📄 কারো কথা হে শ্যালিকা হে পাগলী
৩৪৪- بَابُ قَوْلِ الرَّجُلِ يَا هَنْتَاهُ
৮০৪- عَنْ حَمْنَةَ بِنْتِ جَحْشٍ قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَا هِيَ يَا هَنْتَاهُ .
৮০৪। হামনা বিনতে জাহশ (রা) বলেন, নবী (স) বলেন : হে শ্যালিকা (বা পাগলী)! এটা কি (দা, ই, তি)?
৮০৫- عَنْ حَبِيبِ بْنِ صَهْبَانَ الْأَسَدِى رَأَيْتُ عَمَّاراً صَلَّى الْمَكْتُوبَةَ ثُمَّ قَالَ لِرَجُلٍ إِلى جَنْبِهِ يَا هَنَاهُ ثُمَّ قَامَ .
৮০৫। হাবীব ইবনে সাহহ্বান আল-আসাদী (র) বলেন, আমি আম্মার (রা)-কে ফরয নামায পড়তে দেখলাম। অতঃপর তিনি তার পাশের লোকটিকে বলেন, হে পাগলা! অতঃপর (আবার নামাযে) দাঁড়ালেন (হা)।
৮০৬- عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَرْدَفَنِي النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ هَلْ مَعَكَ مِنْ شِعْرِ أمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ قُلْتُ نَعَمْ فَانْشَدَتُهُ بَيْتًا فَقَالَ هِيْهِ حَتَّى أَنْشَدْتُهُ مِائَةَ بَيْتٍ .
৮০৬। আমর ইবনুশ শারীদ (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর বাহনে পেছন দিকে আমাকে তুলে নিলেন। তিনি বলেন: তোমার স্মৃতিতে (কবি) উমাইয়্যা ইবনে আবুস সান্ত-এর কবিতার কোন কিছু আছে কি? আমি বললাম, হাঁ। আমি তাকে একটি পংক্তি আবৃত্তি করে শুনালাম। তিনি বলেন: আরও আবৃত্তি করো। শেষ পর্যন্ত আমি তাকে এক শত পংক্তি আবৃত্তি করে শুনালাম (মু)।
📄 কারো কথা আমি ক্লান্ত-শ্রান্ত
٣٤٧ - بَابُ قَوْلِ الرَّجُلِ إِنِّي كَسْلَانٌ
৮০৭- عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي مُوسَى قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ لَا تَدَعْ قِيَامَ اللَّيْلِ فَإِنَّ النَّبِيُّ كَانَ لَا يَدْرُهُ وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ كَسَلَ صَلَّى قَاعِداً .
৮০৭। আবদুল্লাহ ইবনে আবু মূসা (র) বলেন, আয়েশা (রা) বললেন, রাতে দাঁড়ানো (নফল নামায পড়া) কখনো ত্যাগ করো না। কেননা নবী (স) কখনো তা ত্যাগ করেননি। তিনি অসুস্থ থাকলে বা ক্লান্তি বোধ করলে বসে বসে নামায পড়তেন (দা)।
📄 যে ব্যক্তি অলসতা থেকে পানাহ চায়
٣٤٨ - بَابُ مَنْ تَعَوَّذَ مِنَ الْكَسْلِ
৮০৮- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَكْثُرُ أَنْ يَقُولَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمَّ وَالْحُزْنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَضَلَعِ الدِّينِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ .
৮০৮। আনাস ইবনে মালেক (রা) বলেন, নবী (স) অধিক পরিমাণে বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখজনক অবস্থা থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং ঋণভার ও লোকের (শত্রুর) আধিপত্য থেকে" (বু,দা, না,তি)।
📄 কারো কথা আমার জান আপনার জন্য উৎসর্গিত
৩৪২-باب: “আমার জান আপনার জন্য উৎসর্গিত” কথাটি বলা।
৩৪৯-অনুচ্ছেদ: কারো কথা, আমার জান আপনার জন্য উৎসর্গিত।
৮০৯- عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ أَبُو طَلْحَةَ يَجْلِسُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَيَنْشُرُ كِنَانَتَهُ فَيَقُولُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَجْهِي لِوَجْهِكَ وِقَاءٌ وَنَفْسِي لِنَفْسِكَ الْفِدَاءُ.
৮০৯। আনাস বিন মালিক (রা) বলেন, আবু তালহা (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে হাঁটু গেড়ে বসতেন এবং তার তীরগুলো ছড়িয়ে দিয়ে বলতেন, হে প্রিয় নবী! আমার মুখমণ্ডল আপনার মুখমণ্ডলের ঢালস্বরূপ। আমার জান আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। (ইবনুস সুন্নী)
৮১০- عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ انْطَلَقَ النَّبِيُّ ﷺ إِلَى الْبَقِيعِ وَانْطَلَقْتُ فِي أَثَرِهِ فَلَمَّا رَآنِي قَالَ يَا أَبَا ذَرٍّ قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي قَالَ الْأَكْثَرُونَ هُمُ الْأَقَلُّونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا فَقُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ لِي يَا أَبَا ذَرٍّ قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي قَالَ هَذَا أُحُدٌ لَوْ أَنَّهُ ذَهَبٌ لِآلِ مُحَمَّدٍ مَا سَرَّنِي أَنْ تَمُرَّ عَلَيَّ ثَالِثَةٌ وَعِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ أَوْ مِثْقَالٌ ثُمَّ انْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا سَاحَةً فَانْطَلَقَ إِلَى نَاحِيَةِ السَّاحَةِ فَظَنَنْتُ أَنَّهُ إِنَّمَا ذَهَبَ لِحَاجَةٍ فَجَلَسْتُ فَلَمَّا أَبْطَأَ عَلَيَّ خَشِيتُ عَلَيْهِ ثُمَّ سَمِعْتُ حِسًّا فَتَكَلَّمَ فَلَمْ أَلْبَثْ أَنْ جَاءَنِي وَحْدَهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ كُنْتَ تُسَارُّ اللَّيْلَةَ قَالَ أَوْ سَمِعْتَ ذَلِكَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَانِي فَبَشَّرَنِي أَنَّ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ فَقُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ.
৮১০। আবু যার (রা) বলেন, নবী ﷺ বাকী নামক কবরস্থানের দিকে গেলেন। আমিও তাঁর অনুগামী হলাম। তিনি পিছনে ফিরে আমাকে দেখতে পেয়ে বলেন: হে আবু যার! আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় দরবারে হাযির। আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত। তিনি বলেন: সম্পদশালীরাই হবে কিয়ামতের দিন দরিদ্র, তবে যারা এরূপ এরূপ (দান-খয়রাত) করবে তারা ব্যতীত। আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সমধিক জ্ঞাত। তিনি এরূপ তিনবার বলেন। অতঃপর উহুদ পাহাড় আমাদের সামনে পড়লো। তিনি বলেন: হে আবু যার! আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি আপনার সৌভাগ্যময় দরবারে হাযির। আপনার জন্য আমি উৎসর্গিত। তিনি বলেন: “এই উহুদ পাহাড় যদি মুহাম্মদের পরিবারের জন্য সোনায় পরিণত হয়, তবে রাত আসা অবধি তাদের নিকট এক দীনার বা এক মিসকাল পরিমাণ সোনা অবশিষ্ট থাকলেও তাতে আমি খুশি হবো না”। অতঃপর আমরা একটি উন্মুক্ত মাঠে উপনীত হলাম। তিনি মাঠের এক প্রান্তে চলে গেলেন। আমি ভাবলাম, তিনি হয়তো প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গেছেন। তাই আমি একপাশে বসে থাকলাম। আমার কাছে ফিরে আসতে তাঁর বিলম্ব
২৮৭ মুসলিম
হলে তাঁর সম্পর্কে আমার (বিপদের) আশংকা হলো। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির সাথে ফিস ফিস করে তাঁর কথা বলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। অতঃপর তিনি একাকী আমার নিকট ফিরে এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কার সাথে গোপনে কথা বললেন? তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি তা শুনতে পেয়েছো? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তিনি জিবরাঈল (আ)। তিনি আমার নিকট এসে আমাকে এই সুসংবাদ দিলেন যে, আমার উম্মাতের যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে কোন কিছু শরীক না করে মারা যাবে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদি সে যেনা করে থাকে, যদি সে চুরি করে থাকে তবুও? তিনি বলেন: হাঁ তবুও (বু, মু)।