি হঠাৎ লোকটির প্রশংসা করতে শুরু করেছে। তখন এক ছাত্র বলল, কিভাবে আপনি তার প্রশংসাও করছেন অথচ তার নিন্দাও করেছেন?
আলেম বললেন, উত্তম আচরণকারীর প্রতি হৃদয় ঝুঁকে যায় আর রূঢ় আচরণকারীর প্রতি বিদ্বেষ তৈরী হয়।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মাজীদ

📄 আল মাজীদ


'আল মাযীদ' অর্থ মহামহিম। এটি ঐ সত্তার নাম যিনি সত্তাগতভাবেই সম্মানী। একমাত্রই আল্লাহই এমন যিনি মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। প্রাচুর্যময়। অভাবমুক্ত। আসমান জমিনের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। সমস্ত সৃষ্টিজীব তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি দয়াময়। তাঁর দয়া সবকিছু পরিবেষ্টিত। তিনি মহা পরাক্রমশালী। কোন কিছুই তাকে অক্ষম করতে পারে না। পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু আল্লাহ তাআলার মাহাত্ব ও তার গুণাবলির বড়ত্বের সামনে ম্রিয়মাণ। তার রয়েছে আসমান জমিন। এ দু'টির মধ্যস্থলে যা কিছু রয়েছে সবকিছুর ওপর তাঁর ক্ষমতা অনিরুদ্ধ। পুরো জাহান নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী তাঁর তসবীহ পাঠে থাকে মশগুল。
আল্লাহর বান্দা হিসেবে তাই মানুষের উচিৎ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা। উত্তম চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ করা। সর্বোত্তম আমল নিজের জীবনে প্রতিফলন করা। যাতে করে সে আল্লাহ তাআলার গুণে হতে পারে গুণবান。
من عجائب المخلوقات সৃষ্টির রহস্য
একদিন কিছু পরিবেশবিজ্ঞানী বার্মার এক বনে বসবাসরত প্রাণীকুলের উপর পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। রাতে তারা তাদের চারপাশের বিভিন্ন গাছে তারার মত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উড়তে দেখল। তারা ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। তাদের মনে হল এই উড়ন্ত আগুন হয়তো এখুন বনটিকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেবে。
দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর তারা নিশ্চিত হল যে, এগুলো সেই সমস্ত পোকা নয় যেগুলো নিজ থেকেই জ্বলতে থাকে। বরং এগুলো এক প্রকারের সক্রিয় মাছি। যেগুলো নিজ উপস্থিতির জানান দিতেই স্বউদ্যোগী হয়ে এধরনের আলোকরশ্মি প্রজ্জলন করে থাকে। এগুলোকে অগ্নিমাছি বলে。
এই বিজ্ঞানীরা অনেকগুলো ধরে একটি কাঁচের বোতলে ভরল। তারা ভীষণ বিস্মিত হল। কারণ বোতলের এই মাছিগুলোর আলোই তাদের তাবুর আলোর জন্য যথেষ্ট হয়ে গেল。
সেখানে আরো অগণিত মাছি জ্বলজ্বল করছিলো। আরো ছিলো শামুক ও কাকড়া জাতীয় কিছু প্রাণী। এই সবগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে তারকার মত মনে হয়। সাগরের গভীরে বসবাস করে এগুলো। সবুজ আলোয় উদ্ভাসিত হয়। যেই আলো শত্রুপক্ষের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই আলোর সাহায্যে সেগুলো নিজেকে রক্ষা করে。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল বায়েস

📄 আল বায়েস


আল-বায়েস-এর আভিধানিক অর্থ পুনরুত্থানকারী। এটি আল্লাহ তা'আলার অন্যতম একটি গুণবাচক নাম। কারণ, তিনি সৃষ্টিজীবকে কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত করবেন। তিনি মরে যাওয়া প্রাণীদের নিথর দেহে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করবেন। ফলশ্রুতিতে আরেকবার জীবনের প্রাণচাঞ্চল্যে সজ্জীবিত হয়ে ওঠবে তারা。
তখন তারা ফিরে যাবে মৃত্যুপূর্ব জীবনে। সেদিন সকল মানুষ থেকে তাদের বিগত জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের হিসেব নেয়া হবে। অতপর তাদেরকে তাদের ইহকালীন আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। যার ফলে তাদের একদল জান্নাতের অভিযাত্রী হবে। আর আরেকদল হবে জাহান্নামের অধিবাসী。
মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার পুনরুত্থান একটি অনিবার্য সত্য। আমাদেরকে অবশ্যই তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আমাদেরকে দৃঢ়তার সঙ্গে এ কথার ওপর ঈমান আনয়ন করতে হবে যে, মৃত্যুর পর আমাদেরকে অবশ্যই পুনরুজ্জীবিত করা হবে। সেদিন আমাদের কাছ থেকে আমাদের পার্থিব জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসেব নেয়া হবে。
যখন একজন মানুষ তার হৃদয়ে উক্ত বিশ্বাস লালন করবে তখন তার প্রভাবে সে স্বউদ্যোগী হয়ে নিজ জীবনকে সত্যের ওপর বিনির্মাণ করবে। সে নিজ আচরণ মার্জিত করবে। কেননা সে বিশ্বাস করে যে, তার ছোট-বড়, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য প্রতিটি আমলের জন্যে একদিন জবাবদিহীতার সম্মুখীন হবে。
الطيور الأربعة চারটি পাখির গল্প
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নাম তোমরা নিশ্চয়ই শুনে থাকবে। তিনি ছিলেন আল্লাহর অতি প্রিয় রাসূল। একদিন তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বললেন, হে আল্লাহ, আমার মনে একটি ইচ্ছে জেগেছে। ইচ্ছেটি হলো, আপনি কীভাবে মৃত প্রাণীকে পুনরুজ্জীবিত করেন, তা আমি দেখবো。
আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, হে ইবরাহীম, আপনি কি তা বিশ্বাস করেন না? উত্তরে তিনি বললেন, আমি অবশ্যই তা বিশ্বাস করি। আমি আপনার এই কুদরতটি স্বচোক্ষে প্রত্যক্ষ করে আমার অন্তর প্রশান্ত করতে চাই。
তখন মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ করলেন— আপনি চারটি ভিন্ন প্রজাতির পাখি ধরে আনুন। এরপর সেগুলো যবেহ করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ টুকরো টুকরো করে ফেলুন। চারটি ভিন্ন প্রজাতির পাখির নিষ্প্রাণ অঙ্গগুলোকে আপনি মিলিয়ে ফেলুন। এরপর সেগুলোকে অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত করে বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় রেখে আসুন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশ পালন করলেন。
তখন আল্লাহ তা'আলা সেই পাখিগুলোকে নাম ধরে ডাক দিলেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম প্রচণ্ড বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলেন, প্রতিটি পাখির খণ্ডিত অঙ্গ- যা বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় রাখা আছে- এখন একত্র হতে শুরু করলো। গোশতের সঙ্গে গোশত মিশে যাচ্ছে। হাড়ের ভগ্নাংশের সঙ্গে অন্য অংশগুলোও সমন্বিত হচ্ছে। রক্তের ফোঁটাগুলো উঠে এসে পুনরুজ্জীবিত দেহে সঞ্চারিত হচ্ছে। অবশেষে সেই চারটি পাখি অবিকল পূর্বের আকৃতিতে ফিরে গেছে। এমনকি সেগুলো হেঁটে হেঁটে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামে কাছে চলে এসেছে। বিস্মিত নবী তখন প্রশান্ত হৃদয়ে সেজদায় অবনত হলেন。
পাখির সেই পরিণতি একদিন আমাদেরকেও বরণ করতে হবে। আমাদেরকে এভাবে কিয়ামত দিবসে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। আমরা তখন অবিকল আমাদের বর্তমান কাঠামোতে ফিরে যাবো। আর এসবই হবে সেই 'আল বায়িস' আল্লাহর কুদরতের মাধ্যম।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আশ শাহীদ

📄 আশ শাহীদ


‘আশ শহীদ’ হলেন সেই সত্তা, যার কাছে কোনো কিছুই গুপ্ত নয়। তিনি হলেন, মহান আল্লাহ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র মাখলুকাতের প্রতিটি পদক্ষেপ তাঁর নখদর্পণে। দিনের আলোতে হোক বা রাতের অন্ধকারেই হোক; তাদের কোনো কিছুই তাঁর দৃষ্টি ও অবগতির আড়ালে নয়। ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর বিষয়গুলোও তাঁর স্বচ্ছ দৃষ্টির সম্মুখে সমুজ্জ্বল。
একজন মুসলমান যখন জানবে যে, তার আল্লাহ তাঁর মনের ঐকান্তিক ইচ্ছেগুলোকেও জানেন। তিনি তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফহাল, তখন সে কোনো ভুল করতে লজ্জা পাবে। কোনো গুনাহ করতে তার সংকোচ বোধ হবে। কোনো অন্যায়ের কর্তা হলে তার বিবেকে বাঁধবে। কেননা সে ভালো করেই অবগত যে, আল্লাহ তাঁর প্রতিটি অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত。
كفى بالله شهيدا
আমার একমাত্র সাক্ষী আল্লাহ
হাজার বছর আগের ঘটনা। যা ঘটেছিলো বনী ইসরাঈলের দু'ব্যক্তির মাঝে। ঘটনাটি আজো ইতিহাসের পাতায় সতেজ হয়ে আছে。
সেই যুগে বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তি অর্থসংকটের সম্মুখীন হন। যার ফলে তিনি তার গোত্রের আরেক ভাইয়ের কাছে কিছু টাকা ঋণ চাইলেন। তখন তিনি বললেন, ঠিক আছে। তুমি কয়েকজন সাক্ষী নিয়ে এসো। তাদের উপস্থিতিতে আমি আপনাকে ঋণ দেবো。
তখন ঋণপ্রার্থী লোকটি বললেন, আমাদের এ লেনদেনের সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট。
তিনি বললেন, সঠিক কথা বলেছেন। আল্লাহই শ্রেষ্ঠ সাক্ষী। একথা বলে তিনি তাকে তার কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ টাকা ঋণ দিলেন। ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্যে তিনি নিজ থেকে কোনো সময়সীমাও বেঁধে দিলেন না। ঋণপ্রার্থীই স্বউদ্যোগী হয়ে একটি মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দিলেন。
ঋণের অর্থ হাতে পাওয়ার পর ওই লোকটি বাণিজ্যিক সফরে বিদেশযাত্রা করলেন। বিনিয়োগকৃত অর্থে পণ্যদ্রব্য বেচাকেনা করে প্রচুর মুনাফা পেলেন। সফল হল তার বাণিজ্যিক সফর。
এরপর তিনি স্বদেশ ফেরার মনস্থ করলেন। ভাবলেন, স্বদেশ ফিরে সর্বাগ্রেই আমি আমার ভাইটির ঋণ শোধ করবো। কিন্তু বিধিবাম! স্বদেশে ফেরার মতো কোনো বাহনই পাচ্ছেন না। অনেক চেষ্টা-তদবির করেও তিনি সাগর পাড়ি দেয়ার মতো কোনো নৌকো জোগাড় করতে পারলেন না। যার ফলে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। কাঙ্ক্ষিত সময়ে ঋণ শোধ করতে না পারার ভাবনায় মুষড়ে পড়লেন。
দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনার পর তিনি একটি কৌশল খুঁজে বের করলেন।
প্রথমে তিনি এক টুকরো কাঠ নিলেন। এরপর সেটির ভেতর একটা কুঠুরীর ফোকর তৈরি করলেন। ফোকরটির ভেতরে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা রেখে দিলেন। তার সঙ্গে খাজাদ্‌তা ভাইয়ার উদ্দেশ্যে একটি চিরকুটও জুড়ে দিলেন। এরপর সেই ফোকরটিকে এমনভাবে এঁটে করে দিলেন যে, বাইরে থেকে কারো কারও মনে হবে না, সেখানে একটি ফোকর ছিলো। এরপর সেটিকে সাগরে ভাসিয়ে দিলেন। তারপর দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে দু’আ করলেন-
‘হে আল্লাহ, আপনি জানেন, আমি অমুক ব্যক্তির কাছ থেকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা ঋণ নিয়েছিলাম। তখন তিনি আমার কাছে সাক্ষী চেয়েছিলেন। যার উত্তরে আমি বলেছিলাম, সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্‌-ই যথেষ্ট।’
আমার এ-কথা উপর তিনি সন্তুষ্টির সঙ্গে আমাকে অবলীলায় এতোগুলো অর্থ সঁপে দিয়েছিলেন। আজ ক’দিন যাবত আমি তার কাছে তার টাকা ফেরত দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি; কিন্তু প্রাণান্ত খেটেও একটি বাহন বা নৌকা জোগাড় করতে পারিনি। তুমি-ই তার কাছে এ অর্থ পৌঁছে দিও।’
এ দু’আ করে তিনি কাঠের টুকরোটি সমুদ্রের পানিতে ভাসিয়ে দিলেন。
ওদিকে ঋণ পরিশোধের দিন সেই লোকটি সমুদ্রের তীরে এসে দীর্ঘ সময় ঋণগ্রহীতা ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করলেন; কিন্তু বেলাশেষে দেখা গেলো, ওই ভাইটি আসেনি। এভাবে কয়েকদিন অপেক্ষা করলেন। অভাবে ব্যর্থ মনোরথে বাড়ির পথ ধরলেন। হঠাৎ তিনি সমুদ্রের পাড়ে এক টুকরা কাঠ কুড়িয়ে পেলেন। ভাবলেন, এটিকে উঠিয়ে বাড়িয়ে নিয়ে যাই। তাহলে নিদেনপক্ষে লাকড়ির কাজ দেবে。
কাঠের টুকরোটিকে লাকড়ির উপযোগী করতে হলে সেটিকে ছোট ছোট টুকরা করতে হবে। এজন্য তিনি কুড়াল হাতে নিয়ে সেটিকে চিড়তে শুরু করলেন। মাঝবরাবর দু' টুকরো করতেই সেটির ভেতর থেকে টপ টপ করে স্বর্ণমুদ্রাগুলো বেরিয়ে এলো। সেগুলোর সঙ্গে ঋণগ্রহিতা লোকটির লেখা চিরকুটটিও সে পেয়ে গেলো。
এর অনেক দিন পর সেই ঋণগ্রহিতা লোকটি আরো এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে হাজির হলেন। বাড়িতে হাজির হয়ে তিনি প্রথমে দেরি হওয়ার কারণ পেশ করলেন। এরপর উক্ত অর্থ তার সামনে পেশ করলেন। তখন গৃহকর্তা বললেন, ভাই, আল্লাহ তা'আলা তোমার টাকাগুলো আমার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। আমি কাঠের টুকরোটির ভেতরে তোমাকে দেয়া ঋণের অর্থ পেয়ে গেছি。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00