📄 খতনা উপলক্ষে আনন্দ অনুষ্ঠান
৫৯٨-بَابُ اللَّهْوِ فِي الْخِتَانِ
১২৫৯- عَنْ أُمِّ عَلْقَمَةَ أَنَّ بَنَاتَ أَخِي عَائِشَةَ خُتِنٌ فَقِيلَ لِعَائِشَةَ أَلَا نَدْعُو لَهُنَّ مَنْ يُلْهِيْنَ قَالَتْ بَلَى فَأَرْسَلَتْ الى حُدَى فَأَتَاهُنَّ فَمَرَّتْ عَائِشَةُ فِي الْبَيْتِ فَرَأَتْهُ يَتَغَنَّى وَيُحَرِّكَ رَأْسَهُ طَرَبًا وَكَانَ ذَا شَعَرٍ كَثِيرٍ فَقَالَتْ أَنَّ شَيْطَانٌ أَخْرِجُوهُ أَخْرِجُوهُ .
১২৫৯। উম্মু আলকামা (র) থেকে বর্ণিত। আয়েশা (রা)-র ভ্রাতুষ্পুত্রীদের খতনা করানো হলো। আয়েশা (রা)-কে বলা হলো, তাদেরকে ভুলানোর জন্য কাউকে ডাকবো না কি? তিনি বলেন, অবশ্যই। অতএব হুদীর (উট চরানোর গান) গায়ককে ডেকে পাঠানো হলো। সে আসলো। আয়েশা (রা) ঘরে প্রবেশ করে তাকে মাথার চুল ঝাকড়িয়ে গীত পরিবেশন করতে দেখেন। তার মাথায় ছিল পর্যাপ্ত চুল। আয়েশা (রা) বলেন, আহ! একটি শয়তান, একে বের করে দাও, একে বের করে দাও।
📄 যিম্মী (অমুসলিম নাগরিক) প্রদত্ত দাওয়াত
৫৯٩-بَابُ دَعْوَةَ الذِّمِّي
১২৬০- عَنْ أَسْلَمَ مَوْلَى عُمَرَ قَالَ لَمَّا قَدِمْنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ الشَّامَ آتَاهُ الدِّهْقَانُ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنِّي قَدْ صَنَعْتُ لَكَ طَعَامًا فَأَحِبُّ أَنْ تَأْتِيَنِي بِأَشْرَافِ مَنْ مَّعَكَ فَإِنَّهُ أَقْوَى لِي فِي عَمَلِي وَأَشْرَفَ لِي قَالَ إِنَّا لَا نَسْتَطِيعُ أَنْ نُّدْخُلَ كَنَائِسَكُمْ هَذِهِ مَعَ الصُّورِ الَّتِي فِيهَا
১২৬০ উমার (রা)-র মুক্তদাস সালেম (র) বলেন, আমরা উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-র সাথে সিরিয়ায় পৌঁছলে তার নিকট এক (খৃস্টান) ভূস্বামী এসে বললো, হে আমীরুল মুমিনীন! আমি আপনার জন্য আহার্য তৈরি করেছি। আমি আশা করি যে, আপনার সম্ভ্রান্ত পারিষদবর্গসহ আপনি আমার এখানে আসবেন। তা আমার কাজে শক্তি যোগাবে এবং আমার শরাফত বর্দ্ধিত হবে। উমার (রা) বলেন, তোমাদের গির্যাসমূহে (জীব-জন্তুর) চিত্রাবলী থাকা অবস্থায় আমরা তাতে প্রবেশ করতে পারি না।
📄 বাঁদীর খতনা করানো
٦٠٠-بَابُ ختان الاماء
১২৬১- عَنْ أُمِّ الْمُهَاجِرِ قَالَتْ سُبِيْتُ وَجَوَارِي مِنَ الرُّوْمِ فَعَرَضَ عَلَيْنَا عُثْمَانُ الْإِسْلَامَ فَلَمْ يُسْلِمْ مِّنَا غَيْرِي وَغَيْرِ أُخْرَى فَقَالَ أَخْفَضُوهُمَا وَطَهِّرُوهُمَا فَكُنْتُ أَخْدُمُ عُثْمَانَ .
১২৬১। উম্মুল মুহাজির (র) বলেন, আমি রূম এলাকায় যুদ্ধবন্দিনী হই। উসমান (রা) আমাদের ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দেন। আমাদের মধ্যে আমি এবং অপর একজন ব্যতীত কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি। উসমান (রা) বলেন, এই দুই নারীর খতনা করাও এবং তাদের পবিত্র করো। আমি উসমান (রা)-র খেদমত করতাম।
📄 বড়োদের খতনা করানো
٦٠١-بَابُ الْخِتَانِ لِلْكَبِيرِ
১২৬২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ اخْتَتَنَ إِبْرَاهِيمُ الله وَهُوَ ابْنُ عِشْرِينَ وَمِائَةٍ ثُمَّ عَاشَ بَعْدَ ذَلِكَ ثَمَانِينَ سَنَةً قَالَ سَعِيدٌ إِبْرَاهِيمُ أَوَّلُ مَنْ اخْتَتَنَ أَوَّلُ مَنْ أَضَافَ وَأَوَّلُ مَنْ قَصَّ الشَّارِبَ وَأَوَّلُ مَنْ قَصَّ الظُّفَرَ وَأَوَّلُ مَنْ شَابٌ فَقَالَ يَا رَبِّ مَا هُذَا قَالَ وَقَارٌ قَالَ يَا رَبِّ زِدْنِي وَقَارًا .
১২৬২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, ইবরাহীম (আ) এক শত বিশ বছর বয়সে খতনা করেন। অতঃপর তিনি আশি বছর জীবিত ছিলেন। সাঈদ (র) বলেন, ইবরাহীম (আ) সর্বপ্রথম খতনা করেন, সর্বপ্রথম মেহমানদারি করেন, সর্বপ্রথম গোঁফ খাটো করেন, সর্বপ্রথম নখ কাটেন এবং সর্বপ্রথম তার চুলে পাক ধরে। তিনি বলেন, হে প্রভু! এটা কি? আল্লাহ বলেন, গাম্ভীর্য। তিনি বলেন, হে প্রভু! আমার গাম্ভীর্য বৃদ্ধি করো (আ, হি)।
১২৬৩- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ اخْتَتَنَ إِبْرَاهِيمُ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ ابْنُ ثَمَانِينَ سَنَةً بِالْقَدُومِ .
১২৬৩। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, ইবরাহীম (আ) আশি বছর বয়সে কাদূম নামক স্থানে খতনা করেন (বু, মু)।
১২৬৪- عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ الْخِتَانِ فَقَالَ سُنَّةٌ لِلرِّجَالِ مَكْرُمَةٌ لِلنِّسَاءِ .
১২৬৪। সাঈদ ইবনে জুবাইর (র) বলেন, ইতনা সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রা)-কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বলেন, পুরুষদের জন্য তা সুন্নাত এবং নারীদের জন্য তা সম্মান (আহমাদ)।
১২৬৫- عَنْ أَبِي قِرْصَافَةَ الْكِنَانِيِّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَكَانَ إِمَامَنَا أَرْبَعِينَ سَنَةً فِي هَذَا الْمَسْجِدِ مَسْجِدِ قَبَاءٍ قَالَ دَعَانِي أَبِي يَوْمًا وَكَانَ صَائِمًا فَأَفْطَرَ وَأَتَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي عَبْلَةَ فَقَالَ لَهُ أَبُو قِرْصَافَةَ أَتُحِبُّ أَنْ أُحَدِّثَكَ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ نَعَمْ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ الْخِتَانُ سُنَّةٌ لِلرِّجَالِ مَكْرُمَةٌ لِلنِّسَاءِ قَالَ إِبْرَاهِيمُ فَقُلْتُ لِأَبِي قِرْصَافَةَ أَتُحَدِّثُنِي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَنْتَ صَائِمٌ فَقَالَ لِي أَبُو قِرْصَافَةَ لَوْ كُنْتُ صَائِمًا مَا حَدَّثْتُكَ .
১২৬৫। আবু কিরসাফা আল-কিনানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (স)-এর সাহাবী ছিলেন এবং এই মসজিদে অর্থাৎ কুবায় চল্লিশ বছর যাবত আমাদের ইমামতি করেন। তিনি বলেন, একদিন আমার পিতা আমাকে দাওয়াত দিলেন। তিনি রোযাদার ছিলেন, তবুও রোযা ভাঙলেন। ইবরাহীম ইবনে আবু ইবলা (র) তার নিকট আসলেন। আবু কিরসাফা (রা) তাকে বলেন, আমি কি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (স)-এর একটি হাদীস বর্ণনা করবো না? তিনি বলেন, হাঁ। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছি: খতনা পুরুষদের জন্য সুন্নাত এবং নারীদের জন্য সম্মান। ইবরাহীম (র) বলেন, আমি আবু কিরসাফা (রা)-কে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর হাদীস বর্ণনা করছেন, অথচ আপনি রোযাদার? আবু কিরসাফা (রা) বলেন, আমি রোযাদার থাকলে তোমাকে হাদীস বর্ণনা করতাম না। অধস্তন রাবী বলেন, আবু কিরসাফা (রা) রোযাদার হওয়ায় আহার গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। ইয়াহইয়া বলেন, চল্লিশ বছর যাবত এই মসজিদে কিনানা গোত্রীয় আবু কিরসাফা (রা) ডাকনামের নবী (স)-এর একজন সাহাবী আমাদের ইমামতি করেন। তিনি এক দিন রোযা রাখেন এবং এক দিন বিরতি দেন। আমার পিতার একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তিনি তাকে দাওয়াত দেন। সেটি ছিল তার রোযা রাখার দিন। তিনি রোযা ভাংলেন। ইবরাহীম (র) উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে তার চাদরখানা উপঢৌকন দেন এবং মুসাও রোযা ভাংগেন। ইমাম বুখারী (র) বলেন, আবু কিরসাফা (রা)-র নাম জানদারা ইবনে খায়শানা।