📄 আল হাকীম
আল হাকীম ঐ সত্তা যিনি সব কাজ সুচারুরূপে নির্ধারণ করেন। অতপর যথাস্থানে তা প্রয়োগ করেন। যেভাবে কল্যাণ হবে সেভাবেই স্থাপন করেন। আল্লাহ তাআলা নিজেকে হাকীম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি তার নেক বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে হিকমত দান করতে পারেন। তিনি ইরশাদ করেন,
‘তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে হিকমত দান করেন। আর যাকে হিকমত দেয়া হল তাকে প্রভুত কল্যাণ দেওয়া হল।’ (সূরা বাক্বারা - ২৬৯)
তাই মুসলমানের উচিৎ সব কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করা। আর আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এবং জান্নাতে প্রবেশের আশায় নেক আমল করা এবং ভাল কাজ করা।
📄 আল ওয়াদূদ
যিনি সীমাহীন ভালবাসার প্রতীক তিনিই হলেন ওয়াদুদ। আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাকে ভালবাসা দিয়ে বানিয়েছেন। সর্বোচ্চ প্রীতির মোহময় ডোরে বেঁধেই তিনি বান্দার সঙ্গে আচরণ করেন। তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তাদের তাওবা কবুল করেন। তাদের ডাকে সাড়া দেন। দুঃখ-দুর্দশা দূর করেন। নিজ অনুগ্রহে রিযিক দান করেন। তিনিই তাঁর নেক বান্দাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়ভাজন। কেননা তিনিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে রিযিক দেন এবং তাদেরকে দেখিয়েছেন সিরাতুল মুসতাকীমের পথ। তাইতো তারা তাঁর দিকেই ফিরে যায় ইবাদত বন্দেগী, যিকির আযকার, দুআ রোনাজারী এবং কল্যাণকর পথে ব্যয় করার মাধ্যমে।
তাই মুসলমানের উচিৎ তাঁর (মুসলমান) ভাইকে ভালবাসা। নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার জন্যেও। সেটাই পছন্দ করা। নিজের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া। এবং সমস্ত মানুষের জন্য কল্যাণ কামনা করা。
محبة بعد عداوة বৈরীতা বদলে গেলো বন্ধুতায়
বর্ণিত আছে, এক আলেমের সঙ্গে এক নেককার লোকের ঝগড়া চলছিল। ওই লোকটির প্রসঙ্গে কোনো কথা ওঠলে আলেম লোকের মুখে স্রেফ তিরস্কারই বেরোতো। লোকেরা তাদেরকে মিলিয়ে দিতে খুবই চেষ্টা করেছে; কিন্তু তাদের দু'জনের মধ্যকার বিবাদ নিরসুন করার কোনো চেষ্টাই সাফল্যের মুখ দেখেনি。
একদিন সেই সৎ লোকটি এই বিরোধ ভেঙ্গে মিল-মুহাব্বতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠলো। তাই সে ওই শ্রদ্ধাভাজন আলেমের বাড়িতে মূল্যবান উপহার সামগ্রী দিয়ে একজনকে পাঠাল। আলেমের ছাত্ররা দেখল যে, তিনি হঠাৎ লোকটির প্রশংসা করতে শুরু করেছে। তখন এক ছাত্র বলল, কিভাবে আপনি তার প্রশংসাও করছেন অথচ তার নিন্দাও করেছেন?
আলেম বললেন, উত্তম আচরণকারীর প্রতি হৃদয় ঝুঁকে যায় আর রূঢ় আচরণকারীর প্রতি বিদ্বেষ তৈরী হয়।
📄 আল মাজীদ
'আল মাযীদ' অর্থ মহামহিম। এটি ঐ সত্তার নাম যিনি সত্তাগতভাবেই সম্মানী। একমাত্রই আল্লাহই এমন যিনি মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। প্রাচুর্যময়। অভাবমুক্ত। আসমান জমিনের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। সমস্ত সৃষ্টিজীব তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি দয়াময়। তাঁর দয়া সবকিছু পরিবেষ্টিত। তিনি মহা পরাক্রমশালী। কোন কিছুই তাকে অক্ষম করতে পারে না। পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু আল্লাহ তাআলার মাহাত্ব ও তার গুণাবলির বড়ত্বের সামনে ম্রিয়মাণ। তার রয়েছে আসমান জমিন। এ দু'টির মধ্যস্থলে যা কিছু রয়েছে সবকিছুর ওপর তাঁর ক্ষমতা অনিরুদ্ধ। পুরো জাহান নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী তাঁর তসবীহ পাঠে থাকে মশগুল。
আল্লাহর বান্দা হিসেবে তাই মানুষের উচিৎ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা। উত্তম চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ করা। সর্বোত্তম আমল নিজের জীবনে প্রতিফলন করা। যাতে করে সে আল্লাহ তাআলার গুণে হতে পারে গুণবান。
من عجائب المخلوقات সৃষ্টির রহস্য
একদিন কিছু পরিবেশবিজ্ঞানী বার্মার এক বনে বসবাসরত প্রাণীকুলের উপর পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। রাতে তারা তাদের চারপাশের বিভিন্ন গাছে তারার মত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উড়তে দেখল। তারা ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। তাদের মনে হল এই উড়ন্ত আগুন হয়তো এখুন বনটিকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেবে。
দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর তারা নিশ্চিত হল যে, এগুলো সেই সমস্ত পোকা নয় যেগুলো নিজ থেকেই জ্বলতে থাকে। বরং এগুলো এক প্রকারের সক্রিয় মাছি। যেগুলো নিজ উপস্থিতির জানান দিতেই স্বউদ্যোগী হয়ে এধরনের আলোকরশ্মি প্রজ্জলন করে থাকে। এগুলোকে অগ্নিমাছি বলে。
এই বিজ্ঞানীরা অনেকগুলো ধরে একটি কাঁচের বোতলে ভরল। তারা ভীষণ বিস্মিত হল। কারণ বোতলের এই মাছিগুলোর আলোই তাদের তাবুর আলোর জন্য যথেষ্ট হয়ে গেল。
সেখানে আরো অগণিত মাছি জ্বলজ্বল করছিলো। আরো ছিলো শামুক ও কাকড়া জাতীয় কিছু প্রাণী। এই সবগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে তারকার মত মনে হয়। সাগরের গভীরে বসবাস করে এগুলো। সবুজ আলোয় উদ্ভাসিত হয়। যেই আলো শত্রুপক্ষের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই আলোর সাহায্যে সেগুলো নিজেকে রক্ষা করে。
📄 আল বায়েস
আল-বায়েস-এর আভিধানিক অর্থ পুনরুত্থানকারী। এটি আল্লাহ তা'আলার অন্যতম একটি গুণবাচক নাম। কারণ, তিনি সৃষ্টিজীবকে কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত করবেন। তিনি মরে যাওয়া প্রাণীদের নিথর দেহে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করবেন। ফলশ্রুতিতে আরেকবার জীবনের প্রাণচাঞ্চল্যে সজ্জীবিত হয়ে ওঠবে তারা。
তখন তারা ফিরে যাবে মৃত্যুপূর্ব জীবনে। সেদিন সকল মানুষ থেকে তাদের বিগত জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের হিসেব নেয়া হবে। অতপর তাদেরকে তাদের ইহকালীন আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। যার ফলে তাদের একদল জান্নাতের অভিযাত্রী হবে। আর আরেকদল হবে জাহান্নামের অধিবাসী。
মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার পুনরুত্থান একটি অনিবার্য সত্য। আমাদেরকে অবশ্যই তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আমাদেরকে দৃঢ়তার সঙ্গে এ কথার ওপর ঈমান আনয়ন করতে হবে যে, মৃত্যুর পর আমাদেরকে অবশ্যই পুনরুজ্জীবিত করা হবে। সেদিন আমাদের কাছ থেকে আমাদের পার্থিব জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসেব নেয়া হবে。
যখন একজন মানুষ তার হৃদয়ে উক্ত বিশ্বাস লালন করবে তখন তার প্রভাবে সে স্বউদ্যোগী হয়ে নিজ জীবনকে সত্যের ওপর বিনির্মাণ করবে। সে নিজ আচরণ মার্জিত করবে। কেননা সে বিশ্বাস করে যে, তার ছোট-বড়, প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য প্রতিটি আমলের জন্যে একদিন জবাবদিহীতার সম্মুখীন হবে。
الطيور الأربعة চারটি পাখির গল্প
হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নাম তোমরা নিশ্চয়ই শুনে থাকবে। তিনি ছিলেন আল্লাহর অতি প্রিয় রাসূল। একদিন তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে বললেন, হে আল্লাহ, আমার মনে একটি ইচ্ছে জেগেছে। ইচ্ছেটি হলো, আপনি কীভাবে মৃত প্রাণীকে পুনরুজ্জীবিত করেন, তা আমি দেখবো。
আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, হে ইবরাহীম, আপনি কি তা বিশ্বাস করেন না? উত্তরে তিনি বললেন, আমি অবশ্যই তা বিশ্বাস করি। আমি আপনার এই কুদরতটি স্বচোক্ষে প্রত্যক্ষ করে আমার অন্তর প্রশান্ত করতে চাই。
তখন মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে নির্দেশ করলেন— আপনি চারটি ভিন্ন প্রজাতির পাখি ধরে আনুন। এরপর সেগুলো যবেহ করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ টুকরো টুকরো করে ফেলুন। চারটি ভিন্ন প্রজাতির পাখির নিষ্প্রাণ অঙ্গগুলোকে আপনি মিলিয়ে ফেলুন। এরপর সেগুলোকে অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত করে বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় রেখে আসুন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশ পালন করলেন。
তখন আল্লাহ তা'আলা সেই পাখিগুলোকে নাম ধরে ডাক দিলেন। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম প্রচণ্ড বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করলেন, প্রতিটি পাখির খণ্ডিত অঙ্গ- যা বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় রাখা আছে- এখন একত্র হতে শুরু করলো। গোশতের সঙ্গে গোশত মিশে যাচ্ছে। হাড়ের ভগ্নাংশের সঙ্গে অন্য অংশগুলোও সমন্বিত হচ্ছে। রক্তের ফোঁটাগুলো উঠে এসে পুনরুজ্জীবিত দেহে সঞ্চারিত হচ্ছে। অবশেষে সেই চারটি পাখি অবিকল পূর্বের আকৃতিতে ফিরে গেছে। এমনকি সেগুলো হেঁটে হেঁটে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামে কাছে চলে এসেছে। বিস্মিত নবী তখন প্রশান্ত হৃদয়ে সেজদায় অবনত হলেন。
পাখির সেই পরিণতি একদিন আমাদেরকেও বরণ করতে হবে। আমাদেরকে এভাবে কিয়ামত দিবসে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। আমরা তখন অবিকল আমাদের বর্তমান কাঠামোতে ফিরে যাবো। আর এসবই হবে সেই 'আল বায়িস' আল্লাহর কুদরতের মাধ্যম।