📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল্লাহ

📄 আল্লাহ


‘আল্লাহ’ একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। আল্লাহর সবক’টি নামের অর্থ এই এক শব্দের মাঝেই সন্নিবেশিত রয়েছে। এটি এমন একটি নাম, যা অন্য কারও ওপর প্রয়োগ হয় না। এর বিপরীতে অন্য নামগুলো অর্থের বিবেচনায় অন্য যে কারও ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে。
‘আল্লাহ’ নামটি ইসলামে প্রবেশের একমাত্র ফটক। প্রত্যেক মুসলমানকে অবশ্যই এ সাক্ষ্য দিতে হয়, আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল。
অনেকদিন আগের কথা
এক গ্রামে একজন সৎলোক বাস করতেন। একমাত্র তিনিই আল্লাহর ইবাদত করতেন। অন্যরা সবাই স্থানীয় একটি গাছের পূজা করতো。
গ্রামের লোকদেরকে তিনি অনেক বুঝিয়েছেন। তাদেরকে নসীহত করেছেন। কিন্তু লোকেরা তার কথায় কর্ণপাত করতো না। তারা উল্টো বিদ্রুপ করতো。
অবশেষে লোকটি সেই গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একদিন কুড়াল হাতে গাছটি কাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন তিনি। পথিমধ্যে শয়তান তার সামনে মানুষের আকৃতি ধারণ করে হাজির হলো। জিজ্ঞেস করলো, ভাই, তুমি কুড়াল হাতে কোথায় যাচ্ছ?
তিনি বললেন- লোকেরা আল্লাহকে ছেড়ে যেই গাছের পূজা করছে, সেটি কাটতে যাচ্ছি এবং সেটি না করে আমি বাড়ি ফিরবো না।
শয়তান বললো- আপনি যদি গাছটি না কেটে বাড়ি ফিরে যান, তাহলে আমি প্রতিদিন সকালে আপনার বালিশের নিচে এক থলে নগদ অর্থ দেবো。
অর্থের লোভে লোকটির মাথা নষ্ট হয়ে গেল। শয়তানের কথা শুনে তিনি বাড়ি ফিরে গেলেন এবং সকালবেলা বালিশের নিচে সে এক থলে অর্থ পেয়েও গেলেন। এভাবে অনেক দিন কেটে গেল। হঠাৎ একদিন অভ্যাস মতো বালিশের নিচে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন, সেখানে কোনো টাকা নেই। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে কুড়াল হাতে সেই গাছটির দিকে রওয়ানা হলেন। তিনি গাছটির কাছে এসে শয়তানকে দেখতে পেলেন। শয়তান সেখানে বেশ আয়েশ করে বসে আছে। কুড়াল হাতে লোকটিকে দেখতে পেয়ে শয়তান জিজ্ঞেস করলো, কী মনে করে এলে? লোকটি বললেন: আমি এই গাছটি কেটে ফেলবো।
তখন শয়তান তার দিকে চোখ রাঙিয়ে বললো- যদি তুমি এই গাছের কাছে আসো তাহলে আমি তোমার মুণ্ডু ফেলে দেবো。
লোকটি তখন অবাক হয়ে বললেন- আজ তোমার এতো সাহস কোত্থেকে এলো? গতবার তো তুমি আমাকে ভীষণ ভয় পেয়েছিলে।
শয়তান তখন দুষ্ট হেসে বললো- প্রথমবার যখন তুমি কুড়াল হাতে গাছটি কাটতে এসেছিলে, সেসময় তুমি আল্লাহর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা নিয়ে এসেছিলে। কিন্তু আজ তুমি এসেছো সম্পদের লালসায়।

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আর রহমান

📄 আর রহমান


‘আর রহমান’ ও ‘আর রহীম’ এ দু’টি শব্দের অর্থের মাঝে প্রচণ্ড মায়া, গভীর মমতা, সীমাহীন স্নেহ ও অসীম ভালোবাসা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে ‘আর রহমান’ শব্দের মাঝে ভালোবাসার গভীরতা বেশি। এ শব্দটিও মহান আল্লাহর সঙ্গে বিশিষ্ট। কোনো মানুষের ওপর এ শব্দটি প্রয়োগ করা যাবে না।
‘আর রহমান’ বলা হয়, যিনি সবসময় তাঁর বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। যাঁর রহমত বান্দার দুনিয়া ও আখেরাত; উভয় জাহানেই বেষ্টন করে আছে। এটি কোনো স্থান বা কালের সঙ্গে বিশিষ্ট নয়। এর বিপরীতে ‘আর রহীম’ শব্দটির অর্থ হলো, যাঁর রহমত শুধু তার বিশ্বাসী বান্দাদের ওপরই প্রযোজ্য। দ্বিতীয়ত ‘আর রহীম’ শব্দটি অর্থের বিবেচনায় অন্যদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।
আল্লাহ দয়াময়
পৃথিবীর বুকে আল্লাহর রহমত সবার জন্যেই উন্মুক্ত। তিনি মুমিন, কাফের, সৎ, অসৎ প্রত্যেকের ওপরই দয়া করে থাকেন। কিন্তু পরকালে তিনি কেবলমাত্র মুমিনদের ওপরই দয়া করবেন。
কাজেই আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো, নিজের মনের ভেতর দয়া ধারণ করা। ছোট, বড় প্রত্যেকের সঙ্গেই প্রীতিময় আচরণ করতে হবে। অসহায়-দরিদ্রদের প্রতি দয়া করতে হবে。
দয়ার প্রকাশ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'আল্লাহ রহমতকে একশো ভাগ করে এর নিরানব্বই ভাগ নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। অবশিষ্ট এক ভাগ গোটা সৃষ্টিজগতের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেই একভাগ রহমতের প্রভাবেই সৃষ্টিজগতের মাঝে মমত্বের প্রকাশ ঘটে থাকে।' [তিরমিযী শরীফ]
ফিশ ক্যাট : এই নামের একটি বিশেষ প্রজাতির মাছ রয়েছে। নিজ সন্তানের প্রতি মাছটির ভালোবাসা সত্যিই বিস্ময়কর। এ প্রজাতির মা মাছ তার ছানা মাছগুলোকে সবসময় মুখ গহ্বরে রেখে সাতার কাটে। এভাবে কয়েক সপ্তাহ মা মাছটি তার ছানাগুলোকে পরম যতনে প্রতিপালন করে। বাইরে কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ছানাগুলো মা মাছের মুখের গহ্বরে আত্মগোপন করে。
ক্যাঙ্গারু : যখন সে সন্তান প্রসব করে, তখন তার প্রসব করা ছানাটি খুবই দুর্বল হয়ে থাকে। গোটা দেহে সেসময় কোনো পশম থাকে না। এ সময় ছানার প্রয়োজন পড়ে নিবীড় পরিচর্যার। তোমরা শুনে অবাক হবে, এ সময় মা ক্যাঙ্গারু তার সন্তানকে পেট ও উরুর সন্ধিস্থলে অবস্থিত একটি থলেতে প্রতিপালন করে। ছানাটি বড় ও সবল না হওয়া পর্যন্ত এভাবে মা ক্যাঙ্গারু তার সন্তানকে লালন করে থাকে。
ভাবনার বিষয় হলো, গোটা সৃষ্টি জগতের মাঝে মাত্র এক ভাগ রহমত বিলিয়ে দেয়ার পরেও সামান্য মাছ-ক্যাঙ্গারু তার সন্তানের জন্য কতটা যত্নশীল! সেগুলো কতটা পরম মমতায় আবদ্ধ রাখছে তার ছানাদের !!!
তাহলে চিন্তা করে দেখুন, বাকি নিরানব্বই ভাগ রহমত যেই আল্লাহর কাছে সেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য তিনি কতটা যত্নশীল হবেন !!!

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আর রহীম

📄 আর রহীম


‘আর রহমান’ ও ‘আর রহীম’ এ দু’টি শব্দের অর্থের মাঝে প্রচণ্ড মায়া, গভীর মমতা, সীমাহীন স্নেহ ও অসীম ভালোবাসা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে ‘আর রহমান’ শব্দের মাঝে ভালোবাসার গভীরতা বেশি। এ শব্দটিও মহান আল্লাহর সঙ্গে বিশিষ্ট। কোনো মানুষের ওপর এ শব্দটি প্রয়োগ করা যাবে না।
‘আর রহমান’ বলা হয়, যিনি সবসময় তাঁর বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। যাঁর রহমত বান্দার দুনিয়া ও আখেরাত; উভয় জাহানেই বেষ্টন করে আছে। এটি কোনো স্থান বা কালের সঙ্গে বিশিষ্ট নয়। এর বিপরীতে ‘আর রহীম’ শব্দটির অর্থ হলো, যাঁর রহমত শুধু তার বিশ্বাসী বান্দাদের ওপরই প্রযোজ্য। দ্বিতীয়ত ‘আর রহীম’ শব্দটি অর্থের বিবেচনায় অন্যদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।
আল্লাহ দয়াময়
পৃথিবীর বুকে আল্লাহর রহমত সবার জন্যেই উন্মুক্ত। তিনি মুমিন, কাফের, সৎ, অসৎ প্রত্যেকের ওপরই দয়া করে থাকেন। কিন্তু পরকালে তিনি কেবলমাত্র মুমিনদের ওপরই দয়া করবেন。
কাজেই আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী প্রত্যেকের দায়িত্ব হলো, নিজের মনের ভেতর দয়া ধারণ করা। ছোট, বড় প্রত্যেকের সঙ্গেই প্রীতিময় আচরণ করতে হবে। অসহায়-দরিদ্রদের প্রতি দয়া করতে হবে。
দয়ার প্রকাশ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'আল্লাহ রহমতকে একশো ভাগ করে এর নিরানব্বই ভাগ নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। অবশিষ্ট এক ভাগ গোটা সৃষ্টিজগতের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সেই একভাগ রহমতের প্রভাবেই সৃষ্টিজগতের মাঝে মমত্বের প্রকাশ ঘটে থাকে।' [তিরমিযী শরীফ]
ফিশ ক্যাট : এই নামের একটি বিশেষ প্রজাতির মাছ রয়েছে। নিজ সন্তানের প্রতি মাছটির ভালোবাসা সত্যিই বিস্ময়কর। এ প্রজাতির মা মাছ তার ছানা মাছগুলোকে সবসময় মুখ গহ্বরে রেখে সাতার কাটে। এভাবে কয়েক সপ্তাহ মা মাছটি তার ছানাগুলোকে পরম যতনে প্রতিপালন করে। বাইরে কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ছানাগুলো মা মাছের মুখের গহ্বরে আত্মগোপন করে。
ক্যাঙ্গারু : যখন সে সন্তান প্রসব করে, তখন তার প্রসব করা ছানাটি খুবই দুর্বল হয়ে থাকে। গোটা দেহে সেসময় কোনো পশম থাকে না। এ সময় ছানার প্রয়োজন পড়ে নিবীড় পরিচর্যার। তোমরা শুনে অবাক হবে, এ সময় মা ক্যাঙ্গারু তার সন্তানকে পেট ও উরুর সন্ধিস্থলে অবস্থিত একটি থলেতে প্রতিপালন করে। ছানাটি বড় ও সবল না হওয়া পর্যন্ত এভাবে মা ক্যাঙ্গারু তার সন্তানকে লালন করে থাকে。
ভাবনার বিষয় হলো, গোটা সৃষ্টি জগতের মাঝে মাত্র এক ভাগ রহমত বিলিয়ে দেয়ার পরেও সামান্য মাছ-ক্যাঙ্গারু তার সন্তানের জন্য কতটা যত্নশীল! সেগুলো কতটা পরম মমতায় আবদ্ধ রাখছে তার ছানাদের !!!
তাহলে চিন্তা করে দেখুন, বাকি নিরানব্বই ভাগ রহমত যেই আল্লাহর কাছে সেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য তিনি কতটা যত্নশীল হবেন !!!

📘 আল আসমাউল হুসনা মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম ও গল্প > 📄 আল মালিক

📄 আল মালিক


‘আল মালিক’-এর অর্থ, যিনি সবকিছুর অধিপতি। যিনি সার্বভৌম একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। যিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, অথচ সবাই তাঁর-ই মুখাপেক্ষী। যিনি গোটা রাজত্বের অধিকারী। কাজেই জীবন, মরণ, পুনর্জীবন; সবকিছু একমাত্র তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর-ই নির্ভরশীল。
কাজেই যিনি এ কথা বুঝতে সমর্থ হবে যে, সবকিছুর একমাত্র আল্লাহই মালিক, তার কর্তব্য হবে, সর্বক্ষণ শুধু তাঁর কথাই স্মরণ করা। শয়নে-জাগরণে তাঁরই ধ্যান করা। কেননা প্রদান ও প্রত্যাহারের একমাত্র মালিক আল্লাহ。
মালিকের গোলাম
প্রখ্যাত সাধক শাকীক বালখী রহ.। তাঁর নাম তোমরা নিশ্চয়ই শুনেছো। প্রথম জীবনে তিনি ততোটা আল্লাহমুখী ছিলেন না। সবসময় দুনিয়ার কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। তাঁর সময়ে একবার দেশে প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। দু' মুঠো অন্ন জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়ে। অভাব-অনটনের কারণে মানুষের মুখ থেকে হাসি মুছে গিয়েছিলো। আগত দিনগুলো কীভাবে কাটবে, তা নিয়ে লোকদের দুশ্চিন্তার অন্ত ছিলো না。
তখন শাকীক রহ. এক যুবককে দেখলেন সে সুখে স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করছে। অথচ মানুষের দুর্দশা তখন চরমে উঠে গেছে。
তিনি তখন যুবককে বললেন, তোমার এই প্রফুল্লতা কেন? তুমি কি মানুষের দুঃখ ও বিপদ দেখতে পাচ্ছ না?
যুবকটি উত্তরে বলল, কেন আমি চিন্তা বোধ করব অথচ আমার মালিকের রয়েছে বড় একটি গ্রামের মালিকানা?
যুবকের কথা শাকীক রহ. এর হৃদয়ে ভীষণ ভাবে আলোড়ন করল। তার চিন্তার মাঝে প্রভাব বিস্তার করল এবং তার ঘুমকে কেড়ে নিল। অত:পর গাফলত থেকে তিনি জেগে উঠলেন। তাঁর সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ল বাস্তবতা, যার থেকে এতদিন ছিলেন উদাসীন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে তাওবা করলেন। এবং বললেন, এই যুবকতো এক মাখলুকের গোলাম। অথচ সে কত সুখী! কোন চিন্তায়ই তার মনে রেখাপাত করছে না। কেননা তার মালিকের রয়েছে একটি গ্রাম। তাহলে আমি কেন চিন্তিত হব অথচ আল্লাহ আমার রব। যিনি এই মহা বিশ্বের মালিক!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00