📄 আল গাফ্ফার
‘গাফফার’ শব্দের অর্থ হল- অধিক ক্ষমাশীল। গাফ্ফার হলেন ঐ সত্তা, যিনি মানুষের গুনাহ আবৃত রাখেন। মানুষের গুনাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখেন। তিনি তাওবার মাধ্যমে গুনাহগারকে ক্ষমা করেন। এর ফলে সে পৃথিবীতে অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা পায় এবং আখেরাতে আযাব থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে。
যে ব্যক্তি গুনাহ ও আল্লাহ পাকের নাফরমানীতে সর্বদা লিপ্ত, আল্লাহ তা’আলা তাওবার কারণে তার জন্য ক্ষমার দরজাকে উন্মুক্ত করে দেন。
তিনি ইরশাদ করেন- আপনি বলুন, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের উপর সীমালঙ্ঘন করেছ; তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল। দয়ালু। (সূরা যুমার- আয়াত ৫৩)
توبة القاتل এক হত্যাকারীর তওবা
বর্ণিত আছে, অনেক অনেক বছর আগে বনী ঈসরাইলে বসবাস করত এক খুনি প্রকৃতির লোক। সে ৯৯ জন লোক হত্যা করেছে। একদিন সে তার অপরাধ বুঝতে পেরে তওবার উদ্দেশ্যে সে যুগের জনৈক আলেমের কাছে গেল। আলেম তাকে অবজ্ঞা করল এবং বলল, তোমার তওবা কিছুতেই কবুল হবে না। এ কথা শুনে লোকটি রেগে গিয়ে ঐ আলেমকেও হত্যা করে ফেলল। এভাবে তার ১০০ খুন পূর্ণ হল。
যদিও সে ক্রোধের বশে এ হত্যাকাণ্ডটি করেছিলো; কিন্তু এরপর সে মনে মনে অনুশোচনায় দগ্ধ হতে লাগল। তখন সে আরেকজন আলেমের কাছে গেল। তার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলল। ঘটনা শুনে আলেম বললেন, তোমার জন্য সুসংবাদ আছে। তোমার তওবা কবুল হবে। বান্দা যখন খালেছ নিয়তে তওবা করে তখন তার তওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন। তিনি লোকটিকে অন্য একটি গ্রামে চলে যেতে বললেন এবং সেখানেই নতুন করে জীবন যাপন করতে বললেন। কেননা সেই গ্রামে আল্লাহর নেক বান্দারা বসবাস করত।
লোকটি রওয়ানা হল। কিন্তু পথেই লোকটির মৃত্যু হয়ে গেল। তার রূহ উঠিয়ে নিতে সেখানে রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতা দু'দলই চলে আসল। তারা পরষ্পর মতনৈক্য শুরু করে দিল。
রহমতের ফেরেশতারা বলল, সে জান্নাতে যাবে। কেননা সে তাওবা করার নিয়তে বের হয়েছে। আর আযাবের ফেরেশতা বলল, সে জাহান্নামে যাবে। কেননা সে ১০০ জন মানুষতে হত্যা করেছে。
এমতাবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তাদের মাঝে ফায়সালা করার জন্য একজন ফেরেশতা পাঠালেন। তিনি দু'পাশের জমিন মেপে দেখলেন। দেখা গেল তাওবার দিকের রাস্তাটি লোকটির নিজের বাড়ির রাস্তা থেকে এক হাত পরিমাণ কম। অর্থ্যাৎ, তাওবা করার জন্য যেদিকে যাচ্ছিল সে পথটিই নিকটবর্তী। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
📄 আল কাহ্হার
‘কাহ্হার’ ঐ সত্তা যার রয়েছে পুরো বিশ্বজগতের উপর প্রবল ক্ষমতা। এই জগতের সবকিছুই তাঁর ক্ষমতা ও শক্তির কাছে নীত। আল্লাহর ইচ্ছের বাইরে তাঁর পৃথিবীতে কর্তৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা কোনো সৃষ্টিজীবের নেই।। ক্ষমতাশীলদের ও জালেমদেরকে তিনিই ক্ষমতা দান করেছেন。
এই বিশ্বজগত আল্লাহর দেয়া নির্ধারিত বিধান মোতাবেক চলে। তাঁর দেয়া বিধান লংঘিত হলে এই ভূ-মণ্ডলে সৃষ্টি হবে বিরাট ত্রুটি। ভেঙ্গে পড়বে পৃথিবীর শৃঙ্খলা। জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। সূর্য যদি তার অবস্থান থেকে সৎসামান্য নিচে নেমে আসে তাহলে কী হবে? নদী-নালা সব শুকিয়ে যাবে। গাছ-পালা সব পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবে। ফলে পৃথিবীর বুকে জীবন ধারণই হয়ে উঠবে দূর্বিষহ。
আর যদি একটু দূরে চলে যায় তাহলে? জীবন স্তব্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বমণ্ডলই মারা পড়বে。
هل تعلم؟ তুমি কি জান?
* সূর্য তারা থেকে পৃথিবীর অধিক নিকটবর্তী? সূর্য ভয়ঙ্কর এক গ্যাস বলের মত। তার উষ্ণতা প্রায় ১৫ মিলিয়ন শতাংশ。
* পৃথিবী থেকে সূর্য প্রায় ১০৯ মিলিয়ন গুণ বড়। আর সূর্যের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের তিন লাখ মিলিয়ন বড়। সূর্য পৃথিবী থেকে ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
* সূর্য নিজ কক্ষপথে ঘুরছে যেমনটি পৃথিবী ঘুরছে। নক্ষত্রপুঞ্জের মাঝে পরিপূর্ণভাবে একবার প্রদক্ষিণ করতে লাগে সূর্যের ২২৫ বছর লাগে। অথচ সূর্য তার কক্ষপথে প্রতি সেকেন্ডে ১৯.৩ কিলোমিটার বেগে প্রদক্ষিণ করে।
📄 আল ওয়াহ্হাব
ওয়াহ্হাব সেই সত্তা, যিনি দান করেন কারো কোন মুখাপেক্ষিতা ছাড়াই। কোন যাচনা বা কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই তিনি প্রদান করেন。
ওয়াহ্হাব মানে প্রচুর দানকারী। অধিক পরিমাণে অনুদানকারী। মহান নেয়ামতদাতা। যিনি দান করেন বারবার। বিভিন্ন প্রকারের নেয়ামত দান করেন। যার দানের পরিধি ব্যাপক। মানুষের উপর আল্লাহর নেয়ামত অপরিসীম। সীমাহীন。
তিনি তো ঐ সত্তা যিনি মানুষকে দান করেছেন জীবন। দান করেছেন শ্রবণশক্তি। দিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। তিনিই দিয়েছেন ঘ্রাণশক্তি ও অনুভবশক্তি। তিনি দান করেছেন জ্ঞান, বুদ্ধি-চিন্তাশক্তি; যার মাধ্যমে মানুষ ভাল-মন্দ পার্থক্য করতে পারে। কোন কিছুর পরিচিতি নির্ধারণ করতে পারে。
এই জগতের সমস্ত মাখলুককে তিনি মানুষের আজ্ঞাবহ করে দিয়েছেন। মানুষরই খেদমতের জন্য। পৃথিবীতে বসবাসের লক্ষ্যে কর্তব্য স্থির করার জন্য। আমরা সেই পরম করুণাময় আল্লাহরই ইবাদত করি。
মানুষের উচিৎ নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা। বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করা। তার সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া। গোপনে ও প্রকাশ্যে তার হুকুমের প্রতি সন্তষ্ট থাকা। তাহলে আল্লাহ তা'আলার সন্তষ্টিতে সে কামিয়াব হবে。
حلو ..... ومرّ মিষ্টি ও তেতো
অনেক দিন আগের কথা। একজন নেককার লোকের এক গোলাম ছিল। সে তার খেদমত করত। আর মালিক তার সঙ্গে আপন মানুষের মত কথা বলতেন। তার সঙ্গে সদাচরণ করতেন। তাকে পাশে বসিয়ে খাওয়াতেন。
একদিন মালিক ও গোলাম একসঙ্গে বসে খাবার খাচ্ছিল। খাবার খাওয়ার এক পর্যায়ে মালিক তার গোলামের দিকে একটি ফল বাড়িয়ে দিল। ফলটি হাতে নিয়ে সে খেতে শুরু করলো। মালিক লক্ষ্য করলেন, গোলামটি স্বাভাবিকের চেয়ে খুবই ধীরে ধীরে ফলটি চিবিয়ে খাচ্ছে। তখন মালিক তার হাত থেকে ফলটি নিয়ে নিজে মুখের ভেতরে পুরে দিল। প্রচণ্ড তিতায় তার মুখ বিষিয়ে উঠল। সে অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল -
এত তেতো হওয়া সত্ত্বেও তুমি কিভাবে খাচ্ছ এ ফল?
গোলাম বলল- মালিক! আপনার হাত থেকে আমি অনেক মিষ্টি খাবার খেয়েছি। তাই আমি এটা পছন্দ করি না যে, তেতোর কারণে নিজ থেকে এর প্রতি অনিহা দেখাই।
📄 আর রাজ্জাক
‘রাজ্জাক’ সেই সত্তা যিনি প্রত্যেক মাখলুকের কাছে তার প্রয়োজনমাফিক রিযিক পৌঁছে দেন। সেই রিযিকের কল্যাণে মাখলুক জীবিকা নির্বাহ করে。
এটি এমন একটি গুণ যা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। কেননা সমস্ত মাখলুকের রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর কাছেই। সবল-দুর্বল, ছোট-বড়, মুসলমান-কাফের নির্বিশেষে সকলকেই তিনি রিযিক দান করেন。
তবে আল্লাহ তাআলা প্রতিটি জিনিস অর্জনের জন্য মাধ্যম রেখেছেন। যে মাধ্যমের দ্বারা মাখলুকের কাছে রিযিক এসে পৌঁছে। রিযিক গ্রহণ করার জন্য পন্থা অবলম্বন করা অনিবার্য ও অত্যাবশ্যক; তবে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর উপরও অবশ্যই ভরসা রাখতে হবে。
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথাযথভাবে ভরসা কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে এভাবে রিযিক দান করবেন যেভাবে পাখিকে দান করেন। পাখি প্রত্যুষে ক্ষুধার্ত হয়ে ঘর থেকে বের হয় আর সন্ধ্যায় ভরপেটে ফিরে আসে। (ইবনে মাজা)।
رزقه يأتيه ব্যক্তির কাছে তার জন্যে বরাদ্দ রিযিক আসবেই
স্পঞ্জ প্রাণীরা সমুদ্রের গভীরে বসবাস করে। তারা নিজেদের জায়গা থেকে নড়ে না। তাই মানুষ তাকে উদ্ভিদ ভাবে। ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী জন ইলস এই প্রাণীর ব্যাখ্যামূলক বৃত্তান্ত পেশ করেন。
স্পঞ্জ প্রাণী যেহেতু নিজেদের জায়গা থেকে নড়ে না তাই আল্লাহ তার কাছেই তার রিযিককে পাঠিয়ে দেন। সেগুলো সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম সৃষ্টির মতই দাঁড়িয়ে থাকে। বড়জোর একান্ত সীমিত বৃত্তে অদ্ভুৎ শারীরিক ভঙ্গিমায় সাঁতার কেটে বেড়ায়।