📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল জালীল

📄 আল জালীল


আল জালিলু শব্দের অর্থ হল, মহান মর্যাদাবান। সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক। সম্মান ও ইজ্জতের মালিক। কেউ আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ নয়। নিজ সত্তায়ও নয়। তাঁর কোন গুণাবলিতেও নয়। তাঁর কোন কাজেরও নয়। তিনি সৌকর্য গুণাবলিতে পরিপূর্ণ সত্তা। ধনাট্যতা, রাজত্ব, ইলম, কুদরত ও মর্যাদা ইত্যাদি ক্ষেত্রে তিনি পরিপূর্ণ。
আল্লাহ তাআলা মহীয়ান। ভয় করা, অবাধ্য না হওয়া, সম্মান করা ও ইবাদত করা; ইত্যাদির যথাযথ প্রাপক একমাত্র আল্লাহ্ই সত্তা। মানুষ তাঁর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। তাঁকে অস্বীকার করবে না। সবসময় তাঁকে স্মরণ করবে। কখনো তাঁকে ভুলবে না。
মানুষ যখন এই কথা মনে করবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা জালিল, তখন সে বুঝতে পারবে যে একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই আদেশ-নিষেধের মালিক। ফলে সে আল্লাহর আনুগত্য ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে তার নৈকট্য লাভ করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে বলেছিলেন, 'তোমরা আল্লাহকে সম্মান করো তাহলে তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।'
যার অর্থ হলো, তোমরা আনুগত্যের মাধ্যেমে আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো。
توبة لص চোরের তাওবা
একরাত এক চোর এক বাড়ির দেয়াল টপকে উপরে উঠল এবং জানালার কাছে চলে এল। তখন সে শুনল যে একজন লোক কুরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করছে, 'এখনো কি ঈমানদারদের এই সময় হয়নি যে, তাদের অন্তর আল্লাহর যিকিরের জন্য নরম হবে?' (সূরা হাদীদ- ১৬)
সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনল। এই আয়াত তাকে ঘরে প্রবেশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল। সে দীর্ঘ সময় নিয়ে আয়াতের অর্থ নিয়ে ভাবতে লাগল। কিছুক্ষণ পর সে ফিরে গেল। চুরি করার জন্য ঘরে আর প্রবেশ করল না। হাটতে হাটতে সে অনেক দূরে মানুষের চোখের আড়ালে চলে গেল। রাত বাড়তে লাগল। সে নিজের অবস্থা, দুনিয়ার কথা ভাবতে লাগল。
যখন ফজরের আজানের সময় হল তখন এক ক্ষীণ আওয়াজ তার চিন্তায় বেঘাত ঘটাল। সে উঠে দাঁড়াল এবং আওয়াজ লক্ষ্য করে সামনে এগিয়ে গেল। সে দেখল এক ব্যবসায়ী দল। তাদের মধ্যে একজন বলছে, আমাদের উচিৎ এখনই রওয়ানা করা। আরেকজন বলল, না সকাল হোক। কেননা এই অঞ্চলে ডাকাত আছে। আমরা এখন রওয়ানা হলে ডাকাতের কবলে পড়ে যেতে পারি。
চোর লোকটি তাদের এই কথাবার্তা শুনে ভাবলো, সুবহানাল্লাহ! এই মানুষগুলো আমাকে ভয় করছে? অথচ আমি আল্লাহকে ভয় করছি না? গুনাহের মধ্যেই আমি আমার রাত পার করে দিই? তখন তার দু'গাল বেয়ে অশ্রু নেমে এল। সে ভালভাবে তাওবা করে নিল এবং নেক আমল করতে লাগল। এভাবে একদিন সে সৎ মানুষে পরিণত হলো।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল কারীম

📄 আল কারীম


আল কারীম শব্দের অর্থ দানশীল। যিনি কোন যাচনা এবং কোন আবেদন ছাড়াই দু'হাত ভরে মানুষকে দান করেন তাকেই আল কারীম বলে। আল্লাহ তা'আলাই মূলত কারীম। নিজ অনুগ্রহে তিনি সমস্ত মানুষকে দান করেন। মুমিন আর কাফেরের মাঝে তিনি কোন পার্থক্য করেন না। প্রত্যেকেই তাঁর নেয়ামত ভোগ করে। তিনি সকল সৃষ্টিকেই মানুষের কল্যাণে তাদের আজ্ঞাবহ করে দিয়েছেন। মানুষের উপকার ও সেবায় নিয়োজিত করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
'যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করতে চাও তাহলে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল, দয়ালু। (সূরা নাহল - ১৮)
আমাদের উপর আল্লাহর দয়ার অন্যতম প্রমাণ হল, তিনি মুমিনদেরকে তাদের পুণ্য দ্বিগুণ থেকে দশগুণ করে দিবেন। আর গুনাহগার যখন ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন তিনি তার সব গুনাহ মুছে দেন এবং তদস্থলে পুণ্য লিখে দেন。
لا يرد سائلا তিনি কোন প্রার্থনাকারীকে ফিরিয়ে দেন না
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন দানবীর। কেউ তাঁর কাছে কিছু চাইলে তিনি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করতেন। একদিন এক ব্যক্তি এসে কিছু চাইল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে এসময় দেয়ার মত এমন কিছুই ছিল না। তাই তিনি বললেন, 'আমার কাছে এখন কিছুই নেই। তোমার যা প্রয়োজন তা এখন ক্রয় করে নাও; আমি তা পরে পরিশোধ করে দেব।'
হযরত উমর রা. এ কথা শুনে সীমাহীন বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তাকে ইতোপূর্বেও দিয়েছেন। তাহলে আপনি কেন সাধ্যের বাইরে নিজের উপর চাপ নিচ্ছেন?'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটা অপছন্দ করলেন। তখন এক সাহাবী বললেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি দান করে যান। আরশের মালিকের কাছে দারিদ্রের কোন আশংকা করবেন না।'
এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীষণ খুশি হয়ে গেলেন। তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বললেন, 'আমাকে এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে'।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আর রাক্বীব

📄 আর রাক্বীব


‘রকীব’ শব্দের অর্থ পর্যবেক্ষক। হেফাজতকারী। কোন কিছুই যার অগোচরে নয়। যিনি উদাসীন কখনই হন না। যিনি ঘুমান না। যাঁর দৃষ্টি সর্বত্র জুড়ে ছড়িয়ে আছে। আসমান ও জমিনের কোন কিছুই যাঁর কাছে গোপন নয়। তিনি হলেন আল্লাহ。
কোন মুসলমান যখন এই কথা বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর নজর রাখছেন, তার আমলের প্রতি খেয়াল রাখছেন তখন সে কোন খারাপ বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারবে না। কোন গোনাহের কাজে লিপ্ত হবে না। কারো উপর জুলুম করবে না। কেননা সে ভালো করেই জানে যে, সে যেখানেই থাকুক আল্লাহ তাআলা সব সময় তার সঙ্গে আছেন。
عمر بن الخطاب و بائعة اللبن হযরত উমর রা. ও এক মহিলা দুধ বিক্রেতা
মদীনা মুনাওয়ার ওপর নেমে এসেছে অন্ধকার রাত। বাইরে সুনসান নীরবতা। খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত উমর রাদি. বাইরে বেরিয়েছেন। মদীনার অলি-গলিতে একাকী হাঁটছেন। হঠাৎ তিনি এক ঘরের ভেতর থেকে কথাবার্তার আওয়াজ শুনতে পেলেন。
কৌতূহল নিয়ে তিনি ঘরটির নিকটবর্তী হলেন। তখন শুনলেন যে এক মহিলা তার মেয়েকে বলছে, দুধের সঙ্গে পানি মেশাও。
মেয়েটি তখন বলল, না মা! আমিরুল মুমিনীন উমর রা. এই আদেশ জারি করেছেন যে দুধের সঙ্গে যেন কেউ পানি না মেশায়。
মা বলল, আমিরুল মুমিনীনতো এখন আমাদেরকে দেখছেন না। মেয়ে বলল, কিন্তু উমরের রব তো দেখছেন。
হযরত উমর রা. এই নেককার তরুণীর কথা শুনে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। চমৎকৃত হলেন। অভিভূত হলেন তার সততা ও ন্যায়নিষ্ঠা থেকে。
বাড়ি ফিরে তিনি সেই তরুণীকে নিজ ছেলে আসেমের বৌ করে নিয়ে এলেন। এই মেয়ের গর্ভে জন্ম নিল আরেকটি মেয়ে। যাকে বিয়ে করেন খলীফা আব্দুল আযীয বিন মারওয়ান। তাদের ঘর আলো করে জন্ম নেয় এক শিশু। এক মহান শিশু। পৃথিবীর ইতিহাস যেই শিশুটি আজ ন্যায়পরায়ণ খলীফা উমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ. নামে সমধিক পরিচিত。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মুজীব

📄 আল মুজীব


আল মুজীব হলেন তিনি, যিনি বান্দার ডাকে সাড়া দান করেন। তিনি হলেন, মহান আল্লাহ। তিনি যাচনাকারীর আহ্বানে সাড়া দেন। তাকে দান করেন যা সে চায়। কখনো চাওয়া থেকেও বেশী ও উত্তম জিনিসও দান করেন। তিনি ঐ বান্দাকে বেশী ভালবাসেন যে সবসময় তাকে ডাকে। দুআর মধ্যে কাকুতি মিনতি করে。
তাই মুসলমানের করণীয় হলো, সে আল্লাহ ও তার রাসূলের আদেশ ও নিষেধগুলো মেনে চলবে। সমাজের হতদরিদ্র, অসহায় ও মুখাপেক্ষী লোকদেরকে নিজ সাধ্যানুযায়ী সহায়তা করবে। যদি কোনো অনিবার্য কারণে সে তাদের সহযোগিতা করতে না পারে তাহলে নিদেনপক্ষে নরম ভাষায় কথা বলা।
دعاء في بطن الحوت মাছের উদরে দুআ
হযরত ইউনুছ আ. তার কওমের উপর রাগ করে নিজ শহর নিনো থেকে বের হয়ে এলেন। কারণ তিনি তাদেরকে দীর্ঘদিন আল্লাহর পথে দাওয়াত দিয়েছেন। নিজেকে দাওয়াতী কাজে উজাড় করে দিয়েছেন। কিন্তু তারা ঈমান আনেনি। তিনি তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করলেন। বললেন, অচিরেই তাদের উপর আল্লাহ পাকের আযাব নিপতিত হবে。
কিন্তু তাঁর কওম তাঁর সঙ্গে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেলো। এদিকে হযরত ইউনুছ আ. এর শহর ত্যাগ করার পর আল্লাহ তাআলা কওমের মনে ঈমান ঢেলে দিয়েছেন। তারা সকলে ঈমান গ্রহণ করে নিল এবং নিজেদের কুফুরীর কারণে ভীষণ অনুতপ্ত হল。
আর ঐদিকে ইউনুছ আ. একটি জাহাজে আরোহন করলেন। যখন জাহাজটি সমুদ্রের মাঝখানে এল তখন প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে গেল। ডুবে যাওয়ার উপক্রম হল জাহাজটি। যাত্রীরা কোন কুল কিনারা পাচ্ছিল না। মাত্র একটি পথ বাকি ছিল। যে কোন একজনকে জাহাজ থেকে সমুদ্রে ফেলে দিতে হবে যাতে জাহাজটি হালকা হয়। ফলে তারা লটারী করল, যার নাম উঠবে তাকে ফেলে দেয়া হবে। তখন হযরত ইউনুছ আ. এর নাম উঠল এবং তাকে সমুদ্রের বুকে ফেলে দেয়া হল。
ইতোমধ্যে বিশালকায় এক মাছ আল্লাহর হুকুমে হযরত ইউনুছ আ.-কে গিলে ফেলল। তিনি মাছের পেটে ঢুকে দুআ করতে লাগলেন এবং তসবীহ পড়তে লাগলেন, 'লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমীন।' (সূরা আম্বিয়া-৮৭)
ফলে আল্লাহ তা'আলা দুআ কবুল করলেন এবং ইউনুছ আ.কে মাছের পেট থেকে বের করে আনলেন। তিনি মাছকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইউনুছ আ.কে সমুদ্রের তীরে নিক্ষেপ করতে। মাছ তাই করল। ফলে ইউনুছ আ. আবার তার কওমের নিকট ফিরে এলেন। এসে দেখলেন সবাই ইসলাম গ্রহণ করে নিয়েছে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00