📄 বহিরাঙ্গিনার বৈঠক
৫৪٥-بَابُ مَجَالِس الصُّعُدَات
১১৫৯- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَهَى عَنِ الْمَجَالِسِ بِالصُّعْدَاتِ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ لَيَسُقُ عَلَيْنَا الْجُلُوسَ فِي بُيُوتِنَا قَالَ فَإِنْ جَلَسْتُمْ فَأَعْفُوا الْمَجَالِسَ حَقَّهَا قَالُوا وَمَا حَقَّهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ادْلَالُ السَّائِلِ وَرَدُّ السَّلَامِ وَغَضُ الْأَبْصَارِ وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهَى عَنِ الْمُنْكَرِ :
১১৫৯। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বহিরাঙ্গিনায় (বা রাস্তায়) সভা অনুষ্ঠান বা বৈঠকাদি করতে নিষেধ করেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরে বসে থাকা তো আমাদের জন্য কষ্টকর। তিনি বলেন: যদি তোমরা বহিরাঙ্গনে (বা রাস্তায়) বসো তবে বৈঠকের দাবি পূরণ করো (বা কর্তব্য পালন করো)। তারা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! বৈঠকের দাবি কি? তিনি বলেন: পথভোলা লোককে তার গন্তব্য পথ বলে দেয়া, (পথচারীদের) সালামের জবাব দেয়া, চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, সৎকাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজে বাধা দেয়া (দা, হি)।
১।১৬০- عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ إِيَّاكُمْ وَالْجُلُوسَ فِي الطَّرُقَاتِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ مَا لَنَا بُدَّ مِنْ مَّجَالِسِهَا نَتَحَدَّثُ فِيهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَمَّا إِذْ أَبَيْتُمْ فَأَعْطُوا الطَّرِيقَ حَقَّهُ قَالُوا وَمَا حَقُّ الطَّرِيقِ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ غَضُّ الْبَصَرِ وَكَفَّ الْأَذَى وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهَى عَنِ الْمُنْكَرِ
১১৬০। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: রাস্তায় বসার ব্যাপারে তোমরা সাবধান হও। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! রাস্তায় না বসে তো আমাদের উপায় নাই, তথায় আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করি। রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ তোমরা যখন অসম্মত হচ্ছো, তাহলে রাস্তার দাবি পূরণ করো। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাস্তার দাবি কি? তিনি বলেন: চোখের দৃষ্টি সংযত রাখা, কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ, ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের প্রতিরোধ (বু, মু, দা)।
📄 যে ব্যক্তি নিজের পায়ের নলা উদলা করে কূপের পাশে বসে পদদ্বয় কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দেয়
৫৪৬-بَابُ مَنْ أَدْلى رِجْلَيْهِ إِلَى الْبِئْرِ إِذَا جَلَسَ وَكَشَفَ عَنِ السَّاقَيْهِ
১১৬১- عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِى قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمًا إِلَى حَائِطٍ مِّنْ حَوَائِطِ المدينة لحَاجَتِهِ وَخَرَجْتُ فِي أَثَرِهِ فَلَمَّا دَخَلَ الْحَائِطَ جَلَسْتُ عَلَى بَابِهِ وَقُلْتُ لا كُونَنَّ الْيَوْمَ بَوَّابُ النَّبِيِّ ﷺ وَلَمْ يَأْمُرْنِي فَذَهَبَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَضَى حَاجَتَهُ وَجَلَسَ عَلَى قُفَّ الْبِئْرِ وَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلَاهُمَا فِي الْبِئْرِ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ لِيَسْتَأْذِنَ عَلَيْهِ لِيَدْخُلَ فَقُلْتُ كَمَا أَنْتَ حَتَّى اسْتَأْذِنَ لَكَ فَوَقَفَ وَجِئْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبُو بَكْرٍ يَسْتَأْذِنُ عَلَيْكَ فَقَالَ ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ فَدَخَلَ فَجَاءَ عَنْ يَمِينِ النَّبِيِّ ﷺ فَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلَاهُمَا فِي الْبِئْرِ فَجَاءَ عُمَرُ فَقُلْتُ كَمَا أَنْتَ حَتَّى اسْتَأْذِنَ لَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ فَجَاءَ عُمَرُ عَنْ يُسَارِ النَّبِيِّ ﷺ فَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ وَدَلَاهُمَا فِي الْبِئْرِ فَامْتَلَا الْقُفُ فَلَمْ يَكُنْ فِيهِ مَجْلِسَ ثُمَّ جَاءَ عُثْمَانُ فَقُلْتُ كَمَا أَنْتَ حَتَّى اسْتَأْذِنَ لَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ مَعَهَا بَلاءُ يُصِيبُهُ فَدَخَلَ فَلَمْ يَجِدْ مَعَهُمْ مَجْلِسًا فَتَحَوَّلَ حَتَّى جَاءَ مُقَابِلِهِمْ عَلَى شَفَةِ الْبِئْرِ فَكَشَفَ عَنْ سَاقَيْهِ ثُمَّ دَلَاهُمَا فِي الْبِئْرِ فَجَعَلْتُ أَتَمَنَّى أَنْ يَأْتِيَ أَخٌ لِّي
১১৬১। আবু মূসা আশআরী (রা) বলেন, একদিন নবী (স) তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়ার জন্য মদীনার এক বাগানে প্রবেশ করেন। আমিও তাঁর পিছে পিছে গেলাম। তিনি বাগানের ভেতর প্রবেশ করলে আমি এর ফটকে বসে থাকলাম এবং মনে মনে বললাম, আমি আজ অবশ্যই নবী (স)-এর দ্বাররক্ষী হবো, যদিও তিনি আমাকে আদেশ করেননি। নবী (স) গিয়ে তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়ার পর একটি কূপের কিনারায় বসেন এবং তাঁর পায়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। তখন আবু বাকর (রা) এসে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রবেশানুমতি প্রার্থনা করেন। আমি বললাম, অপেক্ষা করুন, যতক্ষণ না আপনার জন্য অনুমতি চাই। তিনি অপেক্ষা করলেন। আমি গিয়ে নবী (স)-কে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আবু বাকর (রা) আপনার সাক্ষাতপ্রার্থী। তিনি বলেন: তাকে অনুমতি দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদও দাও। তিনি প্রবেশ করে নবী (স)-এর ডান দিক দিয়ে এসে নিজ পায়ের নলা উদলা করে কূপের মধ্যে তা ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন। অতঃপর উমার (রা) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী (স) বলেন: তাকেও অনুমতি দাও এবং তাকেও জান্নাতের সুসংবাদ দাও। উমার (রা) নবী (স)-এর বাম পাশ দিয়ে এসে নিজ পদদ্বয়ের নলা উদলা করে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিয়ে বসলেন। ফলে কূপের বেষ্টনী দেয়াল ভরে গেলো এবং তাতে আর বসার জায়গা থাকলো না। অতঃপর উসমান (রা) এলে আমি বললাম, আমি আপনার জন্য অনুমতি না আনা পর্যন্ত স্বস্থানে অপেক্ষা করুন। নবী (স) বলেন: তাকেও আসার অনুমতি দাও এবং তার উপর বিপদ আপতিত হওয়াসহ তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও। তিনি প্রবেশ করে তথায় তাদের সাথে বসার খালি জায়গা পেলেন না। তাই তিনি ঘুরে গিয়ে তাদের সম্মুখভাগে কূপের কিনারে এলেন। তিনিও নিজ পদদ্বয়ের নলা উন্মুক্ত করে দিয়ে তা কূপের মধ্যে ঝুলিয়ে দিলেন। আমি তখন আকাঙক্ষা করতে থাকলাম, আমার ভাইটি যদি এসে পৌছতো এবং আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকলাম যে, তিনি যেন তাকে নিয়ে আসেন। তাঁরা উঠে যাওয়া পর্যন্ত সে এসে পৌঁছেনি। ইবনুল মুসাইয়্যাব (র) বলেন, আমি উক্ত হাদীসের এই ব্যাখ্যা করেছি যে, সেটা তাদের তিনজনের কবর যা এখানে এক স্থানে অবস্থিত, আর উসমান (রা)-র কবর পৃথক স্থানে অবস্থিত (বু, মু, তি)।
১১৬২- عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ خَرَجَ النَّبِيُّ الله فِي طَائِفَةٍ مِّنَ النَّهَارِ لَا يُكَلِّمُنِي وَلَا أَكَلِّمُهُ حَتَّى أَتَى سُوقَ بَنِي قَيْنُقَاعَ فَجَلَسَ بِفِنَاءِ بَيْتِ فَاطِمَةَ فَقَالَ أَتَمْ لُكَعُ أَثَمْ لُكَعُ فَحَبَسَتْهُ شَيْئًا فَظَنَنْتُ أَنَّهَا تَلْبِسَهُ سِخَابًا أَوْ تَغَسَّلَهُ فَجَاءَ يَشْتَدُّ حَتَّى عَانَقَهُ وَقَبْلَهُ وَقَالَ اللَّهُمَّ أَحْبَبْهُ وَأَحْبَبْ مَنْ يُحِبُّهُ .
১১৬২। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) দিনের কোন এক অংশে বের হলেন। (পথিমধ্যে) তিনিও আমার সাথে কোন কথা বলেননি এবং আমিও তাঁর সাথে কোন কথা বলিনি। এমতাবস্থায় তিনি কায়নূকা গোত্রের বাজারে এলেন। (ফেরার পথে) তিনি ফাতেমা (রা)-র বাড়ির আঙ্গিনায় বসে ডেকে বলেন: খোকা (হাসান) কি এখানে আছে, খোকা কি এখানে আছে? ফাতেমা (রা) শিশুকে আসতে দিতে খানিক বিলম্ব করলেন। আমি ভাবলাম, হয়তো তিনি তাকে পোশাক পরাচ্ছেন অথবা গোসল করাচ্ছেন। সে দ্রুতবেগে বের হয়ে আসলে নবী (স) তাকে বুকে চেপে ধরে চুমা দিলেন এবং বললেন: “হে আল্লাহ! তুমি তাকে মহব্বত করো এবং যারা তাকে ভালোবাসে তাদেরকেও মহব্বত করো (বু,মু, আ, আন, হি)।
📄 কেউ কারো সম্মানে স্বস্থান থেকে উঠে দাঁড়ালে সে যেন সেখানে না বসে
৫৪٧-بَابُ إِذَا قَامَ لَهُ رَجُلٌ مِّنْ مَجْلِسِهِ لَمْ يَقْعُدْ فِيهِ
১১৬৩- عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى النَّبِيُّ اللهِ أَنْ يُقِيمَ الرَّجُلَ مِنَ الْمَجْلِسِ ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا قَامَ لَهُ رَجُلٌ مِّنْ مَجْلِسِهِ لَمْ يَجْلِسُ فِيهِ .
১১৬৩। ইবনে উমার (রা) বলেন, কোন ব্যক্তিকে স্বস্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে অপর ব্যক্তিকে সেখানে বসতে নবী (স) নিষেধ করেছেন (বু,মু, দা,তি, আ)। ইবনে উমার (রা)-র সম্মানে কেউ স্বস্থান থেকে উঠে দাঁড়ালে তিনি তার সেই জায়গায় বসতেন না (মু)।
📄 আমানত (বিশ্বস্ততা)
৫৪٨-بَابُ الْأَمَانَة
১১৬৪- عَنْ أَنَس خَدَمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَوْمًا حَتَّى إِذَا رَأَيْتُ أَنِّي قَدْ فَرَغْتُ مِنْ خِدْمَتِهِ قُلْتُ يُقِيلُ النَّبِيُّ الله فَخَرَجَ مِنْ عِنْدِهِ فَإِذَا عَلْمَةٌ يُلْعَبُونَ فَقُمْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ إِلَى لَعِبِهِمْ فَجَاءَ النَّبِيُّ الله فَانْتَهَى إِلَيْهِمْ فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثُمَّ دَعَانِي فَبَعَثَنِي إِلى حَاجَةٍ فَكَانَ فِي فِي حَتَّى أَتَيْتُهُ وَأَبْطَأْتُ عَلَى أُمِّي فَقَالَتْ مَا حَبَسَكَ قُلْتُ بَعَثَنِي النَّبِي إِلى حَاجَةٍ قَالَتْ مَا هِيَ قُلْتُ إِنَّهُ سِرُّ لِّلنَّبِيِّ اللَّهُ فَقَالَتْ احْفَظُ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ سِرَّهُ فَمَا حَدَّثْتُ بِتِلْكَ الْحَاجَةِ أَحَدًا مِّنَ الْخَلْقِ فَلَوْ كُنْتُ مُحَدِّثًا حَدَّثْتُكَ بِهَا
১১৬৪। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। এক দিন আমি নবী (স)-এর খেদমত করলাম। শেষে আমি যখন দেখলাম যে, আমি তাঁর খেদমত থেকে অবসর হয়েছি, আমি ভবালাম, নবী (স) হয়তো দুপুরের বিশ্রাম নিবেন। তাই আমি তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে চলে গেলাম। পথিমধ্যে শিশুরা খেলছিল। আমি তাদের খেলা দেখার জন্য দাঁড়িয়ে গেলাম। নবী (স) এসে তাদের নিকট পৌঁছে তাদের সালাম দিলেন। অতঃপর আমাকে ডেকে একটি প্রয়োজনে পাঠালেন। আমি তার প্রয়োজন সেরে তাঁর নিকট ফিরে এলাম এবং মায়ের নিকট ফিরে যেতে আমার বিলম্ব হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, বিলম্বের কারণ কি? আমি বললাম, নবী (স) একটি প্রয়োজনে আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তা কি? আমি বললাম, তা নবী (স)-এর গোপনীয় বিষয়। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর গোপনীয় বিষয়ের হেফাজত করো। সৃষ্টিকূলের কারো সাথে আমি সে বিষয়ে আলোচনা করিনি। আমি যদি তা কারো কাছে বলতাম, তবে তা আপনার কাছে বলতাম (বু, মু, আ, আন)।