📄 আল ফাত্তাহ
‘ফাত্তাহ’। যিনি তার সৃষ্টিজীবের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন। তিনি উন্মুক্ত করে দেন তার বান্দার কাছে দুর্বোধ্য বিষয়গুলো। তিনি বান্দার কাছে খুলে দেন সবকিছুর আসল অবস্থা। সহজ করে দেন প্রতিটি কঠিন জিনিস। তিনি গুনাহগারের জন্য উন্মুক্ত করে দেন তাওবার দরজা। প্রসারিত করেন রিযিকের দ্বার。
আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন। তিনি মানুষের জন্য খুলে দিয়েছেন জ্ঞানের দিগন্ত। তিনি পর্যালোচনা ও জ্ঞান অন্বেষণের নির্দেশ করেছেন। যখনই মানুষ ইখলাছের সঙ্গে ইলম অন্বেষণ করে এবং তার জন্য নিজেকে উজাড় করে দেয়, তখন আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জ্ঞানের দরজাগুলো খুলে দেন। খুলে দেন জ্ঞানের সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো। যা মানুষের জন্যে বয়ে আনে সীমাহীন উপকার。
صنبور الماء পানির ট্যাপ
আমরা সবাই বাসা-বাড়িতে পানির ট্যাপ ব্যবহার করে থাকি। এটি পানির কল হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। এটি মুসলমানদের একটি আবিষ্কার। কয়েকজন মুসলমান তা আবিষ্কার করেছিলেন। এর পেছনে রয়েছে একটি চমৎকার গল্প। তোমরা কি তা জান?
অনেক দিন আগের কথা। এক জায়গায় কয়েকজন আবেদ বসবাস করতেন। তাঁরা প্রচুর ইবাদত-বন্দেগি করতেন। তাঁরা মাযহাবের ক্ষেত্রে ইমাম আবূ হানীফা রহ.-এর অনুসরণ করতেন, বিধায় তাঁদেরকে বলা হত 'হানাফিয়্যাহ'। তাঁরা মসজিদে ইবাদত-বন্দেগী করতেন। ওজুর সুবিধার জন্য তাঁরা একটি বড় কৃত্রিম জলাধার – যা দেখতে অনেকটা বর্তমানে পানির ট্যাঙ্কির মত— সেখানে পানি রাখতেন। অজু করার প্রয়োজন পড়লে সেখান থেকে পানি নিয়ে নিতেন。
সেখান থেকে বেশী মানুষ পানি নেয়ার কারণে এক পর্যায়ে পানি ময়লা হয়ে যেত ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ত। তখন কেউ কেউ চিন্তা করল যে, ট্যাংকির নিচে একটি ছিদ্র করবে এবং একটি কাঠের টুকরার মাধ্যমে ছিদ্রটি বন্ধ করে রাখবে। যার অজুর প্রয়োজন পড়বে সেই কাঠের টুকরাটি সরিয়ে ফেলবে আর সেখান থেকে পানি বের হতে থাকবে। তখন অজু করবে。
লোকেরা যখন তাদের সেই আবিস্কার দেখলো, তখন খুবই মুগ্ধ হলো। তারা ভাবলো, এটি খুবই উপকারী একটি আবিস্কার। তখন নিজেদের বাসা-বাড়িতে পানির জন্যে এভাবে কল ব্যবহার করতে শুরু করলো। আবিস্কারটি যেহেতু একদল হানাফীর অবদান; এ জন্যে তারা তার নাম দিয়ে দিলো, হানাফিয়্যাহ। এখন শব্দটির অন্যতম অর্থ, পানির কল বা ট্যাপ।
📄 আল আলীম
‘আলীম’ মানে মহাজ্ঞানী। দৃশ্য-অদৃশ্য সবকিছু সম্পর্কে জ্ঞাত যে সত্তা তাকে আলীম বলে। ছোট থেকে ছোট, বড় থেকে বড় সবকিছু সম্পর্কে তিনি জানেন。
তিনি সব জিনিসের ব্যাখ্যা জানেন। সবকিছুর ভিতরগত সূক্ষ্ম বিষয় জানেন। তিনি মানুষের হৃদয়ের গোপন কথা জানেন。
তিনি মানুষের চিন্তা সম্পর্কেও জানেন। আসমান ও জমিনে তার অগোচরে কোন কিছুই নেই। তিনি মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ。
هل تعلم তুমি কি জান?
* মানুষের দেহে সবচেয়ে ছোট যে কোষটি আছে তা অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়। তাও আবার একশত গুণ বড় করার পর。
* মানুষের দেহে প্রায় ৬০ বিলিয়ন কোষ আছে。
* প্রতিদিন দু'বার ৫০ মিলিয়ন কোষ মারা যায় আবার নতুন করে ৫০ মিলিয়ন জন্ম নেয়。
* লাল রক্তের মধ্যে কোষের সংখ্যা ঘন মিলিমিটারে প্রায় ৫ মিলিয়ন হবে。
* একেকটি রক্তের কোষ ৮০ থেকে ১২০ দিন পর্যন্ত বাঁচে।
📄 আল ক্বাবিয
‘আল ক্বাবিয’ ঐ সত্তাকে বলে যিনি প্রতিনিট প্রাণীর আত্মাকে নিজ কর্তৃত্বে নিয়ে নেন। কব্য করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি মানবাত্মাগুলোকেও কবয করেন; যেনো তিনি তাদেরকে তাদের নেক আমলের জন্য প্রতিদান দিতে পারেন。
আল্লাহ তা’আলা ধনবানদের দান গ্রহণ করে তার বিনিময় পরকালে দেবেন; তাই কোন ধনীর জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, সে দরিদ্রকে দান করে তার ওপর গর্ব করবে ও অহঙ্কার দেখাবে। কেননা সে আল্লাহর জন্যই দান করেছে। যিনি তাকে ধনী হওয়ার এবং সৌভাগ্যশালী হওয়ার সবরকম উপকরণ দান করেছেন。
কবুল হওয়া এটি আল্লাহ পাকের একটি নেয়ামত। কেননা তা বান্দাকে মনে করিয়ে দেয় যে, সে সর্বদা আল্লাহ পাকের মুখাপেক্ষী। ফলে তার হৃদয় থাকে আল্লাহর দিকে ধাবিত। তিনি ছাড়া আর কারো সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে না। অন্য কাউকেই সে চায় না。
প্রকৃত মুমিন সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ তাআলার ফয়সালার ওপর সন্তষ্ট থাকে। সে জানে যে, আল্লাহর সমস্ত কাজই কল্যাণকর। যদি ভাল কিছু ঘটে তাহলে সে শুকরিয়া আদায় করে। কেননা সেটিই তার জন্য ভাল। আর যদি কোন অকল্যাণকর কিছু ঘটে তাহলে ধৈর্য্যধারণ করে। কেননা সেটিই তার জন্য উত্তম。
খানছা রাদি. ও তাঁর সাহসী চার ছেলে
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর খেলাফতকালের কথা। ঐতিহাসিক কাদেসিয়ার ময়দানে مسلمانوں সঙ্গে মুশরিকদের যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুজাহিদ বাহিনীর মাঝে এসে উপস্থিত হলেন 'খানছা' নামক মহিলা। তিনি তার চার ছেলেকেই জিহাদের জন্য উৎসাহিত করছেন। তিনি তাদের বলছেন-
হে আমার ছেলেরা! তোমরা মুসলমান। তোমরা আল্লাহর অনুগত। তোমরা সেই জাতি যারা হিজরতের জন্য নির্বাচিত হয়েছ। তোমরা জানো, কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য কি কি প্রস্তুত করে রেখেছেন। আল্লাহ চাহেন তো আগামীকাল যদি তোমরা বেঁচে থাক তাহলে শত্রুদের মোকাবেলায় ঝাপিয়ে পড়বে। তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বিজয়ের আশা রাখবে。
পরের দিন যখন যুদ্ধ আরম্ভ হল তখন সেই বীর নারীর এই ছেলেরা বীর বিক্রমে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়লেন। শত শত কাফেরকে মৃত্যুর তেপান্তরে পাঠিয়ে নিজেরাও শহীদ হয়ে গেলেন। নিজ সন্তানদের শাহাদাতের সংবাদ শুনে সেই নারী একটুও বিচলিত হন নি। এতটুকুও কাঁদেননি। বরং ধৈর্য্যধারণ করেছেন ওই সময় তিনি বলেছিলেন তার সেই মন্তব্য; যা ইতিহাসের পাতায় চিরদিনের জন্যে অঙ্কিত হয়ে আছে। তিনি বলেছিলেন-
সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি নিজ সন্তানের শাহাদাতের দ্বারা আমাকে মহিমান্বিত করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে আশা করব তিনি যেন তার স্থায়ী রহমতের ছায়াতলে তাদের সঙ্গে আমাকেও শামিল করে নেন。
📄 আল বাসিত
‘আল বাসেত’ হলেন যিনি তাঁর বান্দার জন্য দানকে প্রসারিত করেন। নিজ দয়া ও অনুগ্রহে প্রচুর নেয়ামত দান করেন。
আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছে তার দিকে রিযিকের হাত প্রসারিত করেন এবং তিনি তা করতে সক্ষম। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।’ (সূরা আন কাবুত - ৬২)
বাসেত ঐ সত্তা যিনি নিজ অনুগ্রহ ও হিকমতে তাঁর বান্দাকে রিযিক দান করেন। প্রশস্ততার সঙ্গে দান করেন। দান করেন করুণায় ও মহানুভবতায়। ব্যাপকভাবে দান করেন। তিনি প্রয়োজন মাফিক দান করেন。
মুমিন বান্দা যখন আল্লাহর এই নামটি মনে মনে স্মরণ করবে তখন সে বিনয়ের সৌন্দর্যে ভূষিত হবে। তার দৃষ্টি তখন দুনিয়া থেকে ওঠে যাবে। সেই চোখই দুনিয়াকে তুচ্ছজ্ঞান করবে। ছোটদেরকে স্নেহ করবে। আর এর মাঝে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুভব করবে। ফলে সে তার সামনের বড় বড় এবং কঠিন কঠিন বিপদকেও তুচ্ছ মনে হবে। তার থেকে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ দুর্দশা দূর হয়ে যাবে। উচ্চাশা তার মন থেকে দূরীভূত হবে। ফলে সে অল্পতেই তুষ্ট হতে পারবে এবং অতিরিক্ত পাওয়ার লোভ থেকে নিজেকে নিবৃত করতে পারবে。
الإخوة الثلاثة তিন ভাইয়ের গল্প
এক দেশে বাস করত তিন ভাই। একদিন তাদের পিতা মারা গেল। মৃত্যুর সময় সে বড় ছেলেকে দিয়ে গেল সুন্দর একটি বাড়ি। মেঝ ছেলেকে গবাদি পশুগুলো দান করলেন। আর সবচেয়ে ছোট ভাইয়ের ভাগে পড়ল এক টুকরো জমি এবং কিছু গম。
একদিন বড় ভাই তার বাড়িটি বিক্রি করে দিল এবং আয়েশী জীবন যাপন করে সব অর্থ এক সময় খরচ করে ফেলল। এক পর্যায়ে সে নিঃস্ব হয়ে গেল。
মেঝ ভাইও তার গবাদি পশুগুলো ধীরে ধীরে বিক্রি করে দিল। এবং আমোদ প্রমোদে মত্ত হয়ে ওঠলো। তার সব অর্থও এক সময় দ্রুত ফুরিয়ে গেল。
অপরদিকে ছোট ভাই তার জমিতে গিয়ে গমের দানাগুলো ছড়িয়ে দিল। প্রতিদিন সে তার ফসলের পরিচর্যা করতে লাগলো। এভাবে এক সময় তার জমি নতুন ফসলে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলো। একদিন ফসল কাটার সময় হয়ে গেল। সে ফসলগুলো কেটে বিক্রি করে পুনরায় বিভিন্ন রকমের শষ্যদানা রোপন করল। এভাবেই চলতে লাগল তার দিনগুলো。
কয়েক বছর পর সে একটি সুন্দর বাড়ি ক্রয় করল। অনেক গরু-ছাগল ক্রয় করল। এক পর্যায়ে ছোট ভাইটি গ্রামের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হয়ে উঠলো। আল্লাহ তা'আলা তার কাজে বরকত দান করেছেন। তার রিযিকে প্রশস্ততা দান করেছেন। কিন্তু সে তার বড় দুই ভাইকে কোনদিনই ভুলেনি। সে সবসময় তাদের দেখাশোনা করত এবং তাদের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করত।