📄 শিশুর জন্মগ্রহণ উপলক্ষে দাওয়াত
٦٠٢-بَابُ الدَّعْوَةِ فِي الْوِلَادَةِ
১২৬৫- عَنْ أَبِي قِرْصَافَةَ الْكِنَانِيِّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَكَانَ إِمَامَنَا أَرْبَعِينَ سَنَةً فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مَسْجِدِ قَبَاءٍ قَالَ دَعَانِي أَبِي يَوْمًا وَكَانَ صَائِمًا فَأَفْطَرَ وَأَتَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عَبْلَةَ فَقَالَ لَهُ أَبُو قِرْصَافَةَ أَتُحِبُّ أَنْ أُحَدِّثَكَ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ نَعَمْ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ الْخِتَانُ سُنَّةٌ لِلرِّجَالِ مَكْرُمَةٌ لِلنِّسَاءِ قَالَ إِبْرَاهِيمُ فَقُلْتُ لِأَبِي قِرْصَافَةَ أَتُحَدِّثُنِي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَنْتَ صَائِمٌ فَقَالَ لِي أَبُو قِرْصَافَةَ لَوْ كُنْتُ صَائِمًا مَا حَدَّثْتُكَ .
১২৬৫। আবু কিরসাফা আল-কিনানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (স)-এর সাহাবী ছিলেন এবং এই মসজিদে অর্থাৎ কুবায় চল্লিশ বছর যাবত আমাদের ইমামতি করেন। তিনি বলেন, একদিন আমার পিতা আমাকে দাওয়াত দিলেন। তিনি রোযাদার ছিলেন, তবুও রোযা ভাঙলেন। ইবরাহীম ইবনে আবু ইবলা (র) তার নিকট আসলেন। আবু কিরসাফা (রা) তাকে বলেন, আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর একটি হাদীস বর্ণনা করবো না? তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি: খতনা পুরুষদের জন্য সুন্নাত এবং নারীদের জন্য সম্মান। ইবরাহীম (র) বলেন, আমি আবু কিরসাফা (রা)-কে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাদীস বর্ণনা করছেন, অথচ আপনি রোযাদার? আবু কিরসাফা (রা) বলেন, আমি রোযাদার থাকলে তোমাকে হাদীস বর্ণনা করতাম না। অধস্তন রাবী বলেন, আবু কিরসাফা (রা) রোযাদার হওয়ায় আহার গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। ইয়াহইয়া বলেন, চল্লিশ বছর যাবত এই মসজিদে কিনানা গোত্রীয় আবু কিরসাফা (রা) ডাকনামের নবী (স)-এর একজন সাহাবী আমাদের ইমামতি করেন। তিনি এক দিন রোযা রাখেন এবং এক দিন বিরতি দেন। আমার পিতার একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তিনি তাকে দাওয়াত দেন। সেটি ছিল তার রোযা রাখার দিন। তিনি রোযা ভাংলেন। ইবরাহীম (র) উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে তার চাদরখানা উপঢৌকন দেন এবং মুসাও রোযা ভাংগেন। ইমাম বুখারী (র) বলেন, আবু কিরসাফা (রা)-র নাম জানদারা ইবনে খায়শানা।
📄 শিশুকে মিষ্টিমুখ (তাহনীক) করানো
৬০৩-بَابُ تَحْنِيكِ الصَّبِيِّ
১২৬৬- عَنْ أَنَسٍ قَالَ ذَهَبْتُ بِعَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ يَوْمَ وُلِدَ وَالنَّبِيُّ اللهُ فِي عَبَاءَةٍ يَهْنَا بَعِيرًا لَهُ فَقَالَ مَعَكَ تَمَرَاتٌ قُلْتُ نَعَمْ فَنَاوَلَتُهُ تُمَرَاتِ فَلاَكَهُنَّ ثُمَّ فَغَرَنَا الصَّبِيُّ وَأَوْجَرَهُنَّ إِيَّاهُ فَتَلَمُظَ الصَّبِيُّ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ حِبُّ الْأَنْصَارِ التَّمْرُ وَسَمَّاهُ عَبْدَ الله .
১২৬৬। আনাস (রা) বলেন, আবু তালহা (রা)-র পুত্র আবদুল্লাহ যেদিন জন্মগ্রহণ করে সেদিন আমি তাকে নিয়ে নবী (স)-এর নিকট গেলাম। নবী (স) তখন আবা পরিহিত অবস্থায় তাঁর একটি উটের শরীর মালিশ করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন: তোমার সাথে খেজুর আছে কি? আমি বললাম, হাঁ। আমি কয়েকটি খেজুর তাঁকে দিলাম। তিনি সেগুলো তাঁর মুখে ভরে চিবালেন, অতঃপর শিশুর মুখ ফাঁক করে তা তার মুখে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগলো। তখন নবী (স) বলেন: খেজুর হলো আনসারদের প্রিয়। তিনি তার নাম রাখেন আবদুল্লাহ (বু, মু, দা, ই)।
📄 সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর জন্য দোয়া করা
٦٠٤-بَابُ الدَّعَاء في الولادة
১২৬৭- عَنْ مُعَاوِيَةَ ابْنِ قُرَّةَ يَقُولُ لَمَّا وُلِدَ لِى إِيَاسٌ دَعَوْتُ نَفَرًا مِّنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فَأَطْعَمْتُهُمْ فَدَعَوا فَقُلْتُ إِنَّكُمْ قَدْ دَعَوْتُمْ فَبَارَكَ اللَّهُ لَكُمْ فِيْمَا دَعَوْتُمْ وَإِنِّي إِنْ أَدْعُوا بِدُعَاءِ فَآمَنُوا قَالَ فَدَعَوْتُ لَهُ بِدُعَاء كَثِيرٌ فِي دِينِهِ وَعَقْلِهِ وَكَذَا قَالَ فَإِنِّي لَا تَعَرَّفُ فِيْهِ دُعَاءَ يَوْمَئِذٍ .
১২৬৭। মুআবিয়া ইবনে কুররা (র) বলেন, আমার সন্তান ইয়াস জন্মগ্রহণ করলে আমি নবী (স)-এর একদল সাহাবীকে দাওয়াত করে আহার করাই। তারা দোয়া করলেন। আমি বললাম, আপনারা দোয়া করেছেন। আল্লাহ আপনাদের দোয়ার উসীলায় আপনাদের বরকত দান করুন। আমিও এখন কতগুলো দোয়া করবো এবং আপনারা আমীন বলবেন। রাবী বলেন, আমি তার দীনদারি, জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে তার জন্য অনেক দোয়া করলাম। রাবী বলেন, আমি সেদিনের দোয়ার প্রভাব লক্ষ্য করছি।
📄 ভূমিষ্ঠ শিশু পুত্র বা কন্যা যাই হোক
৬০৫-بَابُ مَنْ حَمدَ اللهَ عِنْدَ الولادة اذا كَانَ سَوِيًّا وَلَمْ يُبَالَ ذَكَرًا أَوْ أُنْثَى
১২৬৮- عَنْ كَثِيرِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ كَانَتْ عَائِشَةُ إِذَا وُلِدَ فِيْهِمْ مَوْلُودٌ يَعْنِي فِي أَهْلِهَا لَا تَسْأَلُ غُلَامًا وَلَا جَارِيَةً تَقُولُ خُلِقَ سَوِيًّا فَإِذَا قِيلَ نَعَمْ قَالَتْ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ .
১২৬৮। কাছীর ইবনে উবায়েদ (র) বলেন, আয়েশা (রা)-র পরিবারে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন না যে, তা পুত্র না কন্যা সন্তান। তিনি জিজ্ঞেস করতেন, তা সুঠামদেহী পয়দা হয়েছে তো? যদি হাঁ বলা হতো, তবে তিনি বলতেন, জগতসমূহের প্রভু আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা।