📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল আদল

📄 আল আদল


আল আদলু হলেন ঐ সত্তা যিনি তাঁর হুকুমের ক্ষেত্রে কোন এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়েন না। আল্লাহ তাআলাই ন্যায়পরায়ণ। হুকুমের ক্ষেত্রে তিনি ইনসাফ বজায় রাখেন। পুরো জাহান সৃষ্টি করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। শৃঙ্খলার সঙ্গে। হিকমতের সঙ্গে। যদি আল্লাহ তাআলার ইনসাফ না থাকত তাহলে এই বিশ্বজগতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিত। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেত。
আল্লাহ তাআলা মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে রিযিকের ফয়সালা করেছেন। তিনি তাদেরকে দান করেছেন প্রচুর নেয়ামত। কাউকে দিয়েছেন সম্পদের নেয়ামত। কাউকে দিয়েছেন ইলমের নেয়ামত। কাউকে সুস্থতা। আবার কাউকে অল্পেতুষ্টি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। সর্বাবস্থাতেই বান্দার উচিৎ আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা。
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘মুমিন বান্দার বিষয়টি খুবই বিস্ময়কর। তার সবকিছুই কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া আর কারো ক্ষেত্রেই এমনটা হয় না। আনন্দের কোন কিছু যদি তার কাছে আসে, তাহলে সে শুকরিয়া আদায় করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি বিপদাপন্ন হয় তাহলে ধৈর্য্যধারণ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর। (মুসলিম শরীফ)
القاضي العادل ন্যায়পরায়ণ বিচারক
বাদশাহ প্রথম সলিম জানতে পারলেন যে, আর্মেনিয়া, পারস্য এবং ইহুদীদের কিছু অমুসলিম সংখ্যালঘু দেশে অসন্তোষ ছড়াচ্ছে এবং কোন একটি বিষয় নিয়ে এমন ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে; যা দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। ফলে বাদশাহ নির্দেশ দিলেন যেন এই সংখ্যালঘুরা ইসলাম গ্রহণ করে। যারা অস্বীকার করবে তাদেরকে হত্যা করা হবে。
তখন তাদের মধ্য হতে একটি প্রতিনিধি দল مسلمانوں প্রধান নেতা যানবিলী আলী মালী আফিনদী এর কাছে গেল। তিনি ছিলেন সেই যুগের বড় আলেম। প্রতিনিধি দল ইমামকে বাদশাহর নির্দেশনা জানাল। শুনে তিনি প্রচন্ড রেগে গেলেন। ইসলাম গ্রহণে অনাগ্রহী অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণে চাপ প্রয়োগ করা ইসলামী শিক্ষার বহির্ভূত। ইসলামের রীতিনীতির বিরুদ্ধাচরণ করা কারো জন্যই বৈধ নয়। এমনকি সুলতানের জন্যও নয়。
ইমাম দ্রুত সুলতানের কাছে ছুটে এলেন। তিনি সুলতানকে বললেন, নিশ্চয়ই এটি ইসলাম বহির্ভূত কাজ। তিনি বাদশাহকে হুমকি দিলেন, যদি আপনি এই নির্দেশ বাস্তবায়নে অগ্রসর হোন, তাহলে আমি আপনার ক্ষমতাচ্যুতির ফতোয়া দিতে বাধ্য হব। শুধুমাত্র শরীয়তের বিরোধিতার কারণে।
তখন বাদশাহ ইমামের রায় মেনে নিলেন। তিনি পূর্বে নিদের্শ প্রত্যাহারের ঘোষণা করে দিলেন। ফলে অমুসলিম সংখ্যালঘুরা দেশে নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে বসবাস করতে লাগল। এরপর থেকে কেউ তাদেরকে কোন কটুকথা বা তাদের সঙ্গে কোন খারাপ ব্যবহার করে না।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল লাতীফ

📄 আল লাতীফ


আল লাতীফ অর্থ সহমর্মী। যিনি তার বান্দার ওপর সহমর্মিতা প্রদর্শন করেন। তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেন। তিনি ঐ সত্তা তিনি যা যার ইচ্ছেসৃষ্ট সিদ্ধান্তগুলো যখন বাস্তবায়িত হয় তখন সেটি সৃষ্টিজীবের জন্যে দয়া ও ভালবাসা হয়েই বিমূর্ত হয়。
তাঁর দয়ার অন্যতম নির্দশন হল, তিনি মানুষকে শয়তানের ভ্রষ্টতার হাতে ছেড়ে দেন না। তিনি কল্যাণ ও হিদায়াতের পথ দেখানোর লক্ষ্যে মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন নবী-রাসূল। নাযিল করেছেন বিধান সম্বলিত শরীয়ত। যাতে মানুষ আপন জীবনে সফল হওয়ার পথ খুঁজে পায়。
সৃষ্টির প্রতি তাঁর দয়ার আরেকটি নিদর্শন হল, তিনি তাঁর সৃষ্টিজীবের সকল দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন। তাই তিনি তাদের রিযিকের ব্যবস্থা করেন। তাদের দেখাশোনা করেন। তাই মাধ্যম গ্রহণ করার পরও তাঁর উপর ভরসা করা ছাড়া আর কোন পথ নেই। ওই দয়া ও মমতার গুণে গুনান্বিত হওয়া এবং পৃথিবীর সকল মানুষের সঙ্গে কথায় ও কাজে মমতাপূর্ণ আচরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের আবশ্যিক দায়িত্ব।
مَاذَا لَوْ نَظَرَ اللهُ إِلَيْنَا ؟!! কেমন হবে যখন আল্লাহ আমাদের ওপর দৃষ্টি দেবেন?!
অনেক দিন আগের কথা। এক এলাকায় বাস করতেন হাতেম নামে এক ব্যক্তি। লোকটি বাকপ্রতিবন্ধী ছিলো। কথা বলতে পারে না। সে একদিন হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করল। কিন্তু তার এ সিদ্ধান্তের ওপর তার স্ত্রীর সায় ছিলো না। সে তাকে বিরত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কেননা তার স্বামী ছাড়া তাদের দেখাশোনা করার আর কেউ নেই। কিন্তু তার বড় মেয়ে আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস ও পরম নির্ভরতার সঙ্গে বলল, বাবা! আপনি হজ্বের সফরে যান। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা আমাদের দেখাশোনা করবেন। তিনি কিছুতেই আমাদেরকে ধ্বংস করবেন না。
হাতেম মেয়ের কথায় আস্থা ফিরে পেল। একদিন সে রওয়ানা হল হজ্বের উদ্দেশ্যে। কিছুদিন পর তাদের খাবার-দাবার সব শেষ হয়ে গেল। এবার সব বোনেরা বড় বোনকে তিরষ্কার করতে লাগল যে, তোমার কথায় বাবা চলে গেলেন! কিন্তু সে নিশ্চুপ। তাদের কথার কোন উত্তর দিল না। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে দুআ করতে লাগল। হঠাৎ একদিন সবাই শুনতে পেলো যে, কে যেনো দরজায় কড়া নাড়ছে। বড় বোনটি দ্রুত এগিয়ে এসে দরজা খুলে দিল। সে দেখল বাদশাহর অশ্বারোহী দল দাঁড়িয়ে আছে। শিকারের জন্য তারা বের হয়েছে। বাদশাহর জন্য একজন পানি চাইল。
বাদশাহ পানি পান করার পর প্রথমে পকেট থেকে কিছু স্বর্ণমুদ্রা বের করে গ্লাসের মধ্যে রেখে দিল। তারপর সৈন্যদের দিকে তাকিয়ে বলল, যে আমাকে ভালবাসে সে যেন আমি যা করলাম তাই করে। ফলে প্রত্যেকেই সাধ্যমত পকেট থেকে স্বর্ণমুদ্রা বের করে গ্লাসে রাখতে লাগল। একসময় গ্লাসটি স্বর্ণমুদ্রায় ভরে গেল。
মেয়েটি তখন গ্লাসের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে লাগল। তার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল মা ও বোনেরা। তারাও বিস্ফোরিত নেত্রে তাকিয়ে ছিল গ্লাসের দিকে। মা বিমোহিত কন্ঠে বলল, আল্লাহ আমাদেরকে এই রিযিক দান করেছেন আর তুমি কাঁদছ?
মেয়েটি উদ্বেলিত হয়ে কান্নাজড়ানো কন্ঠে বলল, পৃথিবীর এক বান্দা আমাদের দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকিয়েছে আর তাতেই সে আমাদেরকে ধনী বানিয়ে গেছে। কেমন হবে যখন আল্লাহ আমাদের দিকে তাঁর রহমতের দৃষ্টি দেবেন??!!!

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল খবীর

📄 আল খবীর


আল খবীর হলেন, সেই সত্তা যিনি সবকিছুর গোপন খবর জানেন। সবকিছুর গূঢ় রহস্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত। তিনি জানেন বান্দা যা কিছু করে সব। যা কিছু হৃদয়ের গভীরে মোথিত করে রাখে সেসব。
তিনি জানেন এই বিশ্বজগতের ঘটমান সবকিছু। ছোট বড় সবকিছু তাঁর আয়ত্বে। জগতের কোন কিছুই তাঁর অগোচরে নয়。
সুতরাং মানুষ যখন বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তা'আলা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবকিছু সম্পর্কে খবর রাখছেন, সবকিছু জানেন, তখন সে সবক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্য করবে। একমুহূর্তও তার যিকির ও ইবাদত থেকে গাফেল থাকবে না。
عالم النحل العجيب মৌমাছির বিস্ময়কর জগৎ
তুমি কি জান?
• পৃথিবীতে মৌমাছি আছে প্রায় বিশ হাজার প্রজাতির。
• মৌমাছির মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রজাতি হল ‘কালিয়াকু দুমা বুলতু’। এগুলোকে নির্মাণকারী মৌমাছি বলা হয়। এগুলো একেকটি ৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। আর সবচেয়ে ছোট প্রজাতির মৌমাছি হয় ২ মিলিমিটার। এগুলোকে ‘তারিজুনা’ বলা হয়。
• একটি মৌচাকে মৌমাছির সংখ্যা ৫০ থেকে ৬০ হাজার হয়ে থাকে। মৌচাকে পুরুষ মৌমাছির সংখ্যা ১০০ (একশ) এর মত হয় আর কর্মরত মহিলা মৌমাছির সংখ্যা ১০০০ (এক হাজারের) মত হয়। এদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল মধু সংগ্রহ করা এবং বাচ্চা মৌমাছিদের দেখাশোনা করা。
• প্রতিটি মৌচাকে একজন করে মৌরানী থাকে। তার বিয়ে হয় এবং সে ডিম পাড়ে। একদিনে সে কমপক্ষে ২৫০০ (দুই হাজার পাঁচশ) ডিম পাড়ে। এই মৌরানী প্রায় ৫ (পাঁচ) বছর বাঁচে。
• শ্রমিক মৌমাছিরা খুব দ্রুততার সঙ্গে উড়তে পারে। ঘণ্টায় তারা ২৫ (পঁচিশ) কিলোমিটার উড়ে যেতে পারে। একটি মৌমাছি তার জীবনে যে পরিমাণ ফুলের মধু সঞ্চয় করতে পারে তা দিয়ে অনায়াসে ৪৫ (পয়তাল্লিশ) গ্রাম মধু তৈরি করা যাবে। আর এই শ্রমিক মৌমাছিরা প্রায় ৬ সপ্তাহ বাঁচে。
• মৌমাছিরা তাদের অবসর সময় ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর কাজে ব্যয় করে থাকে। আর তা নিষ্পন্ন হয় মাত্র ২১ দিনের মধ্যে。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল হালীম

📄 আল হালীম


'আল হালীম'-এর অর্থ সহনশীল। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলাই ক্ষমা করার মালিক। তিনি তাঁর বান্দাদের সঙ্গে সদাচরণ করেন এবং তাদেরকে সুযোগ দিয়ে রাখেন। শাস্তির ব্যাপারে জলদি করেন না। ক্রোধ তাকে প্রভাবিত করতে পারে না। যদিও তিনি পাপীর পাপ দেখতে থাকেন। অপরাধীদের বিরোধিতা প্রত্যক্ষ করে থাকেন। তথাপি শাস্তি দানে তিনি কোন তাড়াহুড়া করেন না। আল্লাহ তা'আলার রিযিকের ক্ষেত্রে অনুগত-অবাধ্যের বিধি-নিষেধ নেই। তিনি পাপী-অনুগত প্রত্যেককেই আহার দান করেন। মুমিনকে যেমন রিযিক দান করেন তেমনি কাফেরকেও দান করেন。
আল্লাহর এই দয়ার কারণে অনেক মানুষ ধোঁকায় পড়ে থাকে। যার ফলে তারা ধারাবাহিকভাবে গোনাহে লিপ্ত থাকে। আল্লাহ তা'আলা তাকে সম্পদ দান করেন অথচ তারা তা অস্বীকার করে এবং গায়রুল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত হয়। তারা এই সম্পদ আল্লাহর নাফরমানীতেই ব্যয় করে। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সুস্থ্যতা ও শক্তি সামর্থ্য দান করেন আর তারা মানুষের উপর জুলুম, নির্যাতন ও আল্লাহর রাস্তায় বাধা প্রদানে লিপ্ত থাকে。
حلم الله على عباده বান্দার উপর আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ
হযরত আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি শুনেছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, নিশ্চয় বান্দা যখন কোন গোনাহে লিপ্ত হয় অতপর বলে, হে আল্লাহ! আমি গুনাহ করেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিন। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে যে, তার এমন একজন রব আছেন; যিনি পাপ মোচন করেন এবং এই পাপের কারণে পাকড়াও করেন? আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতপর এই বান্দা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে চলতে থাকে। অতপর আবার গোনাহে লিপ্ত হয়। বলে, হে আল্লাহ! আমি আবার গুনাহ করে ফেলেছি। আমাকে ক্ষমা করুন。
তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে যে তার রব এমন একজন রব আছেন; যিনি পাপ মোচন করেন এবং এই পাপের কারণে পাকড়াও করেন? আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতপর এই বান্দা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে চলতে থাকে। অতপর আবার গোনাহে লিপ্ত হয়। বলে, হে আল্লাহ! আমি আবার গুনাহ করে ফেলেছি। আমাকে ক্ষমা করুন。
তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, আমার বান্দা কি জানে যে, তার এমন একজন রব আছেন; যিনি পাপ মোচন করেন এবং এই পাপের কারণে পাকড়াও করেন? আমি আমার বান্দাকে তিনবার ক্ষমা করে দিলাম। সুতরাং সে যেন যেমন ইচ্ছা তেমন আমল করতে থাকে。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00