📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ওয়াসি'

📄 আল ওয়াসি'


তিনি ঐ সত্তা যার রিযিক তার সমস্ত সৃষ্টিজীবের জন্য ব্যাপক। তাঁর রহমত সব কিছুকে বেষ্টন করে রয়েছে। কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না। কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়। তাঁর ক্ষমতার কোন শেষ নেই। তাঁর প্রাচুর্যতার কোন সীমা না নেই। তাঁর দান শেষ হবার নয়। সমস্ত মাখলুক সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত। তিনি প্রাচুর্যময়। ইলম, দয়া, ধনাঢ্যতা, রাজত্ব, ক্ষমতা ও সহনশীলতা; সর্বক্ষেত্রে তাঁর দয়া ও করুণা সমুজ্জ্বল ও চিরন্তন。
মানুষের উচিৎ উত্তম গুণাবলীতে সজ্জিত হওয়া।
উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মেশা এবং তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। বদান্যতা ও দয়া দিয়ে মানুষকে বরণ করে নেওয়া। যতটুকু সম্ভব ততটুকুই মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা। সহনশীল আচরণ করা। ভুল-ত্রুটি থেকে চুপ থাকা এবং ক্ষমা করে দেওয়া。
حلم إلى ما لا نهاية সীমাহীন সহনশীলতা
হযরত আহনাফ ইবনে কায়েস রহ. তার বাঁদীকে খাবার দিতে বললেন। ব্যাক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সহনশীলতা ও ক্ষমার উজ্জ্বল প্রতীক। প্রশিদ্ধ ব্যক্তিত্ব।
নির্দেশ মোতাবেক বাঁদীটি খাবার নিয়ে এল। তিনি ঝোলের বাটিটি চাইলেন। বাটিটি ছিল খুব গরম। বাঁদীটি তা বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে এল。
দস্তরখানের কাছে আসতেই অসতর্কতাবশত হঠাৎ বাঁদীর জামার সঙ্গে তার পা পেচিয়ে গেল। বাঁদীটি তখন দস্তরখানের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে গেল আর গরম ঝোলের বাটিটি পড়ল আহনাফ রহ. এর উপর। যন্ত্রণায় তার মাথা বিগড়ে গেল। তিনি বাঁদীটিকে প্রহারের জন্য ক্রোধে দাঁড়িয়ে পড়লেন。
এমন সময় বাঁদিটি বলল, আল্লাহ তা'আলা কি বলেন নি (মুমিন হল যারা) ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করে? তিনি বললেন, আমি আমার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করলাম। তিনি কিছুটা শান্ত হলেন。
এবার বাঁদীটি বলল, আল্লাহ তা'আলা কি বলেন নি (মুমিন হল যারা) মানুষকে ক্ষমা করে দেয়? তিনি বললেন, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। তার রাগ এবার সম্পূর্ণরূপে উবে গেল。
পূনরায় বাঁদীটি বলল, আল্লাহ তা'আলা কি বলেন নি যে, আল্লাহ তাআলা দয়াকারীদেরকে ভালবাসেন? (সূরা আলে ইমরান – ১৩৪) তিনি বললেন, আমি তোমার উপর দয়া করলাম। তুমি আল্লাহর জন্য আজ থেকে মুক্ত।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল হাকীম

📄 আল হাকীম


আল হাকীম ঐ সত্তা যিনি সব কাজ সুচারুরূপে নির্ধারণ করেন। অতপর যথাস্থানে তা প্রয়োগ করেন। যেভাবে কল্যাণ হবে সেভাবেই স্থাপন করেন। আল্লাহ তাআলা নিজেকে হাকীম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি তার নেক বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে হিকমত দান করতে পারেন। তিনি ইরশাদ করেন,
‘তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে হিকমত দান করেন। আর যাকে হিকমত দেয়া হল তাকে প্রভুত কল্যাণ দেওয়া হল।’ (সূরা বাক্বারা - ২৬৯)
তাই মুসলমানের উচিৎ সব কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করা। আর আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এবং জান্নাতে প্রবেশের আশায় নেক আমল করা এবং ভাল কাজ করা।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ওয়াদূদ

📄 আল ওয়াদূদ


যিনি সীমাহীন ভালবাসার প্রতীক তিনিই হলেন ওয়াদুদ। আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাকে ভালবাসা দিয়ে বানিয়েছেন। সর্বোচ্চ প্রীতির মোহময় ডোরে বেঁধেই তিনি বান্দার সঙ্গে আচরণ করেন। তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তাদের তাওবা কবুল করেন। তাদের ডাকে সাড়া দেন। দুঃখ-দুর্দশা দূর করেন। নিজ অনুগ্রহে রিযিক দান করেন। তিনিই তাঁর নেক বান্দাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়ভাজন। কেননা তিনিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে রিযিক দেন এবং তাদেরকে দেখিয়েছেন সিরাতুল মুসতাকীমের পথ। তাইতো তারা তাঁর দিকেই ফিরে যায় ইবাদত বন্দেগী, যিকির আযকার, দুআ রোনাজারী এবং কল্যাণকর পথে ব্যয় করার মাধ্যমে।
তাই মুসলমানের উচিৎ তাঁর (মুসলমান) ভাইকে ভালবাসা। নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার জন্যেও। সেটাই পছন্দ করা। নিজের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া। এবং সমস্ত মানুষের জন্য কল্যাণ কামনা করা。
محبة بعد عداوة বৈরীতা বদলে গেলো বন্ধুতায়
বর্ণিত আছে, এক আলেমের সঙ্গে এক নেককার লোকের ঝগড়া চলছিল। ওই লোকটির প্রসঙ্গে কোনো কথা ওঠলে আলেম লোকের মুখে স্রেফ তিরস্কারই বেরোতো। লোকেরা তাদেরকে মিলিয়ে দিতে খুবই চেষ্টা করেছে; কিন্তু তাদের দু'জনের মধ্যকার বিবাদ নিরসুন করার কোনো চেষ্টাই সাফল্যের মুখ দেখেনি。
একদিন সেই সৎ লোকটি এই বিরোধ ভেঙ্গে মিল-মুহাব্বতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠলো। তাই সে ওই শ্রদ্ধাভাজন আলেমের বাড়িতে মূল্যবান উপহার সামগ্রী দিয়ে একজনকে পাঠাল। আলেমের ছাত্ররা দেখল যে, তিনি হঠাৎ লোকটির প্রশংসা করতে শুরু করেছে। তখন এক ছাত্র বলল, কিভাবে আপনি তার প্রশংসাও করছেন অথচ তার নিন্দাও করেছেন?
আলেম বললেন, উত্তম আচরণকারীর প্রতি হৃদয় ঝুঁকে যায় আর রূঢ় আচরণকারীর প্রতি বিদ্বেষ তৈরী হয়।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মাজীদ

📄 আল মাজীদ


'আল মাযীদ' অর্থ মহামহিম। এটি ঐ সত্তার নাম যিনি সত্তাগতভাবেই সম্মানী। একমাত্রই আল্লাহই এমন যিনি মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। প্রাচুর্যময়। অভাবমুক্ত। আসমান জমিনের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। সমস্ত সৃষ্টিজীব তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি দয়াময়। তাঁর দয়া সবকিছু পরিবেষ্টিত। তিনি মহা পরাক্রমশালী। কোন কিছুই তাকে অক্ষম করতে পারে না। পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবকিছু আল্লাহ তাআলার মাহাত্ব ও তার গুণাবলির বড়ত্বের সামনে ম্রিয়মাণ। তার রয়েছে আসমান জমিন। এ দু'টির মধ্যস্থলে যা কিছু রয়েছে সবকিছুর ওপর তাঁর ক্ষমতা অনিরুদ্ধ। পুরো জাহান নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী তাঁর তসবীহ পাঠে থাকে মশগুল。
আল্লাহর বান্দা হিসেবে তাই মানুষের উচিৎ মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা। উত্তম চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ করা। সর্বোত্তম আমল নিজের জীবনে প্রতিফলন করা। যাতে করে সে আল্লাহ তাআলার গুণে হতে পারে গুণবান。
من عجائب المخلوقات সৃষ্টির রহস্য
একদিন কিছু পরিবেশবিজ্ঞানী বার্মার এক বনে বসবাসরত প্রাণীকুলের উপর পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। রাতে তারা তাদের চারপাশের বিভিন্ন গাছে তারার মত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ উড়তে দেখল। তারা ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। তাদের মনে হল এই উড়ন্ত আগুন হয়তো এখুন বনটিকে জ্বালিয়ে ভষ্ম করে দেবে。
দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর তারা নিশ্চিত হল যে, এগুলো সেই সমস্ত পোকা নয় যেগুলো নিজ থেকেই জ্বলতে থাকে। বরং এগুলো এক প্রকারের সক্রিয় মাছি। যেগুলো নিজ উপস্থিতির জানান দিতেই স্বউদ্যোগী হয়ে এধরনের আলোকরশ্মি প্রজ্জলন করে থাকে। এগুলোকে অগ্নিমাছি বলে。
এই বিজ্ঞানীরা অনেকগুলো ধরে একটি কাঁচের বোতলে ভরল। তারা ভীষণ বিস্মিত হল। কারণ বোতলের এই মাছিগুলোর আলোই তাদের তাবুর আলোর জন্য যথেষ্ট হয়ে গেল。
সেখানে আরো অগণিত মাছি জ্বলজ্বল করছিলো। আরো ছিলো শামুক ও কাকড়া জাতীয় কিছু প্রাণী। এই সবগুলোকে সমুদ্রের তলদেশে তারকার মত মনে হয়। সাগরের গভীরে বসবাস করে এগুলো। সবুজ আলোয় উদ্ভাসিত হয়। যেই আলো শত্রুপক্ষের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই আলোর সাহায্যে সেগুলো নিজেকে রক্ষা করে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00