📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পোশাক পরিধানের নিষিদ্ধ নিয়ম (ইতিবা)

📄 পোশাক পরিধানের নিষিদ্ধ নিয়ম (ইতিবা)


৫৬৩-بَابُ الْاحْتِبَاء
১১৯৪- عَنْ سُلَيْمٍ بْنِ جَابِرِ الْهُجَيْمِي قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ مُحْتَبٍ فِي بُرْدَةٍ وَإِنْ هُدَابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَوْصنِي قَالَ عَلَيْكَ بِاتِّقَاءِ الله وَلا . تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تُفْرِغَ لِلْمَسْتَسْقِي مِنْ دَلُوكَ فِي إِنَائِهِ أَوْ تَكَلَّمَ أَخَاكَ وَوَجْهُكَ مُنْبَسِطُ وَإِيَّاكَ وَاسْبَالُ الْآزار فَانَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ وَلَا يُحِبُّهَا اللَّهُ وَان امْرُؤٌ عَيْرَكَ بِشَيْءٍ يَعْلَمُهُ مِنْكَ فَلَا تَعَيَّرَهُ بِشَيْءٍ تَعْلَمُهُ مِنْهُ دَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ وَأَجْرُهُ لَكَ وَلَا تَسُبَنَّ شَيْئًا قَالَ فَمَا سَبَبْتُ بَعْدُ دَابَّةٌ وَلَا انْسَانًا .
১১৯৪। সুলাইম ইবনে জাবের আল-হুজায়মী (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি একটি চাদর মুড়ি দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। চাদরের ঝালর তাঁর পায়ের পাতার উপর ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ "তুমি অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করবে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৎকাজকেও তুচ্ছজ্ঞান করো না, তা যদি তোমার বালতি থেকে পানি প্রার্থীর পাত্রে পানি ঢেলে দেয়ার মত নগণ্য কাজও হয় অথবা হাস্যোজ্জ্বল মুখে তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার আলাপ-আলোচনাও হয়। পায়ের গোছার নিচে পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে দেয়া থেকে সাবধান হও। কারণ তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। কোন ব্যক্তি যদি তার জ্ঞাত তোমার কোন ত্রুটির কারণে তোমাকে গালি দেয়, তবে তুমি তোমার জ্ঞাত তার কোন ত্রুটির কারণে তাকে গালি দিও না। তার কর্মের পরিণতি ভোগের জন্য তাকে ছেড়ে দাও এবং তার সওয়াব পাবে তুমি। তুমি কোন কিছুকে গালি দিও না"। রাবী বলেন, পরে আমি কখনো পশু বা মানুষ কাউকে গালি দেইনি (দা,আ,হা)।
১১৯৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا رَأَيْتُ حَسَنًا قَطُّ إِلا فَاضَتْ عَيْنَايَ دُمُوعًا وَذَلِكَ أَنْ النَّبِيَّ ﷺ خَرَجَ يَوْمًا فَوَجَدَنِي فِي الْمَسْجِدِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ فَمَا كَلَّمَنِي حَتَّى جِئْنَا سُوقَ بَنِي قَيْنُقَاعَ فَطَافَ فِيْهِ وَنَظَرَ ثُمَّ انْصَرَفَ وَأَنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَا الْمَسْجِدَ فَجَلَسَ فَاحْتَبَى ثُمَّ قَالَ أَيْنَ لَكَاعُ أَدْعُ لِى لُكَاعَ فَجَاءَ حَسَنٌ يَشْتَدُّ فَوَقَعَ فِي حِجْرِهِ ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي لِحْيَتِهِ ثُمَّ جَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَفْتَحُ فَاهُ فَيُدْخِلُ فَاهُ فِي فِيهِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحْبَبْهُ وَاحِبٌ مَنْ يُحِبُّهُ .
১১৯৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি যখনই হাসানকে দেখেছি আমার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে গেছে। তা এজন্য যে, একদিন নবী (স) বের হয়ে এসে আমাকে মসজিদে পেলেন। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমি তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা কায়নুকা গোত্রের বাজারে না পৌছা পর্যন্ত তিনি আমার সাথে কোন কথা বলেননি। তিনি বাজারে ঘুরলেন এবং দেখলেন, অতঃপর আমাকে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। শেষে আমরা মসজিদে এসে পৌঁছলাম। তিনি চার জানু হয়ে বসলেন, অতঃপর বলেন: খোকা কোথায়? খোকাকে আমার নিকট ডেকে আনো। হাসান দ্রুতবেগে বের হয়ে এসে তাঁর কোলে ঝাপিয়ে পড়লো, অতঃপর তার হাত তাঁর দাড়ির ভেতর ঢুকালো। অতঃপর নবী (স) নিজের মুখ ফাঁক করে তার মুখ নিজের মুখে প্রবেশ করান (মুখে চুমা দেন)। তারপর বলেন: "হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তাকে ভালোবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালোবাসো এবং যারা তাকে মহব্বত করে, তুমি তাদেরকেও মহব্বত করো" (বু, মু, হা)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 যে ব্যক্তি হাঁটু গেড়ে বসে

📄 যে ব্যক্তি হাঁটু গেড়ে বসে


৫৬৪-بَابُ مَنْ بَرَكَ عَلَى رَكْبَتَيْهِ
১১৯৬- عَنْ أَنَسِ ابْنِ مَالِكَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ صَلَّى بِهِمُ الظُّهْرَ فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ السَّاعَةَ وَذَكَرَ أَنَّ فِيْهَا أُمُوراً عِظَامًا ثُمَّ قَالَ مَنْ أَحَبُّ أَنْ يُسْأَلَ عَنْ شَيْءٍ فَلْيَسْأَلُ عَنْهُ فَوَاللَّهِ لَا تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَخْبِرْتُكُمْ مَا دُمْتُ فِي مَقَامِي هذَا قَالَ أَنَسٌ فَأَكْثَرَ النَّاسُ الْبُكَاءَ حِيْنَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَكْثَرَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يَقُولَ سَلُوا فَبَرَكَ عُمَرُ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَقَالَ رَضِيْنَا بِالله رَبَّا وبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَّسُولاً فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ ﷺ حِيْنَ قَالَ ذَلِكَ عُمَرُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَوْلَى أَمَا وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَقَدْ عُرِضَتْ عَلَى الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فِي عُرْضِ هَذَا الْحَائِطِ وَأَنَا أَصَلَّى فَلَمْ أَرَ كَالْيَوْمِ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ .
১১৯৬। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) তাদের সাথে নিয়ে যুহরের নামায পড়লেন। তিনি সালাম ফিরানোর পর মিম্বারে উঠে দাঁড়ালেন, কিয়ামতের উল্লেখ করলেন এবং আরো উল্লেখ করেন যে, এর সাথে রয়েছে অনেক সাংঘাতিক বিষয়। অতঃপর তিনি বলেন: কেউ আমার কাছে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে সে তা জিজ্ঞেস করুক। আল্লাহ্র শপথ! আমি আমার এই জায়গায় থাকা পর্যন্ত তোমরা আমার নিকট যা-ই জিজ্ঞেস করবে, আমি তোমাদের তা অবহিত করবো। আনাস (রা) বলেন, লোকজন রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুখে এটা শোনার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আর রাসূলুল্লাহ (স)-ও বারবার বলতে থাকেন: তোমরা জিজ্ঞেস করো। উমার (রা) হাঁটু গেড়ে বসে বলেন, আমরা আল্লাহকে প্রভুরূপে, ইসলামকে দীনরূপে এবং মুহাম্মাদকে রাসূলরূপে পেয়ে সন্তুষ্ট। উমার (রা) একথা বলাতে রাসূলুল্লাহ (স) নিশ্চুপ হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ বিপদ সন্নিকটে। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! এইমাত্র এই দেয়ালের পাশে আমার নামাযরত অবস্থায় আমার সামনে বেহেশত ও দোযখ উপস্থিত করা হয়েছে। অতএব আজকের মত কল্যাণ ও অনিষ্টকে (একত্রে) আর দেখিনি (বু, মু, ন্ডি)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00