📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মুজীব

📄 আল মুজীব


আল মুজীব হলেন তিনি, যিনি বান্দার ডাকে সাড়া দান করেন। তিনি হলেন, মহান আল্লাহ। তিনি যাচনাকারীর আহ্বানে সাড়া দেন। তাকে দান করেন যা সে চায়। কখনো চাওয়া থেকেও বেশী ও উত্তম জিনিসও দান করেন। তিনি ঐ বান্দাকে বেশী ভালবাসেন যে সবসময় তাকে ডাকে। দুআর মধ্যে কাকুতি মিনতি করে。
তাই মুসলমানের করণীয় হলো, সে আল্লাহ ও তার রাসূলের আদেশ ও নিষেধগুলো মেনে চলবে। সমাজের হতদরিদ্র, অসহায় ও মুখাপেক্ষী লোকদেরকে নিজ সাধ্যানুযায়ী সহায়তা করবে। যদি কোনো অনিবার্য কারণে সে তাদের সহযোগিতা করতে না পারে তাহলে নিদেনপক্ষে নরম ভাষায় কথা বলা।
دعاء في بطن الحوت মাছের উদরে দুআ
হযরত ইউনুছ আ. তার কওমের উপর রাগ করে নিজ শহর নিনো থেকে বের হয়ে এলেন। কারণ তিনি তাদেরকে দীর্ঘদিন আল্লাহর পথে দাওয়াত দিয়েছেন। নিজেকে দাওয়াতী কাজে উজাড় করে দিয়েছেন। কিন্তু তারা ঈমান আনেনি। তিনি তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করলেন। বললেন, অচিরেই তাদের উপর আল্লাহ পাকের আযাব নিপতিত হবে。
কিন্তু তাঁর কওম তাঁর সঙ্গে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেলো। এদিকে হযরত ইউনুছ আ. এর শহর ত্যাগ করার পর আল্লাহ তাআলা কওমের মনে ঈমান ঢেলে দিয়েছেন। তারা সকলে ঈমান গ্রহণ করে নিল এবং নিজেদের কুফুরীর কারণে ভীষণ অনুতপ্ত হল。
আর ঐদিকে ইউনুছ আ. একটি জাহাজে আরোহন করলেন। যখন জাহাজটি সমুদ্রের মাঝখানে এল তখন প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে গেল। ডুবে যাওয়ার উপক্রম হল জাহাজটি। যাত্রীরা কোন কুল কিনারা পাচ্ছিল না। মাত্র একটি পথ বাকি ছিল। যে কোন একজনকে জাহাজ থেকে সমুদ্রে ফেলে দিতে হবে যাতে জাহাজটি হালকা হয়। ফলে তারা লটারী করল, যার নাম উঠবে তাকে ফেলে দেয়া হবে। তখন হযরত ইউনুছ আ. এর নাম উঠল এবং তাকে সমুদ্রের বুকে ফেলে দেয়া হল。
ইতোমধ্যে বিশালকায় এক মাছ আল্লাহর হুকুমে হযরত ইউনুছ আ.-কে গিলে ফেলল। তিনি মাছের পেটে ঢুকে দুআ করতে লাগলেন এবং তসবীহ পড়তে লাগলেন, 'লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমীন।' (সূরা আম্বিয়া-৮৭)
ফলে আল্লাহ তা'আলা দুআ কবুল করলেন এবং ইউনুছ আ.কে মাছের পেট থেকে বের করে আনলেন। তিনি মাছকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউনুছ আ.কে সমুদ্রের তীরে নিক্ষেপ করতে। মাছ তাই করল। ফলে ইউনুছ আ. আবার তার কওমের নিকট ফিরে এলেন। এসে দেখলেন সবাই ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছে。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ওয়াসি'

📄 আল ওয়াসি'


তিনি ঐ সত্তা যার রিযিক তার সমস্ত সৃষ্টিজীবের জন্য ব্যাপক। তাঁর রহমত সব কিছুকে বেষ্টন করে রয়েছে। কোন কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না। কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়। তাঁর ক্ষমতার কোন শেষ নেই। তাঁর প্রাচুর্যতার কোন সীমা না নেই। তাঁর দান শেষ হবার নয়। সমস্ত মাখলুক সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত। তিনি প্রাচুর্যময়। ইলম, দয়া, ধনাঢ্যতা, রাজত্ব, ক্ষমতা ও সহনশীলতা; সর্বক্ষেত্রে তাঁর দয়া ও করুণা সমুজ্জ্বল ও চিরন্তন。
মানুষের উচিৎ উত্তম গুণাবলীতে সজ্জিত হওয়া।
উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে মেশা এবং তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। বদান্যতা ও দয়া দিয়ে মানুষকে বরণ করে নেওয়া। যতটুকু সম্ভব ততটুকুই মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা। সহনশীল আচরণ করা। ভুল-ত্রুটি থেকে চুপ থাকা এবং ক্ষমা করে দেওয়া。
حلم إلى ما لا نهاية সীমাহীন সহনশীলতা
হযরত আহনাফ ইবনে কায়েস রহ. তার বাঁদীকে খাবার দিতে বললেন। ব্যাক্তিজীবনে তিনি ছিলেন সহনশীলতা ও ক্ষমার উজ্জ্বল প্রতীক। প্রশিদ্ধ ব্যক্তিত্ব।
নির্দেশ মোতাবেক বাঁদীটি খাবার নিয়ে এল। তিনি ঝোলের বাটিটি চাইলেন। বাটিটি ছিল খুব গরম। বাঁদীটি তা বাড়িয়ে দিতে এগিয়ে এল。
দস্তরখানের কাছে আসতেই অসতর্কতাবশত হঠাৎ বাঁদীর জামার সঙ্গে তার পা পেচিয়ে গেল। বাঁদীটি তখন দস্তরখানের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে গেল আর গরম ঝোলের বাটিটি পড়ল আহনাফ রহ. এর উপর। যন্ত্রণায় তার মাথা বিগড়ে গেল। তিনি বাঁদীটিকে প্রহারের জন্য ক্রোধে দাঁড়িয়ে পড়লেন。
এমন সময় বাঁদিটি বলল, আল্লাহ তা'আলা কি বলেন নি (মুমিন হল যারা) ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণ করে? তিনি বললেন, আমি আমার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করলাম। তিনি কিছুটা শান্ত হলেন。
এবার বাঁদীটি বলল, আল্লাহ তা'আলা কি বলেন নি (মুমিন হল যারা) মানুষকে ক্ষমা করে দেয়? তিনি বললেন, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। তার রাগ এবার সম্পূর্ণরূপে উবে গেল。
পূনরায় বাঁদীটি বলল, আল্লাহ তা'আলা কি বলেন নি যে, আল্লাহ তাআলা দয়াকারীদেরকে ভালবাসেন? (সূরা আলে ইমরান – ১৩৪) তিনি বললেন, আমি তোমার উপর দয়া করলাম। তুমি আল্লাহর জন্য আজ থেকে মুক্ত।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল হাকীম

📄 আল হাকীম


আল হাকীম ঐ সত্তা যিনি সব কাজ সুচারুরূপে নির্ধারণ করেন। অতপর যথাস্থানে তা প্রয়োগ করেন। যেভাবে কল্যাণ হবে সেভাবেই স্থাপন করেন। আল্লাহ তাআলা নিজেকে হাকীম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি তার নেক বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে হিকমত দান করতে পারেন। তিনি ইরশাদ করেন,
‘তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে হিকমত দান করেন। আর যাকে হিকমত দেয়া হল তাকে প্রভুত কল্যাণ দেওয়া হল।’ (সূরা বাক্বারা - ২৬৯)
তাই মুসলমানের উচিৎ সব কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করা। আর আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এবং জান্নাতে প্রবেশের আশায় নেক আমল করা এবং ভাল কাজ করা।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ওয়াদূদ

📄 আল ওয়াদূদ


যিনি সীমাহীন ভালবাসার প্রতীক তিনিই হলেন ওয়াদুদ। আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাকে ভালবাসা দিয়ে বানিয়েছেন। সর্বোচ্চ প্রীতির মোহময় ডোরে বেঁধেই তিনি বান্দার সঙ্গে আচরণ করেন। তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তাদের তাওবা কবুল করেন। তাদের ডাকে সাড়া দেন। দুঃখ-দুর্দশা দূর করেন। নিজ অনুগ্রহে রিযিক দান করেন। তিনিই তাঁর নেক বান্দাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়ভাজন। কেননা তিনিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। তাদেরকে রিযিক দেন এবং তাদেরকে দেখিয়েছেন সিরাতুল মুসতাকীমের পথ। তাইতো তারা তাঁর দিকেই ফিরে যায় ইবাদত বন্দেগী, যিকির আযকার, দুআ রোনাজারী এবং কল্যাণকর পথে ব্যয় করার মাধ্যমে।
তাই মুসলমানের উচিৎ তাঁর (মুসলমান) ভাইকে ভালবাসা। নিজের জন্য যা পছন্দ করে তার জন্যেও। সেটাই পছন্দ করা। নিজের উপর অপরকে প্রাধান্য দেওয়া। এবং সমস্ত মানুষের জন্য কল্যাণ কামনা করা。
محبة بعد عداوة বৈরীতা বদলে গেলো বন্ধুতায়
বর্ণিত আছে, এক আলেমের সঙ্গে এক নেককার লোকের ঝগড়া চলছিল। ওই লোকটির প্রসঙ্গে কোনো কথা ওঠলে আলেম লোকের মুখে স্রেফ তিরস্কারই বেরোতো। লোকেরা তাদেরকে মিলিয়ে দিতে খুবই চেষ্টা করেছে; কিন্তু তাদের দু'জনের মধ্যকার বিবাদ নিরসুন করার কোনো চেষ্টাই সাফল্যের মুখ দেখেনি。
একদিন সেই সৎ লোকটি এই বিরোধ ভেঙ্গে মিল-মুহাব্বতের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠলো। তাই সে ওই শ্রদ্ধাভাজন আলেমের বাড়িতে মূল্যবান উপহার সামগ্রী দিয়ে একজনকে পাঠাল। আলেমের ছাত্ররা দেখল যে, তিনি হঠাৎ লোকটির প্রশংসা করতে শুরু করেছে। তখন এক ছাত্র বলল, কিভাবে আপনি তার প্রশংসাও করছেন অথচ তার নিন্দাও করেছেন?
আলেম বললেন, উত্তম আচরণকারীর প্রতি হৃদয় ঝুঁকে যায় আর রূঢ় আচরণকারীর প্রতি বিদ্বেষ তৈরী হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00