📄 আল আলীই
এ শব্দটির অর্থ- এমন সুউচ্চ মহান সত্ত্বা, সব ধরনের মাখলুকের উপর রয়েছে যার মর্যাদা। একমাত্র আল্লাহই এতোটা সুমহান ও সুউচ্চ। সম্মানে, মর্যাদায় ও মহত্বে কোন কিছুই তাঁর সমকক্ষ নয়। তিনি পবিত্র সত্তা। তিনি পূর্ণতার মালিক। সব ধরনের জ্ঞানের অধিকারী। সৃষ্টিজীবের উপর পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান。
যে ব্যক্তি জানবে যে, আল্লাহ তা'আলা সুউচ্চ মহান এবং হৃদয়ে তা মথিত করবে ও বিশ্বাস রাখবে, তাকে কোন অহমিকা ও কোন বিশ্বাসঘাতকতা স্পর্শ করবে না। সে আল্লাহর জন্য বিনয়ী হবে। সে তার হৃদয়ের মাঝে সবসময়ের জন্যে আল্লাহর বড়ত্ব ধারণ করবে। যার ফলে সে নেক আমলের প্রতি ঝুঁকে পড়বে। ছোট ছোট গুনাহ থেকেও বেঁচে চলবে। যেন আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে。
الخليفة و صاحب الحمار বাদশাহ ও এক গাধার মালিক
খলীফা মুতাসিম একদিন একা একা রাস্তায় বের হলেন। উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। তিনি ঘোড়ায় চড়ে বসলেন এবং বাগদাদের উপকণ্ঠে এসে থামলেন। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হল। মুষলধারে বৃষ্টি। রাস্তা-ঘাট কাঁদায় ভরে গেল। রাস্তায় পথচলা একদম অসম্ভব হয়ে ওঠল。
এমন পরিস্থিতিতে তিনি প্রাসাদে ফিরে যেতে উদ্যত হলেন। ঠিক এ সময় তিনি দেখতে পেলেন এক বৃদ্ধ লোকের একটি গাধা হোঁচট খেয়ে রাস্তার পাশে বিশাল গর্তের ভিতর পড়ে গেছে। বৃদ্ধ লোকটি আপ্রাণ চেষ্টা করছে গর্ত থেকে তুলে আনতে। কিন্তু পারছে না। এই দৃশ্য দেখে বাদশাহ মুতাসিম ঘোড়া থেকে নেমে দ্রুত বৃদ্ধের সঙ্গে গাধাটি উঠানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। বাদশাহর কাপড়-চোপড় কাদায় মাখামাখি হয়ে গেল। হাতে মুখে ময়লা লেপ্টে গেল। শেষ পর্যন্ত গাধাটিকে উদ্ধার করা গেল। বৃদ্ধ লোকটি ভীষণ খুশি হয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করল আর বাদশাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিল। কিন্তু সে বাদশাহকে চিনতে পারল না。
ঐ সময় বাদশাহর প্রাসাদের এক লোক ঐ দিক দিয়ে যাচ্ছিল। সেই লোকটি বাদশাকে দেখে সালাম নিবেদন করল। বৃদ্ধ যখন চিনতে পারল বাদশাহকে তখন সে ভীষণ ভয়ে পেয়ে গেল। কিন্তু বাদশাহ মুতাসিম আনন্দিতই হলেন। তিনি নিজের বিনয় আর বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার দিয়ে বৃদ্ধের ওই ভয় দূর করে দিলেন。
📄 আল কাবীর
'আল কাবীর' হলেন তিনি যার সামনে সমস্ত কিছু তুচ্ছ। সব বড় বড় জিনিস যার মহত্বের সামনে গৌণ। যার বড়ত্বের কাছে মূল্যহীন। তাই সবকিছুই তাঁর সামনে নগণ্য。
আমরা যখন নামাজ পড়ি তখন আল্লাহর মহত্বের কথা মনে করে বলি, আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সবচেয়ে বড়)। হৃদয়ে তাঁর মাহাত্মের কথা স্মরণ করি। তাঁর ভয়ে থাকি তটস্থ。
আল্লাহ তা'আলা সবচেয়ে বড়। মাখলুকের সঙ্গে তাঁর কোন তুলনা নেই। তিনি অনেক বড়। মানুষের, জ্ঞানের ঊর্ধ্বে। তাঁর মত কেউ নয়。
الخائف من الله আল্লাহর ভয়ে ভীত
অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক লোক ছিল। সে গোনাহে লিপ্ত ছিল। কোন কাজেই সে আল্লাহর কথা স্মরণ করত না। যেভাবে ইচ্ছা জীবন-যাপন করেছে。
ফলে যখন সে নিজের জীবনের শেষ সময়ে এসে পৌঁছল, মৃত্যুর পদধ্বনি শুনতে পেল, তখন সে তার ছেলেদের ডেকে বলল, যখন আমি মারা যাব তখন তোমরা আমাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। আর আমার ছাইগুলো বাতাসে উড়িয়ে দেবে। কেননা আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত করতে আমার ভয় লাগছে। আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই আমার উপর ক্ষমতাবান। তিনি আমাকে এমন শাস্তি দিবেন যা কাউকে দিবেন না。
যখন লোকটি মারা গেল তখন ছেলেরা তার বাবার ওসিয়ত পূর্ণ করল। আল্লাহ তা'আলা তখন যমিনকে নির্দেশ দিলেন, তুমি ওই লোকটির দেহের বিচ্ছিন্ন অংশগুলো নতুন করে একত্র করো। সে যখন আল্লাহর সামনে এসে দাঁড়াল তখন আল্লাহ তাআলা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী কারণে তুমি এমনটি করলে?
সে জবাবে বলল, হে রব! তোমার ভয়ে।
তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন。
📄 আল হাফীয
যিনি তার বান্দাকে হেফাজত করেন। তাদের ওপর দৃষ্টি রাখেন। আল্লাহ তা'আলা এই জগতের প্রতিটি বস্তুর দেখাশুনা করেন। প্রতিটি জিনিসের উপরই রয়েছে তাঁর দৃষ্টি। আসমান জমিনে কোন কিছুই তাঁর অগোচরে নয়。
আল্লাহ তাআলা এ জগতেরও হেফাজত করেন। তিনি নক্ষত্ররাজির নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে সেগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথেই চলে। কখনো দিকভ্রান্ত হয় না। একটি আরেকটির গায়ে আঘাত লাগে না। বিধ্বস্তও হয় না。
তিনি জীবন রক্ষা করেন। ফলে তা একটি নিয়মতান্ত্রিকতার সঙ্গে চলে। নির্দিষ্ট কানুন মোতাবেক নতুন করে আবার তৈরী হয়। জমিনে রয়েছে পানির একটি নির্দিষ্ট চক্র। অনুরূপ জীবনেরও রয়েছে প্রাণচক্র। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিৎ- হৃদয়কে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে শয়তানের আনুগত্য ও প্রবৃত্তির অনুগমন থেকে দূরে রাখা。
دورة الماء في الأرض জমিনে পানির চক্র-পরিক্রমা
বিজ্ঞান সম্প্রতি প্রমাণিত করেছে যে, ভূপৃষ্ঠের বুকে যতো জলরাশি আছে, তা একসময় ভূগর্ভে ছিলো। বিক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলো ভূপৃষ্ঠের ওপর উঠে এসেছে। অথচ বিজ্ঞানের এই আবিস্কারের চৌদ্দশ বছর আগে কুরআন সে দিকেই ইঙ্গিত করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তিনি জমিনকে বিছানার মত বিছিয়ে দিয়েছেন এবং তা থেকে বের করে এনেছেন পানি ও উদ্ভিদরাজি। (সূরা নাযিআত - ৩০,৩১)
আল্লাহ তাআলা তাঁর বিস্ময়কর কুদরতের মাধ্যমে এই বিশাল জলরাশিকে সবসময় প্রবহমাণ রাখেন; যাতে তা নষ্ট না হয়ে যায়। সূর্যের তাপে প্রতিবছর এই পানি থেকে ৩৮০,০০০ (তিন লক্ষ আশি হাজার) কি.মি. ঘণক্ষেত্র বাষ্প হয়। এর মধ্য থেকে ৩২০,০০০ (তিন লক্ষ বিশ হাজার) কি.মি. থাকে সমুদ্রের উপরে। ৬০,০০০ (ষাট হাজার) থাকে স্থল ভাগে। আর এই বাষ্প নিয়মিত উপরের দিকে উঠতে থাকে। অতপর তা ঘণীভূত হয়। এক পর্যায়ে বৃষ্টি হয়ে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে。
তবে ২% মেঘ জমাট বাধা পানি থেকে মহা শূন্যে উৎপন্ন হয়। অথচ তা শূন্যেই তৈরী হয় ১৫, ০০০ (পনের হাজার) কি.মি।
📄 আল মুক্বীত
‘আল মুকীৎ’ শব্দের অর্থ হল যিনি মানুষ, জীবজন্তু ও উদ্ভিদসহ প্রতিটি সৃষ্টির খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের প্রাত্যহিক আহার্য তাদের কাছে পৌঁছে দেন। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে তিনি এভাবে সকলকে রিযিক দিয়ে আসছেন। মহাপ্রলয় পর্যন্ত তিনি এভাবে রিযিক দিয়ে যাবেন। যা কিছু অবশিষ্ট আছে এবং যা ভবিষ্যতে আগমন করবে সব তাঁর কাছে সমান। আল্লাহ তা’আলা সবার জন্য তাঁর প্রয়োজনমাফিক খাবারের ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,
‘পৃথিবীর বুকে চলমান প্রতিটি প্রাণীর রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর। তিনি তাদের স্থায়িত্বকাল এবং পরিসমাপ্তির সময়কাল জানেন। সবকিছুই নির্দিষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ। (সূরা হুদ - ৬)
এ কারনেই পৃথিবীর সকল মুসলমান একমাত্র আল্লাহ তাআলার কাছেই তার প্রয়োজন প্রার্থনা করে। তিনি মহান রিযিকদাতা। একমাত্রই তিনিই আহাৰ্য্যদাতা। সবকিছুর ওপর তাঁর নিরঙ্কুশ আধিপত্য。
غذاء الجنين গর্ভস্থ সন্তানের খাদ্য
আল্লাহ তা'আলা সমস্ত মাখলুকের খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। এমনকি মায়ের উদরের সন্তানের রিযিকও তিনি দিয়ে থাকেন। আল্লাহ তা'আলাই তার রিযিকের দায়িত্বও নিয়ে নেন। কোন চেষ্টা বা কারো সহযোগিতা ছাড়াই।
তাই গর্ভকালীন সময়ে বাচ্চা তার মায়ের গর্ভ কুসুম থেকে পরিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করে থাকে। মায়ের সেই রক্ত থেকে বাচ্চার কাছে নির্দিষ্ট খাদ্য এসে পৌঁছে যা রেহেমের ভেতর থেকে খাদ্য হিসেবে রূপান্তরিত হয়ে গর্ভে এসে পৌঁছে।