📄 একজন বললো কে? অপরজন বললো আমি
১০৯৬ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ أَتَيْتُ النَّبِيِّ ﷺ فِي دَيْنِ كَانَ عَلَى أَبِي فَدَقَقْتُ الْبَابَ فَقَالَ مَنْ ذَا فَقُلْتُ أَنَا قَالَ أَنَا أَنَا كَأَنَّهُ كَرِهَهُ .
১০৯৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (র) বলেন, আমি জাবের (রা)-কে বলতে শুনেছি, আমার পিতার রেখে যাওয়া কিছু ঋণের ব্যাপারে আলোচনার জন্য আমি নবী (স)-এর নিকট এলাম। আমি দরজায় করাঘাত করলে তিনি জিজ্ঞেস করেন: কে? আমি বললাম, আমি। তিনি বলেন: আমি, আমি। তিনি যেন জবাবটি অপছন্দ করলেন (বু, মু)।
১০৯৭ - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ إِلَى الْمَسْجِدِ وَأَبُو مُوسَى يَقْرَأُ فَقَالَ مَنْ هَذَا فَقُلْتُ أَنَا بُرَيْدَةُ جُعِلْتُ فِدَاكَ فَقَالَ قَدْ أُعْطِيَ هَذَا مِزْمَارًا مِّنْ مَّزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ .
১০৯৭। আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (স) মসজিদের উদ্দেশে বের হলেন। তখন আবু মূসা (রা) কুরআন পড়ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কে? আমি বললাম, আমি বুরায়দা, আপনার জন্য উৎসর্গপ্রাণ। তিনি বলেন: তাকে দাউদ (আ) পরিবারের সুমধুর কণ্ঠস্বর থেকে একটি কণ্ঠস্বর দান করা হয়েছে (মু, হা)।
📄 কেউ অনুমতি চাইলো এবং অপরজন বললো
১০৯৮ - عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُدْعَانَ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَاسْتَأْذَنَ عَلَى أَهْلِ بَيْتِ فَقِيلَ ادْخُلْ بِسَلَامٍ فَأَبَى أَنْ يُدْخُلَ عَلَيْهِمْ .
১০৯৮। আবদুর রহমান ইবনে জুদআন (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র সাথে ছিলাম। তিনি এক পরিবারের নিকট প্রবেশানুমতি চাইলেন। বলা হলো, নিরাপদে প্রবেশ করুন। কিন্তু তিনি তাদের ঘরে প্রবেশে অসম্মতি জ্ঞাপন করলেন।
📄 ঘরের মধ্যে দৃষ্টিপাত করা
১০৯৯ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ الْبَصَرُ فَلَا اذْنٌ .
১০৯৯। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন : কারো দৃষ্টি ভেতরে চলে গেলে তার জন্য অনুমতি নাই (দা, তি, আ)।
১১০০ - عَنْ مُسْلِمِ بْنِ نَذِيرٍ قَالَ اسْتَأْذَنَ رَجُلٌ عَلَى حُذَيْفَةَ فَاطَّلَعَ وَقَالَ ادْخُلُ قَالَ حُذَيْفَةُ أَمَا عَيْنُكَ فَقَدْ دَخَلَتْ وَأَمَّا اسْتُكَ فَلَمْ تَدْخُلْ وَقَالَ رَجُلٌ اسْتَأْذِنُ عَلَى أُمِّي قَالَ إِنْ لَمْ تَسْتَأْذِنْ رَأَيْتَ مَا يَسُوؤُكَ .
১১০০। মুসলিম ইবনে নাযীর (র) বলেন, এক ব্যক্তি হুযায়ফা (রা)-র নিকট প্রবেশানুমতি চেয়ে ভেতর বাড়িতে উঁকি মারলো এবং বললো, আমি কি প্রবেশ করতে পারি? হুযায়ফা (রা) বলেন, তোমার চোখ তো প্রবেশ করেছে, বাকি আছে তোমার (দেহের) নিম্নাংশ। অতএব তুমি প্রবেশ করো না। এক ব্যক্তি বললো, আমাকে কি আমার মায়ের অনুমতি নিতে হবে? হুযায়ফা (রা) বলেন, তুমি যদি অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করো তবে হয়তো অবাঞ্ছিত কিছু দেখবে।
১১০১ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ أَعْرَابِيًّا أَتَى بَيْتَ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَالْقَمَ عَيْنُهُ خَصَاصَ الْبَابِ فَأَخَذَ سَهْمًا أَوْ عُوْداً مُحَمَّدًا فَتَوَخَّى الْأَعْرَابِي لِيَفْقَا عَيْنَ الْأَعْرَابِي فَذَهَبَ فَقَالَ أَمَا إِنَّكَ لَوْ ثَبَتْ لَفَقَاتُ عَيْنَكَ .
১১০১। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাড়িতে এসে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারলো। তিনি একটি তীর বা সুচালো কাঠ তুলে নিলেন এবং বেদুইনের চোখ ফুঁড়ে দেয়ার জন্য তা তার দিকে তাক করলেন। অতএব সে চলে গেলো। তিনি বলেন: তুমি যদি স্থির থাকতে তবে আমি তোমার চোখ ফুঁড়ে দিতাম (না, তাহা)।
১১০২ - عَمَّارِ بْنِ سَعْدِ التَّجِيْبِيَّ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَنْ مَلَا عَيْنَيْهِ مِنْ قَاعَةِ بَيْتٍ قَبْلَ أَنْ يَؤْذَنَ لَهُ فَقَدَ فَسَقَ .
১১০২। আম্মার ইবনে সাদ আত-তুজীবী (র) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) বলেছেন, কোন ব্যক্তিকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তার চক্ষুদ্বয় ঘরের কামরায় প্রবেশ করালে সে পাপাচারে লিপ্ত হলো।
১১০৩ - عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَحِلُّ لِأَمْرِى مُسْلِمٍ أَنْ يَنْظُرَ إِلى جَوْفِ بَيْتٍ حَتَّى يَسْتَأْذِنَ فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ دَخَلَ وَلَا يَؤُمُّ قَوْمًا دُونَهُمْ حَتَّى يَنْصَرِفَ وَلَا يُصَلَّى وَهُوَ حَاقِنٌ حَتَّى يَتَخَفَّفَ .
১১০৩। রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্তদাস সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: কোন মুসলমান ব্যক্তির জন্য অনুমতি না নিয়ে কারো ঘরের অভ্যন্তরে তাকানো হালাল নয়। তাই করলে সে যেন ঘরে প্রবেশ করলো। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, তার জন্য তাদেরকে বাদ দিয়ে বিশেষভাবে শুধু নিজের জন্য দোয়া করে শেষ করা সমীচীন নয়। কোন ব্যক্তির জন্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন চেপে রেখে এবং তা থেকে মুক্ত না হয়ে নামায পড়া হালাল নয় (দা, তি, আ)।
📄 যে ব্যক্তি নিজ ঘরে সালাম দিয়ে প্রবেশ করে তার ফযীলাত
১১০৪ - عَنْ أَبِي أَمَامَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمْ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ إِنْ عَاشَ كُفِي وَإِنْ مَاتَ دَخَلَ الْجَنَّةَ مَنْ دَخَلَ بَيْتَهُ بِسَلَامٍ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَمَنْ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللَّهِ وَمَنْ خَرَجَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهُوَ ضَامِنٌ عَلَى اللهِ .
১১০৪। আবু উমামা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: তিন ব্যক্তির প্রত্যেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ্ যিম্মায় থাকে। সে বেঁচে থাকলে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট এবং মারা গেলে বেহেশতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি নিজের ঘরে সালাম দিয়ে প্রবেশ করে তার জন্য মহামহিম আল্লাহ যামিন হন। যে ব্যক্তি মসজিদে যাওয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হলো তার জন্যও আল্লাহ যামিন হন। যে ব্যক্তি আল্লাহ্র পথে (জিহাদে) রওয়ানা হলো তার জন্যও আল্লাহ যামিন হন (দা, হা, হি)।
১১০৫ - أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا يَقُولُ إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أَهْلِكَ فَسَلَّمْ عَلَيْهِمْ تَحِيَّةً مِّنْ عِنْدِ اللهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً قَالَ مَا رَأَيْتُهُ إِلَّا تَوْجِيهَ قَوْلِهِ [وَإِذَا حُيِّتُمْ بتحية فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَا ] .
১১০৫। আবু যুবাইর (র) থেকে বর্ণিত। তিনি জাবের (রা)-কে বলতে শুনেছেন, তুমি তোমার ঘরে প্রবেশকালে তোমার পরিজনদের সালাম দিও। এটা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে কল্যাণ কামনার দোয়া, যা খুবই বরকতপূর্ণ ও পবিত্র। রাবী বলেন, আমার মতে এটা আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: "আর যখন তোমাদেরকে সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপন করা হয় তখন তোমরা তদপেক্ষা উত্তম বাক্যে সাদর সম্ভাষণ জ্ঞাপন করো অথবা অন্তত তদনুরূপ উত্তর দাও” (সূরা নিসাঃ ৮৬)।