📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 মেহমান ভোরবেলা আপ্যায়নকারীর আঙ্গিনায় উপস্থিত হলে

📄 মেহমান ভোরবেলা আপ্যায়নকারীর আঙ্গিনায় উপস্থিত হলে


٣١٤ - بَابُ إِذَا أَصْبَحَ بِفَنَائِهِ
৩১৪- অনুচ্ছেদঃ মেহমান ভোরবেলা আপ্যায়নকারীর আঙ্গিনায় উপস্থিত হলে।
৭৪৯- عَنِ المِقْدَامِ أَبِي كَرِيْمَةَ السَّامِي قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَيْلَةُ الضَّيْفِ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَصْبَحَ بِفِنَائِهِ فَهُوَ دَيْنٌ عَلَيْهِ إِنْ شَاءَ فَإِنْ شَاءَ اقْتَضَاهُ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَهُ .
৭৪৯। মিকদাম আবু কারীমা আস-সামী (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ রাতের বেলা আগত মেহমানের মেহমানদারি করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। আর রাতের বেলা তার নিকট মেহমান অবস্থান করলে, সে তার জন্য ঋণস্বরূপ। এখন সে ইচ্ছা করলে এই ঋণ (মেহমানকে পানাহার করানো) পরিশোধ করুক অথবা চাইলে তা ত্যাগ করুক (দা,ই, দার, হা, তহা, কু,আ)।

٣١٤ - بَابُ إِذَا أَصْبَحَ بِفَنَائِهِ
৭৪৯- عَنِ المِقْدَامِ أَبِي كَرِيْمَةَ السَّامِي قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَيْلَةُ الضَّيْفِ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَصْبَحَ بِفِنَائِهِ فَهُوَ دَيْنٌ عَلَيْهِ إِنْ شَاءَ فَإِنْ شَاءَ اقْتَضَاهُ وَإِنْ شَاءَ تَرَكَهُ .
৭৪৯। মিকদাম আবু কারীমা আস-সামী (রা) বলেন, নবী (স) বলেছেনঃ রাতের বেলা আগত মেহমানের মেহমানদারি করা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। আর রাতের বেলা তার নিকট মেহমান অবস্থান করলে, সে তার জন্য ঋণস্বরূপ। এখন সে ইচ্ছা করলে এই ঋণ (মেহমানকে পানাহার করানো) পরিশোধ করুক অথবা চাইলে তা ত্যাগ করুক (দা,ই, দার, হা, তহা, কু,আ)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 বঞ্চিত অবস্থায় মেহমানের ভোর হলে

📄 বঞ্চিত অবস্থায় মেহমানের ভোর হলে


٣١٥- بَابُ إِذَا أَصْبَحَ الضَّيْفُ مَحْرُومًا
৩১৫- অনুচ্ছেদঃ বঞ্চিত অবস্থায় মেহমানের ভোর হলে।
৭৫০- عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ بَعَثْتَنَا فَنَنْزِلُ بِقَوْمٍ فَلَا يَقْرُونَا فَمَا تَرِي فِي ذلِكَ فَقَالَ لَنَا إِنْ نَزَلْتُمْ بِقُوْمٍ فَأُمِرَ لَكُمْ بِمَا يَنْبَغِي لِلضَّيْفِ فَاقْبَلُوا فَإِنْ لَمْ يَفْعَلُوا فَخُذُوا مِنْهُمْ حَقَّ الضَّيْفِ الَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ.
৭৫০। উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে বাইরে পাঠিয়ে থাকেন। আমরা এমন সব গোত্রের এলাকায় অবতরণ করি যারা আমাদের মেহমানদারি করে না। এ ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্ত কি? রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ যদি তোমরা কোন গোত্রের এলাকায় অবতরণ করো এবং তারা সাধ্যমত তোমাদের জন্য মেহমানদারির ব্যবস্থা করে তবে তা সাদরে গ্রহণ করো। কিন্তু যদি তারা (অনুরূপ কোন ব্যবস্থা) না করে, তবে তাদের থেকে এতোটা হক আদায় করে নাও যা দেয়া তাদের উচিত ছিল (বু, মু, দা, তি, না)।

٣١٥- بَابُ إِذَا أَصْبَحَ الضَّيْفُ مَحْرُومًا
৭৫০- عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ بَعَثْتَنَا فَنَنْزِلُ بِقَوْمٍ فَلَا يَقْرُونَا فَمَا تَرِي فِي ذلِكَ فَقَالَ لَنَا إِنْ نَزَلْتُمْ بِقُوْمٍ فَأُمِرَ لَكُمْ بِمَا يَنْبَغِي لِلضَّيْفِ فَاقْبَلُوا فَإِنْ لَمْ يَفْعَلُوا فَخُذُوا مِنْهُمْ حَقَّ الضَّيْفِ الَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ.
৭৫০। উকবা ইবনে আমের (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (স)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে বাইরে পাঠিয়ে থাকেন। আমরা এমন সব গোত্রের এলাকায় অবতরণ করি যারা আমাদের মেহমানদারি করে না। এ ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্ত কি? রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ যদি তোমরা কোন গোত্রের এলাকায় অবতরণ করো এবং তারা সাধ্যমত তোমাদের জন্য মেহমানদারির ব্যবস্থা করে তবে তা সাদরে গ্রহণ করো। কিন্তু যদি তারা (অনুরূপ কোন ব্যবস্থা) না করে, তবে তাদের থেকে এতোটা হক আদায় করে নাও যা দেয়া তাদের উচিত ছিল (বু, মু, দা, তি, না)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 সশরীরে মেহমানের খেদমত করা

📄 সশরীরে মেহমানের খেদমত করা


٣١٦ - بَابُ خِدْمَةِ الرَّجُلِ الضَّيْفَ بِنَفْسِهِ
৩১৬- অনুচ্ছেদঃ সশরীরে মেহমানের খেদমত করা।
৭৫১- عَنْ أَبِي حَازِمٍ قَالَ سَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ أَنْ أَبَا أُسَيْدِ السَّاعِدِي دَعَا النَّبِيُّ فِي عُرْسِهِ وَكَانَتْ امْرَأَتُهُ خَادِمُهُمْ يَوْمَئِذٍ وَهِيَ الْعَرُوسُ فَقَالَتْ أَتَدْرُونَ مَا أَنْقَعْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنْقَعْتُ لَهُ تَمَرَاتٍ مِّنَ اللَّيْلِ فِي تَوْرٍ.
৭৫১। সাহল ইবনে সাদ (রা) থেকে বর্ণিত। আবু উসাইদ সাইদী (রা) তার বাসর রাতে নবী (স)-কে দাওয়াত দিলেন। তার নববধূ সেদিন তাদের আহার পরিবেশন করেন। স্ত্রী বলেন, আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য সেদিন আমি ছিলে-চেঁছে কি পরিবেশন করেছিলাম? রাতের বেলা আমি তাঁর জন্য টাটকা খেজুর একটি মাটির পাত্রে ভিজিয়ে রেখেছিলাম (বু,মু)।

٣١٦ - بَابُ خِدْمَةِ الرَّجُلِ الضَّيْفَ بِنَفْسِهِ
৭৫১- عَنْ أَبِي حَازِمٍ قَالَ سَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ أَنْ أَبَا أُسَيْدِ السَّاعِدِي دَعَا النَّبِيُّ فِي عُرْسِهِ وَكَانَتْ امْرَأَتُهُ خَادِمُهُمْ يَوْمَئِذٍ وَهِيَ الْعَرُوسُ فَقَالَتْ أَتَدْرُونَ مَا أَنْقَعْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنْقَعْتُ لَهُ تَمَرَاتٍ مِّنَ اللَّيْلِ فِي تَوْرٍ.
৭৫১। সাহল ইবনে সাদ (রা) থেকে বর্ণিত। আবু উসাইদ সাইদী (রা) তার বাসর রাতে নবী (স)-কে দাওয়াত দিলেন। তার নববধূ সেদিন তাদের আহার পরিবেশন করেন। স্ত্রী বলেন, আপনারা কি জানেন, রাসূলুল্লাহ (স)-এর জন্য সেদিন আমি ছিলে-চেঁছে কি পরিবেশন করেছিলাম? রাতের বেলা আমি তাঁর জন্য টাটকা খেজুর একটি মাটির পাত্রে ভিজিয়ে রেখেছিলাম (বু,মু)।

📘 আল আদাবুল মুফরাদ > 📄 কোন ব্যক্তি মেহমানের সামনে আহার পরিবেশন করে নিজে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলে

📄 কোন ব্যক্তি মেহমানের সামনে আহার পরিবেশন করে নিজে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলে


৩১৭- অনুচ্ছেদ : কোন ব্যক্তি মেহমানের সামনে আহার পরিবেশন করে নিজে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলে।
৭৫২- عَنْ نُعَيْمِ بْنِ قَنَابٍ قَالَ أَتَيْتُ أَبَا ذَرٍّ فَلَمْ أَجِدْهُ فِي الْبَيْتِ فَسَأَلْتُ امْرَأَتَهُ فَقَالَتْ خَرَجَ فِي حَاجَةٍ وَهُوَ جَائِيَكَ الْآنَ فَقَعَدْتُ أَنْتَظِرُهُ فَجَاءَ وَمَعَهُ بَعِيرَانِ قَدْ رُبِطَ أَحَدُهُمَا بِالْآخَرِ وَعَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَزَادَةٌ فَأَنَاخَهُمَا ثُمَّ جَاءَ فَقُلْتُ يَا أَبَا ذَرٍّ مَا مِنْ أَحَدٍ أَلْقَاهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْكَ وَلَا أَبْغَضُ إِلَيَّ مِنْكَ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي كَيْفَ اجْتَمَعَ هَذَانِ فَقَالَ قُلْتُ إِنِّي وَأَدْتُ ابْنَةً لِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَأَخْشَى أَنْ تَقُولَ لَيْسَ لَكَ تَوْبَةٌ وَلَا مَخْرَجٌ وَلَكِنْ أَرْجُو أَنْ تَقُولَ لِي تَوْبَةٌ وَمَخْرَجٌ فَقَالَ أَفِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ثُمَّ قَالَ لِامْرَأَتِهِ ائْتِينَا بِطَعَامٍ فَقَالَتْ لَا وَاللَّهِ مَا عِنْدَنَا شَيْءٌ فَقَالَ لَهَا ائْتِينَا بِطَعَامٍ فَقَالَتْ لَا وَاللَّهِ مَا عِنْدَنَا شَيْءٌ فَتَنَازَعَا حَتَّى ارْتَفَعَ صَوْتُهُمَا فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ أَلَا تَرَيْنَ أَنَّكِ لَا تَعْدِينَ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ لَهُ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِيهِنَّ قَالَ إِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ أَعْوَجَ فَإِنْ أَرَدْتَ أَنْ تُقِيمَهَا كَسَرْتَهَا وَإِنْ تَرَكْتَهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا وَفِيهَا عِوَجٌ فَذَهَبَتْ فَلَمْ تَلْبَثْ أَنْ جَاءَتْ بِسَرِيدٍ كَأَنَّهَا هِرَّةٌ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ كُلْ فَإِنِّي صَائِمٌ فَقُلْتُ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ مَا ظَنَنْتُ أَنْ تَكْذِبَ عَلَيَّ قَطُّ فَقَالَ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي مَا كَذَبْتُ عَلَيْكَ مُنْذُ لَقِيتُكَ قُلْتُ أَلَسْتَ صَائِمًا قَالَ إِنِّي صَائِمٌ ثَلَاثًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَقَدْ حَلَّ لِي أَنْ آكُلَ.
৭৫২। নু'আইম ইবনে ক্বনাব (র) বলেন, আমি আবু যার (রা)-এর নিকট এসে তাকে ঘরে পেলাম না। আমি তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু যার (রা) কোথায়? তিনি বলেন, কোন কাজে বাইরে গিয়েছেন, এখনই আপনার সাক্ষাতে এসে যাবেন। অতএব আমি তার অপেক্ষায় বসে থাকলাম। তিনি দু'টি উটসহ আসলেন, যার একটির পিছনে অপরটি বাধা এবং প্রতিটির ঘাড়ে ছিল একটি করে মশক। তিনি সেই দু'টি নামালেন, অতঃপর এলেন। আমি বললাম, হে আবু যার! যাদের সাথে আমি দেখা-সাক্ষাত করি তাদের মধ্যে আমার কাছে আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় কেউ নাই। আবার তাদের মধ্যে আপনার চেয়ে অধিক অপ্রিয়ও আমার কাছে কেউ নাই। তিনি বলেন, তোমার পিতা আল্লাহর জন্য কোরবান হোক। এই দু'টি বিপরীত জিনিস একত্র হলো কি করে। তিনি বলেন, আমি জাহিলী যুগে একটি কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিয়েছি। আমার
২৬৯ মুসলিম
আশংকা হয় যে, আমি আপনার সাথে সাক্ষাত করলেই আপনি বলবেন, তোমার তওবা করার বা নিষ্কৃতি লাভের কোন সুযোগ নাই। কিন্তু আমি আকাঙ্খা করতাম যে, আপনি বলবেন, তোমার তওবা করার ও নিস্তার লাভের উপায় আছে। তিনি বলেন, তুমি কি এটি জাহিলী যুগে করেছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন, অতীতের গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করেছেন। তিনি তার স্ত্রীকে বলেন, আমাদের জন্য খাবার নিয়ে এসো। মহিলা অসম্মত হলো। তিনি পুনরায় তাকে আদেশ করলে এবারও সে অস্বীকার করলো। শেষে দু'জনের কথা কাটাকাটির স্বর উচ্চ মাত্রায় পৌঁছলো। তিনি বলেন, এই যে! তোমরা তো রাসূলুল্লাহ (স)-এর বক্তব্য গণায় ধরো না। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (স) তাদের সম্পর্কে কি বলেছেন? তিনি বলেছেনঃ "নিশ্চয় নারী হচ্ছে পাঁজরের বাঁকা হাড়। তুমি যদি তা সোজা করতে চাও তবে তাকে খানখান করে ফেলবে। আর তুমি যদি তাদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করে যাও, তবুও তাদের বাঁকা স্বভাব বিদ্যমান থাকবেই"। মহিলাটি চলে গেলো এবং সারীদ (ঝোলে ভিজিনো রুটি) নিয়ে বিড়ালের মত চুপিসারে ফিরে এলো। আবু যার (রা) আমাকে বলেন, তুমি খাও, আমার কথা চিন্তা করো না। আমি রোযা আছি। অতঃপর তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং ধীরেসুস্থে নামায পড়লেন। নামাযশেষে তিনি আহার করলেন। আমি বললাম, ইন্না লিল্লাহ! আমি কখনও আশংকা করিনি যে, আপনি আমাকে মিথ্যা কথা বলবেন! তিনি বলেন, তোমার পিতা আল্লাহর জন্য কোরবান হোক! তুমি সাক্ষাত করার সময় থেকে আমি তোমাকে কোন মিথ্যা কথা বলিনি। আমি বললাম, আপনি কি আমাকে বলেননি যে, আপনি রোযাদার? তিনি বলেন, হাঁ, আমি এই মাসে তিন দিন রোযা রেখেছি। আমার জন্য তার সওয়াব লেখা হয়েছে এবং আমার জন্য খাদ্য গ্রহণ হালাল হয়ে গেছে (না, দার, আ ২১৬৬৫)।

৩১৭- باب: مَنْ قَدَّمَ إِلَى ضَيْفِهِ طَعَامًا فَقَامَ يُصَلِّي
৭৫২- عَنْ نُعَيْمِ بْنِ قَنَابٍ قَالَ أَتَيْتُ أَبَا ذَرٍّ فَلَمْ أَجِدْهُ فِي الْبَيْتِ فَسَأَلْتُ امْرَأَتَهُ فَقَالَتْ خَرَجَ فِي حَاجَةٍ وَهُوَ جَائِيَكَ الْآنَ فَقَعَدْتُ أَنْتَظِرُهُ فَجَاءَ وَمَعَهُ بَعِيرَانِ قَدْ رُبِطَ أَحَدُهُمَا بِالْآخَرِ وَعَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَزَادَةٌ فَأَنَاخَهُمَا ثُمَّ جَاءَ فَقُلْتُ يَا أَبَا ذَرٍّ مَا مِنْ أَحَدٍ أَلْقَاهُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْكَ وَلَا أَبْغَضُ إِلَيَّ مِنْكَ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي كَيْفَ اجْتَمَعَ هَذَانِ فَقَالَ قُلْتُ إِنِّي وَأَدْتُ ابْنَةً لِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَأَخْشَى أَنْ تَقُولَ لَيْسَ لَكَ تَوْبَةٌ وَلَا مَخْرَجٌ وَلَكِنْ أَرْجُو أَنْ تَقُولَ لِي تَوْبَةٌ وَمَخْرَجٌ فَقَالَ أَفِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ثُمَّ قَالَ لِامْرَأَتِهِ ائْتِينَا بِطَعَامٍ فَقَالَتْ لَا وَاللَّهِ مَا عِنْدَنَا شَيْءٌ فَقَالَ لَهَا ائْتِينَا بِطَعَامٍ فَقَالَتْ لَا وَاللَّهِ مَا عِنْدَنَا شَيْءٌ فَتَنَازَعَا حَتَّى ارْتَفَعَ صَوْتُهُمَا فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ أَلَا تَرَيْنَ أَنَّكِ لَا تَعْدِينَ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ لَهُ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِيهِنَّ قَالَ إِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ أَعْوَجَ فَإِنْ أَرَدْتَ أَنْ تُقِيمَهَا كَسَرْتَهَا وَإِنْ تَرَكْتَهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا وَفِيهَا عِوَجٌ فَذَهَبَتْ فَلَمْ تَلْبَثْ أَنْ جَاءَتْ بِسَرِيدٍ كَأَنَّهَا هِرَّةٌ فَقَالَ أَبُو ذَرٍّ كُلْ فَإِنِّي صَائِمٌ فَقُلْتُ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ مَا ظَنَنْتُ أَنْ تَكْذِبَ عَلَيَّ قَطُّ فَقَالَ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي مَا كَذَبْتُ عَلَيْكَ مُنْذُ لَقِيتُكَ قُلْتُ أَلَسْتَ صَائِمًا قَالَ إِنِّي صَائِمٌ ثَلَاثًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَقَدْ حَلَّ لِي أَنْ آكُلَ.
৭৫২। নু'আইম ইবনে ক্বনাব (র) বলেন, আমি আবু যার (রা)-এর নিকট এসে তাকে ঘরে পেলাম না। আমি তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম, আবু যার (রা) কোথায়? তিনি বলেন, কোন কাজে বাইরে গিয়েছেন, এখনই আপনার সাক্ষাতে এসে যাবেন। অতএব আমি তার অপেক্ষায় বসে থাকলাম। তিনি দু'টি উটসহ আসলেন, যার একটির পিছনে অপরটি বাধা এবং প্রতিটির ঘাড়ে ছিল একটি করে মশক। তিনি সেই দু'টি নামালেন, অতঃপর এলেন। আমি বললাম, হে আবু যার! যাদের সাথে আমি দেখা-সাক্ষাত করি তাদের মধ্যে আমার কাছে আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় কেউ নাই। আবার তাদের মধ্যে আপনার চেয়ে অধিক অপ্রিয়ও আমার কাছে কেউ নাই। তিনি বলেন, তোমার পিতা আল্লাহর জন্য কোরবান হোক। এই দু'টি বিপরীত জিনিস একত্র হলো কি করে। তিনি বলেন, আমি জাহিলী যুগে একটি কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিয়েছি। আমার
২৬৯ মুসলিম
আশংকা হয় যে, আমি আপনার সাথে সাক্ষাত করলেই আপনি বলবেন, তোমার তওবা করার বা নিষ্কৃতি লাভের কোন সুযোগ নাই। কিন্তু আমি আকাঙ্খা করতাম যে, আপনি বলবেন, তোমার তওবা করার ও নিস্তার লাভের উপায় আছে। তিনি বলেন, তুমি কি এটি জাহিলী যুগে করেছিলে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেন, অতীতের গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করেছেন। তিনি তার স্ত্রীকে বলেন, আমাদের জন্য খাবার নিয়ে এসো। মহিলা অসম্মত হলো। তিনি পুনরায় তাকে আদেশ করলে এবারও সে অস্বীকার করলো। শেষে দু'জনের কথা কাটাকাটির স্বর উচ্চ মাত্রায় পৌঁছলো। তিনি বলেন, এই যে! তোমরা তো রাসূলুল্লাহ (স)-এর বক্তব্য গণায় ধরো না। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (স) তাদের সম্পর্কে কি বলেছেন? তিনি বলেছেনঃ "নিশ্চয় নারী হচ্ছে পাঁজরের বাঁকা হাড়। তুমি যদি তা সোজা করতে চাও তবে তাকে খানখান করে ফেলবে। আর তুমি যদি তাদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ করে যাও, তবুও তাদের বাঁকা স্বভাব বিদ্যমান থাকবেই"। মহিলাটি চলে গেলো এবং সারীদ (ঝোলে ভিজিনো রুটি) নিয়ে বিড়ালের মত চুপিসারে ফিরে এলো। আবু যার (রা) আমাকে বলেন, তুমি খাও, আমার কথা চিন্তা করো না। আমি রোযা আছি। অতঃপর তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং ধীরেসুস্থে নামায পড়লেন। নামাযশেষে তিনি আহার করলেন। আমি বললাম, ইন্না লিল্লাহ! আমি কখনও আশংকা করিনি যে, আপনি আমাকে মিথ্যা কথা বলবেন! তিনি বলেন, তোমার পিতা আল্লাহর জন্য কোরবান হোক! তুমি সাক্ষাত করার সময় থেকে আমি তোমাকে কোন মিথ্যা কথা বলিনি। আমি বললাম, আপনি কি আমাকে বলেননি যে, আপনি রোযাদার? তিনি বলেন, হাঁ, আমি এই মাসে তিন দিন রোযা রেখেছি। আমার জন্য তার সওয়াব লেখা হয়েছে এবং আমার জন্য খাদ্য গ্রহণ হালাল হয়ে গেছে (না, দার, আ ২১৬৬৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00