📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প 📄 আল বারি-উ

📄 আল বারি-উ


‘বারি-উ’ এর অর্থ হল- তিনি সব রকমের রোগ থেকে মুক্তিদাতা। সব ধরনের দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্রতা দানকারী。
তিনি সমস্ত জীব ও উদ্ভিদের মধ্যে জীবন দান করেন। তিনিই সমস্ত জিনিস সৃষ্টি করেছেন পূর্বের কোন দৃষ্টান্ত ছাড়াই। তিনি সব কিছুকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দিতে সক্ষম।
যে ব্যক্তি মেনে নিল যে, আল্লাহ তাআলা বারি-উ, তার হৃদয় সর্বপ্রকার দুঃখ-কষ্ট থেকে প্রশান্তি লাভ করবে। তার হৃদয়ে থাকবে না অহঙ্কার ও প্রতারণার কোন বীজ।
الصابر على البلاء চরম বিপদের মুখেও ধৈর্যের প্রতিমূর্তি
আল্লাহর নবী হযরত আইয়ুব আ. অসুস্থ হলেন। মানুষ তার প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠল। .... বন্ধু-বান্ধব তাকে ছেড়ে চলে গেল। .... তাঁর পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীরাও তাকে একা ফেলে গেল। ....
কেউ আর ফিরে আসল না। তাকে দেখাশোনা করার আর কেউ রইল না। .... কেউ তার খোঁজ খবর নিল না। শুধু তার পুণ্যবতী স্ত্রী ছাড়া। ....
এই বিপদ আর অসুস্থতা হযরত আইয়ুব আ. এর জন্য কঠিন হয়ে উঠল। একসময় এলাকার মানুষ তাকে গ্রাম থেকেই বের করে দিল। যেন তার রোগ আর কাউকে স্পর্শ করতে না পারে。
এভাবেই পার হয়ে গেল অনেকগুলো বছর। ..... এই অসুস্থতার মধ্যেই। .....
কিন্তু কোন কিছুই এই ধৈর্য্যশীল ও শুকরগুজার নবীকে আল্লাহ পাকের যিকির, প্রশংসা ও তাঁর কাছে দুআ করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি。
একসময় আল্লাহ তা'আলা তাঁর দুআ কবুল করলেন। .... তাঁকে রোগ থেকে মুক্তি দিলেন। .... তাঁকে তাঁর হারানো সবকিছু ফিরিয়ে দিলেন। ..... তাঁর সন্তান-সন্ততি ..... তাঁর ধন-সম্পদ। .....
কিন্তু এগুলো আইয়ুব আ. এর শোকর আর আল্লাহর প্রশংসাকেই বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপরও তিনি আল্লাহর শোকর আদায় করছেন। তাঁর গুণকীর্তন করেছেন। গোপনে ..... প্রকাশ্যে ...... দিনে ..... রাতে।.....

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প 📄 আল মুছাওয়ির

📄 আল মুছাওয়ির


‘মুসাওয়ির’ শব্দের অর্থ হল- যিনি এই বিশ্বজগতের সবকিছুকে নিরূপম অবয়ব দান করেছেন। যিনি সেগুলোকে চমৎকার হৃদয়কাড়া আকৃতি দান করেছেন। যিনি সৃষ্টিজগতকে পরিপূর্ণ চিত্র দিয়েছেন。
যিনি প্রতিটি সৃষ্টির জন্য তার প্রয়োজন মাফিক সবকিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম। তার সৃষ্টির মাঝে .... তার অবয়ব অনুসারে। .....
তিনি পাখির জন্য সৃষ্টি করেছেন দুটি পাখা; যেন সে তার মাধ্যমে উড়তে পারে। ..... চতুষ্পদ জন্তুকে দিয়েছেন ক্ষুর; যার উপর ভর দিয়ে সে হাঁটতে পারে। ....
উদ্ভিদের জন্য সৃষ্টি করেছেন পাতা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও এই উদ্ভিদ পানি পায়। তাই জলহীন মরুভূমিতেও তা জন্মায় ও দিব্যি বেঁচে থাকে。
ذيول .... و ..... ذيول লেজযুক্ত প্রাণীর বিস্ময়কর তথ্য
* বিড়াল আর কুকুরের লেজ: তা চলার সময় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের জন্য প্রয়োজন হয়। ময়ূরপুচ্ছর মত মাছি তাড়াতেও কাজে লাগে。
* দুম্বার লেজ : এটাকে খাবারের খাজানা বলা হয়। সেখানে তার দেহের চর্বিগুলো জমা থাকে。
* বানরের লেজ : এটি তার তৃতীয় হাতের কাজ করে। এর দ্বারা সে গাছের ডালে ডালে ঝুলে থাকে। এই লেজ তাকে দ্রুত ও ক্ষিপ্রতার সঙ্গে এদিক সেদিক যেতে সাহায্য করে。
* ক্যাঙ্গারুর লেজ : বসার সময় সে তার উপর ভর দেয়। লাফ দেয়ার সময় তা তাকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে。
* বীবরের (লম্বা লেজ বিশিষ্ট লাল বর্ণের বণ্য প্রাণী) লেজ : সাঁতার কাটার সময় এই লেজ তাকে পাখির ডানার মত সাহায্য করে। দিক পরিবর্তনের সময়ও নৌকার হালের মত কাজে লাগে。
* টিকটিকির লেজ : যখন তার উপর কোন শত্রু ঝাপিয়ে পড়ে, তখন এই লেজই প্রথম কাটা পড়ে। তখন তা দ্রুত নড়তে থাকে। ফলশ্রুতিতে সে শিকারীর দৃষ্টিকে সেদিকেই ঘুরিয়ে রাখে। এভাবে সে পালিয়ে গিয়ে নিজের আত্মরক্ষা করে। কিছু দিন পর আবার সেখানে নতুন লেজ গজিয়ে ওঠে。
* বিচ্ছুর লেজ : বিচ্ছু তার লেজে একটি সূঁই বহন করে বেড়ায়। যখন সে কামড় দেয় তখন তার ভেতর থেকে বিষ বের হয়。
* মাছের লেজ : এই লেজ তাকে জলস্রোতে পরিচালিত করে। ক্ষেত্রবিশেষে এটি তার জন্যে রক্ষাকবচ হয়ে থাকে। এই লেজ পানিতে তাকে সহজভাবে নড়াচড়া ও ঘুরাফেরা করতে সহযোগিতা করে。
* পাখির লেজ : এই লেজ তাকে উড়তে সাহায্য করে। ডানা থাকা সত্ত্বেও সে লেজ ছাড়া কিছুতেই উড়তে পারবে না。

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প 📄 আল গাফ্‌ফার

📄 আল গাফ্‌ফার


‘গাফফার’ শব্দের অর্থ হল- অধিক ক্ষমাশীল। গাফ্ফার হলেন ঐ সত্তা, যিনি মানুষের গুনাহ আবৃত রাখেন। মানুষের গুনাহ থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখেন। তিনি তাওবার মাধ্যমে গুনাহগারকে ক্ষমা করেন। এর ফলে সে পৃথিবীতে অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা পায় এবং আখেরাতে আযাব থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে。
যে ব্যক্তি গুনাহ ও আল্লাহ পাকের নাফরমানীতে সর্বদা লিপ্ত, আল্লাহ তা’আলা তাওবার কারণে তার জন্য ক্ষমার দরজাকে উন্মুক্ত করে দেন。
তিনি ইরশাদ করেন- আপনি বলুন, হে আমার বান্দারা! তোমরা যারা নিজেদের উপর সীমালঙ্ঘন করেছ; তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল। দয়ালু। (সূরা যুমার- আয়াত ৫৩)
توبة القاتل এক হত্যাকারীর তওবা
বর্ণিত আছে, অনেক অনেক বছর আগে বনী ঈসরাইলে বসবাস করত এক খুনি প্রকৃতির লোক। সে ৯৯ জন লোক হত্যা করেছে। একদিন সে তার অপরাধ বুঝতে পেরে তওবার উদ্দেশ্যে সে যুগের জনৈক আলেমের কাছে গেল। আলেম তাকে অবজ্ঞা করল এবং বলল, তোমার তওবা কিছুতেই কবুল হবে না। এ কথা শুনে লোকটি রেগে গিয়ে ঐ আলেমকেও হত্যা করে ফেলল। এভাবে তার ১০০ খুন পূর্ণ হল。
যদিও সে ক্রোধের বশে এ হত্যাকাণ্ডটি করেছিলো; কিন্তু এরপর সে মনে মনে অনুশোচনায় দগ্ধ হতে লাগল। তখন সে আরেকজন আলেমের কাছে গেল। তার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলল। ঘটনা শুনে আলেম বললেন, তোমার জন্য সুসংবাদ আছে। তোমার তওবা কবুল হবে। বান্দা যখন খালেছ নিয়তে তওবা করে তখন তার তওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন। তিনি লোকটিকে অন্য একটি গ্রামে চলে যেতে বললেন এবং সেখানেই নতুন করে জীবন যাপন করতে বললেন। কেননা সেই গ্রামে আল্লাহর নেক বান্দারা বসবাস করত।
লোকটি রওয়ানা হল। কিন্তু পথেই লোকটির মৃত্যু হয়ে গেল। তার রূহ উঠিয়ে নিতে সেখানে রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতা দু'দলই চলে আসল। তারা পরষ্পর মতনৈক্য শুরু করে দিল。
রহমতের ফেরেশতারা বলল, সে জান্নাতে যাবে। কেননা সে তাওবা করার নিয়তে বের হয়েছে। আর আযাবের ফেরেশতা বলল, সে জাহান্নামে যাবে। কেননা সে ১০০ জন মানুষতে হত্যা করেছে。
এমতাবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তাদের মাঝে ফায়সালা করার জন্য একজন ফেরেশতা পাঠালেন। তিনি দু'পাশের জমিন মেপে দেখলেন। দেখা গেল তাওবার দিকের রাস্তাটি লোকটির নিজের বাড়ির রাস্তা থেকে এক হাত পরিমাণ কম। অর্থ্যাৎ, তাওবা করার জন্য যেদিকে যাচ্ছিল সে পথটিই নিকটবর্তী। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প 📄 আল কাহ্হার

📄 আল কাহ্হার


‘কাহ্হার’ ঐ সত্তা যার রয়েছে পুরো বিশ্বজগতের উপর প্রবল ক্ষমতা। এই জগতের সবকিছুই তাঁর ক্ষমতা ও শক্তির কাছে নীত। আল্লাহর ইচ্ছের বাইরে তাঁর পৃথিবীতে কর্তৃত্ব ও প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা কোনো সৃষ্টিজীবের নেই।। ক্ষমতাশীলদের ও জালেমদেরকে তিনিই ক্ষমতা দান করেছেন。
এই বিশ্বজগত আল্লাহর দেয়া নির্ধারিত বিধান মোতাবেক চলে। তাঁর দেয়া বিধান লংঘিত হলে এই ভূ-মণ্ডলে সৃষ্টি হবে বিরাট ত্রুটি। ভেঙ্গে পড়বে পৃথিবীর শৃঙ্খলা। জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। সূর্য যদি তার অবস্থান থেকে সৎসামান্য নিচে নেমে আসে তাহলে কী হবে? নদী-নালা সব শুকিয়ে যাবে। গাছ-পালা সব পুড়ে ভস্ম হয়ে যাবে। ফলে পৃথিবীর বুকে জীবন ধারণই হয়ে উঠবে দূর্বিষহ。
আর যদি একটু দূরে চলে যায় তাহলে? জীবন স্তব্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বমণ্ডলই মারা পড়বে。
هل تعلم؟ তুমি কি জান?
* সূর্য তারা থেকে পৃথিবীর অধিক নিকটবর্তী? সূর্য ভয়ঙ্কর এক গ্যাস বলের মত। তার উষ্ণতা প্রায় ১৫ মিলিয়ন শতাংশ。
* পৃথিবী থেকে সূর্য প্রায় ১০৯ মিলিয়ন গুণ বড়। আর সূর্যের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের তিন লাখ মিলিয়ন বড়। সূর্য পৃথিবী থেকে ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
* সূর্য নিজ কক্ষপথে ঘুরছে যেমনটি পৃথিবী ঘুরছে। নক্ষত্রপুঞ্জের মাঝে পরিপূর্ণভাবে একবার প্রদক্ষিণ করতে লাগে সূর্যের ২২৫ বছর লাগে। অথচ সূর্য তার কক্ষপথে প্রতি সেকেন্ডে ১৯.৩ কিলোমিটার বেগে প্রদক্ষিণ করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px