📄 অনুমতি প্রার্থনার পদ্ধতি
১০৯৪ - عَنْ رِبْعِي بْنِ حِرَاشٍ قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِّنْ بَنِي عَامِرٍ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ أَلَجُ فَقَالَ النَّبِيُّ الله لِلْجَارِيَةِ أَخْرُجِي فَقُولِى لَهُ قَلْ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَدْخُلْ فَإِنَّهُ لَمْ يُحْسَنِ الْاسْتِنْدَانَ قَالَ فَسَمِعْتُهَا قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ إِلَى الْجَارِيَةُ فَقُلْتُ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَدْخُلْ فَقَالَ وَعَلَيْكَ ادْخُلْ قَالَ فَدَخَلْتُ فَقُلْتُ بِأَيِّ شَيْءٍ جِئْتَ فَقَالَ لَمْ أَتِكُمْ الا بَخَيْرٍ أَتَيْتُكُمْ لِتَعْبُدُوا اللهَ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَتَدَعُوا عِبَادَةَ اللَّاتِ وَالْعُزَّى وَتُصَلُّوا فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ خَمْسَ صَلَوَاتِ وَتَصُومُوا فِي السَّنَةِ شَهْرًا وَتَحُجُوا هَذَا الْبَيْتَ وَتَأْخُذُوا مِنْ مَالِ أَغْنِيَائِكُمْ فَتَرُدُّوهَا عَلَى فُقَرَائِكُمْ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ هَلْ مِنَ العِلْمِ شَيْءٌ لَا تَعْلَمُهُ قَالَ لَقَدْ عَلِمَ اللهُ خَيْرًا وَإِنَّ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَا يَعْلَمُهُ إِلَّا اللَّهُ الخَمْسُ لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلَّا اللهُ إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضِ تَمُوتُ .
১০৯৪। রিবঈ ইবনে হিরাশ (র) বলেন, আমের গোত্রের এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেন, যিনি নবী (স)-এর নিকট গিয়ে বললেন, আমি কি ভিতরে প্রবেশ করতে পারি? নবী (স) বাঁদীকে বলেন: তুমি বাইরে গিয়ে তাকে বলো, "তুমি বলো, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করতে পারি"? কারণ সে সুন্দরভাবে প্রবেশানুমতি প্রার্থনা করতে পারেনি। রাবী বলেন, বাঁদী বের হয়ে আসার পূর্বেই আমি ঐকথা শুনে ফেললাম এবং বললাম, আসসালামু আলাইকুম, আমি কি প্রবেশ করতে পারি? তিনি বলেন: তোমাকেও (সালাম), প্রবেশ করো। রাবী বলেন, আমি প্রবেশ করে বললাম, আপনি কি জিনিস নিয়ে এসেছেন? তিনি বলেন: আমি তোমাদের নিকট কল্যাণকর জিনিস নিয়েই এসেছি। আমি তোমাদের নিকট যা নিয়ে এসেছি তা হলো, তোমরা এক আল্লাহ্র ইবাদত করবে যাঁর কোন শরীক নাই এবং লাত ও উয্যার ইবাদত ত্যাগ করবে, প্রতি দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়বে, বছরে এক মাস রোযা রাখবে এবং এই ঘরের হজ্জ করবে। তোমরা তোমাদের ধনীদের মাল থেকে (যাকাত) গ্রহণ করে তা তোমাদের মধ্যকার দরিদ্রজনদের মধ্যে বিতরণ করবে। রাবী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, এমন কিছু জ্ঞানও আছে কি যা আপনি জ্ঞাত নন? তিনি বলেন: আল্লাহ সব কিছু জানেন। তবে এমন পাঁচটি জ্ঞান আছে যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। "কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ্র নিকটই আছে। তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে তা তিনিই জানেন। কেউই জানে না যে, সে আগামী কাল কি উপার্জন করবে। কেউ জানে না যে, সে কোন স্থানে মারা যাবে” (সূরা লোকমানঃ ৩৪) (দা,আ, শা, সুন্নী)।
১০৯৫ - عَنِ اِبْنِ عَبَّاسٍ قَالَ اِسْتَأْذَنَ عُمَرُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ السَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَيَدْخُلُ عُمَرُ
১০৯৫। ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, উমার (রা) নবী (স)-এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করে বলেন, আসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম, উমার কি ভেতরে প্রবেশ করতে পারে?
📄 একজন বললো কে? অপরজন বললো আমি
১০৯৬ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ أَتَيْتُ النَّبِيِّ ﷺ فِي دَيْنِ كَانَ عَلَى أَبِي فَدَقَقْتُ الْبَابَ فَقَالَ مَنْ ذَا فَقُلْتُ أَنَا قَالَ أَنَا أَنَا كَأَنَّهُ كَرِهَهُ .
১০৯৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (র) বলেন, আমি জাবের (রা)-কে বলতে শুনেছি, আমার পিতার রেখে যাওয়া কিছু ঋণের ব্যাপারে আলোচনার জন্য আমি নবী (স)-এর নিকট এলাম। আমি দরজায় করাঘাত করলে তিনি জিজ্ঞেস করেন: কে? আমি বললাম, আমি। তিনি বলেন: আমি, আমি। তিনি যেন জবাবটি অপছন্দ করলেন (বু, মু)।
১০৯৭ - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ إِلَى الْمَسْجِدِ وَأَبُو مُوسَى يَقْرَأُ فَقَالَ مَنْ هَذَا فَقُلْتُ أَنَا بُرَيْدَةُ جُعِلْتُ فِدَاكَ فَقَالَ قَدْ أُعْطِيَ هَذَا مِزْمَارًا مِّنْ مَّزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ .
১০৯৭। আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (র) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (স) মসজিদের উদ্দেশে বের হলেন। তখন আবু মূসা (রা) কুরআন পড়ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কে? আমি বললাম, আমি বুরায়দা, আপনার জন্য উৎসর্গপ্রাণ। তিনি বলেন: তাকে দাউদ (আ) পরিবারের সুমধুর কণ্ঠস্বর থেকে একটি কণ্ঠস্বর দান করা হয়েছে (মু, হা)।
📄 কেউ অনুমতি চাইলো এবং অপরজন বললো
১০৯৮ - عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُدْعَانَ قَالَ كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَاسْتَأْذَنَ عَلَى أَهْلِ بَيْتِ فَقِيلَ ادْخُلْ بِسَلَامٍ فَأَبَى أَنْ يُدْخُلَ عَلَيْهِمْ .
১০৯৮। আবদুর রহমান ইবনে জুদআন (র) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা)-র সাথে ছিলাম। তিনি এক পরিবারের নিকট প্রবেশানুমতি চাইলেন। বলা হলো, নিরাপদে প্রবেশ করুন। কিন্তু তিনি তাদের ঘরে প্রবেশে অসম্মতি জ্ঞাপন করলেন।
📄 ঘরের মধ্যে দৃষ্টিপাত করা
১০৯৯ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ الْبَصَرُ فَلَا اذْنٌ .
১০৯৯। আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন : কারো দৃষ্টি ভেতরে চলে গেলে তার জন্য অনুমতি নাই (দা, তি, আ)।
১১০০ - عَنْ مُسْلِمِ بْنِ نَذِيرٍ قَالَ اسْتَأْذَنَ رَجُلٌ عَلَى حُذَيْفَةَ فَاطَّلَعَ وَقَالَ ادْخُلُ قَالَ حُذَيْفَةُ أَمَا عَيْنُكَ فَقَدْ دَخَلَتْ وَأَمَّا اسْتُكَ فَلَمْ تَدْخُلْ وَقَالَ رَجُلٌ اسْتَأْذِنُ عَلَى أُمِّي قَالَ إِنْ لَمْ تَسْتَأْذِنْ رَأَيْتَ مَا يَسُوؤُكَ .
১১০০। মুসলিম ইবনে নাযীর (র) বলেন, এক ব্যক্তি হুযায়ফা (রা)-র নিকট প্রবেশানুমতি চেয়ে ভেতর বাড়িতে উঁকি মারলো এবং বললো, আমি কি প্রবেশ করতে পারি? হুযায়ফা (রা) বলেন, তোমার চোখ তো প্রবেশ করেছে, বাকি আছে তোমার (দেহের) নিম্নাংশ। অতএব তুমি প্রবেশ করো না। এক ব্যক্তি বললো, আমাকে কি আমার মায়ের অনুমতি নিতে হবে? হুযায়ফা (রা) বলেন, তুমি যদি অনুমতি না নিয়ে প্রবেশ করো তবে হয়তো অবাঞ্ছিত কিছু দেখবে।
১১০১ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكَ أَنَّ أَعْرَابِيًّا أَتَى بَيْتَ رَسُولَ اللهِ ﷺ فَالْقَمَ عَيْنُهُ خَصَاصَ الْبَابِ فَأَخَذَ سَهْمًا أَوْ عُوْداً مُحَمَّدًا فَتَوَخَّى الْأَعْرَابِي لِيَفْقَا عَيْنَ الْأَعْرَابِي فَذَهَبَ فَقَالَ أَمَا إِنَّكَ لَوْ ثَبَتْ لَفَقَاتُ عَيْنَكَ .
১১০১। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ (স)-এর বাড়িতে এসে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারলো। তিনি একটি তীর বা সুচালো কাঠ তুলে নিলেন এবং বেদুইনের চোখ ফুঁড়ে দেয়ার জন্য তা তার দিকে তাক করলেন। অতএব সে চলে গেলো। তিনি বলেন: তুমি যদি স্থির থাকতে তবে আমি তোমার চোখ ফুঁড়ে দিতাম (না, তাহা)।
১১০২ - عَمَّارِ بْنِ سَعْدِ التَّجِيْبِيَّ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَنْ مَلَا عَيْنَيْهِ مِنْ قَاعَةِ بَيْتٍ قَبْلَ أَنْ يَؤْذَنَ لَهُ فَقَدَ فَسَقَ .
১১০২। আম্মার ইবনে সাদ আত-তুজীবী (র) বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) বলেছেন, কোন ব্যক্তিকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তার চক্ষুদ্বয় ঘরের কামরায় প্রবেশ করালে সে পাপাচারে লিপ্ত হলো।
১১০৩ - عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لَا يَحِلُّ لِأَمْرِى مُسْلِمٍ أَنْ يَنْظُرَ إِلى جَوْفِ بَيْتٍ حَتَّى يَسْتَأْذِنَ فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ دَخَلَ وَلَا يَؤُمُّ قَوْمًا دُونَهُمْ حَتَّى يَنْصَرِفَ وَلَا يُصَلَّى وَهُوَ حَاقِنٌ حَتَّى يَتَخَفَّفَ .
১১০৩। রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুক্তদাস সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (স) বলেন: কোন মুসলমান ব্যক্তির জন্য অনুমতি না নিয়ে কারো ঘরের অভ্যন্তরে তাকানো হালাল নয়। তাই করলে সে যেন ঘরে প্রবেশ করলো। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, তার জন্য তাদেরকে বাদ দিয়ে বিশেষভাবে শুধু নিজের জন্য দোয়া করে শেষ করা সমীচীন নয়। কোন ব্যক্তির জন্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন চেপে রেখে এবং তা থেকে মুক্ত না হয়ে নামায পড়া হালাল নয় (দা, তি, আ)।