📄 আল খবীর
আল খবীর হলেন, সেই সত্তা যিনি সবকিছুর গোপন খবর জানেন। সবকিছুর গূঢ় রহস্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত। তিনি জানেন বান্দা যা কিছু করে সব। যা কিছু হৃদয়ের গভীরে মোথিত করে রাখে সেসব。
তিনি জানেন এই বিশ্বজগতের ঘটমান সবকিছু। ছোট বড় সবকিছু তাঁর আয়ত্বে। জগতের কোন কিছুই তাঁর অগোচরে নয়。
সুতরাং মানুষ যখন বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তা'আলা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবকিছু সম্পর্কে খবর রাখছেন, সবকিছু জানেন, তখন সে সবক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্য করবে। একমুহূর্তও তার যিকির ও ইবাদত থেকে গাফেল থাকবে না。
عالم النحل العجيب মৌমাছির বিস্ময়কর জগৎ
তুমি কি জান?
• পৃথিবীতে মৌমাছি আছে প্রায় বিশ হাজার প্রজাতির。
• মৌমাছির মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রজাতি হল ‘কালিয়াকু দুমা বুলতু’। এগুলোকে নির্মাণকারী মৌমাছি বলা হয়। এগুলো একেকটি ৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। আর সবচেয়ে ছোট প্রজাতির মৌমাছি হয় ২ মিলিমিটার। এগুলোকে ‘তারিজুনা’ বলা হয়。
• একটি মৌচাকে মৌমাছির সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ হাজার হয়ে থাকে। মৌচাকে পুরুষ মৌমাছির সংখ্যা ১০০ (একশ) এর মত হয় আর কর্মরত মহিলা মৌমাছির সংখ্যা ১০০০ (এক হাজারের) মত হয়। এদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল মধু সংগ্রহ করা এবং বাচ্চা মৌমাছিদের দেখাশোনা করা。
• প্রতিটি মৌচাকে একজন করে মৌরানী থাকে। তার বিয়ে হয় এবং সে ডিম পাড়ে। একদিনে সে কমপক্ষে ২৫০০ (দুই হাজার পাঁচশ) ডিম পাড়ে। এই মৌরানী প্রায় ৫ (পাঁচ) বছর বাঁচে。
• শ্রমিক মৌমাছিরা খুব দ্রুততার সঙ্গে উড়তে পারে। ঘণ্টায় তারা ২৫ (পঁচিশ) কিলোমিটার উড়ে যেতে পারে। একটি মৌমাছি তার জীবনে যে পরিমাণ ফুলের মধু সঞ্চয় করতে পারে তা দিয়ে অনায়াসে ৪৫ (পয়তাল্লিশ) গ্রাম মধু তৈরি করা যাবে। আর এই শ্রমিক মৌমাছিরা প্রায় ৬ সপ্তাহ বাঁচে。
• মৌমাছিরা তাদের অবসর সময় ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর কাজে ব্যয় করে থাকে। আর তা নিষ্পন্ন হয় মাত্র ২১ দিনের মধ্যে。
📄 আল হালীম
'আল হালীম'-এর অর্থ সহনশীল। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাই ক্ষমা করার মালিক। তিনি তাঁর বান্দাদের সঙ্গে সদাচরণ করেন এবং তাদেরকে সুযোগ দিয়ে রাখেন। শাস্তির ব্যাপারে জলদি করেন না। ক্রোধ তাকে প্রভাবিত করতে পারে না। যদিও তিনি পাপীর পাপ দেখতে থাকেন। অপরাধীদের বিরোধিতা প্রত্যক্ষ করে থাকেন। তথাপি শাস্তি দানে তিনি কোন তাড়াহুড়া করেন না। আল্লাহ তা'আলার রিযিকের ক্ষেত্রে অনুগত-অবাধ্যের বিধি-নিষেধ নেই। তিনি পাপী-অনুগত প্রত্যেককেই আহার দান করেন। মুমিনকে যেমন রিযিক দান করেন তেমনি কাফেরকেও দান করেন。
আল্লাহর এই দয়ার কারণে অনেক মানুষ ধোঁকায় পড়ে থাকে। যার ফলে তারা ধারাবাহিকভাবে গোনাহে লিপ্ত থাকে। আল্লাহ তা'আলা তাকে সম্পদ দান করেন অথচ তারা তা অস্বীকার করে এবং গায়রুল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হয়। তারা এই সম্পদ আল্লাহর নাফরমানীতেই ব্যয় করে। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সুস্থ্যতা ও শক্তি সামর্থ্য দান করেন আর তারা মানুষের উপর জুলুম, নির্যাতন ও আল্লাহর রাস্তায় বাধা প্রদানে লিপ্ত থাকে。
حلم الله على عباده বান্দার উপর আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ
হযরত আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি শুনেছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, নিশ্চয় বান্দা যখন কোন গোনাহে লিপ্ত হয় অতপর বলে, হে আল্লাহ! আমি গুনাহ করেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে যে, তার এমন একজন রব আছেন; যিনি পাপ মোচন করেন এবং এই পাপের কারণে পাকড়াও করেন? আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতপর এই বান্দা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে চলতে থাকে। অতপর আবার গোনাহে লিপ্ত হয়। বলে, হে আল্লাহ! আমি আবার গুনাহ করে ফেলেছি। আমাকে ক্ষমা করুন。
তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে যে তার রব এমন একজন রব আছেন; যিনি পাপ মোচন করেন এবং এই পাপের কারণে পাকড়াও করেন? আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতপর এই বান্দা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে চলতে থাকে। অতপর আবার গোনাহে লিপ্ত হয়। বলে, হে আল্লাহ! আমি আবার গুনাহ করে ফেলেছি। আমাকে ক্ষমা করুন。
তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে যে, তার এমন একজন রব আছেন; যিনি পাপ মোচন করেন এবং এই পাপের কারণে পাকড়াও করেন? আমি আমার বান্দাকে তিনবার ক্ষমা করে দিলাম। সুতরাং সে যেন যেমন ইচ্ছা তেমন আমল করতে থাকে。
📄 আল আযীম
আল আজীমু হলেন ঐ সত্তা যিনি মর্যাদাসম্পন্ন। যিনি নিজ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। যিনি স্ব মহিমায় ভাস্বর। সমস্ত মহান ব্যক্তিদের উপর নিজ বড়ত্ব অধিষ্ঠিত। যাকে কোন কিছুই অক্ষম করতে পারে না। আল্লাহর রাজত্বে, তার সৃষ্টির মাঝে কেউ শরীক নেই। তিনি ছাড়া আর কেউই ভাল-মন্দের মালিক নয়。
বান্দা কর্তৃক আল্লাহর বড়ত্ব স্বীকার তখুনি প্রমাণিত হয় যখন সে তার নিদর্শনাবলিকে সম্মান করে। তার নির্দেশের আনুগত্য করে। কাজেই বান্দাকে তার দয়া ও করুণার আশা করে থাকতে হবে। কেননা তিনিই এক প্রভু। তিনিই ক্ষমতার মালিক। সমস্ত মর্যাদাশীল বিষয়বস্তুর কেন্দ্র-বিন্দু তিনিই।
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার এই বড়ত্বের কথা জানবে তার ঈমান উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাবে। সে আল্লাহর পথে দাসত্বের মত চলতে পারবে। সমস্ত কাজে প্রশান্তি লাভ করবে。
هل تعلم؟ তুমি কি জান?
• বর্তমানে সবচেয়ে বিরাট প্রাণী হচ্ছে নীল তিমি। তার উচ্চতা হল ৩০ মিটার এবং ওজন ১২৫ মণ। আর সবচেয়ে ছোট প্রাণী হচ্ছে একেকটি দেহকোষ যা চর্মচোখে দেখা যায় না。
• পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে দ্রুতগামী প্রাণী হচ্ছে চিতাবাঘ। ঘণ্টায় সে ১১০ কি.মি দৌড়ায়। আর সবচেয়ে ধীরগামী প্রাণী হল শামুক। সে তিন সপ্তাহে এক মাইল অতিক্রম করে থাকে。
• পাখির ডিমের মধ্যে সবচেয়ে বড় ডিম হল উট পাখির ডিম। যার দৈর্ঘ্য ২০ সে.মি.। ওজন হয় ১.৫ কি.গ্রাম। আর সবচেয়ে ছোট ডিম হল ভ্রমরের ডিম। যা ১ সে.মি. এর বেশী হয় না。
• প্রতিটি পাখিই মূলরূপে একটি ডিম ছিল। উদ্ভিদগুলো মূলত ছিল একেকটি শষ্যদানা। ফুলের ছোট্ট ছোট্ট ডিম্বকোষ থেকে তা বড় হয়েছে। আর প্রাণীগুলো বাচ্চার রূপ নেয়ার পূর্বে ডিমই ছিল。
عظمة الله تتجلى في خلقه আল্লাহর বড়ত্ব তাঁর সৃষ্টির মাঝেই প্রস্ফুটিত
আল্লাহ তাআলা মহান ক্ষমতাধর। তাঁর বড়ত্ব ও ক্ষমতা আমাদের চারপাশের সবকিছুর মাঝেই প্রস্ফুটিত। আমরা যে যমিনের ওপর বসবাস করছি তার মধ্যে রয়েছে সাগর, মহাসাগর, বরফ, মরুভূমি ও পাহাড়। প্রতিটি জিনিসেরই রয়েছে নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট ও স্বভাব যা অপরটি থেকে ভিন্ন। পৃথিবীতে আরো রয়েছে শয্যদানা ও রঙ বেরঙের জীব-জন্তু。
এই একটি পৃথিবীতে আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ। যেগুলোর মূলত পানি থেকে উৎপন্ন হয়। অথচ প্রত্যেকটির আকার-অবয়ব ভিন্ন ভিন্ন। রঙও ভিন্ন। স্বাদও ভিন্ন。
نبات واحد وانتاج متعددة এক উদ্ভিতের ভিন্ন পরিণতি
এই উদ্ভিদ বড়ই বিস্ময়কর। এটি আল্লাহর বড়ত্বের বিস্ময়কর প্রকাশ। একটি মাত্র উদ্ভিদ; অথচ তা মানুষের বিবেক বুদ্ধিকে থমকে দেয়। যেমন তুত গাছ। এর থেকে আহার গ্রহণ করে মৌমাছি। সেটা হয়ে যায় মধু। তা থেকে খাবার গ্রহণ করে রেশম পোকা। সেটা হয়ে যায় রেশমী কাপড়। তা থেকে খায় গরু। হয়ে যায় দুধ ও গোশত। তা থেকে খাবার গ্রহণ করে ভেড়া। হয়ে যায় پشمী কাপড়। তা থেকে খায় পাখি। হয়ে যায় ডিম।
📄 আল গাফূর
আল গফুর এর অর্থ হল, অধিক ক্ষমা ও মার্জনাকারী। আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাকে অধিক পরিমাণে ক্ষমা করতে চান। তিনি বান্দার পাপকে গোপন রাখেন। বান্দা যখনই পাপ করার পর ক্ষমা প্রার্থনা করে আর একান্ত মনে তাওবা করে আল্লাহ ওই বান্দাকে ক্ষমা করে দেন。
যে ব্যক্তি নিজেকে সর্বত গোনাহের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছে আল্লাহ তা'আলা তাকেও ক্ষমা ও অনুগ্রহের সুসংবাদ দান করেন। শর্ত হলো, তাকে তাওবা করে ফিরে আসতে হবে। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, 'আপনি বলে দিন, ও আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি ক্ষমাশীল দয়ালু'। (সূরা যুমার - ৫৩)
সত্যিকারের মুসলমানের পরিচয় হল যে হবে উদার, ক্ষমাশীল, মন্দকাজের প্রতি অনাগ্রহী, অপরাধীকে মার্জনাকারী এবং ক্ষমা করার অজুহাতসন্ধানী。
أ أفضحه وقد غفرت له আমি কীভাবে তাকে ক্ষমা করার পর অপমান করি?
মুসা আলাইহিস সালামের যুগে বনী ইসরাঈলের মাঝে এক বছর প্রচণ্ড মহামারী ও দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সেই দিনগুলোতে মানুষের উপর প্রচণ্ড রকমের বিপদ আপতিত হয়। বাধ্য হয়ে মুসা আ. বনী ইসরাঈলকে নিয়ে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দুআ করতে বের হলেন。
মুসা আ. দুআর জন্য আল্লাহর দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করলেন। সবাই তখন তার চারপাশে অপেক্ষমাণ। কিন্তু বৃষ্টি নামছে না। আল্লাহ তা'আলা ওহী নাযিল করলেন। মুসা আ. বললেন, তোমাদের মধ্যে এক ব্যক্তি আছে যে আল্লাহর নাফরমানী করে। সে যতক্ষণ এই মজলিসে থাকবে আল্লাহ তা'আলা কোন দুআই কবুল করবেন না। তাই মুসা আ. আল্লাহর বার্তা জনগণকে জানিয়ে দিলেন। তিনি ওই অনির্দিষ্ট লোকটিকে মানুষের ভিড় থেকে বের হয়ে আসতে বললেন। যাতে আল্লাহ দুআ কবুল করেন এবং বৃষ্টি নামে。
এদিকে সেই পাপী বান্দা প্রচণ্ড লজ্জাবোধ করল। মানুষের সামনে বের হয়ে আসতে অপমান বোধ করল। ফলে সে তার মাথা কাপড়ে ঢেকে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে দু'আ করতে লাগল। স্বীয় অপকর্মের জন্য তওবা করল।
লোকটি যখন রোনাজারী ও ক্ষমা প্রার্থনায় মশগুল, এর মধ্যেই আকাশে মেঘের আনাগোনা শুরু হয়ে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। এ দৃশ্য দেখে মুসা আ. সহ বনী ইসরাঈলের সবাই অবাক হয়ে গেল। হযরত মুসা আ. বললেন, হে আল্লাহ! আপনি বৃষ্টি দিয়ে দিলেন, অথচ সেই লোক তো আমাদের সামনে এখনো বের হয়ে আসেনি。
তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, এখন ঐ ব্যক্তির জন্যই বৃষ্টি হয়েছে যার কারণে এতোদিন বৃষ্টি হচ্ছিল না। মুসা আ. তখন বললেন, হে আল্লাহ, আমাদেরকে দেখিয়ে দেন- কে সেই লোক?
আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি তাকে তোমাদের নিকট গোপন রেখেছিলাম যখন সে গুনাহ করত। আর এখন তার নাম কিভাবে প্রকাশ করি যখন সে তওবা করেছে....? আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।