📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আর রহমান

📄 আর রহমান


‘আর রহমান’ ও ‘আর রহীম’ এ দু’টি শব্দের অর্থের মাঝে প্রচণ্ড মায়া, গভীর মমতা, সীমাহীন স্নেহ ও অসীম ভালোবাসা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে ‘আর রহমান’ শব্দের মাঝে ভালোবাসার গভীরতা বেশি। এ শব্দটিও মহান আল্লাহর সঙ্গে বিশিষ্ট। কোনো মানুষের ওপর এ শব্দটি প্রয়োগ করা যাবে না।
‘আর রহমান’ বলা হয়, যিনি সবসময় তাঁর বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। যাঁর রহমত বান্দার দুনিয়া ও আখেরাত; উভয় জাহানেই বেষ্টন করে আছে। এটি কোনো স্থান বা কালের সঙ্গে বিশিষ্ট নয়। এর বিপরীতে ‘আর রহীম’ শব্দটির অর্থ হলো, যাঁর রহমত শুধু তার বিশ্বাসী বান্দাদের ওপরই প্রযোজ্য। দ্বিতীয়ত ‘আর রহীম’ শব্দটি অর্থের বিবেচনায় অন্যদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।
আল্লাহ দয়াময়
পৃথিবীর বুকে আল্লাহর রহমত সবার জন্যেই উন্মুক্ত। তিনি মুমিন, কাফের, সৎ, অসৎ প্রত্যেকের ওপরই দয়া করে থাকেন। কিন্তু পরকালে তিনি কেবলমাত্র মুমিনদের ওপরই দয়া করবেন。
কাজেই আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো, নিজের মনের ভেতর দয়া ধারণ করা। ছোট, বড় প্রত্যেকের সঙ্গেই প্রীতিময় আচরণ করতে হবে। অসহায়-দরিদ্রদের প্রতি দয়া করতে হবে。
দয়ার প্রকাশ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'আল্লাহ রহমতকে একশো ভাগ করে এর নিরানব্বই ভাগ নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। অবশিষ্ট এক ভাগ গোটা সৃষ্টিজগতের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেই একভাগ রহমতের প্রভাবেই সৃষ্টিজগতের মাঝে মমত্বের প্রকাশ ঘটে থাকে।' [তিরমিযী শরীফ]
ফিশ ক্যাট : এই নামের একটি বিশেষ প্রজাতির মাছ রয়েছে। নিজ সন্তানের প্রতি মাছটির ভালোবাসা সত্যিই বিস্ময়কর। এ প্রজাতির মা মাছ তার ছানা মাছগুলোকে সবসময় মুখ গহ্বরে রেখে সাতার কাটে। এভাবে কয়েক সপ্তাহ মা মাছটি তার ছানাগুলোকে পরম যতনে প্রতিপালন করে। বাইরে কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ছানাগুলো মা মাছের মুখের গহ্বরে আত্মগোপন করে。
ক্যাঙ্গারু : যখন সে সন্তান প্রসব করে, তখন তার প্রসব করা ছানাটি খুবই দুর্বল হয়ে থাকে। গোটা দেহে সেসময় কোনো পশম থাকে না। এ সময় ছানার প্রয়োজন পড়ে নিবীড় পরিচর্যার। তোমরা শুনে অবাক হবে, এ সময় মা ক্যাঙ্গারু তার সন্তানকে পেট ও উরুর সন্ধিস্থলে অবস্থিত একটি থলেতে প্রতিপালন করে। ছানাটি বড় ও সবল না হওয়া পর্যন্ত এভাবে মা ক্যাঙ্গারু তার সন্তানকে লালন করে থাকে。
ভাবনার বিষয় হলো, গোটা সৃষ্টি জগতের মাঝে মাত্র এক ভাগ রহমত বিলিয়ে দেয়ার পরেও সামান্য মাছ-ক্যাঙ্গারু তার সন্তানের জন্য কতটা যত্নশীল! সেগুলো কতটা পরম মমতায় আবদ্ধ রাখছে তার ছানাদের !!!
তাহলে চিন্তা করে দেখুন, বাকি নিরানব্বই ভাগ রহমত যেই আল্লাহর কাছে সেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য তিনি কতটা যত্নশীল হবেন !!!

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আর রহীম

📄 আর রহীম


‘আর রহমান’ ও ‘আর রহীম’ এ দু’টি শব্দের অর্থের মাঝে প্রচণ্ড মায়া, গভীর মমতা, সীমাহীন স্নেহ ও অসীম ভালোবাসা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে ‘আর রহমান’ শব্দের মাঝে ভালোবাসার গভীরতা বেশি। এ শব্দটিও মহান আল্লাহর সঙ্গে বিশিষ্ট। কোনো মানুষের ওপর এ শব্দটি প্রয়োগ করা যাবে না।
‘আর রহমান’ বলা হয়, যিনি সবসময় তাঁর বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। যাঁর রহমত বান্দার দুনিয়া ও আখেরাত; উভয় জাহানেই বেষ্টন করে আছে। এটি কোনো স্থান বা কালের সঙ্গে বিশিষ্ট নয়। এর বিপরীতে ‘আর রহীম’ শব্দটির অর্থ হলো, যাঁর রহমত শুধু তার বিশ্বাসী বান্দাদের ওপরই প্রযোজ্য। দ্বিতীয়ত ‘আর রহীম’ শব্দটি অর্থের বিবেচনায় অন্যদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।
আল্লাহ দয়াময়
পৃথিবীর বুকে আল্লাহর রহমত সবার জন্যেই উন্মুক্ত। তিনি মুমিন, কাফের, সৎ, অসৎ প্রত্যেকের ওপরই দয়া করে থাকেন। কিন্তু পরকালে তিনি কেবলমাত্র মুমিনদের ওপরই দয়া করবেন。
কাজেই আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো, নিজের মনের ভেতর দয়া ধারণ করা। ছোট, বড় প্রত্যেকের সঙ্গেই প্রীতিময় আচরণ করতে হবে। অসহায়-দরিদ্রদের প্রতি দয়া করতে হবে。
দয়ার প্রকাশ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'আল্লাহ রহমতকে একশো ভাগ করে এর নিরানব্বই ভাগ নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। অবশিষ্ট এক ভাগ গোটা সৃষ্টিজগতের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেই একভাগ রহমতের প্রভাবেই সৃষ্টিজগতের মাঝে মমত্বের প্রকাশ ঘটে থাকে।' [তিরমিযী শরীফ]
ফিশ ক্যাট : এই নামের একটি বিশেষ প্রজাতির মাছ রয়েছে। নিজ সন্তানের প্রতি মাছটির ভালোবাসা সত্যিই বিস্ময়কর। এ প্রজাতির মা মাছ তার ছানা মাছগুলোকে সবসময় মুখ গহ্বরে রেখে সাতার কাটে। এভাবে কয়েক সপ্তাহ মা মাছটি তার ছানাগুলোকে পরম যতনে প্রতিপালন করে। বাইরে কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ছানাগুলো মা মাছের মুখের গহ্বরে আত্মগোপন করে。
ক্যাঙ্গারু : যখন সে সন্তান প্রসব করে, তখন তার প্রসব করা ছানাটি খুবই দুর্বল হয়ে থাকে। গোটা দেহে সেসময় কোনো পশম থাকে না। এ সময় ছানার প্রয়োজন পড়ে নিবীড় পরিচর্যার। তোমরা শুনে অবাক হবে, এ সময় মা ক্যাঙ্গারু তার সন্তানকে পেট ও উরুর সন্ধিস্থলে অবস্থিত একটি থলেতে প্রতিপালন করে। ছানাটি বড় ও সবল না হওয়া পর্যন্ত এভাবে মা ক্যাঙ্গারু তার সন্তানকে লালন করে থাকে。
ভাবনার বিষয় হলো, গোটা সৃষ্টি জগতের মাঝে মাত্র এক ভাগ রহমত বিলিয়ে দেয়ার পরেও সামান্য মাছ-ক্যাঙ্গারু তার সন্তানের জন্য কতটা যত্নশীল! সেগুলো কতটা পরম মমতায় আবদ্ধ রাখছে তার ছানাদের !!!
তাহলে চিন্তা করে দেখুন, বাকি নিরানব্বই ভাগ রহমত যেই আল্লাহর কাছে সেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য তিনি কতটা যত্নশীল হবেন !!!

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মালিক

📄 আল মালিক


‘আল মালিক’-এর অর্থ, যিনি সবকিছুর অধিপতি। যিনি সার্বভৌম একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। যিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, অথচ সবাই তাঁর-ই মুখাপেক্ষী। যিনি গোটা রাজত্বের অধিকারী। কাজেই জীবন, মরণ, পুনর্জীবন; সবকিছু একমাত্র তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর-ই নির্ভরশীল。
কাজেই যিনি এ কথা বুঝতে সমর্থ হবে যে, সবকিছুর একমাত্র আল্লাহই মালিক, তার কর্তব্য হবে, সর্বক্ষণ শুধু তাঁর কথাই স্মরণ করা। শয়নে-জাগরণে তাঁরই ধ্যান করা। কেননা প্রদান ও প্রত্যাহারের একমাত্র মালিক আল্লাহ。
মালিকের গোলাম
প্রখ্যাত সাধক শাকীক বালখী রহ.। তাঁর নাম তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছো। প্রথম জীবনে তিনি ততোটা আল্লাহমুখী ছিলেন না। সবসময় দুনিয়ার কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। তাঁর সময়ে একবার দেশে প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। দু' মুঠো অন্ন জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়ে। অভাব-অনটনের কারণে মানুষের মুখ থেকে হাসি মুছে গিয়েছিলো। আগত দিনগুলো কীভাবে কাটবে, তা নিয়ে লোকদের দুশ্চিন্তার অন্ত ছিলো না。
তখন শাকীক রহ. এক যুবককে দেখলেন সে সুখে স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করছে। অথচ মানুষের দুর্দশা তখন চরমে উঠে গেছে。
তিনি তখন যুবককে বললেন, তোমার এই প্রফুল্লতা কেন? তুমি কি মানুষের দুঃখ ও বিপদ দেখতে পাচ্ছ না?
যুবকটি উত্তরে বলল, কেন আমি চিন্তা বোধ করব অথচ আমার মালিকের রয়েছে বড় একটি গ্রামের মালিকানা?
যুবকের কথা শাকীক রহ. এর হৃদয়ে ভীষণ ভাবে আলোড়ন করল। তার চিন্তার মাঝে প্রভাব বিস্তার করল এবং তার ঘুমকে কেড়ে নিল। অত:পর গাফলত থেকে তিনি জেগে উঠলেন। তাঁর সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ল বাস্তবতা, যার থেকে এতদিন ছিলেন উদাসীন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে তাওবা করলেন। এবং বললেন, এই যুবকতো এক মাখলুকের গোলাম। অথচ সে কত সুখী! কোন চিন্তায়ই তার মনে রেখাপাত করছে না। কেননা তার মালিকের রয়েছে একটি গ্রাম। তাহলে আমি কেন চিন্তিত হব অথচ আল্লাহ আমার রব। যিনি এই মহা বিশ্বের মালিক!

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল কুদ্দূস

📄 আল কুদ্দূস


'আল কুদ্দুস' এর অর্থ- যিনি পবিত্রতার গুণে গুণান্বিত। দোষ-ত্রুটি এবং দুর্বলতা থেকে মুক্ত। যিনি মানবীয় গুণাবলীর থেকে অনেক ঊর্ধ্বে。
যে ব্যক্তি এই নামটির মর্মার্থ বুঝতে সক্ষম হবে তার জন্য করণীয় হল সে নিজেকে সব রকমের দোষ-ত্রুটি ও গুনাহ থেকে মুক্ত রাখবে। হারাম থেকে দূরে থাকবে। ছোট ছোট গুনাহ থেকেও বেঁচে থাকতে চেষ্টা করবে。
سر الفيروس المدمر ধ্বংসাত্মক গোপন ভাইরাসের রহস্য
ঘড়ির কাটা ভোর চারটার ঘরটিও অতিক্রম করেছে। নিরব নিস্তব্ধ প্রকৃতি। রাতের নির্জনতা ক্রমশ গাঢ় হয়ে একটু একটু করে ফ্যাকাশে হতে শুরু করেছে। মাহির তার বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে মাত্র। তার চেহারায় আনন্দ আর বিজয়ের রেখাগুলো চিকচিক করছে। সে তার কয়েকজন বন্ধুর কম্পিউটার থেকে মেসেঞ্জার হ্যাক' করে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং তাদের কম্পিউটারগুলোতে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। সে এই কাজ প্রায় করে থাকে。
কাজটি করে সে খুবই আনন্দ পায়। যদিও তার এই আনন্দের কারণে তাদের অনেক ক্ষতি হয়। তাদের কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তাদের জরুরী ফাইলগুলো নষ্ট হয়ে যায়。
আজকেও মাহির তার পরিচিত কয়েকজনকে বিশেষ ভাইরাসটি পাঠিয়েছে ই-মেইলের মাধ্যমে। ভাইরাসটি তৈরী করে তাদের আইডিতে পাঠাতে পাঠাতে অনেক রাত হয়ে গেল। কাল যখন তার বন্ধুরা তাদের কম্পিউটারের ইমেইল ওপেন করবে সাথে সাথে তাদের কম্পিউটারের ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়বে। সেটা চিন্তা করে মুচকি হাসতে হাসতে মাহির অনেক রাতে বিছানায় গেলো। কিন্তু আজ তার ঘুম আসছে না। সে বিছানায় আধশোয়া হয়ে এপাশ ওপাশ করছে। সম্ভবত এখন তার বিবেক অপরাধবোধে তাড়িত হচ্ছে। বন্ধু-বান্ধবদের উপর একটি নীরব দুঃখ অনুভব করছে। অনুশোচনা তাকে ঘিরে ফেলেছে। সে ঘুমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল。
ফজরের সময় হয়ে এল। হঠাৎ সে কারো পায়ের আওয়াজ শুনতে পেল। তার ঘরের দিকেই আসছে সেই আওয়াজ। সে দরজার কপাট খোলার আওয়াজ পেল। মাহির এগিয়ে গেল। দরোজার ফাক গলে সে দেখতে পেলো তার বড় ভাই মাহমুদকে। জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য তাকে ডাকতে এসেছে। দু' ভাইয়ের দৃষ্টি বিনিময় হল। সেই দৃষ্টিতে সৌহার্দ্য ছিল। ছিল খানিকটা নীরব তীরষ্কার। মাহমূদ একটিও শব্দও বলল না। শুধু ছোট ভাইয়ের কাঁধে স্নেহের হাতটি রেখেই দ্রুত সিড়ি দিয়ে নেমে গেল। মাহির বিস্ফারিত নেত্রে কিছু সময় দাঁড়িয়ে রইল। প্রচণ্ড লজ্জা ও অনুশোচনা তাকে গ্রাস করে ফেলেছে। বেশী সময় নিল না সে। সঙ্গে সঙ্গেই দরজাটি বন্ধ করে মসজিদের দিকে রওয়ানা হল। জামাত ধরতে হবে。
নামাজ পড়ে বাসায় ফিরে এল মাহির। এসেই প্রথম যে কাজটি সে করল, সেটা হল সে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ করল। তাদেরকে সতর্ক করে দিল যেন তারা তাদের ইনবক্সে পাঠানো ফাইলগুলো না খোলে। কেননা সেগুলো খোলার সঙ্গে সঙ্গেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাবে তাদের কম্পিউটার। অতপর সে দ্রুত সেগুলো দূর করে দিল, যেন বন্ধুদের জরুরী ফাইলগুলো নিরাপদ থাকে。

টিকাঃ
১. (গোপনে আরেকজনের ফাইলে ঢুকে তার সমস্ত তথ্য নিয়ে নেওয়া এবং অন্যের একাউন্ট নিজের দখলে নিয়ে নেয়াকে হ্যাকিং বলে)। -অনুবাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00