📄 সোফা জাতীয় গদিতে বসা
৫৫৩-بَابُ الْجُلُوسِ عَلَى السَّرِيرِ
১১৭০- عَنِ الْعُرْيَانِ بْنِ الْهَيْثَمِ قَالَ وَفَدَ أَبِي إِلى مُعَاوِيَةَ وَأَنَا غُلَامٌ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ قَالَ مَرْحَبًا مَرْحَبًا وَرَجُلٌ قَاعِدٌ مَعَهُ عَلَى السَّرِيرِ قَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَنْ هَذَا الَّذِي تُرَحِّبُ بِهِ قَالَ هَذَا سَيِّدُ أَهْلِ الْمُشْرِقِ هَذَا الْهَيْثَمُ بْنُ الْأَسْوَدِ قُلْتُ مَنْ هَذَا
১১৭০। উয়ান ইবনুল হায়ছাম (র) বলেন, আমার পিতা প্রতিনিধি হিসাবে মুআবিয়া (রা)-র নিকট গেলেন। আমি তখন তরুণ। তিনি তার নিকট প্রবেশ করলে তিনি বলেন, মারহাবা মারহাবা। তার নিকটেই এক ব্যক্তি সোফায় বসা ছিল। তিনি বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এই ব্যক্তি কে যাকে আপনি মারহাবা বলে স্বাগত জানালেন? তিনি বলেন, ইনি প্রাচ্যবাসীর নেতা। ইনি হায়ছাম ইবনুল আসওয়াদ (রা)। আমি বললাম, ইনি কে? লোকজন বললো, ইনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা)। আমি তাকে বললাম, হে অমুকের পিতা! দাজ্জাল কোথা থেকে আত্মপ্রকাশ করবে? তিনি বলেন, তুমি যে এলাকার বাসিন্দা সেই এলাকার লোকদের চেয়ে দূরবর্তী বিষয় সম্পর্কে অধিক জিজ্ঞাসাকারী এবং নিকটবর্তী বিষয় অধিক ত্যাগকারী আমি আর কোন এলাকার লোককে পাইনি। অতঃপর তিনি বলেন, গাছপালা ও খেজুর বৃক্ষ সমৃদ্ধ ইরাক থেকে সে আত্মপ্রকাশ করবে (তা)।
১১৭১- عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ جَلَسْتُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ عَلَى سَرِيرٍ .
১১৭১। আবুল আলিয়া (র) বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রা)-র সাথে গদিতে বসেছি।
১১৭২- عَنْ أَبِي جَمْرَةَ قَالَ كُنْتُ أَقْعُدُ مَعَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَكَانَ يُقْعِدُنِي عَلَى سَرِيْرِهِ فَقَالَ لِي أَقِمْ عِنْدِي حَتَّى أَجْعَلَ لَكَ سَهْمًا مِّنْ مَالِي فَأَقَمْتُ عِنْدَهُ شَهْرَيْنِ .
১১৭২। আবু জামরা (র) বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রা)-র সাথে উঠা-বসা করতাম। তিনি আমাকে তার গদিতে বসাতেন। তিনি আমাকে বলেন, তুমি আমার নিকট অবস্থান করো যাবত না আমি তোমাকে আমার মালের একটি অংশ দান করি। অতএব আমি তার নিকট দুই মাস অবস্থান করলাম (বু, মু)।
১১৭৩- حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ أَبُو خَلْدَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكِ وَهُوَ مَعَ الْحَكَمِ أمِيرُ بِالْبَصْرَةِ عَلَى السَّرِيرِ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا كَانَ الْحَرُّ أَبْرَدَ بِالصَّلَاةِ وَإِذَا كَانَ الْبَرْدُ بَكْرَ بِالصَّلاةِ .
১১৭৩। খালিদ ইবনে দীনার আবু খালদা (র) বলেন, আমি আনাস ইবনে মালেক (রা)-কে বসরার শাসক আল-হাকামের সাথে গদিতে বসা অবস্থায় বলতে শুনেছি, নবী (স) গরমের মৌসুমে বিলম্বে এবং শীতের মৌসুমে ত্বরায় (ওয়াক্তের প্রারম্ভে) নামায পড়তেন (বু, না)।
১১৭৪- حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكَ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ عَلَى سَرِيرِ مَرْمُولٌ بِشَرِيْطَ تَحْتَ رَأْسِهِ وِسَادَةً مِّنْ آدَمَ حَشْرُهَا لِيْفٌ مَا بَيْنَ جِلْدِهِ وَبَيْنَ السَّرِيرِ ثَوْبٌ
১১৭৪। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি খেজুর পাতার দড়ির তৈরী একটি চারপায়ার উপর শায়িত ছিলেন। তাঁর মাথার নিচে ছিল খেজুর গাছের বাকল ভর্তি একটি চামড়ার বালিশ। চারপায়া ও তাঁর দেহের মাঝখানে কোন কাপড় বিছানো ছিলো না। উমার (রা) তাঁর নিকট প্রবেশ করে কেঁদে দিলেন। নবী (স) তাকে বলেনঃ হে উমার! তোমাকে কিসে কাঁদালো? তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি এজন্যই কাঁদছি যে, আমি জানি আল্লাহ্র কাছে আপনার মর্যাদা (পারস্য রাজ) কিসরা ও (রোমসম্রাট) কাইজারের চেয়ে অনেক উর্দ্ধে। তারা এই পার্থিব জগতের কতো অফুরন্ত ভোগবিলাসের মধ্যে ডুবে আছে। আর হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনার অবস্থা তো আমি স্বচক্ষে দেখছি! নবী (স) বলেনঃ হে উমার! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হবে না যে, তাদের জন্য দুনিয়ার ভোগসামগ্রী আর আমাদের জন্য আখেরাতের ভোগসামগ্রী? আমি বললাম, অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেন: বিষয়টি এরূপই (আ, হি)।
১১৭৫- عَنْ أَبِي رَفَاعَةَ الْعَدَوى قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ يَخْطُبُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ رَجُلٌ غَرِيبٌ جَاءَ يَسْأَلُ عَنْ دِينه لا يَدْرَى مَا دِيْنُهُ فَأَقْبَلَ إِلَى وَتَرَكَ خُطْبَتَهُ فَأُتِيَ بِكُرْسِي خِلْتُ قَوَائِمَهُ حَدِيداً قَالَ حُمَيْدٌ أَرَاهُ خَشَبًا أَسْوَدَ حَسِبَهُ حَدِيداً فَقَعَدَ عَلَيْهِ فَجَعَلَ يُعَلِّمُنَى مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ ثُمَّ أَتَمَّ خُطْبَتَهُ آخِرَهَا
১১৭৫। আবু রিফাআ আল-আদাবী (রা) বলেন, আমি নবী (স)-এর নিকট গিয়ে পৌঁছলাম। তিনি তখন ভাষণ দিচ্ছিলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজন মুসাফির এসেছে, সে তার দীন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চায়। সে জানে না তার দীন কি? তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর ভাষণ স্থগিত রেখে আমার সামনে এলেন। একটি কুরছি (চেয়ার) আনা হলো, আমার ধারণামতে এর পায়াগুলো ছিল লোহার। অধস্তন রাবী হুমাইদ (র) বলেন, মনে হয় পায়াগুলো ছিল কালো কাঠের এবং তিনি তাকে লোহা ধারণা করেছেন। নবী (স) তাতে বসলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে যা শিখিয়েছেন তা তাকে শিখালেন। অতঃপর তিনি তাঁর অসমাপ্ত ভাষণ সমাপ্ত করলেন (মু, না, দূলাবী)।
۱۱۷٦- عَنْ مُوسَى ابْنِ دِهْقَانَ قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ جَالِسًا عَلَى سَرِيْرٍ عَرُوسٌ عَلَيْهِ ثِيَابُ حُمْرٍ .
১১৭৬। মূসা ইবনে দিহ্বান (র) বলেন, আমি ইবনে উমার (রা)-কে লাল রং-এর কাপড় পরিহিত অবস্থায় বাসর রাতের খাটের উপর বসা দেখেছি (তহা)।
১১৭৭- عن عمران بن مسلم قال رأيت أنسا جالسا على سرير واضعا إحدى رجليه على الأخرى-
১১৭৭। ইমরান ইবনে মুসলিম (র) বলেন, আমি আনাস (রা)-কে তার এক পা অপর পায়ের উপর রেখে গদিতে বসা অবস্থায় দেখেছি (তহা)।
📄 কতক লোককে গোপনে আলাপরত দেখলে সেখানে তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করবে না
৫৫٤-باب إذا رأى قوما يتناجون فلا يدخل معهم
۱۱۷۸- عن سعيد المقبرى يقول مررت على ابن عمر ومعه رجل يتحدث فقمت اليهما فلطم في صدري فقال إذا وجدت اثنين يتحدثان فلا تقم معهما ولا تجلس معهما حتى تستأذنهما فقلت أصلحك الله يا أبا عبد الرحمن إنما رجوت أن أسمع منكما خيرا-
১১৭৮। সাঈদ আল-মাকবুরী (র) বলেন, আমি ইবনে উমার (রা)-র নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তার সাথে এক ব্যক্তি কথা বলছিল। আমি তাদের পাশে দাঁড়ালে ইবনে উমার (রা) আমার বুকে চপেটাঘাত করে বলেন, তুমি দুই ব্যক্তিকে একত্রে কথাবার্তা বলতে দেখলে তাদের অনুমতি না নিয়ে তাদের সাথে দাঁড়াবেও না এবং বসবেও না। আমি বললাম, হে আবদুর রহমানের পিতা! আল্লাহ আপনার সংশোধন করুন, আমি আপনাদের দুইজনের নিকট কল্যাণকর কিছু শোনার আশাই করেছিলাম (আ)।
۱۱۷۹- عن ابن عباس قال من تسمع إلى حديث قوم وهم له كارهون صب في أذنه الآنك ومن تعلم بحلم كلف أن يعقد شعيرة -
১১৭৯। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কথা কান লাগিয়ে শোনে, অথচ তারা এটা পছন্দ করে না, তার কানের মধ্যে গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি মনগড়া স্বপ্ন বলবে তাকে গমের দানায় গিঠ দিতে বাধ্য করা হবে (বু, মু, না, দার, আ, হি)।
📄 তৃতীয়জনকে বাদ দিয়ে দুইজনে যেন গোপন পরামর্শ না করে।
৫৫٥-باب لا يتناجى اثنان دون الثالث
۱۱۸۰- عن عبد الله أن رسول الله ﷺ قال إذا كانوا ثلاثة فلا يتناجى اثنان دون الثالث
১১৮০। আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু (স) বলেন : তিনজন একসাথে থাকলে তৃতীয়জনকে বাদ দিয়ে দুইজনে যেন গোপন পরামর্শ না করে (বু, মু, দা, ই, আন)।
📄 চারজন একত্র হলে
৫৫٦-بَابُ إِذَا كَانُوا أَرْبَعَةٌ
۱۱۸۱- عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ اللهِ إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةٌ فَلَا يَتَنَاجِي اثْنَانِ دُونَ الثالث فَإِنَّهُ يُحْزَنُهُ ذلك .
১১৮১। আবদুল্লাহ (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেন: তোমরা তিনজন একত্র হলে একজনকে বাদ দিয়ে দু'জনে আলাদা হয়ে গোপন আলাপ করো না। কারণ তা তাকে মনোক্ষুণ্ণ করবে (বু,মু,দা,ই)।
۱۱۸۲- عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ اللهِ مِثْلَهُ قُلْنَا فَإِنْ كَانُوا أَرْبَعَةٌ قَالَ لَا يَضُرُّهُ.
১১৮২। ইবনে উমার (রা)-মহানবী (স) সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আমরা বললাম, যদি তাদের সংখ্যা চার হয়। তিনি বলেন: তাহলে কোন ক্ষতি নাই (দা, হি)।
۱۱۸۳- عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَتَنَاجِي اثْنَانِ دُونَ الْأَخَرِ حَتَّى يَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ مِنْ أَجْلِ أَنَّ ذَلِكَ يُحْزِنُهُ .
১১৮৩। আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: তিনজন একত্র হলে একজনকে বাদ রেখে দু'জনে আলাদা হয়ে গোপন আলাপ করবে না, যাবত না তারা লোকদের সাথে মিলিত হয়। কারণ তা তাকে মনোক্ষুণ্ণ করবে (বু, মু)।
١١٨٤- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ إِذَا كَانُوا أَرْبَعَةٌ فَلَا بَأْسَ .
১১৮৪। ইবনে উমার (রা) বলেন, তারা চারজন একত্র হলে (দু'জনের স্বতন্ত্র গোপন আলাপে) কোন ক্ষতি নাই।