📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মনের মধ্যে সৃষ্ট কুমন্ত্রণা

📄 মনের মধ্যে সৃষ্ট কুমন্ত্রণা


৬২১-بَابُ الْوَسْوَسَة
১২৯৬- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَجِدُ فِي أَنْفُسِنَا شَيْئًا مَا نُحِبُّ أَنْ نَتَكَلَّمَ بِهِ وَإِنَّ لَنَا مَا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ قَالَ أَوَقَدْ وَجَدتُّمْ ذَلِكَ قَالُوا نَعَمْ قَالَ ذَاكَ صَرِيحُ الْإِيْمَانِ .
১২৯৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মনের মধ্যে এমন কিছু চিন্তার উদ্রেক হয় যা সূর্য উদিত হওয়ার পরিধির মধ্যকার (মূল্যবান) সবকিছুর বিনিময়েও কথায় প্রকাশ করা আমরা মোটেও সমীচীন মনে করি না। তিনি জিজ্ঞেস করেন: তোমরা কি তা অনুভব করো? তারা বলেন, হাঁ। তিনি বলেন: এটিই ঈমানের সুস্পষ্ট পরিচয় (মু, দা, হি)।
১২৯৭- عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَخَالِى عَلَى عَائِشَةَ فَقَالَ إِنَّ أَحَدَنَا يَعْرِضُ فِي صَدْرِهِ مَا لَوْ تَكَلَّمَ بِه ذَهَبَتْ أُخِرَتُهُ وَلَوْ ظَهَرَ لَقُتِلَ بِهِ قَالَ فَكَبَّرَتْ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ إِذَا كَانَ ذَلِكَ مِنْ أَحَدِكُمْ فَلْيُكَبِّرْ ثَلَاثًا فَإِنَّهُ لَنْ يُحِسُّ ذلكَ الا مُؤْمِنٌ .
১২৯৭। শাহ ইবনে হাওশাব (র) বলেন, আমি ও আমার মামা আয়েশা (রা)-র নিকট উপস্থিত হলাম। মামা বলেন, আমাদের কারো মনের মধ্যে এমন কিছুর উদ্রেক হয়, সে তা ব্যক্ত করলে তার আখেরাত ধ্বংস হয়ে যায় এবং তা প্রকাশ পেলে সেজন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। রাবী বলেন, আয়েশা (রা) তিনবার "আল্লাহু আকবার" ধ্বনি করার পর বলেন, এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন: তোমাদের কারো অন্তরে তা অনুভব করলে সে তিনবার 'আল্লাহু আকবার' বলবে। মুমিন ব্যক্তিই এটা অনুভব করে থাকে।
১২৯৮- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ الله الله لَنْ يَبْرَحَ النَّاسُ يَسْأَلُونَ عَمَّا لَمْ يَكُنْ حَتَّى يَقُولُوا اللَّهُ خَالِقُ كُلَّ شَيْءٍ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ .
১২৯৮। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: যা হয়নি সে সম্পর্কে লোকে অনবরত জিজ্ঞেস করতে থাকবে। শেষে সে বলবে, সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা হলেন আল্লাহ। তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে (বু, মু)?।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 অলীক ধারণা-অনুমান

📄 অলীক ধারণা-অনুমান


৬২২-بَابُ الظَّنِّ
১২৯৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ فَإِنَّ الظَّنَّ اكْذَبُ الحَدِيث وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا تَنَافَسُوا وَلَا تَدَابَرُوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تَبَاغَضُوا وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ اخْوَانًا
১২৯৯। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেন: ধারণা-অনুমান সম্পর্কে তোমরা সাবধান হও। কারণ অলীক ধারণা পোষণ সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তোমরা পরস্পর গোয়েন্দাগিরি করো না, ঝগড়া-বিবাদ করো না, অসাক্ষাতে দোষচর্চা করো না, হিংসা ও ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। আল্লাহর বান্দাগণ! সকলে ভাই ভাই হয়ে যাও (বু, মু, তি, ই, আ, হি)।
১ ৩০০- عَنْ أَنَسٍ قَالَ بَيْنَمَا النَّبِيُّ الله مَعَ امْرَأَةٍ مِّنْ نِّسَائِهِ إِذْ مَرَّ بِهِ رَجُلٌ فَدَعَاهُ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ يَا فُلاَنُ هُذِهِ زَوْجَتِي فُلانَةٌ قَالَ مَنْ كُنْتُ أَظُنُّ بِهِ فَلَمْ أَكُنْ أَظُنُّ بِكَ قَالَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِن ابْنِ أَدَمَ مَجْرَى الدَّم .
১ ৩০০। আনাস (রা) বলেন, একদা নবী (স) তাঁর কোন এক স্ত্রীর সাথে ছিলেন। তখন তাঁর নিকট দিয়ে এক ব্যক্তি অতিক্রম করলো। নবী (স) তাকে ডেকে বলেন : হে অমুক! ইনি আমার স্ত্রী অমুক। সে বললো, আমি হয়তো কারো সম্পর্কে ধারণা-অনুমান করতে পারি, কিন্তু আপনার সম্পর্কে কখনো ধারণা-অনুমান লিপ্ত হই না। তিনি বলেন : শয়তান রক্তপ্রবাহের মত মানুষের ভেতরে বিচরণ করে (দা)।
১৩০১- عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ مَا يَزَالُ الْمَسْرُوقُ مِنْهُ يَتَظَنُّى حَتَّى يَصْبِرَ أَعْظَمَ مِنَ السَّارِقِ .
১৩০১। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, যার জিনিস চুরি হয়ে যায় সে ধারণা-অনুমান করতে করতে চোরের চেয়েও অগ্রসর হয়ে যায়।
১৩০২- عَنْ بِلالِ بْنِ سَعْدِ الْأَشْعَرِى أَنَّ مُعَاوِيَةَ كَتَبَ إِلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ أَكْتُبْ الَى فُسَّاقَ دِمَشْقَ فَقَالَ مَا لِي وَفَسَاقُ دِمَشْقَ وَمِنْ أَيْنَ أَعْرِفُهُمْ فَقَالَ ابْنُهُ بِلال أَنَا اكْتُبُهُمْ فَكَتَبَهُمْ قَالَ مِنْ أَيْنَ عَلِمْتَ مَا عَرَفْتَ أَنَّهُمْ فَسَاقٌ إِلَّا وَأَنْتَ مِنْهُمْ إِبْدَا بِنَفْسِكَ وَلَمْ يُرْسِلْ بِأَسْمَائِهِمْ .
১৩০২। বিলাল ইবনে সাদ আল-আশআরী (র) থেকে বর্ণিত। মুআবিয়া (রা) আবু দারদা (রা)-কে লিখে পাঠান : দামিশকের দুষ্কৃতিকারীদের সম্পর্কে আমাকে লিখে পাঠান। তিনি বলেন, আমার সাথে দামিশকের দুষ্কৃতিকারীদের কি সম্পর্ক? আর আমি কোথায় বা তাদের চিনবো? তার পুত্র বিলাল বলেন, আমি তাদের সম্পর্কে লিখবো। অতএব তিনি তাদের তালিকা তৈরি করেন। আবু দারদা (রা) জিজ্ঞেস করেন, কোথা থেকে তুমি জানতে পারলে? তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেই কেবল দুষ্কৃতিকারী সম্পর্কে জানতে পারবে। অতএব তোমার নামটি দিয়ে (তালিকা) শুরু করো। তিনি তাদের নাম কখনো পাঠাননি।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 ক্রীতদাসী বা স্ত্রী তার স্বামীর মাথার চুল কামাতে পারে

📄 ক্রীতদাসী বা স্ত্রী তার স্বামীর মাথার চুল কামাতে পারে


৬২৩-بَابُ حَلْق الْجَارِيَةِ وَالْمَرْأَة زَوْجَهَا
১৩০৩- حَدَّثَنِي سُكَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَجَارِيَةٌ تَحْلِقُ الشُّعَرَ وَقَالَ النَّوْرَةُ تَرَقَّ الْجَلْدَ .
১৩০৩। সুকাইন ইবনে আবদুল আযীয ইবনে কায়েস (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র নিকট উপস্থিত হলাম। তখন এক বাঁদী চুল কামাচ্ছিল। তিনি বলেন, চুন চামড়াকে নরম করে (তাবারানী)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 বগলের লোম উপড়ানো

📄 বগলের লোম উপড়ানো


৬২৪-بَابُ نَتْف الابط
১৩০৪- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الْفِطْرَةُ خَمْسُ الْخَتَانُ وَالْأَسْتَحْدَادُ وَنَتْفُ الْإِبِطِ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمُ الْأَطْفَارِ .
১৩০৪। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেনঃ পাঁচটি স্বভাব সম্মত বিষয়। গোঁফ কর্তন করা, নখ কাটা, নাভীর নিচের লোম কামানো, বগলের নিচের লোম উপড়ানো এবং মিসওয়াক করা (বু, মু, দা, তি, না, ই, আ, তহা, হি)।
১৩০৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ خَمْسٌ مِّنَ الفِطْرَةِ الْخِتَانُ وَحَلْقُ الْعَانَةِ وَتَقْلِيمُ الْأَطْفَارِ وَنَتْفُ الضَّبْعِ وَقَصُّ الشَّارِبِ .
১৩০৫। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: পাঁচটি জিনিস স্বভাব সুলভ। খতনা করা, নাভির নিচের লোম কামানো, নখ কাটা, বগলের নিচের লোম উপড়ানো এবং গোঁফ খাটো করা।
১৩০৬- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ خَمْسٌ مِّنِ الْفِطْرَةِ تَقْلِيمُ الْأَطْفَارِ وَقَصُّ الشَّارِبِ وَنَتْفُ الابط وَحَلْقُ الْعَانَة وَالْخَتَانُ .
১৩০৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। পাঁচটি জিনিস স্বভাব সুলভ। নখ কাটা, গোঁফ খাটো করা, বগলের লোম উপড়ানো, নাভীর নিচের লোম কামানো এবং খতনা করা (তহা)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00