📄 আল হাফীয
যিনি তার বান্দাকে হেফাজত করেন। তাদের ওপর দৃষ্টি রাখেন। আল্লাহ তা'আলা এই জগতের প্রতিটি বস্তুর দেখাশুনা করেন। প্রতিটি জিনিসের উপরই রয়েছে তাঁর দৃষ্টি। আসমান জমিনে কোন কিছুই তাঁর অগোচরে নয়。
আল্লাহ তাআলা এ জগতেরও হেফাজত করেন। তিনি নক্ষত্ররাজির নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে সেগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথেই চলে। কখনো দিকভ্রান্ত হয় না। একটি আরেকটির গায়ে আঘাত লাগে না। বিধ্বস্তও হয় না。
তিনি জীবন রক্ষা করেন। ফলে তা একটি নিয়মতান্ত্রিকতার সঙ্গে চলে। নির্দিষ্ট কানুন মোতাবেক নতুন করে আবার তৈরী হয়। জমিনে রয়েছে পানির একটি নির্দিষ্ট চক্র। অনুরূপ জীবনেরও রয়েছে প্রাণচক্র। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিৎ- হৃদয়কে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে শয়তানের আনুগত্য ও প্রবৃত্তির অনুগমন থেকে দূরে রাখা。
دورة الماء في الأرض জমিনে পানির চক্র-পরিক্রমা
বিজ্ঞান সম্প্রতি প্রমাণিত করেছে যে, ভূপৃষ্ঠের বুকে যতো জলরাশি আছে, তা একসময় ভূগর্ভে ছিলো। বিক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো ভূপৃষ্ঠের ওপর উঠে এসেছে। অথচ বিজ্ঞানের এই আবিস্কারের চৌদ্দশ বছর আগে কুরআন সে দিকেই ইঙ্গিত করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তিনি জমিনকে বিছানার মত বিছিয়ে দিয়েছেন এবং তা থেকে বের করে এনেছেন পানি ও উদ্ভিদরাজি। (সূরা নাযিআত - ৩০,৩১)
আল্লাহ তাআলা তাঁর বিস্ময়কর কুদরতের মাধ্যমে এই বিশাল জলরাশিকে সবসময় প্রবহমাণ রাখেন; যাতে তা নষ্ট না হয়ে যায়। সূর্যের তাপে প্রতিবছর এই পানি থেকে ৩৮০,০০০ (তিন লক্ষ আশি হাজার) কি.মি. ঘণক্ষেত্র বাষ্প হয়। এর মধ্য থেকে ৩২০,০০০ (তিন লক্ষ বিশ হাজার) কি.মি. থাকে সমুদ্রের উপরে। ৬০,০০০ (ষাট হাজার) থাকে স্থল ভাগে। আর এই বাষ্প নিয়মিত উপরের দিকে উঠতে থাকে। অতপর তা ঘণীভূত হয়। এক পর্যায়ে বৃষ্টি হয়ে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে。
তবে ২% মেঘ জমাট বাধা পানি থেকে মহা শূন্যে উৎপন্ন হয়। অথচ তা শূন্যেই তৈরী হয় ১৫, ০০০ (পনের হাজার) কি.মি।
📄 আল মুক্বীত
‘আল মুকীৎ’ শব্দের অর্থ হল যিনি মানুষ, জীবজন্তু ও উদ্ভিদসহ প্রতিটি সৃষ্টির খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের প্রাত্যহিক আহার্য তাদের কাছে পৌঁছে দেন। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে তিনি এভাবে সকলকে রিযিক দিয়ে আসছেন। মহাপ্রলয় পর্যন্ত তিনি এভাবে রিযিক দিয়ে যাবেন। যা কিছু অবশিষ্ট আছে এবং যা ভবিষ্যতে আগমন করবে সব তাঁর কাছে সমান। আল্লাহ তা’আলা সবার জন্য তাঁর প্রয়োজনমাফিক খাবারের ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
‘পৃথিবীর বুকে চলমান প্রতিটি প্রাণীর রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর। তিনি তাদের স্থায়িত্বকাল এবং পরিসমাপ্তির সময়কাল জানেন। সবকিছুই নির্দিষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ। (সূরা হুদ - ৬)
এ কারনেই পৃথিবীর সকল মুসলমান একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছেই তার প্রয়োজন প্রার্থনা করে। তিনি মহান রিযিকদাতা। একমাত্রই তিনিই আহাৰ্য্যদাতা। সবকিছুর ওপর তাঁর নিরঙ্কুশ আধিপত্য。
غذاء الجنين গর্ভস্থ সন্তানের খাদ্য
আল্লাহ তা'আলা সমস্ত মাখলুকের খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। এমনকি মায়ের উদরের সন্তানের রিযিকও তিনি দিয়ে থাকেন। আল্লাহ তা'আলাই তার রিযিকের দায়িত্বও নিয়ে নেন। কোন চেষ্টা বা কারো সহযোগিতা ছাড়াই।
তাই গর্ভকালীন সময়ে বাচ্চা তার মায়ের গর্ভ কুসুম থেকে পরিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। মায়ের সেই রক্ত থেকে বাচ্চার কাছে নির্দিষ্ট খাদ্য এসে পৌঁছে যা রেহেমের ভেতর থেকে খাদ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়ে গর্ভে এসে পৌঁছে।
📄 আল হাসীব
যিনি বান্দার সমস্ত অবস্থা ও আমলের জন্য যথেষ্ট। একমাত্র তিনিই যথেষ্ট। কেননা তিনিই খাবার ও পানীয় দান করেন। তিনিই আসমান জমিনের সবকিছুকে মানুষের আজ্ঞাবহ করে দিয়েছেন। তাই তিনি ব্যতীত মাখলুকের অন্য কারো প্রয়োজন নেই। এমনকি দুধের শিশুর জন্যেও তিনি যথেষ্ট। কেননা তিনিই তার জন্য মায়ের স্তনে দুধ ঢেলে দেন এবং তাকে মুখে দেওয়া শিখিয়ে দেন। তিনিই মায়ের হৃদয়ে সন্তানের প্রতি ভালবাসা ঢেলে দেন; ফলে সে শিশুকে দুধ খাওয়ায় এবং লালন-পালন করে।
মুসলমান যখন বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তা'আলাই তার জন্য যথেষ্ট তখন সে তার প্রয়োজনের কথা আল্লাহর ছাড়া আর কারো কাছে বলবে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর মুখাপেক্ষী হয় তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। মুসলমান সর্বকাজে তাঁর উপর আস্থা রাখে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, 'আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।' (সূরা ত্বালাক- ৩)
حسبنا الله আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট
আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের নেতৃত্বে উহুদের যুদ্ধে মুশরিকরা مسلمانوں বিরুদ্ধে প্রাবল্য লাভ করল। (যদিও যুদ্ধের প্রথমপর্বে মুসলমানরা তাদের ওপর নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়েছিল)। মক্কায় যাওয়ার পথে তারা খুব অনুতাপ করতে লাগল। কেননা তারা এ বিজয় থেকে কোন কিছুই অর্জন করতে পারেনি এবং مسلمانوںকেও সমূলে ধ্বংস করতে পারেনি। তাই তারা আবার مسلمانوں মুখোমুখী হওয়ার মানসে ফিরে আসল。
যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সংবাদ এসে পৌঁছল, তখন তিনি উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদেরকে আবু সুফিয়ানের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিলেন। আবু সুফিয়ানের এই আগমন مسلمانوں মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি। যখন আবু সুফয়ানের কাছে এই সংবাদ পৌঁছল তখন সে مسلمانوں মুখোমুখী হতে ভয় পেয়ে গেল। সে আশঙ্কা করল হয়ত এই সাক্ষাতের ফলে আমাদের এই বিজয়টুকুও আর অবশিষ্ট থাকবে না。
ধূর্ত আবু সুফিয়ান মদীনায় এলো না। তবে পথিমধ্যে মদীনাগামী কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার সাক্ষাত হলো। তাদের মাধ্যমে সে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই সংবাদ দিতে বলল। যে, আবু সুফিয়ান বিশাল সৈন্য সমাবেশ করছে। তারা অচিরেই আসছে......। উদ্দেশ্য হল মুসলমানকে ভয় দেখানো। সেটা ছিল অর্থের বড়াই। সে এবং তার সঙ্গীরা মক্কায় ফিরে আসল。
ব্যবসায়ী দল রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদটি দিল। কিন্তু এই হুমকি তার মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করল না। বরং তিনি বললেন, 'আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।' মুসলমানরা আবু সুফিয়ানের নতুন উদ্যেগে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু তারা আর এল না。
বি. দ্র.: আবু সুফিয়ান ইবনে হারব রাসু সা.-এর চাচা। পরবর্তীতে মক্কা বিজয়ের সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। রাদিআল্লাহু আনহু।
📄 আল জালীল
আল জালিলু শব্দের অর্থ হল, মহান মর্যাদাবান। সর্বোচ্চ ক্ষমতার মালিক। সম্মান ও ইজ্জতের মালিক। কেউ আল্লাহ তাআলার সমকক্ষ নয়। নিজ সত্তায়ও নয়। তাঁর কোন গুণাবলিতেও নয়। তাঁর কোন কাজেরও নয়। তিনি সৌকর্য গুণাবলিতে পরিপূর্ণ সত্তা। ধনাট্যতা, রাজত্ব, ইলম, কুদরত ও মর্যাদা ইত্যাদি ক্ষেত্রে তিনি পরিপূর্ণ。
আল্লাহ তাআলা মহীয়ান। ভয় করা, অবাধ্য না হওয়া, সম্মান করা ও ইবাদত করা; ইত্যাদির যথাযথ প্রাপক একমাত্র আল্লাহ্ই সত্তা। মানুষ তাঁর নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে। তাঁকে অস্বীকার করবে না। সবসময় তাঁকে স্মরণ করবে। কখনো তাঁকে ভুলবে না。
মানুষ যখন এই কথা মনে করবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা জালিল, তখন সে বুঝতে পারবে যে একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই আদেশ-নিষেধের মালিক। ফলে সে আল্লাহর আনুগত্য ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে তার নৈকট্য লাভ করবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে বলেছিলেন, 'তোমরা আল্লাহকে সম্মান করো তাহলে তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন।'
যার অর্থ হলো, তোমরা আনুগত্যের মাধ্যেমে আল্লাহর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো。
توبة لص চোরের তাওবা
একরাত এক চোর এক বাড়ির দেয়াল টপকে উপরে উঠল এবং জানালার কাছে চলে এল। তখন সে শুনল যে একজন লোক কুরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করছে, 'এখনো কি ঈমানদারদের এই সময় হয়নি যে, তাদের অন্তর আল্লাহর যিকিরের জন্য নরম হবে?' (সূরা হাদীদ- ১৬)
সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনল। এই আয়াত তাকে ঘরে প্রবেশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল। সে দীর্ঘ সময় নিয়ে আয়াতের অর্থ নিয়ে ভাবতে লাগল। কিছুক্ষণ পর সে ফিরে গেল। চুরি করার জন্য ঘরে আর প্রবেশ করল না। হাটতে হাটতে সে অনেক দূরে মানুষের চোখের আড়ালে চলে গেল। রাত বাড়তে লাগল। সে নিজের অবস্থা, দুনিয়ার কথা ভাবতে লাগল。
যখন ফজরের আজানের সময় হল তখন এক ক্ষীণ আওয়াজ তার চিন্তায় বেঘাত ঘটাল। সে উঠে দাঁড়াল এবং আওয়াজ লক্ষ্য করে সামনে এগিয়ে গেল। সে দেখল এক ব্যবসায়ী দল। তাদের মধ্যে একজন বলছে, আমাদের উচিৎ এখনই রওয়ানা করা। আরেকজন বলল, না সকাল হোক। কেননা এই অঞ্চলে ডাকাত আছে। আমরা এখন রওয়ানা হলে ডাকাতের কবলে পড়ে যেতে পারি。
চোর লোকটি তাদের এই কথাবার্তা শুনে ভাবলো, সুবহানাল্লাহ! এই মানুষগুলো আমাকে ভয় করছে? অথচ আমি আল্লাহকে ভয় করছি না? গুনাহের মধ্যেই আমি আমার রাত পার করে দিই? তখন তার দু'গাল বেয়ে অশ্রু নেমে এল। সে ভালভাবে তাওবা করে নিল এবং নেক আমল করতে লাগল। এভাবে একদিন সে সৎ মানুষে পরিণত হলো।