📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল আযীয

📄 আল আযীয


‘আল আযীয’- যার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। যিনি বিজয়ী। যার উপর প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা কারো নেই। সৃষ্টিজীব তার মুখাপেক্ষী। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন。
মানুষের উচিৎ সেই আল্লাহর কাছে নিজেকে সোপর্দ করা। আল্লাহ ছাড়া সে অন্য কারো বশ্যতা স্বীকার করবে না। তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদত করবে না। মানুষ নিজের সম্মান খুঁজে পাবে আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও তাঁর নৈকট্য হাসিলের মাঝে। তাই বান্দা আল্লাহর জন্যই বিনয় অবলম্বন করবে। তাঁকে যেন অহঙ্কার ও সৃষ্টিজীবের কারো উপর প্রবঞ্চনা গ্রাস না করে।
انا ذاك الرجل আমিই সেই লোক
এক ব্যক্তি হজ্বে গেল। সে তওয়াফ করা অবস্থায় দেখল, এক ব্যক্তিকে ঘিরে রয়েছে প্রচুর সংখ্যক লোক। সেখানে জড়ো হয়েছে অনেক গোলাম ও খাদেম। তারা তার জন্য রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছে। তার এই অহঙ্কার দেখে সে বড়ই আশ্চর্য হল। কাবাঘরের সামনে সে নিজের বড়ত্ব দেখাচ্ছে! অথচ হজ্বও পালন করছে!
লোকটি হজ্ব সেরে বাড়িতে ফিরে আসল। এভাবেই কেটে গেল অনেক বছর। একদিন সে রাস্তায় তালিযুক্ত কাপড় পরিহিত এক ফকিরকে দেখতে পেলো। সে রাস্তায় চলাচলকারী লোকদের কাছে গিয়ে গিয়ে ভিক্ষার হাত পাতছে। যখন সে ফকিরের নিকটে গেল তখন প্রচণ্ড বিস্মিত হলো। খুবই হতবাক হলো। নির্বাক তাকিয়ে থাকল ফকিরের দিকে। তখন ফকির তার দিকে না তাকিয়েই বলল-
তুমি মনে হয় আমাকে সেই লোক মনে করছ যাকে অনেক বছর আগে তাওয়াফের সময় দেখেছিলে। হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি। আমি এমন জায়গায় অহঙ্কার করেছিলাম যেখানে মানুষ বিনয়ী হয়। তাই আল্লাহ তাআলা আমাকে এমন স্থানে নামিয়ে দিলেন, যেখানে মানুষ চূড়ান্ত অপমান-অপদস্থ হয়।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল জাব্বার

📄 আল জাব্বার


'আল জাব্বার'- তিনি তাঁর বান্দাদের অবস্থা সংশোধন করেন। নিজ কুদরতে তাদের চাহিদা পূরণ করেন। তাদের দুআ কবুল করেন ও প্রয়োজন পূরণ করেন。
জাব্বারের আরেকটি অর্থ হল - যার রাজত্ব থেকে কেউ বের হতে পারে না। যার ইচ্ছাই তার সৃষ্টির মাঝে বাস্তবায়ন হয়。
সুতরাং যে ব্যক্তি জানবে যে, একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই জাব্বার। তিনিই দুর্বলকে সবল করেন। তিনিই প্রত্যেক জালেমের উপর কর্তৃত্বকারী, সেই ব্যক্তির অন্তর থেকে সব রকমের দুশ্চিন্তা দূরীভূত হয়ে যাবে। তার দুঃখ লাঘব হয়ে যাবে। সে লাভ করবে অনাবিল প্রশান্তি। কোন কাজেই সে আল্লাহ ছাড়া আর কারো কথা চিন্তা করবে না। বিপদ-আপদে আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছেই কোন আশা করবে না。
صاحب المزرعة শষ্যক্ষেতের মালিক
এক ধনী বৃদ্ধ লোক ছিল। অনেক দরিদ্র কৃষক তার অধীনে কাজ করত। কিন্তু লোকটি ছিল খুব অত্যাচারী। তার স্বভাব ছিলো খুবই রুক্ষ। সে শষ্যক্ষেতে কৃষকদের উপর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কষ্টকর কাজ চাপিয়ে দিত。
তার এক ছেলে ছিল। ছেলেটি ছিলো তার বাবার সম্পূর্ণ বিপরীত। ছেলেটি ওই কৃষকদেরকে মন থেকে ভালোবাসত। তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত। বিপদে-আপদে তাদেরকে দান করত, তবে খুবই গোপনে, যাতে করে তার বাবা জানতে না পারে。
একদিন ছেলেটি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল। এমনকি মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতরাতে লাগল। তার কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন কিডনি স্থাপন করা আবশ্যক। বাবার একটিই চিন্তা, ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে হবে। বাবা দ্রুত ছুটল পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে। কোন দুর্ঘটন ঘটার আগেই কে দিবে তার ছেলেকে একটি কিডনী? তাকে মৃত্যু থেকে বাঁচাতেই হবে。
কিন্তু কেউ এগিয়ে এল না। এদিকে ছেলেটি দিন দিন শুকিয়ে যেতে লাগল। তার সুস্থতার আশা ক্রমশই ক্ষীণ হয়ে আসল。
একটি চমক অপেক্ষা করছিল বাবার জন্য। একদিন সে ছেলেকে দেখতে আসল। তখন সে দেখতে পেলো যে, ওই কৃষকদের একজন একটি কিডনী তাকে দিয়ে দিয়েছে। এমনকি কৃষকরা সেচ্ছায় তাকে কিডনী দেয়ার জন্য পরষ্পরে প্রতিযোগিতা করছে। এমনকি তারা এর জন্য কোন প্রতিদান নিতেও রাজি নয। তখন, তিনি বুঝতে পারলেন যে, তারা ওকে খুবই ভালোবাসে। কারণ সেও তাদেরকে ভালবেসেছিল।
এটা শুনে ছেলেটির বাবা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাল। তাদের কাছে ক্ষমা চাইল। লজ্জা ও অনুশোচনায় তার দু' গাল বেয়ে নেমে এলো অশ্রুধারা। এরপর থেকে সবাই শষ্যক্ষেতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে লাগল। একে অপরকে ভীষণ সাহায্য-সহযোগিতা করে। যেন তারা প্রত্যেকেই এই শষ্যক্ষেতের মালিক।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মুতাকাব্বির

📄 আল মুতাকাব্বির


আল মুতাকাব্বির
মুতাকাব্বির শব্দের অর্থ হল-
আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টির যাবতীয় গুণাবলী থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। তিনি সবধরনের দোষ-ত্রুটি থেকেও মুক্ত। সৃষ্টিজীবের দুর্বলতা থেকে অনেক উচ্চে। আল্লাহ তা'আলা একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। তিনি একক সত্তা। তার কোন দৃষ্টান্ত নেই। নেই কোন সমকক্ষ。
আর মানুষের ক্ষেত্রে তাকাব্বরের অর্থ হল -
আত্মপরিচয়কে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যার কারণে নিজেকে অন্যের থেকে বড় মনে হয়। নিজেই নিজের কাজের উপর গর্ববোধ করে। অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। পরিশেষে মানুষের উপর অন্যায় ও জুলুম করতে থাকে。
مَنْ تَوَاضَعَ لِلَّهِ رَفَعَهُ الله যে ব্যাক্তি আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (আল হাদীস)
বিনয়ের এক অসাধারণ গল্প শোন...
ইসলামের পঞ্চম খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ.। তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ বিনয়ী বাদশাহ। একদিন তার কাছে তার এক বন্ধু আসল। লোকটি ছিলো বাদশাহর অন্যতম উপদেষ্টা। তিনি তার পরামর্শগুলো গভীর মনোযোগের সঙ্গে গ্রহণ করতেন। লোকটি বলল-
আপনার ছেলে একটি আংটি ক্রয় করেছে, যার মধ্যে অতি মূল্যবান একটি পাথর রয়েছে। আংটিটির মূল্য প্রায় এক হাজার দিনার হবে。
এ কথা শুনে খলীফার চেহারায় চিন্তার ছাপ দেখা দিল। ক্রমশ সেখানে ক্রোধের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠল। তিনি তৎক্ষণাৎ ছেলেকে ডেকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বললেন-
শুনলাম তুমি এক হাজার দিনার দিয়ে একটি আংটি ক্রয় করেছ? সেটা এখুনি বিক্রি করে দাও। সেই টাকা দিয়ে এক হাজার ক্ষুধার্তকে খাওয়াও। আর একটি লোহার আংটি ক্রয় করে নাও। সেই আংটিটির উপর লিখবে- 'আল্লাহ তা'আলা ঐ ব্যক্তির উপর দয়া করেন যে নিজের মূল্য বুঝে'।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল খালেক

📄 আল খালেক


‘খালেক’ শব্দের অর্থ হল- সৃষ্টিকрта। তিনি ঐ সত্তা যিনি দৃশ্য-অদৃশ্য সমস্ত জিনিস সৃষ্টি করেছেন।
পুরো জাহানকে অস্তিত্ব দান করেছেন নিজ কুদরতে। একেবারে শূন্য থেকে। কারো সাহায্য ছাড়াই। কারো সহযোগিতা ছাড়াই।
মানুষ যা কিছুই সৃষ্টি করে, তার সবকিছুই সে করে থাকে একমাত্র আল্লাহ তাআলার কুদরতে। তিনিই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। দিয়েছেন তাকে জ্ঞান ও বুদ্ধি。
তিনিই মানুষকে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পথ দেখান। যেন মানুষ কোন জিনিস তৈরি করে সেটিকে পূর্ণাঙ্গতা দিতে পারে。
তিনিই জীবনের উপাদান ও কাজের উৎসমূলকে মানুষের আজ্ঞাবহ করে দিয়েছেন। মানুষেরই খেদমতের জন্য।
قدرة الله تتجلى في خلقه আল্লাহর কুদরত তার সৃষ্টির মাঝেই প্রস্ফুটিত
কীট-পতঙ্গের জগৎ অনেক সুন্দর ও বিস্ময়কর। তুমি কি তা জান? পৃথিবীতে প্রায় দশ মিলিয়ন কীট-পতঙ্গ আছে। আমাদের আধুনিক বিজ্ঞান প্রতি বছর তার মাত্র আট দশ হাজার নতুন প্রজাতি উদ্ঘাটন করতে পারছে。
ছোট গোবরে পোকা হল সবচেয়ে ছোট কীট। তার উচ্চতা এক সেন্টিমিটারের চার ভাগের এক ভাগের বেশী হয় না। আর আর সবচেয়ে বড় গুবড়ে পোকার উচ্চতা সর্বোচ্চ দশ সেন্টিমিটার
আর পশম খেয়ে ফেলে এমন প্রজাপতির ডানার উচ্চতা হল ২৫ সেন্টিমিটার。
সাগরের মাঝে এক ধরনের প্রাণী রয়েছে, যেগুলোর অবয়ব স্থলভাগের মাছির মতো। সেগুলোর মাঝে প্রায় ত্রিশ হাজারের মতো প্রজাতির রয়েছে。
সামান্য কীট-পতঙ্গেরই আল্লাহ তাআলা রেখেছেন কত বিপুল বৈচিত্র। তাহলে চিন্তা করে দেখ! পুরো সৃষ্টিকুলের মধ্যে রয়েছে কি বিশাল বৈচিত্র!!!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00