📘 আল আদাবুল মুফরাদ 📄 পরে আসা ব্যক্তি মজলিসের শেষ প্রান্তে বসবে

📄 পরে আসা ব্যক্তি মজলিসের শেষ প্রান্তে বসবে


৫৩৯-بَابُ يَجْلِسُ الرَّجُلُ حَيْثُ انْتَهَى
১১৫১- عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ كُنَّا إِذَا آتَيْنَا النَّبِيُّ ﷺ جَلَسَ أَحَدُنَا حَيْثُ انْتَهَى .
১১৫১। জাবের ইবনে সামুরা (রা) বলেন, আমরা নবী (স)-এর মজলিসে এসে যেখানে জায়গা (খালি) পাওয়া যেতো, আমাদের যে কেউ সেখানে বসে যেতো (দা, তি, না)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ 📄 কেউ যেন দুইজনের মাঝখানে ফাঁক করে না বসে

📄 কেউ যেন দুইজনের মাঝখানে ফাঁক করে না বসে


৫৪০-بَابُ لَا يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَيْنِ
১১৫২- عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ لَا يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَ اثنين الا باذنهما
১১৫২। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: কোন ব্যক্তির জন্য দুইজনের মাঝে তাদের অনুমতি ছাড়া ফাঁক করে বসা হালাল নয় (দা, তি, আ)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ 📄 মজলিসে লোকজনের ঘাড় টপকিয়ে সভাপতির নিকট গমন

📄 মজলিসে লোকজনের ঘাড় টপকিয়ে সভাপতির নিকট গমন


৫৪১-بَابُ يَتَخَطَّى إِلَى صَاحِبِ الْمَجْلِسِ
১১৫৩- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ كُنْتُ فِيمَنْ حَمَلَهُ حَتَّى أَدْخَلْنَاهُ الدَّارَ فَقَالَ لِي يَا ابْنَ أَخِي اذْهَبْ فَانْظُرْ مَنْ أَصَابَنِي وَمَنْ أَصَابَ مَعِى فَذَهَبْتُ فَجِئْتُ لِأُخْبِرَهُ فَإِذَا الْبَيْتُ مَلَانٌ فَكَرِهْتُ أَنْ أَتَخَطَّى رِقَابَهُمْ وَكُنْتُ حَدِيثُ السِّنَّ فَجَلَسْتُ وَكَانَ يَأْمُرُ إِذَا أَرْسَلَ أَحَدًا بِالْحَاجَةِ أَنْ يُخْبَرَهُ بِهَا وَإِذَا هُوَ مُسَمًّى وَجَاءَ كَعْبٌ فَقَالَ وَاللَّهِ لَئِنْ دَعَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ لَيُبْقِيَنَّهُ اللهُ وَلَيَرْفَعَنَّهُ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ حَتَّى يَفْعَلَ فِيهَا كَذَا وَكَذَا حَتَّى ذَكَرَ الْمُنَافِقِينَ فَسَمَّى وَكَنَّى قُلْتُ أَبَلِّغُهُ مَا تَقُولُ قَالَ مَا قُلْتُ الا وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ تَبْلُغَهُ فَتَشَجَّعْتُ فَقُمْتُ فَتَخَطَأْتُ رِقَابَهُمْ حَتَّى جَلَسْتُ عِنْدَ رَأْسِهِ قُلْتُ انَّكَ أَرْسَلْتَنى بكذا وَأَصَابَ مَعَكَ كَذَا ثَلاثَةُ عَشَرَ وَأَصَابَ كُلَيْباً الْجَزَارُ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ عِنْدَ المِهْرَاسِ وَإِنَّ كَعْبًا يَحْلِفُ بِاللهِ بِكَذَا فَقَالَ أَدْعُوا كَعْبًا فَدَعَى فَقَالَ مَا تَقُولُ قَالَ أَقُولُ كَذَا وَكَذَا قَالَ لا وَاللَّهِ لا أَدْعُو وَلَكِنْ شَقِيَ عُمَرُ إِنْ لَمْ يَغْفِرِ اللَّهُ لَهُ.
১১৫৩। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, উমার (রা) সন্ত্রাসী কর্তৃক আহত হলে যারা তাকে ধরে তার ঘরে নিয়ে আসেন, আমিও তাদের সাথে ছিলাম। তিনি আমাকে বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! বাইরে গিয়ে দেখো, কে আমাকে হামলা করেছে এবং আমার সাথে আর কে আহত হয়েছে? আমি বাইরে গিয়ে তাকে খবর দেয়ার জন্য ফিরে এলাম। দেখি যে, ঘর লোকে লোকারণ্য। তাই আমি তাদের ঘার ডিঙ্গিয়ে সামনে যেতে পছন্দ করলাম না। আমি ছিলাম উঠতি বয়সের যুবক। অতএব আমি বসে পড়লাম। আর তিনি কাউকে কোন কাজে পাঠালে নির্দেশ দিতেন, সে যেন ফিরে এসে তাকে তা অবহিত করে। তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। ইত্যবসরে কাব (রা) এসে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমীরুল মুমিনীনের দোয়া করা উচিৎ যাতে আল্লাহ তাকে এই উম্মাতের জন্য জীবিত রাখেন। অন্যথায় তিনি তাকে তুলে নিলে এই এই (অনিষ্ট) ঘটতে পারে। এমনকি কাব (রা) মোনাফিকদের নাম-উপনাম ও তাদের সংখ্যা পর্যন্ত উল্লেখ করেন। আমি বললাম, আপনি যা বললেন তা আমি তার নিকট পৌছাবো। কাব (রা) বলেন, তুমি তার কাছে পৌছাবে এই উদ্দেশেই তো আমি বলেছি। এবার আমি (ইবনে আব্বাস) সাহস সঞ্চার করে উঠে দাঁড়ালাম এবং লোকজনের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে তার শিয়রে গিয়ে বসলাম। আমি বললাম, আপনি আমাকে এজন্য পাঠিয়েছিলেন। আপনার সাথে আরো তেরোজন আহত হয়েছেন। কুলাইব আল-জায্যারও আহত হয়েছেন, তখন তিনি উখলির (পানির চৌবাচ্চা) নিকট উযু করছিলেন। আর কাব (রা) আল্লাহর শপথ করে এই এই কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কাবকে ডাকো। তিনি কাব (রা)-কে ডাকলেন। উমার (রা) জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি বলেছেন? তিনি বলেন, আমি এই এই কথা বলেছি। উমার (রা) বলেন, না, আল্লাহর শপথ! আমি দোয়া করবো না। আল্লাহ যদি উমারকে ক্ষমা না করেন তবে সে তো হতভাগ্য।
১১৫৪- عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو وَعِنْدَهُ الْقَوْمُ جُلُوسٌ يَتَخَطَّى إِلَيْهِ فَمَنعُوهُ فَقَالَ أَتْرُكُوا الرَّجُلَ فَجَاءَ حَتَّى جَلَسَ إِلَيْهِ فَقَالَ أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَّسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِّسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ
১১৫৪। শাবী (র) বলেন, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা)-র নিকট এলো। তার নিকট একদল লোক বসা ছিল। সে তাদের ডিঙ্গিয়ে তার নিকট যেতে থাকলে তারা তাকে বাধা দেয়। তিনি বলেন, তোমরা তাকে বাধা দিও না। সে এসে তার নিকট বসার পর বলে, আপনি আমাকে এমন কিছু অবহিত করুন যা আপনি রাসূলুল্লাহ (স)-এর নিকট শুনেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে বলতে শুনেছিঃ "যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে মুসলমানরা নিরাপদ থাকে সে-ই হলো প্রকৃত মুসলমান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ পরিহার করে সে-ই হলো প্রকৃত মুহাজির" (বু, মু, দা, না, দার, হি, আ)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ 📄 সহযোগী অধিক সম্মানের পাত্র

📄 সহযোগী অধিক সম্মানের পাত্র


৫৪২-بَابُ أَكْرَمُ النَّاسِ عَلَى الرَّجُلِ جَلَيْسُهُ
১১৫৫- عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسِ أَكْرَمُ النَّاسَ عَلَى جَلَيْسِي
১১৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর (র) বলেন, ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন : লোকজনের মধ্যে আমার সহযোগীরাই আমার নিকট অধিক সম্মানের পাত্র (নব, হি)।
১১৫৬- عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَكْرَمُ النَّاسِ عَلَى جَلِيْسِي أَنْ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ حَتَّى يَجْلِسَ إِلَيَّ .
১১৫৬। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, আমার সঙ্গীরাই অন্যদের চেয়ে আমার নিকট অধিক সম্মানের পাত্র, যদিও তারা লোকজনের ঘাড় টপকিয়ে এসে আমার নিকট বসে (পূর্বোক্ত বরাত)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px