📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কোন ব্যক্তি কি তার সংগীদের দিকে নিজের পদদ্বয় প্রসারিত করে দিতে পারে বা তাদের সামনে হেলান দিয়ে বসতে পারে?

📄 কোন ব্যক্তি কি তার সংগীদের দিকে নিজের পদদ্বয় প্রসারিত করে দিতে পারে বা তাদের সামনে হেলান দিয়ে বসতে পারে?


৫৭৩-بَابُ هَلْ يُقَدِّمُ الرَّجُلُ رِجْلَهُ بَيْنَ يَدَيْ أَصْحَابِهِ وَهَلْ يَتَّكِئُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ
১২১০- حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ الْعَصْرِيُّ أَنَّ بَعْضَ وَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ سَمِعَهُ يَذْكُرُ قَالَ لَمَّا بَدَا لَنَا فِي وَفَادَتِنَا إِلَى النَّبِيِّ ﷺ سِرْنَا حَتَّى إِذَا أَشْرَفْنَا الْقُدُومَ تَلَقَّانَا رَجُلٌ يُزْجِي عَلَى قُعُودٍ لَهُ فَسَلَّمَ فَرَدَدْنَا عَلَيْهِ ثُمَّ وَقَفَ فَقَالَ مَنِ الْقَوْمُ قُلْنَا وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالَ مَرْحَبًا بِكُمْ وَأَهْلاً أَيُّكُمْ طَلَبْتُ جِئْتُ لِأُبَشِّرَكُمْ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ بِالْأَمْسِ لَنَا إِنَّهُ نَظَرَ إِلَى الْمَشْرِقِ فَقَالَ لَيَأْتِيَنَّ غَدًا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ يَعْنِي الْمَشْرِقَ خَيْرُ وَفْدِ الْعَرَبِ فَبِتُّ أُرَوِّحُ حَتَّى أَصْبَحْتُ فَشَدَدْتُ عَلَى رَاحِلَتِي فَأَمْعَنْتُ فِي السَّيْرِ حَتَّى ارْتَفَعَ النَّهَارُ وَهَمَمْتُ الرُّجُوعَ ثُمَّ رُفِعَتْ رُءُوسُ رَوَاحِلِكُمْ ثُمَّ ثَنَى رَاحِلَتَهُ بِمَامِهِ رَجَاءَ يُزْجِي عَوْدَهُ عَلَى بَدَنِهِ حَتَّى انْتَهَى إِلَى النَّبِيِّ ﷺ وَأَصْحَابُهُ حَوْلَهُ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ فَقَالَ بِأَبِي وَأُمِّي جِئْتُ أُبَشِّرُكَ بِوَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ فَقَالَ أَنَّى لَكَ بِهِمْ يَا عُمَرُ قَالَ هُمْ أَوَّلاً عَلَى أَثَرِي قَدْ أَظَلُّوا فَذَكَرَ ذَلِكَ فَقَالَ بَشَّرَكَ اللَّهُ بِخَيْرٍ وَتَهَيَّأَ الْقَوْمُ فِي مَقَاعِدِهِمْ وَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ قَاعِدًا فَأَلْقَى ذَيْلَ رِدَائِهِ تَحْتَ يَدِهِ فَاتَّكَأَ عَلَيْهِ وَبَسَطَ رِجْلَيْهِ فَقَدِمَ الْوَفْدُ فَفَرِحَ بِهِمُ الْمُهَاجِرُونَ وَالْأَنْصَارُ فَلَمَّا رَأَوْا النَّبِيُّ اللهِ وَأَصْحَابَهُ أَمْرَحُوا رِكَابَهُمْ فَرَحًا بِهِمْ وَأَقْبَلُوا سُرَاعًا فَأَوْسَعَ الْقَوْمُ وَالنَّبِيُّ ﷺ مُتَّكِئٌ عَلَى حَالِهِ فَتَخَلَّفَ الْأَشَجُّ وَهُوَ مُنْذِرُ بْنُ عَائِذِ بْنِ مُنْذِرِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ النُّعْمَانِ بْنِ زِيَادِ ابْنِ عَصَرَ فَجَمَعَ رِكَابَهُمْ ثُمَّ آنَاخَهَا وَحَطَّ أَحْمَالَهَا وَجَمَعَ مَتَاعَهَا ثُمَّ أَخْرَجَ عَيْبَةً لَهُ وَالْقَى عَنْهُ ثِيَابَ السَّفَرِ وَلَبِسَ حُلَّةً ثُمَّ أَقْبَلَ يَمْشِي مُتَرَسِّلاً فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ سَيِّدُكُمْ وَزَعِيمُكُمْ وَصَاحِبُ أَمْرِكُمْ فَأَشَارُوا بِأَجْمَعِهِمْ إِلَيْهِ وَقَالَ ابْنُ سَادَتِكُمْ هَذَا قَالُوا كَانَ آبَاؤُهُ سَادَتُنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَهُوَ قَائِدُنَا إِلَى الْإِسْلَامِ فَلَمَّا انْتَهَى الْأَشَجُّ أَرَادَ أَنْ يَقْعُدَ مِنْ نَاحِيَةِ اسْتَوَى النَّبِيُّ ﷺ قَاعِدًا قَالَ هُهُنَا يَا أَشَقُّ وَكَانَ أَوَّلُ يَوْمٍ سُمِّيَ الْأَشَقُّ ذَلِكَ الْيَوْمِ أَصَابَتْهُ حِمَارَةٌ بِحَافِرِهَا وَهُوَ فَطِيمٌ فَكَانَ فِي وَجْهِهِ مِثْلَ الْقَمَرِ فَأَقْعَدَهُ إِلَى جَنْبِهِ وَالْطَفَهُ وَعَرَّفَ فَضْلَهُ عَلَيْهِمْ فَأَقْبَلَ الْقَوْمُ عَلَى النَّبِيِّ الله يَسْأَلُونَهُ وَيُخْبِرُهُمْ حَتَّى كَانَ بِعَقَبِ الْحَدِيثِ قَالَ هَلْ مَعَكُمْ مِّنْ أَزْوَادَتْكُمْ قَالُوا نَعَمْ فَقَامُوا سُرَاعًا كُلُّ رَجُلٍ مِّنْهُمْ إِلَى تَقْلِهِ فَجَاءُوا بِصُبْرِ النَّمْرِ فِي اكْفُهُمْ فَوُضِعَتْ عَلَى نِطْعَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَبَيْنَ يَدَيْهِ جَرِيدَةٌ دُونَ الدَّرَاعَيْنِ وَفَوْقَ الدَّرَاعِ فَكَانَ يَخْتَصِرُ بِهَا فَلَمَّا يُفَارِقُهَا فَأَوْمَا بِهَا إِلَى صُبْرَةٍ مِّنْ ذُلِكَ التَّمْرِ فَقَالَ تُسَمُّونَ هَذَا التَّعْضُوضَ قَالُوا نَعَمْ قَالَ وَتُسَمُّونَ هَذَا الصَّرَفَانَ قَالُوا نَعَمْ قَالَ وَتُسَمُّونَ هُذَا الْبَرْنِي قَالُوا نَعَمْ قَالَ هُوَ خَيْرٌ تَمْرِكُمْ وَأَيْنَعُهُ لَكُمْ وَقَالَ بَعْضُ شُيُوخِ الْحَقِّ وَأَعْظَمُهُ بَرَكَةً وَإِنَّمَا كَانَتْ عِنْدَنَا خَصْبَةٌ نَعْلِفُهَا ابْلَنَا وَحَمِيْرَنَا فَلَمَّا رَجَعْنَا مِنْ وَفَادَتِنَا تِلْكَ عَظَمَتْ رَعْبَتُنَا فِيهَا وَفَسَلْنَاهَا حَتَّى تَحَوَّلَتْ ثِمَارُنَا منْهَا وَرَأَيْنَا الْبَرَكَةَ فِيهَا
১২১০। শিহাব ইবনে আব্বাদ আল-আসারী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলের কোন সদস্যকে বর্ণনা করতে শুনেছেন। তিনি বলেন, নবী (স)-এর নিকট প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা আমাদের নিকট প্রতীয়মান হলে আমরা রওয়ানা হলাম। আমরা সফরের শেষপ্রান্তে উপনীত হলে রাস্তার মাথায় বসা এক ব্যক্তি আমাদের সাথে সাক্ষাত করেন। তিনি সালাম দিলে আমরা তার উত্তর দিলাম। তিনি দণ্ডায়মান হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কারা? আমরা বললাম, আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল। তিনি বলেন, স্বাগতম, তোমাদের সাদর সম্ভাষণ। আমি তোমাদের তালাশেই এসেছি তোমাদের সুসংবাদ পৌছে দেয়ার জন্য। গতকাল নবী (স) আমাদের বলেছিলেন। তিনি পুবের দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেছিলেনঃ "অবশ্যই আগামী কাল এদিক অর্থাৎ পূর্বদিক থেকে আরবের উত্তম প্রতিনিধিদল আসবে"। এপাশ ওপাশ করতে করতে আমার রাতটি অতিবাহিত হলো। ভোর হতেই আমি কাফেলা ও রাস্তার উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে থাকলাম। এভাবে বেশ বেলা হয়ে গেলো এবং আমি ফিরে আসার মনস্থ করলাম। ইত্যবসরে তোমাদের জন্তযানের মাথা আমার দৃষ্টিগোচর হলো। একথা বলে লোকটি তার জন্তযানের লাগাম ধরে তাকে ঘুরিয়ে নিয়ে দ্রুতবেগে ফিরে যেতে লাগলেন। তিনি নবী (স)-এর নিকট পৌঁছে তাঁকে মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ পরিবেষ্টিত পেলেন। তিনি বলেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আমি আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধিদল সম্পর্কে আপনাকে সুসংবাদ দিতে এসেছি। তিনি জিজ্ঞেস করেন: হে উমার! তাদের সাথে কোথায় তোমার সাক্ষাত হয়েছে? তিনি বলেন, তারা আমার পেছনে আসছে এবং এখনই এসে পৌঁছবে। তিনি এটা উল্লেখ করলে নবী (স) বলেন: আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দান করুন। লোকজন তাদের বসাবার ব্যবস্থা করতে লেগে গেলো। আর নবী (স) বসা অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাঁর চাদরের প্রান্তভাগ তাঁর হাতের নিচে রেখে তাতে ভর দিয়ে বসলেন এবং পদদ্বয় সামনে প্রসারিত করে দিলেন।
প্রতিনিধি দল এসে পৌঁছলে তাদের দেখে মুহাজির ও আনাসরগণ আনন্দিত হলেন। তারা নবী (স) ও তাঁর সাহাবীগণকে দেখে আনন্দিত হয়ে রেকাবদানি বাজাতে থাকে এবং দ্রুতবেগে নবী (স)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়। লোকজন সরে গিয়ে তাদের বসার জায়গা করে দিলো এবং নবী (স) পূর্ববৎ হাতে ভর দিয়ে বসে থাকলেন। (দলনেতা) আল-আশাজ্জের পৌঁছতে বিলম্ব হলো। তারা জন্তুযান একত্র করলো, সেগুলোকে বসালো এবং মালপত্র নামিয়ে একত্র করলো, অতঃপর একটি হাতবাক্স বের করে সফরের পোশাক পরিবর্তন করে চাদর পরিধান করে তার প্রান্তভাগ ঝুলিয়ে দিয়ে হেঁটে এসে উপস্থিত হলো। নবী (স) জিজ্ঞেস করেন: তোমাদের নেতা কে, তোমাদের যাবতীয় কাজের দায়িত্বশীল কে? সকলে একসাথে আল-আশাজ্জের দিকে ইংগিত করলো। তিনি বলেন: সে কি তোমাদের নেতার পুত্র? তারা বললো, তার পূর্বপুরুষ জাহিলী যুগেও আমাদের নেতা ছিলো এবং ইনি ইসলামে আমাদের নেতা।
আশাজ্জ এসে পৌছে এক প্রান্তে বসার ইচ্ছা করলে নবী (স) সোজা হয়ে বসে বলেনঃ হে আশাজ্জ! এখানে। শিশুকালে যেদিন একটি গর্দভীর ক্ষুরের আঘাতে তিনি আহত হন সেদিন থেকে তার নাম হয়েছে আশাজ্জ (আহত), যার চিহ্ন তার চোহারায় চাঁদের মত ভাস্বর ছিল। নবী (স) তাঁকে নিজের পাশে বসান, তার প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন এবং তাদের উপর তার মর্যাদার স্বীকৃতি দেন। প্রতিনিধি দল নবী (স)-কে প্রশ্ন করতে থাকে এবং তিনি তাদের অবহিত করতে থাকেন। আলোচনার শেষ পর্যায়ে তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন: তোমাদের রসদপত্রের কিছু তোমাদের সাথে অবশিষ্ট আছে কি? তারা বললো, হাঁ। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ সামানপত্রের দিকে দ্রুত অগ্রসর হলো এবং বস্তাভর্তি খেজুর নিয়ে এলো। সেগুলো তাঁর সামনে একটি চামড়ার পাত্রের উপর রেখে দেয়া হলো। তাঁর সামনে ছিল দুই হাতের চেয়ে ক্ষুদ্র এবং এক হাতের চেয়ে বড় একটি খেজুরের ছড়ি। এটা তিনি নিজের কাছেই রাখতেন, তা খুব কমই তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতো। তিনি সেটি দ্বারা খেজুরের স্তূপের দিকে ইশারা করে বলেন: তোমরা এর 'তাদূদ' নামকরণ করেছো"? তারা বললো, হাঁ। তিনি বলেন: তোমরা এর 'সারাফান' নামকরণ করেছো? তারা বললো, হাঁ। তিনি বলেন : তোমরা এর 'বারনী' নামকরণ করেছো? তারা বললো, হাঁ। এটা তোমাদের সর্বোত্তম ও অধিক ফলনশীল খেজুর।
গোত্রের কোন কোন প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, এটি ছিল সর্বাধিক বরকতপূর্ণ। কম ফলনশীল ও নিম্ন মানের খেজুরও আমাদের সাথে ছিল যা আমরা আমাদের উট ও গাধাকে খাওয়াই। আমরা আমাদের প্রতিনিধি দলের সাথে ফিরে আসার পর ঐ খেজুরের প্রতি আমাদের আকর্ষণ বেড়ে গেলো এবং আমরা তার চাষাবাদ করলাম। শেষে এটাই আমাদের উৎপাদিত শস্যে পরিণত হলো এবং তাতে আমরা পর্যাপ্ত বরকত লক্ষ্য করলাম (আহমাদ ১৫৬৪৪ ও ১৭৯৮৫)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 ভোরে উপনীত হয়ে যে দোয়া পড়বে

📄 ভোরে উপনীত হয়ে যে দোয়া পড়বে


৫৭৪-بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا أَصْبَحَ
১২১১- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَصْبَحَ قَالَ اللَّهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ النُّشُورُ وَإِذَا أَمْسَى قَالَ اللَّهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوتُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
১২১১। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, নবী (স) ভোরে উপনীত হয়ে বলতেন : "হে আল্লাহ! আমরা তোমার হুকুমে ভোরে উপনীত হই এবং সন্ধ্যায় উপনীত হই। তোমার হুকুমে আমরা জীবিত আছি এবং মৃত্যুবরণ করবো। আমরা তোমার নিকটই পুনর্জীবিত হয়ে প্রত্যানীত হবো"। তিনি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলতেন : "হে আল্লাহ! আমরা তোমার হুকুমে সন্ধ্যায় উপনীত হই এবং ভোরে উপনীত হই। তোমার হুকুমে আমরা জীবিত আছি এবং মৃত্যুবরণ করবো। তোমার নিকটই প্রত্যাবর্তন" (দা,তি, না, ই, আ, হি, আন)।
১২১২- عَنِ ابْنِ عُمَرَ يَقُولُ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَعُ هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ إِذَا أَصْبَحَ وَإِذَا أَمْسَى اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ العَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِيُّ اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي وَآمِنْ رَوْعَاتِي اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَى وَمِنْ خَلْفِي وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِى وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ مِنْ أَنْ أَعْتَالَ مِنْ تَحْتِي .
১২১২। ইবনে উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সকালে ও সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে কখনো এই দোয়া পড়া ত্যাগ করতেন নাঃ "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আমার দীন, আমার দুনিয়া, আমার পরিবার ও আমার সম্পদের নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমার লজ্জাস্থানকে গোপন রাখো এবং আমার ভয়কে নিরাপত্তায় পরিণত করো। হে আল্লাহ! আমাকে হেফাজত করো আমার সম্মুখভাগ থেকে, আমার পশ্চাদভাগ থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আমি তোমার মহানত্বের উসীলায় আমার নিচের দিক থেকে আমাকে ধ্বসিয়ে দেয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি" (দা,ই, না, আ,হা, হি)।
১২১৩- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ قَالَ حِيْنَ يُصِبْحُ اللَّهُمَّ إِنَّا أَصْبَحْنَا نُشْهِدُكَ وَنُشْهِدُ حَمْلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ وَجَمِيعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا الله الا أَنْتَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ إِلا اعْتَقَ اللَّهُ رَبِّعَهُ فِي ذلِكَ الْيَوْمِ وَمَنْ قَالَهَا مَرَّتَيْنِ اَعْتَقَ اللهُ نِصْفَهُ مِنَ النَّارِ وَمَنْ قَالَهَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ اعْتَقَهُ اللَّهُ مِنَ النَّارِ فِي ذلِكَ الْيَوْمِ .
১২১৩। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: কেউ ভোরে উপনীত হয়ে নিম্নোক্ত দোয়া একবার পড়লে আল্লাহ তাকে দোযখ থেকে সেদিনের এক-চতুর্থাংশ সময় মুক্ত করে দিবেন: "হে আল্লাহ! আমরা ভোরে উপনীত হয়েছি। আমরা তোমাকে সাক্ষী রেখে, তোমার আরশ বহনকারীদের, তোমার ফেরেশতাদের এবং তোমার সমস্ত সৃষ্টিকে সাক্ষী রেখে স্বীকার করছি যে, তুমিই একমাত্র আল্লাহ। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তুমি এক, তোমার কোন শরীক নাই এবং মুহাম্মাদ তোমার বান্দা ও রাসূল"। যে ব্যক্তি উপরোক্ত দোয়া দুইবার পড়বে আল্লাহ সেদিনের অর্ধেক সময় তাকে দোযখ থেকে নিষ্কৃতি দিবেন। আর যে ব্যক্তি তা চারবার পড়বে, আল্লাহ তাকে সারাটি দিন দোزখ থেকে নিষ্কৃতি দিবেন (দা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে যা বলবে

📄 সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে যা বলবে


৫৭৫-بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا أَمْسَى
১২১৪- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ أَبُو بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَّمْنِي شَيْئًا أَقُولُهُ إِذَا أَصْبَحْتُ وَأَمْسَيْتُ قَالَ قُلْ اللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلُّ شَيْءٍ بِكَفِّيْكَ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشَرَكُهُ قُلْهُ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ وَإِذَا أَخَذَتَ مَضْجَعَكَ .
১২১৪। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আবু বাক্স (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সকাল-সন্ধ্যায় আমার বলার জন্য আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন। তিনি বলেন: তুমি বলো, "হে আল্লাহ, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞাতা, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! প্রতিটি জিনিস তোমার দুই হাতের মুঠোয়। আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নফসের ক্ষতি থেকে এবং শয়তানের ক্ষতি ও তার শেরেক থেকে"। তুমি সকাল-সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এবং বিছানায় ঘুমানোর সময় এই দোয়া বলো (দা,তি,না,দার,আ,হা,হি)।
১২১৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مِثْلَهُ وَقَالَ رَبُّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيهِ وَقَالَ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشَرَكُهُ.
১২১৫। আবু হুরায়রা (রা).... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এই বর্ণনায় আরো আছে, "প্রত্যেক জিনিসের প্রভু ও তার মালিক" এবং "শয়তানের অনিষ্ট ও তার শেরেক (থেকে আশ্রয় চাই)"।
১২১৬- عَنْ أَبِي رَاشِدِ الْحِبْرَانِي آتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو فَقُلْتُ لَهُ حَدَّثَنَا بِمَا سَمِعْتَ مِنْ رَّسُولِ اللهِ ﷺ فَالْقَى إِلَى صَحِيفَةً فَقَالَ هُذَا مَا كَتَبَ لِي النَّبِيُّ ﷺ فَنَظَرْتُ فِيهَا فَإِذَا فِيْهَا إِنَّ أَبَا بَكْرِ الصِّدِّيقِ سَأَلَ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَّمْنِي مَا أَقُولُ إِذَا أَصْبَحْتُ وَإِذَا أَمْسَيْتُ فَقَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ قُلْ اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ رَبِّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكِهِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشَرِكِهِ وَأَنْ أَقْرَفَ عَلَى نَفْسِي سُوءًا أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِم .
১২১৬। আবু রাশেদ আল-হিবরানী (র) থেকে বর্ণিত। আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা)-র নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট যা শুনেছেন তা আমাকে বর্ণনা করে শুনান। তিনি আমার সামনে একটি ক্ষুদ্র পুস্তিকা পেশ করে বলেন, এটা নবী (স) আমাকে লিখিয়ে দিয়েছেন। আমি তাতে চোখ বুলিয়ে দেখতে পেলাম যে, আবু বাক্স সিদ্দীক (রা) নবী (স)-এর নিকট জিজ্ঞাসার সুরে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সকাল-সন্ধ্যায় আমার বলার জন্য আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন। তিনি বলেনঃ হে আবু বাক্স! তুমি বলো, "হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞাতা, প্রতিটি জিনিসের প্রতিপালক ও মালিক! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার প্রবৃত্তির ক্ষতি থেকে, শয়তানের অনিষ্ট ও তার অংশীবাদিতা থেকে, আমার নিজের অনিষ্ট করা থেকে এবং কোন মুসলমানের ক্ষতি করা থেকে" (তি,হা,হি)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কেউ তার বিছানায় ঘুমাতে গিয়ে যে দোয়া পড়বে

📄 কেউ তার বিছানায় ঘুমাতে গিয়ে যে দোয়া পড়বে


৫৭৬-بَابُ مَا يَقُولُ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ
১২১৭- عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُنَامَ قَالَ بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا وَإِذَا اسْتَيْقَظَ مِنْ مَنَامِهِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ .
১২১৭। হুযায়ফা (রা) বলেন, নবী (স) ঘুমানোর ইচ্ছা করলে বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি তোমার নামেই মরি ও বাঁচি"। তিনি তাঁর ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদেরকে আমাদের মৃত্যুর পর জীবিত করেছেন এবং তাঁর নিকটই প্রত্যাবর্তন" (বু,দা, তি, না,ই)।
১২১৮- عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ اذا اولى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَّانَا وَأَوَانَا كَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ .
১২১৮। আনাস (রা) বলেন, নবী (স) যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন বলতেনঃ "সকল প্রশংসা আল্লাহ্, যিনি আমাদের পানাহার করিয়েছেন, আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। কতো লোক আছে যাদের কোন পৃষ্ঠপোষকও নাই, আশ্রয়দাতাও নাই" (মু ৬৬৪৬)।
১২১৯- عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا يَنَامُ حَتَّى يَقْرَا أَلَمْ تَنْزِيلٌ وَتَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ فَهُمَا تَفْضِلانِ كُلَّ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ بِسَبْعِينَ حَسَنَةً وَمَنْ قَرَاهُمَا كُتِبَ لَهُ بِهِمَا سَبْعُونَ حَسَنَةً وَرُفِعَ بِهِمَا لَهُ سَبْعُونَ دَرَجَةً وَحُطَ بِهِمَا عَنْهُ سَبْعُونَ خَطِيئَةً
১২২৯। জাবের (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সূরা আলিফ-লাম-মীম তানযীল (সূরা সাজদা-৩২) ও তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুল্ক (সূরা মূল্ক-৬৭) না পড়া পর্যন্ত ঘুমাতেন না (তি)। আবুয যুবাইর (র) বলেন, এই সূরাদ্বয় কুরআন মজীদের অন্যসব সূরার তুলনায় সত্তর গুণ সওয়াবের মর্যাদা লাভের অধিকারী। কোন ব্যক্তি এই সূরাদ্বয় পড়লে তার জন্য এর বিনিময়ে সত্তরটি নেকী লেখা হয়, এর উসীলায় তার মর্যাদা সত্তর গুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং এর দ্বারা তার সত্তরটি গুনাহ মাফ করা হয় (না, দার, হা, শা)।
১২২০- عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ قَالَ قَالَ عَبْدُ الله النَّوْمُ عِنْدَ الذِّكْرِ مِنَ الشَّيْطَانِ إِنْ شِئْتُمْ فَجَرِّبُوا إِذَا أَخَذَ أَحَدُكُمْ مَضْجَعَهُ وَأَرَادَ أَنْ يَنَامَ فَلْيَذْكُرِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ .
১২২০। আবুল আহ্ওয়াস (র) বলেন, আবদুল্লাহ (রা) বলেছেন, আল্লাহ্ যিকির করলে শয়তানের পক্ষ থেকে ঘুম এসে যাবে। তোমরা চাইলে অনুশীলন করে দেখতে পারো। তোমাদের কেউ যখন শয্যাগত হয়ে ঘুমাতে ইচ্ছা করে তখন সে যেন মহামহিম আল্লাহ্ যিকির করে (বু,মু,দা)।
১২২১- عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لا يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأَ تَبَارَكَ وَالَمْ تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ.
১২২১। জাবের (রা) বলেন, নবী (স) সূরা মুল্ক ও সূরা আলিফ-লাম-মীম সাজদা না পড়া পর্যন্ত ঘুমাতেন না (তি,হা)।
১২২২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ اللهِ إِذَا أَوَى أَحَدُكُمْ إِلَى فِرَاشِهِ فَلْيَحِلَّ دَاخِلةَ إِزارِهِ فَلْيَنْقُصْ بِهَا فِرَاشَهُ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي مَا خَلَفَ فِي فِرَاشِهِ وَلْيَضْطَجِعْ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ وَلْيَقُلْ بِاسْمِكَ وَضَعْتُ جَنْبِي فَإِنْ احْتَبَسْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِهِ الصَّالِحِيْنَ أَوْ قَالَ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ .
১২২২। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: তোমাদের কেউ ঘুমাতে বিছানায় আশ্রয় নিলে সে যেন তার ভেতরের পরিধেয় বস্ত্র খুলে তা দ্বারা বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে তার বিছানায় কি পতিত হয়েছে। অতঃপর সে ডান কাতে শুয়ে যেন বলে, "তোমার নামে আমার পার্শ্বদেশ (বিছানায়) রাখলাম। তুমি আমার আত্মা আটক করে রেখে দিলে তার প্রতি দয়া করো, আর তাকে ছেড়ে দিলে তাকে হেফাজত করো, যেভাবে তুমি হেফাজত করে থাকো তোমার সৎকর্মপরায়ণ লোকদের" (বু,মু,দা,না,আ,আন,হি)।
১২২৩- عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ نَامَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ وَجَهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَأَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَالْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَهْبَةً وَرَغْبَةً إِلَيْكَ لا مَنْجَا وَلَا مَلْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي انْزَلْتَ وَنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ قَالَ فَمَنْ قَالَهُنَّ فِي لَيْلَةٍ ثُمَّ مَاتَ مَاتَ عَلَى الْفِطْرَةِ .
১২২৩। বারাআ ইবনে আযেব (রা) বলেন, নবী (স) বিছানাগত হয়ে ডান কাতে শুয়ে যেতেন, অতঃপর বলতেন : "হে আল্লাহ! আমার মুখ তোমার দিকে ফিরিয়ে দিলাম, আমাকে তোমার নিকট সোপর্দ করলাম এবং তোমার রহমাতের আশা ও তোমার শাস্তির ভয় সহকারে আমার পিঠ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। তোমার থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেয়ার এবং নাজাত পাওয়ার তুমি ছাড়া আর কোন ঠিকানা নাই। তুমি যে কিতাব নাযিল করেছো এবং যে নবী পাঠিয়েছো আমি তার উপর ঈমান এনেছি"। নবী (স) বলেন: কোন ব্যক্তি রাতে এই দোয়া পড়লে, অতঃপর মারা গেলে সে দীন ইসলামের উপর মারা গেলো (বু,মু,দা,তি)।
১২২৪- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُولُ إِذَا أَوَى إِلى فِرَاشِهِ اللَّهُمَّ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوى مُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي شَرَّ أَنْتَ أخذ بناصيته أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ اقْضِ عَنِّى الدِّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ
১২২৪। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) শয্যাগত হয়ে বলতেন: "হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রভু, প্রতিটি জিনিসের প্রভু, বীজ ও অংকুরের প্রভু, তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী! আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি প্রতিটি ক্ষতিকর বস্তুর ক্ষতি থেকে, আপনিই এগুলোর নিয়ন্ত্রক। আপনিই আদি, আপনার আগে কিছুর অস্তিত্ব নাই। আপনিই অন্ত, আপনার পরে কিছু নাই। আপনি প্রকাশমান, আপনার উর্দ্ধে কিছু নাই। আপনি লুকায়িত, আপনার অগোচরে কিছু নাই। আপনি আমার পক্ষ থেকে আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিন এবং আমাকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিন" (মু,তি,দা,না,ই,শা,আন,হি)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00