📄 কেউ তার বিছানায় ঘুমাতে গিয়ে যে দোয়া পড়বে
৫৭৬-بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ
১২১৭- عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُنَامَ قَالَ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا وَإِذَا اسْتَيْقَظَ مِنْ مَنَامِهِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ .
১২১৭। হুযায়ফা (রা) বলেন, নবী (স) ঘুমানোর ইচ্ছা করলে বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই মরি ও বাঁচি"। তিনি তাঁর ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদেরকে আমাদের মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন এবং তাঁর নিকটই প্রত্যাবর্তন" (বু,দা, তি, না,ই)।
১২১৮- عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ اذا اولى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَّانَا وَأَوَانَا كَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ .
১২১৮। আনাস (রা) বলেন, নবী (স) যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন বলতেনঃ "সকল প্রশংসা আল্লাহ্, যিনি আমাদের পানাহার করিয়েছেন, আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। কতো লোক আছে যাদের কোন পৃষ্ঠপোষকও নাই, আশ্রয়দাতাও নাই" (মু ৬৬৪৬)।
১২১৯- عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا يَنَامُ حَتَّى يَقْرَا أَلَمْ تَنْزِيلٌ وَتَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ فَهُمَا تَفْضِلانِ كُلَّ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ بِسَبْعِينَ حَسَنَةً وَمَنْ قَرَاهُمَا كُتِبَ لَهُ بِهِمَا سَبْعُونَ حَسَنَةً وَرُفِعَ بِهِمَا لَهُ سَبْعُونَ دَرَجَةً وَحُطَ بِهِمَا عَنْهُ سَبْعُونَ خَطِيئَةً
১২২৯। জাবের (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সূরা আলিফ-লাম-মীম তানযীল (সূরা সাজদা-৩২) ও তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুল্ক (সূরা মূল্ক-৬৭) না পড়া পর্যন্ত ঘুমাতেন না (তি)। আবুয যুবাইর (র) বলেন, এই সূরাদ্বয় কুরআন মজীদের অন্যসব সূরার তুলনায় সত্তর গুণ সওয়াবের মর্যাদা লাভের অধিকারী। কোন ব্যক্তি এই সূরাদ্বয় পড়লে তার জন্য এর বিনিময়ে সত্তরটি নেকী লেখা হয়, এর উসীলায় তার মর্যাদা সত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং এর দ্বারা তার সত্তরটি গুনাহ মাফ করা হয় (না, দার, হা, শা)।
১২২০- عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ قَالَ قَالَ عَبْدُ الله النَّوْمُ عِنْدَ الذِّكْرِ مِنَ الشَّيْطَانِ إِنْ شِئْتُمْ فَجَرِّبُوا إِذَا أَخَذَ أَحَدُكُمْ مَضْجَعَهُ وَأَرَادَ أَنْ يَنَامَ فَلْيَذْكُرِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ .
১২২০। আবুল আহ্ওয়াস (র) বলেন, আবদুল্লাহ (রা) বলেছেন, আল্লাহ্ যিকির করলে শয়তানের পক্ষ থেকে ঘুম এসে যাবে। তোমরা চাইলে অনুশীলন করে দেখতে পারো। তোমাদের কেউ যখন শয্যাগত হয়ে ঘুমাতে ইচ্ছা করে তখন সে যেন মহামহিম আল্লাহ্ যিকির করে (বু,মু,দা)।
১২২১- عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لا يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ تَبَارَكَ وَالَمْ تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ.
১২২১। জাবের (রা) বলেন, নবী (স) সূরা মুল্ক ও সূরা আলিফ-লাম-মীম সাজদা না পড়া পর্যন্ত ঘুমাতেন না (তি,হা)।
১২২২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ اللهِ إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَحِلَّ دَاخِلةَ إِزارِهِ فَلْيَنْقُصْ بِهَا فِرَاشَهُ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي مَا خَلَفَ فِي فِرَاشِهِ وَلْيَضْطَجِعْ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ وَلْيَقُلْ بِاسْمِكَ وَضَعْتُ جَنْبِي فَإِنْ احْتَبَسْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ الصَّالِحِيْنَ أَوْ قَالَ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ .
১২২২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: তোমাদের কেউ ঘুমাতে বিছানায় আশ্রয় নিলে সে যেন তার ভেতরের পরিধেয় বস্ত্র খুলে তা দ্বারা বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে তার বিছানায় কি পতিত হয়েছে। অতঃপর সে ডান কাতে শুয়ে যেন বলে, "তোমার নামে আমার পার্শ্বদেশ (বিছানায়) রাখলাম। তুমি আমার আত্মা আটক করে রেখে দিলে তার প্রতি দয়া করো, আর তাকে ছেড়ে দিলে তাকে হেফাজত করো, যেভাবে তুমি হেফাজত করে থাকো তোমার সৎকর্মপরায়ণ লোকদের" (বু,মু,দা,না,আ,আন,হি)।
১২২৩- عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ وَجَهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَأَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَالْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَهْبَةً وَرَغْبَةً إِلَيْكَ لا مَنْجَا وَلَا مَلْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي انْزَلْتَ وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ قَالَ فَمَنْ قَالَهُنَّ فِي لَيْلَةٍ ثُمَّ مَاتَ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ .
১২২৩। বারাআ ইবনে আযেব (রা) বলেন, নবী (স) বিছানাগত হয়ে ডান কাতে শুয়ে যেতেন, অতঃপর বলতেন : "হে আল্লাহ! আমার মুখ তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমাকে তোমার নিকট সোপর্দ করলাম এবং তোমার রহমাতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় সহকারে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। তোমার থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ছাড়া আর কোন ঠিকানা নাই। তুমি যে কিতাব নাযিল করেছো এবং যে নবী পাঠিয়েছো আমি তার উপর ঈমান এনেছি"। নবী (স) বলেন: কোন ব্যক্তি রাতে এই দোয়া পড়লে, অতঃপর মারা গেলে সে দীন ইসলামের উপর মারা গেলো (বু,মু,দা,তি)।
১২২৪- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُولُ إِذَا أَوَى إِلى فِرَاشِهِ اللَّهُمَّ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوى مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي شَرَّ أَنْتَ أخذ بناصيته أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ اقْضِ عَنِّى الدِّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ
১২২৪। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) শয্যাগত হয়ে বলতেন: "হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রভু, প্রতিটি জিনিসের প্রভু, বীজ ও অংকুরের প্রভু, তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি প্রতিটি ক্ষতিকর বস্তুর ক্ষতি থেকে, আপনিই এগুলোর নিয়ন্ত্রক। আপনিই আদি, আপনার আগে কিছুর অস্তিত্ব নাই। আপনিই অন্ত, আপনার পরে কিছু নাই। আপনি প্রকাশমান, আপনার উর্দ্ধে কিছু নাই। আপনি লুকায়িত, আপনার অগোচরে কিছু নাই। আপনি আমার পক্ষ থেকে আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিন এবং আমাকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিন" (মু,তি,দা,না,ই,শা,আন,হি)।
📄 শোয়ার সময় পঠিত দোয়ার ফযীলাত
৫৭৭-بَابُ فَضْلِ الدُّعَاءِ عِنْدَ النَّوْمِ
১২২৫- عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَوَجَهْتُ بِوَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَالْجَأْتُ ظَهْرِى إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لَا مَنْجَا وَلَا مَلْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ
১২২৫। বারাআ ইবনে আযেব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বিছানাগত হয়ে ডান কাতে শুয়ে নিম্নোক্ত দোয়া পড়েন : "হে আল্লাহ! আমি নিজেকে তোমার নিকট সোপর্দ করলাম, আমার মুখমণ্ডল তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমার সকল বিষয় তোমার উপর সোপর্দ করলাম এবং তোমার রহমতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় সহকারে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। তোমার থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ভিন্ন আর কোন ঠিকানা নাই। তুমি যে কিতাব নাযিল করেছো এবং যে রাসূল পাঠিয়েছো, আমি তার উপর ঈমান আনলাম"। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়লো, অতঃপর সেই রাতে মারা গেলো, সে দীন ইসলামের উপর মারা গেলো (বু,মু,দা,তি)।
১২২৬- عَنْ جَابِرٍ قَالَ إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ أَوْ أولى الى فراشه ابْتَدَرَهُ مَلَكَ وَشَيْطَانٌ فَقَالَ الْمَلَكُ اخْتِمَ بِخَيْرٍ وَقَالَ الشَّيْطَانُ اخْتِمْ بِشَرِّ فَإِنْ حَمِدَ اللَّهَ وَذَكَرَهُ أَطْرَدَهُ وَبَاتَ يَكْلَاهُ فَإِذَا اسْتَيْقَظَ ابْتَدَرَهُ مَلَكُ وَشَيْطَانٌ فَقَالَا مِثْلَهُ فَإِنْ ذَكَرَ اللَّهَ وَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَدَّ إِلَى نَفْسِي بَعْدَ مَوْتِهَا وَلَمْ يُمِتْهَا فِي مَنَامِهَا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي يُمْسِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ أَنْ تَزُولاً وَلَئِنْ زَالَتَا أَنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّنْ بَعْدِهِ إِنَّهُ كَانَ حَلِيْمًا غَفُورًا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي يُمْسِكُ السَّمَاءَ أَنْ تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُفٌ رَّحِيمٌ فَإِنْ مَاتَ مَاتَ شَهِيدًا وَإِنْ قَامَ فَصَلَّى فِي فَضَائِلٍ :
১২২৬। জাবের (রা) বলেন, কোন ব্যক্তি যখন তার ঘরে প্রবেশ করে অথবা তার বিছানায় আশ্রয় নেয় তখন একজন ফেরেশতা ও একটি শয়তান তার দিকে ধাবিত হয়। ফেরেশতা বলেন, কল্যাণের সাথে (তোমার দিনটি) শেষ করো, আর শয়তান বলে, অনিষ্ট সহকারে শেষ করো। অতএব সে যদি আল্লাহ্ প্রশংসা করে, তাঁর যিকির করে তাহলে সে শয়তানকে বিতাড়িত করলো এবং রাতটি (আল্লাহর) হেফাজতে কাটালো। অনুরূপভাবে সে ঘুম থেকে জাগ্রত হলে একজন ফেরেশতা ও একটি শয়তান তার দিকে ধাবিত হয় এবং তারা পূর্বানুরূপ কথা বলে। সে যদি আল্লাহকে স্মরণ করে এবং বলে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমার মৃত্যুর পর আমার জীবনটা আমার নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং ঘুমের মধ্যে মৃত্যুদান করেননি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্, "যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে স্থানচ্যুত হওয়া থেকে রুখে রেখেছেন। যদি এই দু'টি স্থানচ্যুত হয় তবে তিনি ছাড়া কেউই এদের প্রতিরোধ করে রাখতে পারবে না। নিশ্চয় তিনি পরম সহিষ্ণু, পরম ক্ষমাশীল" (সূরা ফাতির : ৪১)। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, "যিনি আসমানকে প্রতিরোধ করে রেখেছেন যাতে তা তাঁর অনুমতি ব্যতীত পৃথিবীর উপর পতিত হতে না পারে। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অতীব মমতাশীল, পরম দয়াময়" (সূরা হজ্জ ৬৫)। সে মারা গেলে শহিদী মৃত্যুবরণ করলো, অন্যথা উঠে নামায পড়লে মর্যাদাপূর্ণ নামায পড়লো (না, হি)।
📄 গালের নিচে হাত রাখা
৫৭৮-بَابُ يَضَعُ يَدَهُ تَحْتَ خَدَّه
১২২৭- عَنِ الْبَرَاءِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُنَامَ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدَّهِ الْأَيْمَنِ وَيَقُولُ اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ .
১২২৭। বারাআ (রা) বলেন, নবী (স) ঘুমানোর ইচ্ছা করলে তিনি তাঁর হাত তাঁর ডান গালের নিচে রেখে বলতেন: "হে আল্লাহ! যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান করবে সেদিন তোমার শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করো" (তি ৩৩৩৫, না, ই ৩৮৭৭)।
১২২৮- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ خَلْتَانِ لَا يُحْصِيْهِمَا رَجُلٌ مُسْلِمُ إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَهُمَا يَسِيرٌ وَمَنْ يُعْمَلْ بِهِمَا قَلِيلٌ قِيْلَ وَمَا هُمَا يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ يُكَبِّرُ أَحَدُكُمْ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ عَشْرًا وَيَحْمَدُ عَشْرًا وَيُسَبِّحُ عَشْرًا فَذَلِكَ خَمْسُونَ وَمِائَةٍ عَلَى اللِّسَانِ وَأَلْفُ وَخَمْسُ مِائَةٍ فِي الْمِيزَانِ فَرَأَيْتُ النَّبِيِّ ﷺ يَعُدُّهُنَّ بِيَدِهِ وَإِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ سَبْحَهُ وَحَمِدَهُ وَكَبْرَهُ فَتِلْكَ مِائَةً عَلَى النِّسَانِ وَالْفُ فِي الْمِيزَانِ فَأَيُّكُمْ يَعْمَلُ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ الْقَيْنِ وَخَمْسِ مِائَةٍ سَيِّئَة قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ لَا يُحْصِيْهِمَا قَالَ يَأْتِي أَحَدَكُمُ الشَّيْطَانُ فِي صَلَاتِهِ فَيُذكِّرُهُ حَاجَةً كَذَا وَكَذَا فَلَا يَذْكُرْهُ .
১২২৮। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: কোন মুসলমান ব্যক্তি দুইটি অভ্যাসে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতে পারলে সে নিশ্চয় জান্নাতে প্রবেশ করবে। অভ্যাস দু'টি আয়ত্ত করা খুবই সহজ। তবে খুব কম লোকই তদনুযায়ী আমল করে থাকে। বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই দু'টি অভ্যাস কি কি? তিনি বলেন: প্রতি নামাযের পূর্বে তোমাদের কেউ দশবার আল্লাহু আকবার, দশবার আলহামদু লিল্লাহ এবং দশবার সুবহানাল্লাহ বলবে। তাতে (পাঁচ ওয়াক্তে) মৌখিক উচ্চারণে এক শত পঞ্চাশবার এবং মীযানে দেড় হাজারবার হবে। আমি নবী (স)-কে (নামাযের পর) তাঁর হাতে সেগুলো গুণে গুণে পড়তে দেখেছি। আবার সে শয্যা গ্রহণকালে সুবহানাল্লাহ, আলহামdu লিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পড়লে তা মৌখিক উচ্চারণে এক শতবার এবং মীযানে এক হাজারবার হবে। তোমাদের মধ্যে কে এক দিন ও এক রাতে দুই হাজার পাঁচ শত গুনাহে লিপ্ত হয়? (তাতে এতোগুলো পাপও ক্ষমাযোগ্য হয়)। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সে কিভাবে এরূপ আমল না করে থাকতে পারে? তিনি বলেন: তোমাদের কেউ নামাযে রত থাকাকালে তার নিকট শয়তান এসে তাকে এই এই প্রয়োজনের কথা স্মরণ করাতে থাকে। অতএব সে যেন তা স্মরণ না করে (দা,তি,না,আ,হি)।
📄 কেউ বিছানা থেকে উঠে গিয়ে আবার ফিরে এলে তা যেন ঝেড়ে নেয়
৫৭৯-بَابُ إِذَا قَامَ مِنْ فِرَاشِهِ ثُمَّ رَجَعَ فَلْيَنْفَضْهُ
১২২৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَأْخُذْ داخله ازاره فَلْيَنْفُضْ بها فِرَاشَهُ وَلِيُسَمِّ اللَّهَ فَإِنَّهُ لَا يَعْلَمُ مَا خَلَفَهُ بَعْدَهُ عَلَى فِرَاشِهِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُضْطَجِعَ فَلْيَضْطَجِعْ عَلَى شِقْهِ الْأَيْمَنِ وَلْيَقُلْ سُبْحَانَكَ رَبِّي بِكَ وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَاغْفِرْ لَهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ .
১২২৯। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেন : তোমাদের কেউ তার বিছানায় ঘুমাতে এলে সে যেন তার পরিধেয় বস্ত্রের নিম্নাংশ দ্বারা তার বিছানাটা ঝেড়ে নেয় এবং আল্লাহ্র নাম স্মরণ করে। কারণ সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে তার বিছানায় কি পতিত হয়েছে। সে যখন বিছানায় শোবে তখন যেন তার ডান কাতে শোয় এবং বলে, "আমার প্রতিপালক মহাপবিত্র। তোমার নামে আমার পার্শ্বদেশ বিছানায় রাখলাম এবং তোমার নামে তা উঠাবো। যদি তুমি আমার জান রেখে দাও তবে তাকে ক্ষমা করো। আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবে তার হেফাজত করো, যেরূপ তুমি তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের হেফাজত করে থাকো" (বু,মু,দার,হি)।