📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ক্বাবিয

📄 আল ক্বাবিয


‘আল ক্বাবিয’ ঐ সত্তাকে বলে যিনি প্রতিনিট প্রাণীর আত্মাকে নিজ কর্তৃত্বে নিয়ে নেন। কব্য করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি মানবাত্মাগুলোকেও কবয করেন; যেনো তিনি তাদেরকে তাদের নেক আমলের জন্য প্রতিদান দিতে পারেন。
আল্লাহ তা’আলা ধনবানদের দান গ্রহণ করে তার বিনিময় পরকালে দেবেন; তাই কোন ধনীর জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, সে দরিদ্রকে দান করে তার ওপর গর্ব করবে ও অহঙ্কার দেখাবে। কেননা সে আল্লাহর জন্যই দান করেছে। যিনি তাকে ধনী হওয়ার এবং সৌভাগ্যশালী হওয়ার সবরকম উপকরণ দান করেছেন。
কবুল হওয়া এটি আল্লাহ পাকের একটি নেয়ামত। কেননা তা বান্দাকে মনে করিয়ে দেয় যে, সে সর্বদা আল্লাহ পাকের মুখাপেক্ষী। ফলে তার হৃদয় থাকে আল্লাহর দিকে ধাবিত। তিনি ছাড়া আর কারো সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে না। অন্য কাউকেই সে চায় না。
প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ তাআলার ফয়সালার ওপর সন্তষ্ট থাকে। সে জানে যে, আল্লাহর সমস্ত কাজই কল্যাণকর। যদি ভাল কিছু ঘটে তাহলে সে শুকরিয়া আদায় করে। কেননা সেটিই তার জন্য ভাল। আর যদি কোন অকল্যাণকর কিছু ঘটে তাহলে ধৈর্য্যধারণ করে। কেননা সেটিই তার জন্য উত্তম。
খানছা রাদি. ও তাঁর সাহসী চার ছেলে
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর খেলাফতকালের কথা। ঐতিহাসিক কাদেসিয়ার ময়দানে مسلمانوں সঙ্গে মুশরিকদের যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুজাহিদ বাহিনীর মাঝে এসে উপস্থিত হলেন 'খানছা' নামক মহিলা। তিনি তার চার ছেলেকেই জিহাদের জন্য উৎসাহিত করছেন। তিনি তাদের বলছেন-
হে আমার ছেলেরা! তোমরা মুসলমান। তোমরা আল্লাহর অনুগত। তোমরা সেই জাতি যারা হিজরতের জন্য নির্বাচিত হয়েছ। তোমরা জানো, কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য কি কি প্রস্তুত করে রেখেছেন। আল্লাহ চাহেন তো আগামীকাল যদি তোমরা বেঁচে থাক তাহলে শত্রুদের মোকাবেলায় ঝাপিয়ে পড়বে। তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বিজয়ের আশা রাখবে。
পরের দিন যখন যুদ্ধ আরম্ভ হল তখন সেই বীর নারীর এই ছেলেরা বীর বিক্রমে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লেন। শত শত কাফেরকে মৃত্যুর তেপান্তরে পাঠিয়ে নিজেরাও শহীদ হয়ে গেলেন। নিজ সন্তানদের শাহাদাতের সংবাদ শুনে সেই নারী একটুও বিচলিত হন নি। এতটুকুও কাঁদেননি। বরং ধৈর্য্যধারণ করেছেন ওই সময় তিনি বলেছিলেন তার সেই মন্তব্য; যা ইতিহাসের পাতায় চিরদিনের জন্যে অঙ্কিত হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন-
সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি নিজ সন্তানের শাহাদাতের দ্বারা আমাকে মহিমান্বিত করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে আশা করব তিনি যেন তার স্থায়ী রহমতের ছায়াতলে তাদের সঙ্গে আমাকেও শামিল করে নেন。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল বাসিত

📄 আল বাসিত


‘আল বাসেত’ হলেন যিনি তাঁর বান্দার জন্য দানকে প্রসারিত করেন। নিজ দয়া ও অনুগ্রহে প্রচুর নেয়ামত দান করেন。
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছে তার দিকে রিযিকের হাত প্রসারিত করেন এবং তিনি তা করতে সক্ষম। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।’ (সূরা আন কাবুত - ৬২)
বাসেত ঐ সত্তা যিনি নিজ অনুগ্রহ ও হিকমতে তাঁর বান্দাকে রিযিক দান করেন। প্রশস্ততার সঙ্গে দান করেন। দান করেন করুণায় ও মহানুভবতায়। ব্যাপকভাবে দান করেন। তিনি প্রয়োজন মাফিক দান করেন。
মুমিন বান্দা যখন আল্লাহর এই নামটি মনে মনে স্মরণ করবে তখন সে বিনয়ের সৌন্দর্যে ভূষিত হবে। তার দৃষ্টি তখন দুনিয়া থেকে ওঠে যাবে। সেই চোখই দুনিয়াকে তুচ্ছজ্ঞান করবে। ছোটদেরকে স্নেহ করবে। আর এর মাঝে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুভব করবে। ফলে সে তার সামনের বড় বড় এবং কঠিন কঠিন বিপদকেও তুচ্ছ মনে হবে। তার থেকে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দুর্দশা দূর হয়ে যাবে। উচ্চাশা তার মন থেকে দূরীভূত হবে। ফলে সে অল্পতেই তুষ্ট হতে পারবে এবং অতিরিক্ত পাওয়ার লোভ থেকে নিজেকে নিবৃত করতে পারবে。
الإخوة الثلاثة তিন ভাইয়ের গল্প
এক দেশে বাস করত তিন ভাই। একদিন তাদের পিতা মারা গেল। মৃত্যুর সময় সে বড় ছেলেকে দিয়ে গেল সুন্দর একটি বাড়ি। মেঝ ছেলেকে গবাদি পশুগুলো দান করলেন। আর সবচেয়ে ছোট ভাইয়ের ভাগে পড়ল এক টুকরো জমি এবং কিছু গম。
একদিন বড় ভাই তার বাড়িটি বিক্রি করে দিল এবং আয়েশী জীবন যাপন করে সব অর্থ এক সময় খরচ করে ফেলল। এক পর্যায়ে সে নিঃস্ব হয়ে গেল。
মেঝ ভাইও তার গবাদি পশুগুলো ধীরে ধীরে বিক্রি করে দিল। এবং আমোদ প্রমোদে মত্ত হয়ে ওঠলো। তার সব অর্থও এক সময় দ্রুত ফুরিয়ে গেল。
অপরদিকে ছোট ভাই তার জমিতে গিয়ে গমের দানাগুলো ছড়িয়ে দিল। প্রতিদিন সে তার ফসলের পরিচর্যা করতে লাগলো। এভাবে এক সময় তার জমি নতুন ফসলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলো। একদিন ফসল কাটার সময় হয়ে গেল। সে ফসলগুলো কেটে বিক্রি করে পুনরায় বিভিন্ন রকমের শষ্যদানা রোপন করল। এভাবেই চলতে লাগল তার দিনগুলো。
কয়েক বছর পর সে একটি সুন্দর বাড়ি ক্রয় করল। অনেক গরু-ছাগল ক্রয় করল। এক পর্যায়ে ছোট ভাইটি গ্রামের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হয়ে উঠলো। আল্লাহ তা'আলা তার কাজে বরকত দান করেছেন। তার রিযিকে প্রশস্ততা দান করেছেন। কিন্তু সে তার বড় দুই ভাইকে কোনদিনই ভুলেনি। সে সবসময় তাদের দেখাশোনা করত এবং তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করত।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল খাফিদ

📄 আল খাফিদ


'আল খাফিদ' ঐ সত্তার নাম যিনি সত্য প্রকাশের দ্বারা বাতিলকে প্রতিহত করে দেন। নিষ্ঠাবান বিনয়ীকে সাহায্য করেন আর বিভ্রান্ত অহঙ্কারীকে করেন অবনমিত। মিথ্যাবাদীর মিথ্যাকে সমাজে প্রকাশ করে দমিয়ে দেন। কাফের আর অপরাধীদেরকে দুনিয়াতে তাদের মন্দ ও নিন্দনীয় কৃতকর্মের ফলস্বরূপ কিয়ামত দিবসে পরাজিত করবেন。
মুমিন বান্দার জন্য করণীয় হল নিজের নফসকে নিচু করে রাখা। আল্লাহ এবং অন্যান্য মুমিনদের সামনে বিনয় অবলম্বন করা। সে সকল বান্দাদের মাঝে নিজেকে সবচেয়ে ছোট ভাববে। কোন অহঙ্কার করবে না। কারো সঙ্গে প্রতারণা করবে না। পিতা-মাতার সঙ্গে বিনয় আচরণ করবে এবং তাদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। সবসময় তাদের সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহারের প্রতি সজাগ দৃষ্টি থাকবে。
كنوز قارون কারুনের সম্পদ
বনী ঈসরাইলে ক্বারূন নামে এক লোক ছিল। লোকটি ছিল প্রচুর অর্থ- বৈভবের অধিকারী সবচেয়ে বড় সম্পদশালী। আল্লাহ তা'আলা তাকে অঢেল সম্পদের মালিক বানিয়েছিলেন। যা তার অন্যান্য গুণকেও ছাপিয়ে উঠেছিল। শক্তিশালী পুরুষের একটি দল মিলেও তার মহা মূল্যবান ধনভাণ্ডারের চাবিগুলো বহন করতে সক্ষম হত না。
কিন্তু সে তার এই নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের পরিবর্তে অহঙ্কার করত। যখনই আল্লাহ তা'আলা তাকে সম্পদ বৃদ্ধি করতেন সে জুলুম করত। দিনে দিনে তার এই অহঙ্কার বেড়েই চলল。
ক্বারূন দরিদ্র ও অসহায় লোকদের সঙ্গে ভাল আচরণ করত না। একদিনও সে আল্লাহ তাআলার এই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে নি। এমনকি কারো কোন উপদেশই সে গ্রাহ্য করত না। যখন কেউ তাকে আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্বরণ করিয়ে দিত এবং তার উপর আল্লাহর দয়ার কথা মনে করিয়ে দিত, সে তাকে তিরষ্কার করত। অহঙ্কারীর মত তার দিকে তাকাত আর বলত,
'আমার উপর কারো কোন অনুগ্রহ নেই। এই সব সম্পদ আমি আমার বুদ্ধি ও পরিশ্রম দিয়ে অর্জন করেছি।'
ফলে আল্লাহ তা'আলা তাকে এই অস্বীকার ও আত্মম্ভরিতার কারণে ধ্বংস করে দিলেন। সে এবং তার বিশাল প্রাসাদ জমিনে দেবে গেল। তার সমস্ত ধন সম্পদ মাটির গহ্বরে হারিয়ে গেল। যুগে যুগে তার এই ঘটনা মানুষের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকল।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আর রা'ফী

📄 আর রা'ফী


আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা মর্যাদা দান করেন। কাউকে উচ্চ মাকাম দান করেন আর কাউকে দান করেন অঢেল সম্পদ। কিংবা কাউকে দেন ইলম ও আল্লাহর মা'রেফাত। আর তিনি নেক বান্দাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে দান করবেন সর্বোচ্চ স্থান। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
‘আর তিনি তোমাদেরকে বানিয়েছেন দুনিয়ার প্রতিনিধি। আর তোমাদের পরস্পরকে পরস্পরের উপর মর্যাদা দিয়েছেন যেন তিনি পরীক্ষা করতে পারেন তোমাদেরকে তিনি যা দিয়েছেন সে ব্যাপারে।’ (সূরা আনআম - ১৬৫)
আল্লাহই রাজাদেরকে উচ্চকিত করেছেন জনগণের ওপর। শাসকবর্গকে প্রজাদের ওপর। ধনীদেরকে গরিবদের ওপর। পৃথিবীর শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তিনি এসব করেছেন। তিনি আমাদেরকে বিভিন্ন স্তরে রেখেছেন মূলত পরীক্ষা করার জন্যে। আমরা যদি আল্লাহর এঁকে দেয়া সেই সীমারেখা মেনে চলি, তার ওপর বিশ্বাস ধারণ করি তাহলে পরকালে আমাদের মুক্তি পেতে কোনো বাঁধা থাকবে না。
মানুষ যদি আল্লাহর এ নাম স্মরণ রাখে তাহলে সে কারো সঙ্গে প্রতারণা করবে না। কোনো প্রজা তার কর্তার সঙ্গেও প্রতারণা করবে না। কোনো ব্যক্তি তার সম্পদের সঙ্গেও প্রতারণা করবে না। বরং সে মানুষের সঙ্গে বিনম্র আচরণ করবে। তাদের সেবা ও প্রয়োজন পূরণে সচেষ্ট থাকবে。
يوسف واخواته
ইউসুফ আ. ও তার ভাইদের ঘটনা
ইউসুফ আ. এর ভায়েরা তার প্রতি খুব হিংসে করত। যেহেতু তাঁর বাবা হযরত ইয়াকুব আ. তাকে বেশী ভালবাসতেন। তারা মনে করত তাদের পিতা ইউসুফ আ.-কে তাদের উপর প্রাধান্য দিচ্ছেন। তখন শয়তান তাদের অন্তরে ধোঁকা দিল যেনো ইউসুফ আ.কে দূরে মরুভূমিতে ফেলে রেখে আসে。
কিন্তু আল্লাহ তা'আলা ইউসুফ আ. এর সুরক্ষার দায়িত্ব নিলেন। তিনি ইউসুফ আ. এর কাছে এক ব্যবসায়ী কাফেলাকে পাঠিয়ে দিলেন। তারা মিসরের দিকে যাচ্ছিল। তারা ইউসুফ আ. কে মরুভূমির এক গভীর কূপ থেকে তুলে নিলো এবং মিসরের বাদশাহর কাছে বিক্রি করে দিল। ফলে ইউসুফ আ. বাদশাহর প্রাসাদে দীর্ঘদিন কাটালেন। এমনকি একদিন বাদশাহর স্ত্রীর ক্রোধ তার উপর এসে পড়ল। তখন বাদশাহ ইউসুফ আ. কে অন্যায়ভাবে জেলে আটকে রাখলেন。
কিন্তু আল্লাহ তা'আলা হযরত ইউসুফ আ.কে মর্যাদা দান করলেন ওই সকল লোকের ওপর; যারা একদিন তার উপর জুলুম করেছিল। তিনি জেল থেকে মুক্তি লাভ করলেন। এক পর্যায়ে মিসরের বাদশার প্রভাবশালী মন্ত্রী হলেন। যখন তার ভাইয়েরা মিসরে এলো তিনি তাদেরকে দেখেই চিনে ফেললেন। তাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিলেন। তারাও ইউসুফ আ. এর কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিল। ফলে তারা ইউসুফ আ. এর অনুগ্রহে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করল。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00