📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কাউকে হেলান দেয়ার বালিশ পেশ করা

📄 কাউকে হেলান দেয়ার বালিশ পেশ করা


৫৬০-بَابُ مَنْ أُلْقِيَ لَهُ وِسَادَةٌ
১১৮৮- عَنْ أَبِي قِلَابَةَ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الْمَلِيْحِ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَبِيكَ زَيْدٍ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرُو فَحَدَّثَنَا أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ ذُكِرَ لَهُ صَوْمِي فَدَخَلَ عَلَى فَالْقَيْتُ لَهُ وِسَادَةً
১১৮৮। আবু কিলাবা (র) বলেন, আবুল মালীহ (র) আমাকে অবহিত করে বলেন, আমি তোমার পিতা যায়েদের সাথে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা)-র নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী (স)-এর নিকট আমার রোযা সম্পর্কে আলোচনা হলো। তিনি আমার নিকট এলেন। আমি তাঁর জন্য খেজুর গাছের ছাল ভর্তি চামড়ার একটি বালিশ পেশ করলাম। কিন্তু তিনি মাটিতে বসে গেলেন এবং বালিশটি আমার ও তাঁর মাঝখানে পড়ে থাকলো। তিনি আমাকে বলেনঃ প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখলে কি তোমার জন্য যথেষ্ট হয় না? আমি বললাম, হে আল্লাহ্ রাসূল! (আরো অধিক)। তিনি বলেন: পাঁচ দিন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আরো অধিক)। তিনি বলেন: সাত দিন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বলেন: নয় দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি বলেন: এগারো দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি বলেন: দাউদ (আ)-এর রোযার চেয়ে উত্তম রোযা হয় না, অর্ধ বছর। একদিন রোযা এবং এক দিন বিরতি (বু,মু)।
১১৮৯- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُسْرِ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ مَرَّ عَلَى أَبِيْهِ فَالْقَى لَهُ قَطِيفَةً فَجَلَسَ عَلَيْهَا
১১৮৯। আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (র) থেকে বর্ণিত। নবী (স) তার পিতার নিকট এলে তিনি তাঁর জন্য নরম গদি পেতে দেন। তিনি তার উপর বসেন।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 দুই হাঁটু খাড়া করে তা দুই হাতে বেড় দিয়ে ধরে নিতম্বের উপর বসা

📄 দুই হাঁটু খাড়া করে তা দুই হাতে বেড় দিয়ে ধরে নিতম্বের উপর বসা


৫৬১-بَابُ الْقُرْفَصَاء
১১৯০- عَنْ قَيْلَةَ قَالَتْ رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ قَاعِداً الْقُرْقُصَاءَ فَلَمَّا رَأَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ الْمُتَخَشَعَ فِي الْجِلْسَةِ أَرْعِدْتُ مِنَ الْفَرَقِ
১১৯০। কাইলা (রা) বলেন, আমি নবী (স)-কে তাঁর দুই হাঁটু খাড়া করে তা দুই হাতে বেড় দিয়ে ধরে নিতম্বের উপর বসা অবস্থায় দেখেছি। নবী (স)-কে এরূপ বিনীতভাবে বসা অবস্থায় দেখে আমি ভীত-কম্পিত হলাম (দা ৪৮৪৭)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 চার জানু হয়ে বসা

📄 চার জানু হয়ে বসা


৫৬২-بَابُ التَّرَبُّعِ
১১৯১- عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ حَديمٍ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ فَرَأَيْتُهُ جَالِسًا مُتَرَبِّعًا .
১১৯১। হানযালা ইবনে হিযয়াম (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর নিকট এসে তাঁকে চার জানু হয়ে বসা অবস্থায় দেখলাম (তাহযীবুল কামাল, ইসতীআব)।
১১৯২- حَدَّثَنِي أَبُو رُزَيْقٍ أَنَّهُ رَأَى عَلِيَّ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ جَالِسًا مُتَرَبِّعًا واضعا احدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرى
১১৯২। আবু ঘুরাইক (র) থেকে বর্ণিত। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)-র পুত্র আলীকে তার এক পা অপর পায়ের উপর অর্থাৎ ডান পা বাম পায়ের উপর রেখে চার জানু হয়ে বসা অবস্থায় দেখেছেন।
১১৯৩- عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ رَأَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكِ يَجْلِسُ هُكَذَا مُتَرَبِّعًا وَيَضَعُ احْدَى قَدَمَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى
১১৯৩। ইমরান ইবনে মুসলিম (র) বলেন, আমি আনাস ইবনে মালেক (রা)-কে তার এক পা অপর পায়ের উপর রেখে চার জানু হয়ে বসে থাকতে দেখেছি (তাহাবী)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 পোশাক পরিধানের নিষিদ্ধ নিয়ম (ইতিবা)

📄 পোশাক পরিধানের নিষিদ্ধ নিয়ম (ইতিবা)


৫৬৩-بَابُ الْاحْتِبَاء
১১৯৪- عَنْ سُلَيْمٍ بْنِ جَابِرِ الْهُجَيْمِي قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ مُحْتَبٍ فِي بُرْدَةٍ وَإِنْ هُدَابَهَا لَعَلَى قَدَمَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ أَوْصنِي قَالَ عَلَيْكَ بِاتِّقَاءِ الله وَلا . تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تُفْرِغَ لِلْمَسْتَسْقِي مِنْ دَلُوكَ فِي إِنَائِهِ أَوْ تَكَلَّمَ أَخَاكَ وَوَجْهُكَ مُنْبَسِطُ وَإِيَّاكَ وَاسْبَالُ الْآزار فَانَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ وَلَا يُحِبُّهَا اللَّهُ وَان امْرُؤٌ عَيْرَكَ بِشَيْءٍ يَعْلَمُهُ مِنْكَ فَلَا تَعَيَّرَهُ بِشَيْءٍ تَعْلَمُهُ مِنْهُ دَعْهُ يَكُونُ وَبَالُهُ عَلَيْهِ وَأَجْرُهُ لَكَ وَلَا تَسُبَنَّ شَيْئًا قَالَ فَمَا سَبَبْتُ بَعْدُ دَابَّةٌ وَلَا انْسَانًا .
১১৯৪। সুলাইম ইবনে জাবের আল-হুজায়মী (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি একটি চাদর মুড়ি দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। চাদরের ঝালর তাঁর পায়ের পাতার উপর ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বলেনঃ "তুমি অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করবে, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সৎকাজকেও তুচ্ছজ্ঞান করো না, তা যদি তোমার বালতি থেকে পানি প্রার্থীর পাত্রে পানি ঢেলে দেয়ার মত নগণ্য কাজও হয় অথবা হাস্যোজ্জ্বল মুখে তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার আলাপ-আলোচনাও হয়। পায়ের গোছার নিচে পরিধেয় বস্ত্র ঝুলিয়ে দেয়া থেকে সাবধান হও। কারণ তা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত এবং আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। কোন ব্যক্তি যদি তার জ্ঞাত তোমার কোন ত্রুটির কারণে তোমাকে গালি দেয়, তবে তুমি তোমার জ্ঞাত তার কোন ত্রুটির কারণে তাকে গালি দিও না। তার কর্মের পরিণতি ভোগের জন্য তাকে ছেড়ে দাও এবং তার সওয়াব পাবে তুমি। তুমি কোন কিছুকে গালি দিও না"। রাবী বলেন, পরে আমি কখনো পশু বা মানুষ কাউকে গালি দেইনি (দা,আ,হা)।
১১৯৫- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا رَأَيْتُ حَسَنًا قَطُّ إِلا فَاضَتْ عَيْنَايَ دُمُوعًا وَذَلِكَ أَنْ النَّبِيَّ ﷺ خَرَجَ يَوْمًا فَوَجَدَنِي فِي الْمَسْجِدِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ فَمَا كَلَّمَنِي حَتَّى جِئْنَا سُوقَ بَنِي قَيْنُقَاعَ فَطَافَ فِيْهِ وَنَظَرَ ثُمَّ انْصَرَفَ وَأَنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَا الْمَسْجِدَ فَجَلَسَ فَاحْتَبَى ثُمَّ قَالَ أَيْنَ لَكَاعُ أَدْعُ لِى لُكَاعَ فَجَاءَ حَسَنٌ يَشْتَدُّ فَوَقَعَ فِي حِجْرِهِ ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي لِحْيَتِهِ ثُمَّ جَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَفْتَحُ فَاهُ فَيُدْخِلُ فَاهُ فِي فِيهِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحْبَبْهُ وَاحِبٌ مَنْ يُحِبُّهُ .
১১৯৫। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, আমি যখনই হাসানকে দেখেছি আমার চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে গেছে। তা এজন্য যে, একদিন নবী (স) বের হয়ে এসে আমাকে মসজিদে পেলেন। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমি তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা কায়নুকা গোত্রের বাজারে না পৌছা পর্যন্ত তিনি আমার সাথে কোন কথা বলেননি। তিনি বাজারে ঘুরলেন এবং দেখলেন, অতঃপর আমাকে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। শেষে আমরা মসজিদে এসে পৌঁছলাম। তিনি চার জানু হয়ে বসলেন, অতঃপর বলেন: খোকা কোথায়? খোকাকে আমার নিকট ডেকে আনো। হাসান দ্রুতবেগে বের হয়ে এসে তাঁর কোলে ঝাপিয়ে পড়লো, অতঃপর তার হাত তাঁর দাড়ির ভেতর ঢুকালো। অতঃপর নবী (স) নিজের মুখ ফাঁক করে তার মুখ নিজের মুখে প্রবেশ করান (মুখে চুমা দেন)। তারপর বলেন: "হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তাকে ভালোবাসি। অতএব তুমিও তাকে ভালোবাসো এবং যারা তাকে মহব্বত করে, তুমি তাদেরকেও মহব্বত করো" (বু, মু, হা)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00