📄 আল মুতাকাব্বির
আল মুতাকাব্বির
মুতাকাব্বির শব্দের অর্থ হল-
আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টির যাবতীয় গুণাবলী থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। তিনি সবধরনের দোষ-ত্রুটি থেকেও মুক্ত। সৃষ্টিজীবের দুর্বলতা থেকে অনেক উচ্চে। আল্লাহ তা'আলা একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি একক সত্তা। তার কোন দৃষ্টান্ত নেই। নেই কোন সমকক্ষ。
আর মানুষের ক্ষেত্রে তাকাব্বরের অর্থ হল -
আত্মপরিচয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যার কারণে নিজেকে অন্যের থেকে বড় মনে হয়। নিজেই নিজের কাজের উপর গর্ববোধ করে। অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। পরিশেষে মানুষের উপর অন্যায় ও জুলুম করতে থাকে。
مَنْ تَوَاضَعَ لِلَّهِ رَفَعَهُ الله যে ব্যাক্তি আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (আল হাদীস)
বিনয়ের এক অসাধারণ গল্প শোন...
ইসলামের পঞ্চম খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ.। তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ বিনয়ী বাদশাহ। একদিন তার কাছে তার এক বন্ধু আসল। লোকটি ছিলো বাদশাহর অন্যতম উপদেষ্টা। তিনি তার পরামর্শগুলো গভীর মনোযোগের সঙ্গে গ্রহণ করতেন। লোকটি বলল-
আপনার ছেলে একটি আংটি ক্রয় করেছে, যার মধ্যে অতি মূল্যবান একটি পাথর রয়েছে। আংটিটির মূল্য প্রায় এক হাজার দিনার হবে。
এ কথা শুনে খলীফার চেহারায় চিন্তার ছাপ দেখা দিল। ক্রমশ সেখানে ক্রোধের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠল। তিনি তৎক্ষণাৎ ছেলেকে ডেকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বললেন-
শুনলাম তুমি এক হাজার দিনার দিয়ে একটি আংটি ক্রয় করেছ? সেটা এখুনি বিক্রি করে দাও। সেই টাকা দিয়ে এক হাজার ক্ষুধার্তকে খাওয়াও। আর একটি লোহার আংটি ক্রয় করে নাও। সেই আংটিটির উপর লিখবে- 'আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তির উপর দয়া করেন যে নিজের মূল্য বুঝে'।
📄 আল খালেক
‘খালেক’ শব্দের অর্থ হল- সৃষ্টিকрта। তিনি ঐ সত্তা যিনি দৃশ্য-অদৃশ্য সমস্ত জিনিস সৃষ্টি করেছেন।
পুরো জাহানকে অস্তিত্ব দান করেছেন নিজ কুদরতে। একেবারে শূন্য থেকে। কারো সাহায্য ছাড়াই। কারো সহযোগিতা ছাড়াই।
মানুষ যা কিছুই সৃষ্টি করে, তার সবকিছুই সে করে থাকে একমাত্র আল্লাহ তাআলার কুদরতে। তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন তাকে জ্ঞান ও বুদ্ধি。
তিনিই মানুষকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পথ দেখান। যেন মানুষ কোন জিনিস তৈরি করে সেটিকে পূর্ণাঙ্গতা দিতে পারে。
তিনিই জীবনের উপাদান ও কাজের উৎসমূলকে মানুষের আজ্ঞাবহ করে দিয়েছেন। মানুষেরই খেদমতের জন্য।
قدرة الله تتجلى في خلقه আল্লাহর কুদরত তার সৃষ্টির মাঝেই প্রস্ফুটিত
কীট-পতঙ্গের জগৎ অনেক সুন্দর ও বিস্ময়কর। তুমি কি তা জান? পৃথিবীতে প্রায় দশ মিলিয়ন কীট-পতঙ্গ আছে। আমাদের আধুনিক বিজ্ঞান প্রতি বছর তার মাত্র আট দশ হাজার নতুন প্রজাতি উদ্ঘাটন করতে পারছে。
ছোট গোবরে পোকা হল সবচেয়ে ছোট কীট। তার উচ্চতা এক সেন্টিমিটারের চার ভাগের এক ভাগের বেশী হয় না। আর আর সবচেয়ে বড় গুবড়ে পোকার উচ্চতা সর্বোচ্চ দশ সেন্টিমিটার
আর পশম খেয়ে ফেলে এমন প্রজাপতির ডানার উচ্চতা হল ২৫ সেন্টিমিটার。
সাগরের মাঝে এক ধরনের প্রাণী রয়েছে, যেগুলোর অবয়ব স্থলভাগের মাছির মতো। সেগুলোর মাঝে প্রায় ত্রিশ হাজারের মতো প্রজাতির রয়েছে。
সামান্য কীট-পতঙ্গেরই আল্লাহ তাআলা রেখেছেন কত বিপুল বৈচিত্র। তাহলে চিন্তা করে দেখ! পুরো সৃষ্টিকুলের মধ্যে রয়েছে কি বিশাল বৈচিত্র!!!
📄 আল বারি-উ
‘বারি-উ’ এর অর্থ হল- তিনি সব রকমের রোগ থেকে মুক্তিদাতা। সব ধরনের দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্রতা দানকারী。
তিনি সমস্ত জীব ও উদ্ভিদের মধ্যে জীবন দান করেন। তিনিই সমস্ত জিনিস সৃষ্টি করেছেন পূর্বের কোন দৃষ্টান্ত ছাড়াই। তিনি সব কিছুকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব দিতে সক্ষম।
যে ব্যক্তি মেনে নিল যে, আল্লাহ তাআলা বারি-উ, তার হৃদয় সর্বপ্রকার দুঃখ-কষ্ট থেকে প্রশান্তি লাভ করবে। তার হৃদয়ে থাকবে না অহঙ্কার ও প্রতারণার কোন বীজ।
الصابر على البلاء চরম বিপদের মুখেও ধৈর্যের প্রতিমূর্তি
আল্লাহর নবী হযরত আইয়ুব আ. অসুস্থ হলেন। মানুষ তার প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠল। .... বন্ধু-বান্ধব তাকে ছেড়ে চলে গেল। .... তাঁর পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীরাও তাকে একা ফেলে গেল। ....
কেউ আর ফিরে আসল না। তাকে দেখাশোনা করার আর কেউ রইল না। .... কেউ তার খোঁজ খবর নিল না। শুধু তার পুণ্যবতী স্ত্রী ছাড়া। ....
এই বিপদ আর অসুস্থতা হযরত আইয়ুব আ. এর জন্য কঠিন হয়ে উঠল। একসময় এলাকার মানুষ তাকে গ্রাম থেকেই বের করে দিল। যেন তার রোগ আর কাউকে স্পর্শ করতে না পারে。
এভাবেই পার হয়ে গেল অনেকগুলো বছর। ..... এই অসুস্থতার মধ্যেই। .....
কিন্তু কোন কিছুই এই ধৈর্য্যশীল ও শুকরগুজার নবীকে আল্লাহ পাকের যিকির, প্রশংসা ও তাঁর কাছে দুআ করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি。
একসময় আল্লাহ তা'আলা তাঁর দুআ কবুল করলেন। .... তাঁকে রোগ থেকে মুক্তি দিলেন। .... তাঁকে তাঁর হারানো সবকিছু ফিরিয়ে দিলেন। ..... তাঁর সন্তান-সন্ততি ..... তাঁর ধন-সম্পদ। .....
কিন্তু এগুলো আইয়ুব আ. এর শোকর আর আল্লাহর প্রশংসাকেই বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপরও তিনি আল্লাহর শোকর আদায় করছেন। তাঁর গুণকীর্তন করেছেন। গোপনে ..... প্রকাশ্যে ...... দিনে ..... রাতে।.....
📄 আল মুছাওয়ির
‘মুসাওয়ির’ শব্দের অর্থ হল- যিনি এই বিশ্বজগতের সবকিছুকে নিরূপম অবয়ব দান করেছেন। যিনি সেগুলোকে চমৎকার হৃদয়কাড়া আকৃতি দান করেছেন। যিনি সৃষ্টিজগতকে পরিপূর্ণ চিত্র দিয়েছেন。
যিনি প্রতিটি সৃষ্টির জন্য তার প্রয়োজন মাফিক সবকিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম। তার সৃষ্টির মাঝে .... তার অবয়ব অনুসারে। .....
তিনি পাখির জন্য সৃষ্টি করেছেন দুটি পাখা; যেন সে তার মাধ্যমে উড়তে পারে। ..... চতুষ্পদ জন্তুকে দিয়েছেন ক্ষুর; যার উপর ভর দিয়ে সে হাঁটতে পারে। ....
উদ্ভিদের জন্য সৃষ্টি করেছেন পাতা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও এই উদ্ভিদ পানি পায়। তাই জলহীন মরুভূমিতেও তা জন্মায় ও দিব্যি বেঁচে থাকে。
ذيول .... و ..... ذيول লেজযুক্ত প্রাণীর বিস্ময়কর তথ্য
* বিড়াল আর কুকুরের লেজ: তা চলার সময় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের জন্য প্রয়োজন হয়। ময়ূরপুচ্ছর মত মাছি তাড়াতেও কাজে লাগে。
* দুম্বার লেজ : এটাকে খাবারের খাজানা বলা হয়। সেখানে তার দেহের চর্বিগুলো জমা থাকে。
* বানরের লেজ : এটি তার তৃতীয় হাতের কাজ করে। এর দ্বারা সে গাছের ডালে ডালে ঝুলে থাকে। এই লেজ তাকে দ্রুত ও ক্ষিপ্রতার সঙ্গে এদিক সেদিক যেতে সাহায্য করে。
* ক্যাঙ্গারুর লেজ : বসার সময় সে তার উপর ভর দেয়। লাফ দেয়ার সময় তা তাকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে。
* বীবরের (লম্বা লেজ বিশিষ্ট লাল বর্ণের বণ্য প্রাণী) লেজ : সাঁতার কাটার সময় এই লেজ তাকে পাখির ডানার মত সাহায্য করে। দিক পরিবর্তনের সময়ও নৌকার হালের মত কাজে লাগে。
* টিকটিকির লেজ : যখন তার উপর কোন শত্রু ঝাপিয়ে পড়ে, তখন এই লেজই প্রথম কাটা পড়ে। তখন তা দ্রুত নড়তে থাকে। ফলশ্রুতিতে সে শিকারীর দৃষ্টিকে সেদিকেই ঘুরিয়ে রাখে। এভাবে সে পালিয়ে গিয়ে নিজের আত্মরক্ষা করে। কিছু দিন পর আবার সেখানে নতুন লেজ গজিয়ে ওঠে。
* বিচ্ছুর লেজ : বিচ্ছু তার লেজে একটি সূঁই বহন করে বেড়ায়। যখন সে কামড় দেয় তখন তার ভেতর থেকে বিষ বের হয়。
* মাছের লেজ : এই লেজ তাকে জলস্রোতে পরিচালিত করে। ক্ষেত্রবিশেষে এটি তার জন্যে রক্ষাকবচ হয়ে থাকে। এই লেজ পানিতে তাকে সহজভাবে নড়াচড়া ও ঘুরাফেরা করতে সহযোগিতা করে。
* পাখির লেজ : এই লেজ তাকে উড়তে সাহায্য করে। ডানা থাকা সত্ত্বেও সে লেজ ছাড়া কিছুতেই উড়তে পারবে না。