📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল কাহ্হার

📄 আল কাহ্হার


‘কাহ্হার’ ঐ সত্তা যার রয়েছে পুরো বিশ্বজগতের উপর প্রবল ক্ষমতা। এই জগতের সবকিছুই তাঁর ক্ষমতা ও শক্তির কাছে নীত। আল্লাহর ইচ্ছের বাইরে তাঁর পৃথিবীতে কর্তৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা কোনো সৃষ্টিজীবের নেই।। ক্ষমতাশীলদের ও জালেমদেরকে তিনিই ক্ষমতা দান করেছেন。
এই বিশ্বজগত আল্লাহর দেয়া নির্ধারিত বিধান মোতাবেক চলে। তাঁর দেয়া বিধান লংঘিত হলে এই ভূ-মণ্ডলে সৃষ্টি হবে বিরাট ত্রুটি। ভেঙ্গে পড়বে পৃথিবীর শৃঙ্খলা। জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। সূর্য যদি তার অবস্থান থেকে সৎসামান্য নিচে নেমে আসে তাহলে কী হবে? নদী-নালা সব শুকিয়ে যাবে। গাছ-পালা সব পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবে। ফলে পৃথিবীর বুকে জীবন ধারণই হয়ে উঠবে দূর্বিষহ。
আর যদি একটু দূরে চলে যায় তাহলে? জীবন স্তব্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বমণ্ডলই মারা পড়বে。
هل تعلم؟ তুমি কি জান?
* সূর্য তারা থেকে পৃথিবীর অধিক নিকটবর্তী? সূর্য ভয়ঙ্কর এক গ্যাস বলের মত। তার উষ্ণতা প্রায় ১৫ মিলিয়ন শতাংশ。
* পৃথিবী থেকে সূর্য প্রায় ১০৯ মিলিয়ন গুণ বড়। আর সূর্যের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের তিন লাখ মিলিয়ন বড়। সূর্য পৃথিবী থেকে ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
* সূর্য নিজ কক্ষপথে ঘুরছে যেমনটি পৃথিবী ঘুরছে। নক্ষত্রপুঞ্জের মাঝে পরিপূর্ণভাবে একবার প্রদক্ষিণ করতে লাগে সূর্যের ২২৫ বছর লাগে। অথচ সূর্য তার কক্ষপথে প্রতি সেকেন্ডে ১৯.৩ কিলোমিটার বেগে প্রদক্ষিণ করে।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ওয়াহ্হাব

📄 আল ওয়াহ্হাব


ওয়াহ্হাব সেই সত্তা, যিনি দান করেন কারো কোন মুখাপেক্ষিতা ছাড়াই। কোন যাচনা বা কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই তিনি প্রদান করেন。
ওয়াহ্হাব মানে প্রচুর দানকারী। অধিক পরিমাণে অনুদানকারী। মহান নেয়ামতদাতা। যিনি দান করেন বারবার। বিভিন্ন প্রকারের নেয়ামত দান করেন। যার দানের পরিধি ব্যাপক। মানুষের উপর আল্লাহর নেয়ামত অপরিসীম। সীমাহীন。
তিনি তো ঐ সত্তা যিনি মানুষকে দান করেছেন জীবন। দান করেছেন শ্রবণশক্তি। দিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। তিনিই দিয়েছেন ঘ্রাণশক্তি ও অনুভবশক্তি। তিনি দান করেছেন জ্ঞান, বুদ্ধি-চিন্তাশক্তি; যার মাধ্যমে মানুষ ভাল-মন্দ পার্থক্য করতে পারে। কোন কিছুর পরিচিতি নির্ধারণ করতে পারে。
এই জগতের সমস্ত মাখলুককে তিনি মানুষের আজ্ঞাবহ করে দিয়েছেন। মানুষরই খেদমতের জন্য। পৃথিবীতে বসবাসের লক্ষ্যে কর্তব্য স্থির করার জন্য। আমরা সেই পরম করুণাময় আল্লাহরই ইবাদত করি。
মানুষের উচিৎ নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করা। তার সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া। গোপনে ও প্রকাশ্যে তার হুকুমের প্রতি সন্তষ্ট থাকা। তাহলে আল্লাহ তা'আলার সন্তষ্টিতে সে কামিয়াব হবে。
حلو ..... ومرّ মিষ্টি ও তেতো
অনেক দিন আগের কথা। একজন নেককার লোকের এক গোলাম ছিল। সে তার খেদমত করত। আর মালিক তার সঙ্গে আপন মানুষের মত কথা বলতেন। তার সঙ্গে সদাচরণ করতেন। তাকে পাশে বসিয়ে খাওয়াতেন。
একদিন মালিক ও গোলাম একসঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছিল। খাবার খাওয়ার এক পর্যায়ে মালিক তার গোলামের দিকে একটি ফল বাড়িয়ে দিল। ফলটি হাতে নিয়ে সে খেতে শুরু করলো। মালিক লক্ষ্য করলেন, গোলামটি স্বাভাবিকের চেয়ে খুবই ধীরে ধীরে ফলটি চিবিয়ে খাচ্ছে। তখন মালিক তার হাত থেকে ফলটি নিয়ে নিজে মুখের ভেতরে পুরে দিল। প্রচণ্ড তিতায় তার মুখ বিষিয়ে উঠল। সে অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল -
এত তেতো হওয়া সত্ত্বেও তুমি কিভাবে খাচ্ছ এ ফল?
গোলাম বলল- মালিক! আপনার হাত থেকে আমি অনেক মিষ্টি খাবার খেয়েছি। তাই আমি এটা পছন্দ করি না যে, তেতোর কারণে নিজ থেকে এর প্রতি অনিহা দেখাই।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আর রাজ্জাক

📄 আর রাজ্জাক


‘রাজ্জাক’ সেই সত্তা যিনি প্রত্যেক মাখলুকের কাছে তার প্রয়োজনমাফিক রিযিক পৌঁছে দেন। সেই রিযিকের কল্যাণে মাখলুক জীবিকা নির্বাহ করে。
এটি এমন একটি গুণ যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। কেননা সমস্ত মাখলুকের রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর কাছেই। সবল-দুর্বল, ছোট-বড়, মুসলমান-কাফের নির্বিশেষে সকলকেই তিনি রিযিক দান করেন。
তবে আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জিনিস অর্জনের জন্য মাধ্যম রেখেছেন। যে মাধ্যমের দ্বারা মাখলুকের কাছে রিযিক এসে পৌঁছে। রিযিক গ্রহণ করার জন্য পন্থা অবলম্বন করা অনিবার্য ও অত্যাবশ্যক; তবে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর উপরও অবশ্যই ভরসা রাখতে হবে。
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথাযথভাবে ভরসা কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে এভাবে রিযিক দান করবেন যেভাবে পাখিকে দান করেন। পাখি প্রত্যুষে ক্ষুধার্ত হয়ে ঘর থেকে বের হয় আর সন্ধ্যায় ভরপেটে ফিরে আসে। (ইবনে মাজা)।
رزقه يأتيه ব্যক্তির কাছে তার জন্যে বরাদ্দ রিযিক আসবেই
স্পঞ্জ প্রাণীরা সমুদ্রের গভীরে বসবাস করে। তারা নিজেদের জায়গা থেকে নড়ে না। তাই মানুষ তাকে উদ্ভিদ ভাবে। ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী জন ইলস এই প্রাণীর ব্যাখ্যামূলক বৃত্তান্ত পেশ করেন。
স্পঞ্জ প্রাণী যেহেতু নিজেদের জায়গা থেকে নড়ে না তাই আল্লাহ তার কাছেই তার রিযিককে পাঠিয়ে দেন। সেগুলো সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম সৃষ্টির মতই দাঁড়িয়ে থাকে। বড়জোর একান্ত সীমিত বৃত্তে অদ্ভুৎ শারীরিক ভঙ্গিমায় সাঁতার কেটে বেড়ায়।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল ফাত্তাহ

📄 আল ফাত্তাহ


‘ফাত্তাহ’। যিনি তার সৃষ্টিজীবের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন। তিনি উন্মুক্ত করে দেন তার বান্দার কাছে দুর্বোধ্য বিষয়গুলো। তিনি বান্দার কাছে খুলে দেন সবকিছুর আসল অবস্থা। সহজ করে দেন প্রতিটি কঠিন জিনিস। তিনি গুনাহগারের জন্য উন্মুক্ত করে দেন তাওবার দরজা। প্রসারিত করেন রিযিকের দ্বার。
আল্লাহ তাআলা মানুষকে জ্ঞান দান করেছেন। তিনি মানুষের জন্য খুলে দিয়েছেন জ্ঞানের দিগন্ত। তিনি পর্যালোচনা ও জ্ঞান অন্বেষণের নির্দেশ করেছেন। যখনই মানুষ ইখলাছের সঙ্গে ইলম অন্বেষণ করে এবং তার জন্য নিজেকে উজাড় করে দেয়, তখন আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জ্ঞানের দরজাগুলো খুলে দেন। খুলে দেন জ্ঞানের সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম বিষয়গুলো। যা মানুষের জন্যে বয়ে আনে সীমাহীন উপকার。
صنبور الماء পানির ট্যাপ
আমরা সবাই বাসা-বাড়িতে পানির ট্যাপ ব্যবহার করে থাকি। এটি পানির কল হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। এটি মুসলমানদের একটি আবিষ্কার। কয়েকজন মুসলমান তা আবিষ্কার করেছিলেন। এর পেছনে রয়েছে একটি চমৎকার গল্প। তোমরা কি তা জান?
অনেক দিন আগের কথা। এক জায়গায় কয়েকজন আবেদ বসবাস করতেন। তাঁরা প্রচুর ইবাদত-বন্দেগি করতেন। তাঁরা মাযহাবের ক্ষেত্রে ইমাম আবূ হানীফা রহ.-এর অনুসরণ করতেন, বিধায় তাঁদেরকে বলা হত 'হানাফিয়্যাহ'। তাঁরা মসজিদে ইবাদত-বন্দেগী করতেন। ওজুর সুবিধার জন্য তাঁরা একটি বড় কৃত্রিম জলাধার – যা দেখতে অনেকটা বর্তমানে পানির ট্যাঙ্কির মত— সেখানে পানি রাখতেন। অজু করার প্রয়োজন পড়লে সেখান থেকে পানি নিয়ে নিতেন。
সেখান থেকে বেশী মানুষ পানি নেয়ার কারণে এক পর্যায়ে পানি ময়লা হয়ে যেত ও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ত। তখন কেউ কেউ চিন্তা করল যে, ট্যাংকির নিচে একটি ছিদ্র করবে এবং একটি কাঠের টুকরার মাধ্যমে ছিদ্রটি বন্ধ করে রাখবে। যার অজুর প্রয়োজন পড়বে সেই কাঠের টুকরাটি সরিয়ে ফেলবে আর সেখান থেকে পানি বের হতে থাকবে। তখন অজু করবে。
লোকেরা যখন তাদের সেই আবিস্কার দেখলো, তখন খুবই মুগ্ধ হলো। তারা ভাবলো, এটি খুবই উপকারী একটি আবিস্কার। তখন নিজেদের বাসা-বাড়িতে পানির জন্যে এভাবে কল ব্যবহার করতে শুরু করলো। আবিস্কারটি যেহেতু একদল হানাফীর অবদান; এ জন্যে তারা তার নাম দিয়ে দিলো, হানাফিয়্যাহ। এখন শব্দটির অন্যতম অর্থ, পানির কল বা ট্যাপ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00